ফন্ট সাইজ:
থিম:
সোনালী রঙের বুনোলতা

পর্ব 17

লেখক: নূপুর ইসলাম

#সোনালি_রঙের_বুনোলতা
#নূপুর_ইসলাম
#পর্ব- ১৭

আনিস দুপুরের সময় ঠিকিই ফিরে এলো। আয়েশা অবশ্য ফোন করেছিল। ফোন দিয়ে শুধু বলল,--- রান্না করছি ভাইয়া! তাই যেখানেই থাকো লাঞ্চের আগে যেন বাসায় দেখি।

আনিস দীর্ঘশ্বাস ফেললো,--- আমরা বিনা দ্বিধায় সব প্রকাশ করতে পারি। রাগ, জেদ, অভিমান। শুধু ভালোবাসা প্রকাশ করতে গেলেই শুরু হয় যত ঝামেলা। এই যে তার একমাত্র বোনটা! সবাইকে কি পরিমাণ ভালোবাসে সে টা আনিস জানে। শুধু প্রকাশ করবে না। থাকবে সবার থেকে দূরে দূরে। অবশ্য এর কারণও আছে। কারণ হলো ভালোবাসা! ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমাদের দু ভাই বোনের কপাল একই রকম। একজন পেয়েও পায়নি, আরেকজন পেয়েও হারিয়েছে। আমরা দু ভাই বোন ভালোবাসার অনেক রুপ দেখেছি। দেখে আমি সামলে উঠলেও সে পারেনি। পারেনি বলেই আজ এমন।

আনিস কে দেখে ঐশী দৌড়ে গিয়ে জাপটে ধরলো। তাঁর মনে হলো একজনম পর সে মামা কে দেখছে।
সাহানা চোখ মুখ কুঁচকে বললেন, --- যাক বাপু এসেছো। আমরাতো টেনশনে শেষ। বোন বললেই চলে যেতে হবে। আমরা বুঝি কিছু না। এই যে এই মেয়েটা! মামা, মামা বলে অজ্ঞান। এও বুঝি কিছু না।

আনিস কিছু বলল না। মাথা চুলকে হাসলে!

--- হয়েছে! হয়েছে! লজ্জায় আর লাল, নীল হতে হবে না। এবার তুমি বিয়ে থা করো তো বাপু! বুড়ো বয়সে এত টেনশন আর ভালো লাগে না।

আনিস কথা ঘুরানোর জন্য বললো,--- চল, চল ক্ষুধায় নাড়িভুঁড়ি উলটে আসছে। আয়েশা নাকি আজ রান্না করছে।

ঐশী হেসে বলল,--- হুম ! করছে, করে একেবারে এলাহি কান্ড করে ফেলেছে। টেবিলে তিল ফেলারও জায়গা নেই।

-- বলিস কি? আমাকে তাড়িয়ে দিয়ে ভূড়িভোজ।

--- হুম।,ভূড়িভোজ! এবার চলো! তোমার জন্য আমরা সবাই না খেয়ে আছি। দাদু আসোতো! আজ আমরা সবাই একসাথে লাঞ্চ করবো।

সবাই একসাথে হাসি খুশি ভাবে খেতে বসলেও। ঐশী খেতে পারল না। সে শুধু প্লেটে ভাত নাড়াচাড়া করল। আর সেদিন সাঈদ এসে যে চেয়ারটায় বসে ছিল। বার বার সেখানে আড়চোখে তাকালো। কেমন একটা অস্থির অস্থির ভাব ঐশীকে ঘিরে ধরলো । সে ঢোক গিলে বার বার পানি খেতে লাগলো। তাঁর অস্থিরতা, তাঁর হাঁসফাঁস, সবার চোখেই পড়লো। তবে কেউ কোন শব্দ উচ্চারন করল না। কারণ তারা জানে! তাঁরা মেনে নিক আর না নিক! তাদের মেয়ের জীবনের মোড় অজান্তেই ঘুরে গেছে। তাদের মেয়ে এখন শুধু তাদের মেয়ে না। আরেক জনের গচ্ছিত আমানত।

_____

ঐশীর সারা বেলা কাটালো, বিছানায় গড়াগড়ি আর হাঁসফাঁস করে। কিছু একটা ঠিক নেই। কি ঠিক নেই সে ধরতে পারছে না। কতক্ষণ সে বই নিয়ে নাড়াচাড়া করল। কাল থেকে মা ভার্সিটিতে যেতে বলেছে। ভার্সিটি আর বই তাঁর কোন কালেই পছন্দ ছিল না। এই অবস্থায় আর কি ভালো লাগবে?

সে উঠে বারান্দায় গেল। সেই দিন মেলায় সাঈদ ভাই যখন তাঁকে সব বলল! সে নির্বাক হয়ে গিয়েছিল। সারারাত শুধু একটা কথাই চিন্তা করেছে। একটা মানুষ তাঁকে ভালোবাসছে। তাঁর নিজের অজান্তেই। কোন চাওয়া নেই, পাওয়া নেই, দাবিও নেই। শুধু ভালোবেসে যাচ্ছে। আচ্ছা ভালোবাসা কি? সেও তো ইমরানকে ভালোবেসেছে। তবে তাঁর আর সাঈদের ভালোবাসার মধ্যে এমন আকাশ পাতাল তফাৎ কেন?

ঐশী আকাশের দিকে তাকালো। পড়ন্ত বিকেল, আকাশে মেঘ করে আছে। যে কোন সময় টুপটাপ বৃষ্টি শুরু হবে। ঐশী হারিয়ে গেল! আচ্ছা! ঢেউ খেলানো সবুজ ধানের ক্ষেতে বৃষ্টি দেখতে কেমন লাগে। কেমন লাগে বদ্ধ পুকুরের পানিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে। কেমন লাগে টিনের চালে বৃষ্টির গান। কেমন লাগবে সাঈদের ঐ বিশাল উঠানে।
সাঈদের নাম আসতেই সে চমকে উঠল। তাঁর চিন্তা, চেতনা সব কিছুই সাঈদে যেয়েই শেষ হচ্ছে। আশ্চর্য! কেন? সে বারান্দায় কতক্ষণ এপাশ থেকে ওপাশ হাঁটাহাঁটি করল। কি হচ্ছে তাঁর সাথে? সে তো ভুলতে চায়। তবে কেন সব কিছুর মধ্যেই তাঁর কথাই মনে হচ্ছে?

দু-দিনে কি জাদু করেছেন মি: সাঈদ! নিজে তো দিব্যি আছেন। আবার বলেন ভালোবাসি! ভালেবাসার বুঝি এই নমুনা। এই যে এলাম একবারতো খবরও নিলেন না।

দরজার টোকায় ঐশীর ধ্যান ভাঙলো! কুসুম ডাকছে। ঐশী এগিয়ে গিয়ে দরজা খুললো।

-- আপা! একটা লোক আইছে। আপনের সাথে দেখা করতে চায়।

ঐশী অবাক হলো! --- আমার সাথে ?

--- হ আপামণি! দারোয়ান ভাই কইলো এর আগেও নাকি দুই বার আইছে। আমরাতো তখন গ্রামে ছিলাম।

ঐশী একটু চিন্তা করার চেষ্টা করল। কে হতে পারে। কিছু মাথায় এলো না। তারপর আস্তে করে বলল, ---- ঠিক আছে! তুমি নিচে বসাও! আমি আসছি।

ইমরানকে দেখে ঐশী থমকে গেল। কতদিন পরে দেখা। ইমরানকে চেনা যাচ্ছে না। আগে একটা ছন্নছাড়া ভাব ছিলো। এখন ম্যাচিউর লাগছে। পরনে ফরমাল গেটাপ। সম্ভবতো অফিস থেকে ডাইরেক্ট এখানে এসেছে।

ইমরান ঐশীকে দেখে দাঁড়িয়ে গেল। হালকা হেসে বলল,--- কেমন আছো?

ঐশী নিজেকে স্বাভাবিক করল। আর সে একটু অবাকই হলো । ইমরানকে দেখে সে থমকেছে তবে কষ্ট হচ্ছে না। আশ্চর্য! তাঁকে দেখে এখন নাকে মুখে পানি ছুটে যাওয়ার কথা। সে অবাক নিয়েই এগিয়ে এলো। আর স্বাভাবিক ভাবেই বলল, --- ভালো! দাঁড়িয়ে আছো কেন? বস।

ইমরান বসলো! বসে বলল,--- তোমাকে এত সুন্দর লাগছে কেন ঐশী।

ঐশী হালকা হাসলো! হেসে বলল,--- দূরের জিনিস সব সময় সুন্দরই মনে হয়। সেই সুন্দর জিনিস হাতে পেয়ে গেলে তাঁর আর কেউ কদর করে না।

---- তুমি এখনো রাগ করে আছো? দেখো সেই দিন তুমি হঠাৎ করেই এতকিছু বললে। আমারো তো হজম করার জন্য একটু সময় চাই। বলেই ইমরান এগিয়ে গিয়ে ঐশীর পাশে বসলো। বসে হাতে হাত রাখতে চাইলো।
হাত রাখার আগেই ঐশী উঠে দাঁড়ালো। দাঁড়িয়ে শান্ত ভাবে বলল,--- কেন এসেছো ইমরান?

ইমরান থমকালো! ঐশীকে আজ তাঁর অচেনা লাগছে। চোখে মুখে মুগ্ধতা নিয়ে তাঁর পেছনে ঘুরে বেড়ানোর ঐশীর সাথে এই ঐশীর কোন মিল সে খুঁজে পেল না। বরং অন্য রকম লাগছে।

---- তুমি অনেক বদলে গেছো ঐশী। আমিই ঠিক ছিলাম। তুমি আমাকে ভালোবাসোনি। ভালোবাসলে দু-দিনেই এমন ভুলে যেতে পারতে না।

ঐশী তাকিয়ে রইল। তাঁর বলতে ইচ্ছে করল! তুমি কি আমাকে ভালোবেসেছো ইমরান? তবে বলল না। কথার পিঠে কথা বলতে তাঁর ভালো লাগে না। সাথে সাথেই তাঁর সাঈদের কথা মনে হলো! এই মানুষটার সাথে সে অবলীলায় মিশেছে, নিঃসংকোচে কথা বলেছে। আবদার রেখেছে! এমকি জেদও করেছে।

--- তুমি বদলে গেছো ঐশী! সত্যিই বদলে গেছো।

ইমরানের কথায় ঐশীর সম্বিত ফিরলো! আশ্চর্য! এখানেও সাঈদ চলে এসেছে।

ইমরান উঠে আবার ঐশীর দিকে এগিয়ে এলো! করুণ ভাবে বলল,--- সব ভোলা যায় না ঐশী? আসো আমরা সব ভুলে আবার নতুন করে সব শুরু করি।

--- ঐশী?

ঐশী সিঁড়ির দিকে তাকালো! মামা দাঁড়িয়ে আছে। সে দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

ইমরান দূরে সরে দাঁড়ালো! দাঁড়িয়ে সালাম দিলো।
আনিস সালাম নিয়ে এগিয়ে আসলো। এসে বলল,--- বস! বসে কথা বলি। তারপর চেঁচিয়ে বলল,--- কুসুম এখানে চা নাস্তার ব্যবস্থা করো।

ইমরান জড়োসড়ো ভাবে বসলো!
--- না, না! তাঁর প্রয়োজন নেই মামা। আমি ঠিক আছি।

আনিস হালকা হাসলো! হেসে ঐশীর দিকে তাকিয়ে বলল,--- এভাবে ভূতের মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন? এখানে আয়, বস্।

ঐশী এগিয়ে এসে মামার পাশে বসলো। তবে সে ইমরানের দিকে তাকালো না। তাঁর দৃষ্টি বাহিরে। চন্দ্রমল্লিকা গাছের দিকে। সেই দিন সাঈদ এখান থেকেই গাছ তুলে ফেলেছিল।

-- এখন বলো? কি বলতে চাও তুমি।

ইমরান আমতা আমতা করে বলল,--- আমি ঐশীকে বিয়ে করতে চাই।

ঐশী চমকে উঠল! সে গ্রাম থেকে এসেছে পর থেকে এই শব্দটা ভুলেও যেন মনে না আসে সেই চেষ্টা করছে। চেষ্টা করলেই কি হয়। ঘুরে ফিরে সামনে এসেই পড়ে। তাঁর আর সাঈদের বিয়ে হয়েছে। এটা মনে হতেই ঐশীর শরীর ঝিমঝিমিয়ে উঠল। সে করুণ ভাবে মামার দিকে তাকালো!

তবে তাঁর মামাকে তেমন বিচলিত মনে হলো না। সে স্বাভাবিক ভাবেই বলল,--- এই কথাটা তুমি এসে না বলে তোমার ফ্যামিলি বললে ভালো হতো না?

-- আপনারা চাইলে তারাও আসবে। আমি শুধু আজ ঐশীর সাথে দেখা করতে এসেছিলাম।

-- ভালো! তারা নিশ্চয়ই ঐশীর সম্পর্কে সব জানে!

ইমরান চমকালো! তাঁর মা,বাবা জানে না। শুধু ঐশীর কথা বলেছে। শুনে কেউ কোন আপত্তি করে নি। করার কথাও না। রাজকন্যার সাথে রাজ্য ফ্রি। কে আপত্তি করবে। তবে পুরো সত্য জানলে,মা রাজি হবে না। মা কেন কেউই রাজি হবে না। হাজার সয়-সম্পত্তি থাক যার জন্মের ঠিক নেই। তাকে কোন ভদ্র পরিবার বউ করতে চাইবে না।

-- কি হলো জানে?
ইমরান দু- পাশে মাথা দুলালো!
-- তুমি কি তাদের বলার চেষ্টা করেছো?
-- না!
-- কেন?
-- তাঁরা মানবে না।

আনিস হাসলো! হেসে বলল,--- তুমি কি মানতে পেরেছো?

ইমরান চমকালো! চমকে আনিসের দিকে তাকালো। সে তো জানে আনিস মামা সাদাসিধে , পাগলা ধরনের। ঐশী তো সবসময় তাই বলতো। এখনতো মনে হচ্ছে ভিন্ন।

---- শোন ইমরান! একটা কথা বলি! অল্পতে সন্তুষ্টু থাকতে শেখো। চাকরি হয়েছে! ভালো বেতন পাচ্ছো। এখন মায়ের পছন্দে একটা বিয়ে করে ফেলো। ভালো থাকবে! অতি লোভে তাঁতি নষ্ট এই প্রবাদ টা জানোতো।

ইমরান রেগে গেল! তবে রাগ দমিয়ে বলল,
-- আপনি কি বলতে চাইছেন?

-- আমার ভাগ্নি বোকা! আমরা না! তোমার সাথে শেষ দেখা হওয়ার পরে কিন্তু অনেকটা দিন গেছে। গ্রামে গিয়েছি তো তারও অনেকটা পরে। হজম করার জন্য এতটাও দিন দরকার হয় না। তবে ভাববার জন্য হয়। তুমি ঐশীর সত্য মানতে পারোনি। আবার এত সম্পতির লোভও ছাড়তে পরছিলে না। যখন তুমি দেখলে! ঐশীর এক কথায় তোমার এত ভালো চাকরি হয়ে গেছে। তখন তোমার লোভই জিতে গেল। যে মেয়ের এক কথায় এক সপ্তাহের মধ্যে চাকরি হয়ে গেল। তাঁর না জানি কত ক্ষমতা। আর সেই মেয়েকে বিয়ে করলে তোমার না জানি কত ক্ষমতা হবে। তাইতো আবার শুরু করলে। সস্তা অভিনয়। বাবা, মাকে জানাবে না। শুধু তুমি জানবে। আর একটা সময় আসবে তুমিই এই কারণ নিয়ে ঐশীকে ছোট করতে থাকবে। আর এমন ভাব করবে। যেন তুমি বিয়ে না করলে ঐশীর আর উদ্ধারই হতো না। আর তোমার ফ্যামিলি! বিয়ের পরে তারা যদি কখনো জানতে পারে তখন? তারা তোমাকে দোষবে না। দোষবে আমাদের! বলবে আমরা সত্য লুকিয়ে বিয়ে দিয়েছি। তোমার কি মনে হয় ইমরান? আমাদের মেয়ে কি এতই ফেলনা?

ইমরান আর দমিয়ে রাখলো না। রেগে উঠে দাঁড়ালো! ঐশীর দিকে তাকিয়ে বলল,--- তুমি কি কিছু বলবে না ঐশী! আমার যদি এতই লোভ থাকতো তবে তুমি আমার পেছনে না। আমি তোমার পেছনে ঘুরতাম। তুমি গিয়ে এগিয়ে ছিলে এই সম্পর্ক। আমি না!

ঐশী হতম্ভব হয়ে আছে! কি বলবে সে! তাঁর মামা কি কিছু মিথ্যা বলেছে। বরং সে ই বোকা ছিল। সব দেখেও দেখতো না।

আনিসও দাঁড়ালো!
---- সে তোমার দিকে কেন গিয়েছিল জানো! সে বড় হয়েছে একদল বড় হ্নদয়ের মানুষদের সাথে। যখন তোমার ব্যাপারে শুনেছে। সেও তোমাকে তাই ভেবেছে। বোকা তো! যা শুনে তাই বিশ্বাস করে। ভেবেছে তোমার হ্নদয়ও বিশাল! তোমাকে ভরসা করা যায়। বিশ্বাস করা যায়। যে তাঁর অতীত শুনেও হাত ছাড়বে না। বরং আঁগলে ধরবে। সে তো আর জানে না। কিছু কিছু মুখোশ পড়াও ভালো মানুষ আছে। তাদের উপরে এক চেহেরা আর ভিতরে অন্য।

ইমরান আনিসের কোন কথার উত্তর দিলো না। সে ঐশীর দিকে তাকিয়ে বলল,--- সেধে এসেছিতো তাই দাম দেখাচ্ছো। এর জন্য একদিন পস্তাবে।

আনিস দীর্ঘশ্বাস ফেললো!
--- এবার এসো ইমরান! তোমার ভাগ্য ভালো আয়েশা বাসায় নেই। তা না হলে ঐশীর সাথে এভাবে কথা বলার জন্য তুমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারতে না। যাইহোক! ঐশী আমাদের মেয়ে! তোমার দয়ার তাঁর প্রয়োজন নেই। যে তাঁকে ভালোবাসবে সব জেনেই ভালোবাসবে।

ঐশী সাথে সাথেই আবার চিন্তায় ডুবে গেল! আচ্ছা! সাঈদ ভাই কি সব জানে?

চলবে........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 17 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন