#বনফুল
#নূপুর_ইসলাম
#পর্ব_২১
নাবিলা গায়ের চাদরটা আরও একটু শক্ত করে জড়িয়ে নিলো। শহরের মোটা মোটা ইট পাথরের দেয়ালের ভেতরে শীত তেমন টের পাওয়া না গেলেও, খোলা রাতের রাস্তায় সেটা বেশ ভালো ভাবেই লাগে। এতোটাই লাগে যে ভেতরে মৃদু কাঁপনের মতো লাগে। নাবিলারও লাগছে। ওপরটা চাদরে ঢাকা থাকলেও, পায়ের দিকটা বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা একটা অনুভূতি। এই যে গায়ের চাদর, সেই চাদরের মতোই অন্য রকম এক আবেশে তাকে লেপটে নিচ্ছে। তফাৎটুকু হলো, চাদর আরাম দিচ্ছে, আর সেটা কাঁপুনি বাড়াচ্ছে। তার ওপরে আছে শহরের বিখ্যাত মশা। নাক, কান, গলা সব জায়গায় এসে বাড়ি মেরে মেরে তাদের উপস্থিতি ঠিক জানান দিচ্ছে।
নাবিলা অবশ্য চাদর মুড়ে চুপচাপই দাঁড়িয়ে আছে। তবে তার পাশে একগুচ্ছ গোলাপ হাতে মানুষটার কী অবস্থা নাবিলা বলতে পারছে না। চোখ তুলে তো তাকিয়েই দেখেনি। তবে বিরক্তির চরম পর্যায়ে আছে।
এত রাতে ঘোরাঘুরির কোনো অভ্যাস নাবিলার নেই। আগেও ছিল না, এখনো নেই। সারাদিন যতই গুলগুটি খেলো, সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরতে হবে এটা ছিল নানির কড়া আদেশ। অবশ্য নাবিলার ব্যাপারে তার কোনো কড়া নিয়ম ছিল না, তবুও নাবিলা এই নিয়মের বাইরে কখনও যায়নি। তবে না গিয়েও নিয়মের দফারফা ঠিক করে ফেলেছে।
নাবিলা মনে মনে হাসল। আগেকার দিনের মানুষ তারা। সন্ধ্যার মধ্যে ঘরে ফেরা মানেই লক্ষ্মীমন্তর। আসলে তাদের ধারণাই নেই, এই যুগের ছেলেমেয়েদের কাছে রাত দিন বলে কিছু নেই। তারা অকাজ সব সময়ই করতে পারে। আর তার মেয়ের ঘরের প্রিয় নাতনি, তার জীবনের সব ভয়ংকর অকাজগুলো দিনের শুভ্র আলোতেই করেছে।
-- চা খাবে, নাবিলা?
নাবিলা উত্তর দিল না। তারা দাঁড়িয়ে আছে পার্লারের সাইডের এক ফুটপাতে। দিনের হাজার কাজের ব্যস্ততার শেষে শহরের রাতটুকু হয় বেশ ঝমকালো। যেদিকেই চোখ যায় শুধু ঝিলমিল করা আলো আর আলো। সেই আলোতে গা ভাসিয়ে মানুষজন ভেসে যায় কৃত্রিমতার সুখের সাগরে। আজও তার ব্যতিক্রম নেই। বরং চারদিকে মানুষের মেলা লেগে আছে। হরেক রকম হকারের দোকান জাঁকজমাট। তার মধ্যে জাঁকজমাট ফুটপাতের খাবারের দোকান। চা থেকে শুরু করে, কি নেই এই ব্যস্ত শহরে!
-- ভাব তো, আমার নেওয়ার কথা। পুরো এক গ্লাস জুস দিয়ে গোসল দিয়ে ফেলেছো। কই, আমি কিছু বলেছি?
নাবিলা এবারও কিছু বলল না। তার মুখ শান্ত, দৃষ্টি গেল সেদ্ধ ডিমের দোকানের দিকে। গোল করে সাদা লাল ডিম, কোয়েল পাখির ডিম সাজানো। সাইডে গরম পানির ভাপ, উড়ে গিয়ে কুয়াশার সঙ্গে মিশে একাকার। তার পাশেই ভাপা পিঠার দোকান। এক মহিলা ব্যস্তভাবে পিঠা বানাচ্ছে। তার পায়ের দিকেই পাতলা কাপড়ের ওপর ছোট্ট এক ছেলে হাত পা গুটিয়ে ঘুমিয়ে আছে।
নাবিলা এক ধ্যানে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে রইল। আর ঠিক তখনি, মুখের সামনে চুটকি বাজতে দেরি হলো না। নাবিলা নিজের রাগ নিজের ভেতরে দমানোর চেষ্টা করল। সে রাগতে চায় না, রাগ দেখাতেও চায় না। তবে এই লোকটা কোন কারণে তাকে জ্বালিয়ে মজা পায়, সে বুঝে ওঠে না।
এখানে তারা দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছুক্ষণ ধরে। তার তো কোনো কিছুতেই মতামত নেই। যে দিকে টানে, চুপচাপ সেদিকেই হাঁটে। তাই এই তিন মাথা তাকে পুরো সাইডে করে গুটুরগু করে বের করল তারা পূর্বাচল তিনশ ফিট যাবে। তিনশ ফিট জ্যামের শহরে মুখের কথা না, তবে তাদের পেট নাকি গলা পর্যন্ত ভরা। নাবিলা তো নাবিলাই, নোভাও কতটা খাদক সবাই জানে। তাই পেটের খাবার হজমের সাথে সাথে ঘোরা যাবে, এমন জায়গাতেই যাওয়া মন্দ হয় না। তাই ভেবে চিন্তে নানা পরামর্শ করে ঠিক করল সেখানেই যাবে। ঘোরাও হবে, শীতের দিনের চাপরি আর হাসের মাংসও খাওয়া হবে।
কিন্তু রাত তো কমছে না, বরং বাড়ছে। ফিরতে ফিরতে মধ্যরাত হবে। সাথে গাড়িও নেই। এসেছে তারা দুজন সিএনজিতে, যাওয়ার কথাও ছিল সিএনজিতে।
কিন্তু সিএনজিতে দুটো মেয়ে নিয়ে রাতের রাস্তায় ঘোরা কতোটা রিস্ক, সবাই ভালো করেই জানে। তাই আগে সুন্দর মতো বুদ্ধি করে বাড়িতে জানানো হলো। তবে অন্য কেউ না বরং ফোন করে নাবিলার হাতে ধরিয়ে দিল। কারণ এখানের সবাই জানে, তার মা শুনলেই ফোনের ভেতরে ঢুকে গুষ্টির তুষ্টি করে ফেরত নেবে। তবে যদি কারো কথায় ছাড় দেয় সেটা নাবিলা।
নাবিলা তো দয়ার দরিয়া। ছোট দুই ভাইবোনের মুখের দিকে তাকিয়ে মাকে জানালো। রোকেয়া শুনেই বলল,
-- এই ফক্কিনি সুরতে তোর ঘোরার কোন শখ জাগল? এমনিতে তো হাতি দিয়ে টেনেও বের করা যায় না। তাও আবার রাতে! যদি কোন ঝামেলা হয়, তিনটাকে কচলে চামড়া ছিলে নেবো।
মোবাইল আউটস্পিকারে। শুনে তিনজনেই মিটিমিটি হাসল। নাবিলা বড়এক শ্বাস ফেলল। তার অবস্থা সত্যি ফকিন্নি। তাই শ্বাস ফেলে আবার কিছু বলার আগেই অপূর্ব মোবাইল টেনে নিজের কাছে নিয়ে বলল, -- কোন সমস্যা নেই, চাচি। আপনি টেনশন করবেন না। তাছাড়া আমার এক বন্ধু বাসা এখান থেকে খুব দূরে না। সে গাড়ি নিয়ে আসছে। আমাদের ঘোরাঘুরির পরে সেফলি বাসায় পৌঁছে দেবে।
তারা ভেবেছিল, মাকে আশ্বস্ত করার জন্য অপূর্ব এমনিই বলছে। কিন্তু অবাক করে সে সত্যিই মোবাইল বের করে ফোন লাগালো। ঠিকানা বলল। সাথে বলল, -- ত্রিশ মিনিট টাইম দিলাম। তিনশ ফিট, নাকি কোথায়, সেখানে যাবো। গাড়ি নিয়ে কুইক হাজির হয়ে যাও।
ওপাশের উত্তর শোনা গেল না। তবে অপূর্ব হেসে ফোন রাখল। রাখতেই বোঝা গেল, গাড়ি আসছে। আর আসতে তো সময় লাগবেই। এই সুযোগে নোভা নাবিলকে টেনে নিয়ে গেল পাশের মার্কেটে। পাতলা টপস পরে এসেছে, এখন তার চাদর লাগবে। তা না হলে শীতে জমে যাবে।
নাবিলা নিজেও এগুচ্ছিল, তবে এই বান্দা সুন্দর করে বলল, -- আরে গাড়ি এলে তো খুঁজে পাবে না। তাছাড়া আমি চিনি নাকি? একা একা দাঁড়িয়ে থাকব?
নাবিল পড়ল মহা ফাঁসাদে। এই বোনের জ্বালায় বাঁচে না, ওই বোনের জ্বালায়ও বাঁচে না। ভাইয়ের করুন মুখ দেখে নাবিলা বলল, -- আচ্ছা, সমস্যা নেই। তুই ওকে নিয়ে যা। একটা চাদরই তো, সময় লাগবে না।
তারা যেতেই এই বান্দা মনের সুখে গুনগুন করে গান ধরল। নাবিলা সে দিকে মনই দিল না। যা খুশি করুক, সে বরং আশপাশে নজর দিল। কিন্তু সেই দিকেও শান্তি নেই। যেদিকে খেয়াল করে দেখতে যাচ্ছে, ওমনি মুখের সামনে সমানে চুটকি মারছে। তাও যেনতেন না, বিশাল হাতের বিশাল চুটকি। যতবার দিচ্ছে, নাবিলা ততবারই চমকে উঠছে।
তার একবার ইচ্ছে করল, নাক বরাবর এক ঘুষি মারতে। কিন্তু সেদিন যে মাথায় জুস ঢাললো, পরে তার এত অপরাধবোধ হলো। তাই আজ রাগ দমিয়ে চুপচাপই দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক করেছে, যা খুশি করুক। সে কিছুতেই নেই।
তাই এবারও আরেকটু দূরে গিয়ে অন্য পাশে তাকালো। শরবতের ভ্যান থেকে লেবুর ঘ্রাণ আসছে। এই শীতের রাতে এমন ঠান্ডা শরবত খায় কে, তার বুঝে আসে না। তবু কি ভিড়! নাবিলা ভালো করে দেখতেই আবার সামনে চুটকি।
নাবিলা আর চুপ থাকতে পারল না। বিরক্ত মুখে বলল,-- সমস্যা কি?
-- সমস্যা তো অনেক। কোনটা রেখে কোনটা বলব?
-- মুখের সামনে বারবার চুটকি বাজাচ্ছেন কেন?
অপূর্ব হাসল। হেসে এই কথার ধারে কাছে গেল না। বরং হাতের ফুলগুলো নেড়ে চেড়ে দেখতে দেখতে আবার বলল,
-- চা খাবে, নাবিলা?
-- না।
-- কেন?
-- এমনিই।
-- ভয় নেই। শোধবোধ করতে হবে না।
নাবিলা আর কিছু বলল না। অসম্ভব ফাজিল এই লোক। শোধবোধ করতে হবে না বলে কোন ঢং আবার শুরু করে কে জানে! তার আর কোন ঢংয়ের দরকারই নেই। যার যার রাস্তা, সে সে মাপো বাবু। বাড়ি গিয়ে নিজের চা নিজেই বানিয়ে খেতে পারবে।
অপূর্ব ফুলগুলো বাড়িয়ে বলল, -- একটু ধরো তো। এই দুই মিনিট। পকেট থেকে টিস্যু বের করব।
নাবিলা হাত বাড়িয়ে স্বাভাবিকভাবেই নিল। কেউ তাকে কাজের কিছু বলবে আর সে করবে না, এটা হয় নাকি! তাই সুন্দর করে ফুলগুলো হাতে নিলো। যখন থেকে এসেছে, যক্ষের ধনের মতো আগলে হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। লাল গোলাপ খুব প্রিয় বুঝি। নোভা তো দেখেই বলল, -- ব্যাপার কি?
অপূর্ব অবশ্য কিছু বলেনি। শুধু হেসেছে।
নাবিলা ফুলগুলো হাতে নিয়েই ঘ্রাণ নিল। একগুচ্ছ লাল গোলাপ। দেখতে এতো সুন্দর লাগছে! প্রত্যেক ফুলের আলাদা আলাদা সুবাস থাকে। তবে যে ফুলই হোক, হাতে নিয়ে ঘ্রাণ নিলে ভালো লাগার স্বাদ সব সময় একই রকম।
অপূর্ব কোন টিস্যু খুঁজল না। বরং নাবিলার হাতে দিয়ে আয়েশ করে দুহাত পকেটে পুরে দাঁড়াল। দাঁড়িয়েই বলল,
-- একটা গল্প শুনবে, নাবিলা?
নাবিলার আগের মতোই সোজ জবাব, -- না।
-- কেন?
-- এমনিই।
-- আমার সাথে তোমার কোন শত্রুতা?
-- আমার সাথে আপনার কোন শত্রুতা?
অপূর্ব ঠোঁট টিপে হাসল। ঠিক তখনই দু-তিনজন পুলিশ সামনে দিয়ে হেঁটে গেলো। তারা গেল তাদের মতো। তবে অপূর্ব অবাক হয়ে পাশে তাকালো। নাবিলার দৃষ্টি আগের মতোই নিচে। ফুলগুলো এখনও মুঠোয়। তবে এবার চেপে একেবারে তার সাইডে এসে দাঁড়িয়েছে। সাধারণভাবে না, এই যে একেবারে গায়ের সাথে গা লেগে গেছে। এতোটাই লেগেছে যে, নাবিলা যে কেঁপে উঠেছে সেটাও বুঝতে পারল খুব অনায়াসে।
অপূর্বর ভ্রু কুঁচকে গেল। তখনই তার ফোন বাজল। গাড়ি এসে গেছে। সে নাবিলকে মেসেজ করে ঠিক আগের মতোই চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। না সরল, না নাবিলাকে কিছু জিজ্ঞেস করল। বরং এমন ভাব, এই যেন গায়ের সাথে গা লেগে আছে সে বুঝতেই পারেনি।
নাবিল, নোভা এল কিছুক্ষণ পরেই। দেখেই অপূর্ব আস্তে করে সরে গেল। নাবিলার অবশ্য সেই ধ্যানও আছে বলে মনে হলো না। তবে স্বাভাবিকভাবেই গাড়ির দিকে গেল। তবে ডানে বামে যে কিছুই দেখছে না, অপূর্ব বুঝল। বুঝেই ঠিক তার পেছন পেছন গেলো। এই যে আরেকটু হলে এক লোকের সাথে গা লেগে যেত। সেটাও সবার চোখের আড়ালে হাত দিয়ে লোকটাকে সাইড কেটে দিল।
অপূর্ব ফোন করেছিল একজনকে, তবে দু-তিনজন চলে এসেছে। যার বাসায় দুপুরে দাওয়াতে গিয়েছিল, সেটাও চলে এসেছে। দূরত্ব বাড়লেও যোগাযোগ সব সময়ই ছিল। তাই বন্ধুত্ব কখনো ফিকে হয়নি। অবশ্য আজকাল ইন্টারনেটের ঘুগে কারো সাথেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে সবাই সংযুক্ত থাকে। তাছাড়া বাবার খোঁজে প্রথমবার এলেও, বাংলাদেশে তো আর প্রথম না। এই বারের আগেও আরো দুবার এসেছে। মায়ের পুরো গুষ্টি এখানে। ভ্যাকেশন হলেই ছুটে আসে। আর মা আসবে, ছেলে মেয়েদের দূর দেশে ফেরে আসবে বুঝি?
নোভার সাথে এদের ভাব সেই রাতেই হয়ে গেছে। তাই গাড়িতে উঠে আড্ডা জমাতে সময় লাগল না। তবে নাবিলা কাউকেই ঠিক চিনতে পারল না। তবুও ড্রাইভিং সিটের পাশে বসা ছেলেটা বলল, --ভালো আছো, নাবিলা?
নাবিলা হালকা হেসে বলল, -- হুম।
-- আমাকে মনে আছে?
নাবিলার মনে নেই। তবুও ভদ্রতার খাতিরে আগের মতোই হেসে বলল,-- হুম।
জাকির হাসল। হেসে একবার অপূর্বর দিকে তাকিয়ে বলল,
-- তোমার সাথে আমি কথা বলতে চেয়েছিলাম। সত্যি চেয়েছিলাম। এই সাদা বান্দর বলেছে কি না জানি না। তবে এই সুযোগ আমি হাতছাড়া করছি না।
অপূর্বর বেশি ভাবন্তর হলো না। নাবিল আর সে বসেছে একেবারে পেছনে। হাইয়েস গাড়ি, জায়গার অভাব নেই। তাই গা এলিয়ে দিতে দিতে বলল, -- বলেছিলাম।আর বলে শুনতে হয়েছে ফালতু, মাকাল ফল, সদরঘাট।
জাকির হেসে ফেললো। হেসে ফেললো নাবিলাও। নোভা নাবিল কিছুই বুঝল না। তবে এখন আর এই বিষয়ে কিছু বললও না।
তবে জাকির আগের মতোই হেসে বলল, -- ফুলগুলো সুন্দর, নাবিলা।
নাবিলা চমকে নিজের হাতের দিকে তাকালো। ফুলগুলো এখনও তার হাতে । আল্লাহ! ফেরত দিতে ভুলেই গেছে।
সে সাথে সাথে পিছনে ফিরে তাকালো। দেখল অপূর্বর চোখ বন্ধ। তাবুও কিভাবে বুঝল কে জানে। বুঝেই চোখ বন্ধ করেই বলল, -- জানালা দিয়ে ফেলে দাও। লাগবে না আর।
নাবিলা কি বলবে বুঝতে পারল না। নোভা হাসল। হেসে বলল, -- আপা, জীবনেও ফেলতে পারবে না।
অপূর্ব আগের মতোই বলল,-- কে বলল পারে না?
নোভা বুঝল না। নাবিলা ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তখনি অপূর্বর ঠিক আগের মতোই দু,আঙুল তুলে আবার চুটকি বাজালো। নাবিলা এবারো চমকে উঠল। তবে এবার আর বিরক্ত হলো না। বরং ঘুরে সেও গা এলিয়ে দিলো। হাতে রইল একগুচ্ছ লাল গোলাপ ফুল, আর দৃষ্টি ঐ যে রাতের বিষন্ন রাস্তা সেখানে।
সেই দৃষ্টি অবশ্য বেশি সময় স্থায়ী হলো না। হাসি গল্প আড্ডা পুরো গাড়ি কিছু সময়ের মাঝেই মেতে উঠল। মেতে উঠল নাবিলাও, সে গল্প না করুক, খিলখিলিয়ে না হাসুক তবে অনেকদিন পর ভালো লাগল। পৌঁছুতে পৌঁছুতে ঘড়ির কাঁটা বারোটার কাছাকাছি। কারোর ক্লান্তি নেই, চোখে ঘুম নেই। বরং আড্ডা খাওয়ায় পুরো জমে গেল। সেই জমে যাওয়ার আনন্দ শেষ হলো মাটির ছোট্ট চায়ের কাপ হাতে।
নাবিলা পরম তৃপ্তি নিয়ে চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়ালো। পাশেই নোভা, সে এখনো চায়ে চুমুক দেয়নি, মোবাইলে ছবির পর ছবি তুলছে।
নাবিলা হেসে চোখ ফেরাতেই থমকালো। নোভার কাপটা কানায় কানায় ভরা। কিন্তু তার কাপটায় কিছু অংশ কম ছিল। আজ না, সেই দিনও। সে তো কখনও ওতো সতো খেয়াল করে না। তবে কেন জানি আজ চোখে লেগে গেলো। অবশ্য ওতো গা করল না। থাকতেই পারে। সব কাপে সমান থাকবে এমন কিছু নেই। কম বেশি হতেই পারে।
তাই আবার চুমুক দিতে গেলো। যেতেই সেইদিনের অপূর্ব কথাটা কানে বাজল, -- শোধবোধ সব সময় সমানে সমান হয়। চায়ের স্বাদ ভালো ছিল তো নাবিলা?
নাবিলা সাথে সাথেই অপূর্বর দিকে তাকালো। সবার হাতে চায়ের কাপ, কিন্তু অপূর্বর হাতে নেই। তার হাতে মোবাইল। মোবাইলে চোখ রেখেই বা হাতে এলোমেলো চুলগুলো আরেক দফা এলোমেলো করল। আর করেই চোখ তুলে নাবিলার দিকে তাকালো। আর তাকাতেই নাবিলার হাতটা মৃদু কেঁপে উঠল।
চলবে.......
স্যরি আমার প্রিয় মানুষের। অপেক্ষায় রাখার জন্য আন্তরিক ভাবে স্যরি।