ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়

১৬তম পর্ব

লেখক: সোনালিকা বিনতে আজিম

#নিষিদ্ধ_প্রণয়

#পর্বঃ১৬

#সোনালিকা_আইজা

ভুঁইয়া মঞ্জিলে খুশির জোয়ার। আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে খুশির আমেজ। পুরো বাড়ি রঙ বেরঙের লাইটে সাজানো হয়েছে। কৌশিকের যাতনায় আনুষ্ঠানিকতায় দেরি করতে পারলের না জামাল সাহেব। অসভ্য ছেলেটা তাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে। তাই অগত্যাই তাড়াহুড়ো করে দিনক্ষণ ঠিক করেছেন ভদ্রলোক।

আগামীকাল ৩রা আগস্ট দুজনের গায়ে হলুদ। আগামী পরশু ৪ঠা আগস্ট ওদের বিয়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। যদিও পরিবারের অগোচরে দু'জনে একবার বিয়ে করে নিয়েছে। তবুও, নিজের মনের খায়েশ মেটাতে জামাল সাহেব আবারও বিয়ে দিতে চান। ইতিমধ্যে বাড়িঘর সাজানো প্রায় শেষের দিকে। শুধু বাগান সাইডের স্টেজটা বাকি। কৌশিক অন্যদের স্টেজে হাত দিতে দেয়নি। নির্লজ্জটা নাকি নিজের হাতে স্টেজ সাজাবে। বাগান সাইডে চার ভাই বোন মিলে স্টেজ সাজানোতে ব্যাস্ত। রাতুলও যোগ দিয়েছে সবার সাথে। বাড়ির একমাত্র বড় জামাই বলে কথা। নামের মতোন তার দায়িত্বটাও বড়।

স্টেজ থেকে প্রায় চার পাঁচ হাত দূরে চেয়ার পেতে বসে আছে তুবা। কৌশিক ওকে কোনো কাজে হাত লাগাতে দিচ্ছে না। কোথাও যেতে চাইলেও ধমকে চেয়ারে বসতে বলছে। দুই হাতে কাজ করছে আর একটু পর পর তুবাকে দেখছে। শেষ মেষ কৌশিকের ধমকে অতিষ্ট হয়ে কাঠ হয়ে চেয়ারে বসে রইলো তুবা। হাতে কৌশিকের ফোন। চোখ মুখ কুঁচকে ফোনে মুভি দেখতে লাগলো। এছাড়া বসে বসে আর কি করবে? কাজের ফাঁকে ভাই বোনেরা সবাই মিলে গল্প জুড়ে দিলো। রিয়া বাঁশের খুঁটির সাথে রঙিন কাপড় প্যাচাতে প্যাচাতে বলল,

"তুবা কত লাকি তাই না আপু? কৌশিক ভাইয়ের মতো কেয়ারিং একটা হাসবেন্ড পেয়েছে। ওর কষ্ট হবে দেখে কোন কাজ করতে দিচ্ছে না। চোখের সামনে বসিয়ে রেখেছে। এত্তো কেয়ারিং আর রোমান্টিক হাসবেন্ড পেতে কপাল লাগে। হাহ্! যেই কপাল আমার নেই।"

মৌমিতা হাসলো। ব্যাঙ্গ করে বলল,

"তা আর বলতে? আমার ভাইয়ের মতো মানুষই হয় না। চরিত্র তো নয়, যেনো সাদা কাপড়।"

কৌশিক বাঁকা হাসলো। স্টেজে আর্টিফিসিয়াল ফুল লাগাতে লাগাতে বললো,

"আমি যে কতবড় চরিত্রহীন সেটা আর কেউ না জানলেও তোর বোন খুব ভালো করেই জানে। প্রমাণ হিসেবে ওর পেটের দিকে তাকিয়ে দেখতে পারিস। কিছুদিন পর প্রমাণটাও সবার চোখের সামনে ধরা দেবে।"

আচমকা কৌশিকের জবাব শুনে থতমত খেয়ে গেলো তুবা। লজ্জায় গাল লাল হয়ে গেলো মুখটা। হাসফাস করে উঠলো। কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আঁড়চোখে একবার মিটমিট করে সামনে তাকালো। মৌমিতা আর রিয়া দাঁত কেলিয়ে হাসছে। তুবা সবচেয়ে বেশি লজ্জা পেলো রাতুলকে দেখে। নতুন দুলাভাইয়ের সামনে এমন কথা বলার কোনো মানে হয়? লজ্জায় হাসফাস করতে করতে উঠে দাঁড়ালো তুবা। তড়িঘড়ি করে বাড়ির দিকে পা বাড়ালো। ডেকোরেশনের বাঁশ খুটি তখনও ঘাসের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পালানোর তোড়জোড় করতে গিয়ে পায়ের নিচে খেয়াল করলো না তুবা। বাঁশের একটা টুকরোতে পা লেগে দেহের ভারসাম্য হারালো। সামনে থাকা ইটের টুকরোতে ধাম করে পায়ে বারি খেলো। হুড়মুড়িয়ে পড়েই যাচ্ছিল আচমকা কৌশিক তুবার হাত টেনে ধরলো। সঙ্গে সঙ্গে টান দিয়ে বুকের ওপর ফেললো।

ভয়ে আতঙ্কে তুবার জ্ঞান হারানোর উপক্রম। কাঁপতে কাঁপতে হাত রাখলো পেটে। পড়ে গেলে কি হতো? কৌশিক না ধরলে তো একটা সাঙ্ঘাতিক কান্ড ঘটে যেতো। সেকেন্ডের ব্যবধানে হুড়মুড়িয়ে এগিয়ে এলো সবাই। মৌমিতা চিন্তিত স্বরে বললো,

"লাগেনি তো? কোথায় লেগেছে দেখা। একটু স্থির থাকা যায় না? খালি তুড়ুৎ ফুরুৎ করিস।"

তুবার শরীর তখনও থরথরিয়ে কাঁপছে। বুকের ভেতর কেউ নিষ্ঠুর ভাবে হাতুড়ি পেটাচ্ছে। কৌশিক একহাতে চেয়ার টেনে তুবাকে বসিয়ে দিলো। নিজ উদ্যোগে উদ্ভ্রান্তের মতো হাত পা টেনে দেখতে লাগলো তুবা কোথাও ব্যথা পেয়েছে কি না। মুহুর্তেই নজরে পড়লো ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের ডগায় লাল লাল র*ক্তে*র দাগ। নখ উঠে গেছে খানিকটা।

কৌশিকের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। অতিরিক্ত রাগে থরথরিয়ে কেঁপে উঠলো দেহ। এই মুহুর্তে সবকিছু ভেঙে গুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করছে। দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো কৌশিক। শক্ত চোখে তাকালো তুবার মুখের দিকে। আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে যেইনা ধমকাতে যাবে তৎক্ষনাৎ তুবার কান্নারত মুখটা নজরে পড়লো। বুকের ভেতর নড়ে উঠলো কৌশিকের। তুবাকে এমন করুন ভাবে কাঁদতে দেখে ধমক দেয়ার ইচ্ছেটাকে মাটি চাপা দিলো। দাঁতে দাঁত চেপে রাগটা দমিয়ে নিলো। আগে পিছে না তাকিয়ে সোজা তুবাকে কোলে তুলে নিলো। লম্বা লম্বা কদম ফেলে হাঁটা দিলো বাড়ির ভেতরে।

-

-

জামাল সাহেব এসেছেন তাওহীদ সাহেবের সাথে কথা বলতে। এই কয়েক দিনে সংকোচবোধ থেকে ছোটো ভাইয়ের মুখোমুখি হতে পারেননি তিনি। এই মুহুর্তেও ভদ্রলোকের ভেতরে চরম অস্বস্তি কাজ করছে। নিজের ছেলের কুকর্মের জন্য মাথা কাটা গেছে ওনার। ছোটো ভাইকে ঠিক কি বলবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। বহু ভাবনা চিন্তা করে শেষমেষ সাহস জুগিয়ে চলেই এলেন। মনের কোণে বহু সংকোচ নিয়ে চাপিয়ে রাখা দড়জায় দুই আঙ্গুলের টোকায় ঠকঠকালেন। তাওহীদ সাহেব মাত্রই কাজ শেষ করে ঘরে এসেছেন। এমন সময় দড়জায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে দরজাটা খুলে দিলেন। দড়জার সামনে নিজের বড় ভাইকে দেখে এক দফা অবাক হলেন তিনি। কিছুটা অবাক সুরে বললেন,

"ভাইজান আপনি? কিছু বলবেন?"

"একটু কথা ছিলো তোর সাথে।"

"আপনি বাইরে দাড়িয়ে আছেন কেনো? ভেতরে আসেন।"

ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে বড় ভাইকে ঘরে ঢোকার জায়গা করে দিলেন। ভদ্রলোক গম্ভীর মুখে ঘরে ঢুকলেন। তাওহীদ সাহেবের ইশারায় বিছানায় গিয়ে বসলেন। তাওহীদ সাহেব নিজের বড় ভাইয়ের পাশেই বসেছেন। জামাল সাহেব শুরু থেকেই মাথা নিচু করে আছেন। চোখে চোখ রেখে কথা বলছেন না। আসলে তিনি কি দিয়ে কথা শুরু করবেন সেটা বুঝতে পারছেন না। বড় ভাইয়ের মনোভাব খানিকটা যেনো বুঝে গেলেন তাওহীদ সাহেব। জামাল সাহেবের কাঁধে হাত রেখে আশ্বাস দিয়ে বললেন,

"তুবা আর কৌশিকের সম্পর্ক নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই ভাইজান। আপনি দয়া করে কোনো হীনমন্যতায় ভুগবেন না।"

জামাল সাহেব যেনো কথা বলার শক্তি খুঁজে পেলেন। করুন চোখে নিজের ছোটো ভাইয়ের দিকে তাকালেন। তাওহীদ সাহেবের হাতটা শক্ত করে ধরে অপরাধী কন্ঠে বললেন,

"আমাকে মাফ করে দিস তাওহীদ। আমার ছেলের জন্য এত বিশ্রী একটা কান্ড ঘটে গেলো।"

"ভাইজান প্লিজ। এভাবে বলবেন না।"

"তো আর কি বলবো? আমার ওতো বড় দামড়া ছেলে, পরিবারের অগোচরে বাচ্চা মেয়েটাকে বিয়ে করে নিলো। যে কি না তুবার চাইতে গুনে গুনে আট বছরের বড়। আবার গোপনে সংসারও পেতেছে। এমনকি, বাচ্চাও আসতে চলেছে। বিশ্বাস কর তাওহীদ। যদি আমি আরও আগে এসব টের পেতাম, তাহলে ঘটনা এতদূর আগাতে দিতামই না। অনেক আগেই ওদের আলাদা করে দিতাম। মাঝখানে বাচ্চাটা এসে আমার হাত পা বেঁধে দিয়েছে।"

তাওহীদ সাহেব দুইহাতে জামাল সাহেবের হাত চেপে ধরলেন। আলতো হেঁসে বললেন,

"জুড়ি তো আল্লাহর তরফ থেকে ঠিক করা থাকে ভাইজান। প্রেম ভালোবাসা তো বাহানা মাত্র। তাছাড়া মন কি কারোর আয়ত্তে থাকার জিনিস?

ভাইজান! আপনি আমার কাছে বাবার মতো। আমার জীবনে বাবার পরে আপনার স্থান। বাবা মারা যাওয়ার সময় আমি অনেক ছোটো ছিলাম। বাবার মুখও আমার ভালো করে মনে নেই। আপনি আর মেজো ভাই বাবার আদর ভালোবাসা যতটুকুও বা পেয়েছেন। আমি সেটাও পাইনি। তবে আমার জীবনে আপনি আদর ভালোবাসার কমতি রাখেননি। সেই ছোটো বেলা থেকে নিজের সন্তানের মতো কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন। কাঁধে করে স্কুলে নিয়ে গেছেন। নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছেন। ছোটো বলে সব সময় আমাকে বুকের সাথে মিশিয়ে বড় করেছেন। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে আপনি ছিলেন আমাদের মাথার ওপরে ছায়ার মতো। এখনও আছেন। বুকের সবটুকু দিয়ে এই পরিবারটাকে আগলে রেখেন আপনি। আমার মেয়েটাকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসা আপনি দিয়েছেন। পরিবারের বাকি চার বাচ্চাদের থেকে তুবাকে আপনি বেশি আদর দিয়েছেন। অজুহাত হিসেবে বলেছেন তুবা পরিবারের সবচেয়ে ছোটো তাই বেশি আদর করেন। কিন্তু আমি তো জানি, তুবার প্রতি আপনার অগাধ ভালোবাসার কারণ তুবা আমার সন্তান তাই। আপনার সন্তান সমতুল্য তাওহীদের মেয়ে তাই। আপনি আমার কাছে বাবার চাইতে কিছু কম নয় ভাইজান।

একটা মাত্র মেয়ে আমার। সেই মেয়েকে আপনার ঘরে পাঠাতে আমার কোনো আফসোস নেই। আমি কৌশিককে চিনি। আপনি আমার মেয়েকে ভালোবাসা দেবার চক্করে নিজের ছেলের প্রতি উদাসীনতা করেছেন। ছেলেটাকে আমি আর মেজো ভাই কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। নিজের হাতে তৈরি করা ছেলেকে অবিশ্বাস কিভাবে করি? আমার মেয়ে আপনার ঘরে, কৌশিকের জীবনে খুব সুখে থাকবে। এটা আমার বিশ্বাস। ভাবির সাথে আমার আগেই কথা হয়েছে ভাইজান। আমি ভাবিকে জানিয়ে দিয়েছি এই বিয়েতে আমার বা ময়নার কোনো অমত নেই। আপনি দয়া করে আর মাথা নিচু করে রাখবেন না। আপনি আমাদের মাথার ওপর ছায়া দেয়া বটগাছ। আপনি থাকবেন সবসময়ের মতো সিনা টান করে। আপনার চরিত্রে মাথা ঝুঁকানো বেমানান।"

ছোটো ভাইয়ের আশ্বাস বাণীতে মনের হারিয়ে যাওয়া শক্তি ফিরে পেলেন জামাল সাহেব। কোঁচকানো হাতটা আলতো করে রাখলেন তাওহীদ সাহেবের মাথায়। এরপর ভ্রু কুঁচকে বললেন,

"একি! চুল পেঁকে যাচ্ছে কেনো?"

"নানা হতে চলেছি ভাইজান। চুল আর কতদিন কালো থাকবে?"

ছোটো ভাইকে রসিকতা করতে দেখে হো হো করে হেঁসে উঠলেন জামাল সাহেব। হাসতে হাসতে নজর রাখলেন দড়জার দিকে। আচমকা তার মুখের হাসি থেমে গেলো। দড়জার ফাঁক দিয়ে দেখতে পেলেন, কৌশিক তুবাকে কোলে নিয়ে দোতলায় উঠছে। দিন দুপুরে বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে ছেলের নির্লজ্জতা দেখে চোখ মুখ খিঁচে তাকালেন জামাল সাহেব। ছেলেকে দুটো কড়া কথা শোনানোর মতলব নিয়ে উঠতে গেলেন। আচমকা তাওহীদ সাহেব তার হাত টেনে ধরে থামিয়ে দিলেন। অনুরোধ সুরে বললেন,

"যেতে দেন না ভাইজান। বাচ্চা তো।"

"ওটা বাচ্চা? কদিন পরে বাচ্চার বাপ হবে। অসভ্য ছেলে একটা।"

দাঁত খিঁচে গর্জে উঠলেন জামাল সাহেব। ততক্ষণে কৌশিক সিড়ি মারিয়ে দোতলায় চলে গেছে। জামাল সাহেব চোখ পাকিয়ে তাকালেন নিজের ছোটো ভাইয়ের দিকে। খ্যাকখ্যাক করে উঠলেন,

"এই তোদের আশকারাতে ছেলেটা বিগড়ে গেছে। আস্ত একটা অসভ্য তৈরি হয়েছে। শুধু মাত্র পরিবারের মান সম্মানের কথা চিন্তা করে আমি চুপ করে আছি। কিন্তু বেশিদিন চুপ করে থাকবো না। একবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা মিটে যাক। তারপর আমি ওকে ধরবো। ওর এতো দুঃসাহস হলো কিভাবে, নিজের থেকে গুনে গুনে আট বছরের ছোটো বাচ্চা মেয়েটার মাথা নষ্ট করার? আমি নিশ্চিত, ওই তুবাকে ভুলভাল বুঝিয়ে বশ করেছে। কেনো করেছে ওকে সেই জবাব দিতে হবে। দিতেই হবে।"

গর্জন করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি। অনুষ্ঠানটা শেষ হতে যত দেরি। এরপরই তিনি ছেলের পেছনে শক্ত করে লাগবেন।

-

-

তুবাকে নিয়ে সোজা নিজের ঘরে এলো কৌশিক। ধীরে সুস্থে তুবাকে খাটের ওপর পা ঝুলিয়ে বসিয়ে দিয়ে আলমারি থেকে ফাস্টএইড বক্স নিয়ে আসলো। দুই পা মুড়িয়ে মেঝেতে বসলো। তুবার আঘাত পাওয়া পা টা নিজের হাঁটুর ওপর রাখলো। খুবই যত্ন নিয়ে তুলোয় স্যাভলন ভিজিয়ে র*ক্ত পরিস্কার করে দিলো। কৌশিক এতোটাই আস্তে হাত ছোঁয়াচ্ছে যেনো তুবা সামান্য তম ব্যথা না পায়। মিনিট পাঁচেক সময় লাগিয়ে আঙ্গুলটা গজ কাপড়ে মুড়িয়ে দিলো কৌশিক। কাজ শেষ হতেই ফাস্ট এইড বক্সটা নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। তুবার সাথে আর একটাও কথা বললো না। ভিষণ রাগ হয়েছে কৌশিকের। ইচ্ছে করছে কানের নিচে কষে দুটো লাগাতে। কিন্তু তুবার গায়ে হাতও কৌশিক তুলতে পারবে না। এতে নিজের কলিজাতেই আঘাত লাগে। তাই দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে রাগটা দমিয়ে রেখেছে।

রাগরাগ মন নিয়েই আলমারির যথা স্থানে বক্সটা রেখে দিলো কৌশিক। এরপর যেই না ঘুরতে যাবে এসন সময় পিঠের সাথে নরম কিছু অনুভব করলো। চিকন দুটো কোমল হাত কৌশিকের পেটের কাছের শার্ট খামচে ধরলো। কৌশিক নড়লো না। তুবাকে সরিয়েও দিলো না। কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।

কৌশিককে কিছু বলতে না দেখে তুবা এবার শব্দ করে কেঁদে ফেললো। কাঁদতে কাঁদতে নাক ঘষলো কৌশিকের শার্টের পিঠে। কৌশিক হকচকিয়ে গেলো। হতভম্ব হয়ে ঘুরে দাঁড়ালো। তুবা তখনও কৌশিককে ছাড়েনি। কৌশিক সামনে ঘুরতেই তুবা কৌশিকের বুকে মুখ গুঁজল। কাঁদতে কাঁদতে বলল,

"স্যরি! কথা বলুন প্লিজ।"

কৌশিক তবুও নিরুত্তর। তুবা মাথা তুলে তাকালো। ছলছল নয়ন জোরা স্থির করলো কৌশিকের দৃঢ় মুখে। দুই পায়ের আঙ্গুলের ভর দিয়ে খানিকটা উঁচু হলো। এক হাতে কৌশিকের বুকের কাছের শার্ট খামচে ধরে অন্য হাত কৌশিকের ঘাড়ে রাখলো। আলতো করে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিলো পুরু ওষ্ঠে। কৌশিক তবুও নিরুত্তর। তুবা আরও একটু ঘনিষ্ঠ হলো। ছোঁয়ার গাঢ়ত্ব বাড়ালো। শক্ত করে চেপে ধরলো পুরু ওষ্ঠ জোড়া। এই পর্যায়ে কৌশিকের রেসপন্স পাওয়া গেলো। দুই হাতে তুবার চিকন কোমর চেপে ধরে উঁচু করলো। এক গাঢ় চুম্বন শেষে তুবাকে মাটিতে নামালো। কাপালে কপাল ঠেকালো কৌশিক। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,

"নারী তুই বড়ই ছলনাময়ী। পাথরকেও গলানোর ক্ষমতা আছে তোর মাঝে। অভিমানের পাহাড়কেও টলিয়ে দিতে পারিস এক নিমেষে। এতো ছলনা কেনো তোর?"

তুবা কিছুটা এগিয়ে গেলো। কৌশিকের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"কারণ আমি কৌশিকের বউ। আমি সব পারি।"

কৌশিকের দেহে কারেন্ট খেলে গেলো। শরীর কাটা দিয়ে উঠলো। দেহের প্রতিটা লোমকূপ দাঁড়িয়ে গেলো। তুবার গলার ফিসফিস আওয়াজে বিশেষ কিছু আছে। কৌশিককে উন্মাদ করে দেয়। দিন দুনিয়ার অনুভুতি ভুলিয়ে দেয়। কৌশিক তুবাকে শক্ত করে চেপে ধরলো নিজের সাথে। বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো। মাথা ঝুঁকিয়ে কপালে ছোট্ট করে চুমু খেলো। মোহনীয় কন্ঠে আওড়ালো,

"আই লাভ ইউ জান। আই লাভ ইউ অ্যা লট।"

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন