ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়

১৭তম পর্ব

লেখক: সোনালিকা বিনতে আজিম

#নিষিদ্ধ_প্রণয়

#পর্বঃ১৭

#সোনালিকা_আইজা

(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন)

-----------

পুরো বাড়ি জুড়ে সাজ সাজ রব। ছোটো ছোটো বাচ্চাদের হৈ-হুল্লোড়ে কাঁপছে যেনো বাড়ির প্রতিটি দেয়াল। আনাচে কানাচে ঘুরঘুর করছে নিকটস্থ আত্মীয় স্বজনেরা। ধরণীর বুকে সন্ধ্যা নেমেছে কিছুক্ষণ হলো। হলুদ সন্ধ্যার সময়ও ইতিমধ্যে উপস্থিত। বাগান সাইডের স্টেজটা হরেক রকমের লাইটের আলোতে ঝকমক করছে। মৃদু বাতাসের দাপটে সবুজ ঘাস হেলেদুলে দোল খাচ্ছে।

ইতিমধ্যে কৌশিক স্টেজে চলে এসেছে। নিজের জায়গায় বসে তুবার জন্য অপেক্ষা করছে। আত্মীয় স্বজন সবাই প্রস্তুত। তুবা এলেই হলুদের কার্যক্রম শুরু করা হবে। কৌশিক অধৈর্য্য ভঙ্গিতে বাড়ির দিকে বার বার তাকাচ্ছে। এই এতটুকুন দেরিও যেনো সহ্য করতে পারছে না ছেলেটা। প্রাণপ্রিয়াকে হলুদ শাড়িতে দেখার জন্য অস্থির নয়ন জোড়া মরিয়া। প্রায় মিনিট দশকে সময় পর দূর থেকে তুবাকে আসতে দেখা গেলো।

কাঁচা হলুদ রঙের শাড়ি পড়েছে তুবা। মাথা থেকে পা পর্যন্ত ফুটন্ত তাজা গাঁদা ফুলের গহনা। মুখ জুড়ে হালকা সাজ। একহাত রিয়া এবং অন্য হাত মৌমিতার হাতে দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।

কৌশিকের হৃৎস্পন্দন থমকে গেলো। কয়েকবার হার্টবিটও মিস করলো। পুরুষলী দুই আঁখিতে ছড়িয়ে পড়লো মুগ্ধতা। ইতিমধ্যে কৌশিকের চেপে রাখা দুই ঠোঁট ফাঁকা হয়ে গেছে। অদ্ভুত মোহনীয় দৃষ্টিতে অবলোকন করতে লাগলো তার হৃদয়ের রানী প্রাণপ্রিয়াকে। শাড়িতে তুবাকে মারাত্মক সুন্দরী লাগছে। কৌশিকের মতে শাড়ি পরিহিত তুবা তার হৃদয়হরণকারী প্রাণ নাশিনী।

আজ থেকে প্রায় আট বছর আগে এমনই এক শাড়ি পরিহিত তুবাকে দেখে থমকে গিয়েছিল কৌশিকের মন। তুবার বয়স তখন ছিলো মাত্র দশ বছর। আর কৌশিক! তখন সে আঠারো বছর বয়সী এক তাগড়া যুবক। দেহের গঠনে ছিলো সদ্য পুরুষত্বের ছাপ। চোখে মুখে মাত্রই কাঠিন্যের ছায়া নামছে। রঙধনুর সাত রঙের মতো রঙিন ছিলো চোখের নজর। সেই সময়, সদ্য যৌবনে পা রাখা কৌশিকের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছিল দশ বছর বয়সী কিশোরী তুবা। এক আত্মীর বিয়ে উপলক্ষে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল ভুঁইয়া পরিবারকে। সেই সুত্রে বিয়ের আগেরদিন হলুদেও যোগদান করেছিলেন সবাই। সেদিন ছোট্ট দেহে হলুদ শাড়ি জড়িয়ে কৌশিকের কাছে ছুটে এসেছিল তুবা। ঝকঝকে দাঁতে হেঁসে জিজ্ঞেস করেছিল,

"আমাকে কেমন লাগছে কৌশিক ভাই?"

কৌশিকের হৃদয় সেদিন থমকে গেছিল। হৃদপিণ্ডে অদৃশ্য রক্তক্ষরণও হয়েছিল বোধহয়। হলুদ শাড়ি পরিহিত ছোট্ট তুবাকে দেখে এলোমেলো হয়ে গেছিলো কৌশিকের অনুভুতি। এমন অদ্ভুত অনুভুতি কৌশিক আগে কখনও অনুভব করেনি। এরপর থেকে তুবা যতবারই শাড়ি পড়েছে, কৌশিক ততবারই এলোমেলো হয়েছে। হৃদপিণ্ড বারে বারে থমকেছে। বেসামাল মনকে বশে আনতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে ছেলেটার। তাইতো তুবার শাড়ি পড়ায় কঠিন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কৌশিক। কারণ শাড়ি পরিহিত তুবা কৌশিকের শ্বাস আটকে দেয়। এক অদৃশ্য হাত কৌশিকের গলা চেপে ধরে। ছটফট করে কৌশিকের প্রেমিক মন। কাছে পেতে মন চায়। দুই চোখ ভরে দেখতে মন চায়। এই দেখতে চাওয়ার ইচ্ছের কোনো শেষ নেই। তুবার মুখের দিকে তাকিয়ে এক জনম অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারে কৌশিক।

আজ এতবছর পর আবারও সেই অসহ্য অনুভুতির মুখোমুখি হয়েছে কৌশিক। হৃদপিণ্ডটাও বেইমানের মতো হাতুড়ি পেটাচ্ছে। সেদিন তুবা ছোট্ট থাকলেও আজ আর সে ছোটো নেই। ভরা যৌবনে আকর্ষনীয় গড়ন। এজন্যই বোধহয় কৌশিকের অনুভুতি একটু বেশিই মাথাচাড়া দিচ্ছে।

ইতিমধ্যে তুবা স্টেজের কাছাকাছি চলে এসেছে। মৌমিতার হাত ধরেই কৌশিকের পাশে গা ঘেঁষে বসলো তুবা। লাজুক চাহনিতে একবার কৌশিকের দিকে তাকালো। কিন্তু একি? কৌশিক তুবার দিকে ফিরেও চাইছে না। কেমন চোরে মতো নজর লুকাতে এলোমেলো দৃষ্টিতে তাকিতুকি করছে। তুবা কৌশিকের দিকে সামান্য ঝুকলো। নিচু কন্ঠে মিনমিন করে বললো,

"আমাকে কেমন লাগছে কৌশিক ভাই?"

কৌশিক হাসফাস করে উঠলো। ইতিমধ্যে ছেলেটার ঘাম ছুটে গেছে। পেছনে ফ্যান থাকার পরেও কুলকুল করে ঘামছে। হাসফাস করতে করতে টেনে পাঞ্জাবির গলার কাছের দুটো বোতাম খুলে ফেললো কৌশিক। মৌমিতার দিকে তাকিয়ে হাতে ইশারায় বললো পানি দিতে। মৌমিতা পানির একটা বোতল এগিয়ে দিলো। ঢকঢক করে এক নিঃশ্বাসে পুরো বোতল শেষ করে ফেললো কৌশিক। তুবা শুধু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে দেখছে। কৌশিকের পানি খাওয়া শেষ হতেই তুবা আবারও নিচু স্বরে মিনমিন করে বললো,

"কি হয়েছে আপনার? শরীর খারাপ লাগছে?"

"খুব অস্বস্তি হচ্ছে জান। এতো সুন্দর করে সেজেছিস কেনো? আমাকে মেরে ফেলার ফন্দি এঁটেছিস?"

কেমন যেনো ভাঙা কন্ঠে কথাগুলো বলল কৌশিক। তুবা ঠোঁট ফুলালো। একবার নিজেই নিজের দিকে চাইলো। কোথায় সে বেশি সেজেছে? শুধু হলুদ শাড়ি আর ফুলের গহনাই তো পড়েছে। মুখে মেক-আপও লাগায়নি। তবুও লোকটা প্রশংসা না করে এভাবে বললো? তুবার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। মুখ ভার করে মাথা নিচু করলো। ঠিক সেই মুহুর্তে কৌশিক তুবার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বললো,

"এই যে আমার মনের ভেতর এলোমেলো ঝড়টা তুই তুললি। এখন এই ঝড় থামাবো কিভাবে? শাস্তি হিসেবে কষে একটা চুমু দেবো?"

তুবা হকচকিয়ে গেলো। হুট করেই মাথা তুলে বড়বড় চোখ করে তাকালো। আশেপাশে অসংখ্য মানুষ। কেউ শুনে ফেললে মান ইজ্জতের কিচ্ছু অবশিষ্ট থাকবে না।

তবে তুবাকে আর বেশি চিন্তা করতে হলো না। কৌশিকের অনুভুতিকে মাটিচাপা দিতে এগিয়ে এলো পরিবারের সদস্যরা। বড়রা সবার আগে হলুদ দেয়া শুরু করবেন। বাড়ির সবচেয়ে বড় বয়স্ক মানুষ হিসেবে জামাল সাহেব প্রথম হলুদের সূচনা করলেন। টেবিলে রাখা বাটি থেকে সামান্য হলুদ নিয়ে ছেলের গালে ছোঁয়ালেন। পরপরই সেটা তুবার গালে ছোঁয়ালেন। গম্ভীর মুখে ছেলের হাতে একটা দামী ঘড়ি পড়িয়ে দিলেন। এরপর তুবার গলায় একটা স্বর্ণের চেইন পড়িয়ে দিলেন। দুজনের মাথায় হাত রেখে মনে মনে দোয়া করলেন। জামাল সাহেবের গম্ভীর মুখ দেখে কিছু একটা ভাবলো কৌশিক। পরপরই ফট করে বলে দিলো,

"মনে মনে দোয়া করছো নাকি গা*লি দিচ্ছো বাবা?"

জামাল সাহেব দাঁত কিড়মিড় করে উঠলেন। নিচু স্বরে ধমকে বললেন,

"দোয়াই করছি হতচ্ছাড়া। মনে মনে চাইছি, তোমার মতো অসভ্যের থেকে আমার ফুলের মতো মেয়েটাকে যেনো আল্লাহ রক্ষা করেন।"

"সেটাও জোরেই বলো। নাহলে বুঝবো কিভাবে?"

"কেনো? অবুঝ তুমি? কিছু বোঝো না?"

দুই বাপ ব্যটার মধ্যে আবারও তর্ক শুরু হতে দেখে কনকচাঁপা বেগম ছুটে আসলেন। মৌমিতাও এগিয়ে এলো। জামাল সাহেবকে বুঝিয়ে শুনিয়ে দূরে নিয়ে গেলো। ভরা বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের মাঝে বাপ ব্যাটা সাপ নেউলের মতো ঝগড়া করলে খুবই বিশ্রী কান্ড ঘটবে।

একে একে বড়রা সবাই নিজেদের মতো হলুদ ছুঁইয়ে গেলেন। দুজনের মাথায় হাত রেখে মন ভরে দোয়া করলেন। এরপর আত্মীয়রাও কৌশিক আর তুবার হলুদ লাগালেন। সবশেষে আসলো ছোটোদের পালা। বিয়ে উপলক্ষে কৌশিকের কয়েকজন বন্ধু এবং অফিসের কলিগরাও এসেছে। বন্ধুরা মিলে কৌশিককে হলুদে ডুবিয়ে ফেলেছে একদম। পুরো শরীরেরে যতটুকু অংশ উন্মুক্ত ছিলো তার এক চিমটিও হলুদ লাগানো বাদ নেই। তুবার বেস্টফ্রেন্ড রিমিও যোগ দিয়েছে সবার সাথে।

কৌশিক এবং তুবাকে হলুদ লাগানো শেষ হতেই সেখানেই গোসল কারানো হলো। গ্রাম বাঙলার নিয়ম মোতাবেক কলসি ভর্তি পানি দুজনের মাথায় ঢালা হলো। এরপরই কৌশিকের বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে হৈচৈ হট্টগোল শুরু করলো। কে কাকে হলুদ মাখছে, জড়াজড়িতে বোঝা মুশকিল। কৌশিকের কপালে চিন্তার ভাজ পড়লো। এই খ্যাপা ষাঁড় গুলোকে আটকানো দায়। তাই মৌমিতাকে ডেকে বলল,

"তুবাকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যা তো। সবার আগে পোশাক পাল্টে দিস। এখানে থাকলে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতে পারে।"

মৌমিতা মাথা দোলালো। তুবাকে এক হাতে আগলে ধরে সোজা বাড়ির ভেতরে চলে গেলো। এতে যেনো কৌশিকের বন্ধুদের হৈ-হুল্লোড় দ্বিগুণ বাড়লো। শুরুটা হলুদ মাখানো দিয়ে হলেও এখন সবাই কাঁদায় গড়াগড়ি খাচ্ছে।

-

-

তুবাকে নিয়ে সোজা ওর ঘরে এসেছে মৌমিতা। বাড়ি ভর্তি আত্নীয় স্বজন থাকলেও বর্তমানে তুবার ঘর একদম ফাঁকা। এই মুহুর্তে সব আত্মীয়রা ছাদে খাওয়ায় ব্যাস্ত। বড়রা খাবার পরিবেশনে ব্যাস্ত আছেন।

ঘরে এসে সবার আগে তুবা ভেজা শাড়ি বদলে নিলো। পড়নের শাড়িটা খুলে অন্য একটা হলুদ শাড়ি পড়লো।

তুবার সাথে রিয়া আর রিমি যোগ দিয়েছে। মৌমিতা রাতুলের ডাকে একটু বাইরে গেছে। এদিকে বোন এবং বান্ধবীকে পেয়ে আড্ডায় মেতে উঠেছে তুবা। তিনজনে মিলে আলোচনা করছে আগামীকাল বিয়েতে কে কি করবে। সবাই যার যার প্ল্যান একে অপরের সাথে শেয়ার করছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলাকালীন রিয়ার ফোনে টুং টাং শব্দে ম্যাসেজ আসলো। রিয়া কথা বলতে বলতেই ফোনটা এবার চেক করলো। পরিচয় নাম্বার দেখে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। রিমিকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"একটু আমার সাথে আসবে রিমি? বাগানের দিকে যাবো।"

রিয়ার ডাকে রিমি তুবার থেকে মনোযোগ সরালো। রিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

"কেনো আপু?"

"একটু দরকার ছিলো। আমার একা যেতে ভয় করছে। একটু চলো না প্লিজ।"

মাঝখান থেকে তুবা আগ বাড়িয়ে বলল,

"আমিও যাই চলো।"

"আরে ধুর! তুই বিয়ের কনে। তুই কেনো এতো ঘোরাঘুরি করবি? তুই দুই মিনিট বস। আমরা পাঁচ মিনিটে আসছি।"

কথাগুলো বলেই রিমির হাত টেনে ধরলো রিয়া। এক প্রকার জোর করেই ধরে নিয়ে গেলো নিজের সাথে। একা হয়ে গিয়ে মনটা আবারও খারাপ হয়ে গেলো তুবার। বাড়ি ভর্তি এত মানুষ অথচ তুবার কাছে কেউ নেই। মন খারাপ করে মাথা নিচু করে বসে রইলো। মিনিটের ব্যবধানে খট করে দড়জা খোলার শব্দে মাথা তুলে চাইলো তুবা। এই সময় কৌশিককে নিজের ঘরে দেখে চোখ বড়বড় করে তাকালো। কৌশিক দড়জা চাপিয়ে দিয়ে এদিকেই আসছে। তুবা নিচু স্বরে চেচিয়ে উঠলো,

"আপনি এখানে?"

কৌশিক কোনো জবাব দিলো না। শুধু দ্রুত পায়ে এগিয়ে এলো। পুরো শরীরে মাখানো হলুদ এখনও তেমনই আছে। সে একটানে তুবাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। দুই হাতে তুবার চিকন কোমর পেচিয়ে ধরলো। মাথাটা সামান্য ঝুকিয়ে তুবার ডান গালে নিজের গাল ঘষলো। পরপর বাম গালে নিজের গাল ঘষলো। খুবই আলতো করে আদরের সহিত। তুবার চকচকে মুখের দুইপাশ নিমেষেই কাঁচা হলুদে আবারও হলদেটে হয়ে গেলো। আচমকা পেটের কাছে ঠান্ডা কিছুর স্পর্শ পেয়ে কেঁপে উঠলো তুবা। কৌশিকের পুরুষলী হাত আলতো করে ছুয়ে দিলো তুবার নরম কোমল উদর। মুহুর্তেই কাঁচা হলুদের আস্তরণ লেপ্টে গেলো উদরে। কৌশিক কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,

"আমার বউকে আমি বাদে সবাই হলুদ লাগালো। এটা কি মেনে নেয়া যায়? তাই মনের খুঁতখুঁতি মেটালাম। বউ বাচ্চা দুজনকেই হলুদ লাগিয়ে দিলাম। এখন শান্তি লাগছে।"

তুবা কোনো জবাব দিলো না। শুধু নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো। সেকেন্ডের বিরতি নিয়ে কৌশিক ফের বলল,

"আমার চোখে তুই সবসময় সুন্দরী জান। কিন্তু আজ যেনো একটু বেশিই সুন্দর লাগছে। এই অধিক সৌন্দর্যের রহস্য কি?"

"বিয়ের ছোঁয়া লেগেছে তাই।"

ব্যাঙ্গ সুরে কথাগুলো বলতে বলতে ঘরে ঢুকলো মৌমিতা। আচমকা মৌমিতাকে দেখে হকচকিয়ে গেলো তুবা। ছাড়া পাওয়ার জন্য ছোটাছুটি শুরু করলো। কিন্তু কৌশিক হাতের বাঁধন বিন্দু মাত্র ঢিলে করেলো না। বরং তুবাকে সেভাবেই ধরে রেখে গমগমে সুরে বললো,

"অভদ্রের মতো নক না করে ঘরে আসলি কেনো?"

"কারণ অসভ্যের মতো তুই এই ঘরে এসেছিস। অথচ এই মুহুর্তে তোর এখানে থাকার কথা নয়। তুবাকে এভাবে চেপেও ধরে রাখার কথা নয়।"

কৌশিক ভ্রু কুঁচকালো। কন্ঠে স্পষ্ট অধিকারবোধ,

"বউ আমার। ঘরও আমার। এখানে তোর সমস্যা কি রে?"

"একটু তো লজ্জা কর ভাই। আমি তোর বড় বোন। একটু তো লাজ শরম দেখা।"

এই পর্যায়ে তুবাকে ছেড়ে দিলো কৌশিক। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে তুবা মাথা নিচু করে নিলো। মৌমিতা বিরক্তি ভরা কন্ঠে বললো,

"আজ তোর তুবার আশেপাশে আসা নিষেধ। কাল রাতের আগ পর্যন্ত একদম তুবার কাছে ঘেঁষবি না। এটা বাবার কড়া হুকুম।"

"মীরজাফর! ভুলে যাস না তোর বিয়ে আমার জন্য হয়েছে। আমি সবাইকে রাজি না করালে তোর বিয়ে হতো না।"

মৌমিতা দুই হাতে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গি করে বলল,

"ঋন পরিশোধ করে দিয়েছি। তুই আমার বিয়েতে বাবাকে রাজি করিয়েছিস। আমি তোদের দুজনকে মেনে নিতে বাবাকে রাজি করিয়েছি। হিসাব বরাবর। এখন যা ভাগ।"

কৌশিক এক পাও নড়লো না। বরং করুন চাহনিতে তাকালো। সেই চাহনির বিন্দু মাত্র ধার ধারলো না মৌমিতা। এক প্রকার ধাক্কা ধাক্কি করেই কৌশিককে ঘর থেকে বের করে দিলো। কৌশিক দড়জার বাইরে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে উঠলো,

"মৌয়ের বাচ্চা। তোর সংসারে যদি আমি প্যাচ না লাগিয়েছি তাহলে আমিও তোর বড় ভাই না।"

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন