ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়

১৮তম পর্ব

লেখক: সোনালিকা বিনতে আজিম

#নিষিদ্ধ_প্রণয়

#পর্বঃ১৮

#সোনালিকা_আইজা

(কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন)

বিয়ের সময়টা যেনো তরতর করে এগিয়ে এলো। রাতটা কেটে গেলো চোখের পলকেই। তবে সবার জন্য সংক্ষিপ্ত এই রাতটা কৌশিকের জন্য ছিলো এক যুগের সমান। পুরোটা রাত নিজের ঘরে অস্থির চিত্তে ছটফট করেছে ছেলেটা। তুবাকে এক নজর দেখার জন্য ব্যাকুল মন বড়ই আনচান করছে। রোজ রাতে প্রেয়সীকে এক নজর দেখার অভ্যাসে অভ্যস্ত কৌশিক। আজ সেই অভ্যাসের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার নিজেরই পরিবার। নিষ্ঠুর নির্দয়ের মতো তুবাকে আড়ালে রেখেছে মৌমিতা। একটা বারের জন্যও কৌশিকের বুকের ব্যাকুলতা বোঝেনি। এক বুক হতাশা নিয়ে নির্ঘুম বিষাক্ত একটা রাত পার করলো কৌশিক। মনে মনে মৌমিতাকে আচ্ছা করে গা*লিও দিলো। ভুতনি, চুরায়েল একটা। তুবা কৌশিকের বউ। নিজের বউয়ের কাছে যেতে অন্যের সামনে কাকুতি মিনতি করতে হবে কেনো? এক বুক জ্বালা নিয়ে রাতটা পার করলো কৌশিক।

ইতিমধ্যে বাড়িতে বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। ভোরের আকাশে আলো ফুটতেই নিকটস্থ আত্মীয় স্বজন এসে হাজির। দুরের আত্মীয়রা একটু সময় নিয়ে দেরিতে আসবে। বাড়ির পুরুষেরা সবাই যার যার মতো কাজে অস্থির। কাজ থেকে নিস্তার পায়নি নীরবও। ছেলেটা সেই সকাল থেকে খাটতে খাটতে শেষ। বড় বড় ঝুড়ি ভর্তি ফলমূল নিয়ে রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে। আত্মীয়দের জন্য ফল মিষ্টি আনিয়েছেন জামাল সাহেব। সেগুলোই বাড়ির গেইট থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পড়েছে নীরবের কাঁধে। চিকনা পাতলা ছেলেটা ভারি ফলের ঝুড়ি বহন করতে হিমসিম খাচ্ছে। কোনোমতে টলতে টলতে এগিয়ে যাচ্ছিল রান্নাঘরের দিকে। আচমকা ফ্লোরে অবলীলায় পড়ে থাকা এক গোছা মরিচ লাইটের তাড়ে পা জড়িয়ে গেলো নীরবের। হুড়মুড়িয়ে যেইনা পড়তে যাবে এমন সময় কোনো নরম হাত সামনে থেকে ঠেলে ধরলো নীরবকে।

বেঁচে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো নীরব। ঝুড়ির পাশ দিয়ে ঘাড় বাকিয়ে তাকালো। সম্মুখে সদ্য ঘুম থেকে ওঠা রিমিকে দেখে থমকে গেলো চোখ জোড়া। শিথিল হলো দুই নয়ন। ঘুম জড়ানো ফুলো ফুলো মুখটা বড্ড বেশি স্নিগ্ধ লাগছে। তৈলাক্ত মুখে নেই কোনো কৃত্রিমতার ছাপ। নীরবের বুকে অদ্ভুত একটা অনুভুতি হলো। এক নাম না জানা অদৃশ্য ঘোরের মধ্যে তলিয়ে গেলো নীবর। এক নজরে তাকিয়ে রইলো নির্মিশেষ। ছেলেটার অনুভুতিতে এক বালতি পানি ঢালতে ধমকে উঠলো রিমি। দাঁত কিড়মিড় করে চেঁচিয়ে বললো,

"সোজা হয়ে দাঁড়া বলদ। উপকার করেছি বলে বোঝা গুলো আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিবি নাকি? এগুলো নিয়ে সর বেয়াদব।"

আচমকা রিমির ধমকে হকচকিয়ে গেলো নীরব। ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো। কাঁধে রাখা ফলের ঝুড়িটা নিচে নামিয়ে রাখলো। পায়ের সাথে পেঁচিয়ে যাওয়া তারাগুলো ঝটপট ছাড়িয়ে নিলো। এরপর শক্ত চোখে তাকিয়ে বলল,

"তুই আমাকে বেয়াদব বললি কেনো?"

"তো?"

রিমির ভাবলেশহীন উত্তর। নীরব রেগে গেলো।

"তো মানে? আমি তোর সাথে কি বেয়াদবি করেছি যে তুই আমাকে বেয়াদব বলছিস? তোকে টিজ করেছি? ওড়না টেনে ধরেছি? নাকি খারাপ ভাবে ছুঁয়েছি? বল?"

রিমি নাক মুখ কুঁচকালো। নীরবের সাথে ওর এমনিতেই কখনো বনিবনা হয়না। কলেজে দেখা হলে শুধু তর্ক বির্তক আর ঝগড়াই করতে থাকে। যদিও নীরব ঝগড়া ভুলে বন্ধুত্ব করতে চায় কিন্তু রিমিই ওকে পাত্তা দেয় না। রিমির বিরক্ত লাগে। এখন আবার নীরবের লাগামহীন প্রশ্ন রিমিকে আরও বিরক্ত করলো। রিমি নাক মুখ কুঁচকে বলল,

"অসভ্য!"

ভেঙচি কেটে যেই না রিমি চলে যাবে আচমকা নীরব রিমির একহাত ধরে হ্যাচকা টানে সামনে নিয়ে এলো৷ সেকেন্ডের ব্যবধানে কি হয়ে গেলো রিমি বুঝতে পারলো না। শুধু অনুভব করলো তার ঠোঁটে গরম কিছু লেগে আছে। সেই সাথে ভেজা ভেজাও অনুভব হচ্ছে। রিমির মাথা ঘুরে উঠলো। মস্তিষ্ক জ্বলতে শুরু করলো। কোনো অনুভুতি অনুভব করার আগেই নীরব সরে দাঁড়ালো। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

"এখন বল। অসভ্য, অভদ্র, বেয়াদব। যা খুশি বল। আই ডোন্ট মাইন্ড।"

কথাগুলো বলা পর্যন্তই নীরব ছিলো সেখানে। এরপরই সেকেন্ডের ব্যবধানে স্হান ত্যাগ করলো। রিমি কয়েক মুহুর্ত পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। কি ঘটে গেলো বুঝে আসতেই সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠলো। এক হাতে বুকের কাছটা খামচে ধরলো রিমি। চোখ দুটো থেকে ঝরঝর করে বারিধারার বর্ষন শুরু হলো। নীরব ওর সাথে এমন করলো? শেষে কি না.... আর ভাবতে পারলো না রিমি। মুখ চেপে ধরে কাঁদতে কাঁদতে দোতলায় উঠে গেলো।

-

-

বাগান সাইডে বিয়ের জন্য বড় করে স্টেজ করা হয়েছে। পাত্র পাত্রীর বসার জায়গাও সেখানেই। কৌশিক আগেই স্টেজে উপস্থিত হয়েছে। সেই গতকাল থেকে তুবার সাথে দেখা হয়নি ছেলেটার। আনচান করতে থাকা মনকে শক্ত করে চেপে রেখেছে কৌশিক। নিজের জন্য বরাদ্দকৃত আসনে বসে অধীর আগ্রহে তুবার পথ চেয়ে বসে আছে।

কৌশিকের অপেক্ষার অবসান ঘটলো প্রায় ঘন্টা খানের পর। দূর থেকে একদল মেয়ে পায়ে পায়ে তাল মিলিয়ে হেঁটে আসছে। কৌশিক তৎক্ষনাৎ উঠে দাঁড়ালো। তীঘ্ন চোখে চাইলো। একঝাঁক মেয়েদের মধ্যে তার নজর আটকে গেলো টকটকে লাল লেহেঙ্গা পড়া বিয়ের কনের দিকে। বিয়ের ভারি সাজে মনে হচ্ছে আকাশ থেকে নেমে আসা কোনো পরী। কৌশিকের চোখ জোড়া শিথিল হলো। চোখে মুখে একরাশ মুগ্ধতা। অভ্যন্তরে শীতল হাওয়া বয়ে গেলো। আচমকা কৌশিক বুকে ব্যথা ওঠার ভঙ্গিতে বুকের বামপাশের হাত চেপে ধরলো। পরপরই দেহের ভর ছেড়ে দিলো পেছন দিকে। কৌশিকের বন্ধুরা সবাই পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলো। কৌশিককে পেছনে হেলতে দেখে সবাই তাড়াহুড়ো ভঙ্গিতে খপ করে ধরে ফেললো। দেহের ভর তখনও পেছনে ছেড়ে আছে কৌশিক। মাথাটা পেছনে হেলিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বুকে হাত রাখলো কৌশিক। আলতো হাতে বুক ডলে বলল,

"হায়! মার ডালা!"

কৌশিকের কান্ড দেখে সবাই শব্দ করে হেঁসে উঠলো। লজ্জায় তুবার নাজেহাল অবস্থা। লজ্জা থেকে বাঁচতে মাথা নিচু করে রেখেছে মেয়েটা। স্টেজের কাছাকাছি আসতেই কৌশিক লাফ দিয়ে উঠে এগিয়ে গেলো। এক হাতে আলতো করে তুবার হাত ধরে স্টেজে উঠতে সাহায্য করলো। হাত ধরেই তুবাকে সোফায় বসালো। পরপর নিজে গিয়ে তুবার পাশে গা ঘেঁষে বসলো। সকলের অগোচরে তুবার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"এ কি রুপ দেখালি জান? আজ আমার মরন নিশ্চিত।"

তুবা লাজুক হাসলো। সেই মুহুর্তে কাজী সাহেবকে নিয়ে হাজির হলো বড়রা। প্রথম বিয়েটা পরিবারের অগোচরে হয়েছে বিধায় জামাল সাহেবের ইচ্ছায় পরিবারের সম্মতিতে আরও একবার বিয়ে পড়ানো হলো। ওদের গোপন বিয়ের কথা আত্মীয় স্বজন তো আর জানে না। পাড়াপ্রতিবেশির মুখ বন্ধ করতে এই পন্থা।

বেশ আনন্দের সাথেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন হলো। বিয়ের দিন এত আনন্দ কাজী সাহেব আগে দেখননি। কৌশিককে কবুল বলতে বলার আগেই সে টেপ রেকর্ডারের মতো ফটাফট তিন কবুল বলে দিলো। তুবাকে বলতেই সেও নির্ধায় কোনো থামাথামি ছাড়াই কবুল বলে দিলো। কাজী সাহেব অবাক চোখে শুধু দেখলেন। অন্য সব বিয়েতে কবুল বলার সময় মেয়েরা কান্নাকাটি করে অজ্ঞান হয়ে যায়। চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে কবুল বলাতে হয়। তাও কি বলে? দাঁতে দাঁত চেপে পড়ে থাকে। আর এই বিয়েতে কারোর চোখে মুখে দুঃখের ছায়া টুকু নেই। কান্না তো বহু দূরের কথা। কাজী সাহেবের জীবনে এই বোধহয় প্রথম বিয়ে যেখানে কান্নাকাটির ছিটেফোঁটা নেই।

-

-

বিয়ের কাজ সম্পন্ন হতেই সবাই দুই হাত তুলে মোনাজাত করলো। মোনাজাত শেষে তাওহীদ সাহেব সবার মাঝে মিষ্টি বিতরণ করলেন। কৌশিক আর তুবাকে ঘিরে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবের সমাগম। যার যার মতো নানান ভঙ্গিতে ছবি তোলায় ব্যাস্ত। এভাবে প্রায় দুই ঘন্টা সময় ছবি তুলতে কেটে গেছে।

এরপর তুবাকে নিয়ে মেয়েরা বাড়ির ভেতরে চলে গেলো। কৌশিককে এক ঘন্টা পরে আসতে বলেছে। অনিচ্ছার স্বত্বেও মেনে নিয়েছে কৌশিক। কিন্তু মনে মনে চিন্তায় বিভোর। না জানি বিচ্ছুগুলো ওকে নাকানিচুবানি খাওয়ানোর কি ফন্দি আঁটছে।

কিছুক্ষণের ব্যবধানে আত্মীয় স্বজন অনেকেই চলে গেছে। হাতে গোনা কয়েকজন রয়েছেন শুধু। তারাও ধীরে ধীরে বিদায় নিয়ে যাচ্ছে। কৌশিক বসার ঘরের সোফায় বসে আছে। বারে বারে দেয়াল ঘড়িতে সময় দেখছে। ঘরে যাওয়ার জন্য মনটা আনচান আনচান করছে খুব। কখন ঘরে যাবে আর নিজের বউটাকে কাছে পাবে। দু চোখ ভরে দেখবে। মন ভরে আদর করবে। আবারও নতুন করে ভালোবাসবে।

আত্মীয়দের বিদায় জানিয়ে মাত্রই ঘরে ফিরলেন জামাল সাহেব। ঘরে যাওয়ার পথে সোফায় বসে ছেলেকে মোচড়ামুচড়ি করতে দেখে সেখানেই থমকে দাঁড়ালেন। গম্ভীর কন্ঠে গমগমে সুরে বললেন,

"এখানে বসে এমন মোচড়াচ্ছো কেনো? পেটে ব্যথা করছে? চাইলে আমার ঘরের ওয়াশরুম ব্যবহার করতে পারো।"

সাথে সাথে কৌশিক স্থির হয়ে গেলো। ছটফটানিও থেমে গেলো। চেহারার রঙটাও মুহুর্তেই বদলে ফেললো। বাপের মতোই মুখটা গম্ভীর করে বলল,

"এতো দরদ দেখানোর দরকার নেই বাবা। করবে তো সেই অপমানই।"

"তো করবো না? নিজের কুটিল মাথার সাঙ্ঘাতিক মস্তিষ্ক যে কারণে খাটিয়েছিলে। সেই উদ্দেশ্য তো সফল হয়েছে। তাহলে?"

"না এখনও হয়নি। সবে তো দুবার বিয়ে করলাম। আরও দুবার করা বাকি।"

জামাল সাহেব ভরকালেন। চোখ পাকিয়ে তাকালেন ছেলের দিকে। দাঁত খিঁচে বললেন,

"আরও দুবার মানে?"

"এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে ভালো লাগছে না বাবা। চলো তবুও বলছি। ছেলেদের চার বিয়ে করা সুন্নাত। চারের মধ্যে দুইবার করলাম মাত্র। আরও দুইবার করা বাকি। তাই আবারও দুটো ভালো দিনক্ষণ দেখে তোমাদের মেয়েকে দুবার বিয়ে করে নেবো। এতে করে হিসেবের খাতাটা ক্লোজ হয়ে যাবে। যাতে ভবিষ্যতে তোমাদের মেয়ের প্রতারিত হওয়ার ভয় না থাকে। বোঝোই তো! মেয়ে মানুষ। এই ভয়ে দিনরাত ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদে। তোমাদের মেয়ের কান্না আমার আবার সহ্য হয় না। বুকটা জ্বলে।"

বলতে বলতে বুকে হাত রাখলো কৌশিক। হালকা ডলে জ্বলুনির আভাস দিলো। জামাল সাহেব হতভম্ব। কথা বলার ভাষা হারালেন। চোখ মুখ খিঁচে বিড়বিড় করলেন,

"একটা অসভ্য।"

-

-

রাত বারোটার আগে নিজের ঘরে একটা কদমও রাখতে পারেনি কৌশিক। বিচ্ছুগুলো ঘরের আশেপাশেও যেতে দেয়নি ওকে। বারোটার পর কৌশিকের জন্য বন্ধ দ্বার উন্মুক্ত করেছে। সেটাও আবার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে। সবশেষে ঝামেলা মিটিয়ে কৌশিক নিজের ঘরে জায়গা পেলো।

কৌশিক যখন ঘরে ঢুকলো তখন ঘড়িতে রাত সাড়ে বারোটা ছুঁই ছুঁই। লম্বা করে দম নিয়ে দড়জা আটকে দিলো কৌশিক। পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো সামনে। তুবা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে আকাশ পানে। স্বচ্ছ আকাশে অসংখ্য তারার মেলা বসেছে। সে কি চোখ ধাঁধানো মনোরম দৃশ্য। কৌশিক আলতো হাসলো। পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলো তুবার কাছে। পেছন থেকে নরম আলিঙ্গনে আবদ্ধ করলো তুবাকে। ঘাড়ে থুতনি রেখে চোখ বন্ধ করে শ্বাস টানলো কৌশিক। মোহনীয় কন্ঠে বললো,

"এতো মুগ্ধ নজরে আকাশ কেনো দেখছিস জান? এই মুগ্ধতা তো আমার জন্য জমিয়ে রাখা উচিত।"

তুবা তৎক্ষনাৎ জবাব দিলো না। খানিকটা চুপ করে রইলো। সময় নিলো। কিছুক্ষণ নিরব থেকে ধীর কন্ঠে বললো,

"আজ আকাশটা খুব সুন্দর তাই না কৌশিক ভাই?"

কৌশিক ভ্রু কুঁচকালো। ঘাড় থেকে থুতনি তুলে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। কিন্তু তুবাকে ছাড়লো না। পেছনে থেকে আলিঙ্গন করে দাঁড়িয়েই ধমকের সুরে বললো,

"খবরদার! একদম ভাই বলে ডাকবি না। তিন তিন ছয় কবুল বলে বিয়ে করেছি তোকে। ভাই কিসের? শেষে আমার বাচ্চাও ভবিষ্যতে কনফিউজড হয়ে যাবে। ও আমাকে বাবা ডাকবে না মামা ডাকবে?"

কৌশিকের ধমক শুনে তুবা হেঁসে ফেললো। ঘুরে কৌশিকের মুখোমুখি হলো। দুই হাতে গলা জড়িয়ে ধরলো। চিকন মিষ্টি কন্ঠে আওড়াল,

"ও মামা ডাকলেও আপনি আমার। বাবা ডাকলেও আপনি আমার।"

তুবার ঠোঁটে মিষ্টি হাসি। কৌশিক নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। বিয়ের সাজে তুবার সৌন্দর্য আরও বেশি বেড়ে গেছে যেনো। কৌশিকের ঘোর লেগে গেলো। নজর আটকে গেলো টকটকে লাল ঠোঁটের ওপর। লিপস্টিকের আস্তরণ পাতলা ঠোঁট জুড়ে ছড়িয়ে আছে। পরপর দুই তিনবার শুকনো ঢোক গিলল কৌশিক। ব্যাকুল কন্ঠে আবদার করলো,

"একটু আদর করতে দিবি জান? বুকটা খুব জ্বলছে। এই দেখ, কেমন নির্দয়ের মতো আগুন উত্তাপ বের হচ্ছে। কথা দিচ্ছি, বেশিক্ষণ সময় নেবো না।"

তুবা বাঁধা দিলো না। বরং আরও একটু এগিয়ে কৌশিকের সাথে মিশে দাঁড়ালো। এক হাতে কৌশিকের মাথার পেছনের দিকের চুল খামচে ধরে ওষ্ঠ এগিয়ে নিয়ে গেলো। কৌশিকের ঠোঁটের কোণে প্রাপ্তির হাসি। এক গাঢ় চুম্বনে লিপ্ত হলো দুজন। কৌশিকের সকল ব্যাকুলতা দুমড়ে মুচড়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। যেনো শত বছরের তৃষ্ণার্ত পথিক এক ফোঁটা পানির সন্ধ্যান পেয়েছি। সেই এক ফোঁটা পানিতে মরুভূমির ন্যায়ে খা খা করতে থাকা বুকের তৃষ্ণা মেটাতে ব্যাস্ত।

কৌশিক তুবাকে কোলে তুলে নিলো। অতি সপ্তপর্ণে ফুলে সজ্জিত নরম বিছানায় শুইয়ে দিলো। তুবার হাতটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,

"পুরো একটা দিন তোকে দেখতে পাইনি জান। জানিস, আমার বুকটা কত জ্বলছিল?"

তুবা মাথা কিছুটা উঁচু করলো। কৌশিকের বুকের বাম পাশে গাঢ় করে চুমু খেলো। মিষ্টি হেঁসে বললো,

"আগুনে পানি ঢেলে দিলাম। জ্বালাপোড়া কমেছে তো?"

কৌশিক ঠোঁট ছড়িয়ে হাসলো। মুখটা নামিয়ে তুবার ঘাড়ে মুখ ডুবালো। চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিলো তুবার ঘাড়, গলা, পুরো মুখ। নিষিদ্ধ অঙ্গ গুলো খুবই আলতো হাতে ছুঁয়ে দিলো। তুবা চোখ বন্ধ করে অনুভব করলো শুধু। কৌশিকের প্রতিটি ছোঁয়া তুবাকে এক সাগর পরিমাণ সুখ দেয়। এই অসহ্য সুখ তুবাকে পাগল করে ফেলে। ডুবিয়ে দেয় প্রেমময় অনুভুতির অতল গহ্বরে।

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন