ফন্ট সাইজ:
থিম:
আয় তবে সহচরী

3

লেখক: উম্মে_হাবিবা

হসপিটালের নিস্তব্ধ করিডোরের ফ্লোরে দেয়ালে হেলান দিয়ে মাথা হাঁটুতে গুজে বসে আছে এক অষ্টাদশী কন্যা। ঘন কালো কেশরাশি মুক্ত বাতাসে উড়ছে অবাধ্য হয়ে। অযত্নে বাঁধা হাত খোঁপা টাও ঢিলে হয়ে খুলে গেছে। হালকা কোঁকড়ানো চুলগুলো ঝরঝর করে অবহেলায় লুটিয়ে পড়েছে ফ্লোরে। সেদিকে খেয়াল নেই রমণীর। ভেতরের রুম থেকে ভেসে আসা বাচ্চার এক একটা চিৎকার তার বুকে জ্বলন্ত সিসা হয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। যে ছোট্ট আদুরে প্রাণের সুরক্ষায় সারাক্ষণ তৎপর রমণী আজ সেই প্রাণের কান্নায় বুকে র'ক্তক্ষরণ হচ্ছে তার। ভাইয়ের দাফনের সময়ও যে মেয়ের চোখ থেকে দু ফোঁটা পানি পড়ে নি, সংসারের দায়িত্বের যাতাকলে পৃষ্ঠ হয়ে যার চোখে অশ্রু জমে নি,সমাজের কটু কথায় যে কখনো ভেঙে পড়ে নি আজ সেই মেয়েই ছোট্ট শিশুর ন্যায় ফুপিয়ে চলেছে। ডাগর ডাগর আঁখি যুগলে বাঁধ ভেঙেছে বর্ষনের।

অষ্টাদশীর থেকেই কয়েক হাত দূরে অসহায়ের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে রুগ্ন শরীরের পৌড়া নারী। শাহিদা বেগম সাহস করে মেয়ের কাছে যেতে পারছেন না। বুকে আগলে নিয়ে ভরসা দিতে পারছেন না। কিভাবেই বা পারবেন? আজ যা কিছু হয়েছে সব তো তার জন্যই। কেবিনের ভেতরের ওই নিষ্প্রাণ প্রাণটা আজ তার বেখেয়ালির জন্য কষ্ট পাচ্ছে। এই অপরাধবোধে অস্থির সে। যতবারই মেয়ের কান্নারত মুখের দিকে তাকাচ্ছে ততবারই তাচ্ছিল্যে করে ভেতর থেকে কেউ বলছে

--যে মেয়ে তোদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য এতো সংগ্রাম,ত্যাগ স্বীকার করে সেই মেয়ের আমানত টুকুর যত্ন নিতে এতো বেখেয়ালি কি করে হলি? নিজের সন্তানের রেখে যাওয়া শেষ আমানত টুকুও যত্ন করে রাখতে পারলি না।

শাহিদা নেওয়াজ আর সহ্য করতে পারলেন না। শাড়ির আঁচলে মুখ চেপে ছুটে চলে গেলেন বাইরে। এখানে আর এক মূহুর্ত থাকলেও সে শ্বাসরোধ হয়ে মা'রা যাবে। অপরাধবোধে র'ক্তক্ষরণ হবে হৃদয়ে।

--মেহরিমা নেওয়াজ কে আছেন?

তড়িৎ মাথা তুললো রমণী। বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দৌড়ে গেলো ডক্টরের কাছে। কেবিনের ভেতর নজর রেখে অস্থির কন্ঠে থেমে থেমে বললো

--ডক্টর আ..আমার মেয়ে। আমার পু..পুতুল কেমন আছে ডক্টর? আমার বাচ্চার কিছু হয়নি তো? ও সুস্থ আছে তাই না বলুন?

ডক্টর রায়হান মেয়েটার এমন অস্থিরতা দেখে কিছুটা অবাক হলেন। পেশায় সে হার্ট সার্জন হলে আজকে রাতে ইর্মাজেন্সিতে তার ডিউটি ছিলো। একজন ভিআইপি রোগীর দেখাশোনা তিনি নিজেই করছিলেন। তখনই এই মেয়েটি একটা অচেতন বাচ্চা মেয়েকে কোলে নিয়ে দৌড়ে এসেছিলো। হাতে পায়ে ধরে মেয়েটার চিকিৎসা করার জন্য অনুরোধ করেছিলো। যেহেতু রাতের শিফট তার উপর অন্য কোনো ডক্টর ও ছিলো সেজন্য ডক্টর রায়হানই বাচ্চাটাকে অভজারভেশনে রেখে ট্রিটমেন্ট করেছে। তেমন গুরুতর কিছু না হলেও অনবরত বমি করায় ছোট বাচ্চার উপর বেশ ধকল গেছে। কিন্তু এই মেয়েকে দেখে মনে হচ্ছে কষ্ট ওই বাচ্চা না বরং ইনি পাচ্ছেন।

ডক্টর রায়হান মেহরিমাকে শান্ত করতে বললো

--মিসেস মেহরিমা আপনি একটু শান্ত হোন প্লিজ। এতো অস্থির হবেন না।

--আমি ঠিক আছি ডক্টর। আপনি আগে বলুন আমার বাচ্চা ঠিক আছে তো? ওর আর কষ্ট হচ্ছে না তো?

ডক্টর রায়হান আড়ালে ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেললো। শান্ত স্বরে বললো

--আপনার বেবি একদম ঠিক আছে। স্যালাইন চলছে সকালেই বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন। আপাতত রাত টুকু এখানে থাক।

মেহরিমার ভেতরের অস্থিরতা একটু কমলেও পুরোপুরি কমলো না। বারবার কেবিনের দিকে তাকিয়ে পুতুলকে দেখার চেষ্টা করলো। যতক্ষন না ওই তুলতুলে হাতে স্পর্শ করতে পারবে ততক্ষণে মেহরিমার শান্তি নেই। 

ডক্টর রায়হান মেহরিমার অস্থিরতা বুঝলো হয়তো। মুচকি হাসলো একটু। মেহরিমার মনোযোগ পেতে ডেকে বললো

--মিসেস মেহরিমা।

চমকে উঠলো মেহরিমা। দ্রুত চোখের পানি মুছে বললো

--হ্যা বলুন।

--আপনার বেবি একদম সুস্থ আছে। দয়াকরে আর কাঁদবেন না। নয়তো এরপর বেবির জায়গায় বেবির মায়ের ট্রিটমেন্ট শুরু করতে হবে।

মেহরিমা একটু লজ্জা পেলো। ডক্টর রায়হান পুনরায় বললো

--এরপর থেকে বেবির খাওয়ার দিকে বিশেষ নজর দিবেন। স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার ব্যতীত বাইরের খাবার একদম খাওয়াবেন না।

--জি আচ্ছা।

--আমি আমার কেবিনে থাকবো কোনো প্রয়োজন হলে অবশ্যই ডাকবেন কিন্তু।

--অবশ্যই ডক্টর। আর আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। এই রাতের বেলাও যে আপনি আমায় সাহায্য করলেন এটাই অনেক। আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ।

ডক্টর রায়হান নিঃশব্দ হাসলেন।

--ইট'স মাই ডিউটি। এখন আসছি।

মেহরিমা সৌজন্যেমূলক হাসলো। ডক্টর রায়হান চলে যেতে নিয়েও পিছু ফিরে মেহরিমার উদ্দেশ্যে বললো

--মিসেস মেহরিমা শুনুন।

মেহরিমা দরজা খুলে কেবিনে ঢুকছিলো। ডক্টরের ডাকে পিছু ফিরে বললো

--কিছু বলবেন?

--শুধু বেবির দিকে খেয়াল রাখলেই কিন্তু চলবে না। বেবির পাশাপাশি মায়ের সুস্থ থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। আই থিংক আপনি আমার কথা বুঝতে পেরেছেন।

--জি বুঝতে পেরেছি।

--ডক্টর আনসারী ইর্মাজেন্সিতে একজন এক্সিডেন্টের পেশেন্ট এসেছে। আপনাকে এক্ষুনি একবার যেতে হবে।

ডক্টর রায়হান নার্সের দিকে তাকিয়ে বললো

--এক্সিডেন্টের পেশেন্ট, পুলিশকে ইনফর্ম করেছেন তো?

নার্স মেয়েটি সহসা মাথা নিচু করে ফেললো। আমতা আমতা করে বললে

--আসলে ডক্টর..

--এখানে আসলে নকলে আসছে কোথা থেকে? দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনি এতোটা কেয়ারলেস কিভাবে হতে পারেন?

ডক্টর রায়হানের গম্ভীর স্বরে বলা কথাটায় হালকা কেঁপে উঠলো মেয়েটি। শুষ্ক অধর জোরা ভিজিয়ে নিচু স্বরে বললো

--পেশেন্ট আপনার পরিচিত এজন্যই পুলিশের ঝামেলায় জড়াতে চায়নি ডক্টর।

ডক্টর রায়হানের ভ্রুদ্বয়ের মাঝে ভাজ পড়লো। সন্দিহান কন্ঠে বললো

--আমার পরিচিত।

--জি। হি ইজ আ মেম্বার অফ ইউ্যর ফ্যামিলি। এর আগেও বেশ কয়েকবার এমন মেজর ইনজুরি নিয়ে হসপিটালে এসেছিলেন।

--আরে বাবা নাম টা তো বলুন।

--মি.শায়ের আনসারী নীড়, উনি সম্ভবত বাইক এক্সিডেন্টে করেছেন।

নার্সের কথা শেষ হতেই ধমকে উঠলো রায়হান। বিরক্তির স্বরে বললো

--এতো ঘুরিয়ে পেচিয়ে না বলে সেই কথা আগে বললে কি হতো?

ডক্টরের ধমক খেয়ে মাথা নিচু রেখেই ঠোঁট উল্টালো নার্স। ডক্টর রায়হান দ্রুত যেতে যেতে বললো

--সঙয়ের মতো দাড়িয়ে না থেকে আসুন আমার সাথে।

এতোক্ষণে দুজনের কথা নীরব দর্শক হয়ে শুনছিলো মেহরিমা। নার্স মেয়েটি তার দিকে তাকাতে মেকি হেসে বললো

--আমি কিছু শুনি নি আপু। আপনি দ্রুত যান নয়তো আবার বকবে।

নার্স মেয়েটি মন খারাপ নিয়ে বললো

--না শুনলে বললেন কিভাবে স্যার যে আমায় বকেছে?

নিজের কথায় নিজেই থতমত খেয়ে গেলো মেহরিমা। নার্স মেয়েটি আর দাঁড়ালো না ঠোঁট ফুলিয়ে মন খারাপ নিয়েই চললো ইর্মাজেন্সির উদ্দেশ্যে।

*****************
ধীর পায়ে পুতুলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মেহরিমা। এতোটুকু পথও তার কাছে কয়েক হাজার মাইল দূরত্বের মনে হচ্ছে। কেবিনে ঢুকতেই সাদা বেডে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা পুতুলকে দেখে বুকটা ধক করে উঠেছিলো তার। বুকের মধ্যে মরুভূমির উত্তপ্ত খরার মতোই শুষ্ক লাগছিলো। ফোলা ফোলা ফর্সা মুখটা অমন নিষ্প্রাণ ফ্যাকাশে দেখেই চোখের কোনে আবারও জমেছে অশ্রু।

মেহেরিমা বেডের পাশের টুল টেনে নিয়ে বসলো। কাঁপা হাতে পুতুলের ক্যানোলা লাগানো হাতটা আলতো করে ধরে ঝুঁকে চুমু খেলো। হাতের উপর কপাল ঠেকিয়েই নিঃশব্দে কেঁদে ফেললো ঝরঝর করে। অস্পষ্ট স্বরে বিরবির করে বললো

--আ'ম সরি আম্মু। মাম খুব সরি। মাম তোমার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হয়েছে। মামকে কখনো ক্ষমা করো না তুমি। কখনো না..!

মেহরিমার চোখের অশ্রু কণা গুলো ফোঁটায় ফোঁটায় পুতুলের ছোট্ট হাতে পড়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে। ছোট্ট প্রাণ পানির স্পষ্ট ঘুমের ঘোরে কিছুটা কেঁপে উঠলো। স্বভাবসুলভ আদুরে স্বরে ডেকে উঠলো ছোট করে

--মাম

তড়িৎ মাথা তুললো মেহরিমা। পুতুলের কপালে চুমু একে বললো

--এইতো আম্মু মাম এখানে তোমার পাশেই আছি। একদম ভয় পাবে না কেমন।

পুতুল ঘুমের ঘোরে মেহরিমার আঙুল শক্ত করে আকড়ে ধরলো। এতে ক্যানেলো লাগানো হাতে কিছুটা ব্যাথা পেলে ঠোঁট ফুলিয়ে কেদে ফেললো। অভিযোগের সুরে মামকে বললো

--পতা নোক হাতে বেতা দিচে মাম।

ছোট্ট প্রাণের কান্না সহ্য হলো না মেহরিমার। ক্যানোলা লাগানো হাতে অসংখ্য ছোট ছোট চুমু দিয়ে ভেজা কন্ঠে বললো

--আমি পচা লোক গুলো খুব করে বকে দেব আম্মু। তুমি আর কেঁদো না। মাম ব্যাথায় অনেক গুলো আদর দিছি তো এবার সব ব্যাথা সেরে যাবে। তুমি ঘুমাও আম্মু। মাম তোমার পাশে আছি।

মেহরিমা তার মামের বাধ্য সন্তান। সবার কাছে দুষ্টু হলেও মামের কাছে সে লক্ষ্মী শান্ত বাচ্চা। মাম পাশে আছে মানে রাজ্য জয় করার মতো সাহস তার রয়েছে। ছোট্ট একটা প্রাণ তবুও কতো ভরসা তার মামের প্রতি। পুতুল মেহরিমার আঙুল মুঠোয় রেখেই পুনরায় গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো। আর মেহরিমার ঠোঁট কামড়ে নিজের কান্না আটকে রেখে পুতুলের মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।

******************
ইর্মাজেন্সি ওয়ার্ডে হন্তদন্ত হয়ে ছুটলো ডক্টর রায়হান। কিন্তু যতটা চিন্তা নিয়ে এসেছিলো এখানে এসে ঠিক ততোটায় অবাক হলো সে। কেবিনের একটা ফাঁকা বেডে হাত পা ছড়িয়ে আয়েশ করে শুয়ে আছে শায়ের। মাথার নিচে এক হাত রেখে আরেক হাতে আঙুরের থলি মুখের উপর ধরে একটা একটা করে খাচ্ছে। শায়েরকে দেখে মনে হচ্ছে সে হসপিটালে নয় বরং রাজপ্রাসাদে আয়েশ করতে এসেছে। তার যে পায়ে গুরুতর জখম হয়েছ ওদিকে কোনো খেয়ালই নেই তার।

শায়েরে বেডের পাশেই অপরাধীর মুখ করে দাড়িয়ে আছে শায়েরের এসিস্টেন্ট রাহুল। ছেলেটার এক হাতে ভাঙা হেলমেট। অন্যহাতে হুইস্কির বোতল। শায়ের মুখের সামনে থেকে আঙুর সরালে সে দায়িত্ব সহকারে হুইস্কি ঝাঝালো তরল শায়েরকে খাইয়ে দিচ্ছে।

রায়হান নিজের ভাইয়ের এমন অধঃপতন দেখে হতাশার শ্বাস ফেললো। এ ছেলেকে আর কিভাবে বললে যে সঠিক পথে ফিরবে জানা নেই তার। বাড়ির দুজন মানুষ ব্যতীত প্রতিটা সদস্য এই বেপরোয়া, ছন্নছাড়া ছেলেটাকে নিয়ে চিন্তিত। এমনকি বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্য স্নেহা সেও মাঝে মাঝে বলে

--মেজ ভাইয়া কবে ভালো হবে? কবে আমাদের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকবে?

রায়হানের ভাবনার মাঝেঔ তার পাশে এসে দাঁড়ালো সেই নার্স। সামনে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো

--এই জন্যই পুলিশকে ইনফর্ম করতে চায়নি স্যার।

রায়হান বিরক্তির চোখে তার দিকে তাকালে নার্সটা দ্রুত ভেতরে ঢুকলো। নার্স শায়েরের কাছে গেলে শায়ের নাকমুখ কুচকে বললো

--মিস ম্যালেরিয়া দূরে সরুন তো। আপনার ছোঁয়ায় আমার ডেঙ্গু হয়ে যাবে।

নার্স মেয়েটি শায়েরের কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললো

--এখানে তো কোনো মশা নেই স্যার ডেঙ্গু হবে কিভাবে? আর আমার নাম তো ম্যালেরিয়া না মারিয়া।

--যাই মারিয়া সেই ম্যালেরিয়া অতো প্যাচাল পাইরেন না তো। আপনাদের হসপিটালের ডক্টর কই তাকে ডাকুন। আর কতক্ষন অপেক্ষা করবো? পেশেন্ট এদিকে মরে ভূত হয়ে যাচ্ছে ওদিকে ডক্টরের কোনো খোঁজ নেই।

--আপনি রোজ রোজ এডভেঞ্চারের ফিল নিতে গিয়ে হাত পা ভেঙে আসবেন আর ডক্টর আপনার পেছন পেছন দৌড়োবে এমনটা তো নয়। আপনি ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পেশেন্ট এই হসপিটালে রয়েছে। তাদের ট্রিটমেন্ট করাও আমাদের দায়িত্ব।

ভেতরে আসতে আসতে রায়হান ভাইয়ের উদ্দেশ্যে গম্ভীর স্বরে উক্ত কথাটি বললো
রায়হান কে দেখে শায়ের চমৎকার হাসলো। কপালে হাত ঠেকিয়ে বললো

--সালাম ডক্টর সাহেব। আপনি আমার ট্রিটমেন্টের জন্য আসবেন এটা তো আমি হাগতে বসেও কল্পনা করি নি। আপনি আসায় আমি ধন্য হয়ে গেলাম। এই খুশিতে একটা পাদ আসছে আমার। আপনি অনুমতি দিলে একটু পেদে দিতাম।

রায়হান ভাইয়ের মুখে এমন আজগুবি কথা শুনে নাকমুখ কুঁচকে ফেললো। নার্সকে ইশারায় প্রয়োজনীয় জিনিস এগিয়ে দিতে বলে শায়েরে পায়ের কাছে গিয়ে বসলো। ক্ষত পরিস্কার করতে করতে বললো

--এভাবে কাঁটাছেড়া হলো কিভাবে? কোথায় পড়েছিলি তুই?

--বাইকে স্লিপ কেটে ভাঙা কাঁচের উপর পড়েছিলাম। সেখান থেকেই কেটে গেছে।

শায়েরে অনুভূতিশূন্য কথা শুনে অবাক হলো রায়হান।

--তোর ভেতর কি কোনো অনুভূতি ও নেই নীড়? এতোটা কেটে যাওয়ার পরও তুই এমন স্বাভাবিক কি করে?

রায়হানের কথায় শায়ের তাচ্ছিল্যে হাসলো। রাহুলের হাত থেকে হুইস্কির বোতল কেঁড়ে নিয়ে চুমুক দিয়ে বললো

--ওসব অনুভূতি আপনাদের মতো গন্যমান্য ভালো মানুষের জন্য। আমার মতো বখাটে বেয়াদবের ক্ষেত্রে অনুভূতি অনুভব করতে চাওয়া ও পাপ।

রায়হান এমন ত্যাড়া জবাব শুনে বিরক্ত হলো। পায়ে ড্রেসিং করিয়ে ব্যান্ডেজ করতে করতে বললো

--ত্যাড়া কথা বলতে না পারলে তোর শান্তি হয় না।

--ভালো কথা বললে আপনি আমায় টাকা দেবেন? তাহলে দিন। এক্ষুনি ত্যাড়া কথা ছেড়ে দেবো। নয়তো বিনামূল্যে আপনার এইসব জ্ঞানের বাণী শুনিয়ে পরিবেশ দূষিত করবেন না। আমার সাফোকেটেড হয়।

রায়হান বলার মতো আর কোনো কথা খুঁজে পেলো না। বেন্ডেজ করে উঠে দাঁড়ালো। বুকে হাত গুঁজে গম্ভীর কন্ঠে বললো

--আজ রাতে এখানেই থাক। কিছু ইনজেকশন দিতে হবে। সকালে আরেকবার ড্রেসিং করিয়ে তারপর বাসায় যাস।

রায়হানের কথা থোরায় শুনলো শায়ের। উল্টো তড়িৎ গতিতে বেড থেকে নেমে রাহুলকে বগলদাবা করে সামনে এগিয়ে গেলো। এক মূহুর্তে কি হলো বোধগম্য হলো না রায়হানের। বোকার মতো ফ্যালফ্যাল করে শায়েরের দিকে তাকিয়ে রইলো শুধু। যখন দেখলো দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে তখনই পিছু ডেকে বললো

--কোথায় যাচ্ছিস? বললাম না আজ রাতে হসপিটাল থাকতে হবে।

শায়ের দাঁড়িয়ে গেলো। পিছু না ফিরেই বললো

--বড়দের কথা মেনে চলে বাধ্য ছেলেরা। বাট ইউ্য নো ড. রায়হান আনসারী রোহান আ'ম আ ক্রেজি ব্যাড বয়। আ ফাকিং রোওডি গায়। আমি কেনো আপনার কথা মেনে চলবো? আমি চলবো আমার নিয়মে। মন যখন যা চাইবে তাই করবো। কারোর দাসত্ব শিকার করার মতো বাধ্য তো আমি নই।

রায়হান শায়েরের এমন ত্যাড়া কথা শুনে প্রতিবারই হতাশ হচ্ছে। কেমন নিষ্প্রাণ কন্ঠে বললো

--নীড় তুই কি কখনোই ভালো হবি না?

শায়ের সেসব কথা কানে তুললো না। উল্টো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে মাতাল কন্ঠের হাস্কিস্বরে গেয়ে উঠলো

~আমার এই বাজে স্বভাব
কোনোদিন যাবে না~

চলবে .......

ভুল ত্রুটি ক্ষমা করো আমার ফুলেরা। 🥹
আর হ্যা বেশি বেশি রেসপন্স করো,,তোমাদের আদুরে মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম😌🤍

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 3 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন