ফন্ট সাইজ:
থিম:
আয় তবে সহচরী

6

লেখক: উম্মে_হাবিবা

ফজরের নামাজ পর ঘরের টুকটাক কাজ করে এখন বাইরে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে মেহরিমা। সময়টা তখন সকাল ছয়টা। বাইরের আঁধার কেটে ধরণীর বুকে উঁকি দিচ্ছে সূর্য্যি মামা। বাইরে কাকের কা কা ডাক আর  মানুষের কোলাহলে শান্ত,স্নিগ্ধ সকালও অস্বস্তিকর।

মেহরিমা বোরকা পরে নিজের সাইড ব্যাগটা গুছিয়ে নিলো। হাতে সময় খুবই কম। যত দ্রুত সম্ভব গন্তব্যে স্থানে পৌঁছানো দরকার। মেহরিমা ব্যস্ত হাতে প্রয়োজনীয় সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছে। পুতুল এখনও ওঠে নি। শান্ত বাচ্চার মতো ঘুমিয়ে আছে।

মেহরিমা বিছানার কাছে গিয়ে ঝুঁকে পুতুলের কপালে আদুরে স্পর্শ একে দিলো। গাঁয়ের কাঁথা ঠিক করে দিয়ে নিজের জুতা পরতে পরতে মায়ের উদ্দেশ্যে বললো

--আম্মু আমি বের হচ্ছি। দরজা আটকে দাও।

শাহিদা নেওয়াজ আঁচলে ভেজা হাত মুছে মেয়ের কাছে এলেন। কোমল স্বরে বললেন

--এতো সকালে কে কাজে যায় বল তো? সকালে একটু খেয়েও বের হোস না। সারাদিন পেটে কিছু পড়ে তোর? কবে একটু নিজের খেয়াল নিবি মেহের? দিন দিন তোর চেহারায় কেমন মলিনতা আসছে দেখেছিস তুই?

মেহরিমা মায়ের কাছে এগিয়ে এলো। দু'হাতে মায়ের গালে হাত রেখে বললো

--কাজ না করলে খাবো কি আমরা? বসে বসে চেহারা দেখলে কি পেট চলবে আম্মু? পরিশ্রম না করলে টাকা পাবো কোথায় বলো?

শাহিদা নেওয়াজের চোখ জোড়া ছলছল করে উঠলো। মেয়ের হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে বললো

--কি কাজ করিস তুই,যার জন্য এতো সকালে বের হতে হয়? আমি বলি কি এটা ছেড়ে দে। একটা কাজ গেলে আমরা না খেয়ে মরে যাবো না মেহের। আল্লাহ ঠিক একটা ব্যবস্থা করে দেবে। তুই আর নিজের উপর অতিরিক্ত প্রেশার দিস না।

মেহেরিমা মলিন হাসলো। শান্ত স্বরে বললো

--আগেও বলেছি আম্মু নতুন একটা টিউশনি পেয়েছি। বেতনও ভালো। টানাটানির সংসারে  কাজ পেয়েও ছেড়ে দিলে দিন চলবে না আম্মু। একটু বোঝার চেষ্টা করো।

--টিউশনি তো আগেও করাতিস। তখন তো এতো সকালে বের হওয়া লাগতো না।

মেহরিমা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে গেলো। আড়ালে শুষ্ক ঢোক গিললো। হয়তো মায়ের থেকে কিছু আড়াল করার ক্ষুদ্র প্রয়াশ চালাচ্ছে। মেকি হেসে বললো

--আসলে আম্মু এখন যাকে পড়াই সে একটা প্রাইভেট স্কুলে পড়ে। অনেক সকালে স্কুলে যেতে হয় তো সেই জন্য এইসময় পড়ায় ওকে।

--বিকালে তো ফ্রী থাকে তখন পড়ালে হয় না।

--তখন ওর অন্য টিচার আসে।

শাহিদা নেওয়াজ মেয়ের সঙ্গে পারলেন না। হতাশার শ্বাস ফেলে বললেন

--তাহলে কিছু খেয়ে যা। একদম খালি পেটে চলে যাবি?

--সময় নেই আম্মু।

মেহরিমা আর মায়ের কাছে দাঁড়ালো না। ব্যস্ত পায়ে চলে গেলো বাইরে। পেছন থেকে শাহিদা নেওয়াজ ডাকলেও আর সাড়া দিলো না।

শাহিদা নেওয়াজ অসহায় চোখে মেয়ের যাওয়া দেখছে। গত একমাস ধরে এভাবেই সকাল সকাল বের হয়ে যায় মেহরিমা। ফেরে সন্ধ্যার একটু আগে। সারাদিন কি খায় না খায় কিচ্ছু জানে না সে। এতো অল্প বয়সে মেয়েটার এই ছোটাছুটি, অতিরিক্ত পরিশ্রম দেখে বুকে অসহ্য ব্যাথা হয় তার। মা হিসেবে নিজেকে ব্যর্থ লাগে।

শাহিদা নেওয়াজ আঁচলে চোখের পানি মুছে দরজা আটকে দিলো। আপাতত ঘরের টুকটাক কাজ বাকি আছে। বাকিটা মেহরিমা হাতে হাতে করে দিয়েছিলো। এখন যা আছে সেটুকু সে নিজেই করতে পারবে।

*****
বাড়ি থেকে বেশ অনেকটা দূরে এসে ভেতরের জমিয়ে রাখা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো মেহরিমা। ইতোমধ্যে তার জোড়া ভিজে উঠেছে। ভেজা কন্ঠে বিরবির করে বললো

--আম সরি আম্মু। তোমাকে মিথ্যা বলতে চায় নি। কিন্তু এছাড়া আর উপায় কি। সংসার চালাতে এখন যে কাজ করছি সে সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবো না তোমায়। কখনোই পারবো না। আমায় ক্ষমা করো আম্মু ক্ষমা করো।

মেহরিমা চটপট চোখের পানি মুছে নিলো। রাস্তা থেকে একটা চলন্ত রিক্সা ডেকে বললো

--মামা বারো নাম্বার রোডে যাবেন?

--হ আফা যামু। তয় ভাড়া কিন্তু একটু বাড়ায় দেওয়ন লাগবো।

--কতো দিবো?

--এমনে তো চল্লিশ টাকায় যায়। আপনে পঞ্চাশ দিয়েন।

--পঞ্চাশ টাকা দিতে হবে? কম নেবেন না।

--না আফা। গেলে উঠেন নয়তো আমি যায়। সামনের থেইকা ট্রিপ নিমু।

মেহরিমা একটু চিন্তায় পরলো। হাতঘড়িতে সময় দেখে নিলো। ছয়টা পনেরো বেজে গেছে। সাড়ে ছয়টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। হেঁটে গেলেও সময়ের সাথে পারবে না। মেহরিমাকে চুপ দেখে রিক্সা ওয়ালা তাড়া দিয়ে বললো

--আফা যাইবেন? না গেলে কইয়া দেন।

মেহরিমা আর সাত পাঁচ ভাবলো না। রিক্সায় উঠে বললো

--চলেন মামা। একটু তাড়াতাড়ি যাবেন প্লিজ।

**********
নির্দিষ্ট গন্তব্যে নেমে মেহরিমা একপ্রকার দৌড়াচ্ছে। লিফ্টে উঠে পাঁচ তলায় উঠে গেলো। লিফ্টের দরজা খুলতেই হুরমুর করে বের হলো। মেহরিমা বের হতেই সামনের মানুষটার শক্তপোক্ত বুকের সাথে বেশ জোড়েই ধাক্কা খেলো। দুজনেই ছিটকে পড়লো ফ্লোরে। সামনের ছেলেটি বিরক্ত হয়ে চেঁচিয়ে বললো

--হোয়াট ননসেন্স। চোখ কি কপালে লাগিয়ে চলেন? দিলেন তো আমার মোবাইলের বারোটা বাজিয়ে।

মেহরিমা নিজেও ব্যাথা পেয়েছে। হাতের কনুইয়ে লেগেছে বেশ। অথচ সেদিকে খেয়াল নেই রমণীর। দ্রুত ফ্লোর থেকে উঠে। পড়ে যাওয়া ছেলেটার সামনে দাড়িয়ে মাথা নিচু করে বললো

--আমি দুঃখিত মিস্টার লম্বা। আসলে একটু ব্যস্ত ছিলাম তো এজন্যই খেয়াল করি নি। প্লিজ কিছু মনে করবেন না।

আর এক সেকেন্ড ও দাঁড়ালো সে। ছুটলো নিজের গন্তব্যে। এদিকে ফ্লোরে বসেই বোকার মতো ফ্যাল ফ্যাল করে মেহরিমার যাওয়ার পথে তাকিয়ে আছে শায়ের। সে বের হয়েছিল জগিং এর জন্য। অথচ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অচেনা এক মেয়ে ঝড়ের গতিতে এলো আর টর্নেডোর মতো হাওয়া হয়ে চলে গেলো। মেয়েটার চেহারা তো দূর চোখটাও ভালো ভাবে দেখতে পারে নি শায়ের।

রাহুল এসে শায়েরকে এভাবে ফ্লোরে বসে থাকতে দেখে অবাক কন্ঠে বললো

--ভাই তুই ফ্লোরে বসে আছো কেনো? জগিং এ যাবে না।

শায়ের চুপচাপ উঠে বসলো। ফ্লোর থেকে ফোনটা কুড়িয়ে নিয়ে নিজ ফ্ল্যাটে চলে গেলো। রাহুল পেছনে যেতে যেতে বললো

--ভাই বাসায় যাচ্ছো কেনো? কিছু ফেলে এসেছো? আমাকে বলো এনে দিচ্ছি।

শায়ের ফ্ল্যাটের লক খুলে ভেতরে ঢুকে গম্ভীর কন্ঠে বললো

--বিরক্ত করিস না রাহুল। এমনিতেই এক উটকো ঝামেলা এসে মুডের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে আমায়। আপাতত একটা সাওয়ার নিতে চায়।

--ভাই এতো সকালে সাওয়ার...

--রাহুল চুপ করতে বলেছি তোকে।

শায়েরের বাজখাঁই কন্ঠের ধমক খেয়ে চুপসে গেলো রাহুলের মুখ। মুখে আঙুল চেপে চুপচাপ বসে রইলো সোফায়। টেবিল থেকে একটা লেবু নিয়ে ছুলে খেতে খেতে ভাবুক কন্ঠে বললো

-- ভাইয়ের আবার কি হলো? একটু আগেই তো ফুরফুরে মেজাজে বের হলো। অথচ মুহূর্তেই আগুন হয়ে ফিরে এলো। স্ট্রেইন্জ?

--রাহুল আমার টাওয়াল দিয়ে যা।

ছেলেটার ভাবনার মাঝেই শায়েরের গম্ভীর কন্ঠে চমকে উঠলো সে। হাত ফস্কে লেবু পড়ে গেলো ফ্লোরে। রাহুল ভরকে যাওয়া স্বরে বললো

--দিচ্ছি ভাই।

************
কলিং বেল চেপে দরজা খোলার অপেক্ষা করছে মেহরিমা। ভেতরে ভেতরে অস্থির সে। আজও পনেরো মিনিট লেট করে ফেলেছে সে। বাড়িওয়ালা তাকে আর কাজে রাখলে হয়।

কয়েক সেকেন্ড পর ওপাশ থেকে দরজা খুলে দিলেন এ বাসার গৃহকর্তী লুবনা। মেহরিমার আপাদমস্তক দেখে গম্ভীর কন্ঠে বললো

--এতো দ্রুত কাজে এসেছো কেনো তুমি? এটা কি আসার সময়? আরো দু'ঘন্টা পরে আসবে। একে বারে সেজে গুজে নায়কা হয়ে তবেই আসতে।

এটার ভয়ই পাচ্ছিল মেহরিমা। হাসফাস করে নিচু স্বরে বললো

--সরি আন্টি। কাল থেকে দ্রুত আসবো। আসলে রাস্তায়....

--এই মেয়ে রোজ রোজ কি পেয়েছো তুমি? প্রতিদিন দেরি করে আসবে আর নতুন নতুন বাহানা দেবে? এমন করলে কিন্তু কাজে রাখবো না তোমায়।

লুবনা বেগমের ধমকে কেঁপে উঠলো মেহরিমা। অপরাধীর স্বরে বললো

--সরি আন্টি।

--হয়েছে আর সরি বলতে হবে না। নেহাৎ কাজ টা একটু ভালো করো এজন্যই তোমাকে কাজে রেখেছি। নয়তো কবেই ছাটাই করতাম তোমায়।

মেহরিমা চুপ রইলো। লুবনা বেগম পুনরায় ধমকে বললো

--কাজ করার জন্য এখন তোমায় ইন্ভিটেশন কার্ড দিতে হবে?

মেহরিমা দ্রুত পায়ে ঘরে প্রবেশ করলো। রান্না ঘরের দিকে যেতে নিলে লুবনা বেগম গম্ভীর কন্ঠে বললো

--এই মেয়ে শোনো।

--কিছু বলবেন আন্টি?

--কিছু খেয়ে তারপর কাজ করো। একেবারে খালিপেটে কাজ করার দরকার নেই। আর পারলে আমাকে এক কাপ চা দিও।

লুবনা বেগম নিজের ঘরে চলে গেলেন। মেহরিমা মুচকি হাসলো। এ বাড়িতে কাজ করে একমাস হলো। প্রথম প্রথম এই মহিলাকে দেখে রাগী মনে হলেও পরবর্তী বুঝেছে ইনি বাইরে থেকে যেমন ভেতরে ঠিক তার উল্টো। নিজেকে গম্ভীর ভাবে প্রকাশ করলেও মনটা একেবারে নরম।

মেহরিমা চুপচাপ কাজে মন দিলো। আজকে তার বেতন পাওয়ার দিন। যাওয়ার সময় একটু বাজার করে নিতে হবে। পুতুলের জন্য একটা জামাও নিতে হবে। মেয়েটা নতুন জামা পেয়ে নিশ্চয়ই অনেক খুশি হবে?

***********
অনেকদিন পর শান্তি নিবাসে পা দিলো শায়ের। আশেপাশে নজর বুলিয়ে বাইকের চাবি আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো। সোফায় পায়ের উপর পা তুলে দাদুকে ডাকলো

--পার্টনার কোথায় তুমি? বাইরে এসো জরুরি কথা আছে।

শায়েরের উচ্চ স্বরের আওয়াজ পেয়ে ড্রয়িং রুমে এলো দোলা বেগম। শায়েরকে দেখে বিরক্তিতে নাকমুখ কুচকে বললো

--এটাকে কি তোমার মাছের বাজার মনে হয়? সকাল সকাল ভদ্রলোকের বাসায় এসে এমন অভদ্রতার মানে কি নীড়?

শায়ের চশমার ফাঁক দিয়ে দোলা বেগমকে দেখেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। নিজের মতো ব্যস্ত হলো ফোনে। দোলা বেগম শায়েরের থেকে এমন অবজ্ঞা পেয়ে কিছুটা রে'গে গেলো। সামনে এগিয়ে এসে বললো

--নীড় তোমায় কিছু জিজ্ঞেস করেছি আমি?

সহসা উঠে দাঁড়ালো শায়ের। গম্ভীর স্বরে বললো

--যেখানে আছেন ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকুন। আমি চাই না সকাল সকাল কোনো দূষিত বাতাসের ছোঁয়া আমায় স্পর্শ করুক।

--নীড়

--হুশ,আওয়াজ নিচে মিসেস লোভী। নয়তো আপনার ওই আওয়াজ বন্ধ করতে বেশি সময় নেবো না আমি।

দোলা বেগম রে'গে গেলেন। হিসহিসিয়ে বললেন

--অনেক সাহস বেড়েছে তোমার? ঘাড় ধরে বাড়ি থেকে যখন বের করে দেবো তখন বুঝবে আমার সঙ্গে গলাবাজি করার ফল।

দোলা বেগমের কথা শুনে হেসে ফেললো শায়ের। বাঁকা হেসে বললো

--কাম অন মিসেস লোভী। সকাল সকাল এমন কোনো জোক্স বলবেন না যার কোনো লজিক নেই। আর কি বললেন বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার কথা। তো বাড়িটা কি আপনার বাপের নাকি আপনার লোভী স্বামী? কার অধিকারে এমন সাহস দেখাবেন আপনি?

--নীড় তুমি কিন্তু...

--আপনি বোধহয় ভুলে গেছেন ঠিক ছয়মাস আগে দাদুর ফিফটি পার্সেন্ট প্রোপার্টি আমার নামে করে দেওয়া হয়েছে। তারমানে কি দাঁড়াচ্ছে? দাদুর সকল সম্পত্তির সমান অর্ধেক ভাগ আমার। মালিক আমি। সেখানে আপনার সাহস কি করে হয় বাড়ির সামান্য দাসী হয়ে আমাকে অপমান করার?

--নীড় আমি তোমার মা। এভাবে বলতে পারো না তুমি।

শায়ের বোধহয় মজা পেলো। ঠোঁট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যে হাসলো শুধু। সেই হাসিতেই উত্তর পেয়ে গেলেন দোলা বেগম। সহসা চুপ করে গেলেন তিনি। রা'গে তখন ও শরীর কাঁপছে তার।

--শায়ের আব্বু আমার। কখন আসলি তুই?

রোজিনা বেগমের ডাকে পিছু ফিরলো শায়ের। এতোক্ষণের গম্ভীর মুখে ঝলমলে হাসির দেখা মিললো। বড় বড় কদম ফেলে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো তাকে। আদুরে স্বরে বললো

--মাই ম্যাজিশিয়ান মাম্মা, আই রিয়েলি মিস ইউ্য।

রোজিনা বেগম শায়েরের পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন। অভিযোগের স্বরে বললো

--মিস না ছাই। সত্যি সত্যি মিস করলে মাম্মাকে ছেড়ে বুঝি দূরে থাকতে পারতি?

শায়ের সোজা হয়ে দাঁড়ালো। রোজিনা বেগমের নাক টেনে বললো

--এই যে এখন তো চলে এসেছি। তাহলে দূরে কোথায় থাকলাম হুম?

--হয়েছে আর মন ভোলানো কথা বলতে হবে না। সকালে খেয়েছিস কিছু?

--তুমি খাইয়ে দেবে বলে এক সপ্তাহ আগে থেকে উপোস করে আছি। দেখছো না কেমন শুকিয়ে গেছি।

রোজিনা বেগম হেসে ফেললেন। দোলা বেগম দুজনের এমন রঙঢঙ দেখে মুখ বেকিয়ে বললো

--ঢং দেখলে গা পিত্তি জ্বলে যায় আমার।

ধুপধাপ পা ফেলে দোলা বেগম নিজের ঘরে চলে গেলো। পেছন থেকে শায়ের শুনিয়ে শুনিয়ে বললো

--তোমার আমার ভালোবাসা দেখে কেউ বোধহয় হিংসায় জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে মাম্মা। ইশ বিশ্রি পোড়া পোড়া গন্ধয় বাড়িতে টেকা যাচ্ছে না।

রোজিনা বেগম শায়ের বাহুতে আলতো চাপড় মে'রে বললে

--চুপ কর। মা হয় তো।

শায়ের মুখ বাকিয়ে বললো

--সে একজন ডাইনি। মা হওয়ার কোনো যোগ্যতা তার নেই।

রোজিনা বেগম আহত চোখে তাকিয়ে রইলো শায়েরের দিকে। শায়ের তাড়া দিয়ে বললো

--মাম্মা প্রচুর ক্ষুধা লেগেছে। প্লিজ কিছু খেতে দাও।

রোজিনা বেগম ডাইনিং টেবিলের দিকে যেতে যেতে বললো

--শায়েরী,স্নেহাকে ডেকে আন। তিনটাকে একসাথে খাইয়ে দিচ্ছি।

শায়ের স্বায় জানিয়ে উপরে চলে গেলো। এ বাড়িতে তার ঘর টা দোতলার একদম শেষ মাথায়। বাম পাশের প্রথমে রায়হানের, তারপর মীর এরপর শায়েরী আর স্নেহার। শায়ের সোজা শায়েরীর রুমে ঢুকে গেলো। বিছানায় সাহেব হয়ে শুয়ে থাকা বিং বিং কে কোলে নিয়ে ডাকলো উচ্চ স্বরে

--এই পেত্নী কোথায় তুই? দ্রুত আয় মাম্মা ডাকছে।

শায়েরী ভাইয়ের গলা পেয়ে দ্রুত ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে এলো। এতোদিন পর ভাইকে দেখে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বললো

--ভাইয়া এসেছিস তুই?

শায়ের বোনকে একহাতে জড়িয়ে ধরে মাথার তালুতে আদুরে স্পর্শ একে দিলো। হাসি মুখে বললো

--হয়েছে হয়েছে চ্যাপ্টা করে দিবি নাকি।

শায়েরী ভাইকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। চোখে তার পানি চিকচিক করছে। অভিমান নিয়ে বললো

--আমাকে একটুও ভালোবাসিস না তুই ভাইয়া? কেমন পাষাণের মতো দূরে দূরে থাকিস। আগের মতো আবারও আমাদের সঙ্গে থাক না ভাইয়া। ফ্ল্যাটে যাওয়ার আর দরকার নেই।

শায়ের চুপচাপ বোনের সকল অভিযোগ শুনলো। পাশে বসিয়ে এক হাতে জড়িয়ে ধরে বললো

--চাইলেই যেমন সব পাওয়া যায় না তেমনি চাইলেও সব চাওয়া পূরণ হয় না বনু। তোর আমার উচিত ভবিতব্য মেনে নেওয়া।

--ভাইয়া

--তোর জন্য চকলেট এনেছি। তুই নিবি নাকি তোর বিল্লুকে দিয়ে দিবো? 

শায়ের পকেট থেকে চকলেট বের করে বোনের উদ্দেশ্যে বললো। শায়েরী চোখের পানি মুছে চকলেট হাতে নিয়ে বললো

--ওই ছোঁচাকে একটুও দেবো না। সব আমি একা খাবো।

শায়েরী বিং বিং কে চকলেট দেখিয়ে বললো

--কি রে ছোঁচা খাবি?

--মিউ

--যাহ তোকে দেবো না।

--মিউ

শায়ের বোনের বাচ্চামি দেখে হেসে ফেললো। বিং বিং কে কোল থেকে নামিয়ে বোনের হাত ধরে বাইরে যেতে যেতে বললো

--স্নেহা কোথায় রে?

--মহারাণী এখনো ঘুমে কাঁদা হয়ে আছে।

--আচ্ছা

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 6 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন