ফন্ট সাইজ:
থিম:
আয় তবে সহচরী

18

লেখক: উম্মে_হাবিবা

--সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হতে চললো অথচ মেহরিমার এখনও বাড়ি ফেরার নাম নেই কো। এতো রাত অবধি রাস্তা ঘাটে এই মেয়ে কি করে বেড়ায় আল্লাহ জানে।

--বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায় কোন সকালে। ফেরে সন্ধ্যা নাগাদ। সারাদিন কোথায় কি করে সেখবর কি আর আমরা জানি না বাপু। দেখো গিয়ে কোন বড়লোক ছেলেকে ফুসলিয়ে ফাঁসলিয়ে নিজের আখেরি গোছাচ্ছে।

--আজকালকার মেয়েদেরও বলি হারি। লাজ লজ্জা বলে কিচ্ছুটি নেই। কই আমাদের ঘরে ও তো মেয়ে আছে তারা কি ওর মতো অমন স্বাধীন ভাবে ঘোরাঘুরি করে নাকি? সবকিছুর একটা শাসন আছে তো। আমরা মেয়েদের কড়া শাসনে রাখি। অন্যের মতো বাঁধন ছাড়া করে রাখি না।

--তা যা বলেছো আপা। কবে দেখবা কার না কার বাচ্চার পেট বাঁধিয়ে আসবে। দেখতেও তো মেলায় সুন্দরী। বড়লোক মাল গোছাতে সময় লাগবে না।

প্রতিবেশীদের একের পর এক নোংরা বাক্যে বুক শুদ্ধ কেঁপে উঠলো শাহিদা নেওয়াজের। এতোক্ষণ ধরে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করলেও এখন আর পারলো না। পুতুলকে বিছানায় শুইয়ে রেখে দরজা খুলে বাইরে এলো। শাহিদা নেওয়াজকে দেখেই যে যার মুখে তালা দিলো। কিন্তু বাঁকা চোখে তাকাতে ভুললো না। শাহিদা নেওয়াজ একে একে সবার দিকে তাকালো। বেশ ঝাঁঝালো স্বরে বললো

--আমার মেয়েকে নিয়ে তোমাদের মনে এতো ঈ'র্ষা কেনো? আমার মেয়ে কি তোমাদের টা খেতে যায় নাকি তোমাদের টাকা পয়সা ছিনিয়ে আনে। অমন নিষ্পাপ মেয়ের নামে এতো জ'ঘন্য অপবাদ দিতে বুক কাঁপলো না তোমাদের?

ঝটলা পাকিয়ে দাঁড়ানো মহিলা গুলো মুখ বাঁকালো। তাদের মধ্যে একজন বললো

--সত্যি কথা বলতে আবার বুক কাঁপবে কেনো মেহেরের মা? এতো রাত হয়ে গেলো অথচ তোমার ওই মেয়ের কোনো খোঁজ নেই। বলি কোথায় কি করছে সে খবর রাখছো তো নাকি একেবারে মুক্ত করে দিয়েছো মেয়েকে?

--আমার মেয়ে যা করে বেরাক না কেনো সেসব আমি বুঝবো। তোমাদের গায়ে এতো ফোসকা পড়ছে কেনো? অন্যকে নিয়ে সমালোচনা না করতে পারলে শান্তি হয় না।

--ফোসকা পড়বে কেনো? একই জায়গায় থাকি তাই একটু খোঁজ খবর নিতে চাচ্ছি। এতেও দেখি দোষ হয়ে গেলো বাপু। আজ কাল কারোর ভালো করতে নেই।

মেয়ের চিন্তায় শাহিদা নেওয়াজ এমনিতেই অস্থির হয়ে আছে। তার মধ্যে এদের এসব খোঁচা মারা কথা সহ্য হচ্ছে না তার। সবসময় চুপ থাকা রমণীও আজ নিজের খোলস থেকে বেরিয়ে এলো। কিছুটা চেচিয়েই বললো

--অনেক উপকার করে ফেলেছো আমার। দয়াকরে আর উপকার করতে এসো না। যাও এখান থেকে।

--যাচ্ছি। তবে মেয়ের দিকে একটু খেয়াল রেখো। অমন হুরপরীর মতো চেহারার মেয়ে তোমার। কখন কি বিপদ হয় বলা তো যায় না।

--তোমাদের ভাবতে হবে না। আমার মেয়েকে নিয়ে আমায় ভাবতে দাও।

--বয়েই গেছে আমাদের তোমার মেয়েকে নিয়ে ভাবতে। এই চল চল যখন বিপদে পড়বে তখন ঠিক এই আমাদেরই লাগবে।

প্রতিবেশী মহিলা গুলো যে যার ঘরে চলে গেলো। শাহিদা নেওয়াজ কিছুক্ষণ রাস্তার দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ঘরে এলো। মেয়েকে আবার ও ফোন দিলো ব্যস্ত হাতে। বার বার ফোন দেওয়ার পরও যখন মেহরিমার ফোন সুইচঅফ শোনালো ডুকরে কেঁদে উঠলো রমণী। শাহিদা নেওয়াজের কান্নার আওয়াজে ছোট্ট পুতুলের ঘুম ভেঙে গেলো। ফোলা চোখ দুটো মেলে দাদির উদ্দেশ্যে বললো

--বু কানচু কেনু?

শাহিদা নেওয়াজ পুতুলের দিকে তাকিয়ে মেয়েটাকে বুকে আগলে নিলো। ভেজা স্বরে বললো

--আমার মেয়েটা কোথায় গেলো আল্লাহ? আমার মেহেরকে দেখো তুমি। কোনো বিপদের আচ আসতে দিও না। র'ক্ষা করো খোদা,র'ক্ষা করো।

ছোট্ট পুতুল কি বুঝলো কে জানে। দাদির বুকে মাথা রেখে নিচু স্বরে বললো

--মাম তলে আতপে বু।

শাহিদা নেওয়াজের মন মানলো না। যতই হোক মায়ের মন তো। সবার আগে বিপদের চিন্তা মাথায় আসে। মেহরিমাকে নিয়েও সে চিন্তায় পড়লো। চারদিকে যে শ'ত্রুদের আনাগোনা। আল্লাহ তার মেয়েটাকে র'ক্ষা করলেই হয়।

*************************
ডক্টরের চেম্বারে বসে আছে শায়ের। কানে হেডফোন লাগিয়ে গেম খেলায় ব্যস্ত সে। ভেতরে ভেতরে মেহরিমার চিন্তায় অস্থির হলেও বাইরে থেকে বোঝার জো নেই। কিছুক্ষণ আগেই মেয়ে টাকে নিয়ে হসপিটালে এসেছে সে। পুরো রাস্তায় শায়ের তাকে বুকে আগলে রেখেছিলো। সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিলো মেহরিমার জ্বর। জ্বরের ঘোরে মেয়েটা আবল তাবল বকলেও শায়ের সেসব পাত্তা দেয় নি। খুব করে চেষ্টা করেছে মেয়েটার কষ্ট কিছুটা কমানোর।

খট করে রুমের দরজা খোলার আওয়াজে তটস্থ হলো শায়ের। পেছনে না তাকিয়েই বুঝলো আগন্তুকের উপস্থিতি। অপেক্ষা করলো মেহরিমার সুস্থতার সংবাদ শোনার। রোহান নিজের এপ্রোনটা খুলে চেয়ারে উপর রাখলো। বেসিন থেকে ভালো করে হাত ধুয়ে এসে বসলো চেয়ারে। একটা ফাইল নাড়াচাড়া করতে করতে আড়চোখে দেখলো শায়েরকে। যে ছেলে পায়ের উপর পা তুলে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে৷ আশেপাশের কোনো কিছুতে নজর নেই। রোহান ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেললো। শান্ত স্বরে ডাকলো

--নীড়..

--শুনছি বলতে থাকুন।

--আমার দিকে তাকাবি না।

--তাকানোর প্রয়োজন বোধ করছি না।

রোহান চুপ করে গেলো। নিরেট চোখে অবলোকন করলো ছেলেটাকে। আগের শায়ের আর এই শায়েরের মধ্যে বিস্তর ফারাক। ছেলেটা চোখের পলকে কেমন বদলে গেলো। কিভাবে বদলালো বুঝে উঠতে পারে নি রোহান। শুধু অনুভব করেছিলো ধীরে ধীরে কেমন করে দূরে সরে যাচ্ছে শায়ের। সবার থেকে গুটিয়ে রাখতে শুরু করেছিলো নিজেকে। আর তারপর তো হুট করে ধেয়ে আসা কালবৈশাখীর ঝড়ে সবকিছু একদম বদলে গেলো। ঘর ছাড়লো ছেলেটা। একেবারে নিজেকে দূরে সরিয়ে সবার সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করে ফেললো। তখন আর চাইলেও সম্পর্ক ঠিক করার উপায় ছিলো না।

রোহান আবারও দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। কাজ করতে করতে বললো

--মেয়েটাকে কোথায় পেয়েছিস?

--রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছি।

আড়চোখে তাকালো রোহান। বললো গম্ভীর স্বরে

--ত্যাড়া কথা ছাড়া সহজ ভাষায় উত্তর দিতে কষ্ট হয় তোর?

--আপনি বোকার মতো প্রশ্ন করলে আমি তো ত্যাড়া উত্তর দিবোই।

--মেয়েটাকে চিনিস তুই?

--হালকা পাতলা।

--কি সম্পর্ক তোদের?

-- শি ইজ মাই এরগিউইং পার্টনার। পার্সোনাল চ্যাপা শুঁটকি।

তড়াক করে তাকালো রোহান। অবিশ্বাস্য কন্ঠে বললো

--তুই মেয়েদের সঙ্গে কবে থেকে ঝগড়া করা শুরু করলি? কই আমি তো জানতাম না এই কথা।

--যবে থেকে ওই মেয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছি তবে থেকে ঝগড়ার সঙ্গী বানিয়েছি। তাছাড়া সব কথা আপনার জানতে হবে এমন তো কথা নেই ডাক্তার সাহেব।

শায়েরের একের পর এক কথায় চমকে উঠছে রোহান। তার জানা মতে মেয়েদের সঙ্গে শায়েরের কোনো চলাফেরা নেই। ছেলেটা সবসময় মেয়েদের থেকে নিজেকে দূরে দূরে রেখেছে। কোনো মেয়ে নিজে থেকে কথা বলতে এলেও ধমকে বকে তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। আর সেই ছেলে কিনা এখন একটা মেয়েকে তার ঝগড়ার সঙ্গী বানিয়েছে? আর কি নাম বললো চ্যাপা শুঁটকি? তাও আবার পার্সোনাল? বিষয়টা জটিল কেসের তো। কেমন সন্দেহের গন্ধ আসছে।

রোহানকে ভাবুক হতে দেখে বিরক্ত হলো শায়ের। গম্ভীর স্বরে বললো

--বেশি চিন্তা করে নিজেকে টাক বানিয়েন না। মনে রাখবেন কোনো টাকলার সঙ্গে বোনের বিয়ে দেবো না আমি।

খুক খুক করে কেশে উঠলো রোহান। এদিক ওদিক তাকিয়ে থেকে সাবলীল কন্ঠে বললো

--তোর দেওয়া না দেওয়ার জন্য বসে আছি আমি। আপোষে দিতে না চাইলে তুলে নিয়ে বিয়ে করবো।

বাঁকা হাসলো শায়ের। চেয়ারে হেলান দিয়ে রোহানের দিকে তাকিয়ে বললো

--এই কথাটা আপনার বাবা,চাচার সামনে বলতে পারলে আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আপনার বিয়ে দেবো।

--তোর কি মনে হয় আমি বাপ,চাচাকে ভয় পাই।

--মনে হবে কেনো,যা সত্যি তাই তো বলছি।

শূন্য চোখে তাকালো রোহান। শায়ের বুকে হাত গুঁজে বললো

--জ্বর কমেছে ওনার।

--এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে তবে মেয়েটা যেভাবে খাবার দাবারে অনিয়ম করে ওভাবে চলতে থাকলে বেশি দিন সুস্থ থাকবে বলে মনে হয় না আমার। আপাতত স্যালাইন চলছে। দেখা যাক মেডিসিনে কতোটা কাজ হয়।

শায়ের চুপচাপ শুনলো। রোহান পুনরায় বললো

--তাছাড়া মিসেস মেহরিমাকে এর আগেও বার বার সর্তক করেছি আমি। ওনার যে শরীর তাতে পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন। অথচ উনি সেদিকে কোনো খেয়ালই দিচ্ছেন না।

রোহানের কথা শুনে কিছুটা চমকে উঠলো শায়ের। আনমনে বললো

--আপনি ওনার নাম জানেন?

--হ্যা জানবো না কেনো? এর আগেও তো ওনার সঙ্গে দেখা হয়েছে আমার। ওনার মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন। তখনই জেনেছিলাম। মেহরিমা নেওয়াজ ওনার নাম। কেনো তুই জানিস না?

শেষ প্রশ্নটা করে তীক্ষ্ণ চোখে শায়েরের দিকে তাকালো রোহান অপেক্ষা করলো কাঙ্ক্ষিত উত্তরের। এদিকে মেহরিমা সম্পর্কে এসব কথা শুনে বাকরুদ্ধ শায়ের। অবচেতন মনে বললো

--বাচ্চা? ওনার বাচ্চাও আছে?

রোহান মনে মনে হাসলো। স্বাভাবিক অথচ শান্ত কন্ঠে বললো

--হ্যা আছে তো। প্রায় তিন বছরের একটা মেয়ে। ভীষণ মিষ্টি দেখতে। দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করে।

শায়েরের মনে কি চলছে সেসব বোঝার উপায় নেই কারোর। ছেলেটা আগের চেয়েও গম্ভীর হয়ে বসে আছে। রোহান একটা কাগজে কিছু ঔষধ লিখে শায়েরের দিকে বাড়িয়ে দিলো। ব্যস্ত কন্ঠে বললো

--ঔষধ গুলো এনে দে। মিসেস মেহরিমাকে খাওয়াতে হবে।

শায়ের কাগজটা নিয়ে উঠে গেলো। দরজার কাছে গিয়ে পিছু না ফিরেই বললো

--ওনার নাম আর উচ্চারণ করবেন না আপনি। এখন থেকে আপু বলে ডাকবেন।

আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা হলো রোহানের। অবিশ্বাস্য কন্ঠে বললো

--আপু বলতে যাবো কেনো?

--কারণ আমি বলেছি তাই।

--তোর কথা আমি শুনবোই বা কেনো?

--না শুনলে আপনার ঠোঁটে ফেবিকল লাগিয়ে দিবো আমি। তখন দেখবো কিভাবে মেহরিমা মেহরিমা করে নাম জপেন।

নিজের মতো কথা শেষ করেই চলে গেলো শায়ের। পেছনে রোহান বসে আছে মূর্তির মতো। কিছুতেই হিসেব মেলাতে পারছে না সে। শায়েরের এমন আচরণ অদ্ভুত ঠেকছে তার কাছে। রোহান চেয়ারে আয়েশ করে বসলো। দু'হাত এক করে ভাবতে লাগলো। অতঃপর আনমনে বললো

--কেমন জানি জেলাসীর গন্ধ পাচ্ছি।

*******************
রুমের মধ্যে শুয়ে বসে থাকতে থাকতে বোর হয়ে গেছে সন্ধ্যা। সকাল বেলা শায়ের আর রাহুলের সঙ্গে মার্কেটে গেলেও শায়ের তাকে রেখে কোথায় যেন চলে গেছিলো। পুরোটা সময় রাহুলের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে জামা কাপড় কিনলেও ওই ছেলে একটা কথা বলেনি তার সঙ্গে। সন্ধ্যা কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করলেও গুরুত্ব দেয় নি রাহুল। সেই থেকে গাল ফুলিয়ে বসে আছে মেয়েটা। রাহুল কেনো কথা বলছে এটাই মানতে পারছে না সে।

সন্ধ্যা রুমের মধ্যে পায়চারি করছে। বাসায় আপাতত সে আর রাহুল রয়েছে। শায়ের বেরিয়েছে অনেকক্ষণ। এখনও ফেরে নি। সন্ধ্যা অবশেষে রুম থেকে বেরোলো। পা টিপে টিপে পৌঁছালো রাহুলের রুমের সামনে। ছেলেটা ধ্যান জ্ঞান খুইয়ে পড়ছে। সন্ধ্যা নাকমুখ কুচকে ফেললো। এমনে পড়াশোনা করে কে? ওর থেকে গুলিয়ে খেয়ে ফেললেই তো হয়। সন্ধ্যা গলা খাকারি দিলো। রাহুল শুনেও উত্তর দিলো। চট করে রেগে গেলো মেয়েটা। বললো তিরিক্ষি স্বরে

--মিস্টার ঝন্টু শুনুন।

নিজের এমন বিদঘুটে নাম শুনে বিরক্ত রাহুল। তার এতো মিষ্টি একটা নাম থাকতেও এই মেয়ে তাকে এমন অদ্ভুত নামে কেনো ডাকে এটাই বোঝে না সে।

--এই ঝন্টু মিয়া ডাকছি অথচ সাড়া দিচ্ছেন না কেনো?

রাহুল তেছড়া চোখে তাকালো। গম্ভীর স্বরে বললো

--কি চাই?

সন্ধ্যা প্রশস্ত হাসলো। ফট করে বললো

--আপনাকে

--কিহ

চমকে তাকালো ছেলেটা। সন্ধ্যা মিটিমিটি হাসলো। রুমের ভেতর ঢুকে বিছানায় গিয়ে বসলো। পা দুলিয়ে বললো

--আমি আইসক্রিম খাবো। বাইরে নিয়ে চলুন আমায়।

রাহুল যেন শুনেও শুনলো না। পুনরায় বইয়ে নজর রেখে বললো

--দুঃখিত সময় নেই এখন। অন্য কোনদিন এনে দিবো।

--কিন্তু আমি এখনই খাবো। না খেতে পারলে পেট ফেটে যাবে আমার। তখন কি আমি আর বাঁচবো? একদম মরে যাবো যে।

--তো বেঁচে থেকে কি করবেন আপনি? একে বারে মরে যান। দেশের জনসংখ্যা এতে কিছুটা কমবে।

তড়িৎ লাফিয়ে উঠলো সন্ধ্যা। রাহুলের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো

--আপনার সাহস তো কম না আপনি আমায় মরে যেতো বলছেন। যানেন এরজন্য আপনার নামে আমি কি কি মা'মলা দিতে পারি।

--কি কি মা'মলা দেবেন শুনি তো?

--এটেম টু মা'র্ডার। একদম চিরকুটে বড় বড় করে লিখে রেখে যাবো 'আমার অনাকাঙ্ক্ষিত মৃ'ত্যুর জন্য রাহুল নামের ছেলেটি দায়ী। যে আমাকে প্রেমে ধোঁকা দিয়েছে।' তখন বুঝবেন কেমন লাগে।

রাহুল জানতো এমন কিছুই শুনবে সে। আড়ালে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো ছেলেটা। সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে বললো

--আপনি কি ভেবেই রেখেছেন আমাকে শান্তি দেবেন না।

--আপাতত সেই সিদ্ধান্ত জানাতে পারছি না। আইসক্রিম খাওয়াতে নিয়ে চলুন এরপর ভেবে দেখবো কি করা যায়।

রাহুল চোখ বুঝে শ্বাস ফেললো। কোন কুক্ষণে এই মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো তার আল্লাহ জানে। ছেলেটা ফোঁস ফোঁস করে উঠে দাঁড়ালো। সন্ধ্যার উদ্দ্যেশ্যে বললো

--চলুন

আনন্দে লাফিয়ে উঠলো মেয়েটা। খুশি মনে বললো

--আমি কিন্তু তিনটা আইসক্রিম খাবো। সঙ্গে কুলফিও।

--একেবারে আইসক্রিমের ফ্যাক্টোরি থেকে চুবিয়ে আনি আপনাকে।

সন্ধ্যা এক গাল হাসলো। হেলেদুলে বললো

--বিষয়টা মন্দ নয়। ফ্রীতে পেলে কে না নিতে চায় বলুন।

রাহুল কেমন করে তাকালো মেয়েটার দিকে। বিরক্তিতে বিরবির করে আওড়ালো

--আজব নমুনা মাইরি।

******************
সময়টা তখন মধ্যেরাত। আকাশে চাঁদের দেখা নেই। ঘন কালো মেঘের আড়ালে বিলীন হয়েছে সে। শীতল হওয়া ভুরভুর করে ঢুকছে কেবিনে। হয়তো শেষরাতের দিকে বৃষ্টি নামবে। শায়ের এতোক্ষণ মেহরিমার পাশেই বসে ছিলো। অনুভূতিশূন্য চোখে মেয়েটাকে দেখছিলো। কোথাও গিয়ে মেয়েটাকে তার বড্ড আপন আপন লাগছে। পরিচিত কারোর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছে মেহরিমাকে। শায়ের নিঃশব্দে জানালার কাছে এসে দাঁড়ালো। শূন্য চোখে দেখলো রাতের আকাশ। পকেট থেকে সিগারেট বের করে মেহরিমার থেকে সচেতন দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালো। জানালা খুলে খুলে দিয়ে নিকোটিনের ধোঁয়া গুলো উড়াতে ব্যস্ত হলো। চোখের পলকে সময় কেটে গেলো একটার পর একটা সিগারেট শেষ করলো শায়ের তবুও গম্ভীর চেহারায় পরিবর্তন এলো না। একমনে তাকিয়ে রইলো বাইরে। মনে মনে হিসাব কষলো কিছুর। মাথায় ঘুরপাক খেলো রোহানের বলা কথা গুলো। মেয়েটা বিবাহিত, একটা মেয়ে আছে এই প্রশ্ন গুলো বার বার এসে নাড়া দিলো অন্তঃপুরে। অথচ সঠিক উত্তর মিললো না। শায়ের নিজের প্রতি প্রচন্ড বিরক্ত হলো। ক্ষণিক পরিচয়ের মেয়েকে নিয়ে এতো ভাবার কি আছে? মেয়েটার বিয়ে হতেই পারে,বাচ্চা থাকতেই পারে সেসব নিয়ে তার এতো মাথাব্যাথা কেনো?

শায়ের বিরক্ত হয়ে হাতের সিগারেট টা ফেলে দিলো। চোখ দুটো বুজে ফোঁস করে একটা ফেললো। কানের কাছে সুর হয়ে বাজলো মিষ্টি কন্ঠের রিনরিনে আওয়াজ

--বন্ধু একটা গান গেয়ে শোনাবে। জানো আজ আমার মন খুব খারাপ। অন্তঃপুরে বর্ষনের দেখা মিলেছে যে। তোমার গান শুনিয়ে সেই বর্ষণকে ঝলমলে আলোয় রূপান্তর করে দাও তো।

শায়ের উদাস চোখে তাকালো। সময় নিলো নিজ মনের অস্থিরতা কমাতে। অতঃপর আনমনে বিষাদের সুর তুললো

        ~দূরে দূরে মেঘ যাচ্ছে পুড়ে
        মন মেললো স্মৃতি দু ডানা
          দূরে দূরে মেঘ যাচ্ছে পুড়ে
            মন মেললো স্মৃতি দু ডানা
           জানি না কেনো তা জানি না
           জানি না কেনো তা জানি না~

--আপনি তো দারুন গান গায়তে পারেন। প্রিয়জনকে মনে করে গেয়েছেন বুঝি।

পেছন থেকে মেহরিমার ভেসে আসা ভঙ্গুর স্বর শুনে তৎক্ষণাৎ থেকে গেলো শায়েরের গান। ঘাড় ঘুড়িয়ে একপলক তাকিয়ে আবারও জানালার বাইরে নজর রাখলো। মেহরিমা ছোট ছোট কদম ফেলে শায়েরের পাশে এসে দাঁড়ালো। শীতল বাতাসে শীত করলেও সামলে নিলো নিজেকে। শায়ের নির্বিকার। পকেটে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে। দু'জনের মাঝে কোনো শব্দ বিনিময় হলো না। নিঃশব্দে অনুভব রাতের আকাশ। অনেকটা সময় পর নীরবতার মাঝে ভেসো এলো শায়েরের গম্ভীর কন্ঠে আওয়াজ

--আর ইউ্য ম্যারিড..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 18 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন