ফন্ট সাইজ:
থিম:
আয় তবে সহচরী

27

লেখক: উম্মে_হাবিবা

--আপনার সঙ্গে আমার ভাইয়ার বিয়ে কবে হলো আপু?

শুনশান ফাঁকা রাস্তা দিয়ে দুজনের হাঁটার মাঝেই প্রশ্নটা করলো মেহরিমা। মেয়েটার চোখে মুখে বিস্ময়ের ছাপ স্পষ্ট। ডাগর ডাগর চোখ দুটোই একরাশ অস্থিরতা। পরিণীতা মেহরিমার প্রশ্নে মুচকি হাসলো। হেয়ালি করে বললো

--এক মুখে ভাইয়ের বউ বলছো আরেক মুখে আপু ডাকছো। এটা কি সঠিক সমীকরণ হলো মেহু বুড়ি?

অপরিচিত মেয়ের মুখে নিজের ভাইয়ের দেওয়া ডাকনাম শুনে আশ্চর্য না হয়ে পারলো না মেহরিমা। চোখ দুটো বড় বড় করে অত্যাধিক বিস্ময় নিয়ে শুধালো

--আপনি আমার ডাকনাম জানলে কি করে?

একপাশে মুখ ফিরিয়ে ফিক করে হেঁসে ফেললো পরিণীতা। মেহরিমার নজরে সেই হাসির দৃশ্য ধরা পড়ে নি। শুধু কানে এসেছে রিনরিনে হাসির মিষ্টি ঝংকার। ওড়নার আঁচলে মুখ লুকিয়ে পরিণীতা নিজের হাসি লুকানোর চেষ্টা করলো। বার দুয়েক গলা খাকারি দিয়ে মেহরিমার দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক স্বরে বললো

--রাজই আমাকে বলেছে তোমার ডাক নাম মেহু বুড়ি। তুমি যে কথায় কথায় গাল ফুলিয়ে রাখো এটাও বলেছে। শুধু তোমার সম্পর্কে নয় তোমাদের বাড়ির সবার সম্পর্কে বলেছে রাজ আমায়। তুমি,তোমার বড় আপু,মেজো আপু, তোমার বাবা,মা মানে আমার শ্রদ্ধেয় শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি সবাইকে নিয়ে গল্প করেছে।এমনি তোমার বড় দুলাভাই সম্পর্কে ও টুকটাক জানি আমি। সেই সাথে তোমার ছোট চাচা আসাদ নেওয়াজকে নিয়েও বলেছে কিছুটা।

মেহরিমার বিষ্ময় যেন তরতর করে বেড়ে যাচ্ছে। সম্পূর্ণ অচেনা,অজানা,অপরিচিত মেয়ের মুখে নিজ পরিবার সম্পর্কে শুনে বাকরুদ্ধ সে। সেই সাথে কিছুটা বোকাও বনেছে। তার ভাই যে লুকিয়ে বিয়ে করেছে এটা তো তারা জানতো না। তাছাড়া বিয়ে করলে বাড়িতে এখনও বললো না কেনো? কেনোই বা সবার থেকে লুকিয়ে রাখলো? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে আছে? থাকলেও সেই কারণের অর্থই বা কি?

মেহরিমা অতো বেশি চিন্তা করতে পারলো না। হুট করেই ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলের সত্যি শুনে তার মাথা ভন ভন করছে। বৃষ্টি কমেছে অনেকক্ষণ হলো। তখনের সেই বখাটে ছেলে গুলোও পরিণীতার বন্দুকের ভয়ে পালিয়েছে। সেই থেকেই দুজনে নির্জন রাস্তায় নীরবে হাঁট ছিলো। পরিণীতা ফুরফুরে মেজাজে আশেপাশে নজর বুলিয়ে চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করলেও মেহরিমা নিজের মনের প্রশ্নের ঝড়কে থামাতে পারে নি। নিজ মনের অস্থিরতা কে স্বায় দিতেই ময়না পাখির মতো হড়বড় করে প্রশ্ন করেছিলো। আর এরপরেই পরিণীতার থেকে একের পর কথা শুনে বরফের মতো জমে গেছে সে। 

মেহরিমাকে এমন মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মনে মনে একটু হাসলো পরিণীতা। মেয়েটার কপালে আলতো টোকা দিয়ে বললো

--কি ব্যাপার এমন ফ্রীজ হয়ে আছো কেনো? চোখের পলক টাও ফেলছো না। আমি বুঝি প্রথম বারেই অনেক বেশি ডোজ দিয়ে ফেলেছি? অবশ্য রাজ আমায় বলেছিলো তুমি অনেক বেশি কৌতুহলী। আবার অনেক ব্রিলিয়ান্টও। শুধু একটু দুষ্টু আর চঞ্চল এই যা। থাক ব্যাপার না। ওসব নিয়ে আমার কোনো টেনশন নেই। একমাত্র ছোট ননদ তুমি আমার। আদুরে না হলে চলে হুম। তাই...

--আপনি কি সত্যিই আমার ভাবী?

পরিণীতার কথা শেষ হওয়ার আগেই কিছুটা উত্তেজিত হয়েই ফের প্রশ্নটা করলো মেহরিমা। চোখজুড়ে তার কৌতুহলের শেষ নেই। কিশোরী মনের প্রতিটা কোনায় একরাশ বিস্ময়। ডাগর ডাগর আঁখির পলক ঝাপটে সামনে সুন্দরী রমণীর দিকে উত্তরে আশায় তাকিয়ে আছে সে। পরিণীতা দেখতে সুন্দর। শুধু সুন্দর নয় একদম হুরপরীর মতো সুন্দর। টানা টানা চোখ,বিড়াল চোখের মণি। আবার চুলগুলোও কেমন বিদেশীদের মতো হালকা লালচে সোনালী। প্রথম দর্শনে মেয়েটার মুখ ওড়নার আড়ালে ঢাকা থাকলেও পরবর্তীতে মুখ থেকে ওড়না সরানোর পর কয়েক মূহুর্তের জন্য মেহরিমা একদম স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলো। চোখের সামনে এতো সুন্দর একটা পুতুলের মতো মেয়ে দেখে তার কাছে সব কিছু কেমন ঘোরের মতো লাগছিলো। তবে কৌতুহল আর প্রশ্নের ভীরে সেই ঘোর বেশিক্ষণ টেকে নি। চট করেই নিজেকে সামলে নিয়ে ছুড়ে দিয়েছিলো একের পর এক প্রশ্নের বাণ।

মেহরিমার এতো অস্থিরতা দেখা আলগোছে হাসলো রমণী। মেয়েটার নাকে আলতো টান দিয়ে বললো

--উমম,সত্যি তো জানি না। তবে মিথ্যা মিথ্যা মানলে অবশ্যই আমি তোমার ভাবী। এখন বলো তুমি কোনটা মানতে চাও? সত্যি নাকি মিথ্যা?

--ইয়া আল্লাহ! আপনি হাসলে দেখি দু গালে সুইট করে দুটো টোলও পড়ে। এটাতো আগে খেয়াল করি নি। মাশা আল্লাহ কি প্রিটি আপনি!

পরিণীতার কথা শেষ হতেই প্রচন্ড উচ্ছাস নিয়ে কথাটা বলে ফেললো মেহরিমার। অচেনা মেয়েটাকে নিয়ে তার কৌতুহল যেন আরো কয়েক স্তর বাড়লো এতে। তবে আগের মতো হাজারো প্রশ্ন না করে আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো শুধু আর শুধু তাকে নিয়ে। চঞ্চল পায়ে দু কদম এগিয়ে এলো পরিণীতার কাছে। চোখজোড়ায় কৌতুহলের পাশাপাশি এখন কিছুটা দুষ্টুমিও ভর করেছে। সেভাবেই বললো

--অচেনা ভাবী সত্য মিথ্যা বাদ দিন। অনুমতি পেলে আপনাকে আবারও নতুন করে আমার ভাইয়ের বউ হওয়ার জন্য প্রপোজ করবো?

-----------------------------------
--এই মেহের কি হয়েছে তোর? একা একা হাসছিস কেনো?

ফাইজার ডাকে চমকে উঠলো মেহরিমা। ছিটকে বেরিয়ে এলো নিজের কল্পনা থেকে। আশেপাশে তাকিয়ে কয়েক সেকেন্ডে নিজেকে সামলেও নিলো। অতঃপর কিছু হয়নি এমন ভান করে বললো

--কিছু হয়নি। ঠিক আছি আমি।

ফাইজার হয়তো উত্তর টা ঠিক পচ্ছন্দ হয়নি। কেমন চোখ ছোট ছোট করে সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেহরিমার দিকে। নিজের একমাত্র বান্ধবীর এমন গোয়েন্দা নজর দেখে হালকা কেশে উঠলো মেয়েটা। ফাইজার গালে খোঁচা দিয়ে মুখটা অন্যদিকে সরিয়ে দিয়ে বললো

--ভুলে যাস না তুই ব্যবসা নিয়ে পড়াশোনা করছিস। অতএব এমন গোয়েন্দা স্বভাব বাদ দিয়ে হিসাববিজ্ঞানের সমীকরণে দু’তরফা দাখিলার অর্থ সংক্রান্ত তথ্য কালেক্ট করে হিসাব কর। ফাইনাল সেমিস্টারে কাজে লাগবে।

--সেমিস্টারের কথা শুনে মনে পড়লো,একটু আগে নোটিশ বোর্ডে দেখে এলাম সামনের মাসের ১৭ তারিখ থেকে প্রথম পরীক্ষা শুরু। প্রিন্সিপালের কড়া আদেশ পরীক্ষার আগে সকল ফি'স পরিশোধ করতে হবে। নয়তো এক্সাম হলে বসতে দেবে না।

দু'জনের কথার মাঝে হঠাৎ শায়েরীর কথায় কিছুটা চমকে উঠলো ফাইজা। মেহরিমা নির্বিকার। হয়তো এই কথা সে আগে থেকেই জানতো। অথচ আঁতকে উঠে বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়লো ফাইজা। এক লাফে শায়েরীর সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েটার দুই বাহু ধরে ঝাকিয়ে বললো

--এমন অলক্ষুণে কথা কোথা থেকে শুনে আসলি তুই? এই কথা বলতে তোর বুক কাঁপলো না? সামনের মাসে পরীক্ষা মানে কি? আমি কি এখনো কিছু পড়েছি? বইগুলো ও তো ঠিকমতো কিনতে পারি নি। এরমধ্যে পরীক্ষা হলে পাশ করবো কিভাবে?

ফাইজার চোখ দুটোই আ'তঙ্কের পাশাপাশি কিছুটা হাহাকার ও। এ কেমন জু'লুম তাদের সঙ্গে। ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে মাস তিনেক হলো। এখনো ভার্সিটি লাইফ টাই ঠিক মতো এনজয় করতে পারলো না। এরমধ্যে এক্সাম?

শায়েরী চোখ ছোট ছোট করে ফাইজা কে দেখলো কিছুক্ষণ। এরপর কিছুই হয়নি এমন ভাব করে ফাইজার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে গিয়ে বসলো মেহরিমার পাশে। মেহরিমা নিজেও মিটিমিটি হাসছে। নেকাবের আড়ালে সেটি ঢাকা পড়লেও শায়েরী ঠিক বুঝলো। ফিসফিস করে বললো

--খবরদার আউট অব কন্ট্রোল হয়ে যেন জোড়ে হেঁসে ফেলিস না। পরে কিন্তু ফিজু ম্যাডাম চেইতা যাইবো।

মেহরিমা আড় চোখে ফাইজার চিন্তিত মুখ দেখে শায়েরীর দিকে ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে আওড়ালো

--প্রমি কে আপাতত পরীক্ষা নিয়ে বেশি কিছু বলিস না। বেচারি এমনিতেই শক হয়ে আছে। সিলেবাস সম্পর্কে জানলে মিনি হার্ট অ্যাটাক করবে শিওর।

--ঠিক ঠিক। আমিও সেটাই ভাবছিলাম। আপাতত চুপ থাকতে হবে।

ফাইজা মেহরিমা আর শায়েরীকে ফিসফিস করে কথা বলতে দেখে আরো ফুঁসে উঠলো। দু'জনের কাছে এসে বেঞ্চে চা'পড় মে'রে ঝুঁকে গম্ভীর স্বরে বললো

--আমাকে ছাড়া কি নিয়ে ফুসুরফাসুর করছিস তোরা?

মেহরিমা শায়েরী সোজা হয়ে বসলো। ইনোসেন্ট ফেইস বানিয়ে বললো

--আমরা? কই কিছু বলছিলাম না তো? এমনিই কথা বলছিলাম।

--এমনি কথাটাই তো জানতে চাইছি। দ্রুত বল।

--এমনি কথা মানে এমনিই কথা। নতুন করে বলার মতো কিছু না।

ফাইজার সন্দিহান চোখের দিকে তাকিয়ে কথা টুকু বলতে গিয়ে শায়েরী নিজেই যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। মেহরিমার দিকে ফিরে বললো

--মেহের চল। বাসায় যেতে হবে। কতো দেরি হয়ে যাচ্ছে বল তো। তুই ও তো টিউশনি তে যাবি। চল চল। দ্রুত ওঠ।

শায়েরীর টানাটানিতে মেহরিমা নিজের ব্যাগ গুছিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ফাইজার ব্যাগটা এক হাতে নিয়ে অন্য হাতে ফাইজার জামার পেছনের কলার ধরে টান দিয়ে নিয়ে যেতে যেতো আওড়ালো

--কতো বার বলেছি ব্যবসার শিক্ষার্থী হয়ে গোয়েন্দাগিরি করবি না। উল্টো পাল্টা চিন্তা না করে বাসায় গিয়ে পড়তে বস কাজে লাগবে।

**************************************
শায়েরী আর ফাইজাকে বিদায় জানিয়ে লাইব্রেরিতে এসেছে মেহরিমা। আপাতত তার উদ্দেশ্যে পরীক্ষার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় বই খুঁজে তার থেকে নোটস কালেক্ট করা। লাইব্রেরির পরিবেশ আপাতত বেশ শান্ত। হাতে গোনা চার পাঁচ জন শিক্ষার্থী ছাড়া কাউকে দেখা যাচ্ছে না। মেহরিমা নিজের মতো ঘুরে ঘুরে বই সংগ্রহে ব্যস্ত। অনেক গুলো তাক খুঁজেও মেয়েটা যখন “ financial account” বইটি পেলো না তখন একটু বিরক্তই হলো। নিচের তাক রেখে একটু উপরের দিকে নজর দিতেই দ্বিতীয় শেল্ফের উপরের দিকে বইটা দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। দু কদম হেঁটে হাত বাড়িয়ে বইটা নিতে গিয়ে বেশ কসরত করতে হলো তাকে। দু পায়ের আঙুলে ভর দিয়েও বইয়ের নাগাল পেতে হিমশিম খেলো। অতঃপর কিছু না ভেবেই লাফ দিয়ে বইটা নামাতে গেলে তূরন্ত তার বাম হাত ধরে কেউ হ্যাচকা টান মা'রলো। হঠাৎ টানে ভরকে গেলো মেয়েটা। সেকেন্ডের মাঝে পুরুষালি শক্তপোক্ত বুকে আছড়ে পড়লো। পরপরই ফ্লোরে শক্ত কোনো বস্তু আছড়ে পড়ার ঠাস ঠাস শব্দ হলো। ভয়ে মেয়েটা চোখদুটো খিচে বন্ধ কর ফেললো। অজান্তেই সিটিয়ে গেলো পুরুষালি বক্ষে। মেয়েটার নিঃশ্বাসের সঙ্গে ভুরভুর করে মিশে ঝাঝালো মশলাদার সুবাস আর কাঠেল ঘ্রাণের মিশ্র সুগন্ধি। কানের এসে বাজলো হৃৎস্পন্দনের ধুকপুক আওয়াজ। মেহরিমা মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় চোখ বুজেই সেই আওয়াজ অনুভব করলো। পরমুহূর্তেই কানে এলো পুরুষালি আওয়াজের গম্ভীর স্বর

--আমার বুকটা কে নিজের ব্যক্তিগত বালিশ মনে করে এমন চিনে জোঁকের মতোই সিটিয়ে থাকার প্ল্যান করেছেন মিস চ্যাপা শুঁটকি?

পরিচিত গুরুগম্ভীর কন্ঠ স্বর শ্রবণেন্দ্রীয় হতেই তড়াক করে চোখ মেললো মেহরিমা। মাথা উঠিয়ে উপরে তাকাতেই শায়েরের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সরাসরি বুকে এসে লাগলো তার। একটু আগে নিজের করা কাজে মূহুর্তেই অস্বস্তিতে পড়লো মেয়েটা। তড়িৎ সরে এলো শায়েরের থেকে। চঞ্চল নজর আশেপাশে বুলিয়ে অপ্রস্তুত সরে আওড়ালো

--আমি..মানে ইচ্ছে করে। আসলে স..সরিইই। কিছু মনে করবেন না।

সবসময় স্পষ্ট কথা বলা মেয়েটাও একমুহূর্তের জন্য নিজের কাজে অস্বস্তিতে পড়ে গেলো। শায়েরের কাছাকাছি যাওয়ায় পুরুষালি ওই পারফিউমের ঘ্রাণ যেন আফিমের মতো টানছিলো তাকে। আশপাশ ভুলে বিভোর হয়েছিলো সেথায়। শায়ের মেহরিমার লজ্জা মিশ্রীত অস্বস্তি দেখে ঠোঁট টিপে সূক্ষ্ম হাঁসলো। বুকে হাত গুঁজে নিরেট স্বরে বললো

--মন মস্তিষ্ক কোথায় থাকে আপনার?

অষ্টাদশী রমণী কথার সারমর্ম বুঝতে ব্যর্থ হলো। প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে আওড়ালো

--মানে?

--একটু আগে যে ভূমিকম্প হলো আপনি টের পান নি?

চোখ দুটো বিস্ময়ে বৃহৎ আকার ধারণ করলো মেয়েটা। সেভাবেই বললো

--ভূমিকম্প? কখন হলো? কিছু টের পেলাম না কেনো আমি?

--আমার বুকের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকলে টের পাবেন কিভাবে? বই পড়ার ঠাস শব্দ পেয়ে আশ্রয়স্থল হিসেবে একটু আগে আমাকেই তো জাপ্টে জড়িয়ে ধরলেন। মনে নেই?

অকপটে কথা টুকু শায়ের বলে ফেললেও লজ্জায় নুয়ে পড়লো রমণী। মাথা নিচু করে জিভ কে'টে মনে মনে নিজেকে বেশ বকা দিলো। দু'হাত কচলে কাঁধে জড়িয়ে ধরলো। হাসফাস করে কিছু বলতে চাইলো তার আগেই শায়ের গম্ভীর স্বরে আওড়ালো

--এরপর থেকে নাক, কান, চোখ তিনটেই সজাগ রেখে চলাফেরা করবেন। নয়তো বার বার আপনাকে বাঁচাতে আমি আসতে পারবো না। সরি।

নির্বিঘ্নে মেহরিমার পাশ কাটিয়ে চলে গেলো শায়ের। ফ্লোরে পড়ে থাকা বই দুটো মাঝে শেল্ফে রেখে বিরবির করলো

--ছ্যাহ! বালের মেয়ে মানুষ। বুক ফাটবে তো মুখ ফুটবে না।

শায়ের নিজের মতো চলে গেলেও পেছনে বোকার মতো দাড়িয়ে রইলো মেহরিমা। আলতো করে নিজের নাক ছুয়ে বিরবির করে আওড়ালো

--নাক আবার সজাগ রাখে কিভাবে? অদ্ভুত মানুষ তো।

***************************
শায়ের বাইরে এসে রাহুল আর মীরের কাছে গেলো। বাইকের উপর লাফ দিয়ে বসে সিগারেট ধরিয়ে নিকোটিনের ধোঁয়া অকপটে উড়িয়ে দিলো। মীর ফোন কল শেষ করে এসে শায়েরের হাত থেকে সিগারেট টা কেঁড়ে নিয়ে হেয়ালি করে বললো

--কি রে ব্যাটা ভাব সাব নিয়ে কোথায় হাওয়া হয়ে গেছিলি?

শায়ের মীরের দিকে তাকানোর প্রয়োজনবোধ করলো না। করিডোর দিয়ে পিলপিল পায়ে হেঁটে আসা মেহরিমার দিকে দৃষ্টি রেখেই বললো

--খাজানা কুড়াতে গিয়েছিলাম।

--কিসের খাজানা?

--প্রেম অমৃতের।

--ওহ আচ্ছা...

মীর আনমনে উত্তর দিতে গিয়েও মাঝপথে আটকে গেলো। রাহুল নিজেও শায়েরের মুখে এমন উত্তর আশা করে নি। ফলস্বরূপ দু'জনে একে অন্যের দিকে দৃষ্টি বিনিময় করে আশ্চর্য কন্ঠে চেচিয়ে বললো

---কিহ...

শায়ের কাউকে পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না। বাইক থেকে নেমে স্টার্ট দিয়ে যেতে নিয়ে বললো

--চেঁচানোর কিছু নেই। আমি বধির নই। আস্তে কথাও শুনতে পারি।

অতঃপর দু'জনের সামনে দিয়েই সাই করে চলে গেলো। মীরের হাত থেকে ইতোমধ্যে সিগারেট টা পড়ে নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে। রাহুল অতি চমকে ধপ করে বসে পড়েছে নিচে ঘাসের উপর। কেমন জড়বস্তুর মতো বললো

--মীর ভাই আমি যা শুনলাম তুমি কি সেটাই শুনেছো?

মীর নিজেও হতবাক, হতভম্ব। চোখের পল ঝাপটে ঝাপটে আওড়ালো

--নীড় আর প্রেম কিভাবে সম্ভব?

***********************************
রান্নাঘরের দাওয়ায় বসে কুলায় করে চাল ঝাড়ছেন শাহিদা নেওয়াজ। পাশেই পুতুল বসে ছোট ছোট হাঁড়ি নিয়ে রান্না বাটি খেলছে। লতা পাতা দিয়ে রান্না করে তার খেলনা বউ পুতুলকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। কখনো আবার বলছে

--কাও কাও ইত্তু কাও। পুতুর লান্না মুজা হয়েচে তো। ইয়ামি ইয়ামি কলে কাও।

শাহিদা নেওয়াজ আড়চোখে নাতনির কাজকর্ম দেখছে আর ঠোঁট টিপে হাসছে। কখনো কখনো দু একটা কথা বললে পুতুল ঝগড়ুটে রূপ ধারণ করে তার সঙ্গে ঝগড়া করছে। এতে তিনি বেশ মজাই পাচ্ছেন। কাজের ফাঁকে নাতনি তার বিনোদনের অভাব পূরণ করছে।

পুতুল অনেক সময় একই খেলা খেলতে খেলতে বিরক্ত হয়ে উঠেছে। প্লাস্টিকের বউ পুতুল টাকে পাশে রেখে দু'হাত গালে রেখে মন খারাপ করে বসে রইলো। টুকটুক চাহনি আশেপাশে বুলিয়ে নতুন কোনো খেলা খুঁজে চলেছে। শাহিদা নেওয়াজ তখন চাল ঝাড়ছেন। প্রতিবারই ঝুপ ঝুপ আওয়াজে পুতুল মাথা দোলাচ্ছে। পুতুলের হঠাৎ করেই ইচ্ছে করলো একটু নাচতে। মাঝে মাঝে ঘরের মধ্যে একা একা সে ঘুড়ে ঘুড়ে নাচে। খেলা করে। আজও সেই ঘুরুঘুরু খেলা খেলতে মন চাইলো। ছোট্ট মেয়েটা বিগলিত হাসলো। ঝটপট উঠে দাঁড়ালো। শাহিদা নেওয়াজের চাল ঝাড়ার শব্দের সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে নাচতে লাগলো। কখনো দুপাশে কোমড় দুলিয়ে ঘুরলো। নিজের কাজে নিজেই বেশ আনন্দিত সে। লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরে ঘুরে নাচার ফাঁকে মুখে হাত চেপে খিলখিল করে হেঁসে উঠলো সে। শাহিদা নেওয়াজ হাতের কাজ থামিয়ে ঘাড় ঘুড়িয়ে নাতনিকে এমন ঘুরে ঘুরে নাচতে দেখে অবাক হলো। কুলো টা পাশে রেখে বললো

--এভাবে বাদরের মতো লম্ফঝম্প করছো কেনো? অসময়ে নাচনে ভূতে ধরেছে তোমায়?

শাহিদা নেওয়াজের চাল ঝাড়ার আওয়াজ থাকমে পুতুলের নাচও থেমে গেলো। দাদিকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে তাড়া দিয়ে বললো

--থেমে গেলে কেনু বু? সব্দ বাজাও। আমি নাচছি তো।

--শব্দ বাজাবো মানে? কিসের শব্দ বাজাবো আমি?

--উফফ কিচ্চু বুজে না। তুমি যে সব্দ কচ্চিলে ওতা আবাল কলো। আমি নাচবো।

--আরে বাবা কিসের শব্দ বাজাবো?

পুতুল চঞ্চল পায়ে শাহিদা নেওয়াজের দিকে এগিয়ে এলো। আঙুল দিয়ে কুলো টা দেখিয়ে বললো

--এই যে এতা বাজাও। এতা বাজালে সব্দ হয়।

শাহিদা নেওয়াজ একবার কুলো আরেকবার নাতনির দিকে তাকিয়ে বোকার মতো প্রশ্ন করলো

--এটা বাজালে শব্দ হয়?

--হুম হয় তো। বাজাও।

শাহিদা নেওয়াজ কুলোটা হাতে হাতের আলতো টোকা দিয়ে বললো

--কই বাজে না তো।

পুতুল ঠাস করে কপালে আলতো চা'পড় দিলো। নিজের খেলনা থেকে ছোট্ট কুলোটা এনে ওতে কিছু চাল নিয়ে শাহিদা নেওয়াজের মতো নাড়িয়ে দেখিয়ে বললো

--এই যে এলোকম কলে বাজাও তাহলে সব্দ হবে।

শাহিদা নেওয়াজ নিজের ছোট্ট নাতনির কাজকর্ম দেখে অবাক না হয়ে পারলো না। বিস্মিত স্বরে বললো

--এটাকে তোমার কাছে বাজনা মনে হচ্ছে?

--হ্যা। তুমি আবাল বাজাও। আমি নাচি।

শাহিদা নেওয়াজ নাতনির কথা মতো পুনরায় চাল ঝাড়তে শুরু করলো। নতুন করে শব্দ হওয়ায় পুতুল ও খিলখিলিয়ে হেঁসে উঠলো। আগের মতোই লাফিয়ে লাফিয়ে নাচলো। শাহিদা নেওয়াজ মুগ্ধ চোখে শুধু নাতনির খুশি দেখলেন। আনমনে বললেন

--এ যেন আরেক পরিণীতার জন্ম হলো।

**********************
সন্ধ্যার গোধূলি লগ্নে বারান্দার দোলনায় দাবিয়াকে নিয়ে বসে আছে শায়েরী। দৃষ্টি পশ্চিমের রাঙা সূর্যতে। মুগ্ধ নয়ন জোড়ায় সূর্যদ্বয়ের সৌন্দর্য দেখা দিয়েছে। মৃদু মন্দ হাওয়া এসে ছুয়ে দিচ্ছে মোম রঙা শরীর। একঝাঁক সাদা বক ডানা ঝাপটে উড়ে চলেছে দূর দূরান্তে। দাবিয়া শান্ত হয়ে শুয়ে আছে শায়েরীর কোলে। চোখ দুটো বুঁজে আরামে আদর নিচ্ছে। কখনো মাথা নাড়িয়ে বোঝাচ্ছে আরো আদর নিতে। শায়েরী নিজের বিড়ালের এমন আদুরেপনা দেখে মুচকি হাসলো। দু'হাতে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললো

--দাবু রে কতো দিন হলো রোহান ভাই আমাকে ঘুরতে নিয়ে যায় না। আজকাল লোকটা এতো ব্যস্ত থাকে। চাইলেও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার আবদার করতে পারি না।

দাবিয়া নিঃশব্দে পড়ে রইলো শায়েরীর বুকে। শায়েরী হালকা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। দাবিয়াকে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। রুমে যেতে নিয়ে বললো

--চল পড়তে বসতে হবে। আর এখানে বসে  থেকে লাভ নেই।

রুমে এসে দাবিয়াকে পাশের ঝুড়িতে শুইয়ে দিলো শায়েরী। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে মাগরিবের নামাজ আদায় করে পড়তে বসলো। বার দুয়েক ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দরজায় নজর বুলালো। প্রত্যাশিত মানবকে না পেয়ে মন খারাপ নিয়েই টেনেহিঁচড়ে মনোযোগ দিলো বইয়ে।

পড়তে পড়তে ঘড়ির কাটা এসে ভিড়লো সাড়ে সাতটার ঘরে। টুং করে মেসেজের আওয়াজ পেয়ে শায়েরী বাম হাতে ফোনটা টেনে নিয়ে দেখলো ফাইজা নক দিয়েছে। শায়েরী মেসেজের রিপ্লাই দেবে তার আগেই মেয়েটা অধৈর্য্য হয়ে কল দিলো। শায়েরী ফোন রিসিভ করতেই উত্তেজিত স্বরে বললো

--সেতু জানিস কি হয়েছে?

--না বললে কিভাবে জানবো বইন?

--ও হ্যা সেটাই তো। আমি না বললে কিভাবে জানবি? আচ্ছা ওসব বাদ দে আসল কথা শোন।

--বল

--আজকে মাইশুপু কে দেখতে এসেছিলো।

--জানি। তারপর...

--পাত্রকে দেখে তো সবার গদগদ অবস্থা। তার উপর ছেলে আবার পাইলট না করার তো কোনো স্কোপই নেই।

--হুম এরপর পচ্ছন্দ হলো সবার?

ফাইজা বিছানায় গিয়ে বসলো। কোলের উপর বালিশ রেখে বললো

--হুম আর বিয়েও ঠিকঠাক।

শায়েরীর চোখ জোড়া আনন্দে চকচক করে উঠলো। আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো

--কবে বিয়ে?

--দুই সপ্তাহ পর।

--ওমা এতো তাড়াতাড়ি কেনো?

--বললাম না ছেলে পাইলট। এজন্যই তো এতো তাড়াহুড়ো।

--বুঝলাম। ফুপি কি বলেছে?

--আম্মু প্রথমে নাকচ করলেও পরবর্তী সবার সম্মতি দেখে মেনে নিয়েছে।

শায়েরী চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। দাবিয়াকে কোলে নিয়ে রুমের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে বললো

--ফিজু রে খুশি খুশি লাগছে। ফাইনালি বংশের কারোর বিয়ে খেতে চলেছি। ফিলিংস আকাশে উড়াউড়ি।

--তোর খুশিকে দশগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আরো একটা নিউজ আছে। বলবো?

--বলবি আবার কি বলে ফ্যাল।

--আম্মু বলেছে বিয়ে আমারদের দাদা বাড়ি মানে সিলেটে হবে।

--কি বলছিস সত্যি?

--হুম। তবে একটা সমস্যা।

শায়েরীর হাসি হাসি মুখটা হালকা নিভে এলো। সন্দিহান কন্ঠে শুধালো

--কিসের সমস্যা?

--পুষ্প। ও কি রাজি হবে সিলেটে যেতে?

--কেনো হবে না। তুই বললে অবশ্যই হবে।

ফাইজা ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেললো। মন খারাপ নিয়ে বললো

--না হবে না। আমি তে পুষ্পকে চিনি। সহজে সিলেটে যেতে ও রাজি হবে না। তার উপর সাতদিন আগে তো কোনো ভাবেই না। এখন কি করবো বইন? পুষ্পকে ছাড়া আপুর বিয়ে আমার কাছে লবণ বিহীন তরকারির মতোই স্বাদহীন।

শায়েরীর নিজেরও কিছুটা মন খারাপ হলো। তিন মাসের বন্ধুত্বে মেহরিমার সঙ্গে তার ও বেশ ভাব জমেছে। তুমি থেকে সম্পর্ক তুই তে এসেছে। বন্ডিং হয়েছে বেশ ভালো। শায়েরী বিছানায় বসলো। চিন্তিত স্বরে বললো

--ব্যাপার টা জটিল তবে চেষ্টা করলে বিফলে যাবো না হয়তো।

--কি করবি?

--এখনো ভাবি নি। তবে ভেবে তোকে জানাবো।

--আচ্ছা এখন তাহলে রাখছি। পরে কথা হবে।

--আচ্ছা।

শায়েরী কল কেটে চিন্তায় বিভোর হলো। কিভাবে মেহরিমাকে রাজি করাবে সেই ভাবনাই দিশাহারা রমণী। কিছুক্ষণ পরে শায়েরীর রুমে রোহান এলো। মেয়েটাকে এমন চিন্তিত মনে রুমে পায়চারি করতে দেখে তার সামন ভ্রু দ্বয়ের মাঝে ভাজ পড়লো। ডাকলো মিহি স্বরে

--সেতু

হঠাৎ ডাকে চমকালো মেয়েটা। সামনে তাকিয়ে রোহানকে দেখে নিজেকে ধাতস্থ করলো। ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে বললো

--ওহ তুমি...

--কেনো অন্য কাউকে আশা করেছিলে?

--তা নয়। একটু ভাবছিলাম।

--কি ভাবছিলি?

শায়েরী বলতে গিয়েও থেমে গেলো। কথা ঘুরাতে বললো

--মাইশা আপুর বিয়ে ঠিক হয়েছে জানো?

রোহান মেয়েটার দিকে সন্দিহান নজর রেখেই  উত্তর করলো

--হুম

--আমরা কিন্তু সাতদিন আগে সিলেট যাবো।

--তুই আজকেই যা। মানা করেছে কে?

শায়েরী চপল পায়ে রোহানের দিকে এগিয়ে এলো। নিচু স্বরে শুধালো

--তুমি যাবে না?

--আমার সময় হবে না।

-- সে কি কথা। তাহলে আমরা আগে গিয়ে কি করবো?

রোহান আড়চোখে মেয়েটার চমকানো মুখ দেখে মনে মনে হাসলো। গম্ভীর স্বরে বললো

--আমি কি জানি। তোরা জানিস তোরা গিয়ে কি করবি।

শায়েরীর মনটা দ্বিগুণ খারাপ হলো যেন। নিষ্প্রাণ স্বরে বললো

--ভাইয়া ও যাবে না?

--তোর ঘাড়ত্যাড়া ভাই পরিবারের কোন অনুষ্ঠানেই বা অংশ নিয়েছে।

শায়েরীর মুখশ্রী জুড়ে বিষাদের মেঘ। মেয়েটা চুপচাপ বিছানায় বসে আছে। রোহান একপাশে বসে মেয়েটাকে দেখলো। সময় নিয়ে প্রস্তুত করলো নিজেকে। অতঃপর শান্ত স্বরে বললো

--সেতু,আমার সঙ্গে যাবি?

মেয়েটা মন খারাপ নিয়েই বললো

--কোথায়?

রোহান আড়ালে বার দুয়েক শ্বাস ফেললো। নিজ মনে সাহস সঞ্চয় করে অকপটে বললো

--যেখানে গেলে তোকে ঘিরে হাজারো জোনাকি নরম আলো ছড়াবে,চাঁদের মিষ্টি আলোয় সুখ ঝড়াবে,হিমেল হাওয়ায় মন হারাবে,আকাশ হতে ফুলের বর্ষনে রাণীর মুখে হাসির ঝলকানিতে নক্ষত্রেরা লজ্জায় মেঘের বুকে মুখ লুকাবে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 27 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন