#কল্পনায়_তুমি_আমার
#লেখিকাঃজেরিন_রায়হানা
#পর্বঃ_২
সকাল সকাল জেসিকা মাহিনের দেওয়া শাড়ি পরে রেডি হয়ে বসে আছে,, আজ জেসিকা কে দেখতে একটু বেশিই সুন্দর লাগছে,শ্যামলা গায়ের রং,কপালে একটা ছোট্ট ক্ষত চিহ্ন মনে হয় আন্দাজে পরা টিপের মতো, চোখে কাজল পড়তে পছন্দ করে না কাজল না দিয়েই তাকে খুব মানায় চোখ গুলো মায়ায় ভরা,সিমসাম গঢ়নের মেয়ে মাথা ভর্তি চুল, এক কথায় সে শ্যামলা কিন্তু মায়ায় ভরা মেয়েটা, আজ সে তার মাহিন ভাইয়ের দেওয়া শাড়ি পড়েছে চুড়ি পড়েছে, হালকা সেজেছে দেখতে খুব মিষ্টি লাগছে। ঠিক তখনই বাহিরে অনেক হইচই শোনা গেলো। জেসিকা অতোটাও গুরুত্ব দিলো না। জেসিকা বাহিরেও এলো না কারণ মাহিন বলেছিল তুই সাজার পর রুম থেকে বের হবি না আমিই তোর রুমে গিয়ে তোকে চোখ ভরে দেখবো। তাই সে সেজেগুজে তার রুমেই বসে বসে মাহিন ভাইয়ের কথা চিন্তা করছে। তখনই হঠাৎ মাহিন জেসিকাকে বলে এই জেসিকা আমার রুমে আয় কথা আছে। হ্যা বলো কি কথা? আর কেমন লাগছে বলো? জবা ফুল আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে রে। জেসিকা এই কথা টা শুনে আকাশ থেকে পড়লো মনে হয়। জেসিকা কিছু বলতেও পারছে না। শুধু দেখছে ওর মাহিন ভাইকে চোখ ভরে দেখছে। মাহিন বললো কি রে কিছু বলবি না তুই?? কিছু বল জবা ফুল তুই চুপ থাকিস না বাড়ির সবাই আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে তুই অন্তত কিছু বল। জেসিকা গুনগুনিয়ে গেয়ে ওঠে ❝ বুকের ভিতর নোনা বেথ্যা... চোখে আমার ঝরে কথা... এপার ওপার তোলপার একা.... যাও পাখি বলো তারে, সে যেন ভোলে না মোরে সুখে থেকো ভালো থেকো মনে রেখো এই আমারে ❞ গানটা বলেই জেসিকা নিজের রুমে দৌড় দেয়। কিন্তু মাহিন চেয়েছিল জেসিকা যেন বলে এই বিয়ে তুমি করো না মাহিন ভাই আমি তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু জেসিকা এমনটা কিছু বললো না। মাহিন ভাবলো জেসিকা কিছু বললো না তাহলে আমি কেন আগ বাড়িয়ে বলতে যাবো আমার Attitude কম নাকি বলেই বাহিরে এসে সবাইকে বলে আমি রাজি আছি বিয়েতে তোমরা বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করো আর শোনো এই সপ্তাহের মধ্যেই যেন বিয়েটা হয়। বলেই মাহিন বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সবাই অনেক খুশি হলো তবে সবার আনন্দের মাঝে জেসিকা হলো ব্যাথিত। সে ভেবেছিল মাহিন ভাই হয়তো ভালোবাসা প্রকাশ করবে কিন্তু এটা হলো না। মাহিন ভাই আমাকে ভালোবাসেনি। জেসিকা রুমে এসে দরজা দিয়ে গগন ফাটানো চিতকার করলো,, বললো ও আল্লাহ দেখো আমার মাহিন ভাই আমাকে ভালোবাসেনি ও আল্লাহ আমি কেন তার মায়ায় পড়ে রইলাম ও আল্লাহ আমাকে একটা পথ দাও আল্লাহ। আমি আমার মাহিন ভাইয়ের বিয়ে অন্য কারুর সাথে হতে দেখতে পারবো না আল্লাহ। জেসিকার কান্না কেউ শুনলো না সবাই মাহিন ভাইয়ের বিয়ের আনন্দে হাসছে,।
আজ সকাল সকাল জেসিকার ঘুম ভাঙে রুহির ডাকে,, এ্যাই জেসিজা, রুহির ডাকের মাঝে যেন কান্না মাখা। জেসিকা ধিরে সুস্থে বিছানা থেকে ওঠে। ওঠেই সামনে রুহিকে দেখে জড়িয়ে ধরে আর সেই গগন ফাটানো চিৎকার শুরু করে। রুহিও কিছু বলতে পারছে না সে শুধু জেসিকাকে তার বুকে আকড়ে ধরে নিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর রুহি জিজ্ঞেস করে তুমি এখনই মাহিন ভাইকে সব বলে দে চল আমিও বললো তোর সাথে। জেসিকাও বলে হ্যা আমি বলবোই তা নাহলে আমি আমার মাহিন ভাইকে আন্তকালের জন্য হারিয়ে ফেলবো তাই আজ এখনই সব বলে দিবো তারপর আমার মাহিন ভাই আমাকে বিয়ে করে নিবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ রুহি আর জেসিকা মাহিনের রুমে এসে সোফায় বসলো। বসার সাথে সাথে মাহিন বলে ওঠে হ্যা তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। অনেক কথা আছে রে জেসিকা। হ্যা মাহিন ভাই বলো কি বলবে এই দেখ আমার হবু বউ মানে তোর হবু ভাবি। কি সুন্দর তাই না?? দেখ কত ফর্সা আর দেখতে পুরাই বিদেশি বিদেশি ভাব। আমি তো একেই বিয়ে করবো। কেমন লাগছে রে তোর ভাবিকে?? মাহিনের কথায় জেসিকা ভিতর থেকে যেন মরে গেলো। জেসিকার মুখ দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। রুহি জেসিকাকে ইশারাই বললো কি রে তুই সব বলে দে। জেসিকা একটা হাসি দিয়ে মাহিন কে প্রশ্ন করলো আচ্ছা মাহিন ভাই তোমার বউ হওয়ার জন্য কেমন যোগ্যতা থাকা দরকার? তখন মাহিন তার হবু বউ তাসফিয়ার ছবি দেখিয়ে বলে ঠিক তাসফিয়ার মতো গায়ের রং সাদা আরে এক কথায় রূপবতী হলেই হবে। রুহির এসব দেখতে অনেক কষ্ট হচ্ছে চোখের সামনে নিজের বান্ধবীর মন ভাঙা এটা দেখা অনেক যন্ত্রণাদায়ক। রুহু অনেক সুন্দরী রুহি হচ্ছে রূপবতী চোখ গুলো মায়ায় ভরা ফর্সা গায়ের রং অনেক সুন্দর মেয়েটা মনটাও অনেক ভালো রুহি জেসিকা কে প্রচন্ড ভালোবাসে তাই হয়তো চোখের সামনে নিজের বান্ধবীর কষ্ট তার সহ্য হচ্ছে না। জেসিকা মাহিন কে প্রশ্ন করে আমি কেমন বউ হিসেবে বলো না মাহিন ভাই?? জেসিকার প্রশ্নে মাহিন হেসে বলে আমার পক্ষে না কারণ আমি যেমন আমার বউও তেমন আর তুই যেমন তোর জামাইও তো তেমনই হওয়া দরকার কি বল?? জেসিকা বাকা হেসে বলে হুম ঠিক বলেছো। আচ্ছা থাকো যাই। হ্যা আমিও এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নেই কারন কাল দিন পর আমার বিয়ে বলেই মাহিন হাসতে থাকে। জেসিকা কান্না করতে করতে নিজের রুমে এসে সুয়ে পরে। রুহি বলে কি রে তুই মাহিন ভাইকে বললি না কেন? বলে আর কি হবে রে আমার মাহিন ভাই যদি তাসফিয়াকে পেয়ে খুশি হয় তাহলে তার খুশিতেই আমি খুশি কতাটা বলেই জেসিকা ডায়েরি লেখা শুরু করে। রুহি বিরক্তি নিয়ে বলে তোর কষ্ট হচ্ছে না? আর প্রেমে পরতেই গেলি কেন তুই বল তো?? কেন প্রেমে পড়লি বল রাগান্বিত হয়ে বলল রুহি। জেসিকা গেয়ে ওঠে "প্রেম করছে যেজন যানে সেজন পিরিতির কি বেদনা..... প্রেম করছে যেজন যানে সেজন পিরিতির কি বেদনা... সখি তোরা প্রেম করিও না পিরিত ভালা না সখি তোরা প্রেম করিও না......। রুহি বলে আরে সন্ধা হয়ে এলো তো বাড়ি যেতে হবে। আমি যাই সারাদিন কিছু খেলিও না বাড়ি যাই আমি আর তুই ভাত খা যা। আর শোন রে জেসি কাল দিন পর তো মাহিন ভাইয়ের বিয়ে তুই কি স্কুলে আসতে পারবি?? জেসিকা লেখা বন্ধ করে বললো কেন স্কুলে কি হবে?? ওমা তুই জানিস না?? স্কুলে রেজাল্ট দিবে তো। সবাইকে যেতে হবে তুই যেতে পাড়লে সকালে যাস। আচ্ছা যাবো। হুম থাক রে আমি যাই। জেসিকা ডায়েরি লেখা আবার শুরু করলো তার মনের সব কথা সে এই ডায়েরিতে লিখছে। মেয়েটা সারাদিন কিছু খায়নি বাড়ির কেউ খেতেও ডাকেনি সবাই তো মাহিন কে নিয়ে ব্যাস্ত কিন্তু এই ছোট্ট জেসিকাকে সবাই ভুলে গেলো। জেসিকা ডায়েরি লেখতে লেখতেই ঘুমিয়ের পড়লো।
চলবে...🌿🕊️
😌