#আম_পাতা_জোড়া_জোড়া-০৪
লেখনীতে #মেহরিমা_আফরিন
জেবা ধীরে ধীরে ছেলের মাথায় হাত বুলালেন। তার চুলে পাঁক ধরেছে। বয়সের ভার এসে গেছে শরীরে। এখন আর আগের মতো এক হাতে সংসারের কাজ সামলাতে পারেন না, একটু পর পর ক্লান্তি এসে ভর করে শরীরে। তার উপর বড় ছেলেকে নিয়ে তার দুঃশ্চিন্তার অন্ত নেই।
এরমধ্যে দু'বছর আগের একটা এক্সিডেন্টে নিনীতের পুরো জীবন এলোমেলো হয়ে গেছে। হাসিখুশি একটা পরিবার এক নিমিষে ভেঙে তছনছ হয়ে গেল। সিয়াশা মারা গেল রোড এক্সিডেন্টে। এই ঘটনার পর নিনীত কিছুদিন উন্মাদ হয়ে গেল শোকে। এরপর ধীরে ধীরে সুস্থ হলো। কিন্তু মানসিকভাবে একটা বিরাট ক্ষত তৈরি হয়েছিল তার ভেতরে। নিনীত আর আগের মতো স্বাভাবিক হতে পারে নি।
জেবার সবচেয়ে লক্ষ্মী ছেলে ছিলো নিনীত। বুঝদার, ব্যক্তিত্ববান, সংসারী গুণ সম্পন্ন আর পরিবারের প্রতি ভীষণ রকম যত্নশীল। সিয়াশার সাথে ফাল্গুনের এক বিকেলে বিয়ে হলো তার। পারিবারিক বিয়ে। নিনীত এক মাসের মধ্যে মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেললো। ঐ ঘরে দেড় বছর পরে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম নিলো। নিনীত ভালোবেসে তার নাম রাখলো নিবেদিতা।
জন্মের একমাস পর নিনীত জানতে পারলো, তার মেয়েটা আসলে অন্ধ। সে চোখে দেখতে পায় না। এই চাকচিক্যময় ভুবনের কোনো কিছুই সে আসলে দেখে না। কি দুঃখের কথা! সিয়াশা এই দুঃখের কথা জেনে পাক্কা এক ঘন্টা চোখের পানি ফেললো। নিনীত অবশ্য কাঁদে নি। তবে ওর কষ্ট হয়েছে। মেয়েটার জন্য খারাপ লেগেছে। এতো মিষ্টি একটা বাচ্চা পৃথিবীর রং রূপ দেখতে পাবে না, সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য বুঝবে না, ঘাসের উপর ঝরে থাকা ছোট ছোট শিউলির দৃশ্য দেখতে পাবে না। সন্ধ্যার আগে বিশাল আকাশের বুকে ডানা মেলে পাখিরা কেমন করে নীড়ে ফিরে আসে, সেটা জানতে পারবে না।
নিনীত ওর বড় বড় চোখ দু'টোর দিকে তাকিয়ে হাসলো। বাচ্চাটা জড়োসড়ো হয়ে ওর কোলের উপর পড়ে আছে। নিনীত তার ছোট্ট শরীরটা মুখের কাছে তুলে আলতো করে তার গালে একটা চুমু খেল। খুব অনুভূতি প্রবণ হয়ে বলল,"মা! আমার জান! তুমি চোখে দেখো না, তাতে কি হয়েছে? আমার চোখ দিয়ে তুমি পৃথিবী দেখবে। আমি তোমাকে সব রং চেনাবো। তোমার কল্পনায় সব রং থাকবে, সব গল্পরা কল্পনা হবে।"
জেবা আবার ডাকলেন তাকে।
"নিনীত! বাবা।"
নিনীত আস্তে করে চোখ মেলল। চারপাশটা তখনও কেমন ঘোলা মনে হচ্ছিল। চোখ মেলতেই জেবার সোজা সরল মুখটা চোখে পড়লো।
"মা!" নিনীত খুব নিচু গলায় ডাকলো। জেবা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,"বলো বাবা।"
ঘরে তখন জেবা ছাড়াও সুষ্মিতা, বেলী আর আয়তি ছিলো। নিনীতের এই সমস্যাটা বেশ পুরাতন। প্রচণ্ড স্ট্রেসে তার হাত পা অসাড় হয়ে আসে। তামান দুনিয়ার আর কোনো খবর তার থাকে না।
নাসির এক সময় খুব বিচলিত ছিলেন ছেলের এই সমস্যা নিয়ে। এখন আর ভাবেন না। এই ছেলেকে নিয়ে কেন এতো ভাবতে যাবেন? যেই ছেলে বাপ চাচার সামনে গোগ্রাসে মদ গিলতে পারে, ওর জন্য কেন ব্যস্ত হবেন নাসির?
জেবা বললেন,"কি হয়েছে বাবা?"
নিনীত অসহায় গলায় বলল,"মা, ঐ মেয়েটা কেন বার বার আমার চোখের সামনে আসে? ওকে আমার ভালো লাগে না।"
"কে?"
নিনীত দম ফেলে বলল,"নিকিতা।"
"বাবা, ও তোমার মেয়ে। ছোট একটা বাচ্চা। আমরা কতো আদর করি। তোমার বাবা কতো জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যায়। তাও ও শুধু তোমাকে খুঁজে। বাচ্চা মানুষ। কতো চায় তোমাকে!"
"আমার ওদের ভাল্লাগে না। আমি ওদের দেখতে চাই না।"
আয়তি চোয়াল শক্ত করে বলল,"দেখতে না চাইলে তুমি এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও।"
নিনীত মাথা তুললো। অতি শীতল চোখে এক পলক তাকালো আয়তির দিকে। ঠান্ডা স্বরে বলল,"ঠিক আছে। বেরিয়ে যাবো।"
সুষ্মিতা দুই দিকে মাথা নাড়লেন। আয়তিকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,"আহা আয়তি! এখন এসব রাখো।"
"না মা। কেন রাখবো? সে সারাদিন নিজের খেয়াল খুশি মতো চলবে, চলুক। তাকে শাসন করার, বাধা দেওয়ার আমি কেউ না। কিন্তু সে ঐ বাচ্চা দু'টোকে নিয়ে কেন এসব বলবে? ওদের কি দোষ? তারা ইনোসেন্ট। ওদের ভুল কি? এমন একটা লোকের ঘরে ওরা জন্ম নিয়েছে, যে সমান তালে ওদের দূর ছাই করে, অবজ্ঞা করে। এটাই ওদের অন্যায়? নিনীত ভাই, উইথ ডিউ রেসপেক্ট, আমি জানতে চাই, তুমি তোমার এইটুকু বাচ্চা দু'টোকে কেন এতো অবহেলা করো? তোমার বউ মরেছে না কি হয়েছে, এজন্য ওরা কেন জন্মপরিচয়হীন জন্ত জানোয়ারের মতো বড় হবে? তোমার ব্যক্তিগত কাহিনি কেচ্ছা ওদের কে কেন তড়পাবে? হুয়াই? আনসার মি।"
সুষ্মিতা উঠে গিয়ে তার দুইহাত টেনে ধরলেন।
"আয়তি! কি শুরু করলি? ঘরে চল। এসব কেমন কথা?"
নিনীত চুপচাপ বসে আছে। নির্বিকার দু'টো চোখে বেশ শান্ত হয়ে দেখছে আয়তির অস্থির মুখটা। সে কোনো জবাব দিলো না। হালকা স্বরে বলল," আমি তোমাকে জবাব দিতে বাধ্য নই। গেট লস্ট ফ্রম হেয়ার।"
"ইউ গেট লস্ট ফ্রম নিবেদিতা এন্ড নিকিতাস লাইফ। ঐ দু'টো বাচ্চা তোমাকে ডিজার্ভই করে না। তুমি খুবই স্বার্থপর। বাবারা কখনো এমন হয় না।"
আয়তি থামলো। নিজের রাগটা একটু নিয়ন্ত্রণে এনে কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক করে বলল,"স্যরি ফর মাই টোন। স্যরি ফর দ্যি ওয়ে আই স্পোক, বাট দি ওয়ার্ডস স্টে। আমি যা বলেছি, তা বলেছি।"
আয়তি আর দাঁড়ালো না। কথা শেষ হতেই হনহন করে ঝড়ের বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। নিনীত তখনও আগের মতোই শান্ত। জেবা কি বলবেন খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
সুষ্মিতা গাঢ় স্বরে বললেন," লেবু পানি খাবি নিনীত? করে দিবো আমি?"
"না, লাগবে না।"
বেলী স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছেলেটাকে দেখছিলেন। নেহাতই একসময় ছেলেটা ভীষণ মন কেড়েছিল তার। নয়তো তার এসব কাজ কারবার দেখার পর তিনি জীবনেও আসতেন না তার খোঁজ নিতে। বেলী বললেন," এসব বন্ধ করলেও তো পারো নিনীত। নিজের ভালো তো পাগলও বোঝে, তুমি বোঝো না?"
নিনীত ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেললো। পায়ের কাছে থাকা কম্ফোর্টারটা একটানে গায়ের উপর তুলে তিতিবিরক্ত মেজাজে বলল,"হয়েছে। ধন্যবাদ। আমি কারো জ্ঞান চাই না। তোমরা দয়া করে বাতি নিভিয়ে ঘর থেকে বের হও। আমি এখন ঘুমাবো।"
____
আদাবর কলোনি থেকে একটু সামনে রাস্তার উল্টোদিকে একটা এক তালা ভবন আছে। ভবনের পুরোটাই ইয়াজিদ শায়েরান ভাড়া নিয়েছে। যদিও এই টাকা সে পরিশোধ করে না। পরিশোধ করে তার বড় ভাইজান নাসির।
এই এক তালা বাড়িতে একটা কালচারাল সেন্টার খোলা হয়েছে। সেখানে নানারকম ক্যাসেট, বই, বাদ্যযন্ত্র এসব রাখা। নাসির বললেন,"এসব দিয়ে কি উপকার হবে? আল্লাহ খোদার নাম নাই। সারাদিন খালি গান বাজনা।"
ইয়াজিদ মুখ কুঁচকে তার কথা শুনলো। তরল হেসে বলল," ভাইজান! সবাই কি আর আল্লাহ খোদার নাম নেয়? কেউ কেউ থাকে না একটু ফোর টুয়েন্টি?"
"তো? তুমি দায়িত্ব নিয়েছো তাদের আরেকটু উস্কে দেওয়ার?"
"না না ছিহ। আমি তো শুধু পাড়ায় একটা সাংস্কৃতিক সংঘটন খুলতে চাইছি। যেই এলাকায় সংস্কৃতির চর্চা হয় না, ঐ এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকে। জানো না এই কথা?"
নাসির সাহেব পাত্তা দিলেন না। নিরুৎসাহী মুখে বললেন,"কতো টাকা দাবি তোমার?"
"মাসিক পঞ্চাশ হাজার টাকা। কমে পেলাম না বলো? এতো বড় বাড়ি কে আজকাল পঞ্চাশ হাজারে ভাড়া দেয় বলো?"
"যতোসব টাকা নষ্ট।"
নাসির সাহেব চেকবুক বের করে পঞ্চাশ হাজার টাকার একটা চেক লিখে দিলেন তাকে। এরপর প্রত্যেক মাসে সেই টাকা তার একাউন্ট থেকেই ট্রান্সফার হতো। তিনি বিত্তশালী হলেও অহেতুক টাকা খরচা করতেন না। হিসেব বুঝে তারপর অর্থব্যয় করতেন। তবে এই বেলায় তিনি আর লাভ লোকশানের হিসাব টানলেন না। বাচ্চা ছেলে একটা শখ করেছে। টাকা তো আর কম কামাই হয় না। সেখান থেকে পঞ্চাশ হাজার গেলেই বা কি?
ইয়াজিদের বয়স পঁয়ত্রিশের ঘর ছুঁয়েছিল। কিন্তু তার বড় ভাইদের মনে হতো সে একটা ছোট বাচ্চা। একটু নাদান, জীবন নিয়ে উদাসীন, অপরিণত। ভাইজানরা ইয়াজিদকে ভালোবাসতো। সেই ভালোবাসার মোক্ষম সুযোগ নিয়ে ইয়াজিদ ভরপুর হাত খরচ জুগিয়ে নিতো তাদের থেকে। এলাকায় তার যতো ভাই ব্রাদার আছে, সবার চায়ের বিল দিতো সে।
সেদিন আবার সীমান্তর সাথে তার দেখা হলো। সীমান্ত ক্রিকেট ব্যাটটা কাঁধের উপর তুলে তার কালচারাল সেন্টারে এলো। কালচারাল সেন্টারের নাম সংশপ্তক। মোটামুটি মানের একটা ব্যানারে সংশপ্তক লিখে সেটা ভবনের প্রবেশ দ্বারে লাগানো হয়েছে।
ইয়াজিদ তখন চেয়ারে বসে ঘুমে ঢুলছিলো। শাফিকে পাঠিয়েছিল চা নাস্তা আনতে। সে এখনো আসে নি। সীমান্ত গিয়ে তার সামনের চেয়ারটায় বসলো। ইয়াজিদ চোখ খুলে একনজর তাকে দেখে আবার চোখ বুজে বলল,"কেস কি? টাকা লাগবে?"
"নাহ।"
"তাহলে?"
"আয়তির কাটা মাথা লাগবে। শুধু মাথাটাই। নিচ দিয়ে টপটপ করে রক্ত ঝরবে।"
ইয়াজিদ হাসলো।
"আবার ক্যালানি খেয়েছিস নাকি?"
"ক্যালানি? ওর বাপের সাধ্য আছে যে আমাকে ক্যালায়? ও আমাকে অপমান করেছে।"
"কি বলল?"
"আমি নিকি কে কোলে নিয়ে দোল দিচ্ছিলাম। মজা করছিলাম। নিকিও হাসছিলো। অল ইজ ওয়েল। কোথা থেকে ঐ ডাইনিটা এসে আমার কোল থেকে ছোঁ মেরে নিকিকে কেড়ে নিলো। নিয়ে বলল,"খবরদার! তুমি নিকিকে যখন তখন কোলে নিবে না। আমি পুরুষ মানুষদের বিশ্বাস করি না।" কত্তো বড় শয়তান একবার চিন্তা করো। "
ইয়াজিদ চোখ বুজেই ফিচেল হাসলো।
"আরে, জানিসই তো। আয়তি একটু এমনই। নিবি আর নিকির ব্যাপারে একটু বেশিই প্রোটেক্টিভ।"
"হোক গিয়া প্রটেক্টিভ। ওর প্রটেক্টিভ ওয় বাইট্টা খাক। কিন্তু ও আমারে অপমান করলো কেন? আমি বলছি, নিকিরে কোলে নিলে কি হয়? আমি ওর চাচা হই না? সে উল্টা চোখ ঘুরাইয়া আমারে কয়, বাপেরই গ্যারান্টি নাই এই দুনিয়াতে। আর তুমি কোনখানের কোন চাচা যে তোমাকে বিশ্বাস করবো?
মামা! ও আমারে কতো বিশ্রী অপমান করছে দেখলা? ও আমার চরিত্রে থাবা মারসে।"
সীমান্ত ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। ইয়াজিদ হেসে বলল,"আরে ধুর। মন খারাপ করিস না। আয়তি একটু এমনই। কিছু বলিস না। আমরা কেউ ই তো ওকে ঘাটাই না তেমন। নিনীত পর্যন্ত ওকে ক্ষেপায় না। যা বলে, চুপচাপ শুনে নেয়। বলিস না কিছু।"
"বলমু না মানে? আমি এতো বড় অপমান সহ্য করমু? আমিও বলসি, তোর মতো কি আমার রুচিতে সমস্যা? তুই ই না বুড়া বেডা বিয়ে করতে চাস। সারাদিন বুড়া বেডার স্বপ্ন দেখোস, ভার্সিটিতে বুড়া বেডা নিয়া ঘুরোস। এজন্য বয়সের ফারাক বুঝোস না। আমার আবার এসব ইচ্ছা নাই।"
ইয়াজিদ চোখ মেলল। অবাক হয়ে বলল,"এরপর? আয়তি হজম করে নিলো?"
সীমান্ত স্তব্ধ হয়ে বলল,"না।"
"কি বলল?"
"বলল, তিন দিনের মধ্যে প্রমাণ এনে দিতে হবে যে আমি যা বলেছি তা সত্য। নয়তো চার নাম্বার দিন ব্যাগ পোঁচকা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।"
সীমান্ত হতাশায় মাথা নোয়ালো।
"রাগের মাথায় বইলা দিসি। এখন প্রমাণ আনমু কই থেকে? ঐটা যেই ডাইনির ডাইনি। ঠিকই তিনদিন পর আমার গলায় পারা দিয়া ধরবে। খোদাআআ!"
সীমান্ত দুই হাতে মুখ চেপে মাথা নাড়লো। ইয়াজিদ হেসে পকেট থেকে একটা পাঁচশো টাকার নোট বের করে বলল,"যা,মন মতো কিছু কিনে খা। ও তোকে বাড়ি থেকে বের করবে না। আমি বোঝাবো। ও আমার কথা শুনবে।"
_____
নিনীত এইমাত্র বাড়ি ফিরলো। আজ অনেক দিন পরে সে একটু বেরিয়েছিল। বাতি নেভানোর পরেও ঘরের ভেতর বড্ড হাঁসফাঁস লাগছিলো তার। মস্তিষ্ক ফাঁকা হয়ে ছিলো। পছন্দের ওয়াইনে এক চুমুক দেওয়ার পরেও মন বসলো না যখন, তখন গিয়ে সে সিদ্ধান্ত নিলো বাইরে থেকে একটু হেঁটে আসবে।
বাইরে থেকে আসার পর প্রথমেই সে শার্টের সবগুলো বোতাম খুলে ফেলল। কি অসহ্য গরম বাইরে!
এসি ছাড়ার পর সে একটু স্বস্তিতে দম ফেলল। সাইড বক্সের উপর ম্যাকালানের হুইস্কির বোতল রাখা। ভেতরের ধূসর মেরুন বর্ণের তরল বোতলের অর্ধেক জায়গাজুড়ে আছে।
নিনীত এগোলো। এগিয়েই এক টানে বোতলটা হাতে নিলো। মুখ খোলার পর আর গ্লাসে ঢালতে ইচ্ছে হলো না। ঢক ঢক করে কয়েক ঢোক অমনিই গিললো।
"পাপাই!"
নিনীত থামলো। হুইস্কির বোতল ধরে থাকা হাত দু'টো থমকালো কিছু সময়ের জন্য। সে পেছনে তাকাতেই দেখলো গুটি গুটি পায়ে নিকিতা তার দরজায় সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
নিনীত তার দিকে তাকিয়েই মুখ কুঁচকালো। বিড়বিড় করে চাপা স্বরে বলল,"শিট ম্যান!"
আজ সে ভুলে দরজা বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিল। নিকিতা তার দরজা খোলা পেলেই সুড়সুড় করে ঢুকে পড়ে। কি জ্বালা! কি মুসিবত!
নিকিতা খালি পায়ে হাঁটছে। ওর ছোট্ট দু'টো পা এলোমেলো হয়ে থেমে আছে নিনীতের দরজার কাছে। চৌকাঠে হাত রেখে ভেতরে উঁকি দিয়ে সে তাকালো নিনীতের দিকে। যেই না চোখাচোখি হলো, অমনি গাল ভরে হাসলো।
"পাপাই! তুমি তি খাউ? কুক?"
নিনীত নিজের হাতের দিকে তাকালো। থমথমে গলায় বলল,"না। কোক খাই না। তুমি যাও এখান থেকে। গেট আউট।"
নিকিতা শুনলো না সে কথা।
পাপাই পাপাই করে সুর টেনে সে নিজেই থুপ থুপ পায়ে ভেতরে ঢুকলো। নিনীত তাকে আসতে দেখে লাফিয়ে দুই পা পিছিয়ে গেল।
সঙ্গে সঙ্গে একহাত দিয়ে বোতলটা পিঠের আড়াল করে দাঁড়ালো।
নিকিতার চকচকে দু'টো চোখ হাসছে তাকে দেখে। নিনীতের হাত পা ঠান্ডা হতে লাগলো। দ্রুত দুই চোখ বন্ধ করে সে অতি অসহায় কন্ঠে বলল,"খোদা! প্লিজ সামওয়ান সেইভ মি ফ্রম দিস ননসেন্স কিড। একে কেউ সরাও আমার থেকে। আমার সহ্য হচ্ছে না। ও আল্লাহ! ধরে ফেললো তো আমাকে। ইশশশ! মা মা, ও মা। এক্ষুনি এদিকে এসো। দেখো আমার ঘরে এটা কি ঢুকেছে। ইশশ ইশশ!"
চলবে-
[কাল আমি চট্টগ্রাম যাবো। পর্ব দিতে পারবো নাকি জানি না। অর্ধেকের মতো লিখবো আজ রাতে। আপনারা পড়ার পরে একটু মন্তব্য করবেন। যদিও না বললেও অনেক মন্তব্য করেন। সেজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। দোয়া করবেন, যেন সুস্থ ভাবে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে পারি।]