#আম_পাতা_জোড়া_জোড়া -১০
লেখনীতে #মেহরিমা_আফরিন
জেবা অবাক হয়ে তাকালেন মেয়েটির দিকে। মেয়েটি হাসছে তাকে দেখে। মেয়েটার হাসি সুন্দর। এজন্যই বোধহয় কারণে অকারণে হেসে ফেলার একটা স্বভাব আছে তার মধ্যে।
পারমিতা বলল,"কেমন আছেন আন্টি?"
বিকেলের এই শান্ত পরিবেশে, কোনো নোটিশ কিংবা আমন্ত্রণ ছাড়াই মেয়েটিকে এখানে আশা করেন নি জেবা। তবে মেয়েটির সম্পর্কে জেবার একটা ধারণা হয়েছে। সেটা হলো, মেয়েটি আত্মনির্ভরশীল। তার জীবনের সব সিদ্ধান্ত, সব পদক্ষেপ সে নিজের মর্জি মতো ফেলে। আর দশজন মেয়ের মতো কাই কুই করা, লজ্জায় নেতিয়ে পড়ার মতো কোনো বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে নেই। সে আত্মবিশ্বাসী, নিজের সিদ্ধান্তে অনড়।
জেবা মাথা নাড়লেন। আন্তরিক হেসে বললেন,"আরে আপনি? কেমন আছেন?"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি কেমন আছেন?"
"জি, আল্লাহর রহমতে ভালো।"
"আমি এসেছি নিকিতা আর নিবেদিতার সাথে দেখা করতে। ওরা আছে তো বাড়িতে?"
"জি আছে। আপনি এসেছেন জানলে খুব খুশি হবে।"
পারমিতা থামলো। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছোট একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো। তারপর বলল,"আমার আপনার সাথে একটা কথা আছে। ভীষণ জরুরি।"
জেবার দুশ্চিন্তা হতে লাগলো। এই ভদ্রমহিলার কাছে নিকিতার সব রিপোর্ট আছে। কোনো খারাপ সংবাদ দিবেন নাকি? জেবা আঁতকে উঠলেন। কাঁপা স্বরে বললেন," আমার নাতনি ঠিক আছে তো? ওর কোনো কঠিন অসুখ হয়নি তো?"
"এই না, ছি ছি। এমন কিছু না। নিকিতার সব রিপোর্ট ঠিক আছে।"
জেবা হাঁফ ছাড়লেন। নিশ্চিন্ত হয়ে বললেন," যাক, আলহামদুলিল্লাহ।"
পারমিতা বলল,"যেমনটা আমি বলেছিলাম। আমি ব্রোকেন ফ্যামিলি তে বড় হয়েছি। বাবা-মা আলাদা বাসায়।আর এডাল্ট হওয়ার পর আমিও আলাদা বাসায়। সেই সুবাদে আমার জীবনের সব সিদ্ধান্ত আমি নিজেই নিয়েছি। আমি কি পড়বো, কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো, কাকে কি বলবো- সব সিদ্ধান্ত একান্তই আমার। এমনকি আমি বিয়ে করবো কি করবো না সেই সিদ্ধান্তটাও আমারই। এতো দীর্ঘ একটা সময় আমি বিয়ে করি নি, সেটাও আমারই সিদ্ধান্ত ছিলো। কারণ আমার সংসার জিনিসটা খুবই জটিল এবং নাজুক মনে হতো।"
সে একটু থেমে তারপর বলল,"আপনি কি আমার কথায় বিরক্তিবোধ করছেন?"
জেবা দ্রুত দুই দিকে মাথা নাড়লেন।
"জি না। একদমই না। তবে আমার আপনার কথা শুনে খারাপ লাগছে।"
"খারাপ লাগার কিছু নেই। আমি মানিয়ে নিয়েছি নিজেকে। আমার কাছে এখন এই জীবনটাই চমৎকার মনে হয়। তবে একটা কিন্তু আছে। আমি শিশুদের খুব পছন্দ করি। ঐটা আমার দুর্বলতা। আমার জীবনে একটা লম্বা সময় আমি অবিবাহিত হয়ে কাটিয়েছি দুইটা কারণে।
১.আমার মনে হয়েছে সব ছেলে দাম্পত্যের মর্ম বোঝে না।
২.আমার একজন সিঙ্গেল ফাদার, ডিভোর্সড অথবা বিপত্নীক এমন কাউকে প্রয়োজন ছিলো।"
জেবা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন তার তথা। এই জায়গায় আসতেই তিনি দম আটকে নিলেন। না না, তিনি যা ভাবছেন মেয়েটা সেই কথা না বলুক। মেয়েটা ভারি মিষ্টি। জেবা চান না তার আশংকা কে সত্যি করে মেয়েটা উল্টা পাল্টা কিছু বলুক।
পারমিতা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জেবার দিকে তাকালো। তার সে চিরচেনা হাসিটা জেবাকে উপহার দিয়ে গাঢ় স্বরে বলল,"নিনীত সাহেব কে আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। যদি তিনি জীবনকে একটা দ্বিতীয় সুযোগ দিতে চান, তবে আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। তার দু'টো বাচ্চা কখনো কোনোদিন আমার কাছে বিন্দুপরিমাণও অবহেলিত হবে না। সেই ওয়াদা বরাবরই থাকবে আমার পক্ষ থেকে।"
জেবার মাথা ঘোরাতে শুরু করলো। তার রক্তশূন্যতার সমস্যা নেই। কিন্তু ভদ্রমহিলার কথা শুনে তার হাত পা দুর্বল হতে লাগলো, শরীরে রক্ত সঞ্চালন কমে গেল। এই মহিলা এসব কি বলেন? এতো সুন্দর রূপ, এতো চমৎকার যোগ্যতা, এতো মজবুত পারিবারিক অবস্থান থাকতে সে বিয়ে করতে চাইছে জেবার বড় ছেলে নিনীতকে।
পারমিতা কথা শেষ করে জবাবের আশায় তার দিকে তাকালো। জেবা জবাব দিতে পারলেন না। কেমন যেন তুতলিয়ে উঠলেন কথা বলতে গিয়ে। কিছুক্ষণ বাদে নিজেকে সামলে নিয়ে বলহীন কণ্ঠে বললেন,"আপনি বসুন। বসে কথা বলি আমরা।"
*
"আমার ছেলে যে মানুষ হিসেবে জঘন্য,সেটা আমি কখনো বলবো না। বলতে পারেন যে মায়েরা কখনো ছেলেদের দুর্নাম করে না। কিন্তু বিষয়টা এমন না। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমার ছেলে আমাদের পুরো পারিবারিক ব্যবসার দেখাশোনা করেছে, স্ত্রীর প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করেছে, পিতা মাতা হিসেবে আমাদের যত্ন করেছে, নিজের মেয়েদের বুকের সাথে আগলে বড় করেছে। আমাদের আত্মীয় স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া প্রতিবেশী, কেউ কখনো আমার ছেলেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতে দেখেনি। এমনটা বলছি না যে সে কখনোই খায়নি। তবে তার চক্ষুলজ্জা ছিলো, নম্রতা ছিলো, আর বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও ছিলো।
এরপর সিয়াশা মারা গেল একটা এক্সিডেন্টে। ঐ ঘটনার পর আমার ছেলে কেমন যেন উন্মাদ হয়ে গেল। তার কি হয়েছে আমি জানি না, সে কোনোদিন বলেনি আমাকে। সিয়াশা মারা যাওয়ার পর সে প্রচুর ভাঙচুর করলো বাড়িতে এসে, বাচ্চাদের মতো নিজের চুল টানলো, নিজেকে জখম করলো, তারপর দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লো। আমরা এতো ডেকে, এতো মিনতি করেও তাকে সিয়াশার জানাযায় নিতে পারলাম না। ও যায়নি।
প্রায় একদিন পর সে দরজা খুলেছিল। যখন সে বেরিয়ে এলো, তখন আর তার মধ্যে আগের নিনীতের কোনো ছায়া ছিলো না। নিকিতার তখন এক বছর বয়স। খুবই ছোট একটা বাচ্চা। মায়ের বুকের দুধ বাদে অন্য খাবার তেমন খায় না। বাবার কোলে মাথা রেখে ঘুমায়। সিয়াশা মারা যাওয়ার পর নিকিতার সে কি কান্না! যদিও এই বয়সের বাচ্চারা শোক দুঃখ বোঝে না। তবে অবহেলা,অযত্ন ঠিকই বোঝে। সময় মতো খাবার, বাবা মায়ের আদর কোনোকিছু না পেয়ে নিকিতা অসুস্থ হয়ে পড়লো।
নিনীত ওর দুই মেয়ের ব্যাপারে খুব মনোযোগী ছিলো। ওদের অসুখ হলে নিনীত নিজেই হয়রান হয়ে যেত, বেদিশা হয়ে পড়তো। তবে সেই বার আর এমন কিছু হলো না। নিকিতা অসুস্থ হয়ে একেবারে খাটের সাথে মিশে গেল। অথচ ওর বাবা ওকে কোলে তুলেও দেখলো না। নিবেদিতা কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে বসেই জ্ঞান হারালো, অথচ ওর বাবা একবার ফিরেও তাকালো না ওর দিকে।
এরপর থেকে ঝড়ের গতিতে সব পাল্টাতে শুরু করলো। আমার ছেলে, যে কিনা স্বভাবে প্রচণ্ড শান্ত আর ধৈর্যশীল হিসেবে পুরো বাড়ির লোকের কাছে পরিচিত ছিলো, সে ই দিনে দিনে কেমন যেন হয়ে গেল। সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিল। এক ঘরে আটকে রাখতো নিজেকে। বের হলেও বাড়ি থেকে দূরে নির্জন কোনো জায়গায় গিয়ে বসে থাকতো। দু'টো সন্তানের কাউকেই সে ছুঁয়েও দেখতো না।"
জেবা থামলেন। একটু বিরাম নিয়ে বললেন," আপনি আপনার জীবনে খুবই সফল একজন মানুষ। আপনার সব আছে। আপনার জীবন খুব সুন্দর। আমি চাই না আমার ছেলেকে বিয়ে করে আপনি আপনার জীবন নষ্ট করুন। "
পারমিতা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে তার কথা শুনছিলো। ভদ্রমহিলা কথা শেষ হতেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। পারমিতা হিমশীতল কণ্ঠে বলল,"আমি তবুও আপনার ছেলেকে বিয়ে করতে চাই। আমার মনে হয় না সে তার মেয়ে দু'টোকে ঘৃণা করে। আমার মনে হয় উনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। আপনারা উনাকে সাইকিয়াট্রিস্ট দেখিয়ে ছিলেন?"
"হ্যাঁ। একবার দেখিয়েছিলাম। একটা সেশনও কমপ্লিট হয়েছিল। তারপর আর সে যায়নি। তার এসব ভালো লাগে না। আমরা এক বছর ধরে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। ফলাফল শুন্য। আপনি খুব ভালো কিছুর যোগ্য। সেই ভালো কেউ আমার ছেলে না।"
"কিন্তু আমার আপনার ছেলেকেই পছন্দ হয়েছে। উনি যেভাবে নিকিতার মাথায় হাত বুলিয়েছেন, ওটা স্রেফ লোক দেখানো হতে পারে না। আমার মনে হচ্ছে ডেস্টিনিই আমাদের মিলিয়েছে।"
জেবা ড্যাব ড্যাব চোখে মেয়েটার দিকে তাকালেন।
"আপনার বয়স তো কম না। তবুও এমন বাচ্চা মেয়েদের মতো কথা বলছেন কেন? এসব ভিত্তিহীন কথা। বিয়ের পর আমার ছেলে দু'টো সাধারণ কথাও বলবে না আপনার সাথে। এর চেয়েও বড় কথা, আমার ছেলে বিয়েই করবে না আপনাকে।"
"আর যদি বিয়ে করে?"
ঠোঁটে হাসি চেপে প্রশ্ন করলো পারমিতা।
জেবা বিবশ কণ্ঠে আক্ষেপের সুর টানলেন। ঝিমিয়ে গিয়ে বললেন," তবে আপনার জন্য আমার আফসোস হবে। আপনি বুদ্ধিমতি। আরেকটু ভেবে দেখুন।"
"আমি বুদ্ধিমতি নই। ডাক্তারির মোটা মোটা বই গিলেছি মানেই যে আমি বুদ্ধিমতি, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। এই শহরের সবচেয়ে নির্বোধ দশটি মেয়ের তালিকা করলে আমিও সেখানে থাকবো।"
পারমিতা শব্দ করে হাসলো। জেবা দ্যুতিহীন চোখে তাকিয়ে রইলেন তার দিকে।
"আপনি আরেকটু ভাবুন।"
"ভাবাভাবির পাট চুকিয়ে এসেছি ক্লিনিকেই। আপনার কথা শুনে বিয়ের আগ্রহ আরো বেড়ে গেল। ডাক্তারি পড়ার সুবাদেই বলুন, কিংবা হাজার খানেক রোগীর সাথে ডিল করার অভিজ্ঞতা থেকেই বলুন, আমি কিছুটা হলেও হিউম্যান সাইকোলজি বুঝি। আপনার ছেলের সমস্যাটা আমি বুঝতে পারছি।"
"সমস্যা বুঝতে পারলেই যে সমাধান খুঁজে পাবেন, এমন তো না।"
"সমাধানের কথা ভাবছিই না। ভাবছি শুধু নিবেদিতা আর নিকিতার কথা। আমি জাস্ট ঐ দু'জনকে চাই। আপনার ছেলেকে আমি এপ্রোচ করবো। যদি সে রাজি হয়, তবে আপনার কোনো আপত্তি নেই তো?"
"আশ্চর্য! আমার কেন আপত্তি থাকবে? কিন্তু আমার পরামর্শ থাকবে, আপনি এই ভুল করবেন না। জীবন কোনো ছেলে খেলা না।"
পারমিতা হাসলো। ভ্যানিটি ব্যাগটা হাতে নিয়ে ভদ্রমহিলাকে সালাম জানিয়ে নিশ্চিন্তে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। এখন সে সোজা যাবে নিজের পছন্দের ক্যাফেটেরিয়া তে। গিয়ে এক কাপ কফি খাবে। তারপর কানে হেডফোন গুজে টেইলর সুইফটের বিখ্যাত গান 'লাভার' শুনতে শুনতে কফির কাপে চুমুক দিবে। হাহাহা, এবারের সোলো ডেটে একটা নতুন সংযোজনও এসেছে। এবার সে ক্যাফেটেরিয়ার ফাঁকা চেয়ারে বসে জনাব নিনীত কে কল্পনা করবে। নিকিতার বাবা, যার বুকে মাথা রেখে নিকিতা হিহি করে হাসছিলো। যে নিকির মাথার চুলগুলো গুছিয়ে দিয়েছিল যত্ন করে। পারমিতার ঠিক তাকেই প্রয়োজন।
_____
সন্ধ্যা ঘনিয়েছে। পূর্বাহ্ণ বাড়ির সামনের রাস্তায় সারিবদ্ধ ভাবে বসানো ল্যাম্পপোস্ট থেকে হলদে বাতি ছড়াচ্ছে চারপাশে। রাস্তার পরিষ্কার পিচ আলোর প্রতিফলনে ঝকঝক করছে।
বাড়ির হল ঘরের সবচেয়ে পুরাতন সোফাতে হাঁটু মুড়িয়ে বসে আছে আহিল। মাগরিবের নামাজ শেষ করে সবাই এখানেই বসে চা নাস্তার জন্য।
আজ এই আড্ডায় ইয়াজিদকেও পাওয়া গেল। মেজাজ বড় ফুরফরা তার। আহিলের কানে খবরটা পৌঁছে দিয়েই শান্তিতে আড়মোড়া ভাঙলো। হাসতে হাসতে বলল," কি ছিঁড়লি এতো জিম টিম করে? সেই তো নিনীতই মাঠ কাঁপাচ্ছে।"
আহিল কৌতুক শুনেও হাসলো না। মুখটাকে ভীষণ রকম কুঁচকে নিয়ে নাক তুললো। বিক্ষিপ্ত মেজাজে বলল," নিনীত ভাই ইজ ঠু মাচ।"
সীমান্ত ক্রিকেট ব্যাটটা কাঁধে তুলে ঘরে ঢুকলো। ঢুকেই দরজার কাছের সোফায় হাত পা ছড়িয়ে বসে ক্লান্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,"আবার কি হইসে? নিনীত ভাই আবার কি করসে?"
আহিল নিঃশ্বাস সামলে সোজা হয়ে বসলো। পিঠের পেছনে থাকা কুশনটা কোলের উপর রেখে পায়ের উপর পা তুললো। তিতিবিরক্ত মেজাজে বলল," আমি যখন ক্লাস ফোর ফাইভে পড়ি, তখন দেখতাম বাড়িতে আয়তির বান্ধবীরা দল বেঁধে আসতো। এসেই নিনীত ভাইয়ের দরজার কাছে গিয়ে উঁকি দিতো, মৌমাছির মতো ভোঁ ভোঁ করতো। নিনীত ভাই যখন ঘর থেকে বের হতো, একেকজন ড্যাব ড্যাব করে তাকাতো তার দিকে। তখন ছোট ছিলাম। বুঝতেই পারতাম না যে আয়তির বান্ধবী সব আসলে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে না, বরং নিনীত ভাইকে দেখবে বলেই ভেড়ার পালের মতো দল জুটিয়ে বাড়িতে আসে। এরপর আরেকটু বড় হলাম। দেখলাম পাড়ার মেয়েদেরও নিনীত ভাইয়ের প্রতি খুব টান। নিনীত ভাইয়ের কাছে ফিজিক্স বুঝে, ম্যাথ বুঝে। মানে নাটকের শেষ নাই।
আরেকটু বড় হলাম। দেখলাম, ইশান ভাইয়ের বান্ধবীরাও নিনীত নিনীত করে হেদিয়ে মরে। আমার অরিয়েন্টেশনে নিনীত ভাই গেল। আমার ব্যাচমেট সব হুড়মুড় করে পিছলে পড়লো তার উপর। দাঁতে দাঁত চেপে আমি ওটাও সহ্য করে নিলাম।
এরপর নিনীত ভাই বিয়ে করলো। তারপর ইশান ভাই।।এবার তো নিনীত ভাইয়ের মাঠ ছাড়া দরকার। কিন্তু ভাই একটা কঠিন জিনিস। ইশান ভাইয়ের শালি থেকে শুরু করে কচি কাচা সব নিনীত ভাই বলতে অজ্ঞান। হোয়াটস রং উইথ দ্যাম? একটা বিবাহিত, বাচ্চার বাপ কে তারা পছন্দ করছে। যেখানে আমার মতো অবিবাহিত একজনও উপস্থিত ছিলো। এসব মানা যায়?
যাক, তবুও মানলাম। সহ্য করলাম।
এরপর তো নিকি হলো, জীবনে আরো কতো পালাবদল হলো। এরপর নিনীত ভাইয়ের বয়স হলো সাইত্রিশ। জোয়ানও না, বুড়াও না। এবার তো তার মাঠ ছাড়া উচিত আমাদের জন্য। কিন্তু না। এখনো সে ব্যাট বল নিয়ে বসে আছে দিব্যি। আই কান্ট বিলিভ দিস, যে ঐ ডাক্তার মেয়েটা সব ফেলে নিনীত ভাইকে পছন্দ করেছে। হোয়াই ম্যান? এই নিনীত ভাইয়ের ক্রেজ আর কতো দিন চলবে? এবার তো আমাদের কে একটু সুযোগ দিক? আর কতো খেলবে? এবার তো অন্তত মাঠ ছাড়ুক।"
_____
নর্থএন্ডের একেবারে পশ্চিমের চেয়ারে বসেই হাত ঘড়িতে সময় দেখলো সে। পাশে স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাস। নিচ দিয়ে তাকালেই ধানমন্ডির চওড়া রাস্তা দেখা যায়। এখন সময় বিকেল পাঁচটা পঞ্চাশ। নিনীত গম্ভীর মুখে বসে আছে কফি হাউজের চেয়ারে। মুখজুড়ে তার সামান্য বিরক্তির রেখা।
সে আজ এখানে এসেছে অচেনা অপরিচিত একটি মেয়ের সাথে দেখা করতে। যেই মেয়েটি বিগত এক সপ্তাহ ধরে কয়েকবার ফোন করেছে তাকে।
নিনীত প্রথম দুইবার কল তোলেনি। অপরিচিত নম্বর সে এড়িয়েই যায় বরাবর। সে আর ব্যবসার দায়িত্ব সামলাচ্ছে না। রোজ রোজ ব্যবসা সংক্রান্ত ফোনকল তার ভালো লাগে না। এদের সবকিছু ব্যাখ্যা করতেও মন চায় না।
তবে তৃতীয়বার সে কল ধরলো। রাত দেড়টায় আসা ফোনকল অহেতুক হবে না। হয়তো সত্যিই কোনো প্রয়োজন।
সে আশা করেছিল ফোনের অপর প্রান্তে কোনো গম্ভীর পুরুষালি স্বর শুনতে পাবে। কিন্তু অন্য পাশ থেকে ভেসে এলো অতি মোলায়েম এক নারীকণ্ঠ।
ছন্দময় এক সুরে কণ্ঠটা বাজলো তার কানের কাছে। ভদ্রমহিলা মিহি সুরে বললেন," আসসালামু আলাইকুম। আপনি কি নিনীত সাহেব বলছেন?"
নিনীত ভ্রুকুটি করলো। কান থেকে ফোন নামিয়ে আরেকবার নম্বরটার দিকে চোখ বুলিয়ে বলল,"জি আমিই নিনীত। আপনি কে?"
"আপনি আমাকে চিনবেন না। আমার নাম পারমিতা। আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই।"
নিনীত ভড়কে গেল। দেয়াল ঘড়িতে সময় দেখে আরেকবার নম্বরটায় চোখ বুলিয়ে বলল," আমি নিনীত হলেও আপনি বোধহয় আমাকে ফোন দেন নি। রং নম্বর।"
"আমি আপনাকেই ফোন দিয়েছি। আপনার নাম নিনীত। আপনার বড় মেয়ের নাম নিবেদিতা। আপনার ছোট মেয়ের নাম নিকিতা। কি? হয়েছে?"
নিনীত চোয়াল শক্ত করলো। ঠান্ডা স্বরে বলল,"জি।"
"আমার আপনার সাথে খুব জরুরি কথা আছে। "
"কিন্তু আমার আপনার সাথে কোনো কথা নেই।"
নিনীত সাথে সাথে ফোন কেটে দিলো। রাত বিরাতের উটকো ঝামেলা। ঘড়ির কাঁটা তখন চল্লিশের ঘরে। নিনীত বাতি নিভিয়ে বারান্দায় চলে এলো। ভদ্রমহিলা আর সারারাত ফোন দেয় নি। দিয়েছিল পরের দিন সন্ধ্যায়। দিয়ে বলল,তার কথাটা খুব জরুরি। নিনীতকে অবশ্যই শুনতে হবে।
নিনীত শুনে নি তার কথা। কয়েক মিনিট নিঃশব্দে ফোন ধরে তারপর চট করে কেটে দিয়েছে। এই মহিলার মতিগতি এখনো বোঝা যাচ্ছে না। একবার ব্লক করতে গিয়েও শেষে কি ভেবে যেন আর ব্লক করে নি।
তৃতীয়দিন আবার ভদ্রমহিলা ফোন দিলো। দিয়েই কঠিন স্বরে বলল,"আপনি আমার কল কেটেছেন কোন সাহসে? আপনার সাথে আমার মশকরার সম্পর্ক? কয়বার বলেছি যে কথাটা খুব জরুরি?"
নিনীত ঠান্ডা গলায় বলল,"আপনাকে আমি চিনি না। আপনার সাথে আমার কিসের কথা?"
"আপনি আমাকে চিনেন না, তার মানে তো এই না যে আমিও আপনাকে চিনি না। আর আপনি যদি কথা না শোনেন, তাহলে চিনবেন কেমন করে? আমি ব্যক্তিজীবনে খুব ব্যস্ত মানুষ। আপনার চেয়ে অন্তত কয়েক গুণ বেশি। আমি যখন আমার ব্যস্ততা এক পাশে রেখে কনট্যাক্ট করছি, তার মানে সত্যিই আমার প্রয়োজন আছে।"
নিনীতের রাগ ধরে গেল। ঐ রাগ নিয়ে সে ভদ্রমহিলার নম্বরটাই ব্লক করে দিলো।
এর দুই দিন পর আরেকটা নম্বর থেকে ফোন এলো তার কাছে। এবারও নিনীত এড়িয়ে গেল শুরুতে। শেষ গিয়ে কি ভেবে যেন ধরলো। সে আশা করেছিল, এবারও একটা কণ্ঠ দুঃখে কাতর হয়ে মিন মিন করে বলবে,"আপনি আমায় ব্লক করেছেন? কিভাবে পারলেন এটা করতে? কথাটা তো অন্তত শুনবেন।"
কিন্তু না। এবার আর কেউ মিন মিন করে কিছু বললো না। রীতিমতো চেঁচিয়ে উঠে বলল," হাউ ডেয়ার ইউ! আপনার সাহস কি করে হয় আমাকে ব্লক করার? আমি আপনাকে একটা জরুরি কথার জন্য রিচ আউট করতে চাইছি। আপনি কি আমার সময়ের মূল্য বুঝতে পারছেন না?"
নিনীত চুপ হয়ে গেল। অন্যপাশের ভদ্রমহিলা হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলেন,"আনসার মি। মুখ বন্ধ করে নাটক করবেন না। আমার আরো অন্য কাজ আছে।"
নিনীত থতমত খেয়ে গেল। মহিলা রীতিমতো ধমকাচ্ছে তাকে। সে শেষ কবে এমন ধমক খেয়েছিল মনে করতে পারলো না। এক মুহূর্ত স্থির দাঁড়িয়ে, ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেলে জবাব দিলো,"ওকে, কুল ডাউন। আপনি কালকে ফ্রি? আমাকে এড্রেস মেইল করুন। আই উইল রিচ ইউ আউট।"
ভদ্রমহিলা নর্থএন্ডের লোকেশন পাঠিয়েছেন। বলেছিলেন পাঁচটা ত্রিশের আশেপাশে কোনো একটা সময়ে আসবেন। তিনি পেশায় ডাক্তার। তার রোগী দেখতে সময় লাগে।
নিনীত ছয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলা। ভদ্রমহিলা আসেনি তখনো। শেষে অধৈর্য হয়ে উঠে দাঁড়াতেই দেখলো ক্যাফের দরজার ঠেলে কেউ একজন ভেতরে আসছে। খুব ব্যস্ত আর বিক্ষিপ্ত তার পদক্ষেপ। সে এসেছে দৌড়ে দৌড়ে। ক্যাফেতে ঢুকেই সে ব্যস্ত চোখে তাকালো এদিক সেদিক।
নিনীত মনোযোগ দিয়ে তাকালো ভদ্রমহিলার মুখের দিকে। আগে কখনো দেখা হয়েছিল কি? মনে পড়ছে না।
ভদ্রমহিলার চোখ দু'টো ক্লান্ত। হয়তো রোগী দেখা শেষ করেই ছুটতে ছুটতে এখানে এসেছেন। নিনীতের তাকে চিনতে সময় লাগলেও সে চিনে গেল দূর থেকেই।
সাথে সাথেই চওড়া হাসি দখল করে নিলো তার ঠোঁট। সেই হাসি ধরেই পারমিতা সামনে এগিয়ে এলো। তার শরীরে এখনো সকালের সেই এপ্রোন। খুলবে ভেবেও শেষে আর খুলেনি।
নিনীত চেয়ার টেনে বসলো। পারমিতা তার সামনের চেয়ারটা টেনে বলল,"স্যরি স্যরি। আমার আজকে প্রচুর পেশেন্ট ছিলো।"
নিনীত ভারি স্বরে বলল,"ইটস ওকে।"
পারমিতা বসলো হাল ছেড়ে। রোগী দেখা শেষ করে ঘড়িতে সময় দেখতেই চোখ কপালে উঠেছিল তার। এতো দেরি! এরপর একটা ক্যাব বুক করে সে ঝড়ের বেগে ছুটে এসেছে এখানে।
নিনীত খেয়াল করলো, ভদ্রমহিলা হাঁপাচ্ছেন। তার চুলগুলো এলোমেলো। কপালের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম। পারমিতা টেবিলের উপর থেকে একটা টিস্যু নিয়ে ঘাম মুছলো। বললো,"বলুন কি খাবেন? আগে অর্ডার দেই। তারপর কথা বলি।"
"আমি কিছু খাবো না। আপনার জরুরি কথা বলুন।"
"তা কি করে হয়? কিছু একটা নিন। আচ্ছা কফিই খান শুধু।"
পারমিতা কফির অর্ডার দিলো। তারপর হাত দু'টো টেবিলের উপর তুলে একসাথে রেখে বলল," এবার বলুন, কথা কি সোজাসাপ্টা বলবো, নাকি ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে?"
"ব্যস্ত মানুষরা ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে কথা বলে না। সোজাসাপ্টা বললেই খুশি হবো।"
"আচ্ছা বলি তাহলে।"
পারমিতা বড় করে একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল," আমি আপনার মেয়ে দু'টোকে দত্তক নিতে চাই।"
বলেই সে সরাসরি তাকালো নিনীতের দিকে। নিনীত কয়েক সেকেন্ড সময় নিলো কথাটা বুঝতে। তারপরই তার কপাল বেঁকে গেল। অবিশ্বাস্য চোখে সামনে বসে থাকা মেয়েটাকে এক পলক দেখলো সে।
"কিহ? আপনি পাগল? কি বলছেন এসব?"
"পাগলের কি আছে? আমি যতদূর খবর নিয়েছি, আপনি আপনার মেয়েদের প্রতি খুবই বিরক্ত। আপনি ওদের পছন্দ করেন না। অথচ আমার খুব শখ একটা সন্তানের। আল্লাহ আমায় দেয় নি। আমি যদি তাদের নিজের সন্তানের মতো বড় করি, তাহলে আপনার কি সমস্যা?"
"আমার সমস্যা এটাই যে ওরা আমার। " নিনীত রাগ চেপে যথেষ্ট শান্ত স্বরে বলল," দ্যে আর মাই চিলড্রেন। আমার বাচ্চা তারা। আমি আমার বাচ্চাদের আরেকজনের কাছে কেন দিবো?"
"কারণ আপনার তাদের প্রতি কোনো বিশেষ টান নেই।"
"না থাকুক। তবুও এরা আমার। মেরে কেটে দুই ভাগ করলেও এরা আমার।"
"না। বাবা বলেই আপনি এদের সাথে যা খুশি করতে পারেন না। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন।"
"আপনার মানবাধিকার আপনি আপনার কাছেই রাখুন। আমার জীবন নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।"
"আপনি তাহলে আপনার বাচ্চা দু'টো আমাকে দিবেন না?"
নিনীত চোয়াল শক্ত করে তার দিকে তাকালো। এক থাবা দিয়ে হাত দু'টো টেবিলের উপর রেখে দাঁত কিড়মিড় করে বলল," কখনো না। মরে গেলেও না। বেঁচে থাকতেও না। ওরা আমার রক্ত। ওরা আমার অংশ। আপনি এদের নিয়ে আমার বাড়ির চৌকাঠ পার করে দেখুন শুধু।"
"কি করবেন?"
নিনীত বরফের মতোর শীতল কণ্ঠে বলল,"আমি আপনাকে খুন করবো। ওরা আমার। ওরা ঐ বাড়ির মেয়ে। বেজন্মা, এতিম, রাস্তার পাশের মেয়ে না ওরা, যে মন চাইলো আর তুলে নিবেন।"
"এক্সেক্টলি। এই কথা আপনি বিশ্বাস করেন তো? যে ওরা রাস্তার পাশের মেয়ে না?"
নিনীত গাঢ় স্বরে বলল,"আমার বিশ্বাস নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। আপনি আর ভবিষ্যতে এই দুঃসাহস দেখাবেন না।"
"আপনি তাহলে আপনার মেয়েদের দিচ্ছেন না?"
"না। নো। নেভার।"
"তাহলে প্ল্যান বি তে আসুন।"
"সেটা কি?"
পারমিতা নির্দ্বিধায় বলল,"আপনি আমাকে বিয়ে করুন।"
ছোট্ট টেবিলটার মধ্যে একটা বিস্ফোরণ ঘটে গেল। নিনীত হতভম্ব হয়ে তাকালো ভদ্রমহিলার দিকে। তার দুই চোখে তীব্র অবিশ্বাস। পারমিতা বেশ শান্ত। শান্ত হয়েই সে তাকালো নিনীতের ভাষাহীন মুখটার দিকে।
নিনীত সত্যিই বাকরুদ্ধ হলো কিছু সময়ের জন্য। যখনই সম্বিত ফিরে পেল, তখনই এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে দুই হাত চেপে ধরলো টেবিলের সাথে। ঝুঁকে এসে তীব্র স্বরে বলল,"হোয়াট? কি বললেন আপনি?"
"বলেছি, আমাকে বিয়ে করতে। উইল ইউ ম্যারি মি?"
"আপনি পাগল?"
"না, আমি পাগল না। আমি শুধু যেকোনো উপায়ে আপনার বাচ্চা দু'টোকে চাইছি।"
নিনীত শক্ত গলায় বলল," আমি কখনো বিয়ে করবো না।"
"ইয়াহ আই নৌ। আপনি বিয়ে করবেন না। আমিও আপনাকে বিয়ে করতে চাই না। বাট দ্যা ফ্যাক্ট ইজ, আমাদের সোসাইটি তে বিয়ে ছাড়া মানুষ এক ঘরে থাকতে পারে না। থাকলেও সেটা সর্বজনে গ্রহণযোগ্য না। আমি কোনো দাম্পত্য কিংবা প্রেম ভালোবাসার প্রত্যাশায় আপনাকে বিয়ে করতে চাই না।
আমাদের বিয়েটা হবে একটা চুক্তির মতো। অলিখিত চুক্তি। আপনি বিয়ে করবেন জাস্ট দায় এড়াতে, আপনার মেয়েদের একজন মা এনে দিতে। আর আমি বিয়ে করবো আপনার বাচ্চা দু'টোকে নিজের করে পেতে। আমাদের মধ্যে কোনোরকম সম্পর্ক, কোনোরকম দায়িত্ব, কোনোরকম বোঝাপড়া কিছুই থাকবে না। আপনি যেভাবে জীবনযাপন করতে চান, ইউ ক্যান। আমি কিছুই বলবো না। সব আগের মতোই থাকবে, জাস্ট উই উইল গেট ম্যারিড টু মেইক ইট হালাল এন্ড এক্সেপ্টেবল।"
"আপনি পাগল।" নিনীত তরল স্বরে বলল," আপনি কি বলছেন নিজেও জানেন না।"
"আমি সব জানি। আমি জানি, আপনি সেকেন্ড টাইম বিয়ে করতে চান না। আর আমি সংসার করতে চাই না। একমাত্র আপনিই পারবেন আমাকে বিয়ে, দাম্পত্য, সংসার, স্যাটেলমেন্ট, এসব টার্মস থেকে বাঁচিয়ে মা হওয়ার সুযোগ করে দিতে। আমরা বিয়ে করবো জাস্ট সামাজিক ভাবে একটা বৈধতা পাওয়ার জন্য। বিয়ের পর আপনি আপনার মতো, আমি আমার মতো। আমাদের মধ্যে এর বাইরে কোনো লেনদেন নেই। নট মোরাল, এন্ড ড্যাফিনেটলি নট ফিজিক্যাল।"
পারমিতা এক নিঃশ্বাসে সবটা বলল। নিনীত এখনো গোল গোল চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সে থামতেই নিনীত মাথা নাড়লো। ঠোঁট নেড়ে বলল," আপনি পাগল। পুরা পাগল।"
বলা শেষ করেই সে আর বসলো না। সোজা হাঁটতে শুরু করলো সামনে।
পারমিতা তড়াক করে উঠে দাঁড়ালো। ভ্যানিটি ব্যাগ আর শাড়ির কুচি সামলে সেও ছুটলো তার পিছু পিছু।
"আরে আপনি শুনেন তো আমার কথা।
মিস্টার নিনীত।
এক্সকিউজ মি!"
নিনীত কিছুদূর হেঁটে থামলো। পিঠ ঘুরিয়ে অত্যন্ত শীতল চোখে তাকালো পারমিতার দিকে।
পারমিতা পায়ের গতি কমালো। ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে গেল নিনীতের কাছে।
"আপনি শুনুন। নিকিতা আমার....."
"ডাক্তার ম্যাডাম!"
নিনীত ঠান্ডা স্বরে ডাকলো তাকে। পারমিতা ওখানেই থেমে গেল। নিনীত খিটখিটে মেজাজটা দাঁতের পাটিতে চেপে হিমশীতল কণ্ঠে বলল,"ইউ আর গেটিং ইনটু ম্যানস টয়লেট।"
চমকে গিয়ে উপরে তাকালো পারমিতা। হ্যাঁ হ্যাঁ। উপরে বড় করে লিখা-only for men.
হাঁটতে হাঁটতে সে এখানেও চলে এসেছে।
জিভ কেটে দ্রুত দুই পা পিছিয়ে গেল পারু। টয়লেটের সীমানা থেকে বেরিয়ে বোকা হেসে বলল," স্যরি স্যরি। একদমই খেয়াল করি নি। তো যেটা বলছিলাম....."
নিনীত আর সুযোগ দিলো না তাকে। এগিয়ে এসে ধাম করে পারমিতার মুখের উপর দরজাটা বন্ধ করে দিলো। থমথমে গলায় বলল," আর কিছু বলতে হবে না। জাস্ট গেট আউট।"
পারমিতা দাঁড়িয়ে আছে দরজার অপরপ্রান্তে। চোখে মুখে তার মৃদু কাঠিন্য ভাব।
"আপনি তার মানে বিয়ে করবেন না আমাকে?"
দরজার অন্য পাশ থেকে ভেসে এলো গম্ভীর এক পুরুষালি কণ্ঠ।
"নো। নেভার। আমার মেয়েদের নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। জাস্ট ওয়েল ইউর ওউন মেশিন।"
চলবে-
পরবর্তী পর্ব পরশুদিন দুপুরে আসবে ইনশাআল্লাহ।