#আম_পাতা_জোড়া_জোড়া -২১
লেখনীতে #মেহরিমা_আফরিন
দারুস সালাম রোডের পাশ দিয়ে একটা চিকন গলি আছে। তার সামনে একটা তিন তালা বাড়ি। বাড়ির সামনে একটু ফাঁকা জায়গা। রাস্তাটা বেশ চাপা।
অরুনা দাঁড়িয়ে আছে গলির ঐ রাস্তায়। তার হাতে একটা কাগজ। কাগজ মানে চিঠি। এই চিঠিটা তাকে ঠিক মানুষের হাতে তুলে দিতে হবে।
ঘামছিল অরুনা। এই কাজ আগেও দুইবার করেছে। কিন্তু প্রতিবারই হাত দু'টো কাঁপে, শরীর তটস্থ হয় ভয়ে।
আজকের দিনটা অন্যদিনের চেয়ে বেশ উজ্জ্বল। কোচিং শেষ করে বের হওয়ার পরেও অরু দেখল, মাথার উপর সূর্যের তেজ বেশ প্রখর। সে এক হাতে ব্যাগ চেপে মাথা নামিয়ে হেঁটে এলো গলির মুখে।
এখানে মানুষের আনাগোনা কম। হকারদের ভ্যানও চাপা রাস্তা ঠেলে ভেতরে যেতে পারে না। অরু গিয়ে জায়গা মতো দাঁড়াল।
সে অপেক্ষা করছে তার কাছাকাছি বয়সী একটি মেয়ের। যদিও বয়সে মেয়েটি তার চেয়ে দুই বছরের বড়। সে এই বছর অনার্সে ভর্তি হয়েছে। শনি, সোম, বুধ একটা টিউশন করায়। টিউশন শেষ করে এই রাস্তা ধরেই হেঁটে যায়। অরুনা তাকে একটি চিঠি দিবে আজ।
যদি এর আগে আরো দুইবার চিঠি দিয়েছিল তাকে। আজ সহ তিনবার হবে।
তবে চিঠিটা শেষ পর্যন্ত অরু দিতে পারে নি তাকে। বিকেলের সুর্যটা পুরোপুরি পশ্চিমে হেলে পড়ার আগেই কেউ একজন তার সামনে এসে দাঁড়াল। তাকে দেখে অরুনার পুরো শরীর জমে গেল ভয়ে। স্তব্ধ হয়ে সে তাকাল মাথা তুলে। দেখল, আয়তি কঠিন চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
এই পথে আয়তি এলো কেমন করে?
অরুনা ফাঁকা ঢোক গিলল। ভীত স্বরে বলল,"আপা, তুমি?"
"তুই এখানে কি করছিস অরুনা?"
আয়তি ভ্রু কুঁচকাল। চোখের দৃষ্টি আরো বেশি প্রখর হলো। অরুনা থতমত খেয়ে মাথক নাড়ল। একটু তুতলিয়ে বলল,"ক...কই। কিছু না তো।"
"অরুনা!"
বড্ড থমথমে আর গম্ভীর স্বর। অরুনা আর মিথ্যা বলার সাহস পেল না। কেমন যে মিইয়ে গেল বিড়াল ছানার মতো। আয়তি আবার বলল,"কি করতে এখানে এসেছো অরুনা? সত্যি করে বলো।"
"এক...একটা চিঠি দিতে এসেছি।"
অরুনার গলা দিয়ে আর স্বর বেরুলো না। আয়তি ক্ষুদ্ধ হয়ে খানিকটা চেঁচিয়ে উঠে বলল,"কাকে?"
"একটা মেয়েকে।"
"কোন মেয়ে?"
অরুনা আতংকিত মুখে বলল,"আমি জানি না।"
"অজানা মেয়েকে চিঠি দিচ্ছ?"
"স..সীমান্ত ভাই দি--তে বলল।"
অরুনা আবার ঢোক গিলল।
আয়তির চোখ জোড়া সতর্ক হলো এবার। মুখের উপর থেকে গাম্ভীর্যের পরত সরে গেল। সেখানে এসে জুড়ে বসল চাপা রাগ। দাঁতের পাটি এক করে বেশ কর্কশ গলায় বলল,"সীমান্ত চিঠি লিখে?"
"হু।"
"দেখি দাও তো।"
অরুনা গুটিয়ে গেল আরেকটু। ভাসা ভাসা চোখে বোকার মতো তাকাল আয়তির দিকে। চিঠি একজন মানুষের ব্যক্তিগত জিনিস। সে নিজেই কখনো ভাইজানের চিঠি পড়ে দেখেনি। এমন করে কারো ব্যক্তিগত জিনিস চাওয়া কি উচিত?
অরুনা জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে থাকে আয়তির কঠিন মুখটার দিকে। আয়তি আবার তাড়া দিল তাকে,"কি হয়েছে? কানে যাচ্ছে না কথা? দাও, চিঠিটা আমাকে দাও অরু।"
অরুনা আর শব্দ করল না। নীরবে মাথা নামিয়ে ব্যাগের প্রথম পকেট থেকে ভাঁজ করা কাগজটা বের করে আয়তির হাতে তুলে দিল।
ছোঁ মেরে তার থেকে কাগজটা নিল আয়তি। তারপর ঠান্ডা স্বরে বলল,"বাড়ি যাও অরু। তোমাকে কোচিংয়ে পাঠানো হয় পড়াশোনা করার জন্য। কবুতর হয়ে চিঠি আদান প্রদান করার জন্য না।"
অরুনা বাধ্য মেয়ের মতো সরে গেল সেখান থেকে।
সে চলে যেতেই মস্ত এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে আয়তি চিঠিটা খুলল,
"প্রিয় জ্যোতি,
তোমার জীবন কেমন যাচ্ছে? কেমন আছো তুমি? পড়াশোনার কি খবর? তুমি নাকি এই মাস থেকে নতুন আরেকটা টিউশন নিয়েছ শুনলাম? শরীরের উপর এতো ধকল নিয়ে টিউশন করানোর কি দরকার?
তোমাকে কিছু কথা বলার ছিল। আগের দু'টো চিঠিতে বলার সাহস পাই নি। আজ বলব। তার আগে বলি নিজের ব্যাপারে। আমি বিসিএসের জন্য পড়াশোনা করছি। জানোই তো মানুষের বাড়িতে আশ্রিত থাকি আমি। তাই ওসব নিয়ে খুব ভাবতে হয় আমার। পড়াশোনা করছি মন দিয়ে। স্নাতক তো সেই কবেই শেষ। আশা করছি খুব দ্রুত একটা ব্যবস্থা করে নিব নিজের। চাকরি করে আম্মা আর অরুনার একটা গতি করব।
তো যা বলতাম তোমায়। তোমার আর আমার দু'জনের জীবনই বড্ড সংগ্রামের। তুমি অসুস্থ বাবার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছ, আর আমি পুরো জীবন নিয়েই হিমশিম খাচ্ছি। এই টানাপোড়েনের জীবনে তোমার সান্নিধ্য পেলে মন্দ হতো না। বুঝতে পারছ আশা করি। এই নিয়ে তোমার মত কি জানাবে।
ইতি,
সীমান্ত হাবিব
আয়তি পড়ল চিঠিটা। চিঠি শেষ হতে হতে চোখ দিয়ে আগুনের ফুলকি ঝরতে লাগল তার। রাগে, জেদে তার মাথার তালু জ্বলে যাচ্ছিল। এতো বড় মিথ্যুক! সে নাকি বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেয়ে পটাতে হবে, তাই বলে এতো মিথ্যা বলবে?
আয়তি আরেকবার পড়ল চিঠিটা। খুটিয়ে খুটিয়ে পড়ল। ভেতরটা তার শিকার হাতে পাওয়া বাঘের মতো গর্জন করে উঠল। আয়তি রাঙা চোখে ঐ কাগজটার দিকে তাকিয়ে সেটাকে শত শত টুকরায় ছিঁড়ে ফেলল।
____
নিনীত বলল,"বাচ্চাদের কোথায় নিচ্ছেন আপনি?"
প্রশ্ন শুনে পারমিতা ঘুরে তাকাল। নিকিতা ওর কোল থেকে নেমে এতোক্ষণে বেরিয়ে গেছে ঘর থেকে। আজকে ওর মহা ব্যস্ত দিন। বাড়িতে চারটা নতুন মানুষ এসেছে। উহহ, থুক্কু, মানুষ না। চারটা নতুন প্রাণী। ওদের নাম খরগোশ। একদম সাদা দেখতে। পশমগুলো খুব নরম।
ছোট দাদাভাই তাদের ঘাস খাওয়াচ্ছে, বাদাম খাওয়াচ্ছে। ওরা ছোট দাদার ভক্ত হয়ে যাচ্ছে একদিনেই। দাদাভাই ওদের চারজনের একটা করে নামও দিয়েছে। বুলবুলি, ঝুনঝুনি, টুনটুনি, টুকটুকি।এরা সবাই আপাতত তার জিম্মায় আছে। বাড়ির সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজের দায়িত্ব নিতে সে আগ্রহী থাকে সবসময়। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। নিকিতা এবং নিবেদিতার নাবালক খরগোশ দের দায়িত্ব নিয়েছে রাশেদার কনিষ্ঠ পুত্র ইয়াজিদ। আপাতত তাকে দেখা গেল নিবেদিতার ঘরে। পরম যত্নে সে খরগোশ পালছে।
নিকিতা গাল ফুলিয়ে বলল,"ও তু সুদু তুমাকেই ভালুবাসে। আমাকি কেনু বাসে না?"
ইয়াজিদ কোলের উপর বসিয়ে রাখা খরগোশ গুলোকে হাত বুলিয়ে আদর দিতে দিতে বলল,"তুমি যাও। গিয়ে তোমার দিদুনের কাজ থেকে বাদাম নিয়ে আসো। খরগোশ বাদাম পছন্দ করে।"
"সুত্যি?"
"হ্যাঁ। ঘাস হলো খরগোশের জন্য ভাত। আর বাদাম হলো পাস্তা, বার্গার।"
"সুত্যি?"
"একদম। যাও গিয়ে নিয়ে আসো। তারপর থেকে সব খরগোশ শুধু নিকি নিকি করবে, তোমার পেছনে পেছনে ঘুরবে। বুঝলে?"
নিকিতা ছুটে গেল রান্নাঘরে। ফিরে এলো হাতভর্তি চিনাবাদাম নিয়ে। ইয়াজিদ ওর হাত ধরে ওকে কাছে টানল। খরগোশ গুলো খুব আনন্দ নিয়ে বাদাম খেল। নিকিতা চোখ মুখ চকচকে করে বলল,"এখুন থেকে সুদু আমাকি ভালুবাসবে?"
"এমনটাই তো হওয়ার কথা।"
কিন্তু এমনটা হয়নি। খরগোশ গুলো খাবার শেষ করেও ইয়াজিদের কোলের সাথেই লেপ্টে থাকল। নিকিতা কোমরে হাত রেখে কপাল কুঁচকে বলল,"এই তুমনা আমান কাছে আসু। আমি না তুমাদের বাদাম দিয়িছি?"
ইয়াজিদ সাবধানে একটা খরগোশ তার হাতে তুলে দিল। নিকিতা দুই হাতে পেটের দিকটা চেপে ধরল তার। ইয়াজিদ দ্রুত মাথা নেড়ে বলল,"না না। পেটে চাপ দেওয়া যাবে না সোনা। আস্তে করে ধরতে হবে। দেখো, কি সুন্দর করে তোমাকে দেখছে।"
নিকিতা আস্তে করে কোলে নিল। আলতো করে একটা চুমু খেল পিঠে। ইয়াজিদ নাক কুঁচকে বলল,"ইসসসস! যা দেখস, সবকিছুই চুমু দিতে হয় নিকি? ইশশ! ছিহ।"
"তুমু দিলে তি হয়?"
"রোগ হয়। এজন্যই তো দুই দিন পর পর বিছানায় শুয়ে গড়াগড়ি করিস। আর কাছে গেলেই বলিস, ভালু লাগে না কিসু।"
নিকিতা ফিক করে হাসল। লজ্জায় লাল হলো দুই গাল। আস্তে করে খরগোশ টা ইয়াজিদের হাতে তুলে দিয়ে বলল,"উকে খাচায় রেখি দাও দাদু।"
"রেখে দিব?"
"হু।"
"আদর করা শেষ?"
"হু।"
ইয়াজিদ এদের খাঁচায় ভরে রাখল।
তার হাত ফাঁকা হতেই নিকিতা এক লাফে তার কোলে উঠে বসল। মাথাটা চটপট ওর বুকে রেখে বলল,"আদর করো এততু।"
ইয়াজিদ হাসল। শক্ত করে নিকিতাকে বুকের সাথে চেপে ধরে ওর মাথায় গাঢ় একটা চুমু খেয়ে বলল,"ইশশ! একটু কেন? আমার সব আদর তো তোমার জন্য।"
"দাদু।"
"বলো পাখি।"
"তুনি কাকে বেশি ভালুবাসো? আমাকি নাকি খরগুশকি?"
ইয়াজিদ চিৎকার করে বলল,"অবশ্যই তোমাকে। তুমি নিজেকে ঐ সাদা ধলা দাঁত বের করা খরগোশদের সাথে তুলনা করতে পারলে নিকি? তুমি একটা প্রিন্সেস। তুমি একটা পরী। তুমি আমার চাঁদ।"
"সুত্যি?"
"হ্যাঁ। জান না তুমি আমার?"
নিকিতা শক্ত করে ধরল ওকে। মাথা তুলে নরম চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলল,"তুনি কিনতু পাপাইকেও খরগুশ ধরাবে। উকে?"
ইয়াজিদ শব্দ করে হাসল।
"পাপাই পাপাই পাপাই। সারাক্ষণ শুধু পাপাই। নিকিতার স্বপ্নের নায়ক হলো পাপাই। তাই না?"
____
পারমিতা কোমরে হাত রেখে বলল,"আমি আজ বাবার সাথে থাকব। অনেক গল্প করব, আড্ডা দিব।"
"তো নিকিতা আর নিবেদিতাকে নিচ্ছেন কেন সাথে?"
পারমিতা অবাক হয়ে বলল,"ওমা, নিবো না? ওরা তো সবসময় আমার সাথেই থাকে।"
নিনীত ঠান্ডা স্বরে বলল,"আজ নিতে হবে না। আমার...." একটু ইতস্তত করে বলল,"আজ মেয়েরা আমার কাছেই থাকুক।"
পারমিতা নিজেও চমকাল। অবাক হয়ে বলল,"সত্যি? আপনার ঘরে রাখবেন বলছেন?"
"জি?"
পারমিতা ধপ করে তার পাশে বসে পড়ল। ব্যস্ত হয়ে বলল,"আপনি...আপনি আমায় ভরসা করতে পারছেন না, তাই না?"
"আশ্চর্য! এমনটা কেন হবে?"
"আপনি কেন মেয়েদের আমার কাছে দিচ্ছেন না?"
"আপনার বাবা এতো দিন পর মেয়েকে পেয়েছে। আপনি আপনার বাবাকে সময় দিন।"
"আর আপনি কি করবেন?"
নিনীত পান্ডুর হাসল। বিরান মুখে, কণ্ঠনালির নিচে ক্লেশ চেপে বলল,"আমি আমার মেয়েদের সময় দিব। আমিও মনে করতে পারছি না শেষ কবে আমি ওদের সময় দিয়েছিলাম।"
নিনীত দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। পারমিতা নীরব চোখে কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে তার একটা হাত আলতো করে ধরে বলল,"আপনার কি হলো হঠাৎ? আপনি নিকিতা হয়ে যাচ্ছেন দিন দিন।"
অবাক হলো নিনীত।
"মানে?"
"মানে, কি বলেন, অর্ধেক কথাই বুঝতে পারি না।"
নিনীত হেসে ফেলল শব্দ করে। আস্তে করে পারমিতার হাতটা নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,"আপনি যান। আপনার বাবার কাছে যান। আমার কথা বুঝতে হবে না। সংসার করতে হলে সব কথা বুঝতে হয় না।"
____
নিনীত কতোদিন পর মেয়েদের এভাবে নিজের কাছে রেখেছে মনে করতে পারল না। এমনকি এদের সাথে কেমন কথা বলা যায়, কি বলে ঘুম পাড়ানো যায়, এটাও তার মাথায় আসছিল না। কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছিল।
নিকিতার হাসির শব্দ শুনে তার হাতের মুঠো শক্ত হলো প্রতিবারের মতো। বুকের ভেতরও দুম দুম শব্দ হতে লাগল। নিনীত অল্প অল্প কাঁপছিল, কপালের চওয়া অংশটা ঘেমে ভিজে উঠল, গলা বেয়ে একটা শুকনো ঢোক নেমে এলো।
সে সাবধানে সরে এলো এদের থেকে। দু'জনকে খাটের উপর বসিয়ে নিজে কাউচে গিয়ে বসল। আড়চোখে শুধু একবার তাকাল মেয়ে দু'জনের দিকে।
নিনীত বসেছিল মাথা হেট করে। তার মনের ভেতর সম্পূর্ণ বিপরীত দুই ধরণের অনুভূতি নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করছে। সেই যুদ্ধের ঢাল তলোয়ারের শব্দকে ছাপিয়ে যাচ্ছে নিকিতার হাসির শব্দ, নিবেদিতার মিষ্টি নরম কণ্ঠ। মনে হচ্ছে, যুদ্ধের সৈন্যরা গলা ফাটিয়ে ডাকছে,"পাপাই পাপাই। আমার লক্ষ্মী পাপাই। আদর করো একটু।"
নিনীত চট করে চোখ খুলল। হাতের মুঠো শক্ত করে চেপে ধরে ভারি নিঃশ্বাস ছাড়ল। আলতো করে একটা হাত রাখল বুকের উপর। মনে হচ্ছে হৃদপিণ্ডটা দুম করে ফেটে মাংস ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে। নিকিতা বলল,"পাপাই। এদিকে আসু। আমান গাড়ির চাকা ছুটি গেছে। ঠিক কয়ে দাও।"
নিনীত শক্ত হয়ে কাউচেই বসে থাকল। নিবেদিতা হাত দু'টো কোলের উপর ফেলে বসেছিল। নিকিতার কথা শুনে বলল,"পাপাইয়ের মাথাব্যথা। পাপাইকে জ্বালাবে না। আমাকে দাও গাড়িটা। আমি চেষ্টা করে দেখি।"
নিনীত আশ্চর্য হলো। ও কেমন করে জানল নিনীতের মাথাব্যথা? নিনীত ওদের কিছু বলেনি। কোনোদিনই বলে নি। নিকিতা অবাক হয়ে বলল,"তুনি কিভাবি চেসটা করবে? তুনি তো চুখে দেখো না।"
নিবেদিতার চোখের পাতা কেঁপে উঠল। মূহুর্তেই আর্দ্র হলো চোখের সাদা অংশ। নিনীত চোখ বড় বড় করে সামনে তাকিয়ে মৃদুস্বরে ধমকে উঠল,"এসব কি কথা নিকিতা? এসব কথা বলবে না কখনো আমার সামনে।"
নিকিতা ভয় পেল সামান্য। কাচুমাচু মুখে বলল,"কি কয়েছি আমি?"
নিনীত ঠান্ডা স্বরে বলল," নিবেদিতা অবশ্যই গাড়িতে চাকা লাগাতে পারবে। এটার জন্য চোখে দেখার দরকার নেই।"
"দরকান নাই?"
"না।"
নিকিতা চোখ বন্ধ করে বলল,"কিনতু আমি তু চুখ বনধো কললে কিছুই দেকতে পাই না পাপাই। পাপাই পাপাই, তুনি কুতায়? দেকতে পাচ্ছি না তো।"
নিবেদিতা হেসে ফেলল শব্দ করে। নিকিতা তখনও চোখ বন্ধ করে আশপাশ হাতড়ে যাচ্ছে। পাপাইকে সে বোঝানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছে, চুখে না দেখে কিছুই করা যায় না।
নিনীত গম্ভীর মুখে বলল,"কারণ নিবেদিতা তোমার মতো অপদার্থ না।"
নিকিতা চোখ খুলল।
"তুনি আবার বকা দিলে আমাকি?"
"হ্যাঁ দিলাম। তুমি আর কখনো নিবেদিতাকে চোখ নিয়ে কোনো কথা বলবে না।"
"আচছা বলবু না। এ্যাই নিবি! তুনি রাগ কয়েছো?"
নিবেদিতা মাথা নাড়ল।
"না, আমি রাগ করি নি নিকি। তুমি সত্য কথাই বলেছ। পাপাই আমাকে ভালোবাসে। তাই পাপাই রাগ করেছে।"
নিনীতের দুই চোখ জ্বলতে শুরু করল। সে কেমন অকপটে বলে দিল, পাপাই আমাকে ভালোবাসে। নিনীত তো ভালোবাসে না। ও তো অনেকবার প্রমাণ দিয়েছে, ও তাদের ভালোবাসে না। তবুও নির্জনতম রাতে, অতি একান্তে দুই বোন কেমন করে স্বীকার করতে পারে, পাপাই তাদের ভালোবাসে?
নিনীত এই প্রশ্নটা নিজেকেই করল একবার। পাপাই কি তাদের ভালোবাসে? সত্যি ই বাসে? ঘৃণার আস্তরণ টা কোথায়? ঐটা কেন সরে যাচ্ছে বার বার?
রাতে ইয়াজিদ এলো তার ঘরে। এসেই চমকে গেল। নিনীতের দুই মেয়ে ঘুমাচ্ছে খাটে। তাদের গায়ের উপর লম্বা চাদর টানা। বারান্দার থাই গ্লাস খোলা। ঘরের ভেতর মৃদু আলোর বাতি জ্বলছে। এসবই নিনীতের স্বভাব বিরুদ্ধ। সে ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার করে রাখতে ভালোবাসে। বারান্দার গ্লাস বন্ধ রাখে সবসময়। আজ সবকিছু অন্যরকম।
ইয়াজিদ হাসল। বিড়বিড় করে বলল, "হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি নিনীত। তুই তোর মেয়েদের একদমই সহ্য করতে পারিস না। এরা মরে গেলেই তুই খুশি। তাই তুই এদের যত্ন করে গায়ের উপর চাদর চাপিয়ে দিস।"
ঘরের কোথাও নিনীত কে পাওয়া গেল না। ইয়াজিদ দুই বার তাকে নাম ধরে ডেকে কপাল কুঁচকাল। এতো রাতে সে কোথায় যাবে?
____
পারমিতা ঘুমাচ্ছিল পা দু'টো ভাঁজ করে। দুই হাতে শক্ত করে ধরে ছিল শফি সাহেবের লোমশ হাতটা। শফি সাহেব ঘুমাচ্ছেন মোবাইল ফোনটা বুকের উপর রেখে। সম্ভবত কারো সাথে কথা বলার ফাঁকেই ঘুমিয়ে পড়েছেন।
নিনীত আস্তে করে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। তার চোখ দু'টো অতিশয় শান্ত। খুব ধীর পায়ে সামনে এগোল। পারমিতার শরীরটা নিঃশ্বাসের সাথে অল্প অল্প উঠানামা করছে। এক গোছা চুল উড়ে এসে পড়ে আছে মুখের উপর। নিনীত তার গালের একপাশ বাদে আর কিছুই দেখতে পেল না।
কাছে এগিয়ে গেল সে। শব্দ করল না একটুও। প্রথমেই পারমিতার মেঝে ছুঁই ছুঁই আঁচলটা তুলে খাটের উপর গুছিয়ে রাখল। তারপর গুছিয়ে দিল পারমিতার চুল। হাত বাড়িয়ে সুন্দর মতো কানের পেছনে গুজে দিল।
এবার তাকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তার সেই সরল, সাদামাটা মুখ। নিনীত আরেকটু এগোল। মৃদু হেসে তার মুখের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে ডাকল,"ডাক্তার ম্যাডাম!"
জবাবের অপেক্ষা করল না। সে চায় না পারমিতা উঠে তাকে দেখুক। সে চোখ সরিয়ে কিছুক্ষণ শফি সাহেবকে দেখল। গলা বেয়ে অসহ্য একটা ঢোক নেমে এলো তার।
নিজেই হালকা স্বরে অন্যমনস্ক হয়ে শুধাল,"আমার নিবেদিতা আর নিকিতা যদি বড় হয়ে এমন কোনো ছেলেকে, মানে আমার মতো কোনো ছেলেকে বিয়ে করে, তবে কি আমি মানতে পারতাম? আমি বোধহয় সেদিনই আমার মেয়েকে হাত ধরে টেনে সংসার থেকে বের করে আনতাম। শফি স্যার, আপনি আমায় উপলব্ধি করিয়েছেন, আমি কতো ডাম্ব একজন বাবা। তার চেয়েও ডাম্ব একজন মানুষ। হাউ শেম। জীবনের একটা বড় বাঁক অতিক্রম করার জন্য যে আমার আপনাকে প্রয়োজন ছিল, আমি কল্পনাতেও ভাবি নি। থ্যাংক ইউ। থ্যাংক ইউ সো মাচ।"
নিনীত আর দাঁড়াল না। যেমন করে নিঃশব্দে ঘরে এসেছিল, এমন নিঃশব্দেই বেরিয়ে গেল।
বেরিয়ে একটু সামনে এগোতেই হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। অবাক হয়ে দেখল, ইয়াজিদ দাঁড়িয়ে আছে সামনে।
ইয়াজিদ কপাল কুঁচকে বলল,"পারমিতার কাছে গিয়েছিলি?"
"হু।"
"কেন?"
নিনীত হাঁটতে হাঁটতে বলল,"পারমিতার বাবার থেকে ইন্সপিরেশন নিতে।"
"কি? কিসব উল্টাপাল্টা বকিস।"
নিনীত হাসল। ইয়াজিদের কপালের ভাঁজ আরো গাঢ় হলো। মাথা চুলকে বলল,"এমন শয়তানি হাসি হাসবি না তো। খুলে বল না।"
"খুলে বলার কিছু নাই ভাই। তুই বুঝবি না।"
নিনীত আবার গভীর শ্বাস ছাড়ল। চুপচাপ হেঁটে তার ঘরের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। ইয়াজিদও এসে দাঁড়াল তার পাশে, হেলান দিল রেলিংয়ের সাথে।
নিনীত সামনে তাকিয়ে বাড়ির সামনের কৃষ্ণচূড়া গাছটার ডালপালা দেখতে দেখতে বলল,"পারমিতার মা ওর বাবাকে ঠকিয়ে আরেক লোকের সাথে ঘর বেঁধেছিল।"
"হ্যাঁ, জানি।"
"কিন্তু পারমিতার বাবা এই অপরাধের শাস্তি মেয়েকে দেন নি। উনি পারমিতাকে ভালোবাসা বন্ধ করেন নি।"
"হ্যাঁ, তো? পারমিতাকে কেন ভালোবাসবে না? ওর তো কোনো দোষ নেই। মায়ের করা কাজের দায় তো সন্তানের না।"
নিনীত চমকে উঠল। অবাক চোখে ইয়াজিদের দিকে তাকিয়ে বলল,"তুই ও এতো ভারি ভারি কথা বলতে জানিস?"
"সেকি। ভারি কথা বলে ফেললাম নাকি? হাহ, মাঝেমাঝে বোধহয় বলি আরকি।"
নিনীত উদাস মুখে, শূন্য চোখে একবার ঘুরে তাকাল ঘরের দিকে। বিছানায় থাকা বাচ্চা দু'জনকে দেখে গাঢ় স্বরে বলল,"তাই তো। মায়ের করা কাজের দায় তো বাচ্চাদের না। ওরা তো ইনোসেন্ট। দে ডোন্ট ডিজার্ভ এনি পানিশমেন্ট।"
"অদ্ভুত! তুই এসব কেন বলছিস হঠাৎ? "
"জানি না ভাই।"
নিনীত চোখ দু'টো দুই হাতে চেপে মাথা ঠেকাল রেলিংয়ের সাথে। চারপাশ নীরব, নির্জন। দূর থেকে ধূ ধূ শব্দ ভেসে আসছে। নিনীত ওভাবেই নিশ্চল ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকল কিছুক্ষণ।
____
পরের দিন শফি সাহেব চলে গেলেন। তিনি কথা দিয়েছিলেন দুই তিন দিন থেকে যাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথার খেলাপ করে তিনি পরের দিনই রওয়ানা দিলেন ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে। সেখানকার এক সাংসদের পক্ষে একটা মামলা লড়বেন তিনি। আজ গিয়ে সব কাগজপত্র গোছাতে হবে। গতকাল থেকেই সেই সাংসদের পিএ অনেকবার কল করেছে তাকে। তিনি অনেক চেষ্টা করেও একটা দিন সময় পেছাতে পারেন নি।
পারমিতাকে সব খুলে বলতেই পারমিতা বিধ্বস্ত মুখে বলল,"চলে যাবে তার মানে?"
"আবার আসব তো কাজ শেষ করে।"
"মিথ্যা কথা।" পারমিতা আক্রোশে ফেটে পড়ে বলল,"তোমার লজ্জা লাগে না প্রতিবার মিথ্যা কথা বলতে? তুমি আর আসবে না দুই বছরেও।"
"আসবো মা, সত্যি আসব।"
শফি সাহেব এগোলেন মেয়ের মাথায় হাত বুলাবেন বলে। পারমিতা ছিটকে দূরে সরে গেল। ভাঙা গলায় কান্না আটকে বলল,"কাছে আসবে না বাবা। সবসময় এমন করো। তোমার এতো টাকা! কি হবে আর কেস ফেস লড়ে? আর কতো টাকা লাগবে তোমার?"
"আমি তো টাকার জন্য ওকালতি করি না। এটা আমার প্যাশন।"
"থাকো তুমি তোমার প্যাশন নিয়ে। সবকিছুই তোমার প্যাশন। শুধু আমি ছাড়া। আমি হলাম একটা গার্বেজ।"
শফি হাসলেন।
"না। তুমি তো আমার জান। আমার সব বন্ধুরা জানে, আমার জান আমার মেয়ে। তুমি বাদে আমার আর কেউ নাই। হাহাহা। আসো, বাবার কাছে আসো। আদর করে দেই।"
পারমিতা এলো না। সারাটা সকাল তার অভিমানেই কাটল। সকালের নাস্তা খেতে বসেও তাকে দেখাল নিষ্প্রভ, মনমরা।
নিনীতকেও আজ যথাসময়ে খাবার টেবিলে পাওয়া গেল। শফি সাহেব জানেন, নিনীত একজন দুর্দান্ত স্বামী।
দুর্দান্ত স্বামীরা কখনো দুপুর বারোটা অব্দি ঘুমায় না। তাই সেও আজ খেতে বসল ঠিক সকাল আটটা নাগাদ।
খেতে বসেই টের পেল, পারমিতার মুখটা থমথমে। চাপা রাগে টই টই করছে চেহারা। পরোটাও খাচ্ছে না, তরকারিও নিচ্ছে না। কেবল যন্ত্রের মতো বসে আছে। শফি সাহেব তার হাতটা ধরতে গেলেই এক ঝাড়ায় সরিয়ে দিল।
নিনীত কপাল কুঁচকাল। কিছু বলল না।
শফি হেসে বললেন,"নিনীত! আমি চলে যাচ্ছি একটু পরে। আমার মেয়ের মন খারাপ। তুমি একটু আজ সময় করে ওকে নিয়ে ঘুরে এসো তে বাইরে থেকে। ওর মন ভালো হয়ে যাবে।"
পারমিতা কঠিন চোখে বাবার দিকে তাকাল। গজ গজ করে বলল,"একজনের করা মন খারাপ আরেকজন কেন ভালো করবে? যে মন খারাপ করিয়েছে, তার তো কোনো মুরদ নেই মন ঠিক করার। আওয়াজে পাকিস্তান। যতোসব!"
শফি নিঃশব্দে হাসলেন। নিনীত আড়চোখে বাবা মেয়ের দিকে তাকায়। ঘটনা বুঝতে পারছে অল্প অল্প।
পারমিতা শক্ত মুখে বসে আছে এখনো। নিনীত গলা খাকারি দিয়ে গম্ভীর মুখে বলল,"মিতা! পরোটা খাও, পরোটা ঠান্ডা হচ্ছে।"
পারমিতা ভয়ানক চমকে উঠল।
মিতা তার ডাকনাম। নিনীত কোনোদিন এই নামে ডাকেনি তাকে। মুখ হা করে কতোক্ষণ সে তাকাল তার দিকে।
নিনীত নির্বিকার। একের পর লোকমা তুলে যাচ্ছে মুখে।
শফি সাহেব খাওয়া শেষ করে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পারমিতা তখন সব রাগ দুঃখ ভুলে গেল। শফি গাড়িতে উঠার ঠিক আগ মুহূর্তে সে ছুটে এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে। ধরা গলায় বলল,"বাবা, সত্যি আবার আসবে তো?"
শফি সাহেব হেসে ফেললেন। মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন,"আসব মা। অবশ্যই আসব।"
তিনি গাড়িতে উঠে বসলেন। পারমিতা গাড়ির কাঁচ ধরে ফাঁকা, পাণ্ডুর মুখে দাঁড়িয়ে থাকল কতোক্ষণ।
নিনীত চোখ নামিয়ে নিচে তাকাল। পারমিতা খালি পায়ে দাঁড়িয়ে আছে ইয়ার্ডের ধুলো ময়লা মেশানো জায়গায়। শাড়ির নিচ থেকে অল্প করে তার পায়ের পাতা দেখা যাচ্ছে। শফি সাহেবের গাড়ি চলতে শুরু করার পর সেও হেঁটে অনেকটা পথ গেল গাড়ির সাথে। এরপর যখন মূল ফটক পেরিয়ে গাড়িটা দ্রুত গতিতে চলতে শুরু করল, তখন আর সে নাগাল পেল না। তার চোখের সামনেই গাড়িটা সামনে যেতে যেতে বাতাসে মিলিয়ে গেল।
সে উদ্ভ্রান্তের মতো হেঁটে যাচ্ছিল গাড়ির পথ ধরে। চোখ দু'টো উদাস ভীষন। এক কদম, দুই কদম, তিন কদম। পারমিতার মাথার উপর সকালের হলুদ সূর্যটা তাপের প্রখরতা বাড়াল। পারমিতা তবুও গন্তব্যহীন হাঁটছিল।
হঠাৎ কে যেন পেছন থেকে উঁচু স্বরে ডাকল তাকে। এক প্রকার ধমকে উঠে ডাকল,"ডাক্তার ম্যাডাম। দাঁড়ান।"
থমকে দাঁড়াল পারমিতা। পেছনে ঘুরে দেখল, তার থেকে বেশ কিছুটা দূরে নিনীত দাঁড়িয়ে আছে। তীক্ষ্ণ, কুঁচকান চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সে বোকা চোখে তাকাতেই একটু একটু করে এগিয়ে এলো। কাছে আসতেই পারমিতা দেখল, তার হাতে দু'টো স্লিপার জুতা। পারমিতার ঘরে পরার জুতা।
পারমিতা বিচলিত চোখে সেদিকে তাকাতেই নিনীত ঝুঁকল। জুতা জোড়া ঠিক তার পায়ের কাছে রাখল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে মাথা তুলে রোদের তেজ দেখে বলল,"সূর্যের অবস্থা দেখেছেন? পায়ের পাতা পুড়ে যাবে। নিন, জুতা পড়ুন। বাবার দুঃখে পায়ের পাতা পোড়ানো কোনো বুদ্ধিমতির কাজ হতে পারে না।"
পারমিতা ঘোরের মধ্যেই জুতা পায়ে দিল। স্তব্ধ চোখে আবার তাকাল নিনীতের দিকে। নিনীতের চোখ মুখ বরাবরের মতোই শান্ত, গম্ভীর। তবে ঠোঁট দু'টো কি অন্য সময়ের তুলনায় প্রসারিত হয়েছিল কিছুটা? কে জানে!
পারমিতা আবার উদ্ভ্রান্তের মতো পা ফেলল সামনে। নিনীত খপ করে তার হাতের কবজি চেপে ধরল। ঠোঁট নেড়ে শক্ত গলায় বলল,"এক পা সামনে যেতেই তো পড়ে যাচ্ছেন। নিন, আমার হাত ধরুন। চলুন, বাড়িতে চলুন।"
পারমিতা গেল না। নড়তেই পারল না জায়গা থেকে। একবার নিনীতের হাতে বন্দি নিজের হাতটা দেখল, আরেকবার দেখল নিনীতকে। হতভম্ব হয়ে বোধহয় বলতেও চাইছিল কিছু। কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ আসছিল না।
নিনীত গভীর চোখে তাকাল। হাসল সামান্য। বলল,"ম্যাডাম। মাথার উপরে কাঠফাটা রোদ। বাড়ি চলুন। বাড়ি গিয়ে দেখবেন যা দেখার। এখানে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো কারণ নেই। চলুন।"
চলবে-
[আজকের গানটাও নিনীত পারমিতার]