ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্বর্ণ কোমল

১০ম পর্ব

লেখক: পরিণীতা আরান হৃৎ

#স্বর্ণকোমল

#পরিণীতা_আরা_হৃৎ

#পর্ব_১০ [ বিবাহ্ স্পেশাল ]

[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]

🕊️

ঘড়িতে রাত নয়টার কাটায়। রাইসা বসে আছে ঢাকার এক বিলাসবহুল হোটেল এর লাউঞ্জে। তূর্য একটা কাজে কোথাও গিয়েছে। পরনে একটা বেবি পিংক কালারের লেহেঙ্গা। তিয়ানের বিয়ে উপলক্ষে পড়েছিল সকালে আর চেঞ্জ করা হয়ে ওঠেনি।

বাড়িতে এতো ঝামেলার মাঝে বাড়ির এক মেয়ে যে উধাও সেটা করো নজরেই আসেনি। সকাল থেকেই বাড়িতে ছিলো না রাইসা। সকাল বললে ভুল। তিয়ানরা হাসপাতালে গিয়েছিলো সেই সুযোগেই বের হয়েছে বাসা থেকে। এখন ফেরা হয়নি বাসায়। দুপুর বেলা বের হয়ে সারা শহর ঘুরে বেরিয়েছে ও আর তূর্য মিলে। মেয়েটা একদিনেই বুঝতে পেরেছে তূর্য অনেক যত্নবান পুরুষ। সারাদিন ওর অনেক খেয়াল রেখেছে। তাই তূর্যকে ও স্বামী হিসেবেও মানে। হ্যাঁ, ওরা বিয়ে করে নিয়েছে নিজেরা। কাউকে না জানিয়েই। তবে বাড়ির পরিস্থিতি এখনোও কিছুই জানে না রাইসা। জানলে কি আর এতো নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারতো? উহু! পারতো না। হয়তো বাড়িতে সব ঠিকঠাকই রয়েছে। তুর্যর তো জানার কথা বাড়ির পরিস্থিতির কথা। ওকে যেহেতু কিচ্ছু খারাপ জানায়নি তাহলে হয়তো সব ঠিকই আছে। বড্ড বিশ্বাস করে যে স্বামী টাকে। আচ্ছা, অচেনা একটা ছেলের প্রটি এতো বিশ্বাস কিভাবে জন্ম নিলো ওর?হয়ত কবুলের জোরে। বিয়ে নামক পবিত্র সম্পর্কটাতে জড়ানোর কারণেই হয়তো দুই দিনের এই অতি পরিচিত ছেলেটাকে নিজের অজান্তেই ভরসার স্থানে জায়গা দিয়েছে।

তূর্যের কথা অনুযায়ী সকালে রেডি হয়ে বের হয় রাইসা। তূর্য যখন বিয়ের কথা বললো ও এক পায়ে রাজি ছিলো। ভালোবাসে তাহলে বিয়ে করতে তো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এখনও বাড়িতে ফিরলো না তার জন্য চিন্তা হচ্ছে ওর। ওদিকের কি অবস্থা তাও জানেনা কিছুই। আবার বাড়িতে গিয়ে অদের বিয়ের কথাটা সকলকে জানাতে হবে। সেটা নিয়েও আরেক চিন্তা।

ওর ভাবনার মাঝেই উপস্থিত হলো তূর্য। ওকে নিয়ে হাটা ধরলো একটা নির্দিষ্ট কক্ষের দিকে। রাইসা বুঝলো না ওরা বাড়িতে না গিয়ে এখানে কি করছে। তবে কোনো প্রশ্নও করলো না। রুমের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করতেই নাকে এসে বারি খেলো রজনীগন্ধার মিষ্টি একটা ঘ্রাণ। চোখের পর্দায় ভেসে উঠলো ফুল দিয়ে শোভিত একটা কক্ষ। অজানা এক অনুভুতি হলো ওর মনে। মনে পড়লো ওর, বিয়ে হয়েছে মানে তো আজকে ওদের বাসর রাত। তবে এভাবে পরিবার ছাড়া এসব ভাবতে পারছে না ও।

তূর্য রুমে ঢুকে ওকে বিছানায় বসিয়ে দরজা লাগাতেই চট করে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো রাইসা।

“কি হলো? বসো। উঠে দাঁড়ালে যে।”

“আমরা বাড়িতে না গিয়ে এখানে কি করছি তূর্য।”

“কেনো ? আজ না আমাদের বাসর? তাহলে বাড়িতে আগে কেনো যাবো? বাড়িতে গেলেই তো বাসর শেষ আমার।”

“বাসর।”

“হ্যাঁ।”

“কিন্তু…”

আর বলতে দিলো না তূর্য রাইসা কে। রাইসার ঠোঁটে ঠোঁট ডোবালো। রাইসার চোখ জোড়া বন্ধ হয়ে আসলো আপনা আপনি। ওকে ওই অবস্থায় নিয়ে হেঁটে এগিয়ে গেলো ফুল সাঁজানো বেডের দিকে। রাইসাপ ঘোরের মধ্যে পরে এক পা এক পা করে পা মিলিয়ে চলতে লাগলো তূর্যর সাথে। কক্ষের লাইট নিভিয়ে ড্রিম লাইট জ্বালিয়ে দিলো হাত বাড়িয়ে। তবে রাইসাকে ছাড়লো না। যেনো ছেড়ে দিকেই স্বপ্ন টা ভেঙে যাবে। অথচ এত পুরোই বাস্তব। ওই ভাবেই ওকে নিয়ে ঠাস করে বিছানার ওপর শুয়ে পড়লো তূর্য। অবাধ্য হতে লাগলো ওর হাত দুটো। ছুটে চললো লাগামহীন। লেহেঙ্গার ওড়না সেই কখন ঠাঁই নিয়েছে ফ্লোরে। তূর্য টেনে ধরলো রাইসার ব্লাউজের ফিতা টেনে ধরলো। ফিতায় টান পরতেই হুশে আসলো রাইসা। এবার মোড়ামুড়ি শুরু করলো ছাড়া পেতে। রাইসার এমন মোচড়ামুচড়ি সহ্য হলো না তূর্য। বিরক্ত হলো খুব। সেভাবেই বিরক্তি নিয়ে বললো,

“কি সমস্যা? এমন সাপের মতো মোরামুড়ি করছো কেন?”

রাইসা তূর্যর বুকেই মুখ লুকিয়ে মিন মিন করে বললো,

“না মানে…আসলে পরিবারের কেউ বিয়ের ব্যাপারে এখনও জানলো না তাই আর কি…”

“ভালোবাসো না আমাকে?”

রাইসা তড়াক করে চাইলো ওর পানে। মাথা নাড়িয়ে বললো,

“বাসিতো।”

“ভালোবাসার মানুষের উপর বিশ্বাস নেই?”

“আছে কিন্তু…”

“আচ্ছা ঠিক আছে।”

তূর্য উঠে বসলো রাইসার উপর থেকে।

“রাগ করেছেন?”

“আমি কে রাগ করার?”

অপরাধ বোধে ভুগতে লাগলো রাইসা। ঠিকই তো ও কি তবে ওর স্বামীকে বিশ্বাস করতে পারেনি? তূর্য খাট থেকে নেমে পরতে নিলে রাইসা ওকে আটকে দেয়। দুই হাতে গলা জড়িয়ে ধরে। তূর্যর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবালো সইচ্ছায়। রাইসার এহেন কর্মকে সম্মতি হিসেবে ধীরে নিলো তূর্য। এই মুহূর্তে তূর্যের ঠোঁটে ফুটে ওঠা কুটিল হাসিটা চোখে পড়লো না রাইসার।

প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে, স্বামী নামক পুরুষের এমন গভীর স্পর্শ কি আর অগ্রাহ্য করতে পারে? দূরে ঠেলে দিতে পারে স্বামীর এই ভালোবাসাকে? পরনের সকল বস্ত্রাদি ঠাঁয় পেলো টাইলস করা ফ্লোরে। কাঁচা ফুলগুলো দুমড়ে মুচড়ে যেতে লাগলো দুটো দেহের অনবরত ঘর্ষণে। পরম আবেশে ডুবে গেলো দুটি মন, দুটি সত্তা।

_

রাত নয়টা ঊনিশ মিনিট।

রাতের খাবার কারোর গলা দিয়েই নামলো না চৌধুরী বাড়ির। বাড়ির সকলেই এখনও ড্রয়িং রুমে বসে আছে। কোমল এলিজার কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে আর এলিজা বসে বসে ফেসবুক স্ক্রল করছে। দিন দুনিয়ার খবর রাখার কোনো তাড়া নেই তার মাঝে। ইতিমধ্যে কয়েক বার ডাকা হয়েছে তিয়ান কে।যতবার কেউ ডাকতে গিয়েছে ভিতর থেকে একটাই উত্তর এসেছে ‘ আমি ঠিক আছি’।সকলেই চিন্তায় ঘুমাতে যেতে পারছে না।

অতিথিরা ফিরে গিয়েছে গেস্ট হাউসে। সকাল হলেই তাদের আবার বাড়িতে ফিরে যেতে হবে। বিয়ে যেহেতু হলোই না সেহেতু এখন এখানে থেকে কোনো লাভ নেই।

কিয়ান সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এসে বসে পড়লো মায়ের কল ঘেঁষে। ছেলেকে এক হাতে জড়িয়ে ধরলেন জাহরা বেগম। সকলকে এমন দেখে কিয়ান বুঝেছে কেউই রাতের খাবার মুখে তুলেনি।

“খালা? আমার জন্য ব্ল্যাক কফি, সাথে সকলের জন্য কড়া করে চা বানিয়ে দাও তো।”

তিন চারজন কাজের খালা বসে ছিলেন রান্নাঘরের দরজার সামনে। একজন উঠে গেলেন চা করতে।

কিছুক্ষন পর খালা টেবিলে চা, কফি রেখে আবার চলে গেলেন নিজের জাগায়।

কেউই না করলো না একমাত্র কোমল ছাড়া। ও মায়ের কোলে শুয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে।

মিনিট পাঁচেক পর। সবার চা খাওয়া হয়ে গেছে। আগে যাও একটু টুকটাক কথা চলছিলো এখন তাও নেই। সকলে আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়েছে। কেউ সোফায়, কেউ চেয়ারে, কেউবা টি টেবিলের সাথে,সোফার সাথে হেলান দিয়ে কার্পেট বিছানো ফ্লোরে ঘুমিয়ে পড়েছে।

“মম? মাথা টা একটু টিপে দাও তো।”

কোনো রেসপন্স আসলো না ওপর পক্ষ হতে। কোমল আবার ডাকলো।

“মম? কি হলো? মাথা ব্যথা করছে। একটু টিপে দাও?”

এবারও কোনো সাড়া পাওয়া গেলো না। কোমল এবার একটু বিরক্তির সহিত বললো,

“ মম?”

কোমল মাথা উচু করে তাকালো মায়ের দিকে। দেখলো ঘুমিয়ে পড়েছে ওর মা। ঘাড় ঘুরিয়ে পুরো ড্রয়িং রুমে চোখ বুলালো। অবাক হলো কোমল। ড্রয়িং রুমে উপস্থিত সকলে যে যেখানে পেরেছে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েছে। এমনকি খালা রাও। গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসলো কোমল। তখনই ওর চোখ পড়লো কিয়ানের দিকে। যে ওর অপর পাশের সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসে আছে। চোখ দুটো নিবদ্ধ ওর দিকেই। ঢোক গিললো বেচারি। কেমন অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে আছে কিয়ান। ওর কাছে পরিবেশটা মোটেও সুবিধার ঠেকলো না। আস্তে করে উঠে দাঁড়ালো নিজের ঘরের উদ্দেশ্যে যাবে বলে। তবে ও উঠে দাঁড়াতেই কিয়ান ঝড়ের বেগে এসে ঘাড়ে একটা ইনজেকশন পুশ করে দিলো। সকলের মতো কোমল ও ঘুমিয়ে পড়লো। কোমলকে কোলে নিয়ে মেইন গেটের দিকে হাটা ধরলো কিয়ান।

_

গায়ে ঠান্ডা স্পর্শ পেতেই জ্ঞান ফিরে আসলো কোমলের। তবে চোখ এখনো খোলেনি।সাথে প্রচণ্ড জোরে শীতল বাতাসের ঝাপটা এসে লাগলো। ঠান্ডা ধাতব মেঝের হিমশীতল স্পর্শে কেঁপে কেঁপে উঠছে কোমলের নাজুক নরম কায়া। আস্তে আস্তে স্মৃতি চারণ করতে লাগলো ওর সাথে ঘটা সেই ঘটনা গুলোর। মনে পরে গেলো ওর । জ্ঞান হারানোর আগে ঘাড়ে সূচালো কিছুর টের পেয়েছে ও। মূলত কিয়ানই ওকে অজ্ঞান করার জন্য ইনজেক্ট পুশ করেছিল। ও বাধা দেয়ার কোনো সুযোগই পায়নি। ঝড়ের গতিতে যেনো নিজের কার্য সম্পন্ন করেছিল কিয়ান।

উঠে বসে চোখ খুলে তাকাতেই প্রথমে যা চোখে ভাসলো তা হলো কিয়ানের অদ্ভুত সেই দৃষ্টি। একটা সিঙ্গেল সোফায় আয়েশ করে এক পায়ের উপর অন্য পা তুলে বসে আছে। ওর পাশেই একজন মহিলা হাতে খালি বালতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বোঝা গেলো এই ব্যক্তিই ওর গায়ে পানি ঢেলেছে। লঞ্চের পুরো ছাদ জুড়ে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে কালো পোশাক ধারী কতগুলো লোক। লোকগুলোকে চিনলো বোধহয় কোমল। চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রিজের গার্ড সকলে।তার চেয়েও অদ্ভুত বিষয় হলো ওর চোখ দুর দুরন্ত পর্যন্ত যতদূর যায় সব কালো অন্ধকারে মোড়ানো। দূরে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর আলো দেখা যাচ্ছে। বুঝলো কোনো লঞ্চের ছাদে আছে এই মুহূর্তে ও। যা লোকালয় থেকে দূরে বললে ভুল, বহুত দূরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।লঞ্চের হালকা আলো নদীর জলে পরে চিকচিক করে উঠছে তা। উঠে দাঁড়ালো না কোমল। ওভাবেই বসে রইলো।

“আমাকে এভাবে এখানে নিয়ে আসার মানে কি? আর বাড়ির সবার কি হয়েছে?”

ওর প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলো না কিয়ান হাতের ইশারায় একজনকে কিছু একটা বললো। তার কিছুক্ষণ পরেই একজন টুপি জুব্বা পরা লোককে নিয়ে ছাদে এসে দাড়ালো কিছু গার্ড। দেখেই বোঝা যাচ্ছে হুজুরকে জোর জবরদস্তি করে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে এখানে। একবার কোমলের দিকে তাকিয়ে দাঁত কটমট করে বললো,

“যাওয়াচ্ছি তোমাকে কালকে ফেরত। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি।”

অতপর হুজুরের উদ্দেশ্যে কিয়ান ভারী গমগমে সুরে বলল,

“শুরু করুন।”

আপনি বাঁচলে বাপের নাম। হুজুর খুব ভালো করেই বুঝে গিয়েছে এখানে ওর কিছুর করার নেই। ওদের কথা না শুনলে নির্ঘাত মৃত্যু। সকল গার্ডের কাছেই বিশালদেহী নল বন্দুক রয়েছে। একটা যদি ওনার সাধের পেতে ঢোকে তাহলে আজীবনের মতো কেল্লা ফতে। জান বাঁচানো ফরজ। তাই তিনি ফরজ কাজটাই বেছে নিলেন। শুরু করলেন কলেমা পাঠ।

“মরহুম তাশরীফ চৌধুরীর একমাত্র কন্যা কোমল চৌধুরী জনাব সাদমান চৌধুরীর বড় পুত্র জায়রিন কিয়ান চৌধুরীর সাথে বিশ কোটি এক টাকা দেনমোহর ধার্য করিয়া বিবাহ করিতে রাজি থাকিলে বলো মা কবুল।”

কোমল নির্বাক দৃষ্টিতে এখনো কিয়ানকে দেখে চলেছে। তবে নীরবতা বেশি সময় থাকবে বলে মনে হলো না। কোমলের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আবার বললেন,

“বলো মা কবুল।”

“করবো না আমি বিয়ে।”

“তুমি করবে তোমার ঘাড়ও করবে।”

কিয়ান নিজের ফোন বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ বের করে কোমলের সামনে তুলে ধরলো। তাতে ফুটে উঠেছে কিছু ভয়ানক দৃশ্য। ওর ঘুমন্ত মায়ের কপালে একজন লোক গান ঠেকিয়ে দাড়িয়ে আছে তার পাশেই। হয়তো অপেক্ষায় আছে কারো অর্ডারের। কিয়ান বললো,

“ মেরে দেই?”

কোমল কিছুক্ষণ চুপচাপ অনুভুতিহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কিয়ানের দিকে। এরপর হুট করেই হু হা করে হেসে উঠলো। যেনো খুব মজা পেয়েছে কিয়ানের কথায় ও। ও নিজেও কিয়ানের মতো করে বললো,

“ মেরে দাও।”

এমন অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে এমন অপ্রত্যাশিত “তুমি” ডাকটা সুনে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলো কিয়ান। যেনো কোনো ঘোরের মাঝে রয়েছে ও। কোমলের কণ্ঠে বাস্তবে পদার্পণ করলো কিয়ান।

“কি হলো মেরে দাও।”

কিয়ান কানের ব্লুটুথ এক্টিভ করে কোমলের চোখে চোখ রেখে বললো,

“শ্যুট।”

ঠাস….

শব্দ করে গুলি চালানোর শব্দ পাওয়া গেলো। হয়তো ফোনের ওপারে গুলি চলেছে। কিন্তু কাকে গুলি মেরেছে? সত্যি এলিজাকে গুলি করে দিলো?

কিয়ান ভেবেছিলো এবার হয়তো কোমল কোনো রিয়েক্ট করবে। কিন্তু ওকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে দিয়ে কোমল নির্জীব অনুভূতীশূন্য চোখে এখনোও তাকিয়ে আছে ওর দিকে। সেকেন্ড পাঁচেক পরে হুট করে হু হা হেসে উঠলো। ওর এহেন হাসিতে অবাক হলো কিয়ান। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। কেউ নিজের মায়ের মৃত্যুর কথা শুনেও কি করে এতো নিশ্চিন্তে থাকতে পারে? ওর কি কষ্ট লাগেনি যখন গুলি চলেছে? হিসেব মিলাতে পারলো না কিয়ান।

কোমল হাসি থামিয়ে অবাক হওয়া কিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো,

“কি হলো? অবাক হলেন আমাকে ভয় পেতে না দেখে? আজব! ভয় আমি ভয় পাবো কেনো? গুলি তো আমার মায়ের গায়ে চালানোই হয়নি। আর আমি জানি সেটা হবেও না। আর যাই করুন না কেনো বাড়ির কারো ক্ষতি আপনি করবেন না। আর মেরে দিলেও আমার কিছুই না। মন করবো হায়াত শেষ তাই মারা গেছে।”

এবার কিয়ানের মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। ও ভেবেছিলো মেয়েটা কতই না বোকা হবে। অথচ এ তো কিছুই না।

কিয়ান এক ঝটকায় উঠে দাড়ালো। ছাদের এক পাশে ফেলে রাখা দড়ি নিয়ে এসে বেঁধে দিতে লাগলো কোমলের হাত। ছটফট করতে লাগলো কোমল তবে কিয়ানের শক্তির সাথে যে ওর পেরে ওঠা দায়। হাত বেধে ওকে টানতে টানতে রেলিংয়ের ধারে নিয়ে আসলো।

“নিজেকে প্রতি তো মায়া আছে। নিজেকে বাঁচাতে হলে বিয়ে তোমাকে আজ আমাকেই করতে হবে। নাহলে মরেই যাও তুমি।”

কোমল কিছু বুঝে উঠার আগেই কিয়ান ওকে এক ধাক্কায় ওকে ফেলে দিলো লঞ্চের ছাদ থেকে। তবে নিচে পরে যাওয়ার আগেই ওর হাত ধরে ফেললো। হাতের রশি বেঁধে দিলো রেলিংয়ের ধারে। কোমল ভয় পেয়ে গেছে বেচারি। ভেবেছিলো সত্যিই বুঝি ওর এই পানিতেই ডুবে মরতে হবে। তবে হাতের উপর পুরো শরীরের ভর ছেড়ে দিয়ে ঝুলতে মনে হচ্ছে কিয়ান ওকে ফেলুক বা না ফেলুক হাত ছিঁড়েই ও নিচে পরে যাবে। আর নিচে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত। এমন মাঝ নদী থেকে কিছুতেই সাঁতরে কেউ কিনারে যেতে পারবে না। আর ও তো সাঁতারই জানে না। কিয়ান এবার একটা চাকু নিয়ে আস্তে আস্তে কেটে দিতে লাগলো দড়িটা। যা দেখে ভয় পেয়ে গেলো কোমল। কিয়ান দড়িটা কাটতে কাটতে বললো,

“একসেপ্ট ইট।”

কোমল এবারও কবুল বললো না। উল্টো একটু সাহসী হয়ে বললো,

“কিছুতেই তোমাকে আমি বিয়ে করবো না। মরে গেলেও না।”

“একসেপ্ট করো নাহলে মরেই যাও।”

কিয়ান দড়িটা কেটে দিতে লাগলো। কোমল ভয় চিৎকার করে দিলো এবার তবে কবুল বলছে না। আর ভর সইতে পারব বলে মনে হল দড়িটা। এবার কোমল চিৎকার করে উঠলো,

“কবুল কবুল কবুল কবুল।”

তিনবারের জাগায় চারবার বলে দিলো কবুল। তবে হায়! দড়ি যে কাটা শেষ। তবে ওকে পরতে দিলো না কিয়ান। হাত দিয়ে ধরে ফেললো কিয়ান ওকে । সেভাবেই কোমল ঝুলন্ত অবস্থায় থাকাকালীনই কিয়ান ও তিনবার কবুল বলে দিলো।

“কবুল কবুল কবুল।”

কাজী হতভম্ব হয়ে রইলো। কেমন ধারা বিয়ে এটা। মেয়ের বেলায় তাও আধা ঘন্টা আগে কাবিন পড়ানো হলো। ছেলে তো কোনো কাবিন পড়ানো ছাড়াই কবুল বলে দিলো। টাও এমন নদীর মাঝে ঝুলিয়ে রেখে কে বিয়ে করে ভাই?

কোমলকে টেনে উপরে তুললো কিয়ান। হাত দুটো এখনো বাধা কোমলের। হাতে রক্ত জমে গিয়েছে। একটুও শক্তি পাচ্ছে না হতে। কিয়ান সেভাবেই অর কোমল জড়িয়ে ধরলো। কোমল অবাক হয়ে তাকালো কিয়ানের দিকে। এতো গুলো লোকের সামনে কিভাবে অসভ্যের মতো জড়িয়ে ধরেছে ওকে। মোচড়ামুচড়ি করতে লাগলো কোমল। তবে ছুটতে পারলো না। শক্তিও নেই শরীরে বিন্দুমাত্র। হতাশ হয়ে শ্বাস ছাড়লো। কিয়ান ঘাড়টা হালকা কাত করে তাকালো পিছন দিকে। আর কাউকেই কিছু বলতে হলো না। সকল গার্ডসরা কাজীকে চেঙ্গোলা করে তুলে নিয়ে চম্পট দিলো সেখান থেকে।

গার্ডরা চলে যেতেই এক ঝটকায় পুরুষালী খরখরে ঠোঁট জোড়া দিয়ে আঁকড়ে ধরলো কোমলের ঠোঁট কিয়ান। একে তো হাত বাঁধা তার উপর শরীরে বিন্দুমাত্র শক্তি নেই কোমলের। চাইলেও বাধা দিয়ে পারছে না কিয়ানকে ও। কিয়া নিজের আধিপত্য বিস্তার কোর্টে লাগলো কোমলের ঠোঁটে। হ্যাঁ দুটোও থেমে নেই। তা ইতোমধ্যে কোমলের টিশার্ট ভেদ করে ওর পিঠ কোমরে বেয়ে চলেছে। সেকেন্ড পেরোয় মিনিট পেরোয় তবুও কিয়ানের কোমলকে ছাড়ার কোনো নাম নেই। এদিকে কোমলের ছটফটানিও বাড়তে থাকে। মিনিট আঠারোর কাটা পেরিয়ে উনিশের কাটায় যেতেই সেন্সলেস হয়ে পড়লো কোমল। দুর্বল শরীরে এতো অত্যাচার সহ্য করতে পারলো না বেচারি। কোমলের এমন স্থির হয়ে কোনো নড়াচড়া না পেয়েও কে ছাড়লো না কিয়ান। আরও শক্ত করে চেপে ধরলো নিজের সাথে। সময়ের কাটা মিনিট বিশ পেরোতেই ওর ঠোঁট জোরা ছেড়ে দিলো কিয়ান। কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে শ্বাস ছাড়লো কিয়ান। কোমলের ঠোঁটজোড়া লাল টকটকে হয়ে উঠেছে। হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে কোমলের ঠোঁটজোড়া স্লাইস করতে লাগলো কিয়ান। বিরক্ত হলো খুব। সমস্যা কি এই মেয়ের? কাছে আসতে না আসতেই খালি সেন্সলেস হয়ে পড়ে। ঠিকই ভেবেছিলো ও। ওর দাজ্জাল শাশুড়ী ওকে ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়াইনি। দাজ্জাল শাশুড়ী একটা!

#চলবে

[ বিয়ে উপলক্ষে তো ভালো রেসপন্স করতেই পারো। তাই না? বিশাল বড় পর্ব দিছি। ২০০০+ শব্দ। প্লিজ ভালো রেসপন্স করো আজকে।আজকে আমার পক্ষ থেকে বিয়ে স্পেশাল প্রেমের মুড়ি খাও। কালকে চল্লিশা খাওয়াবো। রেডি থেকো শক খাওয়ার জন্য।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন