#স্বর্ণকোমল
#পরিণীতা_আরা_হৃৎ
#পর্ব_২১
[ অনুমতি ব্যতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫 ]
🕊️
বাড়ির সকলে তাশরীফ চৌধুরীর সেই ওকাল মৃত্যুর দায়ী করেন এলিজাকে। অপমান আর তাচ্ছিল্য করে বের করে দেন বাড়ি থেকে। আর সেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া থেকে শুরু করে সকল অপমানের জন্য এলিজা দায়ী করে কিয়ানকে।
তাই সেই ক্লাসের কটাক্ষ গুলো শুনে রাগ হলো প্রচণ্ড কিয়ানের উপর। সকলের সমস্ত রাগ গিয়ে পড়লো ওর উপর। মুহুর্তেই নিজের মধ্যে একটা হিংস্র সত্তা খুঁজে পেলাম আমি। যে আমার মতো বোকা আর নরম মনের কোমল নয়। সে কাউকে ছেড়ে দেয় না।
আমার পিছনে যেই মেয়েটা আমার হাত ধরে ছিলো ওরই হাত ধরে ওকে ঘুরিয়ে টেবিলে এক বারি মারলাম। মাঠে ফেঁটে গলগলিয়ে রক্ত বের হলো। অতপর একে একে সকলকে মারতে শুরু করলাম। কেউ আটকাতে পারলো না আমাকে। তখন ওদের সেই রক্ত দেখে এক অদ্ভুত শান্তি পেয়েছিলাম আমি। সেই জায়গায়ই স্পট ডেথ হয় এলিসার। বাকিরা খুব বাজে ভাবে ইনজুর্ড হয়।
আমার সেই মারামারির কথা মার কানে যেতে সময় নেয়নি বেশিক্ষন। তবে মা আসতে আসতে ওরা আমাকে পুলিশ স্টেশনে পাঠিয়ে দেয়। চারদিন জেলে কাটাতে হয় আমাকে। মা পুলিশকে ঘুষ খাইয়ে কেস চাপা দেয়। মা অনেকবার জিজ্ঞেস করেছিল কেনো এমন করেছি আমি তবে মাকে কিছু বলিনি আমি। মা আমার জন্মদিনের কাহিনীর ব্যাপারে এখনো কিছু জানে না।
তারপর একদিন জ্যাক কেও খুব বাজে ভাবে ওরই অ্যাপার্টমেন্ট এ গিয়ে খুন করি। আর তখন তূর্যের সাথে পরিচয় হয় আমার। ছেলেটা খুব ভালো। আমাকে হেল্প করেছে ও জ্যাককে হত্যা করতে। এমন কি যখন বিডিতে গিয়েছিলাম তখনও ওই আমাকে হেল্প করেছে। বড় ভাইয়ের মত সবসময় সাপোর্ট করেছে।সবসময় ডিপ্রেশন থেকে দূরে রাখার জন্য যা যা করতে হয়েছে তাই করেছে ও।
কিন্তু আমি চাইনি তিয়ান ভাইয়া মারা যাক। আমিই তো শুধু ওদের পরিবারকে কষ্ট দিতে চেয়েছিলাম।
তবে কিয়ানকে আমি ঠিকই মারতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মারা গেলো না। উল্টো আমাকে এমনভাবে ভালোবাসলো যে আমি ওকে ভালোবাসতে বাধ্য হলাম।
_
থেমে গেলো কোমল। হয়তো আর কিছু বলার নেই ওর। অথবা হয়তো বলতে চেয়েও বলতে পারেনি।
ডক্টর মালিথা একটা হতাশার শ্বাস ফেলেন। মাত্র কিছু দিনেই এমন অনেক ধরনের রোগীর সাথে পরিচয় হয়েছে তার। তাই হয়তো তাকে কষ্টটা তেমন ছুঁতে পারেনি। তবে কিয়ান?
ডক্টর মালিথা এবার তাকালেন কিয়ানের দিকে। কোমলের হাত চেপে ধরে তাতে মুখ ঠেকিয়ে কেঁদে চলেছে ছেলেটা। শব্দ হচ্ছে না তবে একটু পর পর কেঁপে উঠছে ওর বলিষ্ঠ দেহ। ডক্টর মালিথা কিয়ানের কাঁধে ভরসার হাত রাখেন। কিয়ান ভেজা চোখে তাকালো তার দিকে। তিনি চোঁখ দিয়ে আশ্বস্ত করে মুচকি হেসে বললেন,
“চিন্তা করোনা। সব ঠিক হয়ে যাবে।”
চোখের পানি মুছে নিলো কিয়ান। ডক্টর মালিথার সাথে বেরিয়ে গেলেন কেবিন থেকে। ডক্টর মালিথার চেম্বারে এসে বসতেই ভিতরে একজন স্টাফ এসে কিছু রিপোর্ট দিয়ে গেলেন তাকে। তিনি চশমা খুলে সেটা ভালোমত মুছে নিয়ে আবার চোখে পরে ফাইল হাতে তুলে নিলেন। একটা একটা করে পেজ উল্টে দেখতে লাগলেন মনোযোগ দিয়ে। এক একটা পাতা উল্টানোর সময় ওনার ভ্রু কুঞ্চিত হতে লাগলো। কখনো কম কখনো বেশি। একবার কিয়ানের দিকে চোখ তুলে তাকালেন। যে কিনা ওনার দিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ওনার এই কপাল কুঁচকে যাওয়া দেখছে। সাথে সাথে ওরও কপাল কুচকে যাচ্ছে। ডক্টর মালিথা ফাইল ঘাটতে ঘাটতে কিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“কোমল ড্রাগও নিতো?”
কিয়ানের কপাল কুঁচকে গেলো আরো ভীষণ ভাবে।
“নাতো? ওকে তো কখনো কোনো ড্রাগ নিতে দেখিনি।”
“তুমি না দেখলেও এই রিপোর্ট বলছে কিরণ ড্রাগ নিতো।”
হাতের ফাইল টেবিলে নামিয়ে রেখে তিনি আরো বললেন,
“ও যেই ড্রাগটা নেয় সেটা কিন্তু খুবই বিপদজনক একটা ড্রাগ। এই ড্রাগ ও কোথায় পেলো?”
“আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না ডক্টর মালিথা। প্লীজ বুঝিয়ে বলুন।”
“কে এখানে এবার পর আমি ওর ব্লাড টেস্ট করতে ল্যাবে পাঠিয়ে ছিলাম। সেই রিপোর্টই মাত্র হাতে পেলাম আমি। এই রিপোর্টে স্পষ্ট লেখা আছে ওর রক্তে সাইকেডেলিক ড্রাগ উপস্থিত। এই ড্রাগ ও প্রতিনিয়ত নিতো। তাও অতিরিক্ত বেশি। তুমি বুঝতে পারছো কিনা জানিনা। ওর এই মানসিক সমস্যার পিছনে কিন্তু ওর সাথে ঘোটা অস্বাভাবিক আর ছোটবেলার সেই ট্রমার থেকেও বেশি ভূমিকা এই ড্রাগের। ওর যথেষ্ট বোঝার বয়স হয়েছে। ইচ্ছে করে ও কখনো এই ড্রাগ নিবে বলে তোমার মনে হয়। কেউ বা কারা ওর অজান্তে ওকে ইচ্ছে করে এই ড্রাগ দিয়েছে এবং এখনো দিয়ে চলেছে। এই ড্রাগ নেয়ার কারণেই ওর হ্যালুসিনেশন হয়। তবে কথা হলো কে ওকে এই ড্রাগ দিবে?”
কিয়ানের কপাল কুঁচকে গেলো। কে এমন করবে? সেটাই ভেবে পাচ্ছে না ও।
“কিন্তু ওকে তো কখনো এমন কোনো ড্রাগ জাতীয় কিছু নিতে দেখ…..”
হুট করেই মাঝ পথে কিয়ানের কথা থেমে যাওয়ায় ওর দিকে ভ্রু কুচকে তাকালেন ডক্টর মালিথা।
“হ্যাঁ বলো কি বলছিলে?”
“আচ্ছা ডক্টর আমার ধারণা যদি সত্যি হয় তবে আমরা জেনে যাবো ওর ড্রাগ নেয়ার বিষয়ে। আমাকে একদিন সময় দিন। আমার মনে হচ্ছে আমি বুঝতে পেরেছি কিরণ কিসের মাধ্যমে ড্রাগ নেয়।”
ডক্টর মালিথার চোখ কিছুটা চকচক করে উঠলো।
“ওকে মিস্টার কিয়ান….”
ডক্টর মালিথা নিজের কথা শেষ করতে পারলো না তার আগেই একজন ওয়ার্ড বয় তখন দরজা ঠেলে মাথা ভিতরে ঢুকিয়ে বললেন,
“স্যার ম্যামের জ্ঞান ফিরেছে। চিৎকার করে কাউকে ডেকে চলেছে।”
কোমলের জ্ঞান ফিরেছে শুনে দ্রুত চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো কিয়ান। কোনো বাক্য না বলে দ্রুত কোমল যে কেবিনে রয়েছে সেখানে চলে গেলো।
কেবিনে প্রবেশ করতেই গিয়ে জড়িয়ে ধরলো কোমলকে। কোমলও শক্ত হাতে জড়িয়ে ধরলো কিয়ানের কোমর।
“তুমি কোথায় ছিলে কিয়ান। ওরা আমাকে মারতে এসেছিলো জানো? তুমি কোথায় ছিলে তখন?”
“এইতো পাখি। আমি এখানেই আছি তোমার কাছে। আর কোথাও যাবো না তোমাকে ছাড়া। কেউ তোমার আর কিছু করতে পারবে না। আমি আছি তো। কেউ তোমাকে আর কোনো আঘাত করতে পারবে না। সবাইকে আমি মেরে দেবো। কেমন?”
কোমলের ভয় যেনো দূর হলো । শান্ত হয়ে গেলো একদম বাচ্চাদের মতো।আর শক্ত হলো ওর হাতের বাঁধন। কিয়ান মুচকি হাসলো কোমলের এই বাচ্চামোতে।
দু হাতে আগলে কোলে তুলে নিলো ওকে। কোমলও কিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে ওর গলা মুখ গুঁজে দিলো। সামনে থেকে আর কোমলের মুখ দেখার কোনো উপায় নেই।
কোমলকে নিয়ে কিয়ান বেরিয়ে আসার সময় পিছন থেকে ডক্টর মালিথা ডেকে উঠলেন। কিয়ান পা জোড়া থামিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দাড়ালো। ওর দিকে একটা প্রেসক্রিপশন এগিয়ে দিয়ে ডক্টর মালিথা মুচকি হেঁসে বললেন,
“আপনারা মতো হাজবেন্ড হয়তো লাখে একজন।”
কিয়ান এক হাত বাড়িয়ে প্রেসক্রিপশন নিলো ওনার হাত থেকে। যেতে যেতে বলল,
“স্বর্ণের কিয়ান গোটা পৃথিবীতেই একজন।”
_
রাফা বেগম রাগে থরথর করে কাপছে। ঘরের কোথাও রাইসার টিকি টারও দেখা নেই। বারান্দার দরজা হাট করে খোলা। দৌড়ে বারান্দায় চলে গেলেন তিনি। পিছনে নের দুই ভৃত্য। বারান্দার রেলিংয়ে একটা শাড়ি বাঁধা। যেটা গিয়ে ঠেকেছে একদম ভূমিতে।
উনি কিছু একটা ভেবে দ্রুত নিজের ফোন বের করলেন। বাড়ির গেটের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দেখলেন রাইসা বেরিয়েছে মাত্র সতেরো মিনিট আগে।
ঘুরে দাঁড়িয়ে হাসান কাকাকে বললেন,
“হাসান কাকা। আপনারা দুজন চলুন আমার সাথে। বেশিদূর হয়তো যেতে পারেনি এখনো।”
“জ্বী।”
অতপর তিনজন মিলে একসাথে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো বাড়ি থেকে। তবে কিছুদূর যেতেই গাড়িটি ব্রেক কষলো রাস্তার মাঝেই। রাফা বেগম ভ্রু কুঁচকে মোজাম্মেল কাকাকে বললেন,
“কাউকে জিজ্ঞেস করতো জ্যাম কখন ছাড়বে?”
হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে
এক ভদ্রলোককে মোজাম্মেল কাকা জিজ্ঞেস করলেন,
“কি হয়েছে মামা? সামনে রাস্তায় ব্লক কেনো?”
রিকশাওয়ালা মামা আক্ষেপ নিয়ে বললেন,
“আর বইলেন না মামা। একটা মেয়ে নাকি রাষ্টা দিয়ে এলোপাথাড়ি দৌড়াচ্ছিলো। তখনই একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগে।”
এই কথা শুনে রাফা বেগম সহ তিন জনেরই বুকের ভেতর ধক করে উঠলো। কাল বিলম্ব না করেই গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে গেলেন ভিড়ের দিকে তিনজনই। ভিড় ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করতেই…….
#চলবে
[ রেসপন্স এতো কম কেনো? আগে টেনে টুনে ৫০ রিয়েক্ট পরতো। এখন সেটাই নেই। হতাশ আমি সত্যি হতাশ। ]