কেউ একজন সেই ফ্রিকোয়েন্সি অনুসরণ করছিল। তাকে ডাকা হয়।
চিঠিটা এল সোমবার তার অফিসে, ডাকটিকিট ছাড়া, হাতে হাতে পৌঁছানো। ভেতরে একটাই কার্ড — একটা অচেনা সরকারি মন্ত্রণালয়ের সিল, একটা ফোন নম্বর, আর ছয়টা শব্দ: আমরা মৃত ফ্রিকোয়েন্সি সম্পর্কে জানি।
সে কাউকে বলেনি। রিসিভার আর তার মধ্য দিয়ে যা আসত, তা নিয়ে সে পুরোপুরি চুপ ছিল। তবু কেউ জেনে গেছে।
দুপুরে সে নম্বরটায় ফোন করল। এক রিং-এই ধরা হলো — একজন পুরুষের কণ্ঠ, যাতে সেই বিশেষ স্থিরতা, যা কেবল দীর্ঘদিন ধরে সংযম দাবি করা কাজ করা মানুষের গলায় থাকে।
"মিস হোসেন," লোকটা বলল। "আমার নাম ডঃ সাব্বির চৌধুরী। আমার মনে হয় আমাদের সামনাসামনি দেখা করা উচিত।"
"আপনি কে?"
"আমি এমন একটা সরকারি বিভাগের প্রধান, যেটা ১৯৯১ সাল থেকে আছে অথচ কখনো জনসমক্ষে আসেনি," লোকটা বলল। "আমি তিরিশ বছর ধরে এই শহরের মৃত ফ্রিকোয়েন্সিগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। দশ দিন আগে আপনার রিসেপশনের কথা জানতে পারি। আট বছরে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী রিসিভার আপনি।"
একটা বিরতি।
"আমি একটা ঠিকানা পাঠাচ্ছি," লোকটা বলল। "একা আসবেন। রেকর্ড করে এমন কিছু সঙ্গে আনবেন না।"
সে গেল।
ঠিকানাটা তেজগাঁওয়ের একটা সাদামাটা বিল্ডিং, যেন ইচ্ছে করেই অন্য সব সরকারি সহায়ক অফিসের মতো দেখতে বানানো। ডঃ সাব্বির চৌধুরী ষাটের কোঠার শেষদিকে, দশকের পর দশক এমন সব ঘরে কাটানো মানুষের সাবধানী ভঙ্গি নিয়ে, আর চোখে সেই বিশেষ ভাব — যে কঠিন জিনিস দেখেছে এবং তা মেনে নিয়েছে।
তার অফিসে এমন যন্ত্রপাতি ছিল যা সে চিনত, আর এমনও ছিল যা চিনত না। অচেনা যন্ত্রগুলো দেখতে কাস্টম-তৈরি, দশকের পুরনো, সময়ের সাথে বারবার পরিবর্তিত।
"বসুন," লোকটা বলল। "আমি প্রথমে বলব আমরা কী, তারপর বলব আপনাকে কেন ডেকেছি, আর শেষে বলব সবচেয়ে কঠিন কথাটা।"
সে বসল।
"এই বিভাগটা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে, বিসিএসআইআর-এর এক গবেষকের একটা আকস্মিক আবিষ্কারের পর," লোকটা বলল। "তিনি ভিএইচএফ সিগন্যাল প্রোপাগেশন নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন এমন এক অস্বাভাবিক ফ্রিকোয়েন্সি পান যা গঠনসম্পন্ন সংকেত তৈরি করছিল — এলোমেলো শব্দ নয়, যন্ত্রের ত্রুটি নয়, বরং একটা সুগঠিত সংকেত। তখন থেকেই আমরা এটা নিয়ে গবেষণা করছি।"
"মৃত্যু-ফ্রিকোয়েন্সি," সে বলল।
লোকটা কোনো বিস্ময় ছাড়াই তার দিকে তাকাল। "হ্যাঁ। যখন কেউ নির্দিষ্ট
"দুর্ঘটনার বাকি অংশ
রাফি যা দেখেছিল কিন্তু জবানবন্দিতে বলেনি।"
সে নিজেকে বলেছিল আর কখনো রাফির সাথে যোগাযোগ করবে না। এই সিদ্ধান্ত চার দিন টিকেছিল।
সে তাকে টেক্সট করল: আমার আরও কিছু প্রশ্ন আছে। তোমার ভূমিকা নিয়ে না। তুমি যা দেখেছিলে সে বিষয়ে।
সে বিশ মিনিটের মধ্যে জবাব দিল: আমি ভেবেছিলাম তুমি চাইতে পারো। কখন?
তারা আবার সেই একই কফি শপে দেখা করল। তাকে আগের মতোই দেখাচ্ছিল। সে বুঝতে শুরু করছিল যে তাকে সবসময় এমনই দেখায়—ক্লান্ত, নিঃশেষিত ভাবটা তার স্বাভাবিক অবস্থা। সে এটাও বুঝতে শুরু করছিল যে সেই নিঃশেষিত ভাবের নিচে কিছু একটা এখনও অক্ষত রয়ে গেছে। তার ক্ষতি হয়েছিল। তবে সে ধ্বংস হয়ে যায়নি।
"তুমি কী দেখেছিলে যা জবানবন্দিতে বলোনি?" সে বলল।
"সংঘর্ষের ত্রিশ সেকেন্ড আগে," রাফি বলল, "আয়ান রাস্তার সঠিক পাশে, স্ট্রিটলাইটের নিচে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিল। সে ফোনে কথা বলছিল। সে দৃশ্যত উত্তেজিত ছিল—যেভাবে মানুষ শারীরিক ভঙ্গিতে প্রকাশ করে যখন কোনো কথোপকথন গুরুত্বপূর্ণ হয়। সে ফুটপাত থেকে নেমে পড়ল কথা বলতে বলতেই। সে পথচারী পারাপার থেকে দূরে, কোণাকুণিভাবে রাস্তা পার হচ্ছিল, গাড়ির লেনের দিকে। সে গাড়িটা দেখেনি। সে পুরোপুরি ফোনকলে মগ্ন ছিল।"
সে এই কথাগুলো নিয়ে চুপচাপ বসে রইল।
"সে তোমার সামনে এসে পড়েছিল," সে বলল।
"ইচ্ছাকৃতভাবে না," রাফি সাথে সাথে বলল। "সে রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিল না। কিন্তু সে-ই পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এটা আমার দায়িত্ব কমায় না। রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব ছিল আমার। কিন্তু দুর্ঘটনাটা শুধু আমার দোষে হয়নি। আর আমি জবানবন্দিতে এটা বলতে পারিনি, কারণ তাতে তাকে দোষারোপ করা হতো, যা ভুল মনে হয়েছিল। সে তো মারা গিয়েছিল।"
"সে কার সাথে কথা বলছিল?" সে বলল।
"আমি জানি না। যতক্ষণে আমি তার কাছে পৌঁছাই, ততক্ষণে ফোনটা তার হাত থেকে পড়ে রাস্তায় ভেঙে গিয়েছিল।"
"পুলিশ রিপোর্টে ভাঙা ফোনের কথা লেখা ছিল। তারা ডেটা উদ্ধার করতে পারেনি।"
"না।"
সে চুপ করে রইল। সে আয়ানের কথা ভাবছিল, তার সেই বিশেষ ভঙ্গি—গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনে হারিয়ে যাওয়া, শারীরিক মগ্নতা, বাইরের জগৎ ভুলে যাওয়া।
সে ভাবল: সে ট্র্যাফিকের মধ্যে হেঁটে গিয়েছিল কারণ সে এমন একটা কথোপকথনে ছিল যা তাকে সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করে ফেলেছিল। এটাই সবচেয়ে বেশি আয়ানসুলভ ব্যাপার। আর এটা আমার হৃদয় ভাঙে, আগের চেয়ে একেবারে ভিন্নভাবে।
"আমার জানা দরকার মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে সে কাকে ফোন করেছিল," সে বলল। "ফোনের রেকর্ড। তুমি কি জোগাড় করতে পারবে?"
সে তার দিকে তাকাল। "আমি একজন তদন্তকারী সাংবাদিক। নথিভুক্ত প্রায় সবকিছুই আমি জোগাড় করতে পারি।" সে থামল। "কেন?"
"কারণ ট্র্যাফিকের মধ্যে হাঁটার সময় সে যা নিয়ে কথা বলছিল, তার সাথে এরপর যা ঘটেছে তার সম্পর্ক আছে। আমার মনে হয় সে ফ্রিকোয়েন্সিগুলোর ব্যাপারে জানত। আমার মনে হয় সে সরকারি একটা বিভাগ নিয়ে তদন্ত করছিল যারা এসব নিয়ে গবেষণা করে। আমার মনে হয় এই কারণেই সে এখনও সংকেত পাঠাচ্ছে। শুধু এই জন্য নয় যে আমি তাকে ভালোবাসতাম। বরং তার দরকার আমি জানি সে কী খুঁজে পেয়েছিল।"
রাফি বলল: "আমি ফোনের রেকর্ড জোগাড় করব। আমাকে এক সপ্তাহ সময় দাও।"
সে মাথা নাড়ল।
"জারা," সে বলল, যখন সে উঠে দাঁড়াল বিদায় নিতে। সে থেমে গেল। " আমি দুঃখিত্ত। সব কিছু জন্য। আমি জানি এমন কোন ক্ষমা নেই যা যথেষ্ট।"
চলবে......