#ভালোবাসাটা_যে_হয়ে_গেল
#লেখিকা:আসরিফা সুলতানা জেবা
#পর্ব___৫
নিজেকে সংযমে রাখতে অসফল হয় অন্তর। মস্তিষ্কে দাপিয়ে বেড়ানো ক্রোধ যেন আগুনের স্ফুলিঙ্গ হয়ে ঝরছে চক্ষু গহ্বর থেকে। মুষ্টিমেয় হওয়া হাতটা উঠিয়ে ঘুসি বসিয়ে দিল শাহেদের চোয়াল বরাবর। রোষে তৈরি হওয়া অসুরে শক্তির মুষ্ট্যাঘাতে মাটিতে ছিটকে পড়ল শাহেদ। ঠোঁটের কোণে তরল কিছুর টের পেয়ে সেখানে আঙ্গুল ছুঁয়ে সামনে এনে দেখল তার আঙ্গুলে র-ক্ত। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলো সে,
" আমাকে মা-রলি ক্যান? যা সত্য তা-ই কইলাম। তুই রিনিরে লইয়া সংসার করবি? না করলে ওরে আমি চাইলে তোর ক্যান জ্বলতেছে? তুই রিনিরে ছাড়লে ওর জীবনে তালাকের তকমা লাগব না? ওর কি সুখ পাওনের অধিকার নাই? আমি ওরে সুখ দিমু,যত্নে রাখমু,ভালোবাস..."
ওর চোয়ালে আরেকটি ঘুসি পড়ল সর্বশক্তিতে। অসমাপ্ত থেকে গেল বাক্যখানি। প্রবল আক্রোশে ফেটে পড়ল অন্তর,
"আরেকবার আমার বউয়ের নাম তুই মুখে নিলে জিভ টাইনা ছিঁড়ে ফেলমু কু-ত্তার বাচ্চা। ওরে আমি তালাক দিই বা না দিই তোর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হইবে? "
শাহেদ তাচ্ছিল্য করল," আমি পরামর্শ দিতাছি না। আমি জানি তুই রিনিরে বিয়ে করবার চাইছিলি না। ছাইড়া যাবি গা। তোর ছাড়নের পর আমি ওরে আমার কইরা নিলে তোর কী? এমন চ্যাতছস ক্যান? আমি আরও তোর মুশকিল আসান কইরা দিতাছি। তুই ছাইড়া গেলে রিনি আমার কাছে সুখে থাকলে মেয়েডার লগে তুই অপরাধ করছস এমন লাগব না। রিনিরও জীবন স্যাটেল,তোরও জীবন স্যাটেল। যেমনডা তুই চাইছস।"
শাহেদের কথা অসত্য নয়। অন্তর নিজেই এমন ছক কষেছিল। ভিসা হয়ে গেলে রিনিকে এই মিছেমিছি সম্পর্কের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে দিবে এবং তাকে বলবে নতুন কারো সাথে নতুন একটি সম্পর্কের প্রারম্ভ করতে। তাহলে আজ কেন শাহেদের মুখ থেকে নিঃসৃত বাক্যগুলো তার শরীরের শিরা-উপশিরায় রোষানল ছড়িয়ে দিচ্ছে? কপালের রগ দপদপ করছে,পেশিগুলো শক্ত হয়ে আসছে। শাহেদকে অসহ্য লাগছে তার। হাত বাড়িয়ে তার জিহ্বা টেনে বের করে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ফেলতে ইচ্ছে করছে যেন এই মুখে আর রিনির নাম না আসে। রাগের চোটে শাহেদের মুখে আরেকবার ঘুসি মা-রতে গিয়ে থেমে গেল রিনির আর্তচিৎকারে। আতঙ্কগ্রস্ত মেয়েটির দৃষ্টি। তার চিৎকারে আশেপাশের বাড়ি থেকে মানুষজন বেড়িয়ে এসেছে ব্যস্তসমস্ত হয়ে।এতক্ষণ ধরে নির্জন থাকা জায়গাটা পরিপূর্ণ হতে লাগল মানুষে মানুষে। শাহেদকে ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ায় অন্তর। সে চায় না সংঘর্ষ আর বাড়ুক। রিনির মানসম্মানের ব্যাপার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এখানে। তার অবচেতন মন কিছুতেই চায় না রিনির সম্মানে এটুকু দাগও লাগুক। এখানে কিছুক্ষণ থাকলে ভয়ানক কিছু করে বসবে সে ক্রোধের তাড়নায়। রিনির শঙ্কিত,হতচকিত দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে তাদের পাশ দিয়ে যাওয়া একটি টমটম ডেকে উঠে চলে গেল সে। তার যাওয়ার পানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রিনি। ইতোমধ্যে শাহেদকে মাটি থেকে উঠিয়েছে কয়েকজন মিলেঝুলে। রিনি তার কাছে উদভ্রান্তের মতো ছুটে আসল,
" তোমরা মা*রা-মা*রি করছিলে কেন শাহেদ ভাই? কী হয়েছে যে উনি এমন রে-গে গেলেন?"
শাহেদ সত্য লুকিয়ে ফেলল। মিথ্যার পসরা সাজিয়ে বলল," আরে আমাদের স্কুল জীবন থাইকা এমন ছোটোখাটো দ্বন্দ্ব হয়। এইডা লইয়া অমন সিরিয়াস হইবার কিচ্ছু নাই। "
তার কথাটা রিনির বিশ্বাস হলো না। অন্তরকে একজন ধৈর্যশীল পুরুষ হিসেবে সে জেনে এসেছে। বিনা কারণে খুব একটা রাগে না মানুষটা। বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হবার পরও অন্তর,শাহেদকে বাড়িতে আসতে না দেখে রিনি ওদের ডাকতে এসেছিল। এসেই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটির সম্মুখীন হলো সে। সাথে তার চোখের তারায় ভেসে উঠল অন্তরের আগুনে লোহা গনগনে লাল হয়ে যাওয়ার মতো মুখটি। বাড়িতে এসে আনজুকে হড়হড় করে জিজ্ঞেস করল,
" আব্বার ফোনটা কি ঘরে আছে আম্মা?"
আনজুর প্রেশারটা বেড়েছে। শরীর খারাপ থাকায় রান্নাবান্না শিকেয় উঠেছে। বড়ো মেয়েটারে আসতে বলেছিলেন কিন্তু তার শাশুড়ি বাড়ি না থাকায় আসতে পারল না। পরে ছোট মেয়েকে তলব পাঠিয়ে আনলেন তিনি।
" টেবিলটার ওপর দ্যাখ। "
রিনি তার বাবা-মায়ের ঘরের একপাশে রাখা টেবিলটার ওপর তার বাবার বাটন ফোনটি পেল। অন্তরের নম্বর মুখস্থ আছে তার। মোবাইলটা নিয়ে নিজের ঘরে এসে কল দিল সে অন্তরকে। পর পর পাঁচবার কল দেওয়ার পরও অন্তর ফোন না ধরায় অস্থির হয়ে পড়ল মেয়েটা। কী হয়েছে তার? কেন অমন ঘাত-প্রতিঘাতে জড়িয়ে রাগ টাগ দেখিয়ে হনহন করে চলে গেল? বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর হাল ছেড়ে দিল সে। দুপুর হয়ে গেছে। চুলায় রান্না চাপাতে হবে। আনজু রাঁধতে পারেন নি অসুস্থতার জন্য৷ দোচালা টিনের ঘর রিনিদের। মেঝে পাক্কা করা। সামনের দিকে রোয়াক। বারান্দা পার হয়ে সদর দরজা দিয়ে ঢুকলে বসার ঘর। তারপর ভিতরে তিনটি শোবার ঘর। পেছনে বড়ো পুকুর। অন্তরদের বাড়ির মতো ইট,বালু, সিমেন্ট দিয়ে তৈরি সিঁড়ির মতো ঘাটলা নেই এখানে। একটা গাছের গুঁড়ি পেতে রাখা হয়েছে। তাতে বসে পুষ্করিণীর হালকা সবুজ টলমল জলে রিনি সবজিগুলো ধুয়ে নিল,চাল ধুয়ে নিল। সেগুলো নিয়ে রান্নাঘরে যাওয়ার পথে কর্ণধারে ঝনঝন করে প্রবেশ করল আব্বার ফোনের রিংটোনের শব্দ। তড়িৎ বেগে ও ছুটে গেল ঘরের মধ্যে। অন্তর ফোন করেছে। বুকের ধুকপুকানি নিয়ে ফোনটা রিসিভ করল সে,
" বলো রিনি।"
রিনি না চমকে পারল না," আপনি কীভাবে জানলেন আমি ধরেছি ফোনটা?"
" তোমার বাবা আমাকে এত পাগল হয়ে ফোন কেন দিবে বলো? "
অন্তরের কণ্ঠ স্বাভাবিক লাগছে। তা সত্ত্বেও ভয় লাগছে রিনির। জগৎ জোড়া কুণ্ঠা তার কণ্ঠে,
" তখন এত রেগে চলে গেলেন কেন?"
" আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই।"-নির্লিপ্ত জবাব অন্তরের।
রিনি ভ্যাবাচেকা খেল," রাগটাও কি আপনার ইচ্ছেতে হয়েছে? "
অন্তর আগের মতোই জবাব দিল," হ্যাঁ, রাগটাও আমার ইচ্ছেতে হয়েছে।"
এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে রিনি কী বলবে মনের মধ্যে আঁতিপাঁতি করেও খুঁজে পেল না কিছু। আচম্বিতে মন সমুদ্রে উতালপাতাল লহরী তোলা কণ্ঠে তাকে ডাকল অন্তর,
" রিনি?"
কোনো এক জাদুবলে বশ মেনে নেওয়া প্রাণীর মতো বশীভূত হয়ে বিনা বিলম্বে বলল," জি?"
" আজকে থাকবে ওখানে? "
" হ্যাঁ, আম্মার শরীরটা ভালো না হওয়া পর্যন্ত থাকব। বাড়িতে বলেছিলাম, শুনেন নি?"
" থাকতেই হবে?"
অন্তরের গলাটা শুনে রিনির হৃৎপিণ্ড তড়াক করে লাফিয়ে উঠল। বড্ড বিমর্ষ শোনাল কণ্ঠ। কী হয়েছে তার? অদ্ভুত আচরণ করছে আজকে মানুষটি। রিনি দ্বিধাজড়িত গলায় বলল,
" আসলে আম্মাকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে কীভাবে যাই?"
অন্তর তার মনের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না। সে নিজেও ঠাহর করতে পারছে না কেন এসব বলছে রিনিকে। আর কিছুক্ষণ ফোনালাপ চললে সে যে বেসামাল কথাবার্তা বলে বসবে সেই শঙ্কায় হড়বড়িয়ে বলল,
" আচ্ছা,থাকো যতদিন মন চায়। রাখছি। "
ফোন রেখেও শান্তি পাচ্ছে না সে। খাবার টেবিলে খেতে গিয়ে এক লোকমার বেশি ভাত গলা দিয়ে নামল না। বুকের ওপর যেন ভারী কিছু চেপে আছে। অথবা কেউ যেন একের পর এক পেরেক গেঁথে যাচ্ছে তার বুকে।অসহনীয়,দুর্দমনীয় অস্থিরতা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরছে তাকে বারংবার। বিকেলে সিগারেটে এক টান দেওয়ার পর সেটাকে ছুঁড়ে ফেলল পুকুরের পানিতে। অশান্ত হয়ে গায়ের শার্ট খুলে নেমে পড়ল পুকুরে। সাঁতার কাটল সাঁঝ নামার আগ পর্যন্ত।
তবুও অস্থিরতা কমার নামধাম নাই। শাহেদের কথাগুলো কি তার অস্থিরতার জন্য দায়ী? কেন মানতে পারছে সে শাহেদের কথাগুলো? রিনি তার বউ বলে? এই ভুবনের কোনো পুরুষই বোধহয় তার স্ত্রীকে অন্য পুরুষ ভালোবাসলে শুনলে র-ক্ত গরম হয়ে যাবে,কিন্তু রিনি সমাজের চোখে তার বউ হলেও সত্যিকার অর্থে যে সে রিনিকে বউ মানে না,ভালোবাসে না। তাহলে কীসের জন্য শরীরজুড়ে এই অস্থিরতা? রাতে ঘুমাতে গিয়ে মেজাজ আরও খিঁচড়ে গেল তার। আজ পাশে রিনি নেই বলে শূন্য শূন্য লাগছে বিছানাটা। খানিক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে উঠে বসল সে। রিনির সাথে ঘুমিয়ে তার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল। বাজে এক অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেল শরীর-মন। মেয়েটা নিত্যদিন তার পাশে তার বিছানায় ঘুমাত বলে আজ বিছানায় একলা ঘুমাতে গিয়ে যত অশান্তি হচ্ছে তার। বালিশের পাশ থেকে শার্টটা নিয়ে পরতে পরতে উঠোনে আসল সে। সালেহাকে ডেকে বলল,
" আম্মা দরজাটা লাগিয়ে দিও। "
" রাইতের বেলায় কই যাস পাগলের মতো?"
" রিনিদের বাড়ি যাই।"
সালেহা বিস্মিত হলেন থইথই অন্ধকারে ছেলেকে উন্মাদ হয়ে ছুটে যেতে।
চাঁদ লজ্জা পেয়ে কৃষ্ণ মেঘের আড়ালে ঢেকে রেখেছে নিজেকে। নিসর্গকে অল্পখানি জোছনা বিলি করতে তার ভীষণ কৃপণতা। আঁধারে ডুবে আছে মেঠোপথ। সুনসান নীরবতা প্রকৃতি জুড়ে। সুষুপ্তির কোলে ঢলে পড়েছে মানুষজন। এই মুহূর্তে গাড়ি বা ভ্যান পাওয়া দুষ্কর। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে পায়ে হেঁটেই রিনিদের বাড়িতে পৌঁছাল অন্তর।
জানালায় কারো হাতের বারির শব্দে রিনির অন্তরাত্মা খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে যাবার উপক্রম। বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠে বসল ও। এগিয়ে গিয়ে শুষ্ক গলায় প্রশ্ন করল," কে?"
" আমি। "
অনুচ্চ স্বরটি চিনতে ভুল হলো না রিনির। দ্রুত হাতে জানালা খুলে দিল সে। অপরপাশে অন্তরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মৃদু চিৎকার চলে আসে তার কণ্ঠ গলিয়ে,
" আপনি!"
" প্রচণ্ড মশা কামড়াচ্ছে। দরজাটা খুলো গিয়ে। "
রিনি ত্রস্ত পায়ে দরজা খুলে দিল। অন্তর ঘরে ঢুকে সোজা তার ঘরে চলে এলো। পরিশ্রান্ত দেহটিকে বিছানায় এলিয়ে দিয়ে শান্ত সুরে হুকুম করল,
" ঘুমাতে আসো। "
বিমূঢ় হয়ে একমনে চেয়ে আছে রিনি। কী হচ্ছে তার ছোট্ট মাথায় কিছুই ঢুকছে না। বিছানার সন্নিকটে এগিয়ে আসল সে। দৃষ্টি প্রশ্নাত্মক,
" এত রাতে এলেন যে?"
অন্তর সেকেন্ডের মধ্যে উত্তর দিল," আম্মা বলেছে।"
" আম্মা আপনাকে রাতের বেলা আসতে বলেছে?"
" হু। বলল,তোর শাশুড়ি অসুস্থ। তোর শ্বশুর বুড়ো মানুষ। রাত-বিরেতে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার দরকার পড়লে রিনি একা কীভাবে কী করবে? আমি আম্মার বাধ্য সন্তানের মতো তার আদেশ মানতে চলে এলাম।"
" সত্যিই আম্মা পাঠিয়েছে আপনাকে?"
" হ্যাঁ, নয়তো আমি আসতাম? বউয়ের জন্য পাগল পাগল হয়ে ছুটে আসার মতো সম্পর্ক কি আমাদের মধ্যে আছে?"
মুখে অন্য কথা বললেও অন্তর জানে সে রিনির সান্নিধ্য ব্যতীত ঘুমাতে পারছিল না বলে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটে এসেছে। রিনি কথা না বাড়িয়ে শুয়ে পড়ল তার পাশে। ওর ঘরের খাটটা ছোট। যার ফলে অন্তরের বাহুর সাথে তার বাহুর স্পর্শ লাগছে। পুরুষালি ঘ্রাণে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে অভ্যন্তর। ভারী হয়ে আসছে নিঃশ্বাস। রিনির ইচ্ছে করছে এক্ষুনি তার বা পাশে শুয়ে থাকা পুরুষটির প্রশস্ত বুকে হামলে পড়ে তার দেহের ঘ্রাণে মাতোয়ারা হতে। সব ইচ্ছে কি পূরণ হয়? এক হাতে বিছানার চাদর খামচে ধরে অবশীভূত চাওয়াটাকে দমনের যুদ্ধে নেমে পড়ল ও।
গভীর রজনীতে আকাশপাতাল কাঁপিয়ে বৃষ্টি নামল। বাহিরে বয়ে চলা জোরালো বাতাসে ঘুম ভাঙল অন্তরের। দেখল রিনি ঘুমের ঘোরে তার অনেকটাই কাছে চলে এসেছে। দুজনের দেহ প্রায় ছুঁই ছুঁই। অন্তর সাবধান হয়ে সরতে নিলে রিনি সেই তফাত টুকু মিটিয়ে দিল। তাকে ঝাপটে ধরল, পেঁচিয়ে ধরল সাপের মতো। তার উদোম বুকে নরম, পেলব ওষ্ঠযুগল ডুবিয়ে এক হাতে আঁকড়ে ধরল তার কোমর। এক পা তুলে দিল তার পায়ের ওপর। অন্তরের বুকের পাঁজরে বিধ্বংসী যুদ্ধ লেগে গেল নাজুক শরীরের ছোঁয়ায়। উন্মত্ত হয়ে পড়ল তার পুরুষালি সত্তা। এতগুলো মাসে মেয়েটা কোনোদিন তার ঘনিষ্ঠ হয় নি তাহলে আজ কেন তার কাছে এলো?টেবিলের ওপর রাখা হারিকেনের নিভু নিভু আলোয় দেখল রিনি কুঁকড়ে আছে। তার মানে বৃষ্টির শীতল বাতাসে ঠাণ্ডা লাগছে ওর? চোখ বুলিয়ে কাঁথা খুঁজল সে। না পেয়ে হতাশ হলো। সারা সন্ধ্যা গরমে অতিষ্ঠ করে দিয়ে রাতের মধ্যভাগে আসা ঝড় তার হৃদয়েও ঝড় তুলে দিয়েছে। তার বুকে ডোবা রিনির ঠোঁট দুটোর উষ্ণ ছোঁয়া সইতে না পেরে তাকে টান দিয়ে বুক থেকে সরিয়ে দিল সে। রিনির ঘুম ভাঙল না,নড়েচড়ে ঘুমে তলিয়ে গেল সে। অন্তর ওকে সরিয়ে শান্তি পাচ্ছিল না। বরং উম্মাদনা বেড়ে গেল শতগুণ। হাত বাড়িয়ে ফের টেনে নিল বুকে। প্রমত্ত হয়ে তাকিয়ে দেখল রিনির গোলাপের পাপড়ির মতোন ঠোঁটগুলোকে, যে ঠোঁট দুটি তার শরীরে উষ্মা ছড়িয়েছে,তার বুকে আগুনের লাভা ছড়িয়েছে। আর সেই লাভায় পুড়তে পুড়তে অন্তর তার সিগারেটে পোড়া ঠোঁট দুটিকে তুলতুলে ঠোঁট দুটির কাছে এগিয়ে নিল,খুব কাছে।
#চলবে~
( ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমার পেজটা গত বছর কয়েক ধরে গল্পের অভাবে ভুগছে তো তাই গল্প সবার নিউজফিডে যায় না। চেষ্টা করবেন সবাই রেসপন্স করার।)