#Haunting_Adeline
#Translator_by_গল্প
#পর্বঃ২ (সিজন ২)
⚠️সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন। ❌
Chapter 2
The Hunter
মানুষ আমাকে অবাক করে খুব কমই।
আমি সবার কাছ থেকে খারাপটুকুই আশা করি, নিজের থেকেও। বরং নিজের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি আশা করি।
কিন্তু যখন সেই কণ্ঠটুকু আমার যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন মাথার ভেতর দিয়ে ভেসে আসে, তখন একমাত্র যা অনুভব করি তা হলো অবাক হওয়া আর আমার মাথার পেছনে ঠান্ডা ধাতুর চাপ।
“ভালো করেছ চিনতে পেরেছ, Jason Scott। এখন হাতগুলো দেখাও, না হলে এই একটাই গুলি তোমাদের দুজনের মস্তিষ্ক ভেদ করে চলে যাবে।”
Jay-এর মুখে আমার ঠিক একই রকম বিস্ময়ের ছাপ পড়ে। ওর চোখ বড় হয়ে যায়, ঠোঁট নাড়িয়ে ফিসফিস করে বলে,
“তুমি?”
“হ্যাঁ। আমি।”
মাদার… ফাকার।
আমার মাথা দৌড়াচ্ছে, প্রতিটি সাক্ষাৎ স্মরণ করার চেষ্টা করছি, কীভাবে মিস করলাম এটা—মিস করলাম যে ও একদম ছদ্মবেশী নেকড়ে।
ও নিজের ভূমিকা চমৎকারভাবে অভিনয় করেছে।
“তুমি জানো, এতে আমার মনের অনেক কষ্ট হচ্ছে,” আমি দাঁতে দাঁত চেপে বললাম, চোয়ালের পেশী নাড়তে নাড়তে।
“আমার মনে হচ্ছে তুমি ঠিকই সামলে নেবে,” ও উত্তর দিল।
বাম দিক থেকে একটা পুরুষের আর্তচিৎকার ভেসে আসে, ধোঁয়ার আড়ালে মুখ লুকানো।
কোথাও একটা বোমা বিস্ফোরিত হয়েছিল, আমাকে ছিটকে নিয়ে গিয়েছিল সেই পাথরের বেদির উপরে, যেখানে ওরা তাদের রক্তাক্ত আচার করতো। কতটুকু ক্ষতি হয়েছে আমার, জানি না, কিন্তু পুরো শরীরে ক্রমশ তীব্র ব্যথা বলে দিচ্ছে, আমাকে হাসপাতালে যেতে হবে।
কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে হাসপাতালে যেতে পারব না, সেটা বুঝতে কোনো জ্যোতিষীর দরকার হয় না।
এই মানুষ-তৈরি গুহার মধ্যে এখনও আতঙ্ক আর চিৎকার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, পাথরের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসছে, আর আমার মাথার ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই নরকখানাই সেই জায়গা, যেখানে Society শিশুদের বলি দিত।
একটা নিষ্ঠুর দলে ঢোকার জন্য, যেখানে ওরা ধর্ষণ ও খুন করার জন্য শিশুদের সরবরাহ করত।
নয় মাস আগে ডার্কওয়েবে প্রথম ভিডিও ফাঁস হয়েছিল। তারপর থেকে রাত-দিন পরিশ্রম করেছি, এই আচার অনুষ্ঠানে ঢোকার জন্য।
অবশেষে ঢুকতেও পেরেছিলাম।
কিন্তু Society বুঝে গিয়েছিল আমি আসছি, তাই আমার জন্য ফাঁদ পেতে রেখেছিল।
Dan—যে আমাকে এখানে ঢুকতে সাহায্য করেছিল—সে বলেছিল যে, ভিডিও ফাঁস করার অপরাধীকে ধরতে পেরেছে ওরা।
আমি বুঝতেই পারিনি যে ওই নতুন ভিডিও ইচ্ছে করেই ডার্কওয়েবে ছাড়া হয়েছিল, যাতে আমি তা দেখে এখানে আসি। ওরা আমাকে টেনে এনে শেষ করে দিতে চেয়েছিল।
“তুমি আমার একটা মেয়েকে কেড়ে নিয়েছ, Z,” পেছন থেকে ওর ঠান্ডা গলা বলে উঠল।
“তুমি বুঝে নিয়েছিলে এটাই ঝুঁকি,” আমি উত্তর দিলাম, শ্বাস নিতে গিয়েও ব্যথায় কাঁপতে লাগল। প্রতিটি নিঃশ্বাসে যন্ত্রণা বাড়ছে।
যে ছোট মেয়েটিকে আমাকে আর তিনজন পুরুষকে বলি দেওয়া হচ্ছিল, তাকে এখান থেকে বের করে আনা হয়েছিল, সম্ভবত বিস্ফোরণের আগে। Michael-এর হাতে ওকে তুলে দিয়েছিলাম। এখনো ওর কোনো খবর পাইনি।
“দুজনেই উঠো। তোমাদের আমার সাথে যেতে হবে।”
“আমি হয়তো এখন ধ্বংস হয়ে আছি, কিন্তু সুযোগ পেলে ঠিকই তোমাকে মেরে ফেলবো,” আমি গর্জে উঠলাম, পিঠে ব্যথার ঢেউ ওঠায় প্রায় কষ্টে আর্তনাদ করে ফেলছিলাম।
মুভির মতো হলে ভালো হতো, যেখানে বিস্ফোরণের পর নায়ক উঠে দাঁড়িয়ে পুরো দুনিয়া রক্ষা করে। বাস্তবে তা সম্ভব নয়।
“তুমি সেটা করবে না, Z। জানো কেন?”
আমি থেমে গেলাম। বুকের মধ্যে যেন বিশাল এক গহ্বর তৈরি হলো। মনে হলো Jaws এর মুখ হা করেছে, আর আমি সেই নিরীহ সাঁতারু যে এখন গিলে খাওয়া হবে। আমি জানি ও কী বলতে যাচ্ছে, আর যদি সত্যিই বলে, তাহলে আমি পাগল হয়ে যাব।
আমি ভয়ানক শান্ত গলায় বললাম, “পবিত্র সব কিছুর নামে বলছি, যদি তুমি আমার মেয়েটিকে স্পর্শ করে থাকো, আমি তোমাকে শেষ করে দেব।”
ওর নীরবতা সব কিছু বলে দিচ্ছিল, আর আমার দৃষ্টির সামনে অন্ধকার নেমে এলো। রাগের সুনামি আমাকে গ্রাস করল। মুঠো হাত শক্ত করে ধরলাম, নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলাম।
“Zade।”
মাথার ভেতর তাগাদা দিচ্ছিল, এখনই উঠতে হবে, Addie-কে খুঁজে বের করতে হবে, যত দ্রুত সম্ভব।
“Zade।”
কে জানে কতদূর নিয়ে গেছে ওকে, কতটা কষ্ট দিয়েছে…
শরীর শক্ত হয়ে গেল, মাথার ভেতর কল্পনা ভিড় করল, কীভাবে ওরা ওকে কষ্ট দিচ্ছে…
যদি ওরা ওকে ছুঁয়েও থাকে…
“ফাক, ZADE! আমাকে দেখ!”
Jay-এর গলা কানে এলো, কিন্তু আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। কিছুই না।
পেছন থেকে বন্দুকের চাপ আরও বাড়িয়ে দিল ও। কখন উঠে পড়েছি মনে নেই, কিন্তু হাঁটু গেড়ে বসে আছি, সোজা হয়ে তাকিয়ে আছি সামনের দিকে।
মনে মনে ভাবছি, কীভাবে এই মেয়েটিকে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলবো।
“নিচে বসে থাক,” পেছন থেকে ও গর্জন করল।
“একটু থাম, ও কিছু একটা করে ফেলবে,” Jay আতঙ্কিত গলায় বলল। ঠিক সেই সময় এক ঘুষি এসে লাগল আমার কপালে, দৃষ্টিশক্তি ফিরে এলো। Jay-এর মুখ দেখলাম, তার হ্যাজেল চোখ আমার inches দূরে।
“নিজেকে সামলাও,” ও দাঁতে দাঁত চেপে বলল, কপালের শিরা দপদপ করছে, ঘাম ঝরছে।
আমি বন্দুকের ব্যারেলটা শক্ত করে ধরে ফেলেছিলাম, যেটা আমার মাথায় গোঁজা ছিল। টান দিয়ে নিতে আর এক সেকেন্ড বাকি ছিল।
“ছেড়ে দাও,” Jay কঠোর গলায় বলল। “তুমি ভাগ্যবান যে এখনো মাথায় গুলি লাগেনি। এখনই ওকে মারতে পারবে না।”
“দেখি না, তুমি কী করতে পারো,” মেয়েটি থুতু ছিটিয়ে বলল, বন্দুক ঠেলে দিল। আমি দাঁত চেপে ব্যারেল ছেড়ে দিয়ে হাঁটুর উপর হাত রাখলাম। শরীর থেমে থাকা সত্ত্বেও ভিতরে ভিতরে এমনভাবে কাঁপছিল যে মনে হচ্ছিল বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে।
ও বলতে লাগল,
“তুমি ভাবছ তুমি শক্তিশালী, কিন্তু তোমার শক্তি আমার কাছে কিছুই না। আমি চাইলে তোমাকে এমনভাবে গায়েব করে দেব, যেন তুমি কোনোদিন এই পৃথিবীতে ছিলেই না।”
আমি গর্জন করে উঠতে যাচ্ছিলাম, ওকে দেখিয়ে দিতে যাচ্ছিলাম কত বড় ভুল বলছে। কিন্তু দাঁত চেপে ধীরে শ্বাস নিলাম। Jay ঠিক বলছে। ওর হাতে বন্দুক, গুলি আমার চেয়ে দ্রুত, আর ও Jay-কেও মেরে ফেলতে একটুও দ্বিধা করবে না।
চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিলাম, নিজেকে সেই ভয়ানক শীতল জায়গায় নিয়ে গেলাম, যেখানে খুব কম যেতে হয়েছে জীবনে।
অন্তরাত্মায় নীরবতা নেমে এলো, আগুনের মতো রাগ নিভে গিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেল। চোখ খুলতেই Jay এর পিঠ সোজা হয়ে গেল। ও যা দেখল, সেটা ওকে আতঙ্কিত করে তুলল।
আমি জানি, এখন এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হবে, তারপর Addie-কে খুঁজে বের করতে হবে। তারপর এই মেয়েটিকে দেখিয়ে দিতে হবে, আমি কী করতে পারি।
“তুমি ওকে নিয়েছ?” আমি প্রশ্ন করলাম। আমি জানি ও নিয়েছে, তবুও ওর মুখ থেকে সেটা শুনতে চাই।
ওর গরম নিঃশ্বাস কানে এসে লাগল, তারপর ওর ঠান্ডা, উপহাস ভরা কণ্ঠে বলল,
“হ্যাঁ, আমি ওকে নিয়েছি। আর আমি ওকে বিক্রি করব সেইসব মানুষদের কাছে, যাদের সবচেয়ে বিকৃত চাহিদা আছে। আর তুমি কিছুই করতে পারবে না।”
Z গঠন করার পর থেকে আমার এক জিনিস ঘৃণা লাগে—আমার কল্পনা অত্যধিক তীব্র। এই লাইনে এটা একটা অভিশাপ। যখনই নতুন কোনো ভিডিও ডার্কওয়েবে আসে, তখনই আমি প্রথমে যা ভাবি, তা হলো কতটা বিকৃতভাবে ওরা শিশুদের ও মহিলাদের কষ্ট দিচ্ছে।
আমার নিজের কল্পনা আমাকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে কষ্ট দেয়।
কিন্তু এখন? আমি খুশি।
কারণ এই মুহূর্তে আমি মজা নিচ্ছি, কীভাবে Claire Seinburg-কে খুন করব, সেই দৃশ্য কল্পনা করে।
“তাহলে,” আমি বললাম, পিঠে যন্ত্রণা হঠাৎ তীব্র হয়ে উঠতেই মুখ বিকৃত হলো, “Mark কোনোদিন তোমার নির্যাতনকারী ছিল না, তাই না?”
ও হেসে উঠল। “ও ছিল। কিন্তু ও বুঝতেই পারত না, ও যখনই আমাকে আঘাত করত, আসলে নিজের মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। ও কখনো বুঝতে পারত না, সবকিছু আমি নিয়ন্ত্রণ করছিলাম। বোকা ছিল ও।”
ও Jay আর আমাকে ঘিরে হাঁটতে লাগল, বন্দুকের মুখ এখনো আমার মাথার দিকে তাক করা। ওর লাল ঠোঁট হিংস্র হাসিতে বেঁকে উঠল। ওর ঠোঁটের লাল রঙ ঠিক ওর চুলের মতো। লাল চুল ওর মুখ আর গায়ে পড়া কাপড়ের চারপাশে নাচছিল।
আচার অনুষ্ঠানের সময়, হুড দিয়ে মুখ ঢাকা যে মেয়েটি আমাকে ছুরি দিয়েছিল, সে-ই ছিল ও। ও জানত, আমি কোনোদিন সেই ছোট মেয়েটিকে ছুরি মারব না। তাই সেই ছুরি অন্য একজনের গলায় ঢুকেছিল।
“পুরুষ প্রজাতির সবচেয়ে মজার দিকটা জানো কী?” মেয়েটি বলে উঠল, “তোমরা নিজেরাই নিজের গায়ে এত ব্যস্ত থাকো যে কখনো ভাবো না নেতৃত্বে কোনো মেয়ে থাকতে পারে। নিরীহ, নির্যাতিত স্ত্রীটিকে সন্দেহ করোনি, কারণ তোমাদের ধারণা ছিল আমি দুর্বল।”
আমি শুকনো হাসি দিই।
“ভুল। আমি সেই নির্যাতিত স্ত্রীটিকে সন্দেহ করিনি, কারণ কল্পনাও করতে পারিনি যে একজন ভিক্টিম অন্য নিরীহ নারী ও শিশুদের ভিক্টিম করে তুলতে পারে।”
ও ঠোঁট বাঁকিয়ে হিংস্রভাবে হাসল, কোমর বাঁকিয়ে সবুজ চোখদুটি আমার চোখের সমান উচ্চতায় নামিয়ে আনল।
“আর আমি কল্পনা করতে পারি না যে, যে পুরুষ নিজের জীবন বাজি রেখে এই ভিক্টিমদের রক্ষা করে, সে-ই একজন নিরীহ নারীকে সম্পর্কের ফাঁদে ফেলতে পারে।”
ও আমার চোখের দিকে তাকিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল, আমি একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলাম। কোনো আবেগ দেখালাম না, শুধু মাথা পেছনে হেলিয়ে হেসে উঠলাম।
“তুমি আমাকে অনুসরণ করছিলে, Claire?” আমি মজা করে বললাম, ওর রাগী দৃষ্টি ফের মিটিয়ে।
ওর ঠোঁট আরও উপরে উঠল।
“আমরা সবাই ভণ্ড, Z,” ও বলল, আমার খোঁচাকে এড়িয়ে গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। “তুমি আর আমি একই রকম, পার্থক্য শুধু আমি ঠিক করেছি এই পৃথিবীর বিকৃত পুরুষদের থেকে ফায়দা তুলতে। এরা কখনো দুর্বলদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করবে না, কখনো ধর্ষণ আর খুন বন্ধ করবে না। তাই আমি ঠিক করেছি, যদি এমন পৃথিবীতেই আমাদের থাকতে হয়, তাহলে অন্তত আমি এর থেকে কিছু তো নেবই।”
আমি মুখে কোনো ভাব না এনে দাঁত চেপে ধরলাম, পিঠের ব্যথা তীব্র হচ্ছে।
চলবে না, আমাকে হাসপাতালে যেতে হবে। কিন্তু Addie-কে আগে পেতে হবে।
“তুমি চাইলেই ভালো কিছু করতে পারতে,” Jay ক্ষেপে উঠে বলল, ঘৃণায় মুখ বিকৃত করে। “তোমার হাতে অসাধারণ ক্ষমতা আছে। তুমি সমাজ পরিবর্তনের বদলে পুরুষতন্ত্রকে বাড়িয়ে তুলছ।”
Claire গর্জে উঠে বন্দুকটি Jay-এর কপালে ঠেকিয়ে দিল। Jay শক্ত হয়ে গেল, কিন্তু পিছু হটল না। আমার শরীর কঠিন হয়ে গেল, ব্যথা ভুলে ওর আঙুল ট্রিগারের উপর নাচতে দেখে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে রইলাম।
যদি ও ট্রিগার টিপে ফেলে… Jay-এর মাথা ভেদ করে গুলি যাওয়ার আগেই আমি ওর গলা পিষে ফেলব।
“তুমি ভুল বলছ,” Claire আমার দিকে তাকিয়ে বলল। “ধরো তুমি সব চক্র ধ্বংস করে দিলে, Z। ধরো তুমি তোমার লক্ষ্য পূরণ করলে। তুমি কি এক সেকেন্ডের জন্যও ভাবো সব কিছু বদলে যাবে? হা! ধুলো বসার আগেই ওরা আবার নতুন করে তৈরি হবে, আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে।”
ও আমাদের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন আমরা পাগল।
“তুমি কখনো দুনিয়া থেকে দুষ্টু মানুষ দূর করতে পারবে না। কখনো না।”
ও পুরোপুরি ভুল নয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি ওদের আস্তাকুঁড়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দিতে পারব না, কিংবা মানব পাচারের কারবারে বড়সড় ছেদ ফেলতে পারব না।
আমি কখনো ভাবি না যে মানব পাচার এক জীবনে মুছে যাবে। কিন্তু সেই ছোট ছোট মেয়েগুলোকে, শিশুদের দ্বিতীয় জীবনের সুযোগ দেওয়া—এটাই আসল।
আমার আসল পরিকল্পনা সবসময় সরকারের আড়ালে থাকা এই অন্ধকার ব্যবসা ভেঙে ফেলার, ওরা কিভাবে মানুষের বেচাকেনা করে, সেটা ধ্বংস করা। এটা হলে দুনিয়ায় বিশাল পরিবর্তন আসবে।
এই লড়াই আমার মৃত্যুর পরও চলতে থাকবে।
সূর্য ফেটে যাবে, পৃথিবী মুছে যাবে, তবু নিখুঁত পৃথিবী আসবে না। মানুষ নিজেদেরই শেষ করে দেবে।
কিন্তু Z? Z কোনোদিন শেষ হবে না। আমি এমন এক প্রজন্ম তৈরি করব যারা এই লড়াই চালিয়ে যাবে, এবং ওরাও সেই একই কাজ করবে।
এখন Claire পেছনে তাকাল, আর আমি দেখতে পেলাম একটা বিশালদেহী লোক এগিয়ে আসছে, যার মাথায় গভীর হুড তোলা। ওর গঠন দেখে বোঝা গেল, কারণ ওর কাঁধ Eiffel Tower-এর মতো, চওড়া আর নিচে চিকন পা।
লেগ ডে মিস করা এই গাধা নিজেই নিজের পা দেখতে পায় না।
“গাড়ি রেডি,” সে বলল, তার গলা Mariana Trench-এর চেয়েও গভীর।
Claire আমার দিকে ফিরে বন্দুক নামিয়ে নিল, আর লোকটা বন্দুক উঁচিয়ে ধরল। Claire আঙুল উঁচু করে নাড়িয়ে বলল,
“উঠো,” কড়া গলায়। “এখন।”
আমি ধীরে শ্বাস নিয়ে শরীরকে চলার জন্য চাপ দিলাম, ব্যথায় দাঁত চেপে উঠে দাঁড়ালাম।
Claire-এর চোখে চোখ রেখে কঠিন দৃষ্টি দিলাম। ও সাহস করে আমার চোখে চোখ রাখল, কোনো ভয় নেই।
“তুমি ভেবেছ কীভাবে আমাকে সামলাবে?” আমি ব্যঙ্গ করে বললাম, যেন এক বাচ্চাকে বলছি, যে ভাবে সে আমাকে আর্ম-রেসলিং-এ হারাবে। “আমি সহজ মানুষ নই, Claire।”
ও ঠোঁটের কোণে গোপন হাসি ফুটিয়ে কাছে এলো, সাহস দেখানোর জন্য, যেন ও ভয় পায় না।
“Patrick তোমাকে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে নিয়ে যাবে। তোমার কাছ থেকে সব তথ্য বের করা হবে। তোমার সংগঠন কিভাবে চলে, কী অবৈধ প্রযুক্তি ব্যবহার কর, আর এতদিন যা যা সংগ্রহ করেছ। তারপর, আমি তোমার প্রেমিকাকে ওর নতুন প্রভুর সাথে দেখতে বাধ্য করব, তারপর নিজে হাতে তোমাকে মেরে ফেলব।”
আমি ঠোঁট টেনে হিংস্র হাসলাম, দাঁত বের করে ওর চোখের কাছে মুখ বাড়িয়ে নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে দিলাম, কেন ওর আসলেই ভয় পাওয়া উচিত।
“দড়ি যেন শক্ত করে বাঁধা থাকে,” আমি গর্জে উঠলাম। ওর চোখের কোণ গোল হয়ে উঠল, এক মুহূর্তের জন্য ভয়ের ঝলক দেখা গেল।
এই বরফ-ঠান্ডা মেয়েটি আমার আগুনের কাছে নিরাপদ নয়।
“পথ দেখাও,” আমি ইশারা করে বললাম। Claire আমাকে একবার ভালো করে পরখ করে নিল, আমার আত্মবিশ্বাসী স্বরে বিরক্তি ফুটে উঠল ওর মুখে। ও অভ্যস্ত, মানুষ ওর পায়ের কাছে কাকুতিমিনতি করে থাকে। কিন্তু ও এখনো জানে না, আমি কখনো শুধু একজন মানুষ ছিলাম না।
ও একবার নাক সিঁটকে পেছন ঘুরে হাঁটতে লাগল, ইচ্ছে করেই পিঠ দেখিয়ে, যেন ও কিছু প্রমাণ করতে চাইছে।
আমি কখনো ভয় দেখিয়ে হত্যা করতে চাইনি, তবে প্রয়োজনে শিক্ষা দিতে সমস্যা নেই। Addie এটা জানে।
Jay আমার পাশে হাঁটছিল, চোখে আতঙ্কের ছাপ। কোনো কথা বলার দরকার নেই, ওর মুখই সব বলে দিচ্ছে।
আমরা মরতে যাচ্ছি।
কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে সেটা হতে দেব না। আমার কাছে হারানোর মতো জিনিস আছে, যা আমার নিজের প্রাণের চেয়েও দামি।
Claire-এর চিকন পায়ের সঙ্গী Patrick আমাদের আগে যেতে দিল, তারপর পেছনে এসে হাঁটতে লাগল।
“আমার পাছার দিকে তাকিয়ে থাকিস না,” আমি ঠাট্টার সুরে বললাম।
সে গর্জে উঠে আমাকে কাঁধে ধাক্কা দিল, অন্য হাতে বন্দুক তাক করে ধরল। আমি ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকালাম, চোখে পাগলাটে দৃষ্টি আর মুখে হাসি।
“চুপ করে হাঁটো,” সে ধমকাল, কিন্তু শেষ শব্দটায় গলা কেঁপে গেল।
এই হিংস্র দানবের হিংস্র হাসির সামনে সাহস দেখানো সহজ নয়।
ধোঁয়া ধীরে ধীরে পাতলা হচ্ছে। গুহার মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা দেহ, রক্তে ভিজে থাকা পাথর। Claire-এর পেছনে হাঁটতে হাঁটতে আমার পা লেগে গেল একটা বিচ্ছিন্ন হাতের সাথে, হাতটা গড়িয়ে গিয়ে একটা কাটা মাথার সাথে গিয়ে ঠেকল। মাথার মুখটা ভয়ে জমে আছে।
চিৎকারগুলো আস্তে আস্তে থেমে যাচ্ছে, মৃতদেহ বাড়ছে। এতগুলো মানুষকে বলি দেওয়া হয়েছে শুধু আমাকে ধরার জন্য।
এটা অনেক কিছু প্রমাণ করে।
আমি শুধু হুমকি নই, আমি ধ্বংস।
Claire আমাদের সেই দরজার দিকে নিয়ে গেল, যেটা দিয়ে ও ছুরি দিয়ে আমাকে ফাঁদে ফেলেছিল। চারপাশে তাকিয়ে নিজের মানুষদের দেখতে পেলাম না, কিন্তু তার মানে তারা নেই, এমন নয়। হয়তো ওরা মিশে আছে, হয়তো মৃত।
আমার বুকটা কেঁপে উঠল। ওরা ঝুঁকি সম্পর্কে জানে, তবু তাদের মৃত্যু আরেকটা দায় হয়ে যাবে।
আমরা একটি অন্ধকার করিডোর দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেয়ালের দুই পাশে LED আলো, কালো দেয়ালে ছায়া ফেলছে।
এই করিডোর এখন উঁচু দিকে উঠছে, কারণ আমরা মাটির নিচ থেকে উপরে যাচ্ছি। ব্যথায় মনে হচ্ছে পাহাড়ে উঠছি।
Jay stiff হয়ে আমার পাশে হাঁটছে, মাঝে মাঝে ভয়ে চোখ মেলে তাকাচ্ছে। ও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হয়নি। ও কম্পিউটারের পেছনেই থাকে, ফ্রন্টলাইনে নয়।
আমি কীভাবে ওকে আশ্বস্ত করব, বুঝতে পারছি না। আমি মিথ্যা বলতে পারি না। আমি জানি বাঁচব, তবে গ্যারান্টি দিতে পারছি না।
কয়েক মিনিটের মধ্যে Claire দরজা খুলে আমাদের নিয়ে বেরিয়ে এলো এক অন্ধকার গলিতে, যা ক্ষীণভাবে আলোকিত, ঠান্ডা Seattle বাতাস গালে ঘাম শুকিয়ে দিচ্ছে।
Claire দেরি না করে আমাদের নিয়ে গেল একটা কালো ভ্যানে, যার জানালা এত অন্ধকার, ভেতরে তাকালেও কিছু দেখা যাবে না।
অত্যন্ত অবৈধ, কিন্তু নাম্বার প্লেট দেখলেই পুলিশ চোখ ঘুরিয়ে নেবে। ওরা শুধু Claire-এর নাম দেখলেই যথেষ্ট।
গাড়ির কাছে যতই এগিয়ে যাচ্ছি, Jay ততই শক্ত হয়ে যাচ্ছে।
আমি ওর কানের কাছে ঝুঁকে বললাম,
“Claire-কে তোমার পরীর গডমাদার ভাবো, আর এই ভ্যানটাই হবে সেই জাদুর গাড়ি, যা তোমায় তোমার রাজকুমারীর কাছে নিয়ে যাবে।”
“অথবা রাজকুমারের,” Jay দাঁত চেপে বলল। ও ঘামছে, চোখ বড় বড় হয়ে আছে।
“দুটোই চলবে।”
আমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললাম,
“যতক্ষণ আমাকে Uncle Z বানাও, ততক্ষণ ঠিক আছে।”
Jay অবাক চোখে তাকাল, মুখে কষ্টের হাসি ফুটল।
“তুমি কি সত্যি ভাবছ, প্রতিদিন এই নরক দেখার পর আমি বাচ্চা নেব?”
আমি আবারও কাঁধ ঝাঁকালাম, ঠোঁট টিপে বললাম,
“কেন নয়? Uncle Z তাদের নিরাপদ রাখবে। আমি তাদের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হবো। ওরা পছন্দ করুক বা না করুক, আমি সেটা করবই।”
Jay মাথা নাড়ল, মুখে সামান্য হাসি। ও বুঝতে পারছে আমি কী করছি।
আমি ওকে একটা ভবিষ্যত দেখাচ্ছি। বাঁচার, সুখ খোঁজার, হয়তো ছোট ছোট দুষ্টু বাচ্চা নিয়ে জীবন কাটানোর।
আমরা রাস্তার ধারে পৌঁছাতেই কালো ভ্যানের দরজা খুলে গেল। Claire ঘুরে আমাদের দিকে ইশারা করল ভেতরে ঢোকার জন্য।
আমি ওকে চোখ মেরে ভ্যানে উঠলাম, Jay আমার ঠিক পেছনে। Claire বিরক্তি নিয়ে শ্বাস ফেলল।
এটা যদি অন্য কেউ হতো, আমি বলতাম অপহরণকারীর সাথে খারাপ ব্যবহার না করতে।
Addie-র অবস্থার কথা ভেবে ভাবি, ও যদি এমন বোকামি করে, ওকে ধরে শাস্তি দিতাম।
সঠিক কাজ হলো চুপচাপ থাকা আর সুযোগের অপেক্ষা করা।
কিন্তু Z-কে ভ্যানে তোলা মানে নিরীহ কাউকে তোলা নয়।
Addie-কে ওরা মেরে ফেলবে না, কারণ ওর দাম অনেক। আর Claire-এর বোকামি দেখে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেল। ও আমাকে অজ্ঞান করতে পারত, তাহলে জিততে পারত।
কিন্তু ও তা করেনি।
আমি ঠান্ডা ধাতুর বেঞ্চে বসলাম, ব্যথায় দাঁত চেপে ধরলাম, চোখে হিংস্র দৃষ্টি নিয়ে Claire-এর দিকে তাকালাম।
Claire দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে, লাল চুলে আলোর ঝলক খেলছে। এক মুহূর্তের জন্য ওকে নিরীহ মনে হলো, যেন অনেক বছরের নির্যাতনের পর শান্তি খুঁজছে।
কিন্তু সেই ভ্রম ভেঙে গেল। এখন আমি কেবল একজন নারীকে দেখছি, যে নিজের ঘৃণার মতোই হয়ে গেছে।
Claire চোখে হুমকির দৃষ্টি ছুঁড়ে দরজা বন্ধ করে দিল। দরজার দুই পাশে LED লাইট জ্বলে উঠল।
Jay আমার বিপরীতে বসে সিটবেল্ট বেঁধে নিল, আর Patrick আমার পাশে বসে পড়ল, এতটা কাছে যে মনে হলো আমার কোলে বসে আছে।
আমি ওর দিকে ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকালাম,
“তুমি কি আমার সাথে তলোয়ার যুদ্ধ করতে চাইছো, Patrick? আগে থেকেই বলছি, আমি জিতব,” বলে ওর পায়ের দিকে তাকালাম।
Jay ফিসফিস করে বলল,
“চুপ করো।”
Patrick গর্জে উঠল,
“তুমি কোনোদিন চুপ থাকতে পারো না, তাই না?”
আমি নিরীহ সুরে বললাম,
“আমি কী বললাম? তুমি যেভাবে আমার কোলে বসে আছো, আমি ভেবেছিলাম তুমি তলোয়ার যুদ্ধেই আগ্রহী।”
Patrick খেঁকিয়ে উঠল,
“তোমার কোনো তলোয়ার নেই বলেই তলোয়ার যুদ্ধ করতে পারবে না।”
আমি ভ্রু উঁচিয়ে বললাম,
“চেইনসো দিয়ে গাছ কাটতেও সময় লাগে। তুমি মরবে তার আগেই।”
“বকবক চালিয়ে যা,” সে ফোঁস করে বলল।
আমি হেসে মুখ বন্ধ করে নিলাম। Jay না থাকলে ওকে আরো খুঁচিয়ে যেতাম, যাতে Patrick রেগে গিয়ে আমাকে আক্রমণ করে। তখন ওর অস্ত্র কেড়ে নিয়ে ওকে মেরে ফেলতাম।
কিন্তু ও যদি Jay-এর দিকে বন্দুক তাক করে দেয়? আমি সেটা হতে দেব না। এখন নয়। Patrick মরবেই। খুব শীঘ্রই।
গাড়ির ইঞ্জিন গর্জন করে উঠল, ধাতু কম্পন করল। গাড়ি হঠাৎ গতি নিল, আমাদের তিনজনকে একদিকে ঝাঁকিয়ে ফেলল। Patrick আমার গায়ে চেপে গেল।
আমি ওর দিকে তাকালাম। ধীরে ধীরে ও সরতে লাগল।
ঠিক তাই, ব্যাটা।
এখন Patrick গায় থেকে সরে যাওয়ায় আমি ভাবতে পারছি।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমার ভাবনা অন্ধকারে ডুবে যেতে লাগল। রাগ আবার ফিরে এল। ওরা আমার ছোট ইঁদুরটাকে নিয়ে গেছে।
আমি চোখ বন্ধ করে মাথা নিচু করলাম, রাগ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলাম। মনের ভেতর চাপা আতঙ্ক আর খুনের ক্ষুধা ফাটল ধরাচ্ছে। কিন্তু এখন সেটা ভাঙতে দিতে পারি না।
আমাকে Addie-কে পেতে হবে।
Patrick-কে মেরে ফেলতে পারি, কিন্তু গাড়ি থামবে না। গুলি চালিয়ে ড্রাইভারকে মারতে পারি, তবে গাড়ি উল্টে আমাদের সবাইকে মারবে।
গাড়ি থেকে লাফিয়ে নামতে পারি, কিন্তু শরীর এতটাই ক্ষতবিক্ষত যে সেটা সম্ভব নয়।
এক গভীর শ্বাস নিয়ে মাথা তুললাম। Jay আমাকে ভয়ের চোখে দেখছে। ওর কালো চুল ঘামে ভিজে কপালে লেগে আছে, ও কাঁপছে।
ও কখনোই ভাড়াটে খুনির জন্য তৈরি নয়।
তখনই মনে পড়ল, আমাদের কানে ছোট ব্লুটুথ চিপ আছে।
অদৃশ্য, ছোট, Claire খেয়ালও করেনি।
এখন দরকার শুধু একবার “কল” বলা।
আমি Patrick-এর দিকে তাকিয়ে বললাম,
“ওখানে পৌঁছালে কি একটা কল করতে পারব?”
সে গর্জে উঠল, “মজার ছেলে।”
নীরবতা।
ধন্যবাদ, ব্লাস্টে যদি নষ্ট হয়ে না যায়।
Jay-এর দিকে তাকালাম, সে ঘাম মুছে মাথা নাড়ল।
“ভাই, আমার দাদি অসুস্থ। ও ভাবছে আমি কোথায় আছি,” আমি বললাম।
Jay-এর দিকে তাকিয়ে বললাম, “তুমি কি তোমার ভাইকে কথা দাওনি যে আজ ওকে Chuck E. Cheese-এ নিয়ে যাবে?”
Jay-র মুখ শক্ত করে, কিন্তু ও অভিনয় করতে পারে না।
“হ্যাঁ… আসলে, কল করে বলতে হবে ওকে যেতে পারব না।”
হায় ঈশ্বর, Jay, আরেকটু নাটকীয়তা কমাও।
Baron আসলে Jay-এর ভাই নয়। ও আমাদের আরেকজন লোক, যে আমাদের খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
Jay হালকা হাসল, তারপর সেটা লুকিয়ে ফেলল। মনে হচ্ছে কলটা হয়েছে। Baron শুনছে, এখন আমাদের খুঁজতে পারবে।
Jay বলল, “ওর জানা দরকার যে আমাদের অপহরণ করা হয়েছে, তাই না?”
ওহ আমার ঈশ্বর।
Patrick বলল, “আমি চাই ও কখনো না জানুক আর সারাজীবন ভাবুক, তুমি কোথায় গেলে।” তারপর আমার দিকে ঘুরে বলল, “তুমি খেলা চালিয়ে যেতে পারো, কিন্তু বেশি খুশি হতে পারবে না।”
“কত তাড়াতাড়ি?” আমি খোঁচা দিয়ে বললাম।
ওর মুখ দেখতে পাচ্ছি না, কিন্তু বিভ্রান্তি অনুভব করতে পারছি।
“আমার দাদি অপেক্ষা করছে।”
ওর ঘুষি দেওয়ার মুহূর্তেই বুঝতে পারলাম।
ঘুষিটা গালে এসে পড়ল। মাথা একপাশে ঘুরে গেল, ব্যথায় মাথা যেন ফেটে গেল।
স্বাভাবিক দিনে এই ঘুষি সহ্য করা যেত, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে মাথার ভেতর আরেকটা বোমা ফাটল।
আমার ভেতরের দানব জেগে উঠছে।
Addie। Addie-র জন্য।
আমি কোনওভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হই।
আমাদের লোকদের সময় দিতে হবে আমাদের খুঁজে বের করার জন্য, যদিও জানি বেশি সময় লাগবে না।
“হায় ঈশ্বর, একজন মানুষ কি নিজের দাদীকে ফোনও দিতে পারবে না নাকি? হারামজাদা।”
Patrick কাঁধ ঝাঁকিয়ে ঘুরে গেল, আর আমি বেঞ্চের এক পাশে সরে এলাম। ও ভাবতে পারে আমি ভয়ে সরে যাচ্ছি, কিন্তু আসলে আমি ওর জীবন শেষ করে দেওয়ার দুই সেকেন্ডের মধ্যে রয়েছি।
অপেক্ষার মধ্যে আমি নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে লাগলাম।
কিন্তু এই শান্তি মোটে দশ মিনিটও টিকল না, কারণ আজকের দিনে দ্বিতীয়বারের মতো আমি আকাশে উড়ে গেলাম।
পেছন থেকে ভারী কিছু ভ্যানের গায়ে ধাক্কা মারল, আমাকে আর Patrick-কে বেঞ্চ থেকে ছুঁড়ে সামনের ওয়ালের সঙ্গে আছড়ে ফেলল।
Jay দুলে উঠল, কিন্তু ভাগ্যবান হারামজাদা সিটবেল্ট থাকার কারণে ঠিকই বসে রইল।
আমি গরগর করে উঠলাম, শরীরের কত জায়গায় ব্যথা করছে তা বোঝাই যাচ্ছে না—সব জায়গাতেই ব্যথা করছে।
Claire সামনের সিট থেকে চিৎকার করে ড্রাইভারকে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আনতে বলছে।
ভ্যানটা দুলতে দুলতে চলতে লাগল, ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারছে না।
আরেকটা ধাক্কা, ভ্যানটা হঠাৎ একপাশে স্লাইড করে গিয়ে কোনও শক্ত জিনিসের সঙ্গে ধাক্কা খেল।
Patrick গিয়ে আমার উপর পড়ল, আমার মুখ থেকে গালি ঝরতে লাগল। আমরা Jay-এর দিকে গড়িয়ে গেলাম। আমার পিঠ ওয়ালের সাথে ধাক্কা খেল, Patrick আমার উপর চেপে পড়ল।
ধাক্কার কারণে কানের মধ্যে ঘণ্টার মতো শব্দ বাজতে লাগল, চোখ ফোকাস করতে কয়েক সেকেন্ড লেগে গেল। Patrick-এর শরীর বেমানান হলেও ভীষণ ভারী।
“Jay, বল তো, এটা কি আমি যা ভাবছি তাই?” আমি দাঁত চাপা স্বরে বললাম, সুযোগ নিয়ে Patrick-এর গলায় আমার হাত পেঁচিয়ে ফেললাম। ইস্পাতের মতো শক্ত করে চেপে ধরলাম।
Patrick-এর হাত আমার হাতের উপর চলে এল, ও আমার হাত থেকে মুক্তি পেতে ছটফট করতে লাগল।
আমি ব্যথা আর ক্লান্তির মধ্যে দাঁত চেপে ধরে ওকে স্থির রাখার চেষ্টা করতে লাগলাম।
আমার শরীর দুর্বল, ভীষণ ব্যথায় কাতর, পেশিগুলো ঢিলে হয়ে আসছে।
“একদম,” Jay হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ওর ফ্যাকাসে মুখ দিয়ে ঘাম ঝরছে।
“ভালো,” আমি ফিসফিস করে বললাম, তারপর Patrick-এর মাথা ধরে হঠাৎ এক পাশে ঘুরিয়ে দিলাম, ওর গলায় হাড় ভেঙে গেল, সাথে সাথেই মারা গেল।
“এটা আমার দাদির জন্য, হারামজাদা।”
Jay ফিসফিস করে বলল,
“ভাই, তোর কোনো দাদী-দাদু আর বেঁচে নেই।”
**************
(Dairy 📜)
১০ জুন, ২০০৮
আমি
ওরা আমাকে নেশা করিয়েছে। আমি তারিখটা কেবল জানি কারণ পেডোরা ২০ তারিখে আসছে। আর Francesca বলেছে আমার হাতে ১০ দিন আছে সব ঠিক করার জন্য।
“Unroolines” বা যেমনই হোক, যেভাবেই বানানো হোক, ওই শব্দটাই শেষ মনে আছে আমার, তারপর ওরা আমার হাতে সূঁচ ঢুকিয়ে দিয়েছিল।
ওরা যদি ভেবেছে এটা আমাকে পালানো থেকে আটকাবে,
তাহলে শোন Francesca,
আমি এখান থেকে যেতেই যাচ্ছি।
ফিরে যাচ্ছি আমার বোনকে নিতে।
আর আমরা এই জঘন্য, বাচ্চাদের যৌন নিপীড়নের রাজ্য থেকে পালিয়ে যাচ্ছি।
তোমাদের সবার মুখে থুতু।
– Molly
চলবে.........