ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্রাবণ মেঘের উপখ্যান

৩য় পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম লিজা

#শ্রাবণ_মেঘের_উপখ্যান — ৩

#কলমে_তাসনিম_লিজা

------- কপি করা নিষিদ্ধ!

ভার্সিটি থেকে আসার পর খাওয়া হয়নি মেঘের, টেনশনের কারনে। চাচিমা যদিও বলে দিয়েছে তার বাবার কাছে কিন্তু, সবটা সামাল দিয়েছি দিব্য। ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো এখন সব ঠিক আছে। সস্থি পেয়েছেন গ্রামে থাকা জাহিদ আহমেদ ও। নয়তো টেনশনে অবস্থা খারাপ হয়ে দ্রুত ঢাকায় আসার ব্যবস্থা করছিলেন তিনি। মা মরা একটা মাত্র মেয়ে ওনার। বড় আদর শাসনে বড় করেছেন। একসাথে মা বাবার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দিব্য ও তার বাবা জাহাঙ্গীর আহমেদ এর কথায় আর আসা হয়নি। তবে বার বার অনুরোধ করেছেন মেয়েটাকে যেনো দেখে রাখে তাদের ভরসায় যেতে দেওয়া হয়েছে মেঘকে।

মেঘ খাইনি বলে টেনশনে দোয়েল ও খেতে পারেনি

বয়সের গ্যাপ থাকলে ও বড় ছোট ভাবেনা দুজন দু'জনকে। সমবয়সীর মতো আচরন করে। তবুও তো ছোট বোনটা খায়নি, কাঁদছে, আর সে খাবে? উহুম! কিন্তু, রাতে? খাবার টেবিলে জাহাঙ্গীর আহমেদ ও দিব্য খুঁজ ছিলো মেঘকে। নেই মেঘ। দোয়েল ভার মুখে বসে আছে। জাহাঙ্গীর আহমেদ জিজ্ঞেস করলেন,

---- মেঘ মামুনি কোথায় দোয়েল?

দোয়েল ওইভাবেই বলল,

---- ওর মুড অফ বাবা। দুপুরে ও খায়নি এখন ও খাবে না বলছে।

---- এতো ন্যাকা সাজার কি আছে ওর? কোথাও তো আর যাচ্ছে না সব ঝামেলা তো মিটমাট হয়েই গিয়েছে।

বিরক্ত হলো সবাই। জাহাঙ্গীর আহমেদ থামিয়ে দিলেন,

----- চুপ করো তুমি। সব কিছুতে তোমার বাড়াবাড়ি স্বভাব যাবে না। কেন তুমি জাহিদকে বলতে গেলে

সামান্য একটা কথা? ও কতটা টেনশন করছিলো তা তোমার ধারনা আছে?

----- ওনাকে বুঝিয়ে লাভ নেই বাবা। আপনি বসুন আমি মেঘকে নিয়ে আসছি।

দিব্য খাবার টেবিল ছেড়ে ওঠে দাঁড়ায়। অতঃপর দোয়েলের রুমের দিকে চলে গেলো। আবার ও তেতে উঠলেন ফাইজা বেগম। বলেন,

---- সবার মাথা তো খেয়েছেই, এখন আমার ছেলেটার মাথাটা ও খাচ্ছে আসার পর থেকে ৷ কেন ওকে এখানে আনতে গেলে বলোতো? গ্রামের মেয়ে গ্রামেই ভালো ছিলো শহরে এনে পড়ালে কি এমন রাজকার্য উদ্ধার করবে শুনি?

জাহাঙ্গীর আহমেদ শীতল কণ্ঠে বলেন,

---- হ্যা ঠিকই বলছো শহরে এসে কোনো লাভ নেই। দোয়েল লাগেজ গোছাবি। আমরা গ্রামে চলে

যাবো। এখানে থাকার কোনো মানে নেই। আমরা গ্রামের মানুষ গ্রামেই মানায়।

তারাহুরো করে বলে উঠলো ফাইজা বেগম,

---- কি বলছো তুমি এসব আমরা গ্রামে যাবো মানে

না আমরা কেন যাবো? গেলে যাবে তোমার ভাইয়ের মেয়ে আমরা নই। আমরা আজ নয় অনেক বছর এখানে আছি। এখানকার স্থানীয় আমরা। গ্রামে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

---- তোমার কারনে নিজের ভাইয়ের মেয়ে টাকা দিয়ে থাকে তাহলে তার ও তো থাকার অধিকার আছে। তুমি তাড়িয়ে দেওয়ার কে?

চুপ করে রইলো মুখ গুমরো করে ফাইজা বেগম।

টাকা তো উসিলা ছিলো। যেনো না থাকে মেঘে। কিন্তু মেঘ থাকলোই। কথা বাড়াল না আর জাহাঙ্গীর আহমেদ। নয়তো এখানে আরো ঝামেলা হবে।

দিব্য রুমে নক করলো। ভেতর থেকে মেঘ বলল,

---- কে?

---- আমি দরজা খোল!

মেঘ চুপ হয়ে গেলো। ভয় লাগল। না করবে কি না ভেবে বলল,

---- আমি খাবো না। আপনি চলে যান দিব্য ভাইয়া।

দিব্যর আদেশ যেনো করলো,

---- আমি জানতে চাইনি তোর কাছে দরজা খোল।

সবাই অপেক্ষা করছে তোর জন্য খাবার টেবিলে৷

তুইকি সবাইকে না খাইয়ে মারতে চাইছিস?

খট করে দরজা খোলার শব্দ হলো। দিব্যর ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি খেলে গেলো। মাথায় উড়না দিয়ে

বের হলো মেঘ। দিব্য আপাদমস্তক পরোখ করলো,

চোখ দু'টো ফুলে আছে অনেক। ভয়ে এভাবে কাঁদে কেউ? ইশ যেই চোখ তাকে শান্তি দেই সেই চোখ দু'টোকে ফাজিল মেয়েটে কেঁদেকেটে আহত করে ফেলেছে। দিব্য আগের ন্যায় কঠিন স্বরে বলে,

---- সামান্য একটা কারনে এতো ভয় পাচ্ছিস কেন? কাকাই কিছুই বলেনি। আর তোকে নিতে ও আসবে না। আসলে দিবো ও না।

তাকাল মেঘ। তার আগে থেকেই তাকিয়ে আছে দিব্য। ঝটপট চোখ নামিয়ে ফেললো মেঘ। যেতে লাগল কোনো কথা না বলে। তবে মনটা হালকা লাগছে বাবা তো বুঝলো আর ঝামেলা নেই। এখন শুধু প্রিন্সিপাল স্যারকে বললেই হবে সত্যিটা। পিছু পিছু আসলো দিব্য।

সবাই একসাথে খেলো। ভরসা দিলো জাহাঙ্গীর আহমেদ। এক বাবা দূরে তো কি হয়েছে আরেক বাবা তো কাছে ভয় নেই। সবার খুশির মাঝে কেবল খুশি হতে পারে না ফাইজা বেগম। ছেলের মতিগতি তার একদম ভালো লাগে না। এজন্যই মেঘকে দূরে সরানোর এতো পায়তারা করেছেন।

দিব্য একজন পুলিশ অফিসার। ওনার ইচ্ছে ভালো ঘরে বিয়ে করাবেন ছেলেকে অনেক কিছু দিবেন।আদর আপ্যায়ন করবেন। আত্মীয়তা হবে বড়লোক ঘরে। তাদের সুনাম হবে। সেই স্বপ্ন তিনি নষ্ট হতে দিবেন না। এবং ছেলের ও দোষ দেখেন না। কারন মেঘ মেয়েটা যথেষ্ট সুন্দরী এক দেখায় চোখে পড়ার মতো। সবচেয়ে আকর্ষণ তার চোখ দুটো। হরিণীর মতো টানা টানা চোখে কাজল দিলে

যেনো যে কেউ সম্মোহিত হয়ে যাবে। চোখ ফেরানো দায়। তাই মেঘ সামনে না থাকলে ছেলে ঠিক থাকবে নয়তো কখন তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠবে তিনি বুঝতে পারলে ও জেদী ছেলের কাছে হার মানা ছাড়া উপায় থাকবে না।

আজকে ঘটনাটা মিথ্যা হওয়ায় আফসোস হচ্ছে সত্যি হলে অন্তত দূর করা যেতো মেঘকে। সফল হতে না পারা আফসোসে দিনটা কাটলেন ফাইজা বেগম এর।

_______________

দোয়েলকে রিকশায় দিয়ে মেঘকে নিজের বাইকে করে নিয়ে এসেছে ভার্সিটিতে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভয়ে কিছুই বলতে পারেনি মেঘ। কাঁধে হাতে রেখে ভয়ে ভয়ে এসেছে সে। বাইক থেকে নেমে বড় করে শ্বাস নিলো মেঘ। দম বের হওয়ার অবস্থা।

---- চল!

---- কোথায়?

---- আমি প্রিন্সিপাল স্যারকে অলরেডি সব জানিয়ে দিয়েছি। আর বাকি রইলো তোকে কারা র্যাগিং দিয়েছিলো তাদেরকে দেখিয়ে দিবি।

মেঘ ভাবনায় পড়লো। আসলে ওরা তো মজা করে বলেছে। তারউপর ওরা শ্রাবণ শিকদার এর বন্ধু হয়। সে ও তো বলেছে যার কারনে হয়তো লোকটার অনেক কথা শুনতে হচ্ছে এখন যদি শুনে বন্ধুদের পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে আসছে তাহলে তো সমস্যা হবে।

---- না না তাদের কিছু বলবেন না। ওরা মজা করে বলেছে। আর আমি ও তো ভয়ে বলেছিলাম। তাহলে তো আমাকে ও...

---- ঠিক আছে যাবো না আমি। যেতে পারবি ক্লাস অব্দি? আমি যাবো তোর সাথে?

দিব্য হাত বাড়াতে নিচ্ছিল যাওয়ার জন্য । মেঘ তড়িঘড়ি করে বলল,

---- আমি পারবো ভাইয়া আপনি যান আপনার তো লেইট হয়ে যাচ্ছে। আর আপু ও এসে পড়বে এখন৷

শুনলো দিব্য। বলল,

---- তোর কোনো কথায় ফেলতে পারি না কেন জানি না। তবে সাবধানে থাকবি। কেউ কিছু বললে আমায় জানাবি। ফোনে আমার নাম্বার সেইভ করা আছে।

---- আচ্ছা ভাইয়া।

----- আসছি। আমি এসে নিয়ে যাবো ওয়েট করবি দুজন।

----- হুম।

বাইক স্টার্ট করে চলে যায় দিব্য। মেঘ যেনো আরো এক ভয় ঝামেলা থেকে বাঁচলো। সে পা বাড়ায় ক্লাসে যাবে বলে, এমনি পা থেমে গেলো,

------ তা তোমার কয়টা জামাই লাগে মেয়ে?

মেঘ রাগে ঘৃনায় চোখমুখ কুঁচকে ফেলে তৎক্ষনাৎ।

পিছন থেকে একটা মেয়ে বলে কথাটা। ঘুরে তাকালো মেঘ। বলল,

---- আমাকে বলেছেন?

মেয়েটির চোখে মুখে রাগে আভা টগবগিয়ে উঠছে যেনো । সে চেঁচিয়ে উঠে বলল,

---- না এখানে আরো অনেক মানুষ আছে। তুমি দেখছো না?

তাকেই বলছে জানতো কিন্তু, কেন বলবে? মেঘ বলল,

----- আমাকে অপমান করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে শুনি? আর আমার কয়টা জামাই দেখেছেন আপনি?

কনক রেগে গেলো আরো। বলল,

---- আমি যথাসম্ভব শান্ত থাকার চেষ্টা করছি শুধু।

আমি শ্রাবণকে ভালোবাসি। আজ নয়, বছর তিনেক ধরে। ওর পিছু পড়ে আছি ও আমাকে বিয়ে তো দূর কথা ও বলে না। আর তোমায় বিয়ে করলো। আমার সাথে ইয়ার্কি করো তুমি?

কথা ক্লিয়ার মেঘের কাছে। মনে মনে হাসলো৷ বাপ রে বাপ! যেখানে ছেলেটাই পাত্তা দেয় না সেখানে ভালোবাসা আবার হয় নাকি? সে বলল,

---- তো ভালোবাসুন না আমাকে এসে কথা শুনচ্ছেন কেন? আর হ্যা কালকে র্যাগিংয়ের থেকে বাঁচতে কথাটা বলেছিলাম আমি তো শ্রাবন শিকদার কে চিনি ও না। নিশ্চিন্ত থাকুন আপনি। আর কয়জন বললেন? যিনি আসছেন তিনি আমার বড় ভাই হয় বুঝেছেন আপনি? পরবর্তীতে কাউকে কিছু বলতে গেলে বুঝেশুনে বলবেন। আমি বিয়ে করিনি করলে আপনাকে আগে দাওয়াত দিবো।

কনক মেয়েটি আর কথা বললো না। যেনো প্রাণ ফিরে পেলো। তবে মুখে হাসি ফুটলো। চলে গেলো

সে। অনার্স থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট। বড়লোক বাবার মেয়ে। টাকার পাওয়ারে মাটিতে পা পড়ে না এমন। তবে ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। এখন আর মেঘের সাথে কথা বলার প্রয়োজন নেই তাই এখানে দাঁড়িয়ে মেঘের সাথে কথা বলার কোনো মানেই হয়না।

----- ও এখানে আসছিলো কেন? তোকে কিছু বলেছে?

দোয়েল আসে। আর এসেই জিজ্ঞেস করলো কনককে দেখে। মেঘ বলল,

---- না কিছুই বলেনি। চল আপু ক্লাসে যায়।

----- আচ্ছা চল। আর শোন কেউ কিছু বললে পাত্তা দিবি না। একজন ফ্রেন্ড বানাবি ভালো মেয়ে দেখে।

আর সমস্যা হলে আমায় ফোন দিবি ক্লাসে আসবো।

----- আচ্ছা তুই যা তো। আমি ভয় পায় না আপু। আমার ভয় কেটে গিয়েছে।

চলে যায় দোয়েল তার ক্লাসে। মেঘ যেতে নিলে পথ অবরোধ করে দাঁড়াল কালকের তিনটা ছেলে।

রাগ হয় মেঘের। হাতির মতো ছেলে গুলো অবুঝের মতো কাজকাম করে। সে সাথে সাথে দমকিয়ে উঠলো,

---- দু'দিন পর বিয়ে করবেন বাচ্চার বাপ হইবেন কিন্তু, নিষেধ করা কাজ অবুঝের মতো বার বার করবেন আচ্ছা আপনার বয়স কত ভাইয়ারা?

সবাই চুপ। রাতুল বলে,

---- সরি ভা.. না বোন আমরা ভুল করেছি। যায় হোক শ্রাবণ তোমাকে যেতে বলেছে। আমরা অপেক্ষা করছিলাম তোমার কাছে সরি বলার জন্য।

বকবেন নাকি লোকটা তাকে?

---- না আমি যাবো না। আমি ও সরি ভুল করে বলে ফেলেছি আমি জানতাম না এমন একটা পরিস্থিতি হবে। আর পরিস্থিতি আমি নয় আপনারা তৈরি করেছেন কথা ও আপনারা রটিয়েছেন এখানে আমার দোষ কোথায়? ডাবল পানিশমেন্ট আপনারা পাবেন। আমি ক্লাস করবো ডিস্টার্ব করবেন না।

রামিম বলল,

---- প্লিজ বইন বড় ভাইয়ার মতো বলছি আমাদের সাথে এসো ভয় নেই কেউ কিছুই বলবে না।

রিফাদ বলল,

---- হ্যা বোন আসো সে তোমায় দেখার জন্য মরিয়া হইয়া আছে।

---- মানে?

ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলো মেঘ। রিফাদ ফের বলল,

---- মানে কিছুই না। শুধু আপনাকে দেখতে চাইছে যে

তার নামের সাথে জুড়ে নিজের নাম দিয়েছেন।

ভয় না পেয়ে যেতে লাগলো মেঘ। তার ও দেখার কৌতুহল কে সে যে সব মেয়েরা পাগল। টপার বলে কথা। আবার প্রিন্সিপাল স্যারের ছেলে ও৷ নিজের কৌতুহল দমিয়ে রাখতে না পেরে গেলে তাদের সাথে।

হলরুমের কাছে আসে। মেঘ তেমন চেনে না ঠিক করে। সে ঘুরে ঘুরে চারপাশ দেখতে লাগলো। হঠাৎ কানে ভেসে এলো, মিষ্টি গলার স্বর,

আমারও পরানও যাহা চায়,

তুমি তাই, তুমি তাই গো।

আমারও পরানও যাহা চায়,

তুমি তাই, তুমি তাই গো।

তোমা ছাড়া আর এ জগতে

মোর কেহ নাই কিছু নাই গো।

আমারও পরানও যাহা চায়,

তুমি তাই, তুমি তাই গো।

তুমি সুখ যদি নাহি পাও,

যাও সুখের সন্ধানে যাও,

আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়মাঝে,

আর কিছু নাহি চা.....

থেমে গেলো শ্রাবণের গলার স্বর। তাসিরের পছন্দের গান এটা কাভার করছিলো শ্রাবণ তারা ইউটিউবে আপলোড দেই। মিলিয়ন মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার তাদের। গিটার থেমে যায়, ঘোর অন্ধকার রুম থেকে বাহিরটা স্পষ্ট। আর দু'টো চোখ তাকে যেনো আঁটকে দিলো। দাঁড়িয়ে যায় শ্রাবণ সাথে তাসির ও যে ভিডিও করছিলো। লাইট জ্বলে উঠলো। মেঘ তাকালো সামনের দিকে। সামনে এগোতে থাকলো। তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে শ্রাবণ। মেঘ কিছুটা ভীত হলে ও প্রকাশ করলো না। সামনে এসে মুখোমুখি দাঁড়ালো মেঘ ৷ সে যেনো ভালো করে দেখলো শ্রাবনকে। প্রথম কথা সবার পছন্দের হওয়াটায় স্বাভাবিক। দেখতে সুদর্শন, লম্বা চওড়া, মুখে হালকা চাপদাড়ি, তীক্ষ্ণ চোখের কোণে সুক্ষ কুচকুচে কালো তিল যা মুখের সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। দেখতে সত্যিই মাশাল্লাহ প্রেমে পড়ারই মতো। আর কত ভালো গান গায় তার কাছ তো সে কিছুই না। মন জুড়িয়ে গিয়েছে একদম।

মেঘকে তার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবতে দেখে সবাই মিটিমিটি হাসছে। হাসার কারন শুধু মেঘ নয় সামনে ব্যক্তিটির একই চাহনি। মেঘকে দেখছে। হ্যা দেখছে শুধু চোখ, সেখানেই বেচারা থমকে গিয়েছে। যে কি না মেয়ে দেখলে এলার্জি ভেবে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, সে ও আঁটকে গেলো কোনো এক এলার্জিতে। আপাদমস্তক দু'জনই দুজনকে দেখছে। অতঃপর সময় বাড়ানো গেলো না।

----- শুভদৃষ্টি শেষ হলে কথা বলতে পারি?

চোখ সরিয়ে ফেললো দু'জনেই। তাসির আবার ও বলল,

---- এটাই তোমার মিথ্যা মিথ্যা জামাই মেঘ আপু।

মেঘ লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো। রাগি চোখে তাকাল শ্রাবণ। বলল,

---- তাসির!

---- মিথ্যা কথা বলার জন্য সরি শ্রাবণ ভাইয়া। আর এমন হবে না। দরকার হলে পায়ের জুতো হাতে নিবো। তবুও ও এমন কথা বলবো না।

বাকি তিন জনের হাত সাথে সাথে গালে চলে গেলো। একে অপরের দিকে তাকাল তৎক্ষনাৎ।

শ্রাবণ ফের তাকালো। গলার স্বর তীক্ষ্ণ, ধারালো,

ও গম্ভীর,

---- প্রথমত চোখের উপর কালি গুলো মুছে আসবে

দ্বিতীয়ত হিজাবের সাথে নীকাব অথবা মাস্ক পড়ে আসবে। নয়তো আমাকে নিয়ে যা রটিয়েছো তার জন্য অনেক সাফার করতে হবে তোমায়। এখন ক্লাসে যাও।

মেঘ বুঝলো না কাজল দিলে কি হয়? আর তার কথা শুনবে কেন? কিন্তু বলতে পারলো না। এমনিতেই তার নামে যা রটিয়ছি তার জন্য সরি ও অনেক কম হবে তাই কোনো কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ পা ফেলে চলে গেলো সে। মেঘ যেতেই তাসির বলল,

---- প্রেম প্রেম গন্ধ পাচ্ছি মনে হচ্ছে। এলার্জি তাহলে সত্যি সত্যি গভীর ভাবে ছুঁয়ে দিলো মনে। এই এলার্জির ইফেক্টটা খুব ভালোভাবেই পড়েছে।

তাসির কথায় বাকি তিনজন একসাথে বলে উঠলো,

---- ভাগ্যিস আমরা র্যাগ দিয়েছিলাম।

----- যাবি তোরা? দাঁড়া দেখাচ্ছি তোদের।

ছুটে বেরিয়ো গেলো তিনজন। তাসির হাসতো লাগল বলল,

---- ওরা তো ঠিকই বলেছে। তুই তো সত্যিই প্রেমে পড়েছিস।

শ্রাবণ সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল,

---- ফালতু বকবক করিস না তো। মন মেজাজ ভালো না। দিনদিন তুই ও ওদের মতো হয়ে যাচ্ছিস।

---- তার মানে তোর পছন্দ হয়নি?

---- কেন হতে হবে শুনি?

শ্রাবণের কথা তাসির কিছু মনে পড়ার ভান করে বলল,

----- ওহ হ্যা আজ দেখেছি মেয়েটার চাচাতো ভাই এসে দিয়ে গিয়েছে। তাও পেছনে বাইকে করে। কত কেয়ার। পুলিশ বলে কথা। কখন না জানি অন্য কিছু হয়।

শ্রাবণ চুপচাপ বেরিয়ে গেলো।

চলবে,,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন