ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্রাবণ মেঘের উপখ্যান

৪র্থ পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম লিজা

#শ্রাবণ_মেঘের_উপখ্যান — ৪

#কলমে_তাসনিম_লিজা

------- কপি করা নিষিদ্ধ!

পুরো ক্লাস করলো মেঘ। কালকের তুলনায় আজ একটু সাধারণের চেয়ে অসাধারণ লেগেছে ক্লাস রুমটা। সকলেই নতুন কিন্তু, তাকে অচেনার মধ্যেই সবাই চিনে ফেলেছে শুধু ওই একটা পরিচয়ে, হ্যা শ্রাবণের সত্যিকারের বউ ভেবে বসে আছে সবাই। স্যার ম্যামরাও নিজে থেকে এসে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করছে। কিন্তু, কেউ প্রকাশ করে বলতে পারছে না। ইশ! সবার মনে কি একটা বিশ্রি ধারনা তৈরি হলো। একে একে তো আর বলে বুঝানো যাবে না। তাই যে যা ভাবার ভাবুক! কেউ জিজ্ঞেস করলে সত্যিটা বললেই হবে। কিন্তু, ভয় এখানে না ভয় প্রিন্সিপাল স্যার ক্লাস শেষে যেতে বলেছেন।

পিয়ন এসে জানিয়ে দিয়েছেন। আচ্ছা স্যার কি রাগ করেছেন বিষয়টা জেনে? ওনার ছেলের তো বদনাম হলো। উপরওয়ালা ভরসা যা বলবে মাথা পেতে নিতে হবে। উপায় তো নেই পারলে একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টাটুকু করতে পারে বৈকি। মন ও মস্তিষ্ক সচল করলো। ভয় পেলে চলবে না। কারন ভয়ই ভুল পথে বা ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। যা বর্তমানে ফেইস করছে সে। একা একা চলল মেঘ প্রিন্সিপাল স্যারের কক্ষের দিকে। মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে লাগলো। সে মানুষের তিক্ত কথা পছন্দ করে না। সহ্য করার ক্ষমতা একদমই কম।

---- আসবো স্যার?

---- ভেতরে আসো মেঘ মামুনি ৷

তিনি কিছুই ফাইল দেখছিলেন। মেঘকে দেখে দ্রুত

রেখে দিলেন। এবং হাসিমুখে ভেতরে আসার অনুমতি দিলেন। ভয় কাটলো হয়তো মেঘের। কারন স্যার বকবেন না মনে হচ্ছে। ভেতরে আসলো কাঁপা কাঁপা পা ফেলে।

---- আসসালামু আলাইকুম স্যার আমায় ডেকেছেন আপনি?

---- আগে বসো তারপর বলছি তোমায়।

বসলো মেঘ। কি এমন কথা থাকতে পারে কে জানে? আগ্রহ বাড়ছে কেবল তার ।

---- আব্দুর রহমান দু'মগ কফি নিয়ে আসো তো।

বাইরে চেয়ারে বসে থাকা আব্দুর রহমান তৎক্ষনাৎ

উঠে চলে গেলো কফি আনতে। সারিফ শিকদার এবার চোখ রাখলে সামনে বসে থাকা মেঘের উপর। তিনি তো বেশ খুশি হয়েছিলেন মনটা কাঁচের টুকরোর মতো ভেঙে গেলো দিব্যর কথা শুনে। তিনি কিছু বলার আগে মেঘ বলে উঠলো,

----- স্যার আমি কালকে ইচ্ছে করে কিছুই বলিনি।

র্যাগিং থেকে বাঁচতে আপনার ছেলের নাম নিয়েছি

আমাকে মাফ করে দিবেন স্যার। এমন ভুল আর হবে না ৷

---- শান্ত হও মেঘ। আমাকে এক্সপ্লেইন করতে হবে না। আমি মিথ্যাটা সত্যি করতে চাই। আমি চাই সত্যি সত্যি তোমায় আমার ছেলের বউ বানাতে। তাই আমি তোমার বাবার নাম্বারটা নিতে চাচ্ছি। আমার কাছে তোমার সব ইনফরমেশন আছে। শুধু তোমার বাবা গ্রামে থাকেন ওনার সাথে কথা বলে আমি মিথ্যা কথা সত্যি করতে চাই।

কি বলেন ওনি? নাহ এটা সম্ভব নই। বাবা জানলে বলবে সত্যি সত্যি সম্পর্ক ছিলো। আর তখন তো না হবে পড়াশোনা আর বিয়ে তো দূর গ্রামে নিয়ে যাবে। টেনশনে পড়ে গেলো মেঘ। এখন উপায় কি? কিভাবে না করবে সে?

----- কোনো সমস্যা?

---- না স্যার কিন্তু, আমার বাবা শহরের মানুষদের সাথে সম্পর্ক করতে চাই না। আমি এখানে আছি এই নিয়ে বাবার ঘোর অমত। তবুও শুধু পড়ার জন্য। অন্য কিছু হবে জানলে আমার বাবা বাঁচবে না। আমি পারবো না স্যার আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার বাবার হার্টের প্রবলেম আছে। আমি আসি স্যার।

বেরিয়ে এলো মেঘ। এতো এতো মেয়ে থাকতে সে কেন? আশাহত হলেন সারিফ শিকদার। তবে মনে মনে অন্য কিছু ভাবলেন। আর তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল।

________________

---- কোথায় চলে যাস তুই? ভয় হয় তোকে নিয়ে। জানিস কোথায় কোথায় খুঁজেছি তোকে আমি?

---- প্রিন্সিপাল স্যারের কক্ষে গিয়েছিলাম। আমায় ডেকেছেন তিনি।

চিন্তিত মুখে আরোও এক ধাপ বেড়ে গেলো চিন্তা।

কিঞ্চিৎ ভিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো দোয়েল,

---- স্যার কি তোকে কিছু বলেছে? মানে ধমক..

স্বাভাবিক ভাবে বলল মেঘ,

---- তেমন কিছুই বলেনি। চল বাসায় যাবি না।

মেঘের এমন চিন্তিত মুখ দেখে কিছু একটা হয়েছে সেটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে দোয়েল। কিন্তু মেয়েটা কিছুই বলতে চাচ্ছে না কেন?

---- আমাকে বলবি না তুই? আমি তোর কেউ না?

মেঘ অবাক হলো। বলল,

---- কে বলেছে তুই আমার কেউ না? তুই তো আমার এজমাত্র কলিজার আপু। তুই ছাড়া আমার আর কে আছে বল তো?

----- ছাড়েন এখন আগে সত্যিটা বলেন। আমার টেনশন হচ্ছে খুব ।

বাধ্য হয়ে বলল মেঘ,

---- স্যার চাচ্ছেন মিথ্যা সম্পর্কটা সত্যি হোক। তিনি বাবার নাম্বার চাইছেন। কথা বলবে আমার আর শ্রাবণ ভাইয়াকে নিয়ে। কিন্তু, আমি বারণ করে দিয়েছি। তুই তো জানিস বাবা শহরের মানুষ আর শহর একটা ও পছন্দ করেন না।

দোয়েল সাথে সালে হেসে উঠলো বলল,

----- বারণ করে খুব ভালো করেছিস। আর শ্রাবণ ভাইয়াকে বিয়ে করা মানে শত্রু বানানো। মেয়েরা এমনিতেই ক্ষেপে আছে তোর উপর। যায় হোক চল! চলে যায়। ভাইয়া এসে যাবে এখন।

মুখটা কুঁচকে ফেলে মেঘ। বলে,

---- আমি দিব্য ভাইয়ার সাথে যাবো না। তোর ভাই তুই যা। আমি রিকশায় যাবো।

হাঁটতে হাঁটতে দোয়েল বলল,

---- ভয় নেই ভাইয়া তোকে বাইক থেকে ফেলে দিবে না। বরং আগলে রাখার চেষ্টা করে। তোর ক্ষতি ভাইয়া জীবন থাকতে করবে না। তবে তুই এই কথা বললে ভাইয়া রাজি হবেই। কজ, তুই যা বলিস ভাইয়া ও তাই শুনে।

মেঘ কিছুটা বিব্রতবোধ করলো। বলল,

---- আমার কথা শুনতে যাবে কেন ভাইয়া? আমি কি বলেছি নাকি?

মিটিমিটি হাসছে দোয়েল৷ কাঁধে হাত রাখে মেঘেকে বলে,

---- তুই বুঝিস না?

---- কি বুঝবো?

---- থাক আমি বুঝাতে পারবো না। তুই একটু কষ্ট করে বুঝে নিস কারনটা কি।

মাথার উপর দিয়ে গেলো দোয়েলের কথাগুলো। তাদের আসার মধ্যেই দিব্য এসে হাজির হলো। দোয়েল দেখেই বলল,

---- ভাইয়া এসে গিয়েছে। চল।

---- আমি যাবো না।

---- সামনে গিয়ে বলিস।

---- মেঘ বাইকে ওঠ।

রিকশা ও আছে পাশে। দিব্য দোয়েলকে ইশারা করতেই দোয়েল রিকশায় উঠল কিন্তু, মেঘ দাঁড়িয়ে রইলো। দিব্য ভ্রুঁ কুঁচকে তাকাল মেঘের মুখপানে।

বলল,

---- কি হয়েছে মেঘ? কেউ কিছু বলেছে তোকে?

---- আমি আপুর সাথে যাবো। বাইকে আমার ভয় করে।

ততোক্ষণে রিকশা চলে যায়। দিব্য ভরসা দিলো। বলল,

---- ভয় নেই আমি আছি। ওঠে বস।

হাত ধরলো দিব্য মেঘের। বাইকের কাছে এনে দাঁড় করালো। নিজে উঠে বসলো অতঃপর তাড়া দিলো মেঘকে।

---- মেঘ ফাস্ট ওঠ আমার আবার থানায় যেতে হবে।

---- আপনি চলে যান আমি রিকশায় করে যাবো।

---- তোকে বাসায় পৌঁছিয়ে তারপর যাবো ৷ আমি কোনো বারণ শুনছি না।

বাধ্য হয়ে ওঠে বসলো মেঘ। সকালের মতো ফের কাঁপা হাতটা রাখলো দিব্যর কাঁধে। দিব্য সেদিকে খেয়াল করে মুচকি হাসলো। অতঃপর চলল তাদের গন্তব্যে।

---- বুকটা জ্বালাপোড়া করছে খুব। এই জ্বালাপোড়া মিডিসিনে কাজ হবে না রে রাতুল।

শ্রাবণ স্থির চিত্তে রক্তিম চোখে তাকিয়ে ছিলো বাইরের দিকে। রাগে প্রায় কাঁপছে ছেলেটা। কিসের রাগ তার? তাসির রিফাত রাতুল রামিম তারা ধীর চিত্তে এসে পাশে দাঁড়িয়ে রইলো। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো শ্রাবনকে এবং দূরে থাকা মেঘ ও দিব্যকে যারা

ইতিমধ্যে চোখের বাহিরে চলে গিয়েছে। তাসির তখনই বলে উঠলো কথাখানা। তবে কানে কথাটা পৌঁছালো কি না সন্দেহ, কাঁধে হাত রাখলো তাসির

বলল,

---- ঠিক আছিস তুই?

---- অসুস্থ আমি?

তাসির ফের বলল,

---- না তবে হচ্ছিস অসুস্থ তাই সামলাতে এলাম তোকে।

ঘুরল শ্রাবণ তাসিরের দিকে। চোখ দেখে ভয় পেলো তাসির। বলল,

---- কিরে কি অবস্থা করেছিস চোখ তো ভুতের মেয়েটার থেকে ও লাল করে ফেলেছিস। এই মদ টত খেয়েছিস নাকি?

রাগল না শ্রাবণ। তবে কিছুই বলল না। সোজা পাশ কাটিয়ে নিচে চলে আসলো। পিছু ডাকলো সবাই শুনলো না শ্রাবণ। পার্কিং এড়িয়ায় এসে তার বাইকটা নিয়ে সোজা বেরিয়ে গেলো সে।

পেছনে তাসির রিফাদ রাতুল ও রামিম বুঝলো না রাগ করলো নাকি ছেলেটা? ওর রাগ হলেই সে একা থাকে৷

---- চল এখন ওর মন ভালো নেই একাই থাকবে।

বুঝলি জ্বলে বেটার। প্রকাশ না করলে ও মিথ্যা বউয়ের জন্য পরাণটা জ্বলতেছে অন্য কারোর সাথে দেখে।

রাতুল হাহাকার করে বলল,

---- তা তো বুঝলাম তোর আর শ্রাবণের জন্য মেয়েরা পাগল। আর আমাদের বোধহয় ব্ল্যাক ম্যাজিক করতে হবে। নয়তো সারাজীবন সিঙ্গেল থাকতে হবে।

---- বড় হয়েছিস বুদ্ধি হয়নি গাদার দল। সামনে এক্সাম পড়াশোনায় মনোযোগ দে। পাশ করলে মেয়েদের সিরিয়াল এমনিতেই লাগবে। কেন করতে যাস অকাজ গুলো মেয়েরা যে জুতা নিয়ে আসে না এই তো অনেক।

---- কি করবো বল কেউ একটু ভালোবাসা দেয়না।

এই ভালোবাসার অভাবে পড়াশোনায় মন বসাতে পারি না।

রামিমের কথায় চাপড় মারলো তাসির। বলল,

----- তোদের মতো এমন বন্ধু থাকলে নিজের পড়া সাথে ক্যারিয়ার গার্ল ফ্রেন্ড সবই যাবে।

----- তাসির বাসায় যাবি না চল যায়। ক্লাস করবো না। আচ্ছা শ্রাবণ কিভাবে পড়ে? ক্লাস ও তো ঠিক করে করে না। সারাক্ষণ একলা থাকে। তোরা পাশ করিস কিভাবে?

রিফাতের কথার উত্তর জানা নেই তাসিরের কাছে।

সে বলল,

----- উপরওয়ালা সবাইকে একেকটা ট্যালেন্ট দিয়ে পাঠিয়েছেন। যেমন শ্রাবণকে পড়াশোনা থেকে সব দিয়েছে আর তোদের দিয়েছে মানুষের কথা শুনা।

অকাজ করার ট্যালেন্ট। এবার চল।

---- আমরা যথেষ্ট বুঝি তাসির। ওইসব র্যাগ সব ভার্সিটিতেই দেই। আমরা একটু মজা করেছি শুধু।

কিন্তু, কে জানতো পরিস্থিতি এতোটা ভয়াবহ হয়ে

বন্ধুর বউ হয়ে যাবে৷ এ লজ্জা রাখি কোথায় আমরা?

মলিন হয়ে এলো মুখখানা রাতুলের। ছটফটে রাতুলই আগে বলেছিলো। নতুন তাই কথা নিতে চেয়েছিলো। মেয়েটা সুন্দর ভয়ে সব বলে দিবে। বয়ফ্রেন্ড আছে কি না বিয়ে হয়েছে কি না সব জানার জন্য। তারপর তাদেরই মধ্যে একজন কে ফুল দিয়ে প্রপোজ করার ধান্দা ছিলো৷ কাজের কাজ কিছুই হলো মধ্যে থেকে বন্ধু বোধহয় প্রেমে পড়ল।

______________

দোয়েল আগেই বাড়িতে এসে পড়েছে। তারপর এসেছে মেঘ ও দিব্য। তারা মূলত জ্যামে আঁটকে গিয়েছিলো। তাই তাদের লেইট হয়েছে। তীক্ষ্ণ চোখ দু'টো তাকিয়ে আছে মেঘের দিকে। দিব্য চলে যেতেই মেঘ যেতে নিলে ডয়িংরুম পথ আঁটকে দাঁড়ালো ফাইজা বেগম।

---- আমার ছেলেটার মাথা খেয়ে বসে আছিস দেখছি৷ যেখানে আমার মেয়ে রিকশা করে আসে আর তুই ওর সাথে কেন আমার ছেলেটাকে বস করছিস তোর রুপ দেখিয়ে?

কথাগুলো মেঘের বুকে তীরের মতো এসে বিঁধলো।

চোখ ভিজে ওঠেছে। দিব্যকে সে নিজের বড় ভাই ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেও পারে না। চাপা স্বরে বলল মেঘ,

---- কেন ভুলভাল চিন্তাভাবনা করছেন চাচিমা?

দিব্য ভাইয়াকে আমি আমার বড় ভাই ছাড়া কিছুই ভাবতে পারি না। বড় ভাইয়ার অভাব আমি সবসময় ফিল করতাম। এখানে আসার পর দিব্য ভাইয়ার সাপোর্ট পেয়ে আমি সেই অভাববোধ আর পায় না। সুন্দর সম্পর্ককে নোংরা বানাবেন না। এমন সময় আমার দিক থেকে কখনোই আসবে না আমি কথা দিতে পারি আপনাকে।

তাচ্ছিল্যের হাসলেন ফাইজা বেগম। বলেন,

---- তুই না চাইলেও আমার ছেলে তো তোকে চাই। আমি ওর মা ওকে আমি খুব ভালো করেই চিনি। ওর চোখ দেখে আমি স্পষ্ট বুঝতে পারি ও তোকে কতটা চাই। আমি তোকে বের হয়ে যেতে বলবো না। কিন্তু, আমি চাই তুই বিয়ে কর। তোর বিয়ে হলে আমার ছেলেকে নিয়ে আমার আর কোনো টেনশন থাকবে না। আমি নিরদ্বিধায় অনত্র আমার ছেলেকে বিয়ে করাবো।

---- চাচিমা আমি এখানে পড়াশোনা করতে আসছি

আর বিয়ে করার হলে আমার বাবা আমায় গ্রামে থাকতেই বিয়ে দিতে পারতেন এখানে আসা হতো না আমার।

---- তাহলে এই বাড়ি আর আমার ছেলের জীবন থেকে দূরে গিয়ে পড়াশোনা কর। শুধু যে আমার বাড়ি আছে এমন তো নই। এ শহরে হাজার হাজার ফ্ল্যাট বাসা আবার ভার্সিটিতে হল রয়েছে। আমি ব্যবস্থা করবো সব কিছু।

এতো সন্দেহ? থাকার জায়গা আছে সেটা তো মেঘ ও জানে। কিন্তু ওই যে সমস্যা তার বাবা। বড় ভাই এর বাসা বলে দিয়েছে। মেয়ে মানুষ একা থাকবে মানবেন না তিনি।

---- কিন্তু বাবা জানলে তো আ...

---- কিছুই হবে না। তবুও আমি আমার ছেলের জন্য কোনো রিস্ক নিতে চাচ্ছি না। আর হ্যা কাল থেকে ওর সাথে যাবি না। দরকার হলে একা যাবি। সবসময় দিব্যকে এড়িয়ে চলবি। কথা বলবি না। মনে থাকে যেনো।

---- হুম!

চলে গেলো মেঘ। চাচি কখনো মায়ের মতো হয় না।

মা নেই, সেই কোন ছোট বেলা হারিয়েছে সে তার মাকে। ভেবেছিলো এখানে তো একটা পরিবার আছে মা পাবে ভাইবোন পাবে। কিন্তু না তাদের ব্যবহার বুঝিয়ে দিয়েছে পর কখনো আপন হয় না। তাই সে একটু ফাইজা বেগম এর থেকে দূরে দূরেই থাকেন।

_________________

ভাবনায় বিভোর হয়ে ডুবে আছে শ্রাবণ। শুধু মেয়েটির চোখ দুটো ভাসছে দুচোখের সামনে। কলিংবেলের তীব্র আওয়াজে ফ্লোরে শুইয়ে সোফায় পা রেখে ডয়িংরুমের পাখার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা শ্রাবণ বেজায় বিরক্ত হচ্ছে। ইচ্ছে করছে না যেতে। হয়তো কাজের আন্টিটা আসছে কিন্তু, ওনি তো বিকেলে আসে এমন ভর দুপুরে কে আসবে?

নিজেকে টেনেটুনে উঠালো। পরনের শার্ট খুলেনি আসার পর। টেনেটুনে ঠিক করে দরজা খুললো।

মানুষটিকে দেখেই চোখ ফিরিয়ে নিলো শ্রাবণ।

শ্রাবণের এহেন কান্ডে অবাক হননি সুমনা রাহমান।

তিনি ভেতরে আসলেন। জিজ্ঞেস করলেন,

---- কেমন আছিস বাবা? আর বউমা কোথায়?

মিথ্যা একটা কথায় তার ঘুমন্ত আপনজনদেরকে জাগিয়ে দিলো। শ্রাবণ সর্টকার্ট করে বলল,

---- কোনো বিয়ে টিয়ে হয়নি। জাস্ট একটা মিথ্যা তথ্য রটানো হয়েছে। আপনি এখন আসতে পারেন। আপনার সময় নষ্ট হচ্ছে।

ছেলেটা তার কত কষ্ট পেয়েছে তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারনে। আঁচলে চোখ মুছলেন। বলেন,

---- আমি এখানে থাকতে আসেনি। আমি তোকে দেখতে এসেছি।

---- দেখার কি আছে? আমি তো ভালোই আছি। খারাপ থাকার কি কোনো কারণ আছে?

কারণ অবশ্যই আছে। শ্রাবণের চোখ আগেই লাল টকটকে ছিলো। রাগ এমনিতেই মাথা চড়া দিয়ে উঠেছে তারউপর পুরনো কথা মনে পড়লো, না চাইতে ও রুড ব্যবহার করতে হচ্ছে।

---- আমি কি তোকে দেখতে আসতে পারি না? আমার কি কোনো অধিকার নেই?

---- নাহ! নেই আমার কেউ নেই। এই শ্রাবণ শিকদার একা! তার কেউ নেই এই দুনিয়ায়। শুনছেন আপনি আমার কেউ নেই।

ইউ মে লিভ!

শ্রাবণের চিৎকারে চলে গেলেন ডক্টর সুমনা রাহমান। টাসস করে দরজা লাগিয়ে ফেলেলো শ্রাবণ। সেখানেই বসে পড়লো। মা! মাকে অপমান করা যায় না। আর না মায়ের চোখের পানি ও সহ্য করা যায়। মায়ের কষ্টে বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো শ্রাবণের। তবে কিছুই করার নেই। তাদের দুজনকে দু'জনের জায়গাটা বুঝিয়ে দেওয়া উচিত।

_________________

----- মেঘ! মেঘ আমি ডাকছি তোকে।

মেঘ তাড়াতাড়ি করে রিকশায় উঠে পড়লো। সে দোয়েলকে ফেলেই একা চলে যাচ্ছে। পিছনে দিব্য

ডাকছে শুনেনি মেঘ। উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন ও মনে করেনি। সে চাই না তার জন্য তার পড়াশোনা নষ্ট হোক।

ভার্সিটি আসলো মেঘ রিকশা ভাড়া মিটিয়ে সে হাঁটা দিলো মাঠের একপাশ দিয়ে। পার্কিং এড়িয়ায়

বাইকে হেলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ পাশ দিয়ে যাচ্ছে। মেঘ দেখেছে কিন্তু, শ্রাবণ দেখেনি। পাশ থেকে তাসির বলে উঠলো,

---- ভাবি চলে এসেছে।

তৎক্ষনাৎ শ্রাবন ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ তুলে তাকাল সামনের দিকে স্থির শীতল দৃষ্টিতে। মেয়েটা তার কথা রেখেছে। নীকাব পড়েছে দু'টো চোখ শুধু দেখা যাচ্ছে। তবে কাজল পড়েনি মেয়েটাকে তবুও অসম্ভব সুন্দর লাগছে।

---- চিনলি কিভাবে তাসির?

----- ব্যাগ দেখ।

রাতুল অবাক হয়ে বলল,

---- ব্যাগ দেখে চিনে ফেলেছিস বাহ!

---- কোথায় যাচ্ছিস শ্রাবণ?

---- আসবি না তোরা।

থেমে গেলো তারা। শ্রাবণ মেঘের পিছু গেলো। মেঘ বুঝলো তার পিছু কেউ আছে। স্মেলটা চেনা চেনা লাগছে। পিছু থেকেই হঠাৎ কানে কিছু কথা আসলো যা শুনে শির দাড়া বেয়ে শীতল শ্রোত বয়ে গেলো মেঘের।

---- আপনার মুখ থেকে বলা মিথ্যা কথা আমি সত্যি করবো মিসেস শ্রাবণ শিকদার। আপনি সত্যিকারের এই শ্রাবণ শিকদারের বউ হবেন?

চলবে,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন