#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান — ৫
#কলমে_তাসনিম_লিজা
----- কপি নিষিদ্ধ!
তবুও থামলো না মেঘ। হেঁটেই চলেছে সে একাধারে
সেই সাথে শ্রাবণ ও হেঁটে চলেছে মেঘের পায়ের সাথে পা মিলিয়ে পিছুপিছু। মানুষ তেমন আসেনি৷
আসা শুরু হয়েছে কেবল। কারোর কারোর চোখ পড়েছে আবার কেউ খেয়ালই করেনি। এখন আর এতে কারোর কিছু যায় আসে না। সবকিছুই এখন ঠান্ডা অন্য ভাইরাল টপিকের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা। শ্রাবণ আবার ও জিজ্ঞেস করলো,
---- আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি।
---- মিথ্যা! মিথ্যা'ই শ্রেয়। মিথ্যা দিয়ে কোনো সম্পর্ক হয় না শ্রাবণ ভাইয়া। আপনি তো ভদ্র একটা ছেলে জানতাম তাহলে এমন অভদ্রের মতো বিহেভিয়ার করছেন কেন? আপনাকে মানায় এমন
আচরণে?
শ্রাবণ এমন ছিলো না। সে নিজেও জানে না সে কি করতে চাইছে। তবে মনে হলো তার জীবনে এই মেয়েটিই সঠিক। আর তার এই মেয়েকেই লাগবে।
সারারাত ঘুম হয়নি। নির্ঘুম রাত্রি যাপন করেছে শ্রাবণ কেবল মেয়েটির দু'টো চোখের জন্য। এতো মায়া কি কারোর চোখে হয়? কত মেয়ে তো এলো গেলো কই সে তো আঁটকালো না? মনে মনে তো পণ করেছিলো বিয়েই করবে না। বাবা মাকে সে দেখেছে সংসার জীবন কেমন হয়, আর কেমন হয় তিক্ত ভালোবাসা। ভালোবাসা এবং একে অপরের প্রতি মায়া যে হয় সে তা কখনোই উপলব্ধি করতে পারেনি। কিন্তু, আজ সে তার চোখের সামনের বাস্তবতার কাছে হেরে গিয়েছে। হেরে গিয়েছে মন নামক ছোট্ট অনুভূতির কাছে। নাহলে এমন বেহায়াপনা করার মতো ছেলে শ্রাবণ নয়। মেঘের কথার প্রতিত্তোরে শ্রাবণ বলল,
---- হয়তো! তবে প্রেমে পড়েছেন আপনি? প্রেমে পড়লে বোধহয় বেহায়াপনা করতে হয়। যা আমাকে ভদ্র থেকে অভদ্রতায় রুপান্তর করছে।
থামলো মেঘ। তাকাল শ্রাবণের দিকে। চোখদুটো অসম্ভব লাল হয়ে আছে। মেঘ চোখ ফিরিয়ে নিলো তৎক্ষনাৎ। বলল,
---- ভুল জায়গায় আবেগ ডালবেন না শ্রাবণ ভাইয়া। এতে আপনারই কষ্ট হবে। যেখানে আমি আপনার রিজিকে নাই। সেখানে আমাকে চাওয়া নিছকই বোকামি ছাড়া কিছুই না।
শ্রাবণ তাকিয়ে আছে মেঘের মুখপানে। সেভাবেই বলল,
---- যেখানে রিজিকের মালিক আল্লাহ। সেখানে আমি আপনাকে চাইতেই পারি মিস। উপরওয়ালা কখন কি দিয়ে বসেন তা আমরা আগে থেকে জানতে পারি না তো। কেন এতো দূরত্ব সৃষ্টি করছেন?
মেঘ এবার সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল,
---- আর পাঁচটা মেয়ের মতো আমার জীবন নয় শ্রাবণ ভাইয়া। আমার জীবনের সবকিছু হলো আমার বাবা। আর আমার বাবা আমাকে কখনোই শহরে বিয়ে দিবে না। আমরা গ্রামের মানুষ। আর আমি আমার বাবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কখনোই যাবো না কারন তিনি ও কখনোই আমার ইচ্ছে অপূর্ণ রাখেনি। আমি আমার বাবার কথামতো তার পছন্দ করা পাত্রকে বিয়ে করবো। আর সেটা ও অনেক দেরি। আমার স্বপ্ন আমি পড়াশোনা করবো
আমি পড়াশোনা ব্যথিত কোনো বাজে সম্পর্কে লিপ্ত হতে চাচ্ছি না । আসছি আমি। প্লিজ পিছু না নিলে খুশি হবো। এমনিতেই আপনার কারনে অনেকে থ্রেট দেই।
কত সুন্দর করে কথাগুলো গুছিয়ে বলে গেলো মেয়েটা। কেবল বরাবরই আকৃষ্ট করে তাকে। সে তো চাইনি বাজে সম্পর্ক। এটা তারও অপছন্দ। সে চাই বিবাহ নামক পবিত্র সম্পর্ক। যেখানে ছোঁয়া হবে হালাল। মানুষটা হবে সম্পূর্ণ তার। কেউ হাত বাড়ানোর সাহস পাবে না। ছেড়ে যাওয়া তো দূরের কথা। মেঘের যাওয়ার পানে তাকিয়ে দু-হাত পকেটে গুঁজে বিরবির করে আওড়ালো,
---- আমার এই অগোছালো জীবনের জীর্ণ কপাটে আপনি হবেন সেই স্নিগ্ধ আলপনা, যার অপেক্ষায় ছিলো আমার দিনগোনা। অপেক্ষা করতে ভালোবাসি কিন্তু হারাতে না। আমি সব হারিয়ে আপনাকে বেছে নিয়েছি ছাড়বো না মানে না।
---- প্রেম শেষ ?
তাসিরের কথা শুনে তাকায় শ্রাবণ। বলে,
---- কিসের প্রেম?
রামিম বলল,
---- কেন মিথ্যা মিথ্যা প্রেম।
---- থাপড়াইয়া তোর সবগুলো দাঁত ফেলে দিবো।
চল ক্লাসে।
---- মেয়ে না বলে বিহেভিয়ার এমন। আজ মেয়ে হলে হেসে হেসে কথা বলতিস।
রামিমের কথায় শ্রাবণ বাদে সবাই হেসে উঠলো। তাসির লক্ষ করলো শ্রাবণ চিন্তিত। কি বলেছে মেঘ মেয়েটা? আর শ্রাবনই বা কি বললো? জিজ্ঞেস করলে ও তো বলবে না। পরে জিজ্ঞেস করা যাবে ভেবে মন থেকে সব ঝেড়ে ফেললো তাসির।
_______________
---- দোয়েল কি হয়েছে মেঘের? ও সময় হওয়ার আগেই চলে গেলো কেন? কেউ.. মা কিছু বলেছে?
দোয়েল নিজেই তো জানে না কিছু বলবে কি সে?
---- জানি না তো। মেঘ তো আমায় কিছুই বলেনি। আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। ওঠে দেখি ও নেই। আচ্ছা আমি ভার্সিটিতে গিয়ে ওর সাথে কথা বলে তোমায় জানাবো। ফোনটা ও ধরছে না।
দিব্য আর কিছুই বলল না। সে বেরিয়ে গেলো তার ডিউটিতে। তাদের কথপোকথন আড়াল থেকে শুনেছেন ফাইজা বেগম। এবার কাছে আসলেন তিনি। বলেন,
---- ওকে নিয়ে এতো মাথাব্যথা কিসের তোদের?
ও ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে আমার সাথে হাতে হাতে কাজ করে খেয়ে রেডি হয়ে তারপর ভার্সিটি গিয়েছে। লেইট হচ্ছে যা ভাইয়ের সাথে।
অবাক হলো দোয়েল। বলল,
---- আমাকে একা রেখে গেলো তুমি কিছুই বললে না মা? আর ও তো নতুন একা ছাড়লে কেন?
কেন এমন করো ওর সাথে কিসের এতো অপছন্দ
বলো?
---- থাপ্পড় দিবো দোয়েল। মায়ের মুখে মুখে তর্ক করছিস তুই? এই তোর শিক্ষা?
মায়ের রাগের উপর আবার ও বলল দোয়েল,
---- বড়রা যদি অশিক্ষিতের মতো কাজ করে ছোটরাও তো তাই শিখবে। নিজের মেয়ে ভাবলে কিন্তু খুব বেশি ক্ষতি হবে না। ওর মা নেই তোমায় মায়ের মতো ভাবে। আর তুমি জানি কেমন করো।
চেঁচিয়ে উঠলেন ফাইজা বেগম। বলেন,
---- সত্যি সত্যি হাত তুলবো দোয়েল আমি। খুব কথা শিখিছিস ওই মেঘ আসার পর থেকে। আমি অশিক্ষিত তাই না তাহলে দেখবি এখন থেকে অশিক্ষিতের কাজকর্ম। যা চোখের সামনে থেকে।
বেরিয়ে গেলো দোয়েল। সত্যি কথা বললেই তিনি রেগে যান। এভাবে না বলে সরাসরি কোনো সমস্যা
হচ্ছে বললেই তো সব ঠিক হয়। ফাইজা বেগম বিরবির করে সব দোষ মেঘকে দিচ্ছেন। সকালে বেশ খুশি ছিলেন। ভেবেছিলেন সব ঠিক হবে কিন্তু, না পেটের দুজনই তার সাথে যা নয় তা ব্যবহার করছেন। তার কারন ওই মেঘ। সবাইকে কথার জালে ফাঁসিয়ে এখন নিজে ভালো সাজছে। তাড়াতে হবেই মেয়েটাকে।
_______________
---- এতো জরুরি তলব করলেন স্যার? আমার মেয়েরা আবার কিছু করেছে?
জাহাঙ্গীর আহমেদ বিজনেস মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য রেডি হয়েছিলেন৷ পথিমধ্যে ফোন দিলেন সারিফ শিকদার। তারপর জরুরি হওয়ায় মিটিং পরে করবেন জানিয়ে দ্রুত ছুটলেন মেয়েদের ভার্সিটিতে। এমুহূর্তে প্রিন্সিপাল স্যার এর কক্ষে অবস্থান করছেন তিনি। খানিকক্ষণ চুপচাপ থেকে এবার হাহুতাশ করে বলেন সারিফ শিকদার।
---- আমাকে চিনতে পারছেন না জাহাঙ্গীর ভাই?
আমি সারিফ। সামিয়ার বড় ভাই।
চশমা খোলে ভালোভাবে তাকালেন জাহাঙ্গীর আহমেদ। বয়সের চাপ পড়েছে চেনার উপায় কোথায়? কেউই কাউকে চেনার কোনো উপায় নেই। তিনি ভালোভাবে পরোখ করলেন। অতঃপর গম্ভীর স্বরে বলেন,
---- আমি আপনার স্টুডেন্ট এর বাবা হিসেবে একজন প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে আসছি। যদি তারা কোনো ভুল করে থাকে তাহলে আমাকে জানাতে পারেন আমি শাসন করবো।
সেই দমিত রাগ উদয় হয়েছে বুঝেলন সারিফ শিকদার। তিনি শান্তনা স্বরুপ বলেন,
----- আমি জানি বাবা যা করেছে ঠিক করেনি একদম। কিন্তু, তখন আমার ও যে কিছু বলার উপায় ছিলো না জাহাঙ্গীর ভাই। আমার একটা মাত্র বোন ছিলো। বড়ই আদরের। বাবা তাদের বিয়ে না মানলে ও আমি মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু,
আমাকে কথা দিয়েছিলেন সামিয়ার কাছে গেলে আমি ওনার মরা মুখ দেখবো৷ বাবা হয় তো, সেই রাগে বাবার সাথেই কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আপনাদের অনেক খুজেঁজি পায়নি।
অথচ আপনারা ছিলেন চোখের সামনে। বোনটা তো আর নেই। আফসোস!
---- আমার ভাইয়ের জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেলো। সামিয়া মারা যাওয়ার পর আর বিয়ে করেনি। একটা মেয়ে নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিয়েছে।
সাহস করে আবদার করে বসলো সারিফ শিকদার
তিনি জানেন জাহিদ কখনোই জাহাঙ্গীর আহমেদ এর কথা ফেলবেন না। বড় ভাইয়ের কথার উপর না করতে পারে না সহজে।
---- আমি একটা কথা বলতে চাই। প্লিজ না করবেন না জাহাঙ্গীর ভাই। জানেন বাবার ইচ্ছে। মৃত মানুষের ইচ্ছে রাখতে হয়।
---- ইচ্ছে?
----- হ্যা ইচ্ছে। আমার ছেলে শ্রাবণ ও মেঘের বিয়ে দিতে চাওয়া। বাবা তো গত পাঁচ বছর আগে গত হয়েছেন। শেষ ইচ্ছেটা যদি পূরণ করতেন। তবে টেনশন করার মতো কিছুই না আমার ছেলে কেমন তা যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবেন।
নড়েচড়ে বসলে জাহাঙ্গীর আহমেদ। তিনি কি বলবেন?
---- জাহিদ শহরে আসার নাম ও নেইনা। যদি শহরে আসলে সামিয়ার মতো মেঘকে ও হারিয়ে ফেলে সেই ভয়ে। আমি জোর করে মেঘকে এনেছি মেয়েটার ইচ্ছে পূরণ করতে ছোট্ট সাহায্য। তবুও জাহিদ ভয়ে থাকে। সারাক্ষণ ফোনে খবর নেই। এখন যদি জানতে পারে পুরনো আত্মীয়তা ফিরে এসেছে আমার মনে হয় না মেঘকে আর এখানে রাখবে বলে। বিয়ে তো দূরের কথা।
জোর দিয়ে বলেন সারিফ শিকদার।
----- কিছুই হবে না। শুধু আপনি সাপোর্ট করুন। আমি জাহিদের পিক দেখেছিলাম মেঘের কাগজপত্রে। আমি চাই আমার বাবার শেষ ইচ্ছে পূরণ হোক। তিনি তার ভুল বুঝতে পেরেছেন। মেয়েকে বলা কথাগুলো ভেবে নিজেই ধুঁকে ধুঁকে মরেছেন।
মেঘ যখন পাঁচ বছর বয়স তখন শহরে আসেন জাহিদ আহমেদ। সামিয়াকে নিয়ে বড়সড় অসুখ হয়েছিলো। কিন্তু, তিনি শুধু বারবার বাবা আর ভাইকে দেখতে চাচ্ছিলেন। কসম দেওয়ার কারনে
আসতে পারেনি সারিফ শিকদার। তবে খোঁজ খবর নিয়েছিলেন আড়াল থেকে। কিন্তু, তার বাবা
অসুস্থ সামিয়াকে অনেক কথা শুনান। ত্যাজ্য মেয়ে বলে চলে যান। তবে বুঝতে পারেনি তার চলে যাওয়া আর সামিয়ার পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার সময় এক হবে। কথাগুলো হজম করতে পারেনি সামিয়া। তখন শ্বাস আঁটকে আসে মৃত্যুবরণ করে সামিয়া। জাহিদ আহমেদ সেই থেকে এই শহর আর সামিয়ার বাবাকে সহ্য করতে পারে না। জীবন থেকে এই শহর আর শহরের মানুষ তার ভালোবাসার মানুষকে কেঁড়ে নিয়েছেন। নিয়েছেন বেঁচে থাকা, সুখ শান্তি সব। মেয়েটার ভরসায় বেঁচে থাকা। তিনি চাইনি মেঘ শহরে আসুক কিন্তু মেয়ের ইচ্ছে আর বড় ভাইয়ের জোড়াজুড়িতে বাধ্য হয়েছে। এখন জাহাঙ্গীর আহমেদ দোটানায় পড়লেন। কিভাবে আবার ছোট ভাইকে বোঝাবেন তিনি? অন্য কেউ হলে মানা যেতো সেখানে..
----- আচ্ছা আমি ভেবে দেখছি কি করা যায়।
---- ভেবে নয় ভাইজান আমি পুরো দায়িত্ব আপনার হাতে তুলে দিলাম। দরকার হলে আমি যাবো জাহিদের কাছে। ওর মেয়েকে ভিক্ষা চাইবো
তবুও আমি মেঘকে আমার ছেলের বউ বানাবো।
আমার বেশ পছন্দ মেঘকে। বাবার ইচ্ছে আর আমার পছন্দ দুটোই যেনো পূর্ণ হয়।
চায়ের কাপটা রাখলো। উঠতে উঠতে বলেন জাহাঙ্গীর আহমেদ,
----- পুরোটা নির্ভর করে জাহিদের উপর। আমার মেয়ে নয় জাহিদের আদরের মেয়ে। ওর ইচ্ছেতে এই বিয়ে হবে। আমার দিক দিয়ে ফুল সাপোর্ট পাবা। আজ বরং আসি আমার মিটিং আছে। অপেক্ষা করছেন তারা।
----- আচ্ছা ভাইজান।
একটু নিশ্চিন্ত হলেন সারিফ শিকদার। বাবার করা ভুল আজ আপন সম্পর্ককে কতটা পর করে দিলো। মানবে কি জাহিদ তার মেয়কে তার ছেলের হাতে তুলে দিতে?
_________________
ক্লাস হচ্ছে মেঘের। ম্যামকে বলে মেঘকে বাইরে নিয়ে আসলো দোয়েল। খানিক্ষন তাকিয়ে রইলো
নিঃশব্দে। মেঘ বিরক্ত হলো বলল,
---- কি হলো এমন করে তাকিয়ে আছিস কেন?
আমি কি করেছি?
দোয়েল বেশ রেগে আছে। কঠিন্য করে বলল,
---- আমাকে রেখে চলে এসেছিস কেন?
মেঘ মাথা নত করলো। ওভাবেই বলল,
---- আমার ভালো লাগছিলো না তাই।
---- মিথ্যা কথা বলছিস কেন? মা কি বলেছে তোকে? ভাইয়া পিছু ডাকলো জবাব দিলি না কেন?
মেঘ চোখ বন্ধ করে ফেললো সাথে সাথে। বলল,
---- আস্তে চিৎকার কর আপু। আমার একদিন ইচ্ছে হতে পারে না? আমি বাইকে আসতে ভয় পায় তাই, একা আসছি। আর তুই তো একাই আসা যাওয়া করিস তাহলে এতো রাগছিস কেন?
---- আমার থেকে ভাইয়া বেশি রেগে আছে। জানিস ভাইয়া যদি কাকাইকে বলে তাহলে তুই কাল গ্রামে ও থাকতে পারিস। আর তুই ভাইয়াকে এভয়েড করছিস?
পছন্দ হলো না কথাখানা মেঘের। বলল,
---- দিব্য ভাইয়ার সাথে বাইকে করে না আসলে তিনি আমায় গ্রামে পাঠিয়ে দিবেন? সবাই শুধু সুযোগ খুঁজছে দেখছি। কারোর কথার অবাধ্য হলেই ভয় দেখাচ্ছে।
উফ রাগের মাথায় ভয় দেখাচ্ছিলো শুধু দোয়েল। মেয়েটা সিরিয়াস হয়ে গেলো। দোয়েল ভুল ভাঙাতে বললো,
---- ভাইয়া কিছুই বলেনি আমি বলেছি কথার কথা আচ্ছা তোর ভালোর জন্যই তো ভাইয়া দিয়ে যায় আবার নিয়ে ও যায়। তাহলে কেন এতো এভয়েড করছিস। কারন তো থাকে সেটা বল?
মেঘ বুঝলো দুই ভাই বোনের আসল কাহিনি জানার ইচ্ছে। কিন্তু, সত্যি জানলে পরিবারে ঝগড়া
হবে। শান্তি বিনষ্ট হোক তা মেঘ চাই না। তাই সে বলল,
---- আমার ভালো লাগে না দিব্য ভাইয়ার সাথে আসতে। সবাই কেমন করে তাকায় থাকে। আর আমি কেন আসবো বল? নিজের বোন থাকতে আমাকে কেন আনতে যাবেন ওনি? তোকে নিবেন সেখানে আমায় নিয়ে আসে সবাই কেমন ভাবে বিষয়টা। আমার দিক থেকে দৃষ্টিকটু লাগে।
হাসলো দোয়েল। বলল,
---- গুছিয়ে মিথ্যাটা ও বলতে পারিস না। মা যে বারণ করেছে সেটা আমি জানি। যায় হোক ভাইয়াকে মায়ের কথা বলেছি । যা বলার ভাইয়াই
বলবে। যা ক্লাসে যা। আর ভাইয়া নিতে আসবে ক্লাস শেষ হলে।
---- আমি যাবো না আপু। তুই যা ওনার সাথে। আমাকে দয়া করে জোর করবি না। আমার ঝামেলা একদম ভালো লাগে না।
যাওয়ার পথে থামলো দোয়েল। ঘার ঘুরিয়ে বলল,
---- যা বলার ভাইয়াকে বলিস আমি কে জানার?
তার সামনে ভেজা বিড়াল হয়ে যাস কেন? আমি কি বাঘ যে মুখে উপর বলে দিবো? আমি আরো ছোট বিড়াল।
চলে গেলো দোয়েল। মেঘ বুঝলো দোয়েল বলবে না। ভয় পায় সে। কিন্তু, সে নিজেই তো ভয় পায়।
একে তো বড় ভাই, দ্বিতীয়ত পুলিশ। কেমন যেন ভয় লাগে। নাহ আজ বারণ করতে হবে নয়তো আগেই চলে যেতে হবে।
চলবে,,,,,,,,