ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্রাবণ মেঘের উপখ্যান

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম লিজা

#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান — ৬

#কলমে_তাসনিম_লিজা

---- কপি নিষিদ্ধ!

---- আসসালামু আলাইকুম বাবা।

---- ওয়ালাইকুম আসসালাম আম্মাজান কোথায় আছেন আপনি ?

---- আমি এখন ক্লাসে আছি বাবা। আর একটা ক্লাস শেষ হলেই বাসায় যাবো। তুমি শুধু শুধু চিন্তা করো কেন? খেয়েছিলে?

---- আমার আম্মাজান আমার থেকে কতদূরে চিন্তা না হওয়ার উপায় আছে? খেয়েছি বাবা আমার আম্মাজান খেয়ে আসছিলো?

হাসলো মেঘ। বাবার সাথে কথা বললে দুনিয়ার সব কষ্ট মুছে যায়। বাবা কত আদুরে আর মা কত ভালো ছিলো না জানি? মেঘ বলল,

---- আমি খেয়েই আসছি বাবা। আচ্ছা রাখছি আমি পরে কথা বলবো।

---- সাবধানে থাকবা মা জননী।

---- আল্লাহ হাফেজ।

---- আল্লাহ হাফেজ আম্মাজান আমার।

কল কেটে তাকাল মেঘ। সামনে একটা মেয়ে তখন থেকে দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। কিছু কি বলবে তাকে? সে বলল,

---- আপু কিছু বলবেন?

মেয়েটি এবার বলল,

---- হ্যা তোমার বড় বোন দোয়েল তোমায় ডেকেছে

আমার সাথে যাওয়ার জন্য বলেছে।

দোয়েল আপু তো কিছুক্ষণ আগেই কথা বলে গেল। তাহলে আবার ডাকছে কেন? দিব্য ভাইয়া এসেছে

নাকি? নাহ! এই সময় তো দিব্য ভাইয়ার ডিউটিতে আছে। মেঘ জিজ্ঞেস করলো,

---- কিন্তু আপুর সাথে তো আমার কথা হয়েছে এই কয়েক ঘন্টা আগে।

মেয়েটি সোজাসাপ্টা ভাবে বলল,

---- জরুরি কিছু বলতে চাই। প্লিজ চলো আমার সাথে।

মেঘ একটু টেনশনে পড়ে যায়। দোয়েলের আবার কিছু হলো না তো? কোনো কিছু না ভেবে মেঘ সায় দিলো মেয়েটির কথায়। বলল,

---- চলুন আপু।

---- আসো আমার সাথে।

মেঘ মেয়েটির সাথে ভার্সিটির পিছনে আসল। মেঘ চারপাশে তাকালো। দিনের বেলা ও কেমন গুটগুটে অন্ধকার। কোথাও দোয়েলকে দেখা গেলো না। এবার মেয়েটির মুখপানে তাকিয়ে চিন্তিত স্বরে বলল,

---- কোথায় দোয়েল আপু? এখানে তো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।

তখনই আড়াল থেকে কয়েকটা মেয়ে বেরিয়ে এলো। চমকালো মেঘ। তাকালো দোয়েলের কথা বলে আনা মেয়েটির দিকে৷ বলল,

---- আপনি আমায় মিথ্যা বলে এখানে এনেছেন কিন্তু, কেন?

সবাই হেঁসে উঠলো একসাথে। এবার চিনতে পারল মেঘ। গত কালকের সেই মেয়েটি। মেঘ বুঝলো আসল কাহিনিটা এবার। মেঘ জিজ্ঞেস করলো,

---- আমি বলেছিলাম তো বিষয়টা মিথ্যা তাহলে কিসের এতো শত্রুতা আমার সাথে আপনার সিনিয়র আপু?

কনক কাছে আসলো। বলল,

---- আমি বরাবরই এক লাইন বেশি বুঝি বুঝলে? যে ছেলেটা কারোর দিকে তাকায় না। আমি পিছু ঘুরছি। কথা বলা তো দূর আমি যে রাস্তায় হাঁটি সে দেখলে ওই রাস্তায় হাঁটতে অব্দি চাই না। আর আজ ও তোমার পাশাপাশি হেঁটেছে। কি কথা বলেছিলো তোমায় শ্রাবণ ভাইয়া? ও কেন তোমার দিকে তাকায়? কি জাদু করেছো তুমি? কেন ও তোমার প্রতি এতো দুর্বল?

হাসি পেলো মেঘের। বলল,

---- বোকার মতো প্রশ্ন করেছেন আপনি সিনিয়র আপু। আপনি আমার বড় আমাকে এই প্রশ্ন করা কি মানায়? লোকটা আমি নই, মন ও আমার নই, তাই ওনার মন কি চাই আমি বুঝবো কিভাবে?

যতোটা না শান্ত স্বরে বলেছে কথাগুলো তার চেয়ে দ্বিগুণ স্বরে চেঁচিয়ে উঠলো কনক। বলল,

---- একদম ন্যাকামি করবে না তুমি। এসেছো কত দিন হলো? এই চারদিন হলো। তার মধ্যে শ্রাবণকে তুমি টার্গেট করেছো প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার বাবার সব প্রোপার্টি হাতানোর ধান্দা তাই না?

চরম পর্যায়ের অবাক হলো মেঘ। মেয়েটির কতদূর অব্দি চলে গিয়েছে ভাবতে ভাবতে। মেঘ ভরসা দিয়ে বললো,

---- আপু এতো ভয়ের কিছুই নাই। আর আমি ও কোনো ন্যাকামি পছন্দ করি না। যা সত্যি তাই বলি বাই দা ওইয়ে, আমি আপনার এক পক্ষিক ভালোবাসার মানুষ শ্রাবন ভাইয়াকে ভালোবাসি না আমি। আর না বাসবো। কারন, আমার বাবার পছন্দই আমার পছন্দ। তাই এসবে জড়াতে আমি চাই না। আর হ্যা যাকে নিয়ে আপনি এতো পসেসিভ সে তো দেখছি আপনাকে পাত্তায় দেই না। আমাকে না থ্রেট দিয়ে আপনার প্রিয় মানুষকে আপন করার চেষ্টা করুন। এভাবে নয় হালাল ভাবে। আপনার বাবাকে বলে শ্রাবণ ভাইয়ার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। যেহেতু শ্রাবণ ভাইয়ার কোনো রিলেশন নেই সেহেতু বিয়েতে কোনো আপত্তি থাকার কথা না। আমি আসছি আপু। আমাকে এনে আপনার কিছুই হয়নি আমার ক্লাসটা মিস হলো শুধু শুধু।

মেঘ চলে যেতে লাগল তাড়াহুড়ো করে। একটা মেয়ে আটকাতে নিলে থামিয়ে দিলো কনক। মেঘ মেয়েটা তো মিথ্যা বা ভুল কিছুই বলেনি। শ্রাবণ রাজি না থাকলে উপায় এখন তার বাবা। তিনি যদি ছেলেকে রাজি করাতে পারেন তাহলে সব টেনশন উধাও। এখন ড্যাডকে বলতে হবে স্যারের সাথে কথা বলতে হবে। কোনো কিছু না ভেবে কনক মিষ্টি হেসে বলল,

---- বাই ইয়ার কালকে দেখা হবে। আমি আজ আসি।

একজন বলে উঠলো,

---- মেয়েটাকে শাস্তি দিবি এনে নিজেই চলে যাচ্ছিস সাথে মেয়েটাকে ও ছেড়ে দিয়েছিস কিছুই তো বুঝলাম না।

---- পড়ে বুঝবি এখন সময় নেই আমার কাছে। খুব বড় একটা কাজ করতে হবে।

কনক দ্রুত ছুটলো পার্কিং এড়িয়ায়। গাড়ি রাখা সেখানে। নিজেই ড্রাইভ করবে সে। কনকের বান্ধবী

গুলো ও চলে গেলো ক্লাসে। তাদের সব মাথার উপর দিয়ে গেলো।

_________________

---- শ্রাবন দেখ আজ ও এসেছেন হ্যান্ডসাম পুলিশ মহাদ্বয়। আমি বুঝি না নিজের বোন যায় রিকশায় আর মেঘকে নিজের বাইকে করে নিয়ে যায় বিষয় একটু ইয়ে ইয়ে লাগছে না? কিছু মিছু তো চলছেই তাদের মধ্যে।

আজ ও শ্রাবণের নীরব দৃষ্টি নিবদ্ধ পার্কিং এড়িয়ার দিকে। কিন্তু, আজ একটু অন্যরকম লাগলো তাদের কাছে।

---- ভাইয়া মেঘ যাবে না তোমার সাথে।

দোয়েল রিকশায় উঠলো কথাগুলো বলে। মেঘ ও পিছু পিছু দোয়েলের সাথে রিকশায় উঠলো। পাশে বসলো দোয়েলের।

---- মামা আপনি যান। সাবধানে চালাবেন ওদের যেনো কোনো সমস্যা না হয়।

---- আচ্ছা স্যার।

মনে মনে খুশি হলো মেঘ। যাক বাবা দিব্য ভাইয়া তাহলে শুনলো আজ। আর চাচিমা ও কোনো ঝামেলা করবে না। সে শুধু একটু শান্তি চাই। আর পড়াশোনায় ফোকাস করতে চাই। তার জন্য আগে ভালো পরিবেশ দরকার যা ছিলো না এতোদিন।

মেঘ ও দোয়েলের রিকশার পিছু পিছু দিব্যর বাইক গেলো ধীর গতিতে।

---- যাক বাবা বন্ধুর মনটা হালকা লাগলো আজ।

রাতুল কথাটা বলে। শ্রাবণ আজ রাগেনি। সে শান্ত একদম। মেঘের এমন কান্ডে রাগের পরিবর্তে হাসি খেলে গেলো। করিডোর থেকে চলে আসলো তারা। শ্রাবণ বলল,

---- তোরা ঠিকই বলেছিস মেয়েটার প্রেমে পড়ে একদম হাবুডুবু খাচ্ছি আমি। একদম অতল গহ্বরে তলিয়ে গিয়েছি। হয়তো তার ইশারায় বাচঁবো নয়তো তার স্মৃতিতেই মুছে যাবে শ্রাবণ শিকদার। হারিয়ে যাবে সে আবারও অন্ধকারে।

---- কিছুই হবে না দোস্ত আমরা আছি তো।

রিফাতে সাথে রামিম ও বলল,

---- আমরা থাকতে তুই হারিয়ে যাবি এও হয়? মাইক ভাড়া করে খুঁজবো।

---- আমি যে কবে প্রেমে পড়বো খোদা জানে।

তাসির রামিমের মাথায় চাটি মারলো। বলল,

---- সিরিয়ালে গাদা। ওর পর আমার আমার তারপর রাতুল, তারপর রিফাত, তারপর তুই।

রামিম হাহাকারময় কন্ঠে বলল,

---- ছোট বলে বাড়িতে ও দাম পায় না আবার বন্ধু মহলে ও পায় না। দুঃখের বস্তা কপাল আমার।

---- ফাজলামো বন্ধ করে চল ক্লাসে। পড়াশোনা বুঝতে চেয়েছিলে না বুঝাচ্ছি আমি।

শ্রাবণের কথায় সবাই চলে গেলো। শ্রাবণ মূলত মেঘ কি দিব্যর সাথে যাবে না কি না সেই টেনশনে কোথাও মন বসাতে পারেনি। তাই ছটফট করা মন এখন শান্ত হলো। মন মেজাজ ঠিক তো শ্রাবণ একদম অন্যরকম হয়ে যায়।

_________________

বাড়িতে আসলো দোয়েল ও মেঘ। ডয়িংরুমে এসে

চাচাকে দেখে অবাক হলো বেশ মেঘ দোয়েল ও তার ব্যতিক্রম না। এসময় বাড়িতে থাকার কথা না

জাহাঙ্গীর আহমেদ এর। দিব্য আসেনি বাড়ির গেইট অব্দি এসে তাদের রিকশা থেকে নেমে গেইটের ভেতরে গিয়েছে দেখে তারপর সে আবার ও ব্যাক করে থানায়। মনটা ভার দিব্যর। মেঘ তাকে এড়িয়ে গেলো কেন? রাতে বাসায় গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই হবে। এই ভেবে চললো সে নিজের গন্তব্যে।

---- এই সময় তুমি বাসায় বাবা? শরীর ঠিক আছে তো?

মেঘ এসে পাশে বসলো। কপালে হাত রাখলো। অতঃপর বলল,

---- শরীর তো ঠান্ডা আপু। জ্বরটর নেই তবে কি অন্য সমস্যা হলো?

দোয়েল ও মেঘের অস্থিরতা দেখে শব্দ করে হাসেন

জাহাঙ্গীর আহমেদ। মেয়ে দুটোকে পাশে বসিয়ে মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে, চা নিয়ে আসা ফাইজা বেগমকে বলেন।

---- এজন্যই মেয়ে থাকতে হয় বাবার ঘরে। ছেলে হলে ও মেয়ে ছাড়া সেই ঘর পরিপূর্ণ হয় না। দেখলে ফাইজা আমার জন্য ওরা কতটা উদ্ধিগ্ন হলো। ছেলে হলে বলতো হয়তো কোনো কাজে আসছে জিজ্ঞেস অব্দি করতো না। আর মেয়েরা হচ্ছে মায়ের মতো। মা যেমন অধৈর্য্য হয়ে জিজ্ঞেস করে বাবা তুই ঠিক আছিস অসময়ে আসলি যে। মায়ের অভাব ভুলিয়ে দিয়েছে ওরা আমায়।

ফাইজা বেগম মৃদু হাসলেন। সাথে দোয়েল আর মেঘ

ও। তিনি আবার ও বলেন,

---- আমি এমনিতেই আসছি। আজ কোনো কাজ নেই শুধু একটা মিটিং ছিলো। তোরা যা ফ্রেশ হয়ে নে। তারপর একসাথে খাওয়াদাওয়া করবো। কিন্তু, দিব্য আসলো না যে?

---- দিব্য অফিসে খেয়ে নিবে। যা তোরা ফ্রেস হয়ে আয়। আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।

মেঘ ও দোয়েল চলে গেলো। মেঘের মনটা শান্তি পেলো সবাইকে খুশি দেখে। বিশেষ করে ফাইজা বেগম খুশি।

---- ভাইয়া কষ্ট পেয়েছে মেঘ।

---- কষ্ট পাবে কেন আপু?

দোয়েল সবই জানে দিব্য মেঘকে পছন্দ করে। দোয়েল ও পছন্দ করে মেঘকে। মেঘ স্পষ্টবাসি মেয়ে। কিন্তু, দিব্য তার বাবার কারনে কিছুই বলতে পারছে না। বাবা মানলে ও মা মানবেই না। এই নিয়ে ঝগড়া হবে। তার আগে যাকে সে পছন্দ করে সেই মানুষটিকে রাজি করাতে হবে। নয়তো কাজের কাজ কিছুই হবে না। মেঘকে রাজি করাতে পারলে মেঘের বাবা এমনিতেই রাজি দিব্যর ধারনা এটা। দোয়েল বলল,

---- তুই কি কিছুই বুঝিস না? ছোট থেকে তোকে সবসময় ভাইয়া আগলে রাখে। কেয়ার করে।

---- অবশ্যই করবে। তুই যেমন আমি ও তেমন। ভাইয়া তো দুজনের হয় তাহলে তোকে যেমন আগলে রাখবে আমাকে ও সেইম ভাবেই আগলে রাখতে হবে। কি যে বলিস না আপু।

মেঘ নিজের মতো কথাগুলো বলে চলে গেলো। দোয়েল ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। মেয়েটা সত্যিই বোঝে না নাকি ইচ্ছে করে এড়িয়ে চলে বোঝা বড় দায়।

---- সত্যি করে বলোতো এই অসময়ে আসলে কেন তুমি? কারন ছাড়া অফিস ফেলে আসার মানুষ তো তুমি নও। কোনো ঝামেলা হয়েছে?

চা খেতে খেতে ভাবছে গভীর মনোযোগ দিয়ে জাহাঙ্গীর আহমেদ। শুনেননি তিনি সহধর্মিণীর কথা। ফাইজা বেগম আবারও চিৎকার করে বলেন,

---- আমি কিছু বলছি কানে যাচ্ছে না তোমার?

---- এভাবে কেউ চিৎকার করে?

চমকে ওঠে জাহাঙ্গীর আহমেদ। শান্ত করার বৃথা চেষ্টা করে ফাইজা বেগম। আবার ও বলেন,

---- কেন আসছো কারন কি বলো? মিথ্যা বলবা না আমাকে।

জাহাঙ্গীর আহমেদ স্ত্রীর পানে তাকালেন। বললেন,

---- তুমি এতো উতলা হচ্ছো কেন বুঝলাম না তো।

---- আমি উতলা হচ্ছি না আমি শুধু জানতে চাচ্ছি।

আমার প্রশ্নের জবাব দাও আমি তোমায় বিরক্ত করবো না।

জাহাঙ্গীর আহমেদ বুঝলেন এই মহিলা না জানা অব্দি শান্তি পাবে না আর তাকে ও শান্তি পেতে দিবে না।

---- জাহিদ আসবে গ্রাম থেকে।

ক্ষীন হাসলেন ফাইজা বেগম। সাথে সাথে বলে উঠলেন,

---- তার মানে মেঘকে নিতে আসছে জাহিদ। ওরা গ্রামে চলে যাবে?

সত্যি সত্যি বিরক্ত হলেন জাহাঙ্গীর আহমেদ। বলেন,

---- তোমার কি মনে শান্তি নেই? কেন সারাক্ষণ মেঘকে নিয়ে পড়ে থাকো? ও তো তোমায় বিরক্ত করছে না। কিসের প্রবলেম তোমার?

তিনি দাঁড়িয়ে না থেকে সোফায় বসলেন। মুখটায়

স্পষ্ট রাগ। তিনি চিবিয়ে চিবিয়ে বলেন,

---- ঘরে একটা বিয়ের বয়সি ছেলে আর মেয়ে থাকলে ছেলের মায়ের শান্তি থাকবে কিভাবে? এমনিতে তো মাঝেমধ্যে আসতো এখন একেবারে থাকার জন্য আসছে। দিন যাচ্ছে ভয় হচ্ছে ওদের মধ্যে না কোনো সম্পর্ক হয়ে যায়।

---- ফাইজা বাজে কথা বন্ধ করো তুমি। মেঘ আর দিব্য ভাই-বোন। দিব্য বোনের মতো আগলে রাখে মেঘকে। যেমনটা দোয়েলের ক্ষেত্রে রাখে।

রাগের তোপে বলা জাহাঙ্গীর আহমেদ এর কথায় রাগ দেখিয়ে বলেন ফাইজা বেগম,

---- ভাই বোন না ছাই! আমি চাই, হয় তুমি মেঘকে বিয়ে দাও নয়তো দিব্যকে বলো বিয়ে করতে। পারো তো না ছেলেকে রাজি করাতে। মুখ দিয়ে শুধু বড়ো বড়ো কথা বলতে পারো। আমি জানি না কেন আমার ছেলে বিয়ে করতে চাচ্ছে না? আমি সবই জানি। সবকিছুর মূলে তোমার ভাতিজি।

---- ফাইজা চুপ করো তুমি। অতিরিক্ত হচ্ছে কিন্তু?

---- কোনো অতিরিক্ত করছি না আমি৷ আসুক জাহিদ আমি সরাসরি বলে দিবো। তুমি আমায় আটকাবা না৷

বলেই তিনি ঘটঘট করে চলে গেলেন সোফা থেকে ওঠে। দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গীর আহমেদ। ছোট ভাই আসার সময় হয়ে এসেছে।

নিজে গিয়ে এগিয়ে নিয়ে আসবেন তিনি। তাই বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেন।

_________________

---- মেঘ কি হয়েছে তোর?

---- কিছু না তো কি হবে?

দোয়েল নিজের মুখোমুখি করলো মেঘকে। অতঃপর বলল,

---- তুই কি ভাবছিস এতো গভীর মনোযোগ দিয়ে?

পানি খাচ্ছিস নাকি ফেলে দিচ্ছিস দেখতো?

মেঘ তাকালো নিচের দিকে, নিজে ও বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকালো নিজের কাজকর্মের এহেন অবস্থা দেখে। জগ থেকে পানি গ্লাসে ডালছিলো আর তার ভাবনায় মগ্ন থাকার কারনে পানি ফ্লোরে পড়ে গিয়ে ফ্লোরমেট ভিজে গিয়েছে। তড়িৎ চাহনি দোয়েলের দিকে, বলল,

---- সরি সরি দোয়েল আপু। আমি ইচ্ছে করে করিনি। আমি এখনই পরিষ্কার করে দিচ্ছি।

---- শান্ত হয়ে বস তো আগে।

বসলো মেঘ। দোয়েল বলল,

---- কি নিয়ে ভাবছিস?

---- তেমন কিছুই না। পড়াশোনা আর বাবা ছাড়া ভাবার মতো আর কে আছে বলতো?

---- তুই শ্রাবণ ভাইয়াকে পছন্দ করিস? কি কথা হয়েছিলো আজ তোদের মধ্যে?

মেঘ অবাক হলো কথা আর কোথায় বলল? সে তো হাঁট ছিলো কেবল। শ্রাবন ভাইয়া তো শুধু কিছু জিজ্ঞেস করলে আর সে উত্তর দিয়েছে শুধু। আর এটা নিউজের মতো ছড়িয়ে গেলো? সেলিব্রিটি হয়ে গেলো নাকি সে?

---- তুই কিভাবে জানিস?

---- সেটা না জেনে সত্যিটা বল?

---- কথা বললে কি অন্যায় হবে দোয়েল আপু?

দোয়েল হকচকিয়ে উঠল। তার রাগ হচ্ছিলো বেশ।

সে চাই কেবল তার ভাইয়ার সাথে কথা বলবে। কেন অন্য ছেলের সাথে কথা বলবে?

---- অন্যায় নই কিন্তু, তোকে এর জন্য কিন্তু অনেক বড়োসরো বিপদে পড়তে হবে। পরে তো আমাদের

টেনশন করতে হবে৷

---- সামান্য কথা বলার জন্য মানুষ আমার ক্ষতি করবে?

---- হ্যা করবে৷ তুই বিপদে পড়লে ভাইয়া তোকে নিয়ে টেনশন করবে। তারপর তোর পড়াশোনা ও বন্ধ হবে। তুই কি চাস তোর পড়াশোনা অফ হয়ে যাক?

বুঝলো না সামান্য বিষয় নিয়ে এতো রাগ দেখানোর কি আছে?

---- দিব্য ভাইয়াকে কি বাবাকে বারণ করে দিবেন?

---- অন্য কারোর সাথে রিলেশনে থাকলে অবশ্যই বারণ করবে।

---- আমি রিলেশন কোথায় করলাম আপু? তুই তো জানিস সব?

দোয়েল কোনো জবাব দিলো না। রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। দোয়েলের এমন আচরনে কষ্ট পেলো মেঘ। সে ফ্রেশ হয়ে বেলকনিতে এলো। হঠাৎই ফোন বেজে উঠলো মেঘের। বাবা ভেবে নাম্বার না চেইক করেই বলল,

---- আসসালামু আলাইকুম বাবা।

অপরপাশ থেকে শান্ত গম্ভীর গলার স্বর,

---- ওয়ালাইকুম আসসালাম! শ্রাবণ বলছি আমি।

তড়িৎ গতিতে নাম্বার চেইক করলো মেঘ। স্তব্ধ হয়ে রইল মেঘ। ঝটপট প্রশ্ন করলো,

---- আমার ফোন নাম্বার কিভাবে পেয়েছেন আপনি? আর কেন ফোন করেছেন?

আবার শীতল কণ্ঠ কানে আসলো,

---- প্রিয় মানুষের কথা খুব মনে পড়ছিলো তাই ফোন দিয়েছি। শ্রাবণ শিকদার মনের বিরুদ্ধে গিয়ে থাকতে পারে না।

চোখ দু'টো বন্ধ করে ফেলে মেঘ। লোকটা অবুঝের মতো বিহেভিয়ার করছে। মেঘ নিজেকে যথাসম্ভব শক্ত করলো। কন্ঠে কাঠিন্যেতা এনে বলল,

---- ফাজলামো বাদ দিয়ে ফোন রাখুন আর কখনোই ফোন দিবেন না। এসব ভালোবাসা নয় এসব নিছকই পাগলামি।

মেঘ কল কেটে দিলো নিজেই। ফোনটা নিয়ে সে বেলকনি থেকে রুমে আসতেই চমকে ওঠলো,

ভয় পেলো খানিকটা। বলল,

---- দিব্য ভাইয়া আপনি এখানে? নক করে আসবেন তো।

দিব্যর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে ভিষণ রেগে আছে। ঠিক নেই তার অবস্থা। চুল গুলো এলোমেলো। খাইনি মুখটা শুঁকিয়ে আছে। মেঘ কিছুটা ভয় পেলো। তার উপর রেগে আছে নাকি? আর রেগে কি সত্যিই তার পড়াশোনা বন্ধ করে গ্রামে পাঠিয়ে দিবে?

---- কাকাই আসছে। ডয়িংরুমে অপেক্ষা করছে।

আর হ্যা নিজের মতো নিজের ফোন নাম্বার ও সেইফ রাখবি নয়তো যখন তখন কিছু একটা হয়ে যেতে পারে। সো দ্যাট ইউ রিমেম্বার!

মেঘ খুশি হয় বাবার আসায় পরোক্ষণেই ভয় পায়।

জেনে গেলো নাকি দিব্য ভাইয়া? যায় হোক মেঘ বলল,

---- ঠিক আছে ভাইয়া। আমি যাচ্ছি বাবার কাছে।

মেঘের পিছু দিব্য ও গেলো৷ ভিষণ রেগে আছে কেন জানি।

---- বাবা কেমন আছো?

---- আলহামদুলিল্লাহ আম্মাজান কেমন আছে আমার মা জননী? আর দোয়েল মামুনি কোথায়?

---- আলহামদুলিল্লাহ ভালো। দোয়েল আপু মনে হয় ছাঁদে গিয়েছে।

---- মেঘ যা তো মা রুমে যা একটু।

মেঘ তার বড়বাবার কথা শুনলো। রুমে চলে গেল।

মেঘ যেতেই জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন,

---- তো কি সিদ্ধান্ত নিয়েছিস তুই?

জাহিদ আহমেদ সিরিয়াস মুডে বলেন,

---- আমি যা বলার ওনার সামনেই বলবো ভাইজান

আমি জানি না আপাতত কি করা উচিত আমার।

---- ঠিক আছে একটা মাত্র মেয়ে যা সিদ্ধান্ত নিনি ভেবে চিন্তে নিবি। আমার এতে কোনো আপত্তি নেই। আমি চাই তোরা সবাই ভালো থাক। কষ্ট যেনো তোদের ছুঁতে না পারে।

ফাইজা বেগম চা বিস্কিট নিয়ে আসলেন। আড়াল থেকে যতোটুকু শুনেছেন মেঘকে নিয়ে কিছু বলছেন তারা। কিন্তু, বিষয়টা কি?

তিনি আপাতত মাথা ঘামালেন না এই বিষয়ে। সুন্দর করে আপ্যায়ন করলেন।

_______________

---- অবহেলা করিস না মেঘপাখি। তোর অবহেলা নিকোটিনের থেকেও ভয়ংকর। আমি সহ্য করতে পারি না। বুকের বা পাশটায় ভিষণ পোড়ায়, কষ্ট হয়। কেন বুঝিস না। নাহ আমাকে সব জানাতে হবে। আমার সামনে আমার পাখিকে অন্য কেউ নিয়ে যাবে আর এই ইন্সপেক্টর দিব্য আহমেদ তা চেয়ে চেয়ে থাক তা কি করে হয়? হয়ই না। আমার পাখিকে আমি আমার করবোই।

---- ভাইয়া আসবো?

---- আয়।

---- মা ডাকছে খেতে যেতে বলেছে।

দেয়েল দেখলো ঘরটা অন্ধকার। সিগারেটের ধোঁয়ায় মোঁ মোঁ করছে চারদিকে। কাশি উঠে পড়ল দোয়েলের। কাশি থামিয়ে দোয়েল বলল,

---- ভাইয়া সামান্য একটা বিষয় নিয়ে এতোটা রেগে আছো কেন? ও তো শুধু ক....

---- রুম থেকে বের হয়ে যা দোয়েল। তুই তো সবই জানতিস জেনেও ওকে দেখে রাখলি না। সুযোগ করে দিয়েছিস।

---- ভাইয়া বিষয়টা আমি জানতাম না। আম....

---- স্টপ দিস ওয়ার্ড! চলে যা রুম থেকে৷

---- কিন্তু, মা ত....

---- সেইড গেট আউট!

মন খারাপ করে চলে গেলো দোয়েল। এই ভয়টায় পাচ্ছিলো দোয়েল। কেন যে সয়তান গুলো মেঘকে র্যাগ দিতে গেলো? মিথ্যা একটা জিনিসকে ঘীরে এখন সব তার দোষ। নিজে সবাইকে সত্যিটা কেন বলে না? বাবা মা আর কাকাকে সব জানালেই তো পারে। কিসের এতো সংকোচ তার বুঝে পায় না দোয়েল। ভালোবাসলে ঝামেলা পোহাতে হই একটু। এতো সুন্দর গুছিয়ে সবাই মেনে নিবে নাকি? মা'ই খাওয়াবে এসে আমার কি?

________________

---- যে নিজের বোনকে একটা বেকার ছেলেকে বিয়ে দিবে না বলে বাবার সাথে তাল মিলিয়েছিলো, যে তার বোন মারা গিয়েছিলো দেখতে অব্দি আসেনি। যার নিজের সংসারের ঠিক নেই। সেখানে আমার মেয়েকে কিভাবে নিজের ছেলের জন্য আবদার করেন মিস্টার সারিফ শিকদার?

চলবে,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন