ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্রাবণ মেঘের উপখ্যান

১০ম পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম লিজা

#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান — ১০

#কলমে_তাসনিম_লিজা

----- কপি নিষিদ্ধ!

---- আ'আমি পারবো না। সরুন সামনে থেকে। আপনি কিন্তু, একটু বেশি করছেন।

এলেমেলো পলক ফেললো মেঘ। কথাগুলো বলে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছিলো সে। শ্রাবণ ফের বললো,

---- আমি কি অন্যায় কিছু বলেছি? আমি তোমার হাসবেন্ড হই। এইটুকু আবদার কি সাঝে না?

মেঘ ভীত চাহনিতে তাকায়। কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,

---- ব'বলছি তো আমি মানিয়ে নিতে পারি না। আমাকে সময় দিন। আমার দম বন্ধ লাগছে এখানে।

সরে গেলো শ্রাবণ। বুঝলো মেঘ ভয় সাথে বিরক্ত হচ্ছে। নিঃশব্দে দরজা লক করে এসে বিছানার একপাশে শুইয়ে পড়লো। মেঘের উদ্দেশ্যে ছোট্ট করে বললো,

----- এতো বড়ো বেড থাকতে নিচে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। আর আমার জন্য যদি প্রবলেম হয়

তবে সে বলতে পারে আমি সোফায় শুইয়ে পড়বো।

জবাব দিলো না মেঘ। সে ও চুপচাপ পা ফেলে বেডের দিকে এগুলো। বেডের এক কোণে গুটিশুটি মেরে শুইয়ে রইলো নিজেকে সামলে নিয়ে। শ্রাবণ ধীরে পাশে ফিরে তাকালো এমন ভাবে যেনো কোনো শব্দ না হয়। মেঘ অন্যদিকে ফিরে আছে। শ্রাবণ হতাশ হলো। জোর করে চোখ বুঁজে ঘুমানোর চেষ্টা করলো। অন্যদিকে মেঘ ক্লান্ত থাকার কারনে ঘুমিয়ে পড়লো।

____________________

----- ওরা কি ঘুমিয়ে পড়েছে?

সারিফ শিকদার আসে শ্রাবণের ফ্ল্যাটে। তারা যে এখানেই থাকবে এমনটা নয়। সারিফ শিকদার তার বাড়িতেই থাকবেন। সাথে সুমনা রাহমান ও থাকবেন। কিন্তু, শ্রাবণকে জানালে শ্রাবণ একদম না করে দেয়। সে এই ফ্ল্যাট ছেড়ে কোথাও যাবে না। দরকার হলে তার মা বাবা যেনো থেকে যায় তাদের সাথে। কিন্তু, এখান থেকে সুমনা রাহমান তার হসপিটালে যাওয়া সম্ভব না। পরিস্থিতি অন্যরকম। বাধ্য হয়ে তাদের চলে যেতে হবে। ছেলে ও ছেলের বউ এর থেকে দূরে। সুমনা রাহমান সদর দরজা লক করতে করতে বলেন,

---- হ্যা সবাই শুইয়ে পড়েছে। ওই দিকের কি অবস্থা এসে পড়লেন যে?

দুজন একসাথে হলেও দূরত্ব অনেক। যেমনটা আগে তুমি তে ছিলো আর এখন আপনিতে চলে আসছে। সারিফ শিকদার বলেন,

---- জাহাঙ্গীর ভাই জোর করে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এতো মানুষ থাকাটা ও ঠিক না। তাই আসতে হলো।

আর হ্যা কালকে তোমায় হসপিটালে যেতে হবে না।

উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন সুমনা রাহমান।

---- কেন?

সারিফ শিকদার বসলেন সোফায়৷ চিন্তিত কন্ঠে বললেন,

---- একদিকে আমার ছেলে আর একদিকে দিব্য।

দু'জনেই পাগল হয়ে গিয়েছে। মনে হচ্ছে দোষটা আমারই। আমি যদি তাড়াহুড়ো না করতাম তাহলে আজ এই দিনটা দেখতে হতো না। ভাবছি দিব্য ছেলেটা না আবার ও পাগলামি করে। যদি ওর কাছে হার মেনে বিয়েটা ভেঙে দিতে চাই তাহলে আমার শ্রাবনের কি হবে?

চিন্তিত হলেন সুমনা রাহমান ও। তিনি শান্তনা স্বরুপ বলেন,

---- কিছুই হবে না। মেঘ আমাদের ছেলের বউ। আর ওদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এখানে বিয়ে ভাঙার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? দিব্যকে বুঝতে হবে মেঘের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। চাইলে ও কিছু করা সম্ভব না৷

সারিফ শিকদার দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলেন,

---- এভাবে সমস্যায় জড়িয়ে যাবে আমার ছেলেটা ভাবতেই পারিনি।

---- কিসের সমস্যা? ওদের বিয়ে হয়েছে কোনে সমস্যা দেখছি না আমি ৷ আপনি টেনশন না করে রুমে আসুন৷

---- তুমি যাও আমি আসছি৷

সুমনা রাহমান চশমাটা ঠিক করতে করতে চলে যান। একজন পরিপাটি মহিলা তিনি ৷ পরনে সুন্দর করে গুছিয়ে পড়া শাড়ি। কথার ধরন ও তীক্ষ্ণ! শুধু

দুজনের মতের অমিল আর অবহেলা, অযত্ন হওয়ায় এতোটা দূরত্ব। একদিন দু'দিন নয় দশ দশটা বছর। তাদের জীবনটা ও আজ নতুন নতুন লাগছে। যেনো আজই শুরু হয়েছে। চাইলে ও কি টেনশন না করা যায়? এমনিতেই মাথায় এসে ভীর করে। যায় হোক

তিনি ও ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর ছুটলেন রুমের দিকে।

___________________

আজানে সুমধুর ধ্বনি কানে আসতেই পিটপিট করে চোখ খুললো মেঘ। নিজেকে কেমন বন্দী বন্দী লাগছে। কোথাও আটকা পড়লো নাকি সে? চোখ ডলার জন্য হাতটা ও আনতে পারলো না। হাতটা ও আঁটকে আছে মনে হলো। বার কয়েক চোখের পাতা ফেললো মেঘ। চোখের সামনে ঘুমন্ত শ্রাবণের মুখে ভেসে ওঠলো। চমকে চিৎকার করে বলে উঠলো,

---- অসভ্য লোক! বলেছি তবুও অসভ্যতামি করছে৷ ছাড়ুন আমায় এভাবে কেউ ধরে রাখে?

আকস্মিক চিৎকারে হকচকিয়ে উঠলো শ্রাবণ। ঘুমঘুম চোখে তাকালো মেঘের দিকে৷ বললো,

---- চিৎকার করছো কেন? কেউ শুনলে কি ভাববে বলো তো?

মেঘ আবার ও আগের ন্যায় বললো,

---- আপনার লজ্জা করে না আমাকে টাচ করেন!

নিজের সীমার মধ্যে থাকুন না।

শ্রাবণের ঘুম চলে গেলো৷ পুরো একমিনিট তাকিয়ে রইলো মেঘের রাগান্বিত মুখপানের দিকে। মেঘ ও রাগে হাসফাস করছে। শ্রাবণ এবার ইশারায় মেঘের জায়গা দেখালো৷ মেঘ তাকালো ইশারা বুঝে। জিভে কামড় বসালো তৎক্ষনাৎ। মেঘ করুন চোখে তাকিয়ে বললো,

---- সরি আমি বুঝতে পারিনি। প্লিজ আমার কথায় কিছু মনে করবেন না। আমি যে ঘুমের মধ্যে...

আসলে মেঘ শ্রাবণেকে বেডের কিনারায় এনে ফেলেছে। মেঘের অনুরোধ রাখতে গিয়ে ও পারলো না। আঁকড়ে ধরলো মেঘকে নয়তো নিজেই পড়ে যাবে ফ্লোরের মধ্যে। মেঘ নিজের জায়গা ছেড়ে ঘুমের মধ্যে শ্রাবণের এদিকটায় এসে পড়েছিলো। শ্রাবণ সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করতে চাইলো না বললো,

---- আমি অসভ্য লোক তাই না? ফাইন আমি ও তোমায় মাফ করবো না তোমার সরি তোমার কাছেই রাখো। এমন টুকটাক অসভ্যতামি করে আজকের সরি সাথে কাটাকাটি করে ফেলবো কেমন?

মেঘ রাগলো। বললো,

---- আমি সত্যিই ভুল বলিনি। আপনি সত্যি অসভ্য

আস্তো একটা অসভ্য। হুহ!

---- ফাইন আমি অসভ্য। কি করছো তুমি এতো রাতে?

মেঘ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,

---- নাচতেছি নাচবেন?

শ্রাবণ হাসলো। বললো,

---- আপনি বললে আপনার সাথে নাচতে কোনো অসুবিধা নেই আমার।

কথা বললো না মেঘ। ওয়াশরুমে গেলো সে অজু করতে হবে। শ্রাবণ বুঝতে পেরে উঠে দাঁড়ালো৷ সে নামাজ পড়ে তবে অনিয়মিত হয়ে যায়৷ আজ সুন্দর একটা সুযোগ এসেছে। প্রিয় মানুষটার সাথে

নামাজ আদায় করার মতো সুন্দর অনুভূতি আর কি হতে পারে?

মেঘ বের হতেই শ্রাবণ ওয়াশরুমে যেতে যেতে বললো,

---- একটু অপেক্ষা করো একসাথে নামাজ আদায় করবো।

দাঁড়ালো মেঘ দেখতে পেলো দুটো জায়নামাজ রাখা। মনটা হালকা লাগলো অদ্ভুত কারনে। সে অপেক্ষা করলো শ্রাবণের জন্য। শ্রাবণ বের হয়ে এলো। অতঃপর টুপি পড়ে নিলো। জায়নামাজ দু'টো সমানে বিছিয়ে নিলো। সুন্দর করে নামাজ আদায় করলো দু'জনে। মোনাজাত ধরলো একসাথে। দোয়া শেষে হাত দু'টো মেঘের মুখখানায় ছুঁয়ে দিয়ে ফুঁ দিলো শ্রাবণ। মেঘ তাকালো শ্রাবণের দিকে। শ্রাবন মুচকি হেসে বললো,

---- বউ যেনো সবসময় আমার কথা শুনে সেই দোয়ায় করলাম। আল্লাহ যেনো কবুল করেন আমার ইচ্ছে খানা।

মেঘ কি বলবে বুঝলো না। ছেলেটাকে যতোটা সে চিনে ছিলো তার চেয়ে ছটফটে শ্রাবণ। দু'টো রুপই ভিন্ন লাগতো তার কাছে ৷ জায়নামাজ দু'টো তুলে ভাঁজ করলো মেঘ। তারপর শ্রাবণের উদ্দেশ্যে বললো,

---- আমি দিব্য ভাইয়াকে দেখতে যাবো। আমাকে নিয়ে যাবেন?

মেঘ কিছুই চিনেনা তেমন। তাই শ্রাবনের সাহায্য নিতেই হবে। এছাড়া যে আর কোনো উপায় নেই মেঘের কাছে।

শ্রাবণের মনটায় মেঘ জমে উঠলো তখনই। সে তে

ভেবেছিলো এখন দু'কাপ চা এনে দু'জন একসাথে খাবে গল্প করবে, তাকিয়ে থেকে একে অপরকে চিনবে। তাদের মধ্যে সুন্দর একটা সম্পর্ক হবে। কিন্তু নাহ!

এই মেয়ে তাকে বুঝে না। শ্রাবণ জবাব দিলো গম্ভীর গলায়,

---- রেডি থেকো আমি নিয়ে যাবো।

তারপর বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। মেঘ অবাক হলো। কোনো তর্ক করলো না চুপচাপ বেরিয়ে গেল কেন? আর এখন তে বাইরে অন্ধকার কোথায় যাবে লোকটা? তবে ভাবলো না বেশি। শুইয়ে পড়লো আবার। কিছুক্ষণ পর উঠে যাওয়া যাবে।

শ্রাবণ ছাদে আসলো। মেঘের মুখে দিব্য নামটা শুনতে বিষের মতে লাগে। না দিব্যর দোষ নেই দোষ তার মনের। ধীরে ধীরে মনের মধ্যে শত্রুতে রুপান্তর হচ্ছে দিব্য নামটা। জাস্ট অসহ্য লাগছে। ভোরের স্নিগ্ধ

বাতাস মনটাকে শীতল করে তুলছে। ছাঁদে সুন্দর দোলনা আছে স্টিলের। সেটাতেই পা তুলে কুশনের উপর মাথা রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো শ্রাবণ। মেঘ নামক মেয়েটি তার জীবনে এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি করলো। বেহায়াপনা হতে বাধ্য করলো। শান্তশিষ্ট ভদ্র ছেলেটা দিন দিন মেয়েটির মুখ থেকে অসভ্য আর অভদ্র ডাক শুনতেই যেনো অভ্যস্ত হয়ে পড়লো।

___________________

সাতটা বাজে তখন। দোয়েল দোয়াকে দেখে চমকে দাঁড়িয়ে গেলো। বললো,

---- তুমি এতো সকালে এখানে?

দোয়ার পরনে সুন্দর একটি বোরকা। হিজাব বাঁধা শুধু মুখটা দেখ যাচ্ছে। এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে দোয়া। সকালে একটা প্রাইভেট ছিলো তার। না গিয়ে সেই সময়টা খরচ করে হসপিটালে আসলো দোয়া ৷ দোয়েলকে অবাক হতে দেখে বললো,

---- অসময় হলো কিন্তু, আমার জন্য এটাই সঠিক সময়। নয়তো সুযোগ পাবো না।

এই বলে ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করলো দোয়া।

ফোন ঠিক আছে শুধু গ্লাসটা সামান্য ফাটা। দোয়েল নিলো তারপর চিনতে অসুবিধা হলো না তার এটা তার ভাইয়ের ফোন ৷ মৃদু হাসলো দোয়েল বললো,

---- ধন্যবাদ দোয়া।

দোয়া বিনিময়ে শব্দহীন হাসলো। বললো,

---- ভুলে সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি যদি কিছু মনে না করেন?

দোয়েল বললো,

---- মনে করবো কেন বলো?

ইতস্তত বোধ করলো দোয়া তবুও জানার আগ্রহে

জিজ্ঞেস করলো সে,

---- ফোনের স্ক্রিনে ওয়ালপেপার দেওয়া মেয়েটি আপনার কি হয়? মানে পুলিশ ভাইয়ার কি হয়?

হাসিটা মুখ থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলো তৎক্ষনাৎ।

মলিনতায় ছেয়ে গেলো দোয়েলের মুখাবয়ব। তবুও বললে দোয়েল,

---- আমাদের বোন হয়। সে এখন অন্যের বাড়ি চলে গিয়েছে।

বিশ্বাস হলো না দোয়ার। কিন্তু, এখন প্রশ্ন করার সময় না। আর সেই বা কে এতো কিছু জানার? সময় ও খুব কম তাই সাথে সাথে বললো,

---- আচ্ছা আপু আমি যায়। নয়তো বাবা বকা দিবেন।

বলেই উল্টো যাওয়া শুরু করলো দোয়া। দোয়েল

মৃদু হাসলো। মেয়েটাকে তার ভিষণ ভালো লেগেছে কিছুটা মেঘের মতো সরল সোজা একদম।

---- ইন্সপেক্টর দিব্য আহমেদ এর বাড়ির লোক কারা? ওনার জ্ঞান ফিরেছে।

দাঁড়িয়ে গেলো ঝটপট দোয়েল। সাথে সাথে বলে উঠলো সে,

---- আমি ওর বোন আমি যাবো আমার ভাইয়ার কাছে। কথা বলতে চাই। প্লিজ নার্স নিয়ে চলুন আমায়।

নার্সটি হাস্যজ্জল মুখে বলেন,

---- অবশ্যই দেখা করতে পারবেন। আসুন আমার সাথে।

পথিমধ্যে থেমো গেলো দোয়া নার্সের কথায়। পিছু ফিরলো। সাথে সাথে কয়েক পা এগিয়ে এসে দোয়েলকে ডাক দিলো,

---- আপু আমি ও দেখা করতে চাই। দেখতে চাই ওনি কেমন আছে।

দোয়েল থামলো। সাথে সাথে বললো,

---- ঠিক আছে আসো আমার সাথে।

দোয়েল ও দোয়া একসাথে নার্সের সাথে ভেতরে আসলো। জাহাঙ্গীর আহমেদ ও জাহিদ আহমেদ

কবেই উঠেছেন ঘুম থেকে। নামাজ পড়তে বের হয়েছিলেন দুজনে। এখনো ফিরেনি তারা।

তারা দুজন ভেতরে আসলো। দিব্যর যেনো চোখ খুলতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে। আধখোলা অবস্থায় তাকায় বোনের দিকে। সাথের মেয়েটাকে ঠিক চিনতে পারলো না। কিন্তু, চেনা চেনা লাগলো। কথা বলতে পারছে না দিব্য শরীর নড়লেই ব্যাথা লাগে। দোয়েল দিব্যর কাছে এসে বসলো। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তার। ভাইয়ের মাথায় আলতো হাত বুলালো। যেনো ব্যাথা না লাগে। কাঁদো কাঁদো গলায় শুধালো,

---- ভাইয়া কেমন আছো তুমি? কেন এমন পাগলামি করতে গিয়েছো? কেন একজনের উপর রাগ করে আমাদের কষ্ট দিচ্ছো?

সাহস করে দোয়া ও বললো,

---- কিসের পুলিশ হলেন আপনি? যে নিজের অবস্থাই সামলাতে পারে না সে কিভাবে দেশেকে সামলাবে? দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবে? আমার তো মনে হচ্ছে অতিরিক্ত বিপদ দেখলে আবার ও আপনি এই পথ বেছে নিবেন। ইন্সপেক্টর দিব্য আহমেদ একটা ভীতুর ডিম।

দিব্যর রাগ হয়। কি বলে মেয়েটা এসব? পুলিশের সাথে এক্সিডেন্টের কি সম্পর্ক? সে কি পুলিশের কোনো দায়িত্ব থেকে এমন একটা পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলো? আজব তো! চেনা নেই জানা নেই এসেই উল্টাপাল্টা কথা বলছে। দিব্যর বিরক্তিকর চাহনিই বলে দিচ্ছে দিব্যর রাগ হচ্ছে। কিন্তু, উপায় নেই প্রতিবাদ করার। দোয়েল ঠোঁট চেপে হাসলো। বললো,

---- ভাইয়া ও-ই তোমাকে হসপিটালে এনেছে নয়তো কি যে হতো উপরওয়ালায় জানেন।

দিব্যর এখন সবটা ক্লিয়ার হলো৷ এই মেয়েটির অস্পষ্ট চেহেরা দেখেছিলো এক্সিডেন্টের সময়৷ দোয়া দেয়েলের কথায় নিজেকে সামলে মৃদু হাসলো দিব্যর ভালো লাগেনি কথাগুলো। মৃদু স্বরে বলে উঠলো,

---- কে বলেছে বাঁচিয়ে অপমান করতে? মরলে তার কি হতো? যতসব আধিক্যেতা।

কথাগুলো দোয়েলকে বললে ও উদ্দেশ্য ছিলো দোয়া। দোয়ার রাগ হয়। সাথে সাথে বলে উঠলো,

---- দেখেছেন আপু আপনার পুলিশ ভাই কেমন,

উপকার করলাম ধন্যবাদ না দিয়ে উল্টো অপমান করছে আমায়।

দোয়েল থামানোর চেষ্টা করলো দোয়াকে৷ বললো,

---- আরে দোয়া তোমায় অপমান করেনি। ভাইয়া নিজের উপরই রেগে আছে ৷

তারপর ও বললো দোয়া,

---- আমি ছোট হলে ও বুঝি আপু। আপনার ভাই

আমায় অপমান করেছে। সাহায্য করেছি দেখতে ও এসেছি। ধন্যবাদ তো দিলো না উল্টো....

---- এসকিউস মি! আমি বলেছি বাঁচাতে? মরতে গিয়েছিলাম বাঁচতে কেউ সুইসাইড করে না। বাঁচিয়ে আমার কষ্টটা আরো দ্বিগুণ করে দিয়ে এখন আবার ধন্যবাদ পাওয়া আশা করছে। ইচ্ছে করছে এরেস্ট করে জেলে দিয়ে আসি।

হা করে তাকালো দোয়া। দোয়েল ও তার ব্যাতিক্রম

হলো না। দোয়েল সাথে সাথে বললো,

---- ভাইয়া এতো হাইপার হচ্ছো কেন? শরীর খারাপ করবে। আর কেন মরবে তুমি? মরতে দেবো না। দোয়া ঠিক কাজ করেছে। দোয়া তোমাকে ভাইয়ার পক্ষ থেকে থ্যাঙ্ক ইউ!

---- মানবতার কোনো দাম নেই আপু। আচ্ছা আমি যাই তাহলে। নয়তো তোমার ছ্যাকা খাওয়া ভাইয়ের সাথে আমার ঝগড়া হবে।

বড়ো বড় চোখ করে তাকালো দোয়েল। দিব্যর ইচ্ছে করছে একটা থাপ্পড় দিতে মেয়েটাকে। দেখতে বাচ্চাদের মতো আর কথার কি ধরন! ঝগরুটে কোথাকার!

---- দোয়েল এই মেয়েকে বল বের হয়ে যেতে নয়তো কিছু একটা বলে ফেলবো। জাস্ট ফিলস আনবেয়ারেবল।

দোয়েল পড়লো বিপাকে। মিনমনি করে বললো দোয়াকে,

---- দোয়া বোন আমার চলে যাও তুমি। নয়তো তোমাদের ঝগড়া থামাতে থামাতে আমাকেই হসপিটালের বেডে থাকতে হবে৷

দোয়া মুখ ভেঙছি কাটলো।

---- আপনাকে সহ্য করতে আমার ও বয়ে গিয়েছে। ভুল হয়েছে আমার।

বেরিয়ে গেলো দোয়া। দোয়েল সস্থি পেলো। বললো,

---- ভাইয়া তুমি শান্ত হও তো। এই অবস্থায় এতো উত্তেজিত হলে মাথায় তার ইফেক্ট করবে।

হাতটা তোলার চেষ্টা করলো দিব্য। মুখে তার তাচ্ছিল্যের হাসি। দোয়েল বুঝতে পেরে হাত ধরলো ভাইয়ের। বললো,

---- কিছু বলবা?

---- তারা বোধহয় শান্তি পেতে গিয়ে ও পেলো না তাই না দোয়েলপাখি?

ফ্যাকাশে হয়ে গেলো দোয়েলের মুখখানা। সে দিব্যর হাতের উপর হাত রাখলো। বললো,

---- কে আসবে ভাইয়া? যে চেয়েছিলো তুমি মরে যাও? আরে ওরা সবাই পর আমাদের। আমরা যাকে আপন ভেবে তার প্রতি দুর্বল ছিলাম সে আসলে আমাদের ভালোই বাসে না। ভাইয়া তুমি পাগলামো করো না। তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই।

দিব্যর চোখে পানি চিকচিক করছে। বোনের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,

---- কাঁদিস না আমি মরিনি তো বেঁচে আছি। মেঘ কোথায়? নিশ্চয়ই এখন শশুরবাড়িতে।

দোয়েল নরম গলায় বললো,

---- কেন ওই মহিলার কথা শুনতে গিয়েছো ভাইয়া? যে কি না মেঘের মা কাকিয়াকে নিজ হাতে মেরে ফেলেছে? তুমি জানতে না ভাইয়া? আজ মেঘ কোথায় আর তুমি কোথায়!

জানতো দিব্য। প্রমান ছিলো না তবে মাকে সে ভিষন ভালোবাসে। তাই তো চুপ করে ছিলো। আর ছোট্ট একটা আবদার করেছিলো মেঘকে চেয়ে। যেখানে মেঘের মাকেই সহ্য করতে পারেনি ফাইজা বেগম , সেখানে মেয়েকে পারবে? নিজেকে বোকা মনে হচ্ছে দিব্যর। মা একা হলে ও মানা যেতো সেখানে তার বাবা ও সাপোর্ট করছিলো সেটাই যেনো আরো ভেঙে দিলো দিব্যকে। সেই ভয়েই তো চুপ ছিলো সে। যে মানুষটা মানুষ মারতে পারে সে তো মেঘকে ও মারতে পারবে। খারাপ মানুষদের উপায়ের অভাব আছে নাকি? সেখানেই তো দিব্য বারংবার পিছু হটছিলো।

---- এখন কেমন আছিস বাবা?

হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে আসলো জাহাঙ্গীর আহমেদ ও জাহিদ আহমেদ। জাহাঙ্গীর আহমেদ এর কথায়

দিব্য মুখ ফিরিয়ে নিলো। ছেলের এহেন কান্ডে নিজেকে খুব ছোট মনে হলো। কিন্তু, ছেলের দিক থেকে তো তিনি অপরাধী। কারন তিনি ও ভয় দেখিয়েছে ছেলেকে মেঘকে ভুল যেতে। মেঘকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দিয়েছে। বিয়ে নিয়ে তাড়াহুড়ো করা সবই ওনার সিদ্ধান্ত ছিলো। ছেলেকে মেঘের থেকে দূরে রাখার এই পথ ছাড়া আর কি উপায় থাকতে পারে? ছোট ভাই ও তো অমত করেনি। নিশ্চিন্ত হয়ে ও হতে পারলেন না ছেলের কারনে। এখন শুধু আফসোস হচ্ছে। ফাইজাকে আগেই তার অপরাধের শাস্তি দিয়ে মেঘকে ছেলের বউ করলে আজ এই দিনটা দেখতে হতো না ওনার।

---- আমাকে মাফ করে দে বাবা। আমি তোদের আর মেঘের ভালোর জন্য এই কাজটা করেছি।

দিব্য অন্যদিকে ফিরিয়েই বিদ্রুপ করে বললো,

---- হুম ছেলের জীবন থেকে নিজের বউয়ের জীবন বড় হয়ে গিয়েছে। থাকুন আপনি আপনার ওয়াইফকে নিয়ে। আমার কাছে এসেছেন কেন? কে হই আমি আপনার? কেউ না।

দোয়েল বললো,

---- ভাইয়া মা কে পুলিশ এরেস্ট করে নিয়ে গিয়েছে রাত্রে। কাকিয়াকে মারার অপরাধে। আর বাবা-ই সব প্রমান দিয়েছে।

---- সব শেষ করে সব ঠিক করা যায় নাকি? আমাকে বাঁচিয়ে তারা খুব বড় ভুল করেছে। আমি মরে গেলে হয়তো সব শান্ত থাকতো কিন্তু, আমাকে বাঁচিয়েছেন যেহেতু, তাহলে আমার প্রাপ্যটা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েন। নয়তো নিজেরটা নিজেই বুঝে নিবো।

জাহিদ আহমেদ বলেন,

---- কি চাস তুই?

---- যার জীবনের কাছে নিজের জীবনটা ও তুচ্ছ মনে হয় তাকেই বুঝে নিবো৷

জাহাঙ্গীর আহমেদ জাহিদ আহমেদকে শান্ত থাকতে বললো। অতঃপর ছেলের পাশে চেয়ার টেনে বসলো। ঠান্ডা গলায় বললো,

---- দিব্য মেঘের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ও এখন অন্য বাড়ির বউ। ওকে ভুলে যা। আমরা তোকে ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করাবো।

দিব্য তাকালো শীতল দৃষ্টিতে। চোখে মুখে শুধু ক্লান্তির চাপ। সেও তার বাবার থেকে দ্বিগুণ শান্ত স্বরে বললো,

---- সময় থাকতে বুঝোনি তোমরা। ভালো মানুষ হলে জীবনে কেবল ঠকতে হয়। যা আমার জীবন বাঁচিয়ে রাখবে তা তো আমার জীবনের জন্য অবশ্যক। আমি যা করার করবো। তবুও আমি নিজেরটা বুঝে নিবো।

---- আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি করবি না দিব্য। ওকে ওর মতো ভালো থাকতে দে। আমি বলবো দোষ যারই হোক না কেন সব থেকে বড় অন্যায় করেছিস তুই। তুই আমাকে কেন বলিস নি? আমার মেয়েকে কি সবাই পুতুল পেয়েছে? ওর জীবন নিয়ে আমি কাউকে খেলতে দিবো না।

---- কাকাই আমি ভালোবাসি ওকে। মেঘ শ্রাবনকে ভালোবাসে না। তাহলে কেন ওর সাথে বিয়ে দিয়েছো?

তুমি ও তো ভলোবাসতে কাকিয়াকে। ছেড়ে আসতে পেরেছিলে? পারোনি তো? তাহলে আমার দিকটা বুঝতেছো না কেন? আমাকে বাঁচিয়ে তোমরা যে অন্যায় করেছো তার প্রায়শ্চিত্ত তো তোমাদেরকেই করতে হবে। এই দিব্য আর আগের দিব্য নেই। মা!

আসলেই সৎ কখনোই আপন হয় না। আমরা দুই ভাইবোন ওনাকে আপন করে নিয়েছিলাম কিন্তু,

ওনি করতে পারেনি। আমাদের কেউ নেই। আমি আর কারোর পরোয়া করি না। যা হওয়ার হবে।

---- তোর মা আমাকে তোদের মেরে ফেলার হুমকি দিতো। আমার করার কি ছিলো? মেঘ দোয়েল আর তুই তোরাই তো আমাদের সব।

---- প্লিজ এভাবে উত্তেজিত হবেন না। শরীর খারাপ করবে। এতে আপনার স্মৃতি শক্তি নষ্ট হওয়ার চান্স আছে।

চুপ হয়ে গেলো দিব্য। সে চাই না তার জীবন থেকে মেঘ মুছে যাক বরং মেঘকে জীবনের সাথে জড়াতে সব করবে সে। তার আগে সুস্থ হতে হবে।

----- আপনারা তো পেশেন্টের ক্ষতি করছেন। প্লিজ আপনারা এখান বাহিরে যান ৷ চেকআপ করতে দিন আমায়।

ডক্টরের কথায় বেরিয়ে গেলো তিনজন। জাহিদ আহমেদ টেনশনে পড়ে যান। তাদের রাগের চক্করে নিজের সহধর্মিণীকে হারিয়েছে৷ এখন তার মেয়ে নাহ এটা মানা যায় না। শ্রাবণকে জানাতে হবে। তাদের সাবধানে থাকতে হবে। দ্রুত ফোন বের করলেন জাহিদ আহমেদ। শ্রাবণের ফোন নাম্বার নেই কিন্তু, সারিফ শিকদার এর নাম্বার আছে তো। ফোন দিলেন তিনি।

কিছুক্ষণ পরই কল রিসিভ করলেন সারিফ শিকদার।

---- হ্যা বলো দিব্য সুস্থ আছে তো?

জাহিদ আহমেদ বিরস মুখে বললেন,

---- আলহামদুলিল্লাহ ভালো। শ্রাবণ কোথায় ওকে একটু দিবেন? জরুরি কথা আছে ওর সাথে।

সারিফ শিকদার চিন্তিত হলেন। বললেন,

---- সবকিছু ঠিক আছে?

---- হ্যা ঠিক আছে। আপনি একটু দিন ভাইজান।

---- আচ্ছা আমি যাচ্ছি।

সারিফ শিকদার শ্রাবণের রুমে এসে নক করলো।

কিছুক্ষণ বাদেই মেঘ দরজা খুললো। মেঘ বললো,

---- আসসালামু আলাইকুম স্যার।

হাসলেন সারিফ শিকদার। বলেন,

---- পাগলি মেয়ে আমি তোমার স্যার নয় বাবা বলো। শ্রাবণ কোথায়?

মেঘ খানিকটা লজ্জা বোধ করলো। অতঃপর বললো,

---- জানি না। ভোরে বের হয়েছিলো এখনো তো আসেনি।

হয়তো হাঁটতে গিয়েছে। ভেবে তিনি ফোনটা কানে নিয়ে কিছু বলতে নিবেন তখনই শ্রাবণ এসে হাজির হলো। মেঘ দেখেই বললো,

---- এসে গিয়েছে আপনার ছেলে।

ঘুরে তাকালো সারিফ শিকদার। বলেন,

---- মেঘের বাবা ফোন দিয়েছে। তোর সাথে কথা বলতে চাই।

ফোনটা এগিয়ে দিলো। শ্রাবণ ও ফোনটা নিলো। কিছুটা দূরে গেলো। বললো,

---- আসসালামু আলাইকুম বাবা বলুন?

নিজেকে সামলিয়ে বলতে শুরু করলেন জাহিদ আহমেদ।

----- দিব্য অবুঝের মতো আচরণ করছে শ্রাবণ। ও

চাই না তোমরা একসাথে সংসার করো। ও মেঘের জন্য পাগলামি করছে। আমার মেয়েটার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আমি চাই আমার মেয়ে ভালো থাকুক। ওকে তুমি আগলে রেখো। দিব্য যেনো ওর কাছে আসার চেষ্টা ও করতে না পারে। তোমার উপর ভরসা করে আমার মেয়েকে তুলে দিয়েছি তুমি দিব্যর থেকে আমার মেয়েকে দূরে রেখো।

---- আপনি শান্ত হোন বাবা। আমি থাকতে মেঘের

কাছে আসার সাহস কেউ করতে পারবে না। এমনকি দিব্য ভাইয়া ও না। ওনাকে বুঝতে হবে মেঘ এখন ম্যারিড ওর হাসবেন্ড আছে। ওনার পাগলামি করা এখন সাঝে না। আমি থাকতে আমার মেঘর দিকে কেউ চোখ তুলে থাকালে আমি ও বড় ছোট মানবো না। না দেখবো আত্মীয়তা।

---- যায় হোক আমার মেয়েটার যেনো কিছু না হয়৷

ওকে দেখে রেখো। তোমার উপর ভরসা করে দিলাম।

---- চিন্তা করবেন না আপনি। আমি মেঘকে আগলে রাখবো। সে আমার ওয়াইফ। তার ভালো মন্দ সবকিছু খেয়াল রাখা আমার দায়িত্ব। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। ভাবছিলাম হসপিটালেে যাবো এখন দেখছি ক্যান্সেল করে দিতে হবে।

তড়িঘড়ি করে বললেন জাহিদ আহমেদ।

---- খবরদার তোমরা এসো না। মেঘকে দেখলে আরো পাগলামি বাড়তে পারে দিব্যর। আমি কারোর ক্ষতি চাচ্ছি না আপাতত।

---- প্রশ্নই আসে না আসার। আচ্ছা এখন রাখছি।

আল্লাহ হাফেজ!

---- ভালো থেকো তোমরা। আল্লাহ হাফেজ!

---- বাবা কি বলেছে?

একটু দূরে ছিলো শ্রাবণ। মেঘ ও সারিফ শিকদার এর থেকে। মেঘের কথায় শ্রাবণ বললো,

---- তেমন কিছু না। হসপিটালে যেতে বারণ করেছে

আমরা যাচ্ছি না। দিব্য ভাইয়া সুস্থ আছেন যথেষ্ট।

---- না গেলে কেমন দ...

---- বললাম তো যাচ্ছি না। কেন দিব্য দিব্য করছো?

ও তোমার কেউ হয় না। আমার কথা শুনতে হবে তোমার। তার বাইরে এক পা ও যাবে না তাহলে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।

মেঘ কেঁপে উঠলো শ্রাবণের আচমকা চিৎকারে।

সারিফ শিকদার জোর গলায় ধমকে বলে উঠলেন,

---- শ্রাবণ কি হচ্ছে এসব? মেঘের উপর চিৎকার করছিস কেন?

শ্রাবণ শান্ত হওয়ার চেষ্টা করলো। দিব্যর জন্য মেঘের এমন টেনশন সহ্য হয় না শ্রাবণের। জোরে জোরে কয়েকটা শ্বাস ফেললো। অতঃপর বললো,

---- সরি মেঘ। দিব্য পাগলামি করছে। ও তোমাকে চাই। সেই পথ হোক অন্যায়ের। আর আমি তা হতে দিই কি করে বলো?

মেঘ কোনো কথা না বলে রুমে চলে গেলো। সুমনা রাহমান বেরিয়ে এলেন।

---- কি হয়েছে চিৎকার চেঁচামেচি কিসের?

---- তোমার ছেলে মেঘের উপর রাগ ঝাড়ছে।

সুমনা রাহমান শ্রাবণের কাঁধে হাত বুলিয়ে বলেন,

---- সম্পর্ক সুন্দর হয় একে অপরকে বোঝাতে। রাগ ঝগড়া এসবে সব মিটে যায় না বরং দূরত্ব তৈরি হয়। দেখছিস তো আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন ছিলো? তাহলে তুই আমাদের মতো হতে চাচ্ছিস? মেঘকে হারাতে চাচ্ছিস?

শ্রাবণের নিজেকে অপরাধী মনে হলো৷ মেঘের দিক থেকে তো সে ঠিক। তার সরল মন শুধু একজন অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাওয়ার কথা বলেছে। বুঝিয়ে বললেই তো হয়। সুমনা রাহমান ছেলের অবস্থা বুঝে বললো,

---- আমরা মেয়েরা অবহেলা সহ্য করতে পারি না।

অযত্ন পেলে দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে ও দু'বার ভাবি না।

মেঘ তো তোকে তেমন আপন ভাবতে পারেনি এখনো। তাহলে কেন ওর মনে তোর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করছিস? যা সরি বল। মেয়েটা কষ্ট পেয়েছে।

---- তাড়াতাড়ি যা।

শ্রাবণ তার মায়ের দিকে তাকালো। অতঃপর মৃদু হেঁসে মায়ের কপালে চুমু খেলো। বাবাকে একহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো। তারপর বললো,

---- থ্যাঙ্ক ইউ মা বাবা। আমি যাচ্ছি!

শ্রাবণ যেতেই সারিফ শিকদার সুমনা রাহমানের গাল আঁকড়ে ধরলেন। অপরাধী স্বরে বলেন,

---- আমাকে ক্ষমা করে দিও সুমনা। আমি তোমায় বুঝতে পারিনি। তেমার ইচ্ছে, তোমার প্রতি যত্ন, কোনোটাতেই গুরুত্ব দিইনি। সময় শেষে বুঝলাম কাজ নয় প্রিয় মানুষদের সময় ও তাদের মূল্য দিতে হয় যত্ন করতে হয়।

---- কাজ সারাজীবন করতেই হয়। তাই বলে প্রিয়

মানুষদের অবহেলা করে? সময় আর যত্ন করার হলে অজুহাত লাগে না মন লাগে বুঝলেন শিকদার সাহেব ?

হেঁসে উঠলেন দুজনে। শ্রাবণ ভেতরে আসলো। রুমে মেঘ নেই। ধীর পায়ে বেলকনিতে গেলো সে। মেঘ গ্রিলে হাত রেখে আনমনে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।

----- সরি মিসেস শ্রাবণ শিকদার! এই অপরাধী বান্দাকে ক্ষমা করে দিন।

চলবে,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন