ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্রাবণ মেঘের উপখ্যান

১১তম পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম লিজা

#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান — ১১

#কলমে_তাসনিম_লিজা

---- কপি নিষিদ্ধ!

মেঘ শ্রাবণের এহেন আচরনে কষ্ট পেয়েছে। কান্না করে দিয়েছিলো। শ্রাবণের উপস্থিতে দ্রুত চোখ মুছলো আড়ালে। শ্রাবণ অপরাধী কন্ঠে বললো,

---- আমি আসলে ওই ভাবে বলতে চাই নি মেঘ। আমি চাই না আমাদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি আসুক।

বুঝতে পারছো আমি কি বলতে চাচ্ছি?

মেঘ তাকালো শ্রাবণের দিকে। চোখ দুটো কিছুক্ষণের মধ্যে লাল হয়ে গিয়েছে। শ্রাবণ অবাক চোখে তাকায়। অতঃপর উদ্বিগ্ন স্বরে বললো,

---- কাঁদছো কেন? আমি তোমায় ইচ্ছে করে বলিনি

প্লিজ কেঁদো না।

কথাগুলো বলে মেঘের চোয়াল আঁকড়ে ধরতে নিলে মেঘ খানিকটা পিছিয়ে গেলো। গলার স্বর কিছুটা তীক্ষ্ণ করলো। রাগ না স্পষ্ট ভাষায় বলে উঠলো সে,

---- আমি জানি আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমি বুঝি

আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন। আমি অবুঝ নয় মিস্টার শ্রাবণ শিকদার। আমি শুধু দেখতে যেতে চেয়েছিলাম একজন বোন হিসেবে তার ভাইকে। হতে পারে দিব্য ভাইয়া আমাকে ভালোবাসে তাই বলে কি, আমি তার কথা শুনে তার কাছে চলে যাবো? আমি জানি তো আমি এখন অন্যের দায়িত্বে। বাবার রাজ্যের স্বাধীনতা নেই আর আমার জন্য। তাহলে আপনি কেন অবুঝের মতো আমার সাথে খারাপ বিহেভিয়ার করছেন? আমার কি খারাপ লাগে না? আর হ্যা, ভালোবাসার কথা বলছেন আপনি? সেটা মন থেকে হয়। আমি মানিয়ে নিতে পারি না এটা আমার একটা রোগ বলতে পারেন। আমি জানিয়ে দিয়েছি আপনাকে। আমাকে ও তো সময় দিতে হবে। আমি আপনাকে চিনবো জানবো বুঝবো। মনের মিল হলে মানুষ দূরত্ব পুষে রাখে না সেখানেই ঠায় খুঁজে নেয়। কিন্তু, আপনি তো মনে হচ্ছে টক্সিক আচরণ করছেন আমার সাথে। আমার চেষ্টা করতে গিয়ে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে মনে। মনে হয় দূরে থাকলে শান্তি।

থামলো মেঘ। অনেক কথা বলে ফেলেছে সে। আর না। ফের বাইরে চোখ রাখলো সে। শ্রাবণ চুপ করে রইলো। সে কি তাহলে অতিরিক্ত করছে? সে কি সত্যিই টক্সিক? প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়ে না হয় কিছুটা উগ্র আচরণ করেছে। কিন্তু, কার জন্য তার প্রিয় মানুষটার জন্যই তো। যা বলার বলুক তাতে মাথা ঘামালে চলবে না। ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে একটু সিরিয়াস থাকতেই হবে। নইলে অন্য কারোর নজর লাগতে বেশি সময় নিবে না। মেঘের কথার উপর কোনো কথা না বলে তার উগ্র আচরণের জন্য সরি বললো কয়েকবার অতঃপর বললো,

---- চলো আমার সাথে।

---- আমি যাবো না। আমাকে বিরক্ত করবেন না। একা থাকতে দিন আমায়।

শ্রাবণ ফিরে এলো রুমের মধ্যে। বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলো সারিফ শিকদার ও সুমনা রাহমান। তারা নক করলেন ছেলের রুমে। শ্রাবণ সাথে সাথে বললো,

---- ডিস্টার্ব করো না তোমরা। একা থাকতে দাও।

বুঝলো মন ভালো নেই কারোর। একা ছেড়ে দিলো তারা। রাগ ভাঙাতে পারলো কি না জানার ইচ্ছে জেগেছিলো মনের মধ্যে, তাই দাঁড়িয়ে থাকা তাদের। কিন্তু, ছেলের কথা শুনে চলে গেলেন তারা। শ্রাবণ চুপচাপ বসে রইলো বেডের মধ্যে। মেঘ দূর থেকে লক্ষ করলো। আবার মনে হলো অতিরিক্ত হয়ে গেলো না? একজনের মনে তো ভয় থাকতেই পারে। ভালোবাসে বলেই তো। কিন্তু, আমি তো ভালোবাসতে পারিনি। মানিয়ে নিতে পারিনি। আর কবে যে সব ঠিকঠাক হবে কে জানে? বাবা কি বলেছিলো যে এমন আচরণ করলো? দিব্য ভাই তো জানে তাদের বিয়ে হয়েছে তাহলে কেন আবার এমন উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলছে? মাথা কাজ করছে না মেঘের। সবকিছুর জন্য নিজেকে দায়ী করলো সে। এদিক দিয়ে ও তাকে নিয়ে টেনশন ওইদিক দিয়েও তাকেই টানছে। শহরে আসাটাই ভুল হয়েছে। গ্রামে থাকলেই ভালো হতো এতো টেনশন করতে হতো না।

মেঘ শব্দহীন পায়ে বেলকনি থেকে রুমের ভেতরে এলো। শ্রাবণের পাশে এসে দাঁড়ালো। নিচু স্বরে বললো,

---- আমার কথায় কষ্ট পাবেন না৷ আমি কি করবো বলুন? সবদিক থেকে শুধু আমিই জড়িয়ে যাচ্ছি। ভালো লাগছে না কিছুই।

শ্রাবণ একপলক তাকালো মেঘের দিকে। ফের চোখ নামিয়ে নিলো। নরম স্বরে বললো,

---- সরি বলছো কেন তুমি? সরি তো আমি বলবো।

বারবার শুধু তোমার সাথে বাজে বিহেভিয়ার করেছি। তোমাকে বুঝতে পারিনি। তোমার পরিস্থিতি না বুঝে উল্টাপাল্টা কথা বলেছি আবার ও সরি।

---- যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে ভুলে যান। আমি আর এমন ভাবে থাকতে পারছি না। দম বন্ধ লাগছে। সবকিছু এলোমেলো লাগছে।

---- কি চাও শুধু বলো।

---- ভালো ভাবে কথা বলবেন। রেগে কথা বলবেন না। এমন মানুষের সাথে থাকতে আমার ভয় লাগে। আমি যাবো না হসপিটালে। আপনার কথা শুনলাম আমি। আপনি ও শুনবেন। আমাকে বুঝবেন। আমার পরিস্থিতি যদি আপনি না বুঝেন তাহলে রাতের বলা আপনার কথাগুলো তো মিথ্যা হয়ে যাবে।

মেঘের মনোভাব বুঝতে পারলো শ্রাবণ। মাথা তুলে তাকালো সে গভীর চাহনিতে। বললো,

---- যা বলবে তা-ই শুনবো শুধু একটাই রিকোয়েস্ট আমি ব্যথিত অন্য কারোর কথা ভাবা নিষেধ তোমার জন্য।

শ্রাবণের সিরিয়াসনেস দেখে অবাক হয় মেঘ। দিব্য কি তার চেয়ে বড় পাগলের পাল্লায় পড়েছে সে। চব্বিশ ঘণ্টা হলো না বিয়ে হয়েছে এতেই এই অবস্থা তার জীবন যাবে কিভাবে? এখনই তো বিরক্ত লাগছে।

শ্রাবণ ফের বললো,

---- আমার কথা শুনে পাগল ভাবতেই পারো। আমি জানি, আমি উদ্ভ্রান্তের মতো কথাবার্তা বলছি।

তবে, ধরে নাও তা-ই বলছি। আমি সিরিয়াস! খুব সিরিয়াস শুধু তোমায় নিয়ে।

মেঘ এসব কথা এড়াতে বললো,

---- আমার ফোন আর বইগুলো এনে দিবেন? সবকিছু ওই বাড়িতেই রাখা আছে।

---- ঠিক আছে বিকেলে পেয়ে যাবা।

---- শ্রাবণ মেঘ খেতে এসো দুজনে ।

সুমনা রাহমান এর কথায় শ্রাবন উঠে দাঁড়ালো। অধিকারবোধ থেকে সাহস করে হাতখানা ধরলো মেঘের। বললো,

---- চলো আমার সাথে।

মেঘ তর্ক করলো না। রাগলো ও না। যেতে লাগলো দুজন ডাইনিং টেবিলের কাছে। সেখানে সবাই উপস্থিত আছে। তাসির, রামিম, রাতুল, ও রিফাত। সারিফ শিকদার ও আছেন। খাবার বেড়ে দিচ্ছেন সুমনা রাহমান। শ্রাবণকে আসতে দেখে মুচকি হাসলো সুমনা রাহমান। বললেন,

---- বসো দুজনে। আমি খাবার দিচ্ছি।

শ্রাবণ বসলো পাশের চেয়ারে বসলো মেঘ। অনেক পদ রান্না করেছেন সুমনা রাহমান। সবকিছুই শ্রাবণের পছন্দের পদগুলো। কিন্তু, মুখটা মলিন হয়ে এলো মেঘের। খিদে লেগেছে কিন্তু, তার খাবার খাওয়ার মতো কোনো পদ আছে বলে মনে হচ্ছে না। বলতে ও লজ্জা লাগছে।

---- কি হয়েছে?

শ্রাবণের কথায় মাথা নাড়ালো দু'দিকে। মানে কিছুই হয়নি। শ্রাবন বিশ্বাস করলো না। চিংড়িতে এলার্জি মেঘের সাথে মাংসতে ও। ইলিশ মাছে কাটা বেছে খেতে পারে না মেঘ যতেবার খাবে গলায় কাটা বিঁধবেই। বাকি রইলো না আর কিছুই ৷ সুমনা রাহমান তারকারি দিতে নিলে শ্রাবণ বারণ করলো। বললো,

---- মা ইলিশ মাছ ভাজা দাও। আমার প্লেটে । ওকে কিছুই দিতে হবে না।

---- কেন ও খাবে না?

জিজ্ঞেস করলেন সারিফ শিকদার। সবাই কৌতূহল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মেঘ ও কিছুটা ভীত। সাথে বুঝার চেষ্টা করছে কি চাইছে লোকটা? শ্রাবণ বললো,

---- চিংড়ি, মাংস এগুলোতে এলার্জি আছে মেঘের

কিন্তু, ইলিশ মাছ খাওয়া যাবে তো?

মেঘকে জিজ্ঞেস করতেই মেঘ তাকালো অবাক হয়ে। বললো,

---- আপনি জানলেন কিভাবে?

---- খাবারের দিকে তাকিয়ে চেহেরার যা অবস্থা করেছো তাতেই আন্দাজ করতে পেরেছি। এগুলো

কমন বিষয়।

মেঘ আস্তে করে বললো,

---- আমি কাটা বেছে খেতে পারিনা। গলায় বিঁধে যায়।

লজ্জা লাগলো। সবাই কি ভাববে? বলবে এতো বড় একটা মেয়ে নাকি কাটা বেছে মাছ খেতে পারে না। সুমনা রাহমান এগিয়ে এসে বলেন,

---- আমি দিচ্ছি লজ্জার কি আছে।

শ্রাবণ থামিয়ে দিলো। বললো,

----- তুমি খেতে বসো মা। আমি দিচ্ছি।

খুশি হলেন সুমনা রাহমান। এটাই তো চেয়েছিলেন তিনি। বসে পড়লেন সারিফ শিকদার এর পাশের চেয়ারে। শ্রাবণ কাটা বেছে এক লোকমা মেঘের সামনে তুলে ধরলো। মেঘ বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকায় বললো,

---- সবার সামনে কি শুরু করেছেন?

---- খাইয়ে দেওয়াটা লজ্জার কোনো বিষয় না মেঘ

হা করো।

সবাই মুচকি মুচকি হাসছে। মেঘ হা করলো খেতে লাগলো অনিচ্ছুক সত্ত্বেও। রাতুল বিরবির করে বললো,

---- একটা বউয়ের অভাব ফিল করছি আজ। আমার পাশে ও যদি বউ থাকতো এভাবে খাইয়ে দিতে পারতাম আফসোস! আর ভুল করলাম আমরা বউ পেলো শ্রাবন ব্যাপারটা জিলাপির মতো হয়ে গেলো না?

তাসির ও আস্তে ধীরে বললো,

---- শালা প্রেম করিস আবার অভাব বলিস। তো বিয়ে কর না বারণ করেছে কে? আর ওদের এক হওয়ায় ছিলো হয়তো।

তাসিরের কথায় রামিম বললো,

---- আরে ও নিজেই পরের উপরে খাই বিয়ে করে বউ নিলে হের আর পরের উপরে খেতে হবে না নিজের উপরে আপনা আপনি চলে আসবে। আমরা কখন এক্সাম দিবো রেজাল্ট দিবে জব নিবো বিয়ে করবো বাবা হবো দাদা হবো ব...

---- চুপ করবি তুই? কেউ শুনলে সম্মান থাকবে?

রিফাতের কথা শুনে তাসির বললো,

---- তুইই ভালো রিফু। প্রেম টেমের মধ্যে নেই।

রিফাত বললো,

---- মনের মতো কাউরে পাই না। পাইলে আবার কেউ না করে নাকি?

---- কি বিরবির করছিস তোরা?

সারিফ শিকদার এর কথায় থেমে গেলো তাদের কথোপকথন। তাসির দু'দিকে মাথা নাড়িয়ে বললো

---- না আংকেল কিছু না।

সবাই খেতে লাগলো প্লেটের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু,

একহালি গুলো বার বার আড়চোখে তাকিয়ে দেখছিলো শ্রাবণের মেঘের প্রতি কত ভালোবাসা।

অন্যদিকে মেঘ লজ্জা পেলে ও শ্রাবন নির্লিপ্ত ভাবে

খাইয়ে দিত লাগলো আবার নিজে ও খাচ্ছিলো। অথচ তার পছন্দের সব পদ থেকেই গেলো, আর খাওয়া হলো না। খাওয়া দাওয়া শেষ হতেই ডয়িংরুমে এসে বসলেন সবাই। মেঘ সুমনা রাহমানকে হাতে হাতে সাহায্য করছিলো কাজে। তিনি বারণ করলে ও শুনেনি সে। সময় যাচ্ছে না মেঘের। তাই কাজের মধ্যে থাকলে সব চিন্তা ভাবনা ভুলে থাকা যাবে।

ফোন বেজে উঠলো শ্রাবণের। ভ্রু কুঁচকে বাবার দিকে তাকালো সে, বললো,

---- আফসার আংকেল আমাকে কল দিয়েছেন কেন? আপনার ফোন কি অফ বাবা?

ফোন চেইক করলেন সারিফ শিকদার। সব তো ঠিকই আছে। তিনি বলেন,

---- সব তো ঠিকই আছে। কল রিসিভ কর তারপর জিজ্ঞেস কর কিসের জন্য কল করেছে।

রিসিভ করে কানে নিতেই ওপাশ থেকে আফসার খন্দকার এর গলার স্বর ভেসে আসলো। তিনি কন্ঠ স্বর গম্ভীর করে বলেন,

---- আমার সাথে দেখা করতে পারবে শ্রাবণ? একটু আর্জেন্ট দরকার ছিলো।

---- এখনি?

---- হ্যা এই মুহুর্তেই দেখা করা লাগবে।

শ্রাবণ কিছু একটা ভেবে বললো,

---- ঠিক আছে আমি আসছি।

কল কেটে দিলো শ্রাবণ। উৎসুক দৃষ্টি সবার শ্রাবণের উপর। সারিফ শিকদার বলেন,

---- কি বলেছে আফসার?

আফসার খন্দকার সারিফ শিকদার এর বন্ধু হন।

সেই সুত্রেই চেনাজানা তাদের। কিন্তু, অবাক হন সারিফ শিকদার, কিসের জন্য তাকে কিছু না বলে তার ছেলেকে কল দিয়েছেন আফসার? শ্রাবণ বলে,

---- যেতে বলেছে জরুরি কথা আছে নাকি। আমি শিউর জানি না।

তাসির পাশ থেকে বলে উঠলো,

---- আরে আমি বুঝতে পেরেছি শ্রাবণ। ওই কনক মেয়েটা তোকে পছন্দ করতো। হয়তো বিয়ের খবরটা তাদের কানে পৌঁছে গিয়েছে।

রাতুল ও সায় দিলো। বললো,

---- এই কনক মেয়েটা যা উগ্র আচরণ করে তা ভার্সিটিতেই দেখতে পাই আমরা। আবার কোনো ঝামেলা পাকাবে না তো?

রামিম বললো,

---- এই কারনেই হয়তো ডেকেছেন। নয়তো আংকেলকে তো কিছুই বলেনি।

---- যাস না শ্রাবণ। বিপদে পড়বি। ওরা ভালো না।

রিফাতের কথায় সারিফ শিকদার বলেন,

---- কিছুই হবে না রিফাত। শ্রাবণ যাবে দেখা করতে। কিছু বললে আমাকে জানাবি নয়তো যেভাবে বলবে সেভাবেই আনসার দিয়ে আসবি।

শ্রাবণ মনে মনে ঠিক করেছে যাবে। তাই সে দেরি করলো না। বন্ধুরা যেতে নিলে বারণ করলো শ্রাবণ। মেঘকে খুঁজলো পেলো না। সারিফ শিকদারকে বলে চলে গেলো শ্রাবণ।

মেঘ শুনছিলো আড়াল থেকে৷ সুমনা রাহমান পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তাকে। পর্দার কাছটাই আসতেই কনক নামটা কানে গেলো তার৷ তখনই আড়াল হয়ে যায় মেঘ। ঠিক না তবুও শুনতে ইচ্ছে হলো মেঘের। শ্রাবণের যাওয়ার কথা শুনে আড়াল হয়ে গেলো একদম। শ্রাবণ বেরিয়ে যেতেই গুটিগুটি পায়ে শ্রাবণের রুমে চলে গেলো মেঘ। ফোনটা ও ওই বাড়িতেই রেখে এসেছে। চাচিমা নিয়ে গিয়েছিলো তার থেকে। কেমন খালি খালি লাগছে নিজেকে। রুমে এসে বেলকনিতে বসে রইলো মেঘ। বাইরে ডয়িংরুম থেকে হাসির শব্দ আসছে। সবাই গল্প করছে, আড্ডা দিচ্ছে। কিন্তু, মেঘের এসব ভালো লাগে না তারউপর সবাই অচেনা কেমন যেনো লাগে তাই যাওয়ার সাহস করলো না। সেখানে তো শ্রাবণ ও নেই ভরসা পাওয়ার মতো।

__________________

বাবার বন্ধু হওয়ায় বাড়িটা শ্রাবণের চেনা তাই কোনো অসুবিধা হয়নি। ভেতরে আসতেই ডয়িংরুমে দেখা মিললো আফসার খন্দকার এর। তিনি সোফায় আয়েশ করে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। মূলত অপেক্ষা করছিলেন শ্রাবণের জন্য। শ্রাবণকে দেখতে পেয়েই হাসি মুখে বলে উঠলো,

---- বসো শ্রাবণ। কেমন আছো তুমি?

শ্রাবণ মৃদুস্বরে জবাব দিলো,

---- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আপনি?

আফসার খন্দকার এর মুখে অন্ধকার নেমে আসলো বোধহয়। কন্ঠে হতাশা ছিলো,

---- ভালো আর থাকতে দিলে কই? আমার মেয়ে তোমায় ভালো বাসে। আর তুমি অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করতে পারলে? আমার মেয়ে কি সুন্দর নয় ? তোমার যোগ্য নয় ? আমার মেয়েটা কষ্ট পাচ্ছে।

শ্রাবণ ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বললো,

---- সুন্দর অসুন্দরের প্রশ্ন উঠছে কেন আংকেল?

আমি যাকে ভালোবাসি তাকেই বিয়ে করেছি। আর আমি তো আপনার মেয়ের সাথে কোনো লাইন মারিনি যে তার সাথে প্রতারণা করে অন্যজনকে বিয়ে করেছি। তাকে ঠকিয়েছি! এমন তো না।

---- লাইন মারতে সুযোগ দিয়েছো তুমি?

শ্রাবণ বুঝলো মেয়ের থেকে মেয়ের বাবা আর এক ধাপ এগিয়ে আছে। সাধারণ কথায় বোঝানো অসম্ভব। অসাধারণ ভাবে বুঝাতে হবে।

---- আপনি কি আমায় এসব কথা বলার জন্য এখানে ডেকেছেন?

আফসার খন্দকার এবার ঠান্ডা গলায় বলেন,

---- ভুলে যাও ওই মেয়েকে। আমার মেয়ে তোমাকে ভালোবাসে। কনকের সাথে বিয়ে হলে আমার পুরো প্রোপার্টি তোমার হবে। কোটি কোটি টাকার মালিক হবে তুমি।

শ্রাবণ বিস্ফোরিত নয়নে তাকায় আফসার খন্দকার এর দিকে। সাথে সাথে বলে উঠলো,

---- কি এক মেয়ে জন্ম দিয়েছেন কোটিপতি আংকেল! মেয়ে বিদায় করতে টাকার লোভ দেখাচ্ছেন। জানেন না লোভে পাপ, আর পাপে ইন্তেকাল! আমি দুই বাচ্চার বাপ আমার সাথে মেয়ে বিয়ে দিয়ে কি লাভ আপনার? পরী থাকতে শাঁকচুন্নিকে কাঁধে চাপানোর শখ নেই আমার। আর না অল্প বয়সে মরার ইচ্ছে।

আফসার খন্দকার সাথে সাথে বলে উঠলেন,

---- গতকালকে বিয়ে করেছো তুমি। আর আজ দুই বাচ্চা আসলো কোথা থেকে? আমার মেয়েকে শাঁকচুন্নি বলছো তুমি?

শ্রাবণ চোখে চোখ রাখলো আফসার খন্দকারের।

আফসার খন্দকার রাগ আর বিস্ময়ের সহিত শ্রাবণের দিকেই তাকিয়ে আছে। শ্রাবণ বললো,

---- বিয়ে করেছি আংকেল দু'দিন আগে আর পরে বাবা তো হবোই। আর ভেবে রেখেছি দুইটা বেবি হবে আমাদের। একটা মেয়ে আর একটা ছেলে। আমরা আবার সচেতন নাগরিক। বউ হচ্ছে পরীর থেকেও সুন্দর। বউ ব্যথিত পর নারী আমার কাছে শাঁকচুন্নির চেয়ে ও জঘন্য। তাই বললাম আর কি! আর আপনি তো আমায় পরকিয়া করতে উস্কে দিচ্ছেন। লজ্জা থাকা উচিত আপনার নিজের মেয়েকে একটা বিবাহিত ছেলের সাথে বিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আপনার মেয়ের জন্য কি দেশে ছেলের অভাব পড়েছে? তাহলে একটা কাজ করুন অনলাইনে একটা বিজ্ঞাপন দেন। যেকোনো ছেলে হলেই হবে। মেয়ের সাথে বাবার প্রোপার্টি ফ্রি রাজি থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে। তবুও আমায় বিরক্ত করবেন না। বউকেই মনের অবস্থা বুঝাতে পারছি না আর আপনারা বুঝবেন কিভাবে? আমি যাই তাহলে। অযথা সময় নষ্ট হলো।

শ্রাবণ বেরিয়ে যেতে নিলে পিছু ডাকলো কনক।

আফসার খন্দকার রেগে আছেন বেশ। তার চেহেরা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

---- শ্রাবণ ভাইয়া দাঁড়াও!

আহ! সঠিক সময়ে এন্ট্রি নেওয়ায় তারা বেশ পারদর্শী।

শ্রাবণ ঘুরে তাকালো। ততোক্ষণে কাছে চলে আসলো কনক। বললো,

---- আমি জানি তুমি বিয়ে করেছো৷ তাতে আমার কোনো আফসোস নেই। পারলে দ্বিতীয় বউ হবো তবুও আমি তোমার পিছু ছাড়বো না!

শ্রাবণ বাবা মেয়ের দিকে তাকালো৷ পাগলের পরিবারের এসে আঁটকে গেলো নাকি? স্মাইলি হাসি দিলো শ্রাবণ। বললো,

---- আপা আমি বেকার মানুষ এক বউই পালতে পারছি না দ্বিতীয় বউ বিয়ে করে খাওয়াবো কি বলেন তো? আর যেভাবে বলা হচ্ছে মনে হচ্ছে সত্যিই শাঁকচুন্নি! কারন সবাই ছেড়ে গেলে ও শাঁকচুন্নি পিছু ছাড়ে না। একদম কাঁধে চড়ে বসে।

লাস্ট কথাটা বিরবির করে বলে শ্রাবণ। সবসময় এড়িয়ে যাওয়া ছেলেটা আজ প্রথম কথা বললো তাও আপা ডাকছে। মনটা মুহূর্তের মধ্যে খারাপ হয়ে গেলো কনকের । কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,

---- আমাকে আপা বলো কেন? আমি বাবাকে বলেছিলাম বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে কিন্তু, তুমি হঠাৎ বিয়ে করে ফেলেছো। বিশ্বাস করো আমি রাগ করিনি। মেয়েটা কে তাও জানি না। কিন্তু, আমি ভেবে রেখেছি টাকার লোভ দেখিয়ে ওই মেয়েকে তোমার জীবন থেকে সরিয়ে আমি তোমায় বিয়ে করবো।

শ্রাবণ মনে মনে বিরক্ত হলো। না আসলেই ভালো হতো। আফসার খন্দকার যেনো না শুনে সেই জন্য নিচু স্বরে সাথে সাথে বললো সে কনককে ,

---- বোন আমার! আমাদের ধর্ম ইসলাম। এসব স্টাইলিস জামাকাপড় পড়ে চলাফেরা না করে একটু নামাজ কালাম পড়ো। আর তুমি জানো না দ্বিতীয় বিয়ে করা হারাম। প্রথম বউয়ের অভিশাপে দ্বিতীয় বউ মারা যায়। তুমি কি মরতে চাও?

অবাক হয়ে তাকালো কনক। বড়লোক বাবার মেয়ে সে। নিজ ধর্ম সম্পর্কে তেমন ধারনা নেই। তার কাছে এ

সব কিছুই অজানা। তাই ভয় পেলো। হয়তো সত্যি কথা কারন তার ইসলাম সমন্ধে কোনো ধারনা নেই। বললো,

---- এসব কি সত্যি?

---- টু হান্ড্রেড পার্সেন্ট সত্যি। আমি আসি তাহলে।

চাইলে একটু ভালো হও৷ নয়তো বাবার টাকা অন্যের হাতেই দিতে হবে৷

বুঝলো না কনক। শ্রাবণ চলে গেলো। আফসার খন্দকার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলেন,

---- ভুলে যা ওকে ওর থেকে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিবো আমি তোকে।

---- কিন্তু, ভালোবাসি আমি। আমার ভালো লাগে ওকে।

---- ও তো তোকে চাই না। অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে।

কনক কিছুক্ষণ ভেবে বললো,

---- দেখছি কি করা যায়।

চলে গেলো কনক। হতাশ হলেন আফসার খন্দকার। টাকার লোভ দেখিয়ে ও মেয়ের ইচ্ছে পূরন করতে পারলেন না তিনি এই প্রথম।

____________________

দিব্য এখন অনেকটা সুস্থ আছে। দোয়েল বাসায় গিয়েছে। হসপিটালে অবশ্য জাহাঙ্গীর আহমেদ আছেন সাথে ছোট ভাই ও। তাই দোয়েল এসে ফ্রেশ হয়ে তারপর যাবে। ঘুম নেই গতকাল রাত থেকে। একটু ঘুমোতে ও হবে৷

শ্রাবণ কনকদের বাড়ি থেকে সোজা হসপিটালে চলে আসে। সাথে একটা ফ্লাওয়ার বুকে নিয়ে আসে। জাহাঙ্গীর আহমেদ ও জাহিদ আহমেদ তাদের জন্য রাখা বরাদ্দকৃত কেবিন রুমে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

শ্রাবণ নার্সের থেকে অনুমতি নিয়ে ভেতরে আসে।

দিব্য সজাকই ছিলো শুধু চোখদুটো বন্ধ করে রেখেছে।

---- এখন কেমন আছেন দিব্য ভাইয়া?

কন্ঠস্বর শুনে চোখ মেলে তাকালো দিব্য। শ্রাবণকে দেখে খুশি হলো না সে। তার আগেই শ্রাবণ বলে উঠলো,

---- সরি ভাইয়া মেঘের পক্ষ থেকে। ও আসতে চেয়েছিলো তার একমাত্র বড় ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হয়েছে জেনে। কিন্তু, নতুন বউ তো তাই মা বাবা আসতে দেয় নি। তাই আমার একা আসতে হলো।

---- কে বলেছে আসতে চলে যাও এখান থেকে।

---- আমার উপর রেগে আছেন? আমি আপনার বোনের জামাই। তাও নতুন। কাজটা কি ঠিক হচ্ছে ভাইয়া?

দিব্যর রাগ উঠলো। কিন্তু কিছুই করতে পারলো।

শুধু দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

---- আমি তোমায় আমার চোখের সামনে দেখতে চাচ্ছি না। চলে যাও তুমি।

শ্রাবণ বোধহয় সিরিয়াস হলো। মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো সাথে সাথে। গম্ভীর ও শীতল গলায়

হুমকি নাকি অনুরোধ করলো বোঝা গেলো না,

---- দেখুন দিব্য ভাইয়া আমি আপনাকে যথেষ্ট সম্মান করি। আপনি আমার বড় ভাইয়ের মতো। অবশ্য আত্মীয়তার দিক থেকে বড় ভাইই হন। সে যাক গে, কাজের কথায় আসি, মেঘ আমার ওয়াইফ। ওর উপর কেবলই আমার অধিকার। তো আপনি শান্ত থাকলে আশা করি আমাদের জীবনটা সহজ হবে। আর যদি বাড়াবাড়ি করেন তাহলে বাধ্য হবো আমি, আপনি আমার কে হন সেটা ভুলে যেতে। আপনাকে বুঝতে হবে আমাদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। চাইলে ও আর কোনো কিছুই ঠিক হবে না। আপনি সময় থাকতে চেষ্টা করেননি। এখন সে আমার। আমার কাছ থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করবেন না ভুলে ও।

---- হুমকি দিচ্ছো আমায়?

শ্রাবণ শব্দহীন হাসলো। বললো,

---- জানি না তবে জানিয়ে রাখছি। আমি সুন্দর ভাবে বাঁচতে চাই আমার ভালোবাসার মানুষের সাথে। আপনি আমাদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হবেন না আশা করি।

---- তৃতীয় ব্যক্তি আমি ছিলাম?

প্রশ্ন করলো দিব্য। শ্রাবণ সোজাসাপ্টা ভাবে উত্তর করলো,

---- আগে ছিলেন কি না জানি না তবে গতকাল থেকে আমিই মেঘের সব আর আপনি তৃতীয় ব্যক্তি। আসছি আমি। আশা করি দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন। আর আমাদের থেকে দূরে থাকবেন।

শ্রাবণ কথাগুলো বলে আই সি ইউ রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। শ্রাবণের কথাগুলো দিব্যর বুকে তীরের মতো এসে আঘাত করলো। পরিস্থিতি আজ তার বিরুদ্ধে চলে গেলো। তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে গেলো সে। চোখদুটো বন্ধ করে ফেলে দিব্য। কি থেকে কি হয়ে গেলো? জীবনের হিসেব মিলাতে পারছে না সে । বিরবির করে বললো দিব্য,

---- আমি তো চাই না কিন্ত, মন তো মানে না। আমি কি করবো? মরে যাবো? আমার বেঁচে থাকা কারোর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। আর আমার জন্য কাল হলো শ্রাবণ। আমার ওকে সহ্য হচ্ছে না। মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে। কেন এমন হলো সব? কেন সুন্দর ভাবে বাঁচা মুশকিল হচ্ছে?

দিব্যর দুচোখ বেয়ে কানের পাশে গড়িয়ে পড়ছে পানি অবলীলায়। আজকাল চোখের পানি বড্ড সস্তা হয়ে গিয়েছে তার। মেয়েদের মতো কান্না পায় শুধু। একা একাই নানান কথা ভাবতে লাগলো দিব্য।

_____________________

---- কোথায় গিয়েছিলেন?

শ্রাবণ বোধহয় খুশি হলো মেঘের প্রশ্ন করার কারনে। সে বললো,

---- বাহ! সুন্দর প্রশ্ন। হাসবেন্ড এর খবরাখবর রাখা তো ভালো। যাই হোক! কৈফিয়ত দিতে প্রস্তুত আমি। প্রথমত বাবার বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। দ্বিতীয়ত দিব্য ভাইয়াকে দেখতে গিয়েছিলাম।

মেঘ আবার ও বললো শান্ত স্বরে,

---- বাবার বন্ধু নই, বলুন আপনার এক্স গার্লফ্রেন্ড এর বাসায় গিয়েছিলেন।

শ্রাবণ অবাক হলো ভিষণ। ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো মেঘের দিকে। বললো,

---- তুমি বলতে চাচ্ছো আমি প্রেম করেছি আর আমার এক্স কনক?

---- অবশ্যই। মেয়েটি আমায় পরশু ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে শাসাতে চেয়েছিল। আপনার সাথে নাকি আমার রিলেশন আছে৷ আর আপনি ওই মেয়ের সাথে কথা বলতে গিয়েছন নিশ্চয়ই জানতো না মেয়েটি আপনি বিয়ে করেছেন তাই না? ও হ্যা আপনি মনে হয় নানাভাইয়ের কথা রাখতে বিয়ে করেছেন৷ মা বলেছে আমাকে সব ৷

শ্রাবণ বুঝতে পারে মেঘের হিংসে হচ্ছে। তাই সে বলে,

---- তুমি এতো সিরিয়াস হচ্ছো কেন?

মেঘ হতভম্ব হলো কিন্তু, তার তো বিয়ে হয়েছে শ্রাবনের সাথে। তার বলার রাইট আছে। মেঘ নিজেকে সামলিয়ে বললো,

---- কারন আপনি আমার হাসবেন্ড। আর আমি থাকতে আপনি কেন অন্য কারোর সাথে সম্পর্ক রাখবেন? আপনি তে রীতিমতো পরকিয়া করছেন তাই না?

শ্রাবণের বেশ ভালো লাগছে। যাক তাহলে মেয়েটা তাকে নিয়ে ভাবে। তার প্রতি সিরিয়াস। আর ভয় কিসের? শ্রাবণ মেঘের কাছে এগিয়ে আসলো। দুই বাহু আঁকড়ে ধরলো। মেঘের চোখে চোখ রেখে বললো,

---- আমি তোমায় নিয়ে যতোটা ভয় পেতাম আজ তা দূর হয়ে গিয়েছে মিসেস শ্রাবণ শিকদার। আর রইলো কনক মেয়েটি। আমার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। বড়লোক বাবার মেয়ে তো আমার কাছে পাত্তা না পেলে ও আমি যাকে পাত্তা দিবো তাদেরকে সহ্য করতে পারে না৷ আমি আজ গিয়েছিলাম এই বিষয়েই আংকেল বলছিলো তার মেয়ে আমাকে পছন্দ করে। আমি বলে দিয়েছি আমার ঘরেই পরী আছে আমার কোনো শাঁকচুন্নির দরকার নেই।

শেষের কথায় মেঘ চিবুক নামালো। লজ্জা পেলো খানিকটা। তবে কথাগুলো কি আদোও সত্যি নাকি মিথ্যা বলছে? সত্যিই তো মনে হচ্ছে। আবার ও চিবুক উঁচু করে তাকালো শ্রাবণের মুখপানে। বললো,

---- আমার বিশ্বাস আপনি সম্পর্ক যেমনই হোক বাজে পথে যাবেন না। আর আমার দিক থেকে আমি ঠিক থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করবো। কিন্তু, বিশ্বাস রাখতে হবে। যদি অবিশ্বাস করুন তাহলে আমি আপনার সাথে থাকতে পারবো কি না জানি না।

চোয়াল আঁকড়ে ধরে ঝুঁকে মেঘের কপালে চুমু খেলো গভীর ভাবে শ্রাবণ। মেঘ যেনো জমে গেলো তৎক্ষনাৎ। কপালে থাকা এলোমেলো চুল গুলো সরিয়ে দিলো। অতঃপর মুচকি হেসে বললো,

---- আমি নিজেকে অবিশ্বাস করতে পারবো। কিন্তু, তোমাকে নয় মিসেস। ভালোবাসি যে।

---- এতোটুকুই চাওয়া আমার আপনার কাছে।

---- আমার চাওয়া শুধু তুমি। আমৃত্যু আমার হয়ে থাকো। কারোর হাতছানি পরতে দিবো না আমি তোমার উপর।

মেঘ ধীর গলায় বললো,

---- নিজে সঠিক থাকলে কেউই আপনাকে ভুল প্রমান করতে পারবে না। সেটা আমি বা আপনি।

চলবে,,,,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন