ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্রাবণ মেঘের উপখ্যান

২২তম পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম লিজা

#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান — ২২

#কলমে_তাসনিম_লিজা

----- কপি নিষিদ্ধ!

গ্রামটা অনেক সুন্দর। শ্রাবণ মেঘের হাতটা মুঠোবন্দি করে হাটতে লাগলো। চারদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলো গ্রামের সুন্দর পরিবেশ। প্রশান্তিময় বাতাস। অদ্ভুত শান্তি লাগছে।

---- ইট পাথরের শহরের থেকে গ্রাম অনেক ভালো তাই না?

মেঘ হাঁটতে হাঁটতে শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বললো,

---- শহর গ্রাম একই। শুধু দুটো জিনিস বাদে। এই যে গ্রামে প্রচুর গাছপালা শব্দহীন পরিবেশ এই দুটোরই অভাব শহরে। আর তফাৎ কেবল ইট-পাথরে গড়া বড়ো বড়ো অট্টালিকা। গ্রামে তো

টিনের বাড়ি আবার মাটির বাড়ি ও পাবেন। টিনের বাড়িতে বৃষ্টি শব্দ এতো ভালো লাগে। আফসোস বাবা ও শহরের মতোই বাড়ি করলো।

মেঘের কথায় হাহুতাশ করে শ্রাবণ বললো,

---- তো টিনের বাড়ি বানাবো বউয়ের ইচ্ছে পূরণ করার জন্য।

মেঘ ঝটপট করে বলে উঠলো,

---- না না কি বলছেন আপনি?

---- কেন অন্যায় কিছু বলেছি আমি? তোমার শখ পূরণ করবো না?

মেঘ হতবাক দৃষ্টিতে তাকায় শ্রাবণের দিকে। সামান্য কথাতে লোকটা এতো উতলা হয় কেন?

মনে হয় সে-ই তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।

মেঘ বললো,

---- আপনি এতোটা গুরুত্ব দেন কেন আমায়? সব ইচ্ছে যে পূর্ণ করতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। আপনি সবসময় একটু বেশিই সিরিয়াস হোন।

শ্রাবণ হাসে। তার জানা নেই কেনো এতোটা গুরুত্ব

দিচ্ছে সে মেঘকে। তবে এইটুকুই বুঝে তার মেঘ খুশি হবে। তার মাকে দেখেছে সবসময় নিজেকে, নিজের কথার কোনো মূল্য পায়নি। বড্ড কষ্ট পেতেন স্বামীর কাছ থেকে সাপোর্ট না পেয়ে। সে চাইনা মেঘ তার মায়ের মতোই কষ্ট পাক। সে একজন আদর্শবান স্বামী হতে চাই। তার সাধ্যমত

ইচ্ছে পূরণের সঙ্গী হতে চাই৷

---- তোমার চাওয়া পাওয়া তো আমারই একটি অংশ মেঘফুল। তুমি যেমন আমার অর্ধাঙ্গিনী। আমার জীবন জুড়ে আমৃত্যু থাকবে আমার সাথে। তেমন তোমার ইচ্ছে গুলোর পূরণ করার দায়িত্ব ও আমার। তোমার মানেই আমার ইচ্ছে। শুধু তুমি আমার বলবো কেন? বলবো তোমার সবকিছুই আমার। তোমার রাগ জেদ অভিমান ইচ্ছে আকাঙ্খা সব।

মেঘ কেবল মুগ্ধ হয়ে শুনছে শ্রাবণের কথাগুলো।

তারা দুজন পুকুরপাড়ে আসলো। এককোণে শাপলা ফুল ফুটে আছে কয়েকটা। মাছগুলো লাফাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। বসলো পাড়ের দিকটাই। শ্রাবণ ডিল ছুড়লো। শ্রাবণ মেঘের কাঁধে মাথা রেখে বললো,

---- ভেবেছিলাম জীবনটা একাই পার করে দিবো।

তুমি আর দিলে না৷ গ্রাম থেকে একদম আমার মনে এসে পড়লে। ভাবা যায় তুমি আবার আমায় গ্রামে এনে ফেললে।

মুচকি হাসলো মেঘ। আজ আর অস্বস্তি হচ্ছে না তার। বরং সে চাই তার কাছে যদি শ্রাবণ ভালো থাকে শান্তি পাই তাহলে তা-ই হোক। তার শান্তি যদি শ্রাবণ হয় তাহলে সে কেন হবে না? শ্রাবণ ফের বললো,

---- মাথাটা বড্ড যন্ত্রণা করছে মেঘ। একটু হাত বুলিয়ে দিবে?

মেঘ দেরি করলো না তৎক্ষনাৎ সিল্কি চুলগুলোর ভাঁজে হাত ডুবিয়ে দিলো। কপালে স্লাইড করে দিলো। শ্রাবণের ঘুম পেয়ে গেলো। ঘুমু ঘুমু কন্ঠে বললো,

---- আমার তো গ্রামেই ভালো লাগছে মেঘ। চলো আমরা দুজন এখানেই থেকে যাই।

মেঘ দ্রুত বলে উঠলো,

---- আপনি ঘুমিয়ে যাচ্ছেন? পড়ে যাবেন তো।

শ্রাবণ জোড় করে আঁখি মেললো। বললো,

---- আছে তো একজন ধরার জন্য। ক্ষতি কি?

---- আমরা ও আছি যে, আমাদের ও একটু আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দাও মেঘ সুন্দরী।

মুহুর্তের মধ্যে শ্রাবণ উঠে দাঁড়ালো। মেঘ দ্রুত শ্রাবণের পিছু চলে গেলো, শার্ট খামচে ধরলো। ভয় লাগে চেয়ারম্যানের ছেলেকে দেখলে। কথা বলার ধরন খুবই বাজে। কেমন কুৎসিত দৃষ্টিতে তাকায়।

এখানে আসলো কি করে? তাদের বাড়ি পুরোটা দেওয়ালের প্রাচীর দেওয়া। জানলোই বা কি করে মেঘ এখানে আছে? বাড়িতে না গিয়ে পুকুরপাড় আসলো সয়তান গুলো।

শ্রাবণের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো রাগে। চোখেমুখে তীব্র ক্ষোভ ফুটে উঠলো। হাত দুটো শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁড়িয়ে আপাদমস্তক দেখলো কিছুক্ষণ। তারপর বললো,

---- ভুল সময়ে ভিলেনের মতো এন্ট্রি নিয়েছিস। তা নিজের বউকে ও কি অন্যকে ভাগ দিস নাকি?

ছেলেটা হাসলো। নাম রাকিব। চেয়ারম্যানের বখাটে ছেলে। থুতনিতে অঙ্গুষ্ঠ আঙুল ঠেকিয়ে নির্লজ্জের মতো বললো,

---- তা আর দিলি কই তুই? তোর বিয়ে করা বউ ছিলো আমার পরাণ পাখি। ভালোবাসতাম ওরে। আর ও আমার থেকে পালিয়ে তোর কাঁচায় বন্দি হলো কাজটা একদম ঠিক করেনি মেঘসোনা।

সমস্যা নেই ওকে ছেড়ে দাও আমি আবার ও তোমায় আপ...

নাক বরাবর শ্রাবণের মুঠোবন্দি হাতটা ঘুষি মারলো রাকিবকে। ছিটকে পড়লো পাড়ের নিচে।

দ্রুত গতিতে নিচে নামলো শ্রাবণ। উঠতে দেওয়ার সুযোগ দিলো না বরং বুকে পা দিয়ে চেপে ধরে লালচে চোখে তাকিয়ে ক্ষুব্ধ কন্ঠে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,

---- কথাগুলো বলতে সুযোগ দেওয়ায় যে এতো লম্বা হয়ে যাবে তোর কুৎসিত জিহ্বা ভাবতে পারিনি আমি। তোর মতো নর্দমার কীট বাঁচিয়ে রাখলে এমনই হবে। এই জিহ্বাটা তোর পঁচে গিয়েছে। একটা কাজ করি, কেটে ফেলি কি বলিস?

---- ছেড়ে দিন, ওদের সাথে লেগে নিজের সময়

নষ্ট করার কোনো মানেই নেই।

---- ওই কু'ত্তার দল তোদেরকে কি এমনি পুষে রাখি

মার ওরে।

মেঘ ভয়ে আৎকে উঠলো। শ্রাবণ পেছনে তাকালো

তিনটে ছেলের দিকে। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে আঙুলের ইশারায় ডাকলো শ্রাবণ,

---- আয় তোরা।

হিংস্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে দানবের মতো দৌড়ে আসলো ছেলেগুলো। শ্রাবণ দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে দিলো সর্ব শক্তি দিয়ে একেরপর এক থাপ্পড়। দূরে গিয়ে পড়লো দুইটা। বাকি একটা বললো,

---- নিজেকে কি নায়ক ভাবিস তুই? তোর জন্য তো আমিই যথেষ্ট। আয় আজ তোকে আমিইইই..

একইভাবে থাপ্পড় পড়লো গুন্ডা ছেলেটার গালে।

মাথা ঘুরে উঠলো তার। শ্রাবণ আর একটু শক্তি প্রয়োগ করলো রাকিবের বুকে, চিৎকার করে উঠলো রাকিব।

---- ও মা গো। ছাড় বলছি।

শ্রাবণ আগের ন্যায় বললো,

---- আমি না কোনো নায়ক আর না কোনো শক্তিশালি কেউ। আমার হাতের এক থাপ্পড়েই তোর পোষা কু'ত্তা গুলো পালালো। তোর কি হবে বলতো?

ভীত দৃষ্টি রাকিবের। দৌড়ে চলে যাওয়া ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আবার শ্রাবণের এর দিকে তাকাচ্ছে। বাধ্য হয়ে নত স্বরে বললো,

---- আর হবে না আমাকে ছেড়ে দাও।

শ্রাবণ হাসলো। বললো,

---- অবশ্যই ছেড়ে দিবো। তোকে ধরে রেখে আমার কি লাভ? অযথা ঝামেলা। তুই অথবা তুমি নয়। বল দুলাভাই আপনি আমায় ছেড়ে দিন। আর আপু আমায় মাফ করে দিন। আমি আপনার বড় ছোট একটা হলেই হলো আপন ভাইয়ের মতো। এই যে আমি কানে ধরে তিনবার উঠবস করছি আর দুই গালে নিজের জুতো দিয়ে নিজেই টাসস করে ভারি দিচ্ছি। আর চোখ তুলে তাকাবো না।

বড়ো বড়ো চোখ করে তাকালো রাকিব। তবে রাগ করার সময় এখন না। সাথে সাথে বলে উঠলো রাকিব,

---- দুলাভাই আপনি আমায় দয়া করে ছেড়ে দিন।

আপু আমায় মাফ করে দিন। আমি আপনার বড় ভাইয়ের মতো। এই যে আমি কান ধরে উঠবস করবো।

ছাড়লো শ্রাবণ। ভয়ে ভয়ে কান ধরে উঠবস করলো তিনবার। তারপর বললো,

---- এই যে নিজের জুতোর ভারি ও খাচ্ছি।

নিজের পা থেকে জুতো খুলে নিজের গালে দু'টো ভারি দিলো। তারপর আর পায় কে রাকিবকে?

ভোঁ দৌড় দিলো বাড়ির গেইটের দিকে। হেঁসে উঠলো শ্রাবণ। মেঘ শ্রাবণের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো

উফ অস্থির মনটা শান্ত হলো। জোড়ে শ্বাস ছেড়ে বললো,

---- চলুন বাড়িতে এখানে থেকে লাভ নেই। ওরা খুব খারাপ লোক। বাবার সাথে অনেক ঝামেলা করছে।

শ্রাবণের প্রশ্ন বিদ্ধ চাহনি। বললো,

---- কিসের ঝামেলা?

মেঘের হাতখানা ধরলো। হাঁটতে লাগলো তারা।

মেঘ বললো,

----- জায়গা জমির সাথে আমাকে নিয়ে ও অনেক ঝামেলা করছিলো। গুন্ডা টাইপের লোক। কলেজ যেতে আসতেই বিরক্ত করতো।

---- আজ থেকে আর হবে না। বিশেষ করে হবেই না বউ কি রেখে যাবো নাকি?

মেঘ মৃদু হাসলো আড়ালে। বাড়িতে আসলো তারা দুজনে। বাইরেই চেয়ারে বসে আছে জাহিদ আহমেদ। মাত্র এগারোটা বাজে। আজ জুম্মার দিন। তাই তিনি হাসি মুখে বলেন,

---- শ্রাবণ রেডি থেকো নামাজ পড়তে যাবো দুজনে মসজিদে। নামাজ পড়ো তো প্রতিদিন?

শ্রাবণ মাথা চুলকালো। লজ্জায় নত হয়ে বললো,

---- না বাবা মিস হয়ে যায় মাঝে মাঝে।

আমিনা চেয়ার এনে দিলো। জাহিদ আহমেদ বলেন,

---- বসো তুমি। আর মেঘ তুই ভেতরে যা।

মেঘ আমিনার সাথে ভেতরে চলে গেলো। জাহিদ আহমেদ বলেন,

---- নামাজ মিস করবে না। আর হ্যা রাকিবকে শায়েস্তা করার জন্য ধন্যবাদ। বাজে একটা ছেলে ও। বাবা মায়ের শিক্ষার অভাবে এমন হয়েছে। বিচার দিলে প্রতিবাদ করার পরিবর্তে বেশ করেছে বলে উঠে মুখের উপর। আমার মেয়েটাকে বড্ড জালিয়েছে।

শ্রাবণ রেগে বললো,

---- পুলিশ থাকতে ভয় কিসের? থানায় ফোন দিতেন।

জাহিদ আহমেদ বলেন,

---- আর ফোন পুলিশে আজ দিলে কাল ও সময় নেই না বেরিয়ে আসে। যাই হোক তোমরা কি চলে যাবে?

---- এখানে থাকার ডিসিশন নিয়েছিলাম বাট চেইঞ্জ করেছি। আজই চলে যাবো। পরিবেশ ভালো হলেও মানুষগুলো ভালো না। আমি চাই না মেঘের কোনো বিপদ হোক। আপনার কোনো সমস্যা ?

মুচকি হাসলেন জাহিদ আহমেদ বলেন,

---- নাহ বাবা আমার কোনো সমস্যা নেই। আমার মেয়েটাকে তুমি দেখে রেখো সবসময়। ও ভুল বা অন্যায় করলে আমাকে জানাবে আমি দেখবো।

আর ওর মন খারাপ হলে বা তোমার থেকে কষ্ট পেলে একা ছেড়ে দিও না। বড্ড রাগী মেয়েটা। হয়তো চলে আসবে নয়তো নিজের সাথেই কিছু করার চেষ্টা করবে। বুঝলে শ্রাবণ আমার মেয়েটা দেখতে যতোটা শান্ত ঠিক, তা বিপরীতে ততোটাই রাগী। আমার শুধু ভয় হয়।

শ্রাবণ আশ্বাস দিয়ে বললো,

---- রাগ সবারই আছে বাবা। কারোরটা প্রকাশ পায় আবার কারোরটা অপ্রকাশিত। চিন্তা করবেন না আপনি। আমি ওর কিছুই হতে দিবো না। বা এমন কোনো কাজ করবো না যেনো মেঘ কষ্ট পায়।

দুজন অনেক গল্প করতে থাকে। মেঘ আমিনার সাথে মিলে চা বানাতে থাকে সবার জন্য।

____________________

---- কি রে মামুনি কাঁদছিস কেন?

কনক কান্নারত কন্ঠে বললো,

---- বাবা আমি শ্রাবণ ভাইয়ার জন্য নিজেকে চেইঞ্জ করার চেষ্টা করছি আর সে-ই বললো আমি যেনো তাকে ভুলে যাই। তাহলে এতোকিছু আমি কার জন্য করছি?

আফসার খন্দকার মেয়েকে শান্তনা স্বরুপ বলেন,

---- কেন পড়ে আছিস ওর পিছু? ভুলে যা ওকে। ওর থেকে ভালো বড়োলোক সুন্দর ছেলের সাথে তোর বিয়ে দিবো।

রাগ হলল কনকের। বললো,

---- তুমি কাউকে ভালোবাসোনি তো তাই বুঝতেছো না আমার অবস্থাটা। আমি কত মেয়ের সাথে খারাপ আচরণ করেছি। শুধু শ্রাবণের দিকে ভালোবাসার নজরে তাকিয়েছে বলে। পুরো ভার্সিটি জানতো আমি শ্রাবণ ভাইয়াকে ভালোবাসি। কিন্তু, সে অন্য কাউকে বিয়ে করে নিলো। এটা যে কতটা লজ্জার বিষয় তুমি জানো?

সহধর্মিণীর কথা মনে পড়ে গেলো আফসার খন্দকার এর। অনেক ভালোবাসতেন ওনি তার বউকে। তাইতো বউ মারা যাওয়ার পর ও বিয়ে করেননি। মেয়কে একা হাতে বড়ো করেছেন। আর মেয়ে বলছে ভালোবাসা বুঝে কি না? এই দুঃখ রাখার মতো জায়গা কোথাও নেই। মনে কষ্ট মনে চেপে রেখে বলেন,

---- কোনো উপায় নেই তো।

কনক ক্রোধান্বিত হয়ে বলল,

---- এমনি এমনি কিছুই পাবো না বাবা। জোর করে আমি শ্রাবণকে আমার করে নিবো। হয়তো ভিলেন হবো তারপর দেখবে শেষে আমিই হবো নায়িকা। নট ভিলেন।

দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে হাটা ধরলো মেয়ের রুম থেকে। বুঝালে ঝামেলা করবে। উল্টো ওনাকেই বুঝিয়ে চুপ করিয়ে দিবেন। তাই চুপ থেকে কেটে পড়াই উত্তম। অন্যদিকে কনক কিছু ভাবছে আর হাসছে।

____________________

আজকেই ঢাকায় ফিরে যাবে কথাটা শুনে মন খারাপ হলো খানিকটা মেঘের। বাবার বাড়ি যে কতটা শান্তি তা এখন বুঝতেছে। শ্রাবণের যুক্তিসঙ্গত কথায় তর্ক বা না করার সাহস করলো না মেঘ। যেখানে তার বাবা ও সায় দিলো। চা এনে দিলো দুজনকে। শ্রাবণ মেঘের দিকে তাকালো৷ মেঘের যে মনটা বিষন্ন বুঝতে পেরেছে। পারলে ও কিছুই করার নেই তার। তার ভালোর জন্যই গ্রাম ছাড়তে হচ্ছে। মেঘকে না দেখার মতোই রইলো শ্রাবণ।

কথপোকথন শেষ হলে রুমে আসলো মেঘ। মেঘ বসে আছে বেডের একপাশে। স্থির দৃষ্টি তার দূরের জানালার বাহিরের দিকে। আলগোছে এগিয়ে এলো শ্রাবণ। বুকে দুহাত গুঁজে দেওয়ালে পিট ঠেকিয়ে দাঁড়ালো সে। দৃষ্টি নিবদ্ধ তার মেঘফুলের দিকে। নীরবতায় কাটলো মিনিট কয়েক টেরই পেলো না মেয়েটা। রমনীর চোখে জলে টইটম্বুর। কষ্ট পাচ্ছে মেয়েটা? কিসের কষ্ট কাঁদছে ও? কেন?

জিজ্ঞেস করার প্রখর ইচ্ছে থাকলে ও করলো না সে। কিছু কথা কানে আসলো তার। মেঘ কান্নার কারনে কথা বলতে পারছে না। তবুও বলছে সে দক্ষিণ দিকের জানালার দিকে তাকিয়ে, ওইদিকে একটা কবর আছে। মেঘের মা সামিয়া শিকদারের কবর।

---- আম্মু জানো, বাবা তোমায় অনেক ভালোবাসে।

আমি ও ভাবতাম এমন একটা মানুষ যেনো আমার জীবনে আসে। আমার বাবা আমায় তারই মতো সঠিক মানুষের হাতেই তার মেয়েকে তুলে দিবে। বাবা তোমায় এতোই ভালোবাসে যে দ্বিতীয় বিয়েটা ও করেনি। এমন ভাগ্য কয়জনের হয় মা? তুমি জানো বাবা তোমার মতো আমার ভাগ্যটা ও সুন্দর করে দিয়েছে। আমার জীবনে বাবার মতো একজন যত্নশীল পুরুষ দিয়েছে। যাকে আ'আমি ভালোই বাসি না আজ অব্দি। সে আমায় ফুলের মতো আগলে রাখতে চাই। আমি তাকে খুব করে চাই মা। আমার বোধহয় এটাই পাপ্তি সে আমার বর। আমার জীবনের সেরা উপহার। আমি তাকে তার মতো করে ভালোবাসতে চাই। তাকে কখনোই কষ্ট পেতে দিবো না। শুধু এতোটুকু দোয়া করো মা আমি যেনো তার জীবন থেকে সময়ে আগে না চলে যাই তোমার মতো। আমরা একসাথে অনেক দিন বাঁচতে চাই। আমরা বুড়োবুড়ি হবো দুজনে। শেষ বয়স অব্দি একসাথে থাকতে চাই। আমি তোমার মতো হতে চাই না। তুমি বাবাকে একা ফেলে চলে গিয়েছো। আমি ওনাকে একা ফেলে চলে যাবো না। আমার বড় লোভ ওনার যত্নের। আমরা একসাথে বাঁচবো আদরে আহ্লাদে ভালোবাসায়।

---- শ্রাবণ শিকদার আপনার জীবনের সব দায়িত্ব যেহেতু নিয়েছে আপনার ভয় নেই মেঘফুল। হারাতে চাইলেও দিবো না হারাতে।

থমকালো মেঘ। দ্রুত ঘুরে তাকালো দরজার দিকে।

অস্ফুটস্বরে বলে উঠলো,

---- আপনি এখানে? নক করেননি কেন?

শ্রাবণ মৃদু স্বরে বললো,

---- বউ হয় আমার। বউটাই আমার। নক করার প্রয়োজন পড়েনি।

মেঘ ওঠে দাঁড়ায়। দ্রুত চোখ মুছলো। বললো,

---- আপনি নামাজ পড়তে যাবেন। আমি জামাকাপড় নিয়ে আসছি।

হাত ধরে ফেললো শ্রাবণ। বললো,

---- বাবা দিয়ে গিয়েছেন আমায়। আপনার যেতে হবে না। এদিকে আসুন তো।

মেঘকে নিজের সামনে দাঁড় করালো। বুড়ো আঙুল দ্বারা দুই চোখের পানি ভালো করে মুছে দিলো।

চোখগুলো লাল হয়ে হালকা ফুলে গিয়েছে। মেঘ

ভীত চাহনি। শ্রাবণ হাসলো। বললো,

---- কাঁদো সমস্যা নেই। মাঝেমধ্যে বাবা মায়ের জন্য এবং ভালো কিছুর জন্য কাঁদতে হয় আমাদের। তারপর উপরওয়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করতে হয়। আমার কষ্ট নেই তুমি সুখে কাঁদছো। আমি তোমায় কাঁদাতে চাই এভাবেই। আর খবরদার মায়ের সাথে নিজেকে তুলনা করবা না। ফুপি হয়তো আরো অনেক বছর বেঁচে থাকতো কিন্তু, তারা দেইনি। ফুপির সুখ সহ্য হয়নি তাদের।

মেঘ ও বললো,

---- আমার সুখ ও অনেকের সহ্য হয় না। তাহলে কি আমি ও মায়ের মত....

---- বাজে কথা বলো না মেঘ। তুমি বাসায় নামাজ পড়ে নিও। আমি বাবার সাথে মসজিদে যাচ্ছি। আর হ্যা বাইরের গেইটে তালা দিয়ে রেখো।

---- ঠিক আছে। আমি যাই তাহলে।

---- যাও।

মেঘ চলে গেলো। শ্রাবণ ও রেডি হয়ে নিলো। বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন জাহিদ আহমেদ। ভীষণ খুশি তিনি। জামাই শশুর একসাথে নামাজ আদায় করবেন। শ্রাবণ আসতেই দুজনের হাসি মুখে বের হয়ে গেলেন। আমিনা গেইট তালা দিয়ে মেঘের সাথে নামাজ পড়তে চলে যায়।

___________________

---- জামিলা আপা সুমনা কোথায়?

জামিলা বেগম তরকারি কুটছিলেন। হাসি মুখে বলেন,

---- রুমে গেছে ভাইজান।

সারিফ শিকদার মাথা থেকে টুপিটা নামিয়ে পকেটে পুরলেন। হাতে ওনার জিলাপি। রুমে আসতেই দেখা মিললো সুমনা রাহমান এর৷ বিছানা গুছাচ্ছেন তিনি। সারিফ শিকদার হাসি মুখে বলেন,

---- দেখো কি এনেছি।

হঠাৎ কথা শুনে ফিরলেন স্বামীর দিকে। সামনে মেলে দিলো জিলাপির প্যাকেটটা। হাসি ফুটলো সুমনা রাহমান এর ঠোঁটে। চোখ দু'টো চিকচিক করে উঠলো। বললো,

---- মনে আছে তোমার সেই পুরনো দিনের কথাগুলো?

তুমি আর বাবা নিয়ে আসতে আমার জন্য জিলাপি। কত পছন্দ করতাম আমি। অপেক্ষায় থাকতাম কবে নামাজ শেষ করে নিয়ে আসবে। আমি খাবো।

সারিফ শিকদার সুমনা রাহমান এর হাতে গুঁজে দিলেন প্যাকেটটা। বলেন,

---- মনে তো সবই আছে শুধু প্রকাশ করার ক্ষমতা ছিলো না এই বয়সে। তবে ছেলে আমার এমন ভাবে বুঝালো আমার মনে হলো ভালোবাসার কোনো বয়স হয় না। প্রিয় মানুষটাকে বয়সের চাপে নয়, মনের সৌন্দর্য দিয়ে দেখতে হয়। আমি আমাদের সেই পুরনো দিনে ফিরে যেতে চাই সুমনা। হোক না বয়স বেশি তার চেয়ে বেশি হোক আমাদের ভালোবাসা।

কথাগুলো বলে আলমারি খুলে সুন্দর দেখে পছন্দ করে একটা শাড়ি বের করলো। বললো,

---- আজ এই শাড়িটা পড়বে তুমি।

---- হঠাৎ শাড়ি?

অবাক হলেন সুমনা রাহমান। সারিফ শিকদার মুচকি হেসে বলেন,

---- একসময় আমায় পছন্দ করে দিতে হতো তোমায় শাড়ি। আর কতবছর যাবত আমাকে ছাড়াই কাটিয়ে দিচ্ছো। কত বেখেয়ালি হয়ে গিয়েছিলাম আমি।

---- এই বুড়ে বয়সে খেয়াল হলো তোমার?

---- প্রেম জোয়ান বুড়ো মানে না প্রেয়সি। আমি কিন্তু সেই আগেই মানুষটাই আছি।

হাসলো সুমনা রাহমান। বললেন,

---- আচ্ছা পড়বো। তুমি খেতো আসো।

---- চলো একসাথে খাই।

---- হ্যা চলো।

___________________

মসজিদে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন জাহিদ আহমেদ। চেয়ারম্যান সাহেব এড়িয়ে যেতে নিলে শ্রাবণ মসজিদের বাহিরে এসে ডাক দিলেন,

---- এই যে চেয়ারম্যান আংকেল দাঁড়ান একটু।

ইচ্ছে না হলে ও দাঁড়ালো চেয়ারম্যান সাহেব। শ্রাবণ এগিয়ে এসে সালাম দিলো।

---- আসসালামু আলাইকুম চেয়ারম্যান আংকেল।

একা একা নামাজ পড়তে এলেন আপনার ছেলে কোথায়? আর আমার সাথে পরিচিত হবেন না?

চেয়ারম্যান সাহেব অন্যদিকে ফিরে বলেন,

---- তা তোমাকে বলতে বাধ্য নই আমি। আমাকে বলতে হবে না তুমি কে, আমার ছেলেকে মেরে আবার আমার সাথে বেয়াদবি করছো? জাহিদ তুমি কি তোমার জামাইকে দিয়ে অপমান করাতে এসেছো এখানে?

জাহিদ আহমেদ পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওনাকে কিছু বলতে না দিয়ে শ্রাবণ বলে,

---- বেয়াদবি তো আপনি করছেন আংকেল। সালামের উত্তর দিলেন না। তারপর বিহেভিয়ার ঠিক করেননি। আপনার ছেলে আমার একমাত্র বউয়ের দিকে বাজে নজরে তাকিয়ে বাজে কথা বলেছে আর আমি ছেড়ে দিবো? যাক সেসব কথা। এখন বুঝলাম বাবা যেমন তার ছেলে তো তেমনই হবে।

---- কথাবার্তা সাবধানে বলো। তুমি জানো আমি কে?

জাহিদ আহমেদ বলেন,

---- সাবধানে বলার মতো কথা নই চেয়ারম্যান সাহেব। শ্রাবণ ভুল কোথায় বলেছে? আমার বাড়িতে এসে আপনার ছেলে আমার মেয়েকে বাজে কথা বলার সাহস পাই কি করে? আমাদের না বলে আপনার উশৃংখল, বখাটে ছেলেকে একটু ভালো শিক্ষা দিন।

চলো শ্রাবণ।

জাহিদ আহমেদ শ্রাবণের হাত ধরে নিয়ে আসলো।

শ্রাবণ চেয়ারম্যান সাহেবের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। রাগে ফুঁসছে চেয়ারম্যান সাহেব। মনে হচ্ছে এমন পরে দেখে নিবে।

___________________

---- কে বলছেন?

---- দিব্য ভাইয়া এখন কেমন আছে দোয়েলপাখি?

ভ্রুঁ কুঁচকে ফেললো দোয়েল। গলাটা চেনা চেনা লাগছে। কিন্তু কে?

---- কে আপনি? আমার ভাইকে চিনেন?

শব্দহীন হাসলো তাসির। মেয়েটা তাকে চেনে না।

বললো,

---- আপনার অপ্রিয় একজন। প্রিয় হওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে।

---- বাজে কথা বন্ধ করুন। আগে বলুন আপনি কে?

---- চিনতে পারোনি আমায়?

দোয়েল সরাসরি বললো,

---- চিনলে বোকার মতো প্রশ্ন করতাম নাকি আজব তো।

তাসির দুষ্টুমি করে বললো,

---- অচেনাই থাকি তাহলে?

---- ফোন রাখুন আজাইরা কথা বলার জন্য ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করছেন? আপনি জানেন ভাইয়াকে বলে আপনাকে জেলে পাঠাতে পারি আমি।

তাসির হাসলো। বললো,

---- জেলে কেন যাবো আমি? আমি তো তোমার মনে যেতে চাই সেখানেই আমার আসল ঠিকানা।

---- অসভ্যলোক।

কেটে দিলো কল। বিরক্ত হচ্ছে দোয়েল। ফোনটা শব্দ করে রেখে বিরবির করে বললো,

---- আজব মানুষ কোথা থেকে যে আসে। আর নাম্বারই বা পেয়েছে কোথায়? ভাইয়াকে ও চেনে তারপর ও এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে? সামনে আসুক তারপর দেখাবো মজা।

চলে গেলো মেঘ তার ভাইয়ের রুমে কিছু লাগবে কি না দেখতে।

---- কি একটা বিপদে ফেললে আমায় দোয়েলপাখি। হঠাৎ এতো ভালোবাসা কেন তোমার প্রতি?

নিজের প্রতি নিজেই অবাক হয় তাসির।

_________________

মেঘ আমিনা নামাজ শেষ করে বসে রইলো কিছুক্ষণ। তারপর আমিনাকে বললো,

---- আমিনা আপু বাবাকে দেখে রেখো। তুমি ছাড়া তো বাবার এখন তেমন কেউ নেই। আর দুলাভাই কবে আসবে?

আমিনার মনটা খারাপ সে বললো,

---- জানি না আপামনি। বলে কয়ে যায় না আমারে

চাচাজানের কাছ থাইকা ছুটি নিছে। আসলে তো ভালো হইবো। একা একা ভয় লাগে। চাচাজানের উপর যদি কোনো হামলা করে চেয়ারম্যানের লোকেরা।

মেঘ আমিনাকে আস্বস্ত করে বললো,

---- কিছুই হবে না। আল্লাহ ভরসা৷ তুমি শুধু সাবধানে থাকবা। আর এতোটাও সরল সোজা হবা না যতোটা হলে তোমায় রেখে দুলাভাই অন্য নারীর দিকে তাকাবে। নিজের অধিকার বুঝে নিবা। বাবাকে জানাবা। তারপর দেখো কি হয়। তুমি খুব ভালো তাই তো তোমার সাথে এমন করে। একটু কঠোর হও তারপর আর এমন করবে না।

আমিনা হাসলো। সেই হাসিতে আনন্দ নই বিষাদ কেবল। বললো,

---- ঠিকই বলেছো আপামনি আমি আর দুর্বল হবো না প্রতিবাদ করবো। নিজের অধিকার আদায় করবো। কাজ করেই তো খাচ্ছি। তাহলে ভয় পাবো কেন? অত্যাচারিত কেন হবো? জানো সারাদিন আমায় ধমকায়। মারে, ভয় দেখায়। বাবার বাড়ি গরিব বলে এমন করে। টাকা চাই আমার কাছে। আমি তো না করি নাই। আমার পুরো মাসের বেতনটা আমি তার হাতে তুলে দেই। দুজনের সব টাকা মিলে পঁচিশ হাজার টাকা হয়। খাওয়া দাওয়া সব কিছু তো চাচাজানের দায়িত্বে৷ সব টাকা নষ্ট করে ফেলে জুয়া খেলে আর অন্য নারীর পিছনে খরচ করে। না জমিয়ে রাখে আর না আমায় দেয়।

হতাশ হলো মেঘ। বাবাকে জানাতে হবে কথাগুলো

নয়তো আরো বড়ো কিছু হতে পারে। উঠে দাঁড়ালো মেঘ। বললো,

---- আচ্ছা তুমি চিন্তা করো না আমি দেখছি কি করা যায়।

আমিনা ভয়ার্ত গলায় বললো,

---- না না তুমি চাচাজানের কাছে কিছুই বলো না।

তাহলে ও আমায় ছেড়ে দিয়ে চলে যাবে। আমি গ্রামে থাকতে পারবো না। সবাই আমায় খারাপ বলবে। আমার জীবনটা অন্ধকার হইয়া যাইবো।

মেঘ বুঝালো। বললো,

---- যদি ভালো হয় তাহলে ক্ষতি কি? আর যে খারাপ সে কখনোই ভালো হবে না। তার সাথে জীবন কাটবে কি করে আপু? তুমি তো এমনিতে ও ভালো নেই।

আমিনা অসহায় স্বরে বললো,

---- মেয়ে মানুষ আমরা। আমাদের সবখানেই বিপদ। দোষ করলে ও না করলে ও। ভাগ্যিস আমি এহানে কাজ করি। অন্য জায়গায় হলে তো এতো বছর কাজ করতেই পারতাম না। চাচাজান তো আমাকে আরেকটা মেয়ের মতো করে রাখে। মনেই হয় না এটা আমার বাড়ি না যে। মনে হয় তোমার বাবাই আমার বাবা। আর তিনি জানতে পারলে আমার জামাইরে আস্তো রাখবো না। মারতে ও পারে।

মেঘ ভরসা দিলো। বললো,

---কিছুই হবে না। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তোমার কাছে যদি ফিরে আসে তাহলে ভয় কিসের? আর সে যদি তোমার সাথে টাকার জন্যই সম্পর্ক করে থাকে তাহলে এই সম্পর্ক থেকে মুক্তি পাওয়াই ভালো। কতগুলো বছর হলো ভালো হলে তো এতোদিন সময় নিতো না। ভয় পেয়ো না। বাবাকে তোমার বাবার মতো মনে হয় না? বাবা তোমায় ফেলে দিবে না কখনোই। বরং ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিবে। নিজেকে অসহায় দুর্বল ভাবলে জীবন এভাবেই থমকে যাবে। কোনো কুল কিনারা পাবা না। সময় থাকতে সব ঠিক করো নয়তো পরে আফসোস করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

আমিনা কিছুই বললো না। মেঘ চলে গেলো নিজের রুমে। কিছুক্ষণ পর শ্রাবণ ও জাহিদ আহমেদ আসলেন। বাইরে গাড়ির শব্দ হলো। মেঘ বেরিয়ে এলো গেইটের কাছে। শ্রাবণ ড্রাইভারকে তার বাইকের চাবি দিয়ে দিলেন। ড্রাইভার চলে গেলো বাইক নিয়ে। মেঘকে দেখেই শ্রাবণ মুচকি হাসলো। জাহিদ আহমেদ ভেতরে চলে গেলেন। শ্রাবণ মেঘের কাছে গেলো। দুগাল আঁকড়ে ধরে কপালে চুমু খেলো। বললো,

---- বাড়ি ফেরা যাক তাহলে মেঘফুল।

চলবে,,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন