ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্রাবণ মেঘের উপখ্যান

২৪তম পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম লিজা

#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান —২৪

#তাসনিম_লিজা

---- কপি নিষিদ্ধ!

---- নাহ! আমি এই বিয়ে করবো না।

---- বিয়ে তো হয়ে গিয়েছে দোয়েলপাখি। কি বলছিস তুই?

চমকালো। লজ্জা ও পেলো। ডয়িংরুম ভর্তি মানুষের সামনে তাসির নামক পুরুষটাকে দেখে হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলো দোয়েল অতঃপর শুধালো উক্ত বাক্য,

---- দোয়েল বস।

দোয়েল সেই জায়গায় আর দাঁড়ালো না। সোজা নিজের রুমের দিকে ছুটলো। তাসির হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। মেয়েটা তাকে পছন্দই করে না। থাক সমস্যা নেই। অবাধ্য বাঁধনে আপাতত আঁটকা

পড়েছে সে। বাধ্য করার দায়িত্ব না হয় সে নিজেই নিয়ে নিলো।

বাড়িতে রান্না করার মতো কেউ নেই। এতো বড় বাড়িটা নিজ হাতে সামলাতেন ফাইজা বেগম। তাই এখন বাইরে থেকে খাবার আনিয়েছেন জাহাঙ্গীর আহমেদ। ছেলেরা যেহেতু রাজি ওনার কোনো আপত্তি নেই মেয়ের বিয়ে দিতে। সবাইকে নিয়ে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করলেন।

_________________

---- তা আপনার চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর এতো রাতে আসছেন আমার সাথে দেখা করতে?

আমিরা মির্জা নরম হলেন না ছেলের দুঃখে। বরং স্বাভাবিক গলায় বললেন,

---- আমার উপর রাগ অভিমান করে লাভ নেই নয়ন। তোমায় আমি সবসময় ভালো কাজে খারাপ কাজে সাপোর্ট করেছি৷ কিন্তু, তুমি যে খুন করতে পারো তা ভাবতেই পারিনি। মেয়েটাকে ছেড়ে দিতে পারতে, মেরে ফেলার কি খুব প্রয়োজন ছিলো? এখন আমার হাতে কিছুই নেই৷ প্রমান সব তুমি নিজে দিয়েছো। এখানে টাকার কোনো কানেকশন নেই। আর না পাবে আমাকে পাশে।

একনাগাড়ে কথাগুলো বলে থামলো আমিরা মির্জা

নয়ন পলকহীন অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। এটা তার মা? নাহ তার মা তো এমন না। অস্ফুটস্বরে বলে উঠলো নয়ন,

---- আমার সাথে মজা করছো তাই না মা?

আমিরা মির্জা নিজেকে সামলে নিলেন। জেলের শিকল গুলো শক্ত করে মুঠোবন্দি করে বললেন,

---- আমি মজা করবো কেন? তুমি কি মজা করার মতো কোনো কাজ করেছো?

কথা বললো না নয়ন। আমিরা মির্জা ফের বললেন,

---- খেয়ছিস?

হাসলো নয়ন। বললো,

---- এতোকিছু না জেনে আমার ফাঁ'সি হওয়ার সময় দেখে যেয়ো। আর হ্যা আমার কারোর হেল্প লাগবে না। আসতে পারো এখন।

হতাশার শ্বাস ফেললেন আমিরা মির্জা। ওনার হাতে কিছুই নেই। চলে এলেন তিনি।

___________________

একসাথে খাওয়াদাওয়া শেষ করে রুমে আসলো মেঘ। শ্রাবণের ফোন বাজতেছিলো। তাসিরের কল,

ফোনটা নিয়ে ডয়িংরুমে আসলো মেঘ। এগিয়ে দিয়ে বললো,

---- তাসির ভাইয়া কল দিয়েছে।

শ্রাবণ কল রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে বলে উঠলো তাসির।

---- আলহামদুলিল্লাহ ভাই। সব কমপ্লিট! বাট মিস ইউ, তোদের ছাড়া সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট কাজটা শেষ করলাম। আমাকে আইডিয়া দেওয়ার জন্য তোকে আমার মেয়ের শশুর বানাবো।

শ্রাবণ হাসলো। মেঘের দিকে তাকালো। বললো,

---- তুইকি শিউর আমার ছেলেই হবে?

মেঘ অবাক হলো। তাসির হাসিমুখে বললো,

---- হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিউর।

শ্রাবণ মুচকি হেসে বললো,

---- তাহলে তো শশুর হওয়ার প্রস্তুতি নিতেই হয়। আচ্ছা রাখি। ওইদিকের সব কমপ্লিট হলে বাসায় চলে যা তো।

---- তুই তো বউ নিতে পেরেছিস। কিন্তু, বউ ছাড়া

যাওয়া যে কতটা কষ্ট সেটা বুঝবি না রে আচ্ছা রাখ। আমি একটু দুঃখ পালন করি। বাকিরা জানলে মারতে ও পারে।

তাসির কল কাটতেই মেঘ চোখ ছোটো ছোটো করে জিজ্ঞেস করলো,

---- কি বলছেন এসব আপনি তাসির ভাইয়াকে?

শ্রাবণ ফিচেল হেসে উঠে দাঁড়ালো। মেঘের খানিকটা সামনে এসে বললো,

---- তেমন কিছু না জাস্ট ছেলের বউয়ের কথা বলছিলাম।

---- ছেলের বউ? আপনার ছেলে আছে? আমি তো জানি না? মানে আপনি আগে আরেকটা বিয়ে করেছেন? আপনি আমার সাথে চিট করেছেন?

একটা সংসার থাকার পর ও আমার সাথে প্রতার..

শ্রাবণ বোকাবনে গেলো মেঘের এমন আচরনে। থামিয়ে দিলো তৎক্ষনাৎ। বললো,

---- আর ইউ ক্রেজি মেঘ? আমার সংসার মানে?

মেঘ রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে কিটকিটে কন্ঠে বলে উঠলো,

---- আপনি ছেলের বউ তো ছেলে ছাড়া বলছেন না। নিশ্চয়ই আপনার ছেলে আছে। কোথায় সে?

শ্রাবণ হতাশ হলো। দুহাত কোমরে রেখে, নিরিহ দৃষ্টিতে তাকালো। বললো,

---- বোকা ফুল আমি আমাদের ফিউচার ছেলের কথা বলছি। মানে তোমার আর আমার ছেলে হবে।

আকাশ থেকে পড়লো মেঘ। মুহুর্তের মধ্যে লজ্জায়

তাকাতে পারলো না শ্রাবণের দিকে। দ্রুত বলে উঠলো,

---- সরি মিস্টার। দোষটা অবশ্য আপনারই। যেভাবে বলেছেন সংসার তো আছেই।

---- মেঘ!

পাই কে আর মেঘকে৷ শ্রাবণ পিছু গেলো। তবে মেঘ দিলো না যেতে দরজা লাগিয়ে দিলো মুখের উপর।

---- মেঘ দরজা খোলো।

---- কি হয়েছে রে শ্রাবণ? দরজা ধাক্কাচ্ছিস কেন?

---- কিছু না বাবা এমনিই।

সুমনা রাহমান ও বেরিয়ে আসলেন রুম থেকে। সারিফ শিকদার বলেন,

---- আমি আর তোর মা তোর নানুবাড়ি যাবো। কি এক ঝামেলা হয়েছে নাকি। তোর মায়ের যাওয়াটা জরুরি। কালকে চলে আসবো।

শ্রাবণ এগিয়ে আসলো বললো,

---- সাবধানে যাবে। কোনো ঝামেলা হলে আমায় জানাবে। তাদের কথোপকথনের মধ্যে তুমি কোনো কথা বলো না। আমি চাই না তাদের ঝগড়ার মধ্যে তাদের দুজনের চোখে তুমি যেনো খারাপ না হও।

---- ন্যায়ের কথা বলবো ভয় কিসের?

শ্রাবণ সারিফ শিকদার এর গালে হাত রেখে বললো,

---- অবশ্যই বলবে। তবে তারা তো ভালো না। তাই বলছিলাম।

সুমনা রাহমান বলেন,

---- তুই চিন্তা করিস না বাপ৷ দশবছর আগের ঘটনা আবার রিপিট হবে আর তার প্রতিবাদ করবো না সেটা ভাবলে ভুল হবে। আমি থাকতে তোর বাবাকে কেউ একটা কথা ও বলতে পারবে না। আমি শেষ বার যাচ্ছি। শুধু জায়গাজমির ঝামেলার কারনে। নয়তো পা পড়বে আমার ওই বাড়িতে কখনোই না।

---- আচ্ছা তোমরা যাও তাহলে।

---- আসছি।

দশবছর আগে শ্রাবণের সামনে শ্রাবণের বাবাকে তার বড়ো মামা আসফিয়ার বাবা থাপ্পড় মেরেছিলো সত্যি কথা বলার জন্য। বড়ো ভাই বলে প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি সুমনা রাহমান। তবে রেগে ছিলো শ্রাবণ। তখন সে ছোট ছিলো বড়দের মুখের উপর কথা বলা যাবে না বিদায় চুপ ছিলো।

সেদিনের পর থেকে নানুবাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দেয় শ্রাবণ। ফোনে টুকটাক মামাতো ভাই বোনদের সাথে যোগাযোগ ছিলো তার। দরজা লক করে ডয়িংরুমে পায়চারি করে কিছু একটা ভাবছিলো সে। পরক্ষণেই মেঘের বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে তার ঠোঁটের কোণে খেলে গেলো এক চিলতে দুষ্টুমির হাসি। মা-বাবা বাড়ি নেই, পুরো ফ্ল্যাটে এখন শুধু সে আর তার মেঘ। এমন সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়? ভুল বুঝাবুঝির ছোটখাটো মিষ্টি প্রতিশোধ তো নেওয়ায় যায়।

​শ্রাবণ দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দরজায় নক না করে বেশ স্বাভাবিক গলায় ডেকে উঠল,

​---- মেঘ দরজা খোলো। মা ডাকছে।

​মায়ের কথাটা শুনে মেঘ কোনো কিছু না ভেবেই চট করে দরজাটা খুলে দিলো। ​কিন্তু, দরজা খুলতেই মেঘের চোখ ছানাবড়া! সামনে মা বা বাবা কেউ নেই, কেবল শ্রাবণ দাঁড়িয়ে আছে এক চিলতে ফিচেল হাসি নিয়ে। মেঘ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শ্রাবণ চট করে ভেতরে ঢুকে নিজের হাত বাড়িয়ে পেছনের দরজাটা আটকে দিল।

​মেঘ কিছুটা ভড়কে গিয়ে দু কদম পিছিয়ে শুধালো,

​---- আপনি! মা কোথায়? আর মিথ্যা কেন বললেন? দরজা কেন আটকাচ্ছেন?

​শ্রাবণ পকেট থেকে হাত দুটো বের করে ধীরপায়ে এগিয়ে এলো। তার ধীরস্থির মাপা কদম যেনো মেঘের হৃদস্পন্দন দ্রুত বাড়িয়ে দিচ্ছে। মেঘ এক পা, দু পা করে পেছাতে পেছাতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল। শ্রাবণ ঠিক তার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো। এত কাছে যে মেঘ তার চোখের গভীরতা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। শ্রাবণের ঘোর লাগা দৃষ্টি! মেঘের বুকে তীরের মতো বিঁধছে।

​---- মিথ্যা না বললে কি আমার মেঘফুল দরজা খুলতো? আর একটু আগে যে আমার চরিত্র নিয়ে এত বড় অপবাদ দিলে, চিটার বললে, তার দুষ্টু মিষ্টি ছোট্ট পানিশমেন্ট পাবা না?

​শ্রাবণের গলার স্বর এবার একদম নিচু, যেন এক ধরণের মায়াজাল বুনছে সে। মেঘ চোখ দুটো বড় বড় করে আমতা আমতা করে বলল,

​---- আমি.. আমি তো ভুল বুঝেছিলাম। সরি বলেছি তো।

শ্রাবণ হাসলো। বললো,

​---- শুধু মুখে সরি বললে হবে না মিসেস,

​শ্রাবণ মেঘের একদম কাছাকাছি এসে নিজের এক হাত দেয়ালের ওপর রাখলো, যেন মেঘের পালানোর সব পথ বন্ধ। তার অন্য হাতটি আলতো করে গিয়ে ছুঁলো মেঘের গালে।

​শ্রাবণের হাতের আঙুলের উষ্ণতা মেঘের উজ্জ্বল ত্বকে এক তীব্র শিহরণ জাগিয়ে তুললো, রক্তিম হয়ে এলো গাল দুটো। মেঘের চোখের পাতা জোড়া লজ্জায় বুজে এলো। চিবুক নামিয়ে নিলো তৎক্ষনাৎ। বাতাসে তখন শ্রাবণের মৃদু পারফিউমের গন্ধ আর দুজনের ওলটপালট হয়ে যাওয়া শ্বাসের শব্দ।

​শ্রাবণ আলতো করে মেঘের চিবুক উঁচু করলো। দুই হাতের অঞ্জলিতে মেঘের মুখখানি তুলে ধরতেই মেঘ লজ্জায় চোখের পাতা দুটো শক্ত করে বুজে ফেলল। ​শ্রাবণ মেঘের খুব কাছে এসে ফিসফিস করে বললো,

​---- হেই বোকা'ফুল চোখটা খোলো। আমার দিকে তাকাও।

​মেঘ চোখ খুললো না, তার দীর্ঘ চোখের পাতাগুলো কাঁপছিল লজ্জায়। শ্রাবণ আর দূরত্ব বজায় রাখল না। ধীর পায়ে মেঘকে একদম দেয়ালের সাথে চেপে ধরে নিজের মুখটা নিচু করল।

​প্রথমে শ্রাবণের উষ্ণ ঠোঁট দুটো আলতো করে ছুঁয়ে গেল মেঘের কপালে, তারপর দুই বন্ধ চোখের পাতায়। শ্রাবণের প্রতিটি স্পর্শে মেঘের হাত দুটো শ্রাবণের শার্টের কলার আরও শক্ত করে চেপে ধরলো।

​পরের মুহূর্তেই শ্রাবণ নিজের ঠোঁট দুটো পরম ভালোবাসায় আর গভীর আকুলতায় সঁপে দিল মেঘের কাঁপতে থাকা ওষ্ঠাধরে। কোনো জোর-জবরদস্তি নেই, কেবল এক পবিত্র প্রেমময় সমর্পণ। মেঘের ঠোঁটের মৃদু কাঁপন শ্রাবণের গভীর স্পর্শে যেন এক অদ্ভুত শান্তিতে রূপ নিলো। এই তীব্র অনুভূতিতে মেঘের পুরো শরীর শিউরে উঠলো, সে নিজের সমস্ত সত্তা দিয়ে শ্রাবণের এই ভালোবাসাকে গ্রহণ করে নিলো। ​নিঝুম রাতের সেই চার দেয়ালে সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শ্রাবণ আর মেঘের ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ায় এতোটায় মগ্ন হলো যে দাম আঁটকে আসার উপক্রম হলো মেঘের। ​অনেকটা সময় পর শ্রাবণ মেঘের অবস্থা দেখে আলতো করে নিজের ঠোঁট সরিয়ে নিল, মেঘ তখনো চোখ খোলেনি। সে লজ্জায় আবার শ্রাবণের বুকে মুখ লুকালো। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছলো মেঘ। শ্রাবণ তাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

​শ্রাবণ মেঘের কানের কাছে ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বললো,

​---- ভয় পাচ্ছো? একটু আগে তো বেশ বাঘিনীর মতো গর্জন করছিলে!

​মেঘ কোনো কথা বলতে পারলো না, শুধু শ্রাবণের শার্টের কাপড়টা নিজের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরলো। তার এই নীরব আত্মসমর্পণ শ্রাবণের ভেতরের সবটুকু ভালোবাসা জাগিয়ে তুললো। সে আর দূরত্ব বজায় রাখল না। পরম যত্নে মেঘকে নিজের বুকের মাঝে টেনে নিল। ​এতদিনের চেনা শ্রাবণকে আজ যেন একদম নতুন রূপে আবিষ্কার করছে মেঘ। কোনো জোর জবরদস্তি নেই, কেবল এক তীব্র আকুলতা আর ভালোবাসার অধিকার। মেঘও তার ছটফট করা মনটাকে শান্ত করে শ্রাবণের চওড়া বুকে মুখ লুকালো। শ্রাবণের শক্ত দুহাতের বাঁধন তাকে অদ্ভুত এক শান্তি দিচ্ছিলো। কেউ তাকে কেঁড়ে নিতে পারবে না এই বাঁধন থেকে। শ্রাবণ ঘোর লাগা কন্ঠে বলে উঠলো,

---- প্রিয় মেঘফুল আজ আপনি একান্তই আমার হয়ে যান। আমাদের মধ্যকার দূরত্ব হয়ে যাক ভালোবাসময় এক মুহুর্ত । ফিউচারে ছেলের বউ তো রেডি। বাট, উই হ্যাভ টু ব্রিং আওয়ার সন ইনটু দিস ওয়ার্ল্ড।

মেঘ অস্ফুটস্বরে বলে উঠলো,

---- অসভ্য পুরুষ.....

চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন