ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্রাবণ মেঘের উপখ্যান

২৮তম পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম লিজা

#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান —২৮

#তাসনিম_লিজা

---- কপি নিষিদ্ধ!

---- শ্রাবণ শিকদার বেশ ইন্টারেস্টিং চরিত্রে মানুষ তুমি। প্রখর বুদ্ধি, তীক্ষ্ণ চাহনিতে আমি কখনোই ধরা দিবো না তোমার সামনে। খুঁজে নাও আমাকে যেভাবে কেউ ভালোবাসলে হারিয়ে গেলে পাগলের ন্যায় খুঁজে। আমি ও সেই ব্যাবস্থায় করেছি তোমার জন্য। বিষয়টা ভিন্ন আমাকে তুমি ভালোবেসে নয় প্রতিশোধ নিতে খুঁজবে সেটা ও কম কিসের বলো তো? খুঁজছো তো আমাকেই। এজন্যই তো তোমায় এতো ভালো লাগে আমার। তবে এই খেলায় তোমার থেকে এক ধাপ এগিয়ে আছি আমি। যেমন তুমি চলো ডালে ডালে আর আমি চলি পাতায় পাতায়। আমাদের গল্পটা আর পাঁচটা মানুষের মতো সাধারণ নয়, এক অসাধারণ চরিত্রের মানুষের সাথে কি সাধারণ মানুষের মতো আচরণ যায়? উহুম! আমি তোমায় আমার ভেতরকার যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ করলাম তোমার কাছের মানুষগুলোকে সরিয়ে দিয়ে। মন শান্ত হচ্ছে না তবুও। কারন, কারন একটায় আমাকে যে তুমি মরণ যন্ত্রণার মতো কষ্ট দিয়েছো আমি সেটাই সম্পূর্ণটায় তোমায় ফেরত দিবো। তুমি মরার জন্য ছটফট করবে শ্রাবণ। সব হারিয়ে মরতে চাইবে তুমি। নিজ ইচ্ছেতে মরবে। মরে যাও শ্রাবণ। তুমি যেহেতু আমায় চাওনি মৃত্যু তো তোমাকেই চাইবে।

আমার নিঃশ্বাস থাকতে তুমি কেন আমায় না চেয়ে অন্য কাউকে চাইবে? সবার বেলায় কঠোর ছিলাম,

আর তোমার বেলায় শান্ত, নরম, তাই তো বুঝতে পারোনি ভালোবাসার মানুষের জন্য কি কি করা যেতে পারে। খুঁজো শ্রাবণ শুধু আমাকেই খুঁজো।

---- কাজটা একদম ঠিক হয়নি।

---- আমার ব্যাপারে কেউ কোনো ইন্টারফেয়ার করুক আমি সেটা পছন্দ করি না। আমার সিদ্ধান্ত,

আমার কথায় লাস্ট কথা। সবার দিক থেকে ভুল হলেও আমার দিক থেকে সঠিক। আমাকে জ্ঞান দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আউট!

---- ঠিক হচ্ছে না, ত...

---- বলছি তো বেরিয়ে যেতে। আমি আমার মতো থাকতে চাচ্ছি। মরণ খেলায় নেমেছি মৃত্যু হবে জেনেই, সো ভয় আর ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মতো বোকামি করে লাভ নেই। আমি অতোটা ও বোকা নয়। তাকে না পাওয়া আমার কাছে মৃত্যুর মতোই

যন্ত্রণার। বেঁচে থাকা না থাকায় কিছুই যায় আসে না আমাট কাছে।

---- একদিন ঠিকই পস্তাতে হবেই।

বেরিয়ে গেলো লোকটা।

----- হা হা আমি পস্তাবো ইম্পসিবল। পস্তাবে সে যে আমাকে হারিয়েছে, আমাকে কাঁদিয়েছে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে আমার স্বপ্ন ও অনুভূতিকে।

আমি তো শুধু তামাশা দেখবো। দেখবো সুন্দর পরিবারের ধ্বংস। এবার কার পালা বলো তো?

তোমাদের দেখে আমার বুকটা জ্বলছে বেশ তবে আফসোস ও হচ্ছে কখন না জানি কি হয়ে যায়।

ল্যাপটপ অফ করে দিলো। শ্রাবণ মেঘের সুন্দর মুহুর্ত সহ্য হলো না তার।

---- ছাড়বো না আমি। তোমার সুখ আমি পুরোপুরির জন্য শোকে পরিনত করবো শ্রাবণ শিকদার। হা হা হা।

__________________

অনেকদিন যাবত ভার্সিটি যাওয়া হয় না মেঘ ও শ্রাবণের। শ্রাবণের এক্সাম কিছুদিন পর। তার কোনো মনোযোগই নেই সেইদিকে। মেঘ রেডি হলো ভার্সিটি যাওয়ার জন্য। শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বললো,

---- চলুন

শ্রাবণ গম্ভীর গলায় বললো,

---- কেন পাগলামি করছো মেঘ? এখন যাওয়াটা কি খুব দরকার? কয়েকদিন না গেলে হয় না?

আমাকে কেন টেনশনে ফেলছো তুমি?

মেঘ শ্রাবণের হাত ধরে টানতে টানতে ডয়িংরুমে আনলো। শ্রাবণের চোখে কেবল ভয়।

---- আসুন তো ভয়ের কি আছে। আমাকে ও তো দেখতে হবে কে মারতে আসে। আমাকে যেতেই হবে সামান্য অজুহাতে কাজ হবে না।

মেঘের মনোভাব বুঝতে পারছে না শ্রাবণ। মেয়েটা কি চাইছে? থামিয়ে দিলো পা। মেঘ তাকালো বিরক্তিকর দৃষ্টিতে। বললো,

----- আবার দাঁড়ালেন কেন?

----- মেঘ হুমকিটার কথা ভুলে গিয়েছো তুমি?

মেঘ হাসলো। বললো,

---- সামান্য চিঠিতেই ভয় পেয়ে গিয়েছেন? এটা আদোও আপনি তো?

শ্রাবণ মেঘের হাত শক্ত করে ধরে বললো,

---- মেঘ আমি মোটেও মজা করছি না। বিশেষ করে বিষয়টি যখন তোমাকে নিয়ে। যেখানে বাবা মাকে ছাড়েনি সেখানে,

মেঘ শ্রাবণের হাতের উপর হাত রাখলো। চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে বললো,

---- আমি ও বিষয়টি কে হেলাফেলা করছি না মিস্টার। তবে আমার ভার্সিটিতে যেতেই হবে। যাই হোক না কেন। আপনি না চাইলে ও আমি যাবো।

---- জেদ করো না মেঘ।

---- জেদ তো আপনি করছেন।

----- তোমার জন্য।

---- আমি ও তো শুধু আপনার জন্য।

শ্রাবণ হতাশ হলো। বললো,

---- কেন এমন করছো কি করতে চাচ্ছো তুমি?

মেঘ মজা করে বললো,

---- প্রেম করতে চাচ্ছি মিস্টার। দেখি কাউকে পাই কি না।

শ্রাবণের রাগান্বিত দৃষ্টি দেখে মুচকি হাসলো মেঘ।

---- রাগ করার কি আছে? চলুন তো।

শ্রাবণ মেঘ বেরিয়ে গেলো বাসা থেকে। শ্রাবণের মাথায় আসছে না মেঘ কারণ ছাড়া তো, এতো জোর করার কথা না। সময় এবং পরিস্থিতি দেখে ও মেয়েটা পাগল হয়ে গিয়েছে যাওয়ার জন্য কেন? পার্সেল এসেছে হুমকির চিঠি এবং মেঘের কিছু পিক ও।

_________________

---- আসসালামু আলাইকুম আম্মু। কি করছেন আপনি ?

দোয়াকে দেখে মুচকি হাসলেন ফাইজা বেগম। বললেন,

---- ওয়ালাইকুম আসসালাম। বউমা তুমি এখানে?

কিচেনে আসছো কেন? তুমি ডয়িংরুমে বসো। আমি চা নিয়ে আসছি।

---- আমি চা খাবো না আম্মু। আমি তো আপনার সাথে গল্প করতে আসছি।

ফাইজা বেগম একটু ইতস্তত বোধ করলো। দিব্য ও

দোয়া সহ্যই করতে পারে না তাকে। দোয়াকে তার সাথে কথা বলতে দেখলে দিব্য আবার রাগ করবে না তো?

ফাইজা বেগমকে ভাবতে দেখে দোয়া জিজ্ঞেস করলো,

---- আপনি কি রাগ করেছেন আমার কথায়?

তাড়াহুড়ো করে বলে উঠলেন ফাইজা বেগম।

---- না না তেমন কিছুই না। তোমাকে এখানে দেখলে দিব্য রাগ করতে পারে। আমরা না হয় বিকেলে গল্প করবো। এখন রুমে চলে যাও। আমি চাই না আমার জন্য তোমাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা হোক।

দোয়া জানে কেন দিব্য ও দোয়েল পছন্দ করেন না

ফাইজা বেগমকে। হসপিটালের ঘটনার জন্যই এতো কিছু। নীরবে সম্মতি জানিয়ে চলে গেলো দোয়া। ঝগড়া ঝামেলা হোক সে চাই না। দীর্ঘ শ্বাস ফেলেন ফাইজা বেগম। নিজের কাজে মগ্ন হন তিনি।

দোয়া চলে এলো রুমে। দিব্য নেই রুমের মধ্যে। বেটা এখন সুস্থ আছে বেশ। তেজ ও কম না। দোয়া মুখ ভেঙছি কাটলো। বসে বসে ফোন চাপতে লাগলো।

কলিংবেলের শব্দে কিচেন থেকে সদর দরজার দিকে আসলেন ফাইজা বেগম। দরজা খুলতেই

সালাম দিলো তাসির,

---- আসসালামু আলাইকুম মা। ভালো আছেন?

ফাইজা বেগম হাসি মুখে সালামের উত্তর দিলেন,

---- ওয়ালাইকুম আসসালাম তাসির বাবা তুমি? ভেতরে আসো।

তাসির ভেতরে আসতেই ফাইজা বেগম হাঁক ছেড়ে ডাক দিলেন দোয়েলকে,

---- দোয়েল তাসির আসছে। কোথায় তুই? নিচে আয়।

আসো বাবা ভেতরে আসো।

তাসির হাসি মুখে ভেতরে আসলো। ফাইজা বেগম

খুশি হলেন। মেঘের বিয়ের দিন দেখেছিলেন তিনি তাসিরকে। বেশ ভালো সবার সাথে মিশে ছেলেটা।

আফসোস মেয়ের বিয়ের সময় তিনি থাকতে পারেনি। সম্পূর্ণটাই নিজের দোষ। তাসির মিষ্টির বক্স ও ফলমূলের প্যাকেট গুলো ফাইজা বেগমের হাতে ধরিয়ে দিলো৷

তাসির ডয়িংরুমে আসলো । দোয়েল এলো না।

ফাইজা বেগম বলেন,

---- তুমি বসো বাবা আমি দোয়েলকে নিয়ে আসছি।

---- জ্বি মা।

ফাইজা বেগম উপরে ছুটলেন মেয়ের রুমের দিকে।

দোয়েল পড়তে বসেছিলো অনেকদিন পর। মায়ের ডাক শুনলে ও জবাব দিতে ইচ্ছে করেনি। আর না ওই লোকটার সাথে কথা বলার ইচ্ছে।

---- দোয়েল তাসির আসছে। এভাবে বসে আছিস যে? যাবি না?

দোয়েল বিরক্ত হলো। বললো,

---- আমি যাবো না। আপনি ওনাকে বলুন চলে যেতে।

---- দোয়েল ও তোর হাসবেন্ড। ও আসবে না তো কে আসবে? কেন এমন করছিস?

দোয়েল হাসলো। বললো,

---- আপনাকে, কেন বলার মতো কোনো শব্দ আমার কাছে নেই। থাকলে অবশ্য আপনি খুশিই হবেন। আপনার সাথে আমার আকাশ পাতাল তফাত। আমাদের কষ্ট বিপরীতে আপনার ঠোঁটে ফুটে ওঠে জয়ের হাসি।

---- কেন বারবার আমাকে কথা শুনাচ্ছিস দোয়েল? আমি তো আমার ভুল বুঝতে পেরেছি।

ফাইজা বেগম এর অসহায়ত্ব গলার স্বরে মন গলেনি দোয়েলের সে বললো,

---- না চাইলে ও আসবেই কথাগুলো। কারন গুলো যে আমাদের জীবনটাকে ঘীরেই ঘুরছে। এর শেষ কোথায় জানি না আমি। আদোও এই মারপেঁচ গুছবে বলে মনে হয় না।

ফাইজা বেগম হাত জোর করে বলেন,

---- দয়া করে আমাকে পরে অপমান অপদস্ত করিস ছেলেটা তোর সাথে দেখা করতে আসছে আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি উপরে।

---- না আমি ওনার কাছে যাবো, আর না ওনি এখানে আসবে। চলে যেতে বলবেন ওনাকে।

---- আমার সাথে রাগ করে ছেলেটাকে কষ্ট দিবি কেন?

দোয়েল নিজের মতো করে বইয়ের দিকে নজর দিলো। বললো,

---- সবকিছুতে নিজেকে টানবেন না। আপনি আসুন এখন। আমাকে একা থাকতে দিন।

ফাইজা বেগম ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। নিচে আসতেই মুখে হাসি টেনে বলেন,

---- তুমি বসো বাবা আমি তোমার জন্য...

---- আমার কিছুই লাগবে না মা৷ আপনি ব্যস্ত হবেন না প্লিজ। আমি শুধু দোয়েলের সাথে দেখা করতে এসেছি। দেখা করেই চলে যাবো।

ফাইজা বেগম ম্লান স্বরে বললো,

---- ও তো দেখা করতে চাচ্ছে না তোমার সাথে। রাগ করেছে হয়তো মেয়েটা।

তাসির মৃদু হাসলো। বললো,

---- আপনি চিন্তা করবেন না মা। আমি যাচ্ছি ওর কাছে।

আটকালো না ফাইজা বেগম। বললো,

----- শিড়ি দিয়ে উপরে যাবে, ডান দিকের শেষের রুমটা দোয়েলের রুম।

তাসির দ্রুত পা চালিয়ে শিড়ি দিয়ে উপরে যেতে লাগলো।

দোয়েল ফাইজা বেগম যাওয়ার পর যদি তাসির আসে এই ভেবে দরজা লাগিয়ে দিতে, চেয়ার ছেড়ে দরজার কাছে আসতেই দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো তাসির।

---- পালানোর চেষ্টা করছো কেন দোয়েলপাখি?

দোয়েল রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকায়। বিরক্ত হয় বেশ।

কাঠকাঠ গলায় বলে উঠলো,

---- কেন এসেছেন আপনি? বারণ করার পর ও নির্লজ্জের মতো চলে এসেছেন। লজ্জা করে না আপনার?

---- বউয়ের কাছে স্বামী আসবে নির্লজ্জের কি আছে বলো তো?

দরজায় হাত ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাসির। যেনো দোয়েল দরজা না লাগাতে পারে। দোয়েল

কটাক্ষ করে বলে উঠলো,

---- আপনাকে আমি মানলে তো, চলে যান আপনি। আপনার সাথে কথা বলার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।

---- মানিয়ে নিবো নো প্রবলেম। আমার কিন্তু ধৈর্য্য আছে বেশ। তাই হয়তো তোমার মতো মেয়েকে আমার সাথে জুড়ে দিয়েছে সৃষ্টিকর্তা।

---- আপনার লেকচার শেষ হলে বিদায় হন তো।

আমাকে ডিস্টার্ব করছেন কেন?

তাসির হাহাকার করে বললো,

---- বউ ছাড়া থাকছি,খাচ্ছি, ঘুমোচ্ছি। কল দিলে রিসিভ করে না বউ, কথা বলতে চাই না সে আমার সাথে। বিয়ে করার তিনদিন পর বউকে একপলক দেখতে আসছি তাও তাড়িয়ে দিচ্ছে সে আমায়। সাবানাকে বিয়ে করলাম নাকি রিনা খান বুঝতে পারছি না।

---- চুপ করুন আপনি। সাবানা নই আমি। আমি রিনা খানই শুনেছেন আপনি? এবার চলে যান ছাড়ুন দরজা লক করবো আমি।

---- এভাবে কেউ জামাইকে অপমান করে?

---- আমি করি আর করবো ও।

---- আসসালামু আলাইকুম দুলাভাই। আপু বোধহয় আপনার উপর রেগে আছে। তাই এমন করছে। আপনি ভুল বুঝবেন না আপুকে। সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রথম প্রথম এমনই হয়। আমার ও একই অব....

---- চুপ করো ইস্টুপিট মেয়ে।

তাসির দোয়েল দুজনেই তাকালো সেইদিকে। দিব্য রেগে তাকিয়ে আছে দোয়ার দিকে। দোয়া ভীত চাহনিতে তাকায় দিব্যর দিকে। আশা করেনি সে দিব্য এখানে আসবে। দোয়া তো কেবলই বের হয়েছিলো রুম থেকে। তাসিরকে সে চিনে। হসপিটালে দেখেছিলো সে, এখন শুধু আন্দাজে ডিল মারলো। ভুল বলেছে নাকি এই ভেবে ও টেনশন হচ্ছে দোয়ার।

দরজা থেকে হাত সরিয়ে দূরে সরে দাঁড়ালো তাসির। দোয়েল নিজেকে সামলে নিলো৷ তাসির দিব্যকে দেখে সালাম দিলো,

---- আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া ভালো আছেন?

দিব্য সালামের উত্তর দিলো। বললো,

---- কখন এসেছো তাসির? কি অবস্থা তোমার?

---- মাত্রই আসলাম। আলহামদুলিল্লাহ ভালো ভাইয়া।

দিব্য মৃদু রাগ দেখিয়ে দোয়েলকে বললো,

---- দোয়েল তাসিরকে নিয়ে রুমে যা। বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিস কেন?

মন না চাইলে ও দোয়েল বললো,

---- ভেতরে আসুন।

মনে মনে হাসলো তাসির। ভাইয়ের কারনে এতো সুন্দর করে আমন্ত্রণ জানালো তাকে। আর এতোক্ষণ কি তাড়ানোটায় না তাড়ালো৷

দিব্য চলে গেলো। দিব্যর চোখ রাঙানি দেখে দোয়া ও চলে আসলো বকতে বকতে।

---- হার মানতেই হলো তাহলে মিসেস তাসির ,

---- মানতে নয় বরং ভাইয়ার সমানে একটু সম্মান দিলান। দয়া করলাম আরকি।

তাসির দোয়েলের রুমে সিঙ্গেল সোফায় এসে বসলো। দোয়েল বিরক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো এক পাশে। তাসির গম্ভীর স্বরে বললো,

---- ফোন ধরছো না কেন?

দোয়েলের নির্লিপ্ত কণ্ঠ,

---- ইচ্ছে করেনি।

---- বিয়েটা করেছো কেন?

আগের ন্যায়,

---- দয়া বলতে পারেন। আপনাকে দয়া করলাম বুঝলেন?

তাসির হাসলো দোয়েলের দিকে তাকিয়ে। দোয়েল

বোকা বনে গেলো। বললো,

---- হাসছেন কেন?

---- আপনার দয়ায় আমি ধন্য হলাম দোয়েলপাখি।

এভাবেই দয়া করে যাবেন এই বান্দার উপর। যতোক্ষণ না নাতিপুতিদের মুখ দেখছি।

দোয়েল রেগে ফুঁসে ওঠলো,

---- চুপ করুন আপনি। একটু লাই পেলেই চড়ে বসেন আপনি। যান বের হয়ে যান।

তাসির দাঁড়িয়ে গেলো। বললো,

---- অবশ্যই যাবো দোয়েলপাখি। তবে আমার সাথে আপনাকে না বেরিয়ে যেতে হয়, বাপের বাড়ি থেকে।

ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো দোয়েল। বললো,

---- মানে?

---- মানে একটাই, আমার সাথে যাচ্ছো তুমি।

---- আমি যাবো না।

---- যাবে তুমি।

---- বলছি তো যাবো না। সেদিন তো বলেছিলেন

আমি এখানেই থাকবো বছর দুয়েক। এখন এমন করছেন কেন?

তাসিরের সোজাসাপ্টা কথা,

---- বউ যদি তার কথা না রাখতে পারে তাহলে আমি কেন বউয়ের কথা রাখবো?

বুঝলো না দোয়েল। বললো,

---- মানে? আমি কি কথা দিয়েছি?

---- আমাদের মধ্যকার সুন্দর সম্পর্ককে তুমি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছো। আমাকে মানতে পারছো না। সো ভেবে দেখলাম বউকে তার শশুর বাড়িতেই মানায়

নট বাবার বাড়ি। বাবা ও শশুর আব্বার সাথে আমার কথা হয়ে গিয়েছে। তাদের কোনো আপত্তি নেই। ইভেন ভাইয়া ও সায় দিয়েছে। কোথায় যাবে পাখি? পিঞ্জর ছেড়ে?

দোয়েল অবাক হলো। এতো মানুষের সামনে বলা কথা দুদিন যেতে না যেতেই এভাবে ভঙ্গ করলো?

বললো,

---- আমি যাবো না যে যা বলুক। আপনি চলে যান।

তাসির জোর করলো না। বাইরে বেরিয়ে এলো।

কথা তো এখানে না, কথা তো দিব্যর সাথে বলবে সে। যার কথা শুনতে বাঁধ্য তার দোয়েলপাখি। পাখি মনের কথা না শুনলে, এই মুহুর্তে মনের কাঁচায় বন্দি করায় শ্রেয়।

__________________

গাড়ি থেকে নেমে কিছুদূর যেতেই মেঘ শ্রাবণের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো,

---- ওই তো আপনার বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছে। আপনি ওইদিকে যান আমি ক্লাসে যাচ্ছি।

শ্রাবণ কিছু বলতে নিলে থামিয়ে দিলো মেঘ। বললো,

---- আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না। আমি সাবধানে থাকবো। আপনি যান প্লিজ।

শ্রাবণ ব্যর্থ হয়ে সেদিকেই রওনা দিলো। যেতে যেতে বললো,

---- যদি কিছু হয় একদম মেরে ফেলবো বলে রাখলাম।

মেঘ হাসলো। পা বাড়ালো ক্লাস রুমের দিকে। কয়েক কদম যেতেই আচমকা সামনে এসে দাঁড়ালো মাহিরা। মন খারাপ ছিলো তার মেঘ আসেনি বলে এতোদিন। নাম্বার ও নেই তার কাছে।

প্রতিদিন অপেক্ষা করতো বাইরে দাঁড়িয়ে কখন মেঘ আসবে। তবে আজ মন খারাপ উধাও হয়ে গেলো। খুশিতে গদোগদো হয়ে বলে উঠলো,

---- বান্ধবী তুমি ভার্সিটির সবার পছন্দের মানুষ শ্রাবণ ভাইয়ার বউ? সত্যি?

মেঘ মাহিরার হাত ধরলো। হাঁটতে হাঁটতে বললো,

---- তোমার ও পছন্দের লিস্টে ছিলো বুঝি?

মাহিরা লাজুক হাসলো। মিনমিনে স্বরে বললো,

---- সবাই তো এমন মানুষই চাই। তুমি খুব লাকি।

মেঘ হাসলো। বললো,

---- উপরের রং সৌন্দর্য দেখে পছন্দ করাটা বোকামি। সব সৌন্দর্য জীবনকে ভালো রাখে না। ভালো থাকতে হলে সৌন্দর্য না, ভালো রাখার মতো মানুষকে বেছে নিতে হয় বুঝলে বান্দুবি।

---- ঠিক বলেছো তুমি। প্রিন্সিপাল স্যার ও ওনার ওয়াইফ মানে শ্রাবণ ভাইয়ার মা বাবার মৃত্যুর কথা শুনে অনেক খারাপ লাগলো। কিভাবে হলো মেহেরিন?

মেঘ খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললো,

---- জানি না কেন এমন হলো, কে-ই বা করলো। তবে শিগগিরই আসল খুনি সামনে আসবে।

---- মন খারাপ করো না। চলো ক্লাসে যাই।

মেঘ ও মাহিরা ক্লাসে চলে গেলো। শ্রাবণ এতোক্ষণ পিছু পিছু এসেছিলো। মেঘ ক্লাসে যাওয়ার পর সে চলে যায়। মেয়েটার মনের মধ্যে কি চলছে সেটাই বুঝতে পারছে না শ্রাবণ। তবে মেয়েটা কিছু না কিছু করবেই তার ধারনা যদি সত্যি হয় তাহলে আজই একটা কিছু হবে। তবে একটাই ভয় মেঘের যেনো কিছু না হয়।

---- ভয় পাচ্ছিস কেন? এখানে কারোর সাহস হবে মেঘের ক্ষতি করার?

রাতুল শ্রাবণের কাঁধে হাত রেখে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করলো। শ্রাবণ শান্ত গম্ভীর হয়ে বসে আছে।

সন্দেহের তালিকার লিস্টটা যে অনেক বড়। কে হতে পারে? পুলিশ ও কোনো তথ্য দিতে পারলো না এই বিষয়ে। রাতুলের কথা কানে গিয়েছে কি না সন্দেহ। রামিম রিফাত চিন্তিত। শ্রাবণের সাথে এমনটা হবে কল্পনার বাহিরে। কারোর জন্য সাহায্য ব্যথিত ক্ষতি করার কথা ভাবেনা ছেলেটা আর তারই এতো বড় শত্রু তৈরি হলো যে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলোকে তার থেকে কেঁড়ে নিলো। শ্রাবণ শান্ত আছে তো? নাকি অন্যকিছু ভাবছে যেমনটা ঝড় আসার পূর্বভাসের নীরবতা।

---- কিরে?

হকচকিয়ে উঠলো শ্রাবণ। বললো,

---- হ্যা বল।

রামিম বললো,

---- কি ভাবছিস এতো? পুলিশ কিছু জানিয়েছে?কোনো...

---- নাহ।

---- জিসানের কল লিস্ট? লোকেশন কোথাও কোনো ক্লু নেই?

শ্রাবণ হাসলো বিষাদের হাসি। বললো,

---- সে পারফেক্ট খেলোয়ার রিফাত। আমাদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে। না হলে একজনের স্বীকার আরেকজন কিভাবে স্বীকারি করে ?

---- এভাবে কতদিন অন্যায় যেহেতু করেছে ধরা পড়বেই। হয়তো আমরা নয়তো তার ভুলেই সে ধরা পড়বে।

---- জ্যান্ত কবর দিয়ে দিবো জাস্ট পাই একবার।

মৃত্যু নিয়ে খেলা আমার সাথে শুরু যেহেতু করেছে এর শেষ অব্দি আমি ও খেলে যাবো পিছপা হবো কেন?

---- টেনশন করিস না শ্রাবণ ধরা তাকে পড়তেই হবে। তারপর দেখবি পুলিশ ও খুঁজে পাবে না।

শ্রাবণ একই জায়গায় বসে অপেক্ষা করতে লাগলো মেঘের জন্য।

______________________

ডয়িংরুমে বসে আছেন আহমেদ বাড়ির সবাই। জাহিদ আহমেদ শ্রাবণদের বাসায় ছিলো। জাহাঙ্গীর আহমেদ এর কথায় এই বাসায় এসেছেন। জাহিদ আহমেদকে দেখে ফাইজা বেগম শব্দ করে কেঁদে উঠলেন হাত জোর করে মাফ চাইলেন। জাহিদ আহমেদ দূরে সরে আসলেন। বললেন,

---- আপনি আপনার ভুল বুঝতে পেরেছেন এতেই অনেক। যার জন্য আপনাকে শাস্তি দিবো তাকে কি আর ফিরে পাবো? আমার একটাই লক্ষ দিব্য ও দোয়েল তারা যেনো আমার মেঘের মতো মা ছাড়া না থাকে। মেয়েটা মা পেয়ে ও আবার হারিয়ে ফেললো। কি যে হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

কান্না থামিয়ে ফাইজা বেগম বলেন,

---- কে বলেছে মেঘের মা নেই আমি কখনোই ওর সাথে খারাপ ব্যাবহার করবো না। আমি বুঝতে পারিনি মেঘের কষ্টটা। আমি ওকে আগলে রাখবো দোয়েল দিব্যর মতো।

---- এটাই তো সন্তানরা চাই তার মায়ের কাছে।

ফাইয়াজ কেবলই বাড়ির চৌকাঠে পা রেখেছিলো ওমনি কানে ভেসে এলো কথাগুলো। সবারই সব হারিয়ে সব হলো। আর তার সব হারিয়ে সব উধাও হয়ে গেলো পাওয়ার কিছুই রইলো না। কষ্ট নেই ওসব এখন অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। ফাইজা বেগম বিষন্ন স্বরে বললো,

---- আমাকে কেন কষ্ট দিচ্ছিস বাপ? আমি তো তোকে দূরে সরাতে চাইনি। তুই নিজেই তো দূরে সরে গিয়েছিস।

ফাইয়াজ দিব্যর পাশে এসে বসলো। ফাইজা বেগমের কথা শুনে পাত্তা দিলো না অচেনা মানুষ মনে হলো।

মর্মাহত হলো ফাইজা বেগম। সবাই তাকিয়ে আছে। তবে আজ লজ্জা লাগছে না ফাইজা বেগম এর নিজের অপরাধ স্বীকার করতে। ফাইয়াজ তাসিরের দিকে তাকিয়ে বললো,

---- আমার বোনটা তো যেতে চাচ্ছে না কি করা যায় বলো তো তাসির?

তাসির মাথাটা হালকা নিচু করে বললো,

---- আপনারা বললে যাবে সে। সেই দায়িত্বটা আমি আপনাদের দুই ভাইয়ের উপর ছেড়ে দিলাম।

দিব্য বললো,

---- ও কষ্ট পাচ্ছে তো। যেতে চাচ্ছে না কান্না করছে।

দোয়েল ও এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে। সত্যিই মেয়েটা কান্না করছে। মেঘের চেয়ে নরম মনের দোয়েল। যাওয়ার কথা ভাবতেই পারছে না সে।

তাসির লজ্জা সরমের কথা ভুলে গিয়ে সবার সামনে বলে উঠলো,

---- তাহলে তো দেখছি ঘর জামাই থাকতে হবে৷

দিব্য ভাইয়া ফাইয়াজ ভাইয়া আপনাদের বোন কি

সেটা চাই?

দোয়েল চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে তাকালো তাসিরের দিকে। মনে মনে হাজার কয়েক কথা শুনালো। ছিহ! লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে বসে আছে ছেলেটা। ইচ্ছে করছে সব গুলো চুল ছিড়ে ফেলতে। এই গোবর মাথায় শুধু চুলগুলোই আছে বুদ্ধির ব ও নাই। বেক্কল জামাই একটা। রেগে বলে উঠলো দোয়েল,

---- আমি যাবো এতো কথা বলতে হবে না।

রেগে বলে গটগট পায়ে উপরে চলে গেলো দোয়েল

সবাই হেসে উঠলো। জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন,

---- তাহলে তো আর কোনো সমস্যা রইলো না।

ভেবে ছিলাম আনুষ্ঠানিকতার সাথে মেয়েকে পাঠাবো আর কিছুদিন পর তা আর হলো না। মেঘের বিয়েটা ও হুট করেই হয়ে গেলো।

তাসির সাথে সাথে বলে উঠলো,

---- চিন্তা করবেন না বাবা আরেকজন তো আছেই

ফাইয়াজ ভাইয়ার বিয়ে না হয় আনুষ্ঠানিকতার সাথে বউকে বরন করবেন।

ফাইজা বেগম এর মুখে হাসি ফুটলেন। স্বপ্ন ওনার ও আছে। সবাইকে আগলে রাখলে ও হেলাফেলা করছেন পেটের ছেলের প্রতি। মায়ের প্রতি ছেলের এতো এতে অভিমান যে মাকে অপমান করে ও শান্তি পায় না ছেলেটা। ফাইয়াজ গম্ভীর গলায় বললো,

---- বিয়ে তাও আমি? বিয়ে টিয়ে করে কিছুই হয় না। তাসির আমার বোনকে কখনোই কষ্ট দিবা না। যদি শুনেছি তাহলে কিন্তু আমি বোনের জামাই দেখবো না।

তাসির বিরবির করলো,

---- বোন যে কষ্ট দিচ্ছে সেটা কে দেখবে? আমি কষ্ট দিবো? আমি?

---- কিছু বললে তাসির?

দিব্যর কথা তাসির বললো,

---- না না ভাইয়া।

জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন,

---- তাসির তোমার বাবা মাকে ফোন দাও। দুপুরে একসাথে খাওয়া দাওয়া করে বিকেলে নিয়ে যেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

---- আচ্ছা বাবা।

তাসির উঠে দাঁড়ায়। একটু দূরে গিয়ে বাবার ফোনে

কল করলো।

_______________

---- মাহিরা তুমি ক্লাস করো আমি একটু আসছি।

---- কোথায় যাবে? ইম্পর্ট্যান্ট ক্লাস তো এটা।

মেঘ দাঁড়িয়ে গেলো। মাহিরাকে বললো,

---- ক্লাসটার থেকে কাজটা বেশি জরুরি আমার জন্য। তুমি ক্লাস করো। আমি এসে পড়বো কিছুক্ষণের মধ্যেই।

---- আচ্ছা যাও।

মাহিরার থেকে বিদায় নিয়ে ক্লাসের বাহিরে এসে চোখ বুলালো। শ্রাবণকে দেখতে লাগলো। নেই কোথাও। বেরিয়ে গেলো চুপিসারে।

---- আসসালামু আলাইকুম সিনিয়র আপু।

---- তুমি এখানে কেন এসেছো?

রেগে বললো কনক। মেঘ হাসিমুখে বললো,

---- রাগ করছেন কেন আপু? আমি তো আপনাকে একটি সুসংবাদ জানাতে আসছি।

কনক বান্ধবীদের দিকে তাকালো৷ ইশারায় চলে যেতে বললো। দুটো মেয়ে চলে গেলো তাদের কাছ থেকে৷ কনক বললো,

---- আমার থেকে শ্রাবণ ভাইয়াকে কেড়ে নিয়ে আর কি সুসংবাদ বাকি রেখেছো তুমি?

মেঘের কন্ঠ এবার তীক্ষ্ণ হলো। বললো,

---- খেলাটা তো দুর্দান্ত খেলছেন আপু। একদম মৃত্যুপুরী বানিয়ে দিয়েছেন শিকদার বাড়িটাকে। যাইহোক তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। আমাকে আমার প্রাপ্যটা বুঝিয়ে দিলেই হবে।

কনক বুঝলো না৷ বললো,

---- মানে? আমি কি করেছি? আর কি চাচ্ছো তুমি?

মেঘ বললো,

---- আমার কাছে লুকানোর কিছুই নেই আপু। আমি ওনাদের জন্য নিজের জীবনটা নষ্ট করতে চাই না। আর না শ্রাবণকে ভালোবাসি। ওনি তো আমায় জোর করে বিয়ে করেছে। আমার স্বপ্ন তো অন্য। আমি চাই শ্রাবণের সব প্রোপার্টি আমার হোক। আর শ্রাবণ তোমার হোক। আমি বিরক্ত ওনার যত্নে। আমি আর নিতে পারছি না এসব আধিক্যেতা।

কনক বিশ্বাস করলো না মেঘের কথা। হাসলো সে বললো,

---- মজা করতে এসেছো তুমি? তুমি শ্রাবণ ভাইয়াকে ছেড়ে দিবে?

সিরিয়াস হলো মেঘ। বললো,

---- মজা করবো কেন আমি? আপনি আমায় মারতে চান আর আমি শ্রাবণের থেকে মুক্তি চাই। ভালোভাবে বাচঁতে চাই আমি। আর শ্রাবণের প্রোপার্টি না শুধু ওর বাড়িটা আমার নামে চাই। এতেই আমি খুশি।

কনক কিছুক্ষণ চুপ রইলো। অতঃপর বললো,

---- শ্রাবণ ভাইয়া তোমায় ছাড়বে?

---- শ্রাবণ আমায় ছাড়বে সে আশায় কি আপনি বসে আছেন? বাবা মাকে তো শেষ করেই দিয়েছেন। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই কিন্তু,

আমি মরতে চাই না। আমি আগেই আপনাাের মধ্যে থেকে বের হয়ে যেতে চাই।

---- আমি মারতে যাবো কেন? আজব কথাবার্তা বলছো কেন?

---- আপনি ছাড়া তো শ্রাবণকে কেউ ভালোবাসে না। আমার কাছে লুকাতে হবে না। আমি এমনিতেই চলে যাবো।

কনক কিছু ভাবলো। তারপর বললো,

---- তুমি শিউর তুমি শ্রাবণ ভাইয়াকে ছেড়ে দিবে?

আচ্ছা আমি তোমায় বাড়িটা না, এক কোটি টাকা দিবো। তুমি এই শহর ছেড়ে চলে যাবে।

মেঘ সাথে সাথে বলে উঠলো,

---- তার মানে আপনিই বাবা মাকে মেরে ফেলেছেন সিনিয়র আপু?

চলবে,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন