#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান — ২৯
#তাসনিম_লিজা
---- কপি নিষিদ্ধ!
এগারোটা পাঁচ মিনিটের মধ্যে আপনি ভার্সিটির পেছনের দিকে চলে আসবেন। চুপচাপ এবং একা আসবেন।
টেক্সটটা সেন্ড করেছে অনেক আগে মেঘ। শ্রাবণ টেনশনের কারনে খেয়াল করতে পারেনি। হঠাৎ শ্রাবণের মামাতো বোন তাসফিয়ার কল আসায় দেখতে পেলো সে। সময় খুবই কম। এখন সময় এগারোটা তিন মিনিট সবার মধ্য থেকে দ্রুত ছুটলো ভার্সিটির পিছনের দিকে। সবাই তাকিয়ে রইলো।
পিছনে আবার বন্ধুরাও গেলো। কি হয়েছে এই ভেবে।
___________________
---- হ্যা হ্যা মেরেছি আমি। বেশ করেছি মেরেছি। এখন তোমাকে ও মারবো৷ শ্রাবণকে আমি ছাড়া কেউ ভালোবাসতে পারবে না৷ আম...
থেমে গেলো কনক। রাগের তোপে তো সব মুখ ফসকে বলে ফেললো এখন উপায়? সত্যিটাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে কনক আমতা আমতা করে ফের বলে উঠলো,
---- না মানে আমি জানি না। আমি কেন এমন একটা কাজ করবো বলো? তাও বাবার ফ্রেন্ডকে
ইম্পসিবল। আমি আসছি।
মেঘ ছোঁ মেরে হাত ধরে ফেললো কনকের। বললো,
---- কোথায় যাচ্ছেন সিনিয়র আপু? আমাকে এক কোটি টাকা দিবেন না? থাক এক কোটি টাকা দিতে হবে না। কিন্তু, আপনার তো পালানোর পথ বন্ধ। ওসি সাহেব আপনারা বাইরে আসুন। আসল অপরাধী তার অন্যায়ের স্বীকারোক্তি দিয়ে দিয়েছে। এখন ওনার নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় হয়েছে।
কনক তাকালো চারদিকে কয়েকজন লোক বেরিয়ে আসলো তাও ছদ্মবেশে। পুলিশ নাকি ভার্সিটির কেউ চেনার উপায় নেই। কনক নিজের বিপদ টের পেয়ে দ্রুত ব্যাগ হাতরে ঘান বের করলো। তৎক্ষনাৎ মাথায় ঠেকালো মেঘের। হেসে উঠলো কনক। বললো,
---- মেঘ আমার হাত ছাড়ো। আর ওদেরকে বলো ঘান মাটিতে রেখে চলে যেতে। নয়তো সারিফ শিকদার ও সুমনা রাহমান এর মতো তোমার নামটা ও মুছে যাবে এই ধরনীর বুক থেকে। বিশেষ করে শ্রাবণের মন থেকে। তোমার শোকে বেচারা এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে। তুমি কি তা চাও?
মেঘ সতর্কতার সাথে হাত ছাড়িয়ে নিলো। পুলিশ নিজেদের ঘান নিচে রেখে দিলো দ্রুত । ওসি সাহেব কনককে শান্ত হতে বললো,
---- আপনি প্লিজ শান্ত হন। আমরা আপনার কোনো ক্ষতি করবো না। ওনাকে ছেড়ে দিন। নয়তো,
মেঘ কনকের উদ্দেশ্যে বললো,
---- আমাকে ঘান তাক করে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন না সিনিয়র আপু। দু-দুটো জলজ্যান্ত মানুষকে মেরে ফেলেছেন এতে সহজে বেঁচে যাবেন কি করে বলুন তো? আজ হোক কাল পানিশমেন্ট আপনি পাবেনই।
কনক ফুঁসে ওঠে বললো,
---- বেশ করেছি মেরেছি। শ্রাবণকে আমি ভালোবাসতাম। কত মেয়েকে তাড়িয়েছি, অত্যাচার করেছি শ্রাবণের দিকে তাকাতো বলে। তাকে বলেছিলাম একদিন ভালোবাসি আমি তাকে। সে তারপর থেকে আমাকে এড়িয়ে চলে। আমি মেনে নিয়েছিলাম। ধীরে ধীরে হয়তো সে ও আমাকে মেনে নিনে ভালোবাসবে। অপেক্ষা করতাম সবসময়। আমি সব মানতে পারতাম। কিন্তু, আমাকে রেখে সে তোমাকে বিয়ে করেছে। তাও আমার অজান্তে। আমি তবুও রাজি ছিলাম। আমি শ্রাবণের সুখ দেখতে চেয়েছিলাম। শ্রাবণকে ও চেয়েছিলাম। তুমি ছিলে শ্রাবণের সুখ আর আমার জীবন ছিলো শ্রাবণ। সে আমায় বুঝলো না। প্রতিনিয়ত এড়িয়ে যেতো। অবহেলা করতো। আমি
মানতে পারিনি। ওকে জাস্ট উপলব্ধি করিয়েছি আপন মানুষ হারালে কতটা যন্ত্রণা হয় মনের মধ্যে। এতো কথা বলছি কেন? এবার তোমার পালা। মরবো যখন তোমাকে নিয়েই মরি। শ্রাবণের ভালো নয় এখন আমি ওর কষ্ট দেখতে চাই। ওকে আমি না পেলে তুমি ও পাবে না।
---- আমাকে মেরে শ্রাবণকে পাবেন আপনি? এটাকে আদোও ভালোবাসা বলে? মানুষ খুন করে ভালোবাসার
উপলব্ধি করাতে চাচ্ছেন? আপনি সত্যি সত্যি পাগল হয়ে গিয়েছেন।
হাসলো কনক। বললো,
---- আফসোস থাকবে না। আমি না থাকলে তোমায় ভালোবাসবে। তোমরা ভালো থাকবে এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। পাগল বলো আর যাই বলো আমাকে থামাতে পারবে না।
মেঘ ব্যর্থ হলো। মেয়েটার জেদ তাকে এই অব্দি এনে দাঁড় করিয়েছে। সে আদোও বুঝতে পারছে না তার এই পাগলামির জন্য কতগুলো প্রাণ শেষ হলো। ইচ্ছে শক্তি
নেই তার মেরে ফেললে ফেলুক তাও এরেস্ট করুক
কনককে। মেঘ স্থির হয়ে রইলো। হঠাৎ কনক চেঁচিয়ে উঠলো,
---- প্লিজ এই ভুলটা ভুলেও করবেন না। ঘান নিচে রাখুন নয়তো মেঘ শেষ। আর তার জন্য দায়ী থাকবেন আপনারা।
একজন পুলিশ অফিসার ঘান তুলতে চেয়েছিলো।
কনক হালকা ট্রিগার চেপে ধরে আছে। একটু চাপ দিলেই কিছু একটা হয়ে যাবে। মেঘ ফের বললো,
---- আমাকে মেরে পালাতে পারবেন তো?
---- প্রয়োজন নেই। মরে যাবো৷
মেঘের আর কথা বলতে ইচ্ছে করলো না। শুধু বললে,
---- ফাইন মেরে ফেলতে পারেন। আমি রেডি। স্যুট মি!
কনক সত্যি সত্যিই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছালো। মেরে ফেলতে চাই সে মেঘকে। তার প্রিয় মানুষ এই মেয়েটির জন্য তাকে অবহেলা অবজ্ঞা করে। সে না থাকলে ঠিকই ভালোবাসতো। মেঘ চোখ বন্ধ করে ফেললো। হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেলো। মেঘ ভাবলো সে বোধহয় শেষ।
---- মেঘ!
কানে ভেসে এলো শ্রাবণের চিৎকার, কনক ও চিৎকার দিয়ে উঠলো তৎক্ষনাৎ।
---- নাআআআ! আমাকে বাঁচাও আমি বাঁচতে চাই। মেঘ বাঁচাও আমায়। ছটফট করতে করতে নিঃশব্দ হয়ে এলো কনকের কন্ঠস্বর। হাতপা নড়ছে না।
চমকে তাকালো মেঘ। মেঘের থেকে ছিটকে দূরে সরে পড়েছে কনকের নিথর দেহ । মুহুর্তের মধ্যে শ্রাবণ এসে মেঘকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলো। রেগে বলে উঠলো শ্রাবণ,
---- কে বলেছিলো একা একা পাকনামি করার?
যদি কিছু হয়ে যেতো?
শ্রাবণের হাত পা কাঁপছে। এতো কাঁপুনি মনে হচ্ছে ছেলেটার খিচুনি উঠেছে। মেঘ শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
---- ওরা তো মেরে ফেললো..
---- মেরে ফেলেনি ওরা তোমাকে বাঁচাতে স্যুট করতে বাধ্য হয়েছে। নয়তো তোমার কিছু.. বাদ দাও যে মানুষটা আমার মা বাবাকে মেরে ফেলেছে সে তার প্রাপ্য শাস্তিটায় সে পেয়েছে।
---- আপনাকে ভালোবাসতো!
---- একটা খুনি কখনো কাউকে ভালোবাসতে পারে না।
চলো মেঘ। এখানে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।
শ্রাবণ মেঘকে নিয়ে চলে গেলো। মেঘ যেতে যেতে কনকের নিথর শরীরটার দিকে তাকিয়ে রইলো।
পুলিশের এনকাউন্টারে কনকের সমাপ্তি ঘটলো। কারণ তাকে জীবিত রাখা মানে ছিলো মেঘের মৃত্যু। আর কোনো অপরাধীর জন্য নিরপরাধী শাস্তি পাবে কেন?
বাকিটা পুলিশের উপর ছেড়ে দেওয়া হলো। ইতিমধ্যে মানুষের ভীড় জমেছে জায়গাটায়। এম্বুলেন্স ডাকা হয় লাশ নেওয়ার জন্য। মেয়েটিকে সবাই অপছন্দ করতো বিদায় এবং দুটো খুন করায় কেউ আফসোস করলো না বরং খুশি হলো।
___________________
ভার্সিটি থেকে বাড়ি আসা অব্দি একটা বাক্য ও খরচ করলো না শ্রাবণ। মেঘ বার বার কথা বলার চেষ্টা করেছিলো লাভ হলো না। মেঘ বুঝতে পারে তারউপর বেজায় রেগে আছে শ্রাবণ। শ্রাবণ রুমে এসে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো। পেছনে এসে দাঁড়ালো মেঘ। ভয়ে ভয়ে পাশে এসে দাঁড়ালো সে।
মিইয়ে যাওয়া স্বরে বললো,
---- কথা বলছেন না কেন আমার সাথে?
শ্রাবণ কথা বললো না। মেঘ শ্রাবণের হাতের উপর হাত রাখতে গেলো হাত সরিয়ে নিলো শ্রাবণ। মেঘের মন খারাপ হলো। ফের বললো,
---- এমন করছেন কেন? আমি কি ভুল কিছু করেছি? আমি তো একা যায়নি পুলিশ ছিলো সাথে। কথা বলুন আমার সাথে।
শ্রাবণের রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকাতে পারলো না মেঘ চোখ নামিয়ে নিলো তৎক্ষনাৎ। শ্রাবণ তাচ্ছিল্য করে বলে উঠলো,
---- হ্যা তুমি তো একা যাওনি পুলিশ নিয়েছো কিন্তু,
আমাকে জানানো যাবে না। আমাকে জানালে তো খুনিকে ধরতে পারতে না তাই না?
---- আপনি যেতে দিতেন না। আর যদি বিশ্বাস না করেন তা...
---- আমি কিছুই শুনতে চাচ্ছি না। চোখের সামনে থেকে যাও মেঘ। মেজাজ খারাপ করো না।
মেঘের মুখটা কালো হয়ে গেলো শ্রাবণের কথা শুনে। অভিমান করে চলে যেতে নিলে শ্রাবণ হাত ধরে একটানে নিজের কাছে নিয়ে আসলো। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
---- বড্ড পাকনামি করা শিখেছো দেখছি। যদি ওই মেয়েটা তোমায় স্যুট করতো কি হতে পারতো ভাবতে পেরেছো তুমি? কতটা ভয় পেয়েছিলাম সেই ধারনা আছে তোমার? আমাকে কি হার্ট অ্যাটাক করে মারতে চাও?
মেঘ মাথা নিচু করে চুপ করে রইলো। তাই বলে এভাবে বলবে। অভিমান হলো মেঘের। বললো,
---- ছাড়ুন আপনি। আমি থাকাতে আপনার মেজাজ খারাপ হবে চলে যেতে দিন।
শ্রাবণ দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আর একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো মেঘকে। চুলের ভাঁজে চুমু খেলো।
বিরবির করে বললো,
---- এই নিঃস্ব জীবনের একমাত্র সম্বল তুমি। তোমার ছাড়া বেঁচে থাকি করে বলো তো আমি? অভিমান করো কিন্তু দূরে যাওয়ার কথা ভেবো না কখনো। শ্রাবণ মেঘকে ছাড়া যে বড্ড অসহায়।
মেঘ দুহাত বাড়িয়ে দিলো, জরিয়ে নিলো নিজের সাথে। অভিমানী স্বরে বলে উঠলো সে,
---- আমাকে দূরে সরানোর কথা বললে আমি সত্যি সত্যিই দূরে সরে যাবো। আমি আগেই বলেছি আমার সাথে এভাবে কথা বলবেন না আমার কষ্ট হয়।
শ্রাবণ মৃদু হাসলো। বললো,
---- আর কখনোই বলবো না প্রমিস৷
---- মনে থাকে যেনো।
---- ঠিক আছে মিসেস। আপনার কথা আমার আজীবন মনে থাকবে। নয়তো মনে করিয়ে দিবেন।
হেসে উঠলো মেঘ ও শ্রাবণ।
__________________
দুপুর দুটো বাজে। ইতিমধ্যে তাসিরের মা বাবা চলে এসেছেন। শুধু তারা নয় রিফাত, রাতুল, রামিমরা ও আসছে। জাহাঙ্গীর আহমেদ শ্রাবণ ও মেঘকে বলেছিলো। শ্রাবণ সাথে সাথে বারণ করে দিয়েছে। জাহিদ আহমেদ এতে কোনো আপত্তি জানায়নি। দিব্য বিয়ে করেছে জানার পর ও শ্রাবণ নিজের দিকটা বাদ দিলে ও দিব্য, শ্রাবণ ও মেঘকে দেখে কষ্ট পাবে মনের মধ্যে চেপে রাখা অসমাপ্ত অনুভূতিরা জেগে উঠার পায়তারা করবে। দিব্য মেঘের জন্য কতটুকু পাগল ছিলো তা শ্রাবণ জাহিদ আহমেদ এর মুখ থেকেই শুনেছে। শেষে শুধু তারা জানতো মেঘকে ছোট বোনের মতো আগলে রাখতো দিব্য। এই জায়গাতেই আঁটকে গেলো সবকিছু। তাসিরের রিকোয়েস্ট ও মানেনি
শ্রাবণ।
খাওয়াদাওয়া শেষ করে ফাইজা বেগম নিজের হাতে সুন্দর করে সাজিয়ে দেন দোয়েলকে। লাল বেনারসি পড়িয়ে, গহনা দিয়ে সাজিয়ে একদম বউ সাজে সাজিয়েছেন তিনি। মেয়েকে দেখেই কাজল টেনে নজর টিকা দেন। বলেন৷
---- মাশাল্লাহ! কারোর নজর না লাগুক।
দোয়েলের এতে কোনো ভাবান্তর হলো না। বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই দোয়েলের। আগে তো মেনে নিয়েছিলো কিন্তু, এখন তাসিরের এমন আচরনে অবাক হলো দোয়েল। রাগে শরীরটা জ্বলে উঠছে তার। সময় আর সুযোগের অভাব কেবল। তারপর হারে হারে টের পাবে দোয়েল কি জিনিস।
জাহাঙ্গীর আহমেদ তাসিরের হাতে নিজের মেয়েকে তুলে দিয়ে গাড়ি অব্দি পৌঁছিয়ে দিলো। দিব্য ও ফাইয়াজকে ধরে সেকি কান্না দোয়েলের। যেতে চাচ্ছিলো না মেয়েটা। দু'ভাই ও বোনের জন্য কাঁদছে। তাসিরকে বারবার বলে দিচ্ছিলো দোয়েল যেনো কষ্ট না পায়। দোয়া দূর থেকে দেখছিলো কত সুন্দর সম্পর্ক তাদের। ফাইয়াজ তো অনেক দূরের তবুও কত আগলে রাখে দোয়েলকে। তার তো ভাই নেই তাই সে জানে না এই ফিলিংসটা কেমন। দোয়েল প্রথমে পছন্দ করতো না ভাবতো তাদেরকে দেখতে পারে না ফাইয়াজ কিন্তু এই কদিনে বেশ আপন হয়ে গিয়েছে। দিব্য যেমন তেমন ফাইয়াজ যেনো আরো আপন।
গাড়ি চলছে তার নিজ গন্তব্যে।
---- ঝগড়া করুন তবুও আমার সাথেই থাকতে হবে দোয়েলপাখি। তাসির নামক পুরুষের মনের কাঁচায় বন্দি হয়ে।
দোয়েল কান্নারত চেহেরায় তাকায় তাসিরের দিকে
রেগে গলা টিপে দিতে নিচ্ছিলো সে।
---- এএএই কি করছো?
---- মেরে ফেলবো একদম৷ ফাজিল লোক একটা।
জীবনটা বরবাদ করে দিয়েছে একেবারে।
তাসির সিটে গা এলিয়ে দিয়ে বলে উঠলো,
---- বরবাদ তো তোমার অপেক্ষায় আমি হয়েছিলাম। এখন মনে হলো এলোমেলো তাসিরকে কেউ গুছিয়ে রাখবে নিজের মতো।
---- পাগল বানিয়ে পাবনায় পাঠিয়ে দিবো। গুছাবো খেয়ে দেয়ে কাজ নেই। আমার থেকে একশো হাত দূরে থাকবেন।
শব্দ করে হেঁসে উঠলো তাসির। তারা একদম লাস্টে বসেছে। সামনে বাবা মা। আর বন্ধুরা বাইকে করে যাচ্ছে।
____________________
একমাস পর......
শ্রাবণ ব্যস্ত তার অফিস ও এক্সাম নিয়ে। এক্সাম কিছুদিন পর। মেঘ ও নিজের সংসার এবং পড়াশোনা সব সামলাচ্ছে ব্যস্ত হাতে।
অন্যদিকে তাসির ও দোয়েলের সম্পর্ক আগের মতোই। তবে শশুর শাশুড়ীর সাথে তার বেশ ভালো সম্পর্ক। নিজেদের মেয়ের মতোই আছে। মাঝেমধ্যে বাবার বাড়িতে আসে। দোয়েলের সাথে মেঘের ও দেখা সাক্ষাৎ হয় ভার্সিটিতে। অভিমান নেই কেউ কারোর প্রতি। জাহিদ আহমেদ নিজের গ্রামে ফিরে গিয়েছেন। দোয়া দিব্য শুধু ঝগড়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। ফাইয়াজের জন্য অনেক পাত্রি দেখেছিলেন ফাইজা বেগম বারণ করে দেয় ফাইয়াজ। বিয়ে করবে না সে। দোয়েলের বিয়ের পর আহমেদ বাড়িতে আসা বন্ধ করে দিয়েছে ফাইয়াজ। মাঝেমধ্যে দোয়েলের সাথে দেখা করতে যায় তাও ভার্সিটিতে। বাড়ি যায় না সে।
---- এই যে মিস্টার আপনার কফি। এতোদিন পড়ার নাম নেই এখন এক্সামের চক্করে নাওয়া খাওয়ার সাথে আমাকে ও ভুলে বসেছেন দেখছি আপনি।
শ্রাবণ বইয়ে মনযোগ রেখেই বললো,
---- কফিটা রেখে যাও। তোমাকে দেখলে আমার পড়াশোনার বারোটা বাজবে মেঘফুল কিছুদিন তোমার থেকে দূরে থাকায় আমার জন্য ভালো।
মেঘ হেসে উঠলো। গেলো না বরং পাশে চেয়ার টেনে বসলো গালে হাত দিয়ে শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বললো,
---- বারোটা না তেরোটা বাজিয়ে দিয়েছেন আপনি আমার পড়াশোনার। মাথায় পড়াশোনা না আপনি ঘুরপাক খান প্রতিনিয়ত। কি তাবিজ করেছেন আপনি আমায়ম ?
শ্রাবণ বইটা নিঃশব্দে বন্ধ করে মেঘের মতো একই ভাবে তাকালো গালে হাত দিয়ে। গভীর দৃষ্টিতে,
বললো,
---- উইথ ব্লাক ম্যাজিক?
হো হো করে হেঁসে উঠলো শ্রাবণ। অতঃপর আগের ন্যায় গভীর ভাবে তাকিয়ে ধীর গলায় বললো,
---- আমি নই তুমি করেছো তাও তোমার ওই দুটো আঁখি দিয়ে। নেশার চেয়ে ভয়ংকর। আমাকে মেরে ফেলতে চাও তুমি?
দুজন দুদিকে বসে একই দৃষ্টিতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রয়েছে। মেঘ ঘোর লাগা কন্ঠে বললো,
---- এতো যত্ন, এতো ভালোবাসেন কেন আমায়?
বেখেয়ালি মন শুধু আপনাকেই খুঁজে বেড়ায়। কেউ কাউকে এতো ভালোবাসে? তাকে ছাড়া একা থাকা যায়? আচ্ছা আমি যদি না থাকি তাহলে আপনি কি করবেন?
মেঘের অদ্ভুত কথায় শ্রাবণের মুডের তেরোটা বাজিয়েই দিলো৷
---- মরার খুব শখ তাই না?
মেঘ দুষ্টুমি করে বললো,
---- হ্যা অনেক শখ আমার।
রেগে ফ্লোরের মধ্যে কফি মগটা আছাড় মারলো শ্রাবণ। মেঘ ভয়ে দাঁড়িয়ে গেলো সাথে সাথে। অস্ফুটস্বরে বলে উঠলো,
---- আমি তো ফান করছিলাম। এভাবে কেউ রিয়াক্ট করে?
শ্রাবণ নিজের চুলগুলো শক্ত করে কামছে ধরলো। মেঘের চলে যাওয়ার কথা শুনলে মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায়। চোখের সামনে ভেসে উঠে বাবা মায়ের রক্তাক্ত নিথর শরীরটা।
মেঘ ভয় পেয়ে যায়। সামান্য কথা দুষ্টমির ছলে বলেছে তাই বলে এতো রাগ দেখাবে? শ্রাবণ ওভাবেই বললো,
---- কেন বারবার আহত করো আমায়? আমি ভুলে থাকতে চাই হারানোর যন্ত্রণা। আমাকে কষ্ট দিও না মেঘ। আমার কষ্ট হয়। আমি তোমাকে নিয়ে ভালো থাকতে চাই। ভালো রাখতে চাই তোমায়। তোমার অযত্ন আমি মানতে পারি না। তুমি আমার খুব আদরের মেঘফুল। তোমায় অবহেলা করার মতো শক্তি আমার নেই। মানুষটা তুমি হলে ও মানুষটা আমারই। আমি আগলে রাখতে চাই আমার মতো করে। একই ভুল কেন বার বার করে আমায় আহত করো?
মেঘ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শ্রাবণের দিকে। সে যে কেন বারবার একই কাজ করে বুঝে পায় না। মেঘ করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিচু স্বরে বললো,
---- সরি এই কান ধরছি আর বলবো না।
তাকান না এইদিকে। কান ধরে উঠবস করবো?
শ্রাবণ হেসে উঠলো। মেয়েটার পাগলামি দিনদিন বেড়েই চলেছে। মেঘ ও হাসে। তার শ্রাবণ সহজে হাসে না।
মেঘ ভাঙা কাঁচ গুলো সাবধানে তুলে নিলো। ফেলে দিলো ডাস্টবিনে। ফের কফি নিয়ে আসলো।
---- ধরুন কফি।
---- খেতে ইচ্ছে করছে না খেয়ে নাও তুমি৷
শ্রাবণ পড়াশোনায় মনোযোগ দিলো মেঘ শ্রাবণের দিকে মনোযোগ দিলো। এভাবেই সময় গড়ালো।
চলবে,,,,,,