#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান —৩২
#তাসনিম_লিজা
---- কপি নিষিদ্ধ!
---- এই মেয়ে আমার ঘড়িটা কোথায় রেখেছো?
আমার জিনিসে হাত দিতে মা...
থেমে গেলো দিব্যর গলার স্বর। কাকে কথাগুলো শোনাচ্ছে সে ? দীর্ঘ শ্বাস ফেললো দিব্য। এ কদিনে অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে দোয়া দিব্যর জীবনে। তার প্রতিটা কাজে দোয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এ যেমন দিব্য কখন আসে যাবে,
কখন কি খাই, তার কখন কোন জিনিসটা প্রয়োজন। এবং তার ওয়ালেট থেকে শুরু করে ড্রেস অব্দি সব গুছিয়ে রাখতো মেয়েটি যত্ন করে।
দিব্য বেশ কয়েকবার কঠিন ভাবে নিষেধ করার পর ও শুনেনি দোয়া। অবাধ্য মেয়ে হয়ে বাধ্য বউ হওয়ার চেষ্টা করেছিলো কেবল। তারপর আর
বারণ করেনি দিব্য। আজ এতোগুলা দিনের অভ্যাস কি আর ভুলা যায়? আজ সব এলোমেলো তাই তো দোয়ার খোঁজ করলো দিব্য।
এর মধ্যে জাহাঙ্গীর আহমেদ বার বার জিজ্ঞেস করেছেন কি হয়েছে কিছুই বলেনি দিব্য। দোয়ার বাবার নাম্বারে কল করলে ও কেউ কল রিসিভ করছে না। বাধ্য হয়ে মাথা ঘামালেন না তিনি। সময় বের করে বেয়াইয়ের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারপর না হয় মেয়েটা ইচ্ছে করে গিয়েছে নাকি কষ্ট পেয়ে সবই জানা যাবে।
ডয়িংরুমে আসতেই কানে ভেসে আসলো ফাইজা বেগম এর গলা,
---- মেঘ মা হতে চলেছে? তাও তাদের দুটো জমজ বাচ্চা হবে? আলহামদুলিল্লাহ! আমাকে জানাবা কিন্তু মেয়েটা কেমন আছে।
স্থির হয়ে শিড়িতেই দাঁড়িয়ে রইলো দিব্য। মেয়েটা তো তাকে ভুলেই গিয়েছে। দিব্যি ভালো আছে শ্রাবণের সাথে। বিয়ের পর এতোগুলা মাস পেরিয়ে গেলো কতকিছু হয়ে গেলো শ্রাবণ আসতে দিলো না। বোকা ছেলে জানে ও না দিব্য ভালোবাসলে ও
কেঁড়ে নিতে শিখেনি। নয়তো আজ তাদের সুন্দর পরিবার হতো না। হতো না দুজন থেকে চারজন হওয়ার সুযোগ সেই ক্ষমতা ও দিব্য রাখে।
নিঃশব্দে এড়িয়ে গেলো দিব্য। ফোনটা রেখে দিব্যর যাওয়ার পানে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন ফাইজা বেগম। আজ ওনার কারনে ছেলের মনে কষ্ট। দুটো ছেলে আজ তার জন্যই কষ্ট পাচ্ছে। কেউ তাকে মন থেকে ভালোবাসবে না শুধু ওনার নিজের কারনে। খুশির খবরটা জানাতে ও পারলেন না তিনি । তবে শুনেছে ছেলেটা তাই তো কথা বলার প্রয়োজন মনে করেনি। নয়তো বলে যেতো আসছি মা। আজ বললো না তো।
জাহিদ আহমেদ জানান কল করে জাহাঙ্গীর আহমেদকে। কিন্তু, জাহাঙ্গীর আহমেদ বাসায় নেই ফোনটা ও রেখে গিয়েছেন তাই ফাইজা বেগম কল রিসিভ করেন। তারপর খুশির খবরটা জানতে পারেন।
_____________________
---- কিরে আজ একা একা আসলি যে, তোর হ্যান্ডসাম হাসবেন্ড মানে আমাদের দুলাভাই কোথায়?
দোয়েল চুপচাপ কলেজের গেইটের ভেতরে গেলো।
পিছু পিছু গেলো ইভা ও। দোয়াকে চুপচাপ দেখে ফের বললো,
---- চুপ করে আছিস যে মন খারাপ? সবসময় তো দুলাভাই নিয়ে আসতো নিয়ে যেতো। আজ এক..
---- চুপচাপ ভেতরে আয়। আমার এতো কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। কেউ আমায় নিয়ে আসবে নিয়ে যাবে এই ভেবে কলেজ আসতে হবে নাকি?
আমি একা একা আসতে পারি তো। পা আছে আমার।
ইভা হতবাক দৃষ্টিতে তাকায়। টানা কয়েক মাসে একবার ও মিস হয়নি দিব্য আসেনি যে। তবুও বললো,
---- প্রতিদিন আসতো তো তাই। আচ্ছা আমাকে কি বলা যাবে না? আমি তো তোর বেস্ট ফ্রেন্ড। শেয়ার করলে মনটা হালকা লাগবে।
দোয়া হাঁটতে লাগলো। ইভা ও সাথে সাথে ক্লাস অব্দি এলো। তখনই বাইকের শব্দ হলো। তৎক্ষনাৎ তাকালো দোয়া ও ইভা। যা ভাবছিলো সেটাই ঠিক হলো। দিব্য এসেছে কলেজে । দোয়া তাকাতেই চোখাচোখি হতেই চোখ ফিরিয়ে নিলো দোয়া।
দিব্য বাইকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো কলেজ থেকে।
দোয়ার প্রথম ক্লাস ছিলো না বলে দেরি করে এসেছিলো সে।
---- দুজনের মধ্যে কি অভিমান চলছে? দুলাভাই তো কথা বললো না এসেও।
প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে গিয়েছিলো দিব্য বুঝতে পারে দোয়া। ইভার কথা শুনে দোয়া বললো,
---- তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তার কথা শুনতে চাই না ইভা। ক্লাসে চল।
---- আচ্ছা চল। আমি আর কিছুই বলবো না এই বিষয়ে।
---- হুম।
___________________
মেঘের অতিরিক্ত জানার আগ্রহে শ্রাবণ আর নিজেকে আঁটকে রাখতে পারলো না। আলতো হাতে মেঘের পেট স্পর্শ করে মৃদুস্বরে বললো,
---- আমাদের মধ্যে নতুন অতিথি আসছে মেঘফুল
আমরা দুজন থেকে চারজন হতে যাচ্ছি খুব শিগগিরই। কংগ্রাচুলেশনস আপনাকে মিসেস শ্রাবণ শিকদার। আমাকে এতো সুন্দর মিষ্টি অনুভূতি গিফ্ট করার জন্য।
মেঘ অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে শ্রাবণের দিকে।
মেঘের বিশ্বাসই হচ্ছে না। সে তো ভেবেছিলো শরীর দুর্বল হওয়ায় এমন খারাপ লাগা কাজ করতো। শ্রাবণ সামান্য বিষয় নিয়েই অতিরিক্ত করতো ভেবে তাকে জানায়নি মেঘ তবে গতকাল একটু বেশিই খারাপ লাগছিলো বিদায় এতো বড় একটা ঘটনা ঘটলো। মেঘ শ্রাবণের হাতের উপর হাত রেখে অবিশ্বাস্য স্বরে বললো?
---- সত্যি?
হ্যা বোধক মাথা নাড়লো শ্রাবণ। মেঘের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো। অস্ফুটস্বরে ফের বললো,
---- আ'মাদের সন্তান? আমি মা আর আপনি বাবা হবেন? কিন্তু, চারজন কিভাবে?
মেঘের কথায় শ্রাবণ মেঘকে পাঁজা কোলে তুলে নিলো। মেঘের নাকের সাথে নিজের নাক ঘষে মিষ্টি হেঁসে বললো,
---- আমাদের টুইন্স বেবি হবে বুঝলেন মেঘফুল।
মেঘ যেনো একের পর এক অবাক হলো। বললো,
---- আপনি আমার সাথে মজা করছেন তাই না?
শ্রাবণ শব্দ করে হাসলো।
রুমে এসে বিছানায় বসতেই মেঘের কোলে মাথা রাখলো শ্রাবণ। মেঘ বুঝতেছে না শ্রাবণের ভাবমূর্তি
শ্রাবণ মুখ নিজের দিকে ফিরালো বললো,
---- কি হয়েছে আপনার?
শ্রাবণ এই হাসছিলো এই চোখের কোণে পানি জমে উঠেছে। চোখ ফিরিয়ে নিলো শ্রাবণ। মেঘ সন্ধিহান দৃষ্টিতে তাকায়। কপালে ভাঁজ পড়লো। মেঘ বললো,
---- আপনি কাঁদছেন? খুশি হননি?
মেঘের হাতটা নিয়ে তার হাতের পিটে কয়েকটা চুমু খেলো৷ অতঃপর ছাঁদের দিকে তাকিয়ে বললো,
---- আনন্দে কাঁদছি মেঘ। হয়তো এমন ও হতে পারে আমার অভিমানী বাবা মা আবার ও আমাদের সুখ নীড়ে আমাদের সন্তান হয়ে ফিরবে
নতুন করে ৷ আমরা তাদের আগলে রাখবো।
সুন্দর না বিষয়টা? ওরা আবার ও ফিরবে মেঘ আবার ও শূন্য বাড়িটা আমাদের পরিপূর্ণ হবে। হাহাকার থাকবে না। আর না থাকবে মা বাবা
ডাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
শ্রাবণ কথাগুলো বলে মেঘের দিকে তাকালো।
মেঘের চোখে পানি। দ্রুত মুছে দিলো শ্রাবণ।
---- পাগলি মেয়ে কাঁদছো কেন?
শ্রাবণ তো মেঘকে হারানোর ভয়ে কাঁদছে। সময়টা এমন যে, এপারে ও বিপদ ওপারে ও বিপদ। দিশেহারা লাগছে নিজেকে। কাউকে বলতে ও পারছে না সে। কাকে বলবে শ্রাবণ জাহিদ আহমেদকে? নাহ! তিনি তো মেয়ের ভয়ে নিজেই না অসুস্থ হয়ে যান। ওনার অতিরিক্ত টেনশনে মেঘ ও টেনশন করবে জেনে যাওয়ার ও আশংকা থাকতে পারে। আর যদি মেঘ জানে তাহলে মেয়েটা ভেঙে পড়বে। নাহ! কাউকে বলা যাবে না।
---- কি হয়েছে আপনার এতো টেনশন করছেন কেন?
---- শান্তি পাচ্ছি না মেঘ। একটু ওভাবেই থাকি না।
মেঘ শ্রাবণের মাথায় আলতো হাত বুলাতে লাগলো
ডিস্টার্ব করলো না কিন্তু, শ্রাবণ যে কোনো বিষয় নিয়ে বেশ চিন্তিত সে গতকাল রাত থেকেই বুঝতে পেরেছে।
মেঘ বালিশে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে ভাবছে
তাহলে শ্রাবণের ইচ্ছেটা পূরণ হলো।
______________________
---- আপনি তো বেশ বজ্জাত দেখছি। এভাবে কেউ বাইক চালাই? আর একটু হলে তো আমাকে ফেলেই নায়কের মতো চলে যেতেন ভাব ধরে। এমন ভাবে রেডি হয়েছেন ওনি যেনো, ওনার জন্য পাত্রি দেখতে যাচ্ছি। যতোসব!
তাসির বাইকটা থামালে দোয়েল আবার ও বলে উঠে,
---- আবার কি হলো?
তাসির বাইক থেকে নেমে কোমরে দুহাত গুঁজে বললো,
---- তুমি কি এটাকে রিকশা পেয়েছো দোয়েলপাখি
যে আমার থেকে দশহাত দূরে থাকবে আর পড়বে ও না। আমাকে টাচ করার অনুমতি কি তোমার হাসবেন্ড তোমাকে দেয়নি? না দিলে ফাস্ট অনুমতি নাও, তারপর যাবো। আর আমি বিবাহিত পুরুষ বউ থাকতে পাত্রি দেখতে যায় যদি বউ অনুমতি দেয় তাহলে। নয়তো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বউ তো তার মনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলো না। সামনে দেখছি জেলেই থাকতে হবে।
দোয়েল অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাসিরের দিকে। হেলমেট খুলে ফেলে। রেগে বলে উঠলো,
---- দিলাম অনুমতি যান বিয়ে করে বউ নিয়ে আসুন আর আপনার পেছনে আপনাকে জড়িয়ে ধরে আপনার সাথে লং ড্রাইভে যাবে তারপর এক্সিডেন্ট হয়ে তেঁতুল গাছের ডালে বসে সারাজীবন কাটিয়ে দিবেন।
---- আমি চাইলে ও বুকের বা পাশের অবাধ্য হার্টটা চাই না। সে তো তোমাকেই চাই তাই তো রিনা খান ধরে আনলাম ৷ ভেবেছিলাম শাবানা বানাবো সারাক্ষণ স্বামী স্বামী করবে কিন্তু, না সে তো রিনা খানই রয়ে গেলো। আর মধ্যে থেকে আমি ফেঁসে গেলাম।
---- চুপ করুন আপনি। ফেঁসে তো আমি গিয়েছি পাগলের পাল্লায় পড়ে। আমি রিকশা নিচ্ছি একাই
চলে যাবো। কারোর প্রয়োজন নেই।
দোয়েল যেতে নিলে হাত ধরে ফেলে তাসির। বলে,
---- এতো রাগ শরীরের জন্য ভালো না মিসেস রিনা খান। চলুন আমার সাথে বান্দার উপর দয়া করে তাকে একটুু জড়িয়ে ধরে বসুন নয়তো, বউকে হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা আছে।
দোয়েলের হাসি পাচ্ছে। নিজেকে কঠোর রাখতে হিমসিম খেতে হচ্ছে একপ্রকার। তবুুও বললো,
---- হারিয়ে গেলে ক্ষতি কি? দ্বিতীয় বিয়ে করবেন।
আকস্মিক মাঝরাস্তায় জড়িয়ে ধরলো তাসির। দোয়েল হতভম্ব হয়ে গেলো৷ এই প্রথম তাসির সাহস করলো এভাবে নিজের করে নিতে। কানে এলো তাসিরের বলা কিছু কথা,
---- হারাতে দিবো না বলেই তো এতো বাহানা করে নিজের করলাম। পাশে রেখে ও তোমার মন পড়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু, পাষান্ড পাখি শুধু উড়তে জানে কারোর মন পিঞ্জিরার বন্দিনী হতে জানে না। সে জানে না বন্দি হয়ে ও উড়া যায় যদি সেই পিঞ্জিরার মালিক নিজে নিয়ে উড়তে চাই। তার সাথে যদি দিন শেষে সেই পিঞ্জিরাতেই ঠাই নেই।
দোয়েল তৃপ্তির হাসি দিলো। মানুষটা মোটেও মন্দ না জীবন কাটিয়েই দেওয়া যায় তার সাথে। হাত বাড়িয়ে দিলো নিজেও। বললো,
---- আমি অবশ্যই নিজের ঠিকানা জানি মিস্টার
পাগল প্রেমিক। উড়তে নয় বরং নিজেকে সময় দিয়েছি আপনাকে ভালোবেসেছি। আমার কিন্তু পিঞ্জিরাটা পছন্দ হয়েছে আজীবন থাকতে চাই।
আমার কোনো আপত্তি নেই।
তৎক্ষনাৎ ছেড়ে দিয়ে বিস্ময় নিয়ে তাকালো দোয়েলের দিকে। দোয়েল হাসি মুখে পা উঁচিয়ে
দুহাত তাসিরের কাঁধে রেখে ভ্রুঁ নাচিয়ে বললো,
---- কেমন দিলাম মিস্টার তাসির? বড্ড চমকালেন মনে হয়। মন তো পড়তে পারলেন না মুখেই না হয় প্রকাশ করলাম। ভীতুর ডিম একটা শুধু ভালোবাসতেই জানলেন বউকে নিজের করতে জানলেন না। চলুন যায়।
তাসিরের মুখ থেকে হাসি সরছেই না। খুশিতে বলে উঠলো,
---- চলে আসুন মিসেস রিনা খান।
---- আবার!
---- সরি উঠে বসো দ্রুত।
দুজনের মধ্যে দূরত্ব গুছিয়ে এগিয়ে চললো শ্রাবণদের বাড়ির দিকে।
_______________________
---- আপনি রাত থেকে না খেয়ে আছেন কি হয়েছে আপনার? ঘুমোচ্ছেন কেন? চোখ খুলুন বলছি।
শুনছেন আপনি?
শ্রাবণ সারারাত জেগে থাকার কারনে ক্লান্ত ও না খাওয়ায় শরীর বড্ড দুর্বল লাগছে। তীব্র ঘুমে চোখ লেগে এসেছে শ্রাবণের। মেঘের কথায় হুর মুড়িয়ে উঠলো শ্রাবণ। অস্থির হয়ে ভয়ার্ত গলায় বললো,
---- কি হয়েছে ঠিক আছো তুমি? শরীর খারাপ লাগছে? ডক্টর কে ব...
---- থামুন থামুন। কি বলছেন আপনি? আমি ঠিক আছি তো। বলতেছি আপনি রাত থেকে কিছুই খাননি ফ্রেশ হয়ে আসুন আমি রান্না করছি।
শ্রাবণ দ্রুত বলে উঠলো,
---- কোনো প্রয়োজন নেই। আমার খিদে নেই। আর খেতে ইচ্ছে হলে আমি নিজেই রান্না করে খাবো।
---- আপনি রান্না করবেন?
মেঘের কথায় শ্রাবণ যেতে যেতে বললো,
---- অবশ্যই রান্না করবো। চুপচাপ বসে থাকো আমি রান্না করে নিয়ে আসছি একসাথে খাবো দুজনে। খবরদার বিছানা ছেড়ে এক পা ও বাড়াবে না বাইরে। বেবিদের কোনো সমস্যা হোক সেটা তাদের বাবা চাই না।
শ্রাবণের আচরণে তার মেঘ মুচকি হাসলো৷ সেও জোরে বলে উঠলো,
---- তাদের বাবা রান্না করতে জানে না কষ্ট হবে তাই
তারা চাচ্ছে তাদের বাবাকে তাদের মা হেল্প করুক বুঝলেন আপনি? আপনার বারণ শুনছিনা মিস্টার
আমি আসছি।
মেঘ তৎক্ষনাৎ নেমে পড়লো৷ শ্রাবণের মুখোমুখি হলো রুমের বাহিরে ডয়িংরুমে। শ্রাবণের হাতে তখন সবজি কাটার চাকু সবে কাটতে নিয়েছিলো মাত্র। বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে পড়লো মেঘের সামনে। মেঘ ও সেইম ভাবে দাঁড়ালো। বললো,
---- আপনাকে কষ্ট করতে হবে না আমি রান্না করছি।
শ্রাবণ গম্ভীর স্বরে বললো,
---- গতকাল দুপুরের রান্না কেমন হয়েছিলো?
মেঘ বুঝলো না। বললো,
---- ততো টাও খারাপ হয়নি। কেউ নিজের রান্নার প্রশংসা নিজে করে নাকি?
---- করবে কিভাবে? তরকারিতে মরিচের বক্সটায় বোধহয় ডেলে দিয়েছিলে। আজ আমি আবার ও একই খাবার না নিজে খেতে চাই আর না তোমায় হসপিটালের বেডে পাঠাতে চাই।
মেঘ চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো শ্রাবণের দিকে। বললো,
---- ঝাল হবে কেন? আমার তো খারাপ লাগেনি।
আপনি ও তো কিছুই বলেননি আমাকে।
মেঘের কৌতূহল দেখে শ্রাবণ বললো,
---- পারবে না কারন তোমার এই সময় এই খাবারে
কোনো ঝালই ঝাল মনে হয় না। মেঘ এটা ঠিক না। ডক্টর বারন করে দিয়েছেন। সো রান্না আমি করবো তুমি রেস্ট নাও। বিকেলে আন্টি আসবে আর এখানেই থাকবেন ওনি। বাবা ও আসছে। তার সাথে তাসির ও দোয়েল ও আসছে।
মেঘ খুশি হয় সবার আসার খবর পেয়ে। মেঘ তবুও নড়লো না একটুও। বরং কিচেনের দিকে পা বাড়িয়ে বললো,
---- নো প্রবলেম স্যার! আপনি রান্না করবেন আর আমি তদারকি করবো। মানে দেখবো বলবো কখন কি লাগবে না লাগবে।
তবুও শ্রাবণ মানলো না। রেগে বলে উঠলো,
---- জেদ করো না মেঘ রুমে যাও। আমি ডিম ভাজি করবো আর ভাত রান্না করবো। ব্যাস এখন এটাতেই হয়ে যাবে। তারপর আন্টি এসে সব সামলে নিবেন।
কলিংবেল বাজলো। মেঘ কিছু বলতে নিয়েও থেমে গেলো। যেতে নিলে শ্রাবণ বাঁধা দিয়ে নিজেই এগিয়ে গেলো দরজার দিকে। খুলতেই দুজনের হাস্যজ্জল মুখটা ভেসে উঠলো। শ্রাবণ অবাক হলো। কারনটা হলো, তাসির।
তাসিরকে এই কয়েকমাস হাসতে দেখা যায়নি। বেচারা বউয়ের অবহেলা জর্জরিত ছিলো। সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকতো আর বলতো বিয়ে করেছিলাম যদি হারিয়ে ফেলি আর এখন বউ হয়ে আমাকে হারিয়ে দিলো মেয়েটা।
---- আমাদের ভেতরে আসতে বলবি না?
---- আয় ভেতরে। দোয়েল এসো।
তাসির ও দোয়েল ভেতরে আসতেই দোয়েল মেঘকে জড়িয়ে ধরে গালে টুক্কুস করে একটা চুমু খেলো। বললো,
---- অভিইইইইইনন্দন মেঘপাখি। আমাকে তো খালামনি বানিয়ে দিচ্ছিস। আমি অনেএএএক খুশি।
মেঘ ও খুশি হলো দোয়েলকে পেয়ে। ভার্সিটিতে গেলে খুব বেশি একটা দেখা হতো না দোয়েলের সাথে। মেঘ শ্রাবণের সাথে যেতো আবার শ্রাবণের সাথেই আসতো। মধ্যখানের সময়টাতে মাহিরার সাথে কাটতো পড়াশোনা প্লাস খুনসুটিতে।
---- তোকে পেয়ে আমি ও অনেক খুশি দোয়েল আপু। কতদিন পর দেখলাম তোকে।
দুজন কথা বলছিলো। অন্যদিকে শ্রাবণ তাসিরকে জিজ্ঞেস করলো,
---- কি ব্যাপার ঠোঁট দুটোতে হাসি আসলো কোথা থেকে রে? আর বাকি তিনটে কোথায় আসবে না?
শ্রাবণ রাতুল রিফাত ও রামিমকে ও বলেছিলো
আসতে। মেঘের অসুস্থতার কথা শুনে হসপিটালে আসতে চেয়েছিলো শ্রাবণ বারণ করে দিয়ে বাড়িতে আসার কথা বলে।
---- আমরা এসে গিয়েছি বাচ্চার বাপ।
চলবে,,,,,