ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্রাবণ মেঘের উপখ্যান

৩৫তম পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম লিজা

#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান —৩৫

#তাসনিম_লিজা

----- কপি নিষিদ্ধ!

দিব্য বেলকনি থেকে নিজেকে আড়াল করে তাকিয়ে দেখলো দোয়াকে তার বাবা মা নিয়ে যাচ্ছে। ম্লান হাসলো। অতঃপর একা একা আওড়ালো,

---- হয়তো ভালোবাসি নয়তো, মায়ার টান, তা নাহলে, একদিনেই এতো অস্থিরতা কিসের? ছেড়ে দিলাম কাঁচা ছেড়ে, ফিরে এলে না হয় আমার হবে।

ভালো থেকো পাখি৷ বন্দি দশায় জীবন চলে না।

থাকে ও না।

দোখের আড়াল হতেই রুমে এসে পড়লো দিব্য।

এক সেকেন্ড ও দেরি না করে ফের রেডি হয়ে নিলো থানায় যাওয়ার জন্য। এই বাড়িতে থাকাটা

সম্ভব নয় তার জন্য।

____________________

---- কি এমন হয়েছে যার জন্য দুজনেই এভাবে দূরে সরে এসেছিস? বল না মাকে?

দোয়া গুটিসুটি মেরে গাড়ির গ্লাসটা নামিয়ে সেথায় মাথা এলিয়ে দিয়ে চুপ করে বাইরের ব্যস্ত নগরীর দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলো। মাকে সব বলা যায় না৷ যে বোঝার সে তো বুঝেনি তাহলে সেটা সেখানেই এনাফ থাক!

এই নিয়ে ফাতেমা খানম পাঁচ ছয়বার বলেছেন কিন্তু কোনো লাভ হয়নি মেয়েটা মুখই খুলছে না।

সামনে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসেছেন ফয়সাল সাহেব জানতে চান মেয়ের সমস্যার কথা তাই স্ত্রীকে বারবার বলে দিয়েছেন কারন জানার জন্য।

বারবারই ব্যর্থ হচ্ছেন তিনি।

দোয়া বাবা মায়ের ফিসফিস করা দেখেই বুঝতে পারে। কিন্তু কি-ই বা বলবে সে? যে রাখার সে তো রাখেনি। অভিমানি দোয়া মনে মনে বললো,

---- অভিমান করেছিলাম আমি, আপনি অভিমান ভাঙাবেন বলে, কিন্তু আপনি আমায় যত্ন করে আগলে রাখার নামে বিষাদ বসন্ত উপহার দিলেন। কেন বুঝলেন না আমার অভিমান? কেন ঠাঁই দিলেন না আপনার বক্ষপটে বোকা পুলিশ? কেন দূরে সরিয়ে দিলেন আমাকে? কার জন্য যে দিব্যি সুখে আছে। হাহাকারময় দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে চুপচাপ রইলো দোয়া। নিজেকে কেমন মুর্তির মতো লাগছে অনুভূতিহীন। একটা মেয়ে কি চাই তাকে কেউ ভালোবাসুক খুব করে।

অভিমান জেদে পরিনত হলো দোয়ার। চোখমুখ শক্ত করে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলো যতোদিন না দিব্য নিজে এসে ভালোবাসি বলে তাকে ওই বাড়িতে না নিয়েছে ততোদিন দোয়া এই বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবে না। হোক বিচ্ছেদ তাতে ও তার কিছু যায় আসে না।

_____________________

সময় বহমান দেখতে দেখতে তিনটে মাস কেটে গেলো। দোয়ার এইচএসসি পরীক্ষা চলছে ৷

এইবার তার পড়ার প্রতি কোনো আগ্রহ-ই নেই বললেই চলে। সত্যিই মানুষটাকে সে বড্ড মায়ায় জড়িয়ে নিয়েছিলো নয়তো তার মন খারাপের কারন কি? কেন জানালার পাশে বসে তার কারোর জন্য নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে সেই তারাহীন আকাশের কাছেই নালিশ করতে হয়?

আরো দুটো পরীক্ষা বাকি আছে দোয়ার। আনমনে একা একা হাঁট ছিলো দোয়া। ইভা অন্য রাস্তা দিয়ে তার বিপরীত দিকে যায় তাই দোয়ার একাই যেতে হয় বাড়ি অব্দি। মুখের হাসিটা আর চঞ্চলতা কবেই যেনো মিলিয়ে গিয়েছে দোয়ার স্বভাব থেকে। মেয়েটা কোনোদিক না তাকিয়ে একা একা হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার মধ্যে এসে ও তার খেয়াল নেই গাড়ি আসছে যে। হর্ন বাজছে তবুও মেয়েটা

নীরবে নিজের মতোই যাচ্ছে।

বেখেয়ালিতে রাস্তা পার হতে গিয়ে মনে হলো খুব জোরে কেউ ধাক্কা দিলো দোয়াকে। হুঁশ ফিরতেই

নিজেকে আবিস্কার করলো রাস্তার ফুটপাত ঘেষে

পাকা জায়গার উপর সামান্য ছিলে গিয়েছে কপালটা সাথে হাতটা ও । হঠাৎ কানে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ আসতেই ঘুরে তাকালো দোয়া সেদিকে লক্ষ করে। দীর্ঘ তিন মাস পর দিব্যকে দেখে স্তব্ধ হয়ে রইলো সে।

কেউ বলছে,

---- ওনাকে কেউ হসপিটালে নেও। হাত কেটে গিয়েছে অনেকটা। কপাল গড়িয়ে রক্ত পড়ছে টুপটাপ।

যাকে নিয়ে সবাই চিন্তিত সে লোকদের ফাঁকফোকর দিয়ে খুঁজে চলেছে তার প্রিয় মানুষটিকে। কোথায় সে? এদিক ওদিক করে উঁকি দেওয়া লক্ষ করছে দোয়া। তাকে বাঁচাতে গিয়ে দিব্য আঘাত পেয়েছে। ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু সেইদিনের কথাগুলো মানে দিব্য তো চাই না দোয়াকে তাহলে দোয়া কেন যাবে অস্থির হয়ে। আর কেন বাঁচাতে আসলো তাকে? কোথায় ছিলো দিব্য? তাকে কি ফলো করছিলো? নাকি এক্সিডেন্টলি দেখা হয়ে গেলো?

---- এই মেয়ে তোমার কিছু হয়নি তো? তুমি ঠিক আছো? হসপিটালে যেতে হব.....

ঘোর কাটে দোয়ার। খেয়াল হলো দিব্য তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দিব্যর দিকে না তার কপালের দিকে চোখ গেল দোয়ার। রক্ত পড়ছে ক্ষতস্থান থেকে। না হলো অস্থির, আর না গেলো এড়িয়ে, নিজের কাছে থাকা রুমাল বের করলো সে। তৎক্ষনাৎ পা টা একটু উঁচু করলো। নিজের ব্যাথা ভুলে দিব্যর মাথায় বেঁধে দিলো। হাতে ও পেয়েছে কিন্তু, তা পাত্তা দিলো না দোয়া। ক্যাব গিয়েছিলো একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছে দিব্য। দোয়াকে জোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত এক পা বাড়িয়ে ও গাড়ির সাথে বারি খেয়ে পড়ে যায় আর তখনই ব্যাথা লাগে দিব্যর।

এই যে দোয়ার এমন স্থির মুর্তিরুপ দেখে ভীষণই হতাশ হলো দিব্য । তিনটে মাস কেটে গেলো তাদের জোরা জীবনের ছয়টি মাস পেরিয়ে গেলো এখনো

দোয়া দিব্যকে ডাকলো না। আর না দিব্য দোয়ার সামনে গেলো। তাদের কাছে মান অভিমান এবং ইগো, এই দুইটায় বড় হলো সম্পর্কের থেকে।

দোয়া অচেনা মানুষের মতো দিব্যর ভয়টুকুকে সম্মান জানিয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক ভাবে বললো,

---- ধন্যবাদ আপনাকে আমায় বাঁচানোর জন্য। অবশ্য মরে গেলে ক্ষতি হতো না৷ হায়াত আছে বোধহয় মরনও হবে না। প্লিজ নিজের খেয়াল রাখবেন। দয়া করে হসপিটালে গিয়ে নিজের চিকিৎসা করিয়ে নিবেন। জানি টাকা দিলে নিবেন না আপনি। আর আপনার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে মানুষকে সাহায্য করা। আসছি!

---- দোয়া আমার সাথে ডক্ট...

---- আমি নয় আপনি যাবেন। প্লিজ আমায় নিয়ে ভাববেন না। আপনি প্লিজ নিজের দিকে খেয়াল রাখবেন কে মরে গেলো কে বিপদে পড়লো সেদিকে নজর না দেওয়ায় ভালো বিশেষ করে আমার ক্ষেত্রে একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে না?

চলে গেলো দোয়া কথাগুলো এক নাগাড়ে বলে।

তাহলে মেয়েটি ও জানে তার...

এই আশেপাশে কিছু মানুষ অবাক হয়। মেয়েটির মধ্যে কোনো ভয় বা কৃতজ্ঞতার ক ও নেই। একে একে চলে গেলে যে যার কাজে।

দিব্যের ইউনিফর্ম অনেকটা রক্তে ভিজে গিয়েছে সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। দোয়ার যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে পলকহীন দৃষ্টিতে। তবে কি মেয়েটা তাকে ভালোবাসেনি? মায়ায় বাঁধেনি? কেন চক্ষু দুটোতে কেবলই নির্লিপ্ততা?

---- স্যার আপনি ঠিক আছেন?

একজন কনস্টেবল আসেন হন্তদন্ত হয়ে। উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করলেন দিব্যকে। বয়সে বড়ো তবে পদে ছোট হওয়ায় তুমি করেই বলে দিব্য। লোকটার উদ্দেশ্যে বলে সে,

---- আসাদ ভাই আমি ঠিক আছি। প্লিজ ওই যে ও আমার ওয়াইফ। আপনি আড়াল থেকে ওর উপর নজর রাখবেন ঠিক ভাবে বাসায় পৌঁছিয়েছে কি না৷ মেয়েটি কি ভাবছে কে জানে আমি না থাকলে আজ একটা কিছু.. প্লিজ!

---- কিন্তু, স্যার আপনার তো...

---- আমি যাচ্ছি তো। আপনি দ্রুত যান।

---- ওকে স্যার!

দিব্য সবসময় আড়াল থেকে নজর রাখতো দোয়ার উপর, নিজের কাজের ফাঁকে। দূরে থেকে ও কাছে থাকার দায়িত্ব থেকে একটু ও নড়েনি ছেলেটা। আঘাতটা বেশ লেগেছে তবুও দুজন ঠিক আছে এ-ই অনেক।

আপাতত বেন্ডেজ করতে হবে। আঘাত দোয়ার ও লেগেছে মেয়েটার নিজের খেয়াল আছে? কিছুই তো বলতে সুযোগ দিলো না মেয়েটি। বড্ড অভিমানী!

হসপিটালে যাওয়ার মতো অবস্থা হলে ও পাত্তা দিলো না আঘাতটাকে দিব্য । সামমেই একটা ফার্মেসি দেখে সেখানে ডক্টর এর থেকে কপালে বেন্ডেজ করে হাতে ওয়ানটাইম বেন্ডেজ লাগিয়ে বেরিয়ে পড়লো সে। থানায় যেতে হবে তার আগে কল করলো আসাদ ভাইকে ওনি কি পৌঁছে দিয়েছেন দোয়াকে?

কিছুক্ষণের মধ্যেই কল রিসিভ করলো আসাদ সাহেব।

---- আপনি কোথায় আসাদ ভাই ? দোয়া বাড়িতে গিয়েছে?

ওপাশ থেকে আসাদ সাহেব বলেন,

---- জ্বি স্যার ম্যাডাম বাড়িতে চলে গিয়েছে।

দিব্য তাড়াহুড়ো করে বলে উঠলো,

---- ওকে ম্যাডাম ডাকতে হবে না। ও আপনার মেয়ের বয়সি দোয়া ওর নাম নাম ধরেই ডাকবেন।

চলে আসুন আপনি।

---- ওকে স্যার!

পদ বড় ছোট মানে না সম্মান দিতেই হয় হোক না নিজের থেকে ছোট। তবুও কিছু জায়গায় নিজ দায়িত্বে সেটা সুন্দর এবং সম্পর্ক বজায় রেখে বড়দের সাথে চলতে হয়। আসাদ সাহেব বয়সে বাবার সমান। কিন্তু, কাজের ক্ষেত্রে তো আর চাচা কাকা ডাকা যায় না। অভ্যাস করে ফেলেছে কনস্টেবল নয়তো আসাদ ভাই। তবে তিনি ভাইয়ের চেয়ে বড়ো। লোকটা ভীষণ ভালো। মন খারাপ থাকলে কত কি বলবে। সাহায্য করার জন্য

রেডি থাকবে শুধু অর্ডার করাটা বাকি থাকে।

দিব্য থানায় যাওয়ার জন্য নিজের বাইকের কাছে যায়। অনেকটা দূরে রাখা ছিলো।

____________________

---- কিরে কি হয়েছে তোর? কপালে রক্ত এই তুই এক্সিডেন্ট করেছিস? কোনো কিছু হয়নি তো?

দোয়ার বাবা কোথায় আপনি দেখে যান ওর এক..

---- চুপ করো তো আম্মু। আমার কিছুই হয়নি।

ফাতেমা খানম দ্বিগুণ রাগ দেখিয়ে বলে উঠলেন,

---- কেন চুপ করবো শুনি? দিনদিন কি হচ্ছিস তুই? এতো বেখেয়ালি হচ্ছিস কেন? ঠিক মতো পড়িস না আনমনে বসে থাকিস কি ভাবিস এতো? এই যে মাথায় আঘাত পেয়েছিস ওটা ও তোর এই দুনিয়ার সব ভুলে গিয়ে কল্পনার জগতে হারিয়ে যাওয়ার কারনেই হয়েছে আমি জানি তো এই কয়েকমাস আমি তো এরই সাথে বেশ পরিচিত।

---- বলছি তো আমি ঠিক আছি।

বিরক্ত হলো দোয়া। অতিরিক্ত চিল্লান ওনি। আজকাল নিজের বাড়িটা ও নিজের নেই। লোকে বলে না বিয়ে হয়ে গেলে বাবার বাড়ি পর হয়ে যায় দোয়ার ক্ষেত্রে ও তাই মনে হচ্ছে। সবার কাছে ঝামেলা লাগছে।

---- কি হয়েছে আমার মায়ের?

ফয়সাল সাহেব আসেন তড়িঘড়ি করে। কপালের এক কোণ ছিলে গিয়েছে খানিকটা সেখান থেকেই রক্ত বের হচ্ছিলো সামান্য। ফের অস্থির হয়ে বলেন

ফাতেমা খানম,

---- বলেছিলাম তো মেয়েটা ভালো নেই। হয় ওকে বলো দিব্যকে ডিভোর্স দিতে। নয়তো দিব্যর সাথে সংসার করতে। এভাবে জীবন চলবে? পাগল হয়ে যাচ্ছে ও সাথে আমাদেরকে ও পাগল বানাবে ওর জন্য টেনশন করতে করতে।

কথাগুলো রোজকার তাই মাথা ঘামালো না দোয়া।

তার প্রতি বিরক্ত সবাই। দোয়া শান্ত স্বরে বললো,

---- বের হয়ে যেতে বললেই তো পারো এভাবে বলার কি আছে?

দোয়ার ঠান্ডা গলার স্বর শুনে ফাতেমা খানম বলেন,

---- তুই আমাদের একমাত্র মেয়ে তোকে বের করে দিবো মানে কি দোয়া? তোর ভালোর জন্য বলছি আমরা৷ দিব্যকে ডিভোর্স দে আমরা তোর জন্য ভালো পাত্র দেখে বিয়ে দিবো।

দোয়া তাচ্ছিল্যের হাসলো। বললো,

---- আব্বু আম্মু তোমরাই তো ভালো পাত্র দেখে বিয়ে দিয়েছিলে আমার। এখন কি তার চেয়ে ভালো পাত্র পেয়েছো নাকি? যে তাড়িয়ে নই বরং মেরে লাশ পাঠানোর ব্যবস্থা অব্দি কর...

---- কি বলছিস দোয়া?

বাবার কথায় দোয়া বললো,

---- আমি তো ঠিকই বলেছি বাবা। আমি তোমাদের একমাত্র মেয়ে। আস্তো একটা ঝামেলা। কিভাবে সরানো যায় বলো তো? এভাবে আর কতদিন পড়ে থাকবো আমি? তোমরা ভেবো না কয়েকটা দিন সময় দাও আমি ওই বাড়িতেই চলে যাবো। আর কোনোদিন অভিমান করবো না। কারন বুঝতে পারিনি আমার অভিমান করাতে পুলিশ অফিসার আমায় ওই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিবে। আর তোমরা ও আমাকে তাড়াতে উঠে পড়ে লেগেছো। প্লিজ প্রতিদিন আর ভালো লাগে না চিৎকার চেচামেচি। দয়া করে এবার আমার উপর।

রুমে চলে যায় দোয়া। প্রতিনিয়ত বাবা মায়ের একটাই কথা হয় ডিভোর্স দিয়ে বিয়ে করতে নয়তো দিব্যর সাথে সংসার করতে। ওর মনের অবস্থা কেউ বুঝলো না। সে তো চাই ওই মানুষটা তাকে নিয়ে যাক। সে কেন যাবে? দিব্য যদি তাকে

একটু যত্ন করে আগলে রাখে অধিকার দেখিয়ে ওই বাড়িতে নিয়ে যেতে আসতো তাহলে কি তার সাধ্য হতো দিব্যকে ফিরিয়ে দেওয়ার? হতো না। কিন্তু, দিব্য আসেনি। আর দোয়া ও যায়নি৷

ফাতেমা খানম ও ফয়সাল সাহেব বরাবরের মতোই

হতাশ হন। উদাসীন দৃষ্টিতে তাকান ফাতেমা খানম

ফয়সাল সাহেব এর দিকে। বলেন,

---- দেখেছেন আপনি মেয়েটা কি বলে? ও কি বুঝতেছে না মানুষের নানান কথা শুনতে হচ্ছে আমাদেরকে। আর ও যদি দিব্যর সাথে সংসার করতে চায় তাহলে ওই বাড়িতে যাচ্ছে না কেন?

আমার মতে অন্য জায়গায় বিয়ে দিলেই ভালো হতো ৷ অন্তত ও কষ্ট পেতো না। দিব্য ছেলেটা ও তো নিতে আসেনি কোনোদিন।

ফয়সাল সাহেব বসে পড়লেন সোফায়। বললেন,

---- কেন এতে কথা বলো তুমি? দোয়া কষ্ট পাচ্ছে

তো। লোকের কথা কেন শুনতে যাও? আমার মেয়ে চাইছে না থাকুক এভাবে। ওকে একটু শান্তি দাও তো। খেতে গেলে, বসতে গেলে, পড়তে গেলে,

সব কিছুতেই একই কথা আর কতবার বলবে?

ফাতেমা খানম এবার অভিযোগের ন্যায় বলেন,

---- আপনি তো শুনেন না পাড়াপ্রতিবেশির কথা আমাকেই শুনতে হয়। আর আমি আমার মেয়ের ভালো চাই। যেখানে ও ভালো নেই তাদের কোনো সম্পর্কই নেই, সেখানে কবে একসাথে থাকবে বছর শেষ হলে? মনে আছে আদোও দুজন দুজনকে?

বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন ফয়সাল সাহেব। যেতে যেতে শুধালেন,

---- মেয়ে যা চাই তাই হবে। অযথা ফোর্স করবে না ওকে। কষ্ট পাচ্ছে মেয়েটা। আমাদের ভুল বুঝতেছে

সে। উল্টপাল্টা কিছু করলে নিজেকে সামলাতে পারবে তো?

ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে রান্নার কাজে ব্যস্ত হলেন ফাতেমা খানম। মানুষের আজেবাজে কথা শুনে তিনি ও বাধ্য হন বলতে তিক্ত কথাগুলো। কত ভালো লাগে শুনতে এটার একটা ফয়সালা হওয়া উচিত এভাবে সম্পর্ক কতদিন চলবে?

হাজারো ভাবনা ভাবতে লাগলেন ফাতেমা খানম। এবং রান্নার কাজের মনযোগী হলেন তিনি। মেয়েটার ভবিষ্যতে নিয়েই তো যতো মাথা ব্যাথা কিন্তু, মেয়েটা শুধু ওনার রাগটাই দেখেন তার জন্য হওয়া টেনশন বুঝে না সে।

দোয়া রুমে এসে কাঁদলো কিছুক্ষণ। বাবা মা ও এখন পরের মতো আচরণ করে। দিব্য ও তার মনের অবস্থা বুঝলো না। একটিবার ও মুখ ফুটে বলতে পারলো না থেকে যাওয়ার কথা। কেন তার সাথে এভাবে খেলছে দিব্য কি চাই? তার মুখ থেকে শুনতে? নাহ! সে কেন বলবে?

ঘুরেফিরে একই জায়গাতেই এসে আঁটকে যায় দোয়া ও দিব্য।

___________________

---- প্রতিদিন এতো এতো টর্চার আমি আর নিতে পারছি না শুনছেন আপনি?

মেঘ বেশ বিরক্ত সবে মাত্র ডক্টর দেখিয়ে এসেছে শ্রাবণ ও মেঘ। সব ঠিকঠাক তবুও মেঘের প্রতি যত্ন

এবং সতর্কতার কোনো কমতি রাখছে না শ্রাবণ।

মেঘের প্রেগন্যান্সির পাঁচ মাস চলছে। চিকন গড়নের মেঘকে দেখতে একটু নাদুস-নুদুস লাগছে। হালকা ফোলা পেটটা তার তুলনায় বড়ই লাগছে। নিজেকে বড্ড ভারি লাগে টুইন্স বেবি হওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই ওজন লাগে। এই যে সামনে প্লেট ভর্তি ফল কাটছে শ্রাবণ। মেঘকে খেতে হবে সবগুলো। ডক্টর বার বার বলে দিয়েছে খাবারে যেনো কোনো অনিয়ম না হয়। মেঘের কথা পাত্তা দিলো না শ্রাবণ। নিজের কাজে মগ্ন হয়ে ফলগুলো কেটে মুখের সামনে নিজ হাতে তুলে ধরে আদেশ স্বরুপ বললো সে,

---- নট এসকিউস মেঘ! পুরোটা শেষ করবে তারপর আমার নামে যতো নালিশ সব শুনবো আমি। ফাস্ট মেঘ!

মেঘ মুখ বাঁকালো, হাত দিয়ে প্লেটটা সরিয়ে দিলো

বললো,

---- খাবো না আমি। আমাকে কি রাক্ষস পেয়েছেন আপনি?

দ্বিতীয়বার এগিয়ে ধরলো মেঘের সামনে। ধমক দিলো খানিকটা।

---- বলেছি তো কোনো বাহানা নয়। আমার সামনে পুরোটা শেষ করবে। নাও আমি খাইয়ে দিচ্ছি। হা করো।

---- প্লিজ আমার কষ্ট হচ্ছে আপনার টর্চারে।

আর কয়েক মাস তারপর তুমি মুক্তি ম্যাডাম। কিন্তু,

এখন ছাড়ছি না। হা করো বলছি।

না মুখ কুঁচকে জোর করে খেতে লাগলে মেঘ যেনো

কেউ তার মুখে নিম পাতার জুস ডেলে দিয়েছে।

শ্রাবণ ঠোঁট টিপে নিঃশব্দে হাসে। অফিসের কাজ বাসাতেই করার চেষ্টা করে যতোটুকু সম্ভব। আর বাকিটা আব্দুল্লাহ মাহমুদ সুস্থ হয়েছেন দুমাস হলো তিনিই সামলান। পারলে বলে সব করবেন তিনি শ্রাবণকে বাসায় পাঠিয়ে দেয় যেনো মেঘের পাশে থাকতে পারে শ্রাবন। দরজার বাহিরে একপাশে দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে লাগলেন জাহিদ আহমেদ।

ওনি ওনার মেয়েকে তাহলে ভুল মানুষের হাতে না সঠিক মানুষের হাতেই তুলে দিয়েছেন। একদম ওনারই মতো। এ যেনো ওনি আর ওনার ওয়াইফ।

প্রতিদিন মেয়ের প্রতি শ্রাবণের এমন যত্ন দেখে মনে হয় আজকাল মরে গেলেও মেয়ের জন্য ভয় থাকবেন না ওনার কারন পাশে থাকার মতো মানুষ আছে ওনার মেয়ের।

চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন