ফন্ট সাইজ:
থিম:
শ্রাবণ মেঘের উপখ্যান

৩৭তম পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম লিজা

#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান —৩৭

#তাসনিম_লিজা

----কপি নিষিদ্ধ!

আকস্মিক ঘটনায় দ্রুত ব্রেক কষলো দিব্য। সাথে ব্যাথাতুর কপালটায় আবার ও ব্যাথা পেলো ভারসাম্য হারিয়ে স্টিয়ারিংয়ে ভারি খেয়ে। নিজের ব্যাথা ভুলে গিয়ে সামনে দোয়াকে গাড়ির সামনে দেখে দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে অবাক হয়ে রেগে উক্ত কথাগুলো বললো দিব্য দোয়াকে। ফের দোয়ার এমন কথাতে কোথাও একটা চিনচিন ব্যাথা অনুভব হলো দিব্যের। সে শুধালো,

---- আমি না হয় ছ্যাকা খেয়ে মরতে গিয়েছিলাম।

তো তুমি ও কি একই কার...

দোয়া থামিয়ে দিলো তৎক্ষনাৎ। বললো,

---- না! আমি একটু শান্তি চাই শুধু। আমাকে ডিস্টার্ব করবেন না নয়তো নারী নির্যাতনের মামলা দিবো আপনার নামে।

দিব্যর হাসি পেলো। নিজেকে যথাসম্ভব গম্ভীর রেখে আদেশ করলো,

---- গাড়িতে ওঠো।

জেদ কম না দোয়ারও,

---- উঠবো না।

দিব্য কপালে হালকা স্লাইড করতে করতে বললো,

---- মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে দোয়া। গাড়িতে ওঠে বসো বলছি।

দোয়া দু পা পিছিয়ে যেতে যেতে বললো,

---- আপনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। সো আপনার সাথে যাওয়ার কোনো প্রয়ো...

কি করছেন ছাড়ুন আমায়, সাহস তো কম না। আপনাকে আমি জেলে পাঠানোর ব্যাবস্থা করবো।

দোয়া জোরেসোরে চিৎকার করতে লাগলো। দিব্য

পিছন থেকে পাঁজা কোলে তুলে নিলো দোয়াকে। গাড়ির কাছে আসতে নিলে দোয়ার চিৎকারে দুটো লোক তৎক্ষনাৎ দৌড়ে চলে এলো। হতবাক হয়ে জানতে চাইলো,

---- আরে আপনি? আপনি তো একজন পুলিশ অফিসার তা আইনের অপব্যবহার করতে লজ্জা করছে না আপনার ?

আরেকজন বললো,

---- ছেলেটা পুলিশ?

সাথের লোকটা বললো,

---- হ্যা কয়েকদিন আগে দোকানে ঝামেলা হয়েছিলো তখন এসেছিলো। অনেক বড় অফিসার

ওনি।

লোকটা ভয় পেলো না বরং সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বললো,

---- পুলিশ হয়ে নারী নির্যাতন করছেন? থানায় ফোন দেন তো ভাই। ওনার চাকরিটা থাকবে তো?

কত বড় সাহস একজন আইনের লোক যে কিনা নিরাপত্তা দিবে সে-ই রাতদুপুরে মেয়ে মানুষের সাথে খারাপ কাজ করার জন্য তুলে নিয়ে...

---- জাস্ট স্টপ!

দিব্য বোকাবনে গেলো। দোয়া ঠোঁট টিপে হাসছে। আবার রাগ ও আছে বেশ। ছাড়া পাওয়ার চেষ্টার কমতি রাখছে না সে।

দিব্যর কথায় প্রথম লোকটা বলে উঠে,

---- অন্যায় করছেন আবার আমাদের চুপ থাকতে বলছেন? পুলিশ বলে কি যা ইচ্ছে তাই করবেন?

আর সাধারণ মানুষ চুপচাপ তা দেখবে? এটা ভেবে থাকলে আপনি ভুল ভাবছেন। মেয়েটাকে ছাড়ুন নয়তে জনগণের গণপিটুনিতে না মৃত্যু বরণ করতে হয়।

দিব্য দোয়ার দিকে তাকায়। দোয়া হাসি থামিয়ে কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে দিব্যের দিকে। এমন যে ভয় আর রাগ হচ্ছে তার। সত্যি সত্যিই যেনো অন্য কেউ তাকে কিডন্যাপ করতে আসছে।

লোকটা আবার ও বললো,

---- ছাড়ুন মেয়েটাকে।

দোয়া ও সায় দিলো,

---- প্লিজ আমায় বাঁচান। আমাকে ওনি কিডন্যাপ করতে আসছে। প্লিজ আমাক...

---- চিন্তা করবেন না আমরা আছি এই ভাই আরো কয়েকজনকে ডাকুন তো। কতবড় সাহস মেয়েটাকে কোলে তুলে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

দিব্য সবার কান্ডকারখানা দেখছে কেবল। লোক

দুটোর দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বললো,

---- সী ইজ মাই ওয়াইফ। আমি আমার ওয়াইফ কোলে তুলে নিবো নাকি জোর করে নিবো সেটা আপনাদের বলতে হবে?

অবাকপানে তাকালো লোক দুটো দোয়ার মুখপানে

বললো,

---- কি বলছে অফিসার সত্যি?

দোয়া তড়িৎ মাথা নাড়লো। বললো,

---- নাহ! ওনি আমার কেউ না। আমি তো ওনাকে চিনিই না। ওনাকে বলুন আমায় ছাড়তে আমি বাড়ি যাবো। ওই তো সামনেই আমার বাসা৷

লোক দুটো বুঝতে পারলো না কি বলবে। যদি সত্যিই তারা হাজবেন্ড ওয়াইফ হয় তাহলে তো তাদের এখানে কথা বলা উচিত হয়নি। তার মধ্যে বিরক্ত হয়ে দিব্য বলে উঠে,

---- আমার বউকে আমি নিয়ে যাবো। যদি আপনাদের কোনো সমস্যা হয় তাহলে ওর সাথে আপনারা ও আসুন আমার বাসায়৷ আর যদি জেনে-বুঝে আমাকে বিরক্ত করেন তাহলে জেলের ভাত খেতে হবে রাত্রে। যাবেন?

এমনিতেই পুলিশ। আর পুলিশ হয়ে পাবলিকলি এভাবে জোর করতে পারবে বলে মনে হয় না। অন্তত চাকরি হারানোর ভয় তো থাকবেই। আর যদি তারা ঝামেলা করে নিজেদের বিপদ নিজেরা ডেকে আনবে তার থেকে ভালো হবে কেটে পড়া।

একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে কি বুঝলো কে জানে পিছু ঘুরে হাঁটা ধরলো। দোয়া মোচড়ামুচড়ি করতে করতে লোক দুটোকে ডাকতে লাগলো,

---- আংকেল যাবেন না৷ আমি ওনার কেউ নয়। ওনি পুলিশ নয় কিডন্যাপার। আমাকে বাচ...

---- আর একটা কথা বললে উপর থেকে একটা আছাড় মারবো সারাজীবন আমাকেই খুঁজবে।

চলো চুপচাপ আমার সাথে।

দোয়া দ্বিগুণ রাগ করলো। বললো,

---- যাবো না আমি। কে আপনি? আমি আপনাকে চিনি না।

দিব্য দোয়াকে গাড়িতে বসিয়ে দিলো ড্রাইভিং সিটের পাশে। অপরদিক দিয়ে নিজে ও বসলো।

বললো,

---- আমি চিনি এতেই অনেক৷

দোয়া দরজা খোলার চেষ্টা করলো পারলো না লক করা। আবার ও জোর করে চেঁচাতে লাগলো সে,

---- আমি ওই বাড়িতে আর আপনার জীবনে কখনোই যাবো না। আমাকে জোর করে নিলে আমি আবার ও চলে আসবো৷

দিব্য গাড়ি স্টার্ট করলো। বললো,

---- আমি বার বার নিয়ে আসবো। নো প্রবলেম।

---- কে বলেছে আমায় নিয়ে যেতে কার বাধ্যতায়

এসেছেন বলুন তো?

---- তুমি কোন সাহসে এতো রাতে একা একা বের হয়েছো তা আগে বলো তো?

---- আমার প্রশ্নের জবাব দিন আগে।

ড্রাইভিং করতে করতে জবাব দিলো দিব্য,

---- হয়তো মন।

হাসলো দোয়া।

---- মনটা তো দেখছি বড্ড বেঈমানী করছে আপনার সাথে। একজনকে ভালোবেসে অন্যজনকে চাইছে।

---- মন বেঈমানী করে না, করে মনমানসিকতা। আমরা কখনোই মন যা চাই তা পাই না কিন্তু, চেষ্টা করি যদি পাই অন্যায় ভাবে হলে ও আবার না পেলে আমরা থেমে যায় তারপর খুব করে মনকে বুঝিয়ে নেই এটা তোমার ভাগ্যে নেই। মেনে নেওয়ায় ভালো তোমার জন্য। তবে মন হয়তো মেনে নিলো। নয়তো তোমার অপেক্ষায় না থেকে তাদেরকে কষ্ট দিতাম যারা আমার সকল সুখ কেঁড়ে নিয়েছে। তার কাছ থেকে নিয়ে আসতাম যে আমার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটা আমার সামনে থেকে নিয়ে নিলো। কিন্তু পারিনি। আমি নিজেকে বুঝিয়ে নিয়েছি। আমি সব ভুলে যেতে চাই।

---- আমি চাই না। গাড়ি ঘুরান নয়তো গাড়ি থামান

আমি নামবো। প্লিজ! আমি বাসায় যাবো।

দিব্য গাড়ির স্প্রিড বাড়িয়ে দিলো। দোয়া কপাল কুঁচকালো। বললো,

---- বলছি গাড়ি থামাতে স্প্রিড বাড়াচ্ছেন কেন?

---- তোমার ওইটা বাবার বাড়ি আর আমার বাড়িই তোমার নিজের বাড়ি।

তাচ্ছিল্যের হাসলো দোয়া। বড্ড অবহেলায় বললো

সে,

---- মেয়েদের আবার বাড়ি হয় নাকি? তাহলে কেউ তাড়িয়ে দিতো না আর কেউ বিরক্ত ও হতো না।

মেয়েদের বাড়ি হয় না। হয়তো বাপের বাড়ি থেকে কথা শুনে স্বামীর বাড়ি নয়তো স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি যেতে হয়। এমন কোনো বাড়ি নেই যেখান থেকে কেউ বলতে পারবে না চলে যাও। আবার কারোর অনুমতি ও লাগবে না। আর যেখানে পাশে থাকার মানুষটাই অন্যের জন্য ভাবে তার অপেক্ষায় থেকে নিজেকে ধ্বংস করার কোনো মানে নেই।

দিব্য তাকালো দোয়ার হাহাকারময় কথাগুলো শুনে। মেয়েটা কষ্ট পাচ্ছে ভীষণ। কিন্তু দিব্য কি তাকে কষ্ট দিয়েছে? কই তার তো এমন মনে হচ্ছে না। এই বিয়েতে না দিব্য দোয়াকে চাই আর না দোয়া দিব্য কে। তাহলে কিসের কষ্ট কিসের অভিমান? বরং কষ্ট দিব্য পেয়েছিলো দোয়াকে দূরে সরিয়ে। খারাপ লাগা কাজ করতো। কিন্তু দোয়া ও কি তারই মতো কষ্ট পাচ্ছে?

---- আমি তো তোমায় তাড়িয়ে দিইনি।

---- থাকতে দিয়েছেন নাকি?

দোয়া আড়ালে চোখ মুছলো। চোখ এড়াইনি দিব্যর

দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে ফের গাড়ির স্প্রিড বাড়ালো। দোয়া একইভাবে বললো,

---- আমাকে অযথা নিয়ে যাচ্ছেন কেন আমি তো ওই বাড়িতে যাবো না। আমি আমার বাবার বাড়িতে যাবো।

---- ছিলো একসময় এখন স্বামীর বাড়িই তোমার বাড়ি।

---- স্বামী নেই আমার। ফালতু কথা বন্ধ করে আমায় বাসা দিয়ে আসেন।

---- প্রমান করতে পারবে? পারলে চলে যেয়ো বাঁধা দিবো না।

---- কেন আছে তো ডিভোর্স!

দিব্য কোনো উত্তর দিল না। স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলো। দোয়ার শেষ কথাটা যেন বুকের ভেতর কোথাও গিয়ে বিঁধেছে।

গাড়ির ভেতর নেমে এল ভারী নীরবতা। দোয়া তাকালো আড়চোখে, লোকটার মধ্যে কোনো অস্থিরতা নেই তাট জন্য। হারাবে কি সে আগলেই তো রাখেনি কোনোদিন। তার নীরবতাই বলে দিচ্ছে দোয়ার না থাকাই শ্রেয়। হঠাৎ দোয়া গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,

---- পানি খাবো।

দিব্য ভ্রু কুঁচকে তাকালো। বললো,

---- এখন?

দোয়া স্বাভাবিক ভাবে বললো,

---- হ্যাঁ। খুব পিপাসা পেয়েছে।

দিব্য চারপাশে তাকালো। কোনো দোকান নেই। চারপাশটাই জঙ্গল।

তাকালো দিব্য দোয়ার দিকে। বললো,

---- পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে পারবে?

---- পারব না।

দিব্য দীর্ঘশ্বাস ফেললো। দ্রুত সামনে যেতেই রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি দোকান চোখে পড়তেই গাড়ি থামিয়ে দিলো সে,

---- আমি পানি নিয়ে আসছি খবরদার পালানোর চেষ্টা করবে না। চুপচাপ বসে থাকো৷

দোয়া নির্বিকার মুখে বললো,

---- আমি আবার কী করবো?

দিব্য সন্দেহভরা চোখে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে নেমে গেলো।

দোয়া জানালার বাইরে তাকিয়ে নিশ্চিত হলো দিব্য দোকানদারের সঙ্গে ব্যস্ত। মুহূর্তেই চুলে গোঁজা কালো কাঁটিটা খুলে নিলো। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো এক চিলতে দুষ্টু হাসি। বললো,

---- আমাকে জোর করে নিয়ে যাবেন আপনি? ঠিক আছে নিয়ে যান আমায় মিস্টার পুলিশ, অন্যায় করবেন আর পানিশমেন্ট পাবেন না? দেখুন এবার দোয়া কি করে,

দোয়া সাবধানে হাত বাড়িয়ে সামনের চাকার গায়ে কাঁটাটা বসিয়ে দিলো জোরে।

---- ফুসসস...

বাতাস বেরোনোর শব্দ শুনেই কাঁটাটা আবার চুলে গুঁজে ফেললো দোয়া।

দিব্য ফিরে এলো কিছুক্ষণ পর। এক হাতে পানির বোতল। পানির বোতলটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো,

---- এই নাও পানি।

দোয়া পানির বেতলটা নিলো। এমনিতেও পানি পিপাসা পেয়েছে অনেক। পানি খেয়ে শুধালো সে,

---- ধন্যবাদ!

দিব্য কিছু না বলে আবার গাড়ি স্টার্ট দিলো।

কয়েক মিনিট পরই হঠাৎ গাড়ি কেঁপে উঠে ধীরে ধীরে থেমে গেলো।

দিব্য বিরক্ত হয়ে আবার স্টার্ট দিলো। কোনো লাভ হলো না। নেমে দেখতেই বুঝতে পারলো দিব্য সামনের চাকা পুরোপুরি বসে গেছে। টায়ার পাঞ্চার। সে ধীরে ধীরে মাথা তুলে দোয়ার দিকে তাকালো। দোয়া জানালার বাইরে মুখ করে বসে আছে। ঠোঁটের কোণে হাসিটা লুকানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছে। তবুও হাসি থামছে না।

দিব্য মৃদু হেসে ফেললো। বুঝতে বাকি নেই তার,

বললো,

---- নামো।

দোয়ার বিরক্তিকর ভাব,

---- কেন?

---- অপরাধ করেছো পানিশমেন্ট পাবে না?

---- মানে?

দিব্য বুকে হাত গুঁজে বাইরে দাঁড়িয়েই বললো,

---- চাকা নিজে নিজে ফুটো হয়নি। আর তোমার মুখই বলে দিচ্ছে আসলে অপরাধীটা কে।

দোয়া মাথা নাড়লো। বললো,

---- মানে? আপনি বলতে চাচ্ছেন আমি করেছি এই কাজ? আপনি দেখেছেন?

---- উহুম!

দোয়া শ্বাস ছেড়ে বললো,

---- তাহলে তো আমি নির্দোষ।

দিব্য কথা বাড়লো না। মেয়েটা যতোই রেগে থাকুক না কেন তার চঞ্চলতা এখনো পুরোপুরি যায়নি। দোয়া বের হয়ে আসতেই দিব্য গাড়ির দরজা বন্ধ করে চাবিটা পকেটে রাখলো। বললো,

---- এবার হেঁটে যাবে শশুর বাড়ি সুন্দর না ব্যাপারটাহ?

---- পুরো রাস্তা হাঁটবো?

---- ইচ্ছে করলে হাঁটবে আমি তো বাড়ি অব্দি গিয়ে থেমে যাবো।

দোয়া বিব্রত হলো। চুপচাপ দুজন পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করলো। রাতের বাতাসে দোয়ার এলোমেলো চুল বারবার মুখের ওপর এসে পড়ছে।

হাঁটতে হাঁটতেই দোয়া হঠাৎ একটা টং দোকান সামনে থেমে গেলো।

ফের গম্ভীর স্বরে রাগ বজায় রেখে বললো,

---- চা খাবো।

দিব্য অবাক হয়ে তাকালো।

---- এখানে চা খাবে এতো রাতে? বাসায় যায় তারপর খেয়ো।

---- আমার ইচ্ছে আমি খাবো। আপনি চলে যান।

---- খেতে হবে না চলো আমার সাথে।

---- যাবো না আমি।

ব্যর্থ হয়ে দিব্য অসহায় মুখে দোকানদারকে বললো,

---- দুই কাপ চা দিন মামা।

চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দোয়া ধীরে ধীরে চুমুক দিলো। অনেকদিন পর তার মুখে শান্তির ছাপ ফুটে উঠেছে। প্রিয় মানুষটার পাশে বসে এভাবে খাওয়াটা তার কাছে ভীষণ সুন্দর অনুভূতি।

দিব্য ও সেটা লক্ষ্য করছিলো। দিব্যর হাতের পাশে দোয়ার হাত। সাহস করে ছুঁতে গিয়ে ও পারলো না।

চা শেষ করে আবার হাঁটতে শুরু করতেই রাস্তার পাশে ছোট্ট একটা ফুলের দোকান চোখে পড়লো দোয়ার । দোয়া অজান্তেই দাঁড়িয়ে গেলো। তার দৃষ্টি আটকে রইল সাদা সাদা গোলাপে। দিব্য কিছু না বলে দোকানদারকে বললো,

---- একটি সাদা গোলাপ দিন তো। সাথে বেলি ফুলের মালা দিবেন।

দোয়া অবাক হয়ে তাকালো।

---- আমি তো চাইনি। আমার লাগবে না।

দিব্য একটি সাদা গোলাপ দোয়ার কানের পাশে গুঁজে দিলো মালাটি হাতে পড়িয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বললো,

---- সব চাওয়া মুখে বলতে হয় না।

আসছে আনরুমান্টিক জামাই একটা। রাগ ভাঙানোর বদলে রাগ বাড়িয়ে তুলে শুধু। দোয়া কিছুই বললো না শুধু বুকের সঙ্গে ফুলসহ হাতটাকে আলতো করে জড়িয়ে নিলো দিব্যের আড়ালে। চুমু খেলো কয়েকটি। সেই প্রথম, তিন মাসের জমে থাকা অভিমানের দেয়ালে খুব ছোট্ট একটা ফাটল ধরলো বোধহয়।

দোয়া নিজেকে চতুর ভাবলে ও দিব্য সেটা বরাবরই লক্ষ রেখেছে। ঠোঁটের কোণে প্রশান্তিময় হাসি ফুটে ওঠেছে। কিছু না বলে দুজন হাঁটতে লাগলো আবার। দোয়া কিছু বললো না তবে মনে মনে খুশি। রাতের নরম বাতাসে বেলি ফুলের মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। সেই সুবাসের মাঝেই অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে এলো দু'জনের মাঝে।

দিব্য আড়চোখে একবার দোয়ার দিকে তাকালো। মেয়েটা এখনও মুখ ভার করে আছে, কিন্তু সেই মুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোমল অনুভূতিটা আজ প্রথমবারের মতো স্পষ্ট দেখতে পেলো সে।

দোয়া অনুভব করল দিব্যের দৃষ্টি তার ওপর স্থির। তবুও মুখ তুলে তাকাল না। কারণ সে জানে, একবার চোখে চোখ পড়ে গেলে হয়তো এতদিনের অভিমানগুলো আর আগের মতো শক্ত হয়ে থাকবে না।

কিছু কিছু দূরত্ব শব্দে কমে না, কমে নীরবতায়।

কিছু কিছু সম্পর্ক ক্ষমা চেয়ে ফিরে আসে না, ফিরে আসে নিঃশব্দ যত্নে। আজও কেউ কাউকে ভালোবাসি বলেনি। তবু রাস্তার নির্জনতায় পাশাপাশি ফেলে আসা প্রতিটি পদচিহ্ন যেন সাক্ষী হয়ে রইলো তাদের গল্পটা শেষ হয়ে যায়নি। বরং তিন মাসের দীর্ঘ নীরবতার পর, অজান্তেই হয়তো আবার নতুন করে শুরু হলো দু'টি অভিমানী হৃদয়ের পথচলা।

____________________

---- ব্রো বিয়ে করলে রান্না করতে হয় বুঝি?

চমকালো তাসির। পাশে তাকিয়ে তৎক্ষনাৎ জিজ্ঞেস করলো,

---- ত'তুই এসময়?

রাতুল কোমরে হাত ঠেকিয়ে ফের বললো,

---- আমার কথার জবাব দে আগে।

তাসির হাহুতাশ করে বললো,

---- শুধু রান্না নয় রে বোকা, বিয়ে করলে রান্না করতে পারবি, বউয়ের আনলিমিটেড বকবক শুনতে পারবি, সরি বলতে বলতে আধমরা হতে পারবি, জীবন তেজপাতা হলেও হাসতে পারবি। মানে আমৃত্যু শান্তিতে থাকতে পারবি।

রাতুল শুনেছিলো দরজার কাছ থেকে তাসির ও দোয়েলের কথা। তারপর এখন এই অবস্থা। যা বোঝার বুঝে গিয়েছে সে। যেনো কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করলো। বললো,

---- থাক ব্রো আমার শান্তি লাগবে না। ভাবছিলাম

বিয়ে করলে শান্তি পাবো. কিন্তু তোর যা অবস্থা বিয়ের সাধ আমার চোখের দেখায় মিটে গিয়েছে।

নুডুলস রান্না করেছে তাসির। শেষ প্রায়। বললো,

---- আরে নাহ! বিয়ে কর। সব বউ রিনা খান হয়

না রে কিছু বউ সাবানা ও হয় যেমন ধর মেঘ।

---- আমি রিনা খান?

দুজনেই পিছনে তাকালো। দোয়েলের ক্ষিপ্ত দৃষ্টি দেখে রাতুল বলে উঠে,

---- এখানে কি আমার থাকা উচিত হবে? না মানে মনে হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ হতে চলেছে।

হাত চেপে ধরলো তাসির। ফিসফিস করে বললো,

---- যাবি না ভাই। তোর অছিলাতে আমি বেঁচে যাবো নয়তো কান আমার আজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।

দোয়েল রেগে গিয়েছে বেশ। বললো,

---- রাতুল ভাইয়া আপনি ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসুন। আমরা আসছি।

রাতুল নরম মৃদু স্বরে বললো,

---- দোয়েল মজা করেছে ও তুমি তো আমার বোন হও। ভাইয়ের সামনে বোনকে মজা করে বলতেই পারে।

দোয়েল মৃদু রাগ করলো। বললো,

---- আমি ওনাকে মেরেছি জিজ্ঞেস করুন তো?

ওনার ভালোর জন্য একটু শাসন করি সে কারনেই আমি রিনা খান। আমার নাম নেই? থাকবো না আমি এখানে।

তাসির নিজের ভুলটা বুঝতে পারে। দ্রুত দোয়েলের হাত চেপে ধরলো৷ করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে নরম স্বরে বলে উঠে,

---- সরি দোয়েলপাখি আর হবে না৷ কোথাও যাবে না তুমি।

দোয়েল কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,

---- নাহ আমি আপনাকে জ্বালাতে চাই না।

তাসির হাসলো বললো,

---- বোকা মেয়ে আমি তো মজা করে বলি। তুমি একদিন না থাকলে এই শাসনকে আমি বড্ড মিস করি। আর যে ভালোবাসে সে শাসন ও করতে পারে৷

দোয়েল শান্ত হলো। পাশ থেকে রাতুল খুশি হলো।

নাহ বিয়ে করাই যায় মন্দ না বউকে মাঝেমধ্যে রান্না করে খাওয়ানোই যায়। আগে রান্না শিখতে হবে তারপর বিয়ে। তাড়াহুড়ো করে বলে উঠে রাতুল,

---- আমি যায় এখন। তোমরা ভালো থেকো।

দোয়েল সাথে সাথে বলে উঠে,

---- আরে ভাইয়া খেয়ে যান।

---- না দোয়েল এমনি আসছিলাম। পরে একদিন এসে খাবো।

---- সাবধানে যা।

----- আচ্ছা।

রাতুল চলে যেতেই তাসিররে হাত ধরে দোয়েল টেবিলের কাছে এসে চেয়ারে বসালো। নিজে নুডলস এনে খাইয়ে দিলো। তাসির বেশ খুশি হয়।

মেয়েটা তাহলে রাগেনি। দোয়েল হেসে উঠলো শব্দ করে। তাকে যে পাগল ছেলেটা বড্ড ভালোবাসে।

---- ভালোবাসি মিস্টার তাসির।

---- ডাবল ভালোবাসি দোয়েলপাখি।

আবার ও হেসে উঠলো দুজন।

____________________

রাত অনেকটা গড়িয়ে গেছে। ঘরের মৃদু হলুদ আলোয় বিছানার এক কোণে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে মেঘ। মুখটা কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। সারাদিনের ক্লান্তি চোখেমুখে স্পষ্ট। পাঁচ মাসের এই সময়টায় শরীরটা যেন প্রতিদিন নতুন নতুন অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে সে। কখনো হঠাৎ কোমরের টান, কখনো তলপেটে হালকা ব্যথা, আবার কোনো কারণ ছাড়াই বমি বমি ভাব। শরীরের এই বদলে যাওয়া ছন্দে মাঝেমধ্যেই ভীষণ অস্থির লাগে মেঘের। কিছুক্ষণ আগেই বমি করে এসেছে মেঘ । তাই আরও অবসন্ন দেখাচ্ছে তাকে। শ্রাবণ ধীরে ধীরে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি আর ওষুধ নিয়ে মেঘের পাশে এসে বসলো। মেঘ মুখ ফিরিয়ে নরম গলায় বলল,

----- খেতে ইচ্ছে করছে না। আর ওষুধও খাবো না।

শ্রাবণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেঘের এলোমেলো চুলগুলো কানের পেছনে সরিয়ে দিলো। আদুরে স্বরে বললো,

---- আমার লক্ষ্মী মেঘফুল এমন করলে হবে? তুমি শক্ত না থাকলে আমাদের ছোট্ট দু'জনও তো কষ্ট পাবে। চলো, ওষুধটা খেয়ে নাও তো।

মেঘ ঠোঁট ফুলিয়ে অভিমানী চোখে তাকালো শ্রাবণের দিকে। বললো,

---- সবসময় শুধু ওদের কথাই বলেন। আমার কষ্টটা বোঝেন আপনি?

শ্রাবণ মৃদু হেসে মেঘের দুই গাল আলতো করে ছুঁয়ে বললো,

---- ওদের কথা বলি মানে তো তোমারই কথা বলি। কারণ তোমাকে ছাড়া ওদের অস্তিত্বই বা কোথায়? আমার পৃথিবীর শুরু আর শেষ দুটোই তো তুমি।

কথাগুলো শুনে মেঘের অভিমানটা একটু নরম হলো। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওষুধটা খেয়ে নিলো মেঘ।

ওষুধ খেয়ে আবারও শ্রাবণের কাঁধে মাথা রাখতেই চোখ দুটো ভারী হয়ে এলো। ক্লান্ত গলায় ফিসফিস করে বললো

---- খুব খারাপ লাগছে।

মেঘের কথা শুনে শ্রাবণের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। সে মেঘের কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে আলতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।

ঘরের ভারী পরিবেশটা ও মেঘের মনটা হালকা করার জন্য হঠাৎ করেই গম্ভীর মুখে বললো,

---- শোনো, আমার খুব সন্দেহ হচ্ছে।

মেঘ কষ্টের মাঝেও ভ্রু কুঁচকে তাকালো শ্রাবণের দিকে। জিজ্ঞেস করলো ক্ষীণ স্বরে,

---- কী সন্দেহ ?

শ্রাবণ আগের মতোই বললো,

---- আমার মনে হয়, আমার দুই প্রিন্স অথবা প্রিন্সেস সারাদিন তোমার পেটে বসে মিটিং করে আজ আম্মুকে একটু বেশি বিরক্ত করা যাক!

এক মুহূর্ত চুপ থেকে শ্রাবণ আবার বললো,

---- আর আমি? আমি বাইরে বসে তাদের বিরুদ্ধে একা একা প্রতিবাদ করি। কিন্তু কেউ আমার কথা শোনে না!

মেঘের মুখে অনিচ্ছার মাঝেও এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। শ্রাবণ সেটা দেখেই আরও নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো,

---- দেখো, হাসছে! নিশ্চিত ওরা ভেতর থেকে বলছে আব্বু, মিশন সাকসেসফুল!

এবার আর নিজেকে সামলাতে পারলো না মেঘ। ক্লান্ত শরীর নিয়েও খিলখিল করে হেসে উঠলো সে। সেই হাসির শব্দে যেন কিছুক্ষণের জন্য সমস্ত অস্বস্তি, ক্লান্তি আর ব্যথা দূরে সরে গেলো মেঘের।

শ্রাবণ তৃপ্ত চোখে তাকিয়ে রইলো মেঘের মুখপানে। তার কাছে এই হাসিটুকুই ছিলো পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ওষুধ নিজের মন ভালো রাখতে । মেঘের মুখে হাসি থাকলেই মনে হয়, পৃথিবীর সব কষ্টকে সে অনায়াসে হারিয়ে দিতে পারবে। তার জীবনে কোনো কষ্ট নেই। মেঘের খিলখিল করে হাসিটা ধীরে ধীরে থেমে এলো । হাসির রেশ এখনও ঠোঁটের কোণে লেগে আছে, কিন্তু সারাদিনের ক্লান্তি আর শরীরের অবসাদ চোখ দুটোকে ক্রমশ ভারী করে তুলছে। শ্রাবণ মৃদু হেসে মেঘের নাকটা আলতো করে টেনে দিলো। বললো,

---- এই তো আমার সাহসী মেয়ে। একটু আগেও বলছিলে আর পারছো না, এখন আবার হাসতেও পারছো!

মেঘ চোখ বন্ধ করেই বিড়বিড় করে বললো,

---- আপনি না.. একদম ভালো না। আমার সব অভিমান হাসিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন।

শ্রাবণ বললো,

---- বলেছিলাম না অভিমান কষ্ট এসব মনের মধ্যে জমিয়ে রাখতে নেই অনুভূতিহীন বাতাসের নিকট

উড়িয়ে দিতে হয়, বিলিয়ে দিতে হয়। আর সেই দায়িত্বটাই তো আমার।

মেঘ আর কিছু বললো না। নিঃশব্দে আরও একটু সরে এসে শ্রাবণের বুকের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিলো। সেই প্রশস্ত বুকটাকেই যেন এই পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা মনে হয় তার। শ্রাবণ আলতো করে ছাদর টেনে মেঘের গা ঢেকে দিল। তারপর এক হাত মেঘের মাথায়, আরেক হাত স্নেহভরে তার স্ফীত উদরের ওপর রেখে ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। ধীর গলায় মৃদুস্বরে বললো,

---- এত কষ্ট দিও না তোমাদের আম্মুকে। একটু শান্তিতে থাকতে দাও। তোমরা সুস্থ থেকো, আর তোমাদের আম্মুটাকেও ভালো রেখো।

খুব আস্তে বলল শ্রাবণ। মেঘ আধোঘুমের মধ্যেই মৃদু হেসে ফিসফিস করলো,

---- ওরা শুনছে... আপনি যা বলছেন, সবই শুনছে।

শ্রাবণের ঠোঁটে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠলো। বললো,

---- শুনুক। জন্মের আগেই যেন জেনে যায়, তাদের আম্মুকে আমি পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসি।

কথাটা শেষ হতে না হতেই মেঘের শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে বাড়তে লাগলো। চোখের পাতাগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে এলো। ক্লান্ত শরীরটা অবশেষে শান্তির স্পর্শ পেলো। শ্রাবণ অনেকক্ষণ নীরবে তাকিয়ে রইল ঘুমন্ত মেয়েটার দিকে। কপালের ওপর নেমে আসা একগুচ্ছ চুল আলতো করে সরিয়ে সেখানে গভীর ভালোবাসার একটি চুম্বন এঁকে দিলো।

জানালার ফাঁক গলে আসা রাতের মৃদু বাতাস পর্দা দুলিয়ে যাচ্ছিল। চারপাশে নেমে এসেছিল এক অনাবিল নীরবতা। সেই নীরবতার মাঝেই শ্রাবণ নিজের বুকের ভেতর আরও শক্ত করে আগলে রাখলো তার ছোট্ট পৃথিবীটাকে। একদিকে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা তার প্রিয় মেঘফুল , আর একদিকে তাদের ঘীরে দুজন। কবে আসবে তারা?

কবে সবাই ভালো থাকবে? এই রাতগুলো পার করছে তারা যেমন কষ্টেরও, আবার তেমন পরম প্রশান্তিরও। কারণ দিনের সমস্ত অস্বস্তি, ব্যথা আর ক্লান্তির শেষে মেঘের মুখে ফুটে থাকা তৃপ্তির সেই ক্ষীণ হাসিটুকুই শ্রাবণের কাছে পুরো পৃথিবী জয়ের সমান মনে হয়।

চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন