#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান — ৩৮
#তাসনিম_লিজা
---- কপি নিষিদ্ধ!
আহমেদ ভিলার সামনে আসতেই দোয়ার পা জোরা থেমে গেলো। কয়েক পা সামনে এগিয়ে দিব্য বুঝতে পারলো দোয়া আসছে না। পিছু ঘুরে তাকাতেই দেখতে পেলো দোয়ার অশ্রু সিক্ত টলমল করা চোখে তাকিয়ে আছে বাড়িটার দিকে।
দিব্য ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো। বললো,
---- দোয়া ভেতরে আসো।
---- কোন অধিকারে? কেন যাবো আমি? যাবো না।
দিব্য দোয়ার কথা শুনে কয়েক পা এগিয়ে গেলো।
নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিলো দোয়ার হাতের দিকে
বুঝতে পেরে দোয়া নিজের হাত গুটিয়ে নিলো তৎক্ষনাৎ। দিব্যর অসহায় চাহনি দোয়ার পানে
অসহায় স্বরে বললো,
---- আমার ওয়াইফ তুমি দোয়া। একজন ওয়াইফ তার হাসবেন্ডের বাসায় যাবে সেখানে আর কিসের অধিকার থাকতে পারে?
নিস্তব্ধ রাত হলেও নরম স্বরে বলা কথাগুলো তীব্র আওয়াজ তুললো জায়গাটাতে। দোয়া চোখ তুলে তাকালো দিব্যের দিকে। বাস্তবতা চাচ্ছে তীব্র রাগ দেখাতে আর মন চাচ্ছে ছুটে যেতে সেই অধিকারে
লোকটার প্রশস্ত বক্ষপটে। নিজেকে সামলালো। ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকানোর চেষ্টা করলো৷
বললো,
---- আগে কোথায় ছিলো সেই অধিকার?
দিব্য পকেটে দু হাত গুঁজলো। সামান্য ঝুঁকলো।
বললো,
---- ভালোবাসতে বুঝি?
দোয়া চকিত দৃষ্টিতে তাকালো। বুকের ভেতরটা কেমন ধুকপুক করতে লাগলো। স্পষ্ট স্বরে বলে উঠে,
---- নাহ!
অভিমানী দোয়া সত্যি বলছে না তার মুখ দেখেই বুঝতে পেরেছে দিব্য। দিব্য মৃদু হেঁসে বললো,
----- আমাকে বুঝলে তুমি অভিমান তো দূর নিজেই
সামান্য শান্তনা দেওয়ার কথা ভাবতে। আমি কি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম জানতে না তুমি?
দিব্যর দিকে কপাল ভাঁজ করে তাকালো দোয়া।
সত্যিই তো যে মানুষটা অন্য একজনকে এতোটাই ভালোবাসতো যে নিজের জীবনের পরোয়া করলো না। আর যে মানুষটা অন্য কারোর হয়ে গেলো তা দেখে কিভাবে ঠিক থাকবে দিব্য? তার মধ্যে যে ঝড় বয়ছে তার সাথে তো দোয়া পরিচিত ছিলো না সে নিজের রাগ অভিমান নিয়ে পড়ে ছিলো। সবসময় সে, সামান্য সময়, একটু এটেনসন, একটু যত্ন ব্যাস এইটুকুই। কিন্তু সে তো দিব্যর মনের অবস্থার খবর রাখেনি রেখেছে নিজের দিকটা। আচ্ছা অন্যায়টা আসলে কার? নিজের না দিব্যর নাকি দুজনের ভুল বুঝাবুঝির কারনে।
----- গুলিয়ে যাচ্ছে সব তাই না?
দোয়া কিছুই বলতে পারলো না৷
হঠাৎ হাঁটু মুড়ে বসলো দিব্য দোয়ার সামনে। হাতটা
বাড়িয়ে দিলো দোয়ার সামনে। দোয়া অবাক হলো
দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো দিব্যর চোখের দিকে, দিব্য হাসি মুখে বলে উঠলো,
---- আমাকে কি একটা সুযোগ দিবে তোমাকে ভালোবেসে আগলে রাখার? দেবে কি একটু যত্ন করে হাতে হাত রেখে পাশাপাশি হাঁটার? ব্যাস এইটুকুই। হবে কি পথচলার সাথী? প্লিজ!
---- লাভ মি আ লিটল... ইট মাইট জাস্ট সেভ মি।
শব্দ করে কেঁদে উঠলো দোয়া। দিব্য ঝটপট দাঁড়িয়ে গেলো। হতবাক হয়ে শুধালো,
---- কাঁদছো কেন? আমি কি ভুল কিছু বলেছি?
আকস্মিক দোয়া দিব্যের বুকে এসে আছড়ে পড়লো। দিব্য খানিকক্ষণের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলো। অতঃপর বুঝতে পেরে স্মিত হেসে দুহাতের বন্ধনে আবদ্ধ করে নিলো দোয়াকে পরম আদুরে। দোয়া কাঁদতে কাঁদতে ভাঙা স্বরে বলে উঠলো,
---- ভীষণ ভালোবাসি আমি আপনাকে। আপনার এড়িয়ে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারিনি। আমাকে
অবহেলা করবেন না। শুধু একটিবার আটকালে কখনোই যেতাম না আর না আপনার কারণে মৃত্যু যন্ত্রণার ন্যায় মানুষের কথা শুনতাম।
দিব্য হাসলো। কপালে এলোমেলো কয়েকটা চুমু খেলো। আর একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,
---- আই এম সরি মিসেস। আমি তোমায় কখনোই
কাঁদতে দিবো না। এভাবেই আগলে রাখবো সারাজীবন।
ফের পাঁজা কোলে নিয়ে নিলো দিব্য দোয়াকে। এখন আর কোনো জোর কাটালো না দোয়া দিব্যর থেকে ছাড়া পাওয়ার বরং আবেশে আলিঙ্গন করে নিলো প্রিয় মানুষটাকে।
দারোয়ান ঠোঁট টিপে হাসলো। গেইট খুলে দিতেই
বাড়ির সদর দরজা অব্দি যেতেই নামতে ছটফট করতে লাগলো দোয়া। বললো,
---- নামান আমায়।
দিব্য নামালো না বরং বললো,
---- কেন?
---- আব্বু আম্মু দেখলে কি ভাববে বলুন তো?
দিব্য হাসি মুখেই বলে উঠে,
---- মোটেও না৷ বরং তাদের মেয়েকে নাকি আমি কষ্ট দিয়েছি। আগলে রাখেনি বলেই তো চলে গিয়েছে এখন তাদের সামনে ও তো আগলে রাখতে হবে তাই না?
দোয়া ক্ষেপাটে স্বরে বলে উঠে,
---- আপনি তো অসভ্য দেখছি। লাই দিয়েছি বলে বেশি করছেন দেখছি।
---- অসভ্য হতে হয় শুধু বউয়ের ক্ষেত্রে। না হলে বউ রাগ করে?
দোয়া কপাল কুঁচকালো। বললো,
---- আপনি কি ভেবেছেন আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি? ইহুম! আমি আপনাকে ক্ষমা করবো না সেদিন আমাকে দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য। আর আপনার অতীত নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।
দিব্য দোয়ার কপালে নিজের কপাল ঠেকালো।
নেশাতুর স্বরে বললো,
---- পাখিকে উড়তে দিয়েছিলাম যদি সে নিজ নীড়ে ফিরে আসে তাহলে সে আমার৷
---- আমার আত্মসম্মান আছে মিস্টার। আমি যদি তার উল্টোদিক ভাবি আপনি আমায় তাড়িয়ে দিয়েছেন। আমায় আপনি চান না। আমার প্রতি বিরক্ত, এবং আমার না থাক...
---- আর একটা কথাও না। ঘুরেফিরে একই কথা।
---- অবশ্যই বলবো। প্রথমত আমাকে বিয়ে করার পানিশমেন্ট দ্বিতীয়ত আমাকে তাড়িয়ে দেওয়ার পানিশমেন্ট দুটো একসাথে অনেকক হবে তাই না?
কি পানিশমেন্ট দেওয়া যায় বলুন তো?
দিব্য কলিংবেল চাপতে নিলে থামিয়ে দিলো দোয়া
বললো,
---- উহুম আমাকে নামান তারপর। আমি লজ্জায় পড়তে চাচ্ছি না।
---- তুমি আমার, আমার কাছেই থাকবে।
---- লোক দেখানো সম্পর্ক আমি চাই না বোকা পুলিশ। আরে না আপনি তো অনেক চালাক।
দিব্য ফিচেল হাসলো। বললো,
---- চালাক এবং বোকা সবই তোমার উপর নির্ভর করে মিসেস দিব্য আহমেদ। আমি আপনার কাছে আপনার বোকা পুলিশ হয়েই থাকতে চাই।
হঠাৎ দরজা খোলার কটকট শব্দে দোয়া তাড়াতাড়ি বলে উঠে,
---- নামান বলছি কেউ আসছে। প্লিজ!
---- উহুম দেখুক আমি আমার বউকে কতটা ভালোবাসি।
---- ভালোবাসা না ছাই সেটা আমি জানি। আগে দয়া করে নামান বলছি।
দরজা খুলতে খুলতে নামিয়ে দেয় দোয়াকে। নিজেকে ঠিকঠাক করে সামনে তাকাতেই দেখে ফাইজা বেগম। চিন্তিত ভ্রুঁ জোরা টান টান হয়ে হাসি ফুটিয়ে বলে উঠেন তিনি,
---- তোমরা? দোয়া এসেছো তুমি? আমি তো টেনশনে বার বার বাইরে এসে দেখছিলাম ছেলেটা আসলো কি না।
---- আসসালামু আলাইকুম আম্মু। ভালো আছেন?
তিনি অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন দোয়ার দিকে। পরনে বাসার পুরনো কাপড়। তাছাড়া মেয়েটা বোরকা ছাড়া বেরই হয় না সেখানে এমন অবস্থা নিশ্চয়ই জোরজবরদস্তি করেছে তার ছেলে। তিনি কথা না বাড়িয়ে বলে উঠেন,
---- দ্রুত ভেতরে আসো তোমরা।
দিব্য দোয়ার হাত ধরে ভেতরে নিয়ে আসলো৷ দিব্য
দোয়াকে দেখে বসে থাকা জাহাঙ্গীর আহমেদ হাসি মুখে বলে উঠেন,
---- দেখেছো ফাইজা বলেছিলাম না ছেলেটা খালি হাতে ফিরবেই না।
দিব্য মুচকি হাসলো। কেন জানি মনটা তার হালকা
লাগছে। মনে হচ্ছে সব ঠিকটাক হয়ে গিয়েছে। নেই কোনো কষ্ট আর নেই কোনো না পাওয়ার হাহাকার। সব ভুলে নিজেকে ভালো রাখতে চাই এবং যে তার অর্ধাঙ্গিনীকে ভালোবাসতে চাই।
ফাইজা বেগম দোয়েলের কাছে এসে গালে আলতো হাত রেখে চিন্তিত স্বরে বললেন,
---- দোয়া মুখটা তো শুঁকনো লাগছে। খাওনি কিছুই চলো আমার সাথে আমি খাইয়ে দিচ্ছি তোমায়।
দোয়া দিব্যের দিকে তাকাতেই ইশারা করলো সে দোয়াকে যাওয়ার জন্য ফাইজা বেগম এর সাথে।
দোয়া গেলো দিব্য রুমে চলে আসলো। ফাইজা বেগম নিজ হাতে স্বযত্নে খাইয়ে দিতে লাগলো। এটা সেটা বলে গল্প করতে লাগলো। তবে বেশিক্ষণ সেটা স্থায়ী হলো না৷ জাহাঙ্গীর আহমেদ ও ফাইজা বেগম সাথে দোয়ার কথাবার্তার মধ্যে ফের কলিংবেল বাজার শব্দ হতেই তিন জোরা চোখ তাকালো সদর দরজার দিকে। জাহাঙ্গীর আহমেদ
ফাইজা বেগম ও দোয়াকে বসতে বলে নিজে ওঠে দাঁড়ালেন,
---- তোমরা বসো আমি দেখছি কে এসেছে এতো রাতে।
দরজা খুলতেই দুজন মানুষ হুড়মুড় করে ভেতরে আসলো। জাহাঙ্গীর আহমেদ অবাক হয়ে শুধালেন,
---- আপনারা?
---- আমার মেয়ে কোথায়? তাকে কেন কিডন্যাপ করেছেন আপনারা?
ফয়সাল আহমেদ কথাটা বলতে বলতেই পুলিশ এসে হাজির হলো বাড়িতে। পুলিশকে দেখেই দূর থেকে ফাইজা বেগম ও দোয়া দাঁড়িয়ে গেলো বসা থেকে। ফাতেমা খানম মেয়েকে দেখতে পেয়ে দ্রুত ছুটে যায় মেয়ের কাছে। কাঁদো কাঁদো গলায় বলে উঠে,
---- দোয়া তুই ঠিক আছিস তো মা? আমরা এসে গিয়েছি ভয় নেই। তোকে এখানে থাকতে হবে না আমরা তোকে নিয়ে যাবো।
অতঃপর ফাইজা বেগম এর দিকে তাকিয়ে বলেন,
---- আমরা ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিচ্ছি। এমন সংসার আমার মেয়ে করবে না। আর আমি শুনেছি আপনার ছেলে কোন মেয়েকে পছন্দ করতো তাই আমার মেয়েটাকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। আপনারা কাজটা মোটেও ঠিক করেননি
আপা। সব জেনেশুনে আমার মেয়ের জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছেন। আপনি জানেন না একটা মেয়ে তার স্বামীর অবহেলা সহ্য করতে পারে না। কি নিয়ে থাকবে সে যদি সেই মানুষটাই অন্য কাউকে মনের মধ্যে পুষে রেখে বসে আছে।
---- সব ঠিক হয়ে যাবে আপা এমন বলবেন না আর দোয়া যাবে না।
---- জেনেশুনে মেয়েট জীবনটা আর নষ্ট করতে চাচ্ছি না আমরা। অফিসার দেখেছেন আপনি তাড়িয়ে দিয়ে এখন বাসার সামনে থেকে জোর করে তুলে এনেছে। যদি আনতেই হতো আমার বাড়ি থেকে আমার অনুমতি নিয়ে আসতো। ওরা আমার মেয়েকে মানসিক টর্চার করছে।
পুলিশ কি বলবে ফাতেমা খানমের কথা এবং ফয়সাল আহমেদ এর কথার পরিপেক্ষিতে বলে উঠলো দিব্য,
---- ইন্সপেক্টর দিব্য আহমেদ তার ওয়াইফকে নিয়ে আসছে কোনো পরনারীকে নিয়ে আসেনি যে আপনার পুলিশ নিয়ে একজন পুলিশ অফিসারের বাড়িতে আসতে হবে। তাও আবার মেয়ের জামাইকে এরেস্ট করাতে।
শিড়ি থেকে নামতে নামতে বলে কথাগুলো দিব্য।
ফয়সাল সাহেব ক্রোধান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে হুংকার দিয়ে উঠলেন,
---- আমার মেয়েকে তুমি কোন সাহসে তুলে এনেছো?
---- সাহস নয় বউ হয় আমার ও।
অতঃপর তার থেকে নিম্ন পদের একজন অফিসারকে বললেন,
---- আপনারা এখন আসুন। এখানে আপনাদের কোনো কাজ নেই।
চারজন অফিসার সহ কনস্টেবল ইয়েস স্যার বলে
চলে যায়৷ ফয়সাল সাহেব তাকিয়ে থাকেন তাদের যাওয়ার পানে। ফের বলেন দোয়ার দিকে তাকিয়ে,
---- দোয়া বাড়িতে চল।
দোয়া কাচুমাচু ভঙ্গিতে নিচু স্বরে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে বললো,
---- আ'মি যাবো না আব্বু।
দিব্যর ঠোঁটে হাসির দেখা মিললো। বাকি কাজটা নিজ দায়িত্বে করে ফেললো। দোয়ার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় বন্দি করে ফয়সাল সাহেব ও ফাতেমা খানম এর সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো,
---- সী ইজ মাই ওয়াইফ মিসেস দিব্য আহমেদ।
আপনাদের মেয়ে একসময় ছিলো এখন সে আমার ওয়াইফ। আর হ্যা আপনাদেরকে আমি খুব ভালো করেই চিনে ফেলেছি৷ মেয়েকে আগলে রাখার বদলে কিছু বাজে মানুষের কথা শুনে নিজের মেয়ের সাথে রুড বিহেভিয়ার করেছেন।
কিসের অধিকারে মেয়েকে নিতে আসছেন আমার কাছ থেকে?
অবাক হয়ে তাকায় সবাই। দোয়া জিজ্ঞেস করে বসলো,
---- আপনি জানলেন কি করে?
---- আমার লোক ছিলো ওই বিল্ডিংয়ে।
ফাতেমা খানম অপরাধীর ন্যায় মাথা নিচু করে ফেলেন। সত্যিই তো এইসময়টা তাদের ওর পাশে থাকার দরকার ছিলো। পরোক্ষণে ফাতেমা খানম দিব্যর দিকে তাকিয়ে বলেন,
---- সব তো তোমার জন্য হয়েছে দিব্য। তুমি আমার মেয়েকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিয়ে ভুলে না গেলে আমার মেয়ের এমন করুন দশা হতো না তো। কত সহ্য করা যায় অন্যের কথা? তুমি পারতে? আমার মেয়ের সামান্য চঞ্চলতা সহ্য করতে পারো না আমার মেয়েটা কেমন নীরব হয়ে গিয়েছে। শুধু তোমার জন্য।
---- ওনার কোনো দোষ নেই আম্মু। সব দোষ আমার। আমি এখানেই থাকবো। তোমরা চলে যাও।
---- তুই দিব্যর জন্য আমাদেরকে তাড়িয়ে দিচ্ছিস?
ফয়সাল সাহেব হতবাক ন্যায় দৃষ্টিতে তাকান মেয়ের দিকে, কন্ঠে অবাকতা, দোয়া কথা বাড়ালো না আর না সেখানে থাকার শক্তি হলো। সোজা দিব্যের রুমের দিকে ছুটলো।
---- দেখেছো ছেলেটা কি বস করেছে আমার মেয়েকে? চলুন এখানে আর এক মুহুর্ত নয়। যে ছেলে হুটহাট তাড়িয়ে দেয় সে আবার ও যে ওকে তাড়াবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি দেখি
বাবা মায়ের থেকে কে বেশি আপন হয়। আসুন।
ফয়সাল সাহেব আরো কথা বলতে চান কিন্তু,
পারেননি। ফাতেমা খানমের কারনে চলে যেতে বাধ্য হলেন। সবাই অবাক হোন ফাতেমা খানম এর আচরণে। ওনি তো এমন ছিলেন না।
দিব্য বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বললো,
---- তোমরা ঘুমিয়ে পড়ো৷ আমি রুমে যাচ্ছি। আর ওনাদের আচরণে কষ্ট পাওয়ার কোনো কারন নেই। সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে।
---- ওনাদের নিয়ে ভাবছি না আমি। তুই কি সত্যি দোয়াকে নিয়ে সুন্দর করে সংসার করবি মেঘকে ভুলে?
জাহাঙ্গীর আহমেদ এর কথায় দিব্যর সহজ স্বীকারোক্তি,
---- ইনশাআল্লাহ বাবা। আমি দোয়াকে নিয়েই ভালো থাকতে চাই। এবং ওনাদের ও কোনো অভিযোগ করার সুযোগই দিবো না।
---- এটাই চাওয়া আমার তোর কাছে। দোয়াকে কষ্ট দিবি না বাবা।
ফাইজা বেগম এর কথায় দিব্য মুচকি হেঁসে বলে উঠে,
---- আপনার চাওয়া অপরিপূর্ণ থাকবে না মা। আপনি চিন্তা করবেন না৷ দোয়া ভালো থাকবে এই কথাটা জোর দিয়ে বলতে পারি।
সস্থির নিঃশ্বাস ফেললেন ফাইজা বেগম হাসলেন দুজন অতঃপর চলে গেলেন নিজেদের রুমের দিকে।
দিব্য ও ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো নিজের রুমের দিকে। মেয়েটা কি করছে কে জানে? রুমের সামনে আসতেই কিঞ্চিত অবাক হলো। রুমটা তো বাইরে থেকে লক তাহলে দোয়া কোথায় গেলো? পাশে দোয়েলের রুম দরজার সামনে এসে দাড়ালো নক করলো বাইরে থেকে হালকা আলো আসছে তার মানে মেয়েটা এই রুমে আছে। ডাকলো দিব্য,
---- দোয়া! বের হয়ে এসো৷
উত্তর নেই, আবার ডাক দিলো,
---- দোয়া দরজা খুলো বলছি।
---- কেন খুলবো?
ভেতর থেকে দোয়ার গলা, দিব্যর রাগ হলো মেয়েটা নিজের রুম ছেড়ে এই রুমে আসলো কেন? এতোদিন তো দিব্য মেনে নিতে পারেনি কই তখন তো তার পাশই নিরদ্বিধায় ঘুমিয়েছে। আর কতবারই একে অপরের কাছাকাছি চলে এসেছে ঘুমের ঘোরে । আর আজ...
---- আমি বলছি তাই।
---- নাহ আমি আজ থেকে এখানেই ঘুমোবো৷ আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন।
দিব্যর রাগ ক্রমশ বেড়েই চলেছে, বললো,
---- আমাকে রাগিও না দোয়া তুমি আমার রুমে আমার পাশে ঘুমোবে।
দোয়া ফিচেল হাসলো। বললো,
---- প্রতিদিন তো ঘুমাতামই আজ আমি এখানেই থাকবো।
---- না তুমি আমার সাথে আমার কাছে থাকবে।
---- সেই অধিকার আমার নেই৷
---- ভালোবাসি তোমায়।
---- বিশ্বাস করি না।
দিব্য ফের দরজার পাশে কাঁধ এলিয়ে বললো,
---- আসো বিশ্বাস করাচ্ছি।
---- ভদ্রভাবে কথা বলুন।
---- আমি অভদ্র নই মিসেস। আমাকে দরজা ভাঙতে বাধ্য করিও না।
দোয়া দরজায় শরীর এলিয়ে মাথা ঠেকালো সেথায়। বললো,
---- কেন দরজা ভাঙতে হবে। বলেছিলাম না আমাকে তাড়ানোর পানিশমেন্ট পাবেন আপনি৷ এটাই আপনার পানিশমেন্ট। ঘুমিয়ে পড়ুন। আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে।
হতাশ দিব্য। বিষন্ন স্বরে বললো,
---- তোমার না এই দিব্যর বক্ষস্থলে ঘুমানোর লোভ।
আজ পেয়ে ও নিজ জায়গা ছেড়ে দিচ্ছো ফাইন
আমি চলে যাচ্ছি। কখনো সে অধিকার নিয়ে আমার সামনে এসো না।
কট করে দরজা খোলার শব্দ হলো। দোয়া কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এসে পিছন থেকে দিব্যকে জড়িয়ে ধরলো।
---- আমি আপনাকে মাফ করে দিয়েছি। আমার ইচ্ছে আপনি না করার কে?
মেয়েটির এমন অস্থিরতা দেখে হেসে উঠলো দিব্য।
ঘুরিয়ে নিলো নিজের দিকে। চোয়াল আঁকড়ে ধরে
কপালে গভীর চুমু খেলো অতঃপর শূন্য ভাসিয়ে নিলো। ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে নেশাতুর স্বরে বলে উঠে দিব্য,
---- আমি কি আমার অধিকার ফলাতে পারি মিসেস দিব্য?
দোয়া লাজুক হেসে মুখ লুকালো দিব্যর প্রশস্ত বক্ষে। শব্দ করে হেঁসে উঠে দিব্য।
চলবে,,,,,,