#শ্রাবণ_মেঘের_উপাখ্যান —৪১
#তাসনিম_লিজা
---- কপি নিষিদ্ধ!
আধঘন্টার মধ্যেই ঘুম হালকা হয়ে এলো মেঘের। চোখ খুলতেই নিজেকে আবিষ্কার করলো অন্য কেবিনে। পাশ ফিরে তাকাতেই দেখা মিললো শ্রাবণের। মেয়েটা আপাতত ঠিক আছে তবুও শ্রাবণ ঠিক হতে পারছে না। শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ালো মেঘ। শ্রাবণের হাতের মুঠোয় মেঘের হাত তাই বুঝতে সময় লাগেনি শ্রাবণের। দ্রুত তাকালো শ্রাবণ মেঘের মুখপানে। নয়তো নিজের দুহাত দ্বারা মেঘের হাত মুঠোবন্দি করে সেথায় কপাল ঠেকিয়ে নীরবে বসেছিলো শ্রাবণ। তৎক্ষনাৎ ব্যাকুল হয়ে শুধালো সে,
---- কি হয়েছে খারাপ লাগছে? ডক্টরকে ডাকছি আমি।
মেঘ মলিন হাসলো। মাথা নাড়ালো সাথে সাথে। শ্রাবণ নিশ্চিন্ত হলো। উফ সারাক্ষণ ভয় কাজ করে এই বুঝি বিপদ এসে কড়া নাড়লো তার দুয়ারে। মেঘের গালে হাত রাখলো৷ কোমল গলায় জিজ্ঞেস করলো,
---- কি হয়েছে বলো আমায়?
মেঘ খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললো,
---- আমার সন্তান কোথায়? আপনি এনে দিচ্ছেন না কেন আমার কাছে ? একপলক দেখবো আমি ওদের।
শ্রাবণ শান্ত স্বরে বললো,
---- এতো হাইপার হচ্ছো কেন? এখনি নিয়ে আসবে তো ওরা।
---- আমি ওদের দেখতে চাই। আমার কাছে এনে দিন।
তাদের দেখার তৃষ্ণায় আমার দম বন্ধ লাগছে।
মেঘের অস্থিরতা খুবই স্বাভাবিক। একজন মায়ের
কাছে তার প্রথম সন্তানকে দেখার অনুভূতিই আলাদা৷ তারা কেমন কত ছোট তা দেখার আগ্রহে বিভোর মেঘ।
---- আসতে পারি?
শ্রাবণ তৎক্ষনাৎ বলে উঠলো,
---- জ্বি আসুন।
নার্স দুজন আসলো। সাথে দুটো ছোট্ট ছানাপোনা নিয়ে। ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শ্রাবণ ও মেঘ। তাদের অপেক্ষার প্রহর বুঝি শেষ হলো। তারা অন্য বাচ্চাদের তুলনায় বেশ ছোট এবং নাজুক। তাই বেবি কেয়ারে রাখা হয়েছিলো। এমনিতে তারা সুস্থ আছে। নার্স দুজন হাসি মুখে এগিয়ে দিলো। একজন ছেলেকে দিলো মেঘের বুকে। আর মেয়েকে দিলো শ্রাবণের কোলে। দুজনই বেশ কাঁপছে। ঠোঁটের কোণে হাসি আর চোখের কোণে পানি টলমল করছে। ইশশ কি সুন্দর অনুভূতি। তারা মা বাবা হয়েছে।
তাদের আঙুল ছুয়ে ছোট্ট হাতের স্পর্শ মিশিয়ে আদুরে স্বরে ডেকে উঠবে, পাপা, মাম্মাম কত সুন্দর লাগবে সেই অনুভূতি?
শুঁকনো ডুগ গিললো তারা। ছোট্ট কপালে ছুঁয়ে দিলো শীতল চুম্বন। শ্রাবণ নিজের কপাল ঠেকালো উষ্ণ ছোট্ট নরম কপালে। ফিসফিস করে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে ধীর ও নরম গলায় বললো,
---- আমার প্রিয় আম্মুজান। আপনি আমার ঘরে রাজকন্যা হয়ে আমার কাছে ফিরে এসেছেন। আপনি জানেন না আম্মু আমার আনন্দে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। বলতে ইচ্ছে করছে আমি আমার আম্মাজানকে হারায়নি, আমি ফিরে পেয়েছি আমার মেয়ে রুপে আমার আম্মাজানকে। আমি কখনোই আপনাকে দূরে যেতে দিবো না আমার মা।
ছোট্ট আঙুল ছুঁইয়ে দিতেই পুরনো কথা মনে পড়ে গেলো শ্রাবণের। সেই বারো তেরো বছর আগের কথা। তার মায়ের খুবই আদুরের রাজকন্যা হয়েছিলো ঠিক এভাবেই আঙুল ছুঁয়ে দিয়েছিলো শ্রাবণের। সেই ফুলটা কয়েকদিনের অতিথি ছিলো মাত্র তারপর সেখানেই ফিরে গেলো। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে শ্রাবণ। অতি যত্ন করে বুকে আগলে নিলো শ্রাবণ তার আদুরে ছোট্ট মা কে।
অন্যদিকে মেঘ ছেলের পানে নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে দেখেই যাচ্ছে। চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে। হিঁচকি উঠেছে আনন্দে। হাতে স্যালাইন তবুও দুহাতে আগলে নিয়ে ছোট্ট মুখশ্রীতে আদুরে হাত বুলিয়ে ছোটো ছোটো চুমু খেলো। কি যে শান্তি লাগছে বলার বাহিরে। একবার ছেলের দিকে আরেকবার শ্রাবণের দিকে তো আবার শ্রাবণের কোলে থাকা তার রাজকন্যার দিকে তাকাচ্ছে মেঘ। শ্রাবণের কথা একমদ সত্যি হলো সত্যিই তো তার বাবা মা রুপে যেনো তারা এলো। আজ থেকে বাবা মা ডাকটা আবার ও প্রাণ ফিরে পাবে শ্রাবণের মাঝে।
দরজার সামনে থেকে উঁকি দিয়ে দেখা পাবলিকগুলো ও কাঁদছে। এতিমই বলা চলে দুজন। এবার যেনো তাদের পূর্ণতার সমাপ্তি হলো। তাদের আর কারোর প্রয়োজন নেই।
নার্স ও মুগ্ধ হয়ে দেখছে তাদের অতঃপর নার্স একজন নিজে শ্রাবণের কোল থেকে মেয়েকে নিয়ে মেঘের অপরপাশে দিলো শ্রাবণ ওঠে দাঁড়িয়ে মেঘের পাশে বসলো। মেঘকে আগলে নিলো বেবিসহ। নার্সকে জিজ্ঞেস করলো,
---- আমি কি বাড়িতে নিয়ে যেতে পারি আজকে?
নার্স মুচকি হেসে বললেন,
---- আপনার ওয়াইফ এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন।
পারবেন কিন্তু না নেওয়াটাই ব্যাটার। বাকিটা আপনার উপর ডিপেন্ডে করছে।
মেঘের বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না শ্রাবণ। সাথে সাথে বললো,
---- না আমরা এখানেই থাকবো।
নার্স দুজন হাসলো। মেঘের কাছ থেকে নরম হাতে দুজনকে কোলে নিলো। বেবি কটে বাচ্চা দুটোকে রাখলো৷ এবং বললো,
---- আমরা বেবিদের নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কেয়ারে থাকুক আপাতত মা ও বেবি দুজনের জন্যই ভালো হবে।
মেঘের মন খারাপ হলো। শ্রাবণ বুঝতে পেরে হাতো ছুঁয়ে ইশারায় আশ্বস্ত করলো। বারণ করলো না কাঁদতে। বললো,
---- ওরা আপাতত নার্সদের কাছে সেইফ। তুমি সুস্থ হও ওরা সারাজীবন আমাদের সাথেই থাকবে। মন খারাপ করো না মেঘ।
মেঘের ভীষণ মন খারাপ হয়। তার মনে হলো তার সব নিয়ে গেলো নার্স। তবুও চুপ করে থাকে। নার্স বেরিয়ে যেতেই হুড়মুড় করে ভেতরে আসলো সবাই।
শ্রাবণ মেঘ আকস্মিকতায় হকচকিয়ে উঠলো। অতঃপর নিজেদের সামলিয়ে শ্রাবণ বললো,
---- এভাবে কেউ আসে?
সবার পেছনে জাহিদ আহমেদ ও জামিলা বেগম। তারা এখনো বাইরেই দাঁড়িয়ে। সামনে মূলত তাসির দোয়েল তারপর রিফত, রাতুল রামিম। দোয়েল মেঘের অন্যপাশে এসে বসলো। তাসির শ্রাবণের কাছে গেলো। দোয়েল হাসি মুখে মেঘেকে জিজ্ঞেস করলো,
---- শরীর কেমন এখন? ঠিক আছিস তো?
মেঘ মৃদু হেসে মাথা নাড়ালো। তাসির বললো,
---- মেয়ের জামাই কিন্তু সেই হ্যান্ডসাম। আমার তো
ইচ্ছে করছে আজই নিয়ে যায় ঘরজামাই বানিয়ে। নিজেই বড় করি।
দোয়েল মুচকি হাসলো। লজ্জা ও পেলো খানিকটা। মেঘ ও হাসলো। শ্রাবণ তাসিরের কাঁধে চাপড় দিয়ে বললো,
---- নাহ! ছেলের বাপের যা আছে তাতেই ছেলের নাতি পুতির সবার জীবন চলে যাবে তাকে ঘরজামাই যেতে হবে না বুঝলি?
তাসিরের কথায় হিংসে হলো বাকি তিনজনের। কিন্তু ঠোঁট কাটা রাতুল নিজেকে সামলাতে পারলো না। বলে উঠে সে আফসোস করে,
---- আফসোস! না পারছি বিয়ে করতে, আর না পারছি মাইয়ার বাপ হইতে, আর না পারছি বন্ধুরে বেয়াই বানাতে কি একটা বাদাইম্মা মার্কা জীবন ছ্যাহ!
রাতুলের কথা শুনে হাসির রোল পড়লো একদফা।
তারমধ্যে জাহিদ আহমেদ ও জামিলা বেগম আসাতে সবাই চুপ হয়ে গিয়েছে। জাহিদ আহমেদ মেয়ের কাছে যান। দোয়েল সরে আসে। মেয়ের গালে মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে স্বরে বললেন,
---- আমার আম্মাজান ভালো আছিস তো এখন?
কষ্ট হচ্ছে না তো? আমায় বল আমি ডক্টরকে বলে দিবো।
মেঘ ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে বললো,
---- আমি ঠিক আছি বাবা৷ তুমি ভয় পেয়ো না। আমার কিছুই হয়নি।
জামিলা বেগম কাঁদছেন। মেঘ ডাকলেন,
---- আন্টি!
কাছে গেলেন তিনি। হাতটা নিজের হাতে নিয়ে মেঘ নরম স্বরে বললো,
---- কাঁদছেন কেন আন্টি? আমি ঠিক আছি তো। আর বাবুরা ও ঠিক আছে। আপনি দেখেছেন?
তিনি কাঁদো কাঁদো গলায় বলে উঠে,
---- হঠাৎ এমন হওয়ায় আমার খুব ভয় লাগছিলো। এহন আমরা আনন্দে কানতাছি। তারা কত সুন্দর। মাশাল্লাহ কারোর নজর না লাগুক।
এই মানুষটা সবচেয়ে কাছের ছিলো মেঘের। এই যে শ্রাবণ অফিস যেতো। আর জাহিদ আহমেদ তো আর এসব কাজ পারবেন না। প্রেগ্ন্যাসির সময় অতিরিক্ত খারাপ লাগা, না খাওয়ায় এটা সেটা বানিয়ে দেওয়া, শরীরের যত্ন নেওয়া মাথায় তেল দেওয়া। কি ভালো লাগে সেটা জেনে সব করা। পা ফুলে গেলে সবসময় যত্ন করার মানুষটা তিনি। একদম মায়ের মতো আগলে রেখেছেন। বিপদে যে পাশে থাকে সেই মানুষটাই আপন মানুষ হয়। আজ মেঘ অস্ফুটস্বরে বলে উঠে,
---- আমি আর এই আন্টি ফান্টি ডাকতে পারবো না। আমি আপনাকে মা বলে সম্পর্কটাকে সুন্দর করতে চাই মা। আপনি আমাদের সারাজীবন আগলে রাখুন। আপনি ঠিক আমার শাশুড়ী মায়ের মতো। ওনি তো আর আমাদের মাঝে নেই থাকলে এভাবেই আগলে রাখতেন আমাদের।
মেঘের কথা শুনে সবাই খুশি হয়েছে এবং কাঁদছে ও। আসলেই তো এই মানুষটারও কেউ নেই আর শ্রাবণ মেঘের ও কেউ নেই। জাহিদ আহমেদ তো সবসময় এখানে থাকবে না। তিনি শুধু মেয়ের জন্য কষ্টসাধ্য হলে ও থেকেছেন এতোদিন। নয়তো ওনার শহুরে জীবনযাপনে দম বন্ধ লাগে। শান্তি পান না। সাথে সহধর্মিণীর কবরখানা মিস করেন। মেঘের সবই জানা। বাবা তো মেয়েকে একা ফেলে যাওয়াটা মন সায় দেয় না।
জাহিদ আহমেদ খুশি হলেন শ্রাবণ ও তার ব্যাতিক্রম না। জামিলা বেগমের দিকে তাকিয়ে জাহিদ আহমেদ বললেন,
---- জামিলা আপা আমি এখন নিশ্চিন্ত। কারন
তাদের জন্য আপনি আছেন। আমি দূরে থাকলে ও
চিন্তা করবো না। দয়া করে তাদের ছেড়ে যাবেন না। আপনাকে ওরা মা মনে করে। বাড়িতে একজন মা অথবা বাবা লাগে। বড় হলেও তারা আমাদের জন্য ছোট।
আনন্দে কাঁদছেন জামিলা বেগম। না করার প্রশ্নই আসে না। অন্য সময় হলে না করতেন কিন্তু, মেয়েটা অসুস্থ তারউপর ছোট্ট দুটো ছানাপোনাদের তিনি ছাড়া কে দেখবে? শ্রাবণ মেঘ ওরা তো বাচ্চা সামলাতে পারবে না তাও দুজন বাচ্চা। তারমধ্যে শ্রাবণ বললো,
---- ওনি চাইলেও আমি দেবো না যেতে আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন বাবা।
বাকি সবাই বলে উঠে একসাথে,
---- আমরা ও যেতে দিবো না। আন্টি আপনি ওদের সাথে থাকবেন। ওদের মা হয়ে।
সাধ্য কই বারণ করার? তিনি ও সায় দিলেন,
---- আমার সন্তানরা আদেশ করলে আমি বারণ করবো কিভাবে? কখনোই সম্ভব না।
উফ সবাই যেনো খুশিতে আত্মাহারা। অনেকদিন পর সবাই এভাবে একসাথে হলো।
________________________
---- বাহ! দুজন থেকে চারজন? বেশ ইন্টারেস্টিং তো। ভেবেছিলাম দুটোকে মারবো এখন আমায় চার চারটে প্রাণ নিতে হবে?
---- হ্যা ভাই। শ্রাবণ ভইয়ের একটা ছেলে ও একটা মেয়ে হইছে। মানে টুইনস!
নয়ন খানিকক্ষণ ভাবলো। বুড়ো আঙুল দ্বারা থুতনিতে স্লাইড করতে করতে উঠে দাঁড়ালো। বললো,
---- সুন্দর পরিবার সুন্দর ধ্বংস। সুন্দর হবে না?
হেসে উঠলো নয়ন। তীব্র ভয়ংকর শব্দ তুলে সেই হাসি হাসতে লাগলো। সাথে গুন্ডা ছেলেপুলেরা ও হাসছে।
হঠাৎ কল আসলো নয়নের ফোনে। নয়ন ফোনটা চোখের সামনে নিয়ে হাসি থামিয়ে রিসিভ করলো,
---- কোনো ঝামেলা চাই না আমি। সময় মাত্র এক ঘন্টা। রুমে তোমার সব রাখা আছে রেডি হয়ে চলে এসো এয়ারপোর্টে। সব রেডি তুমি আজই লন্ডন যাবে। নো এসকিউস ওর নো কুয়েশ্চন। বাই!
---- ড্যাম ইট!
বাবার কথা শুনে ফোনটা আছাড় মারতে গিয়ে ও মারলো না৷ তার প্রতিশোধ নেওয়া হলো না। মরলো না তার শত্রু। রেগে ফ্ল্যাটে থাকা রুমে গেলো। কাবার্ড খুলে নিজের জামাকাপড় বের করলো। ওয়াশরুমে ডুকলো। দীর্ঘ সময় নিয়ে মাথায় পানি দিলো। মানে ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে রাগে ফুঁসছে কেবল সে। সেই প্রতিশোধের আগুন নিবানোর চেষ্টা আরকি।
বেরিয়ে এসে রেডি হলো। লুকিং সো হ্যান্ডসাম তবুও ছেলেটা বিগড়ে গিয়েছে। আসলে মানুষ সুন্দর হলেই হয় না সৎ ও চরিত্রবান হতে হয়। নয়তো কে বলবে এই ছেলেটার অন্যায় পাহাড় সমান। কিন্তু টাকা হলে অন্যায় কিছুই না। বাধ্য ছেলের মতো বেরিয়ে গেলো সবাইকে বিদায় দিয়ে।
বাবার কথা না শুনলে বাবার টাকা প্রোপার্টি সব কিছু থেকে বঞ্চিত হতে হবে নয়নকে। আর তার বাবার টাকা ছাড়া তার কোনো মূল্য কোথাও নেই।
কিছু খারাপ মানুষ অন্যায় হবে জেনেও অন্যের জিনিসে বা প্রোপার্টিতেই তার চোখ আটকাবে। জোর করে অথবা অন্যায় করে আদায় করবে। সে ধরনের ছেলে নয়ন। আজ মনে হবে দেশ থেকে একটি বিপদ বিদায় হলো একটি ভাইরাস ধ্বংস হলো নিঃশব্দে। নয়তো তার সাথে থেকে থেকে আরো কত ছেলে নষ্ট হতো এই পথে এসে।
_____________________
মেঘের কাছে দোয়েল আছে, জামিলা বেগম ও।
জাহিদ আহমেদ, রাতুল, রিফাত ও রামিম শ্রাবণকে নিয়ে বাইরে আসলো। তাসির নিজেকে শান্ত করে শ্রাবণের দিকে তাকালো। বললো,
---- জানি আনন্দের মধ্যে কথাটা বলা ঠিক কিন্তু না বলে ও পারছি না।
শ্রাবণ ভ্রুঁ জোরা কুঁচকে ফেললো। কপালে সামান্য
চিন্তার ভাঁজ পড়লো। বললো,
---- কি হয়েছে বল তো? সবাই ঠিক আছে তো?
সবার দিকে তাকালো আবার বলে উঠে,
---- তোদের কারোর কোনো বিপদ নাকি দোয়েলের বাড়ির সবা....
তাসির বলে ফেললো,
---- সবাই ঠিক আছে। আসলে নয়ন জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে গতকাল।
বিস্ফোরণ ঘটলো শ্রাবণের মধ্যে। এতো অন্যায় করে আবার জেল থেকে মুক্তি দিলোটা কে?
রামিম ফের বললো,
---- ভয়ের কোনো কারন নেই আপদ ট্রান্সফার হয়ে
লন্ডনে চলে গিয়েছে।
শ্রাবণ জোরে নিঃশ্বাস ফেললো। নিজেকে নিয়ে না বউ সন্তানদের নিয়ে যতো টেনশন। শত্রুদের নিয়ম
অন্য শত্রুদের দুর্বলতায় আঘাত হানা।
চলবে,,,,,