‘ঝরা ফুল’
বিনতে ফিরোজ
২৬.
ক্লাসের চাপ কম থাকায় সারাদিন মিতুর পড়ার তদারকী করলো মামুন। দুপুরের পরপর মিতুকে নিয়ে বের হলো। মিতু সোৎসাহে বলল, ‘ আমরা কোথায় যাচ্ছি ভাইজান?’
‘ চল আমার ভার্সিটি থেকে ঘুরিয়ে আনি।
‘ সত্যিই?’
‘ সত্যি।’
মিতু গোছগাছ করে ছুটে গেলো আছিয়ার কাছে। সুমনকে বেরিয়ে যেতে দেখেছে একটু আগেই। তাই নিঃসঙ্কোচেই দরজায় শব্দ করলো মিতু। আছিয়া দরজা খুললে মিতু হাসিমুখে বলল, ‘ বেড়াতে যাচ্ছি ভাবি।’
‘ কোথায়?’ ভুরু নাচিয়ে বলল আছিয়া।
‘ ভাইজানের ভার্সিটি দেখতে।’ মিতুর দিকে তাকালো আছিয়া। আপাদমস্তক দেখে এগিয়ে এসে ওড়না হাতে নিয়ে বলল, ‘ ঠান্ডা পড়েছে। ওদের ভার্সিটির রিকশা কিন্তু অনেক জোরে চালায়। ইঞ্জিনের রিকশা। কান ঢেকে না রাখলে আজকেই ঠান্ডা লেগে যাবে।’ বলতে বলতেই বড়সড় ওড়নাটা ভালোভাবে মাথায় পেঁচিয়ে দিলো। মিতু বলল, ‘ থাকো তাহলে। আসি?’
‘ যা।’
মিতুকে দেখে মামুন বলল, ‘ কোথায় গিয়েছিলি?’
‘ ভাবিকে বলে আসলাম যে বাইরে যাচ্ছি।’ মামুন বিরক্ত হলো। দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেও মিতুকে কিছু বলল না। বেরিয়ে গেলো সোজা রাস্তার দিকে।
মামুন প্রথমে গেলো একটা শপিং মলে। মিতু বলল, ‘ আমরা কি কিনব ভাইজান?’
মামুন কিছু বলল না। বোরখার দোকানে যেয়ে অল্প সময়ের মাঝেই কালো রঙের একটা বোরখা নিয়ে মিতুকে বলল, ‘ এটা পড়ে দেখ হয় নাকি।’ বিনা বাক্য ব্যয়ে ট্রায়াল রুমে গেলো মিতু। পড়ে বাইরে বের হলো। মামুন দেখলো ঠিকঠাকই আছে। একই ডিজাইনের স্কুল ড্রেসের কালারের আরেকটা বোরখা নিলো। সঠিক একটা কালো আর সাদা স্কার্ফ। বেরিয়ে এসে মিতু বলল, ‘ আমাকে বোরখা কিনে দিলে কেনো?’
‘ বড় হয়েছিস। তাই।’
‘ বোরখা পড়লে কি হবে?’
‘ অনেক কিছু হবে। না পড়লেও অনেক কিছু হবে। সেসব কি নিজেই বুঝতে পারবি। এখন আমি যা বলি কান খুলে শোন।’ মামুনের দিকে তাকালো মিতু। মামুন বলতে থাকলো, ‘ কাল থেকে স্কুলে যাচ্ছিস। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ। সবকিছুই নতুন। সবাই ভালো হবে না। কে কেমন এটা বুঝতেও অনেক সময় লাগে। তাই একেবারে শুরু থেকেই সবার সাথে আগ বাড়িয়ে ভাব জমাতে যাবি না। আবার একেবারে কথাবার্তা না বলেও থাকবি না। তবে একটা নিরাপদ দূরত্ব বিজয় রেখে চলবি। আগে কোথায় ছিলি, এখানে কবে এসেছিস, কেনো এসেছিস এসব কারো সাথে বলতে যাবি না। মনে থাকবে?’
মিতু ঘাড় কাত করলো। মামুন আবার বলল, ‘ ছেলেদের সাথে একদম মধ্যে দেখি না যেনো। কারো সাথেই অতো বেশি মিশতে হবে না। যতটুকু না হলেই না। বুঝেছিস?’
‘ বুঝেছি।’
একটা রিকশা ঠিক করে রওনা দিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। মামুন একে একে মিতুকে দেখালো সব জায়গা।
‘ এই দেখ। এটার নাম সাবাশ বাংলাদেশ। এটা সিনেট ভবন। এটা জোহা চত্বর। ওটা প্যারিস রোড। নজরুল ভাইয়ের চায়ের দোকান।’ মিতু কৌতূহল নিয়ে সব দেখলো।
‘ এই জায়গার নাম ইবলিশ চত্বর।’ মিটমিট করে হেসে বলল মামুন।
‘ কিহ! ইবলিশ চত্বর!’
‘ হুঁ।’
‘ এখানে কি শয়তান থাকে নাকি?’
‘ শয়তান থাকবে কেনো?’
‘ তাহলে এমন নাম কেনো?’
‘ কি জানি?’
‘ তাই বলে ইবলিশ চত্বর!’
রোকেয়া হল, মুন্নুজনান হলের রাস্তা ধরে ঘুরে তারপর তারা বধ্যভূমির দিকে গেলো। শহীদ মিনার দেখে ফেরত এলো। ফিরতে ফিরতে মামুন বলল, ‘ একদিন তোকে লাইব্রেরিতে নিয়ে যাব মিতু।’
‘ পথের পাঁচালী’র মতো বই দিলে আমি পড়বো না ভাইজান।’ গাল ফুলিয়ে বলল মিতু।
মামুন হাসলো, ‘ কেনো?’
‘ মানুষ ম’রে যায়। আমার এসব পড়তে ভালো লাগে না। কষ্ট হয়।’
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মামুন বলল, ‘ আচ্ছা।’
~
আছিয়া যখন কাজে যাওয়া বন্ধ করে দিলো তখন মিতুর টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়েছে। একদিন মিতু এসে বলল, ‘ ভাবি আপনি কি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন?’
আছিয়া লাজুক হেসে বলল, ‘ হ্যাঁ।’
‘ কেনো?’
কিছুক্ষণ মুখ টিপে হাসলো আছিয়া। মিতুর হাতটা ধরে নিজের পেটে ছুঁইয়ে বলল, ‘ যত্ন নেয়ার মানুষ আসছে তাই।’ মিতু অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো। বুঝতে পেরেই আছিয়াকে জড়িয়ে ধরলো, ‘ কয় মাস চলে ভাবি?’
‘ তিন মাস।’
ফলে ফাঁকা বাড়িতে মিতুকে রেখে যেতে আর মামুনের ভয় হতো না। একটা মানুষ মিতুর কাছে আছে ভেবেই স্বস্তি পেতো। ততদিনে আছিয়া এবং সুমন অনেকটা ভরসা অর্জন করে ফেলেছে। ভালো মন্দ কিছু রান্না হলে আছিয়া কখনও তাদের না দিয়ে খায় না। অল্প স্বল্প যতটুকুই পারে ততটুকুই দেয়। মিতুও মাঝে মাঝে বাইরে থেকে চিপস চকলেট কিনে এনে তাকে দেয়। সুমনকেও সুন্দর মনের অধিকারী বলেই মনে হয়েছে। যেচে এসে কথাবার্তা না বললেও প্রয়োজনের সময় কখনও দূরে সরে যায় না।
________________
এস এস সির সর্বপ্রথম পরীক্ষা, ইংরেজি প্রথম পত্রের আগের দিন সকালে খবর এলো জেসমিন ভয়াবহ অসুস্থ। জাহানারা অপারগ হয়ে ফোন দিলেন মামুনকে। মামুন পড়ল অকূল পাথারে। জাহানারা যেহেতু ফোন দিয়েছে তার মানে ঘটনা সিরিয়াস। রয়ে সয়ে মিতুকে বলল মামুন। তখন সকাল সাড়ে আটটা বাজে। শীতের সকালের কুয়াশা ভেঙে শহর যেনো আড়মোড়া দিয়ে ওঠেনি।
‘ মিতু?’
‘ জি ভাইজান।’
‘ প্রস্তুতি কেমন?’
‘ আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো।’
‘ প্লাস আসবে?’
‘ ইনশাআল্লাহ্ আসবে।’ মামুন আর কিছু বলল না। মিতু আবার ঝুলে ঝুলে পড়তে শুরু করলো। কিছুক্ষণ ভেবে চিন্তে মামুন বলল, ‘ চল নানা নানীকে দেখে আসি।’ মিতু হঠাৎ করেই থেমে গেলো। ঠিক শুনলো কি না বোঝার জন্য মামুনের দিকে ঘুরে বলল, ‘ কি বললে?’
‘ বোর্ড পরীক্ষা দিবি। দোয়া চাওয়া দরকার না?’
‘ ফোন দিলেই তো হয়।’
‘ না চল দেখা করে আসি।’ মামুন ধপ করে উঠে দাঁড়ালো। মিতুকে তাড়া দিতে লাগলো, ‘ কি রে ওঠ! সকাল সকাল যেয়ে আবার সকাল সকাল চলে আসবো।’
মিতু বিশ্বাসই করতে পারছিল না মামুন আদতেই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাকে নড়তে না দেখে যখন মামুন মাথায় গাট্টা মা’রল তখনই মিতুর হুশ ফিরল। বোরখা পড়ে গুছিয়ে আছিয়ার কাছে গেলো সে। আছিয়ার ছয় মাস চলছে। মিতুরা চলে যাচ্ছে শুনে মেয়েটার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো।
‘ তোরা দুজনেই চলে যাচ্ছিস?’
‘ হ্যাঁ। বিকেলেই চলে আসবো ইনশাআল্লাহ্। নানা নানীর সাথে একটু দেখা করে আসি।’
একা থাকতে এখন আছিয়ার ভয় লাগে। মনে হয় যেনো কিছু একটা হয়ে যাবে। হয় পা পিছলে পড়ে যাবে নয়তো মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। কিছু একটা হবে। মানুষজন না থাকলেই এই ভয়গুলো তাকে জেঁকে ধরে। করুন মুখ করে সে মিতুকে বলল, ‘ তাড়াতাড়ি চলে আসিস।’
‘ বড় ভাইকে ফোন দিয়ে বলো তাড়াতাড়ি চলে আসতে।’
‘ বলবো।’
‘ ভয় পেও না ভাবি। আল্লাহ ভরসা।’ মিতু চলে গেলো। তার যে ভেতরে ভেতরে কি আনন্দ লাগছে! কতদিন পর নানা নানীর সাথে দেখা হবে।
তারা যখন মাঝ রাস্তায় তখন মামুনের ফোন কল এলো। নাম্বার দেখে মামুন কেনো যেনো ভয় পেয়ে গেলো। জাহানারা ফোন দিয়েছেন।
কি কি যেনো বললেন জাহানারা। মামুন চুপচাপ শুনলো। তার শ্বাস প্রশ্বাসের গতি ধীর হয়ে এসেছে। সে এক পলক তাকালো মিতুর দিকে। বাসের জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছে সে। চোখের পলকে সামনে আসা নতুন মুখগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
মামুন আর মিতু যখন পৌঁছালো তখন সূর্য মাথার উপরে উঠেছে। বাড়ির যতই কাছাকাছি তারা আসছে ততই কোলাহল কর্ণগোচর হচ্ছে। মিতুর কপালে ভাঁজ দেখা গেলো। মামুনের হাত নেড়ে সে বলল, ‘ বাড়িতে এতো মানুষ কেনো ভাইজান?’
মামুন শক্ত একটা ঢোক গিলে বলল, ‘ চল যেয়ে দেখি।’
সদর দরজার সামনে আসতেই রাকিবের চিল চিৎকার শোনা গেলো।
‘ মা গো! ও মা!’
মিতু অবাক হয়ে দেখলো রাকিব একটা খাটিয়ার সামনে মাটিতে বসে আছে। একটু পরপর মাটিতে আছড়ে পড়ছে। তার পাশেই পাথরের মতো বসে আছেন জাহানারা। এক পল না যেতেই জাহানারা মাটিতে পড়ে গেলেন। আশপাশের মানুষ এসে তাকে আগলে ধরলো।
হতভম্ব মিতু মামুনের কাছে ঘেঁষে দাঁড়ালো। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল, ‘ কি হয়েছে ভাইজান?’
মামুন শক্ত করে মিতুর হাত ধরে খাটিয়ার সামনে নিয়ে গেলে মিতুর দিকে তাকিয়ে একজন ডুকরে কেঁদে উঠলো। মিতু তাকে চেনে। পাশেই বাড়ি মহিলার। চোখে আঁচল গুঁজে তিনি খাটিয়ার কাপড় সরাতেই দৃশ্যমান হলো জেসমিন বেগমের সফেদ মুখখানি। নাকে তুলো গুঁজে রাখা। চোখ দুটো বন্ধ। পুরো মুখে কিসের যেনো একটা আভা। মিতু সম্মোহিতের মতো খাটিয়ার সামনে বসে পড়ল। খাটিয়ায় হাত রেখে ফিসফিস করে বলল, ‘ নানী!’
চারদিকে কান্নার রোল। চেনা অচেনা প্রত্যেকেই কাঁদছে। চেনা মানুষগুলো কাঁদছে অতীতের স্মৃতির দহনে আর অচেনা মানুষগুলো কাঁদছে সংক্রমিত রোগ কান্নার ছোঁয়ায় এসে। কেউ চুপ নেই। কারো মুখে আহাজারি তো কারো মুখে চাপা কান্না।
মিতু অবাক নয়নে জেসমিনকে দেখছে। কি সুন্দর লাগছে নানীকে দেখতে! কখনও তো এতো সুন্দর লাগেনি! আলতো করে কাফনের বুকের উপরে হাত রাখলো মিতু। কিসের একটা স্পর্শে শিউরে উঠলো সে। এই সেই বুক যেটায় ভর দিয়ে সে বড় হয়েছে। কতো রাত করেছে দিন, কতো দিন করেছে রাত! সেই বুক আজ নিথর।
মিতুর চোখ বিয়ে কখন অশ্রু গড়িয়ে পড়েছে সে টেরও পায়নি। তাকে সরিয়ে দিয়ে যখন আরেকজন জেসমিন বেগমকে দেখতে এলো তখনই মিতু ডুকরে কেঁদে উঠলো। মামুন দ্রুত তাকে সরিয়ে নিলো। ভাইয়ের বুকে মুখ গুজলো মিতু।
‘ নানীর কি হয়েছিল ভাইজান? আমি একবার নানীকে দেখতেও পারলাম না। শেষ বারের মতো একটু দেখতে পারলাম না।’
মামুন চারদিকে তাকিয়ে একটা মুখ খুঁজছিল। মিতুকে সাথে নিয়ে বাড়ির পেছনে গেলো। কয়েকজন মিলে বাঁশ কেঁ’টে এনেছে। সেগুলোই এখানে গুছিয়ে রাখা হচ্ছে। তার সামনেই নিশ্চুপ হয়ে বসে আছেন আবেদার আলী। মামুন তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। আবেদার আলী তাকে চিনবেন এই আশা নেই। কিন্তু মিতুকে তো চেনার কথা। নানাকে দেখতেই মিতু কাছে গেলো। না চাইতেও কান্নারা ঠেলে বেরিয়ে এলো বুক চিরে। আবেদার আলী শুকনো মুখ তুলে তাকালেন। হেসে বললেন, ‘ মিতু যে! কেমন আছো নানুভাই?’ মিতুর কান্না বাড়ল। আবেদার আলীর হাত শক্ত করে আকড়ে ধরলো মামুন। সেই মুখটার দিকে তাকিয়ে আবেদার আলী মিনিটও সময় নিলেন না। হাসি বিস্তৃত করে বললেন, ‘ কতো বড় হয়েছো মামুন! কতদিন তোমাকে দেখি না! তোমার নানী যে তোমার কথা আমাকে মাঝে মাঝেই বলে তা কি জানো? যাও তার সাথে দেখা করে আসো। খুশি হবে। যাও যাও।’ না চাইতেই চোখটা ভিজে উঠলো মামুনের। আহা রে জীবন!
জাহানারাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হলো। কিন্তু লাশ আর বেশিক্ষন ফেলে রাখা সম্ভব না। কাজেই বাদ আসর জানাজা হয়ে গেলো। হাউমাউ করতে থাকা রাকিব একেবারে চুপচাপ হয়ে গেছে। সন্ধ্যার আগে আগে মামুন আবেদার আলীর কাছে বিদায় নিতে গেলে আবেদার আলী ফিসফিস করে বললেন, ‘ তারে মাটির ঘরে রেখে এসে এখানে আমি আয়েশ করে ঘুমাবো? এতো সোজা? মিতু রে! আমার সাথে তো তোর আর দেখা হবে না মিতু!’
মিতু কেঁদে উঠলো, ‘ কেনো নানা?’
‘ আমি এই বাড়িতে আর থাকবো না।’
‘ কোথায় যাবা?’
‘ তা তো জানি না। এতদিন এটা তোর নানীর বাড়ি ছিলো। এখন তো আর কিছু নেই। তোর তো মামা থেকেও মামার বাড়ি নেই রে মিতু। থাক কষ্ট পাস না। মামুন ভাই! আমাকে মাফ করে দিও। তোমার সাথে ইনসাফ করতে পারি নাই। সেই সাজা পাচ্ছি। তোমার নানীর জন্য দোয়া করে দিও। আমাকে মাফ করে দিও।’ একই কথা বিড়বিড় করে বলতে থাকলেন আবেদার আলী। মামুন বৃদ্ধের হাত শক্ত করে ধরে রাখলো। অভিমানের পাহাড় যখন হলে করেছে তখন সেটা দেখে আনন্দ পাওয়ার মতো কেউ নেই। কেউ না।
হাসপাতালে মায়ের সাথে দেখা করতে গেলো মিতু। জাহানারা যখন জানলেন জেসমিনকে কবর দেয়া হয় গেছে তখন হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে গেলেন। তার চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল পানি। মিতু সেটা মুছে দিয়ে বলল, ‘ আমি চলে যাচ্ছি মা।’
জাহানারা তাকালেন। সেই দৃষ্টিতে কি ছিল মিতু জানে না। কিন্তু তার বড় কষ্ট হলো। আহা! আজ থেকে তার মা, মা হারা হয়ে গেলো।
‘ কাল থেকে আমার এস এস সি পরীক্ষা শুরু।’
জাহানারা চোখ বন্ধ করলেন। মিতু বলল, ‘ সায়রাকে দেখলাম না।’
‘ বাড়িতেই আছে। রাবেয়ার কাছে।’ বড় কষ্ট করে বললেন জাহানারা। মিতু ভাবলো আজকে রাবেয়াকেও কোথাও দেখেনি। আর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বেরিয়ে গেলো মিতু। মামুনের হাত ধরে শহর ছাড়লো। প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যাথা বুকে নিয়ে। অথচ এসেছিল সেই মানুষটার থেকেই দোয়া চাইতে। সময়ের দান উল্টে গেছে। এখন জেসমিনেরই সবচেয়ে বেশি দোয়ার দরকার।
|চলমান|