ফন্ট সাইজ:
থিম:
কৃষ্ণচূড়া

২৩তম পর্ব

লেখক: নুসরাত সুলতানা সেজুথি

#কৃষ্ণচূড়া🍂

নুসরাত সুলতানা সেজুথি

পর্ব--২৩

কিছু সুন্দর মুহুর্তে কিছু ভুল করায় খুব তো ক্ষতি নেই। হোক না কিছু ভুল,,, কিছু ভ্রান্তি নিজের অজান্তে....যা হৃদয়ের গভীরে প্রশান্তি আনে,, এমন কাজ আমি করবো,,হাজারবার নয়,,লক্ষ বার করবো মিস্টার রেয়ান.............!!

আনমনে নিজের বলা কথার মানে বোধগম্য হওয়ায়,,,, অন্তস্থলে প্রজাপতি উড়তে শুরু করলো ছবির।

রাজকীয় কারুকাজ সম্পন্ন একটি আরশী দর্পনের সামনে বসে আছে ছবি। ঠোঁটে লেগে আছে পরিনত ফুটে থাকা গোলাপের ন্যায় গোলাপিবর্ণীল হাসি।

সাজেক থেকে ফিরে আসার এ নিয়ে পঞ্চম দিন। সেখান কার সূর্যোদয় দেখাকালীন কাব্যকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য,,, এ অব্ধি যতবার মনে পড়েছে ততবারই এহেন বর্নে হরেক রঙে রঙীন রুপ ধারণ করেছে ছবির মুখমন্ডল।

অজানা অনুভূতিতে শিউরে উঠেছে,,,,শরীর।

,,

,,

,,

আরো একবার মুচকি হেসে বিছানার পাশে এসে দাড়ালো ছবি। যার ওপর বিছিয়ে রাখা তার কয়েক রঙের,,,, কয়েক রকম পোশাক।

--- আচ্ছা আমাকে কোন রঙে সুন্দর মানাবে?? লাল নাকি কালো?? নাকি সাদা?

অনেক ভেবে লাল রঙের পোশাক উঠিয়ে পড়নের জামা পাল্টে নিলো ছবি,,,,কে জানে হঠাৎ কি হলো.? ইচ্ছে হচ্ছে নিজেকে সাজাতে,,,, খুব মানানসই করে সাজাতে.....!!

ঘুরে ফিরে আবারো এসে আয়নার সামনে গিয়ে বসে পরলো তাই।

--- আচ্ছা,,, কপালে টিপ পরবো??

পরলে কি ভালো লাগবে আমাকে?? ..

ড্রয়ার টেনে কালো রঙের একটি টিপের পাতা বের করে নিলো সে। তন্মধ্যে একটি টিপ আঙুলের ডগায় নিয়ে কপালের মধ্য বরাবর আলতো হস্তে বসিয়ে দিলো। খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলো আয়নায় ভেসে আসা নিজের প্রতিবিম্বের ওপর।

"""" আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন। কপালের কালো তিল পড়বে চোখে,,

ফুটবে যখন ফুল বকুল শাঁখে,,,ভ্রমর যে এসেছিলো জানবে লোকে.........!! আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন......!!

পেছন থেকে গানের গুনগুন আওয়াজ পেয়ে হকচকিয়ে ফিরে তাকালো ছবি। দরজায় হেলানরত অবস্থায় বুকে হাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে থাকা কাব্যকে দেখেই চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো তার। মুহুর্তেই বসা থেকে ধড়ফড় করে দাঁড়িয়ে পরলো ছবি।

---মিস্টার রেয়ান? আপনি??

ছবির বিষ্ময় মাখা চোখ গুলোতে কোনও ভাবান্তর দেখালোনা কাব্য,,,,,আর নাই বা হলো তার প্রশ্নের কোনও উওর দেয়া।

আবারো গুনগুনিয়ে একি গানের সুর তুলে ধীর পায়ে ছবির দিকে এগোতে শুরু করলো কাব্য। মুহুর্তেই শতাধিক বেশি গুনে হৃদস্পন্দন বাড়তে শুরু করলো ছবির।ঢিপঢিপ আওয়াজ তুলে জানান দিতে লাগলো তার ভেসে আসা প্রতিটি শব্দের.....!!

এক পর্যায়ে ছবির নিশ্বাস বরাবর এসে কদম থামালো কাব্য। একি ভাবে এখনও কাব্যের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে ছবি। ঠোঁট বাকানো হাসি নিয়ে পেছনে দুহাত বেধে,,,,কিঞ্চিৎ ছবির মুখ বরাবর ঝুকে এসে,,,,, কাব্য তার নিম্ন গলার স্বর তুলে বলে উঠলো....

---- কপালে টিপ পড়লে অনেক বেশি সুন্দর লাগে আপনাকে ছবি। জানেন না আপনি??

কাব্যের এহেন আচরন একটু নয় বরং অনেক বেশিই অদ্ভুত আর অচেনা অনুভূত হলো ছবির। কাব্যকে পুরো রহস্যময় কাহিনীর মূল চরিত্র মনে হচ্ছিলো তখন। কাব্যের এতোটা নৈকট্য,,,, এমন উত্তপ্ত নিঃশ্বাসের স্পর্শে ওলটপালট করে দিতে শুরু করলো তার সব কিছু...

--- ইয়ে...ম...,মানে মানে....

ছবির এমন তোতলানো আওয়াজে হাসির সহিত ঝুকে আসার পরিমান আরো বাড়িয়ে দিলো কাব্য। ফলশ্রুতিতে চোখগুলো খিচে বন্ধ করে নিলো ছবি।

--- এতো... এতো কাছে আসবেন না মিস্টার রেয়ান। প্লিজ....প্লিজ মিস্টার রেয়ান....!!

কিন্তু সামনে থেকে কোনও উওর না আসায় তাৎক্ষণিক চোখ খুলে ফেললো ছবি। একি! পুরো রুম তো ফাকা...!! কেউ তো নেই...

--- এক্ষুনি তো,,,মিস্টার রেয়ান দাঁড়িয়ে ছিলেন এখানে...এইতো একটু আগেই। কোথায় গেলেন?? মিস্টার রেয়ান কোথায় চলে গেলেন?

হন্তদন্ত হয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে কাব্যকে খুজতে শুরু করলো ছবি,,,,মাত্র কিছু সময়ের ব্যাবধানে কোথায় চলে যেতে পারে কেউ....??

খুজে না পেয়ে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে বিছানার ওপর বসে পরলো ছবি।

তবে কি সেসব ভ্রম....কল্পনা...?? কিন্তু এমন কল্পনার মানে কি.? কি তার অর্থ..??? দুজন তো একি ছাদের তলায়,,,তাহলে কেনো মিস্টার রেয়ান স্বপ্নে এলো..?? কেনো....??

_____________________

___________

--- ম্যাডাম,,, স্যার আপনাকে নিচে ডাকছেন।

কারো আওয়াজ পেয়ে মাথা উচিয়ে সেদিকে ফিরলো ছবি। সার্ভেন্টের কাজে নিয়োজিত একটি মেয়ে দাড়িয়ে আছে দরজা বরাবর।

--- আসছি....

ছবির উত্তর পেয়ে প্রস্থান নিতে আর সময় নিলোনা মেয়েটি।

সেদিকে একবার তাকিয়ে আবারো ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সম্মুখে গিয়ে দাড়ালো ছবি। সম্পূর্ণ নজরে কপালের টিপ ছেয়ে আছে তার।

কিছুক্ষন আগে ঘটে যাওয়া নিজের কল্পনাকে একবার স্মরন করে নিয়ে,,,কিছু একটা ভেবে,,, হাত দিয়ে টিপ টা খুলে আয়নার সাথে লাগিয়ে রাখলো সে।....

ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে রুম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হলো অতঃপর।

🍁

🍁

🍁

🍁

🍁

🍁

ধীর পায়ে সিড়ি বেয়ে নামতে নামতে পিঠ ফিরিয়ে কোনও এক লোককে সোফায় বসে থাকা অবস্থায় দেখতে পেলো ছবি। পেছন থেকে লোকটির পরিচয় বোধগম্য না হলেও লোকটির সামনে বরাবর কাব্যকে বসে থাকতে দৃষ্টি গোচর হলো তার।

ছবিকে নামতে দেখে বসা থেকে দাঁড়িয়ে পরলো কাব্য। কাব্যর চোখে মুখে ঘাবড়ানোর ছাপ স্পষ্ট।

ততক্ষনে সিড়ির শেষ প্রান্তে এসে দাড়িয়েছে ছবি।কাব্যকে উদ্দেশ্য করে ছবি মুচকি হাসি উপহার দিলেও প্রত্যত্তুরে কোনও জবাব দিলোনা সে।

কিছুক্ষন বাদে কাব্যর চোখ অনুসরণ করে বসে থাকা লোকটাও পেছন ঘুরে তাকালো তারপর । মুহুর্তেই যেন বাকরুদ্ধ হয়ে এলো ছবি। বিষ্ময়ে জমে আসতে শুরু করলো তার পুরো শরীর।

লোকটি তার বাবা,,,,শাখাওয়াত রাহমান।

ছবিকে দেখা মাত্রই শাখাওয়াত এর চোখ ভরে জল ঘনিয়ে আসায় অবাক হওয়ার পরিমান আরো দ্বিগুন হয়ে এলো ছবির।

--- বুড়ি মা.....??

বাবার মুখে ছোট বেলার সেই আদূরে ডাক শুনে হুহু করে উঠলো ছবির ভেতর টায়৷ তবুও তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে দিলোনা সে। পূর্বের মতোই চোখ মুখ শক্ত রেখে তাকিয়ে রইলো...শাখাওয়াত এর দিকে....প্রশ্নবোধক জিজ্ঞাসা নিয়ে....!!

---- বুড়ি মা,,,আয় আমার কাছে....

--- কে আপনি??

ছবির এমন কথায় আশাহত শাখাওয়াত।কিন্তু ব্যাপারটা অস্বাভাবিক লাগলোনা তার কাছে। এরকম টা হবে পূর্বেই অবগত ছিলো তার। তবুও নিরাশায় মুখস্রীতে ফুটে ওঠা ছাপ মিলিয়ে নিলো তাৎক্ষণিক। ধীর আওয়াজ তুলে বলে উঠলো...

--- আমি তোর বাবা...

---- বাবা...??

এক ধিক্কার মূলক শব্দহীন হাসিতে ছেয়ে এলো ছবির মুখস্রী।

--- আমার বাবা নেই। আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।

--- এমন করে বলিস না মা,,,,আমি জানি আমি তোর চোখে অপরাধি.. কিন্তু তাই বলে বাবার পরিচয় থেকে আমাকে বঞ্চিত করিস নাহ।

--- তাই নাকি??? তা এতো দিন পর আপনার মনে পরলো আপনি আমার বাবা??? আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে আপনার সন্তান ছিলো সেসব আজ মাথায় এলো আপনার??

--- আমি তোদের অনেক খুজেছি বিশ্বাস কর। কিন্তু পাইনি। তোর মা আমাকে কোনও কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সেদিন ওভাবে চলে গেলো। একবার শোনার চেষ্টাও করলোনা.....

---- কি শুনতো আমার মা?? আর কি--ই বলতেন আপনি..?? এটাই যে সে আপনার জীবনের দ্বিতীয় নারী। আপনি তাকে এতোদিন ভুল বুঝিয়েছেন,,মিথ্যে বলেছেন,,এইতো...??

---- বুড়ি মা,,,,তোর মা আমার দ্বিতীয় স্ত্রী হলেও এটা সম্পূর্ণ সত্যি যে আমি ওকে ভীষণ ভালোবাসতাম। নূবায়রা তো মানুষ টাই এমন ছিলো,,,,যাকে ভালো না বেসে পারা যায়--ইনা। ওকে পাওয়ার পর শাহানার প্রতি অন্যায় হবে জেনেও আমি সব ভুলে বিয়ে করে তোর মাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলাম। সত্যিটা জানালে যদি ও আমাকে ছেড়ে চলে যেতো?? সেই ভয়ে শত বার চেষ্টা করেও আমি সত্যিটা জানাতে পারিনি ।.. ( চোখের জল মুছতে মুছতে))

--- ভালো বাসতেন??আমার মাকে?? কেনো আপনার প্রথম স্ত্রীকে ভালোবাসতেন না?? এক পুরুষের জীবনে এক নারী বর্তমান থাকাকালীন অন্য আরেক নারীকে সব সত্যি লুকিয়ে তার সাথে প্রনয়ের সম্পর্কে যাওয়া,তাকে বিয়ে করে বছরের পর বছর সমাজ থেকে আলাদা রাখা এগুলো কেমন ভালোবাসা??

আর দু ফোটা চোখের জল ফেললেই কি এখন আপনার সব অন্যায় ক্ষমা করে দেবো আমি?? আপনার চোখের পানি গুলোতো আমাদের এতো বছর কষ্ট করে বড় হওয়া সেই দিন গুলো পাল্টে দিতে পারবেনা.... . বড় ঘরের মেয়ে হয়েও আধপেটা খেয়ে আমার মায়ের বেচে থাকার লড়াইয়ের সেই দিনগুলো মুছে দিতে পারবেনা। তাই আমার সামনে এসব নাটক করে কোনও লাভ নেই...ফিরে যান আপনি...!!

--- আমি নাটক করছিনা রে বুড়ি মা। আমি সত্যিই আমার অন্যায়ের জন্যে অনুতপ্ত। আমি জানি আমি মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছি।

কিন্তু আমি তোদের সবাইকে ফিরে পেতে চেয়েছি। সারাজীবন চেয়েছি,,,,,তুই আর আরু,,,তোরা তো আমার প্রান এর একটা অংশ ছিলি।

তোর মা তো আমাকে ছেড়ে গিয়ে,,,, আমাকে অর্ধেক টা শেষ -ই করে দিয়েছিলো। আজ ওকে ফিরিয়ে নেয়ার কোনও সুযোগ তো আমার কাছে নেই। তার আগেই ওকে নিয়ে নিলেন উনি( ওপরের দিকে তাকিয়ে) অনন্ত তুই আমাকে আর কষ্ট দিস না মা...

--- আপনার কিসের কষ্ট...??আপনার কাছে আমার মা না থাকলেও আপনার প্রথম স্ত্রী ছিলো,,,আপনার দুই ছেলে মেয়ে ছিলো,,,,আনন্দ আপনার জীবনে কোনও অংশেই কম ছিলোনা,,,,,

কষ্ট যা করেছে সেতো আমার মা করেছে,,,রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে সেলাই মেশিন চালিয়ে লোকেদের কাপড় সেলাই করেছে,,

আপনাকে ভালোবেসে ভুল হিসেবে ,,,,দিনের পর দিন চোখের জলে বালিশ ভিজিয়ে তার মাশুল গুনেছে।আর শেষ পর্যন্ত তো নিজের জীবন টাই দিয়ে দিলো.....!!

( একটু থেমে)

এক সেকেন্ড...

আমি আপনাকে এতো কথা কেনো বলছি... আপনি এখানে কেনো এসেছেন?? আর এখানে এসেছেন--ই বা কি করে....? আমি যে আপনার মেয়ে সেটা আপনাকে কে বলেছে ... বলুন কে বলেছে......??( চিল্লিয়ে)

---- আমি বলেছি....

এতক্ষন বাবা মেয়ের মাঝে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন কারী কাব্য গলার আওয়াজ তুলে অত্র কথাটি ছুড়ে দিলো ছবির উদ্দেশ্যে। কাব্য এর কথায় হতবাক হয়ে ওর দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো ছবি.......................!!

--- আপনি...??

--- জ্বি...আমি ওনাকে এখানে এনেছি। আমিই ওনাকে জানিয়েছি পুরো সত্যিটা।

--- কেন মিস্টার রেয়ান...? আপনি এরকম টা কেনো করলেন?? আপনি তো জানতেন যে উনি ঠিক কত বড় অন্যায় করেছেন আমাদের সাথে,,,,আমার মায়ের সাথে.... সব তো বলেছিলাম আমি আপনাকে...

--- আমি সব--ই জানি ছবি। কিন্তু

.... সেদিনের উনি আর আজকের ওনার মধ্যে অনেক তফাৎ। ওনার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন,,,,আজকের ওনার মধ্যে এক সন্তান আর স্ত্রী হারানোর শোক,,অন্য মেয়েকে ফিরে পাওয়ার তীব্র!! ইচ্ছে আর নিজের অন্যায়ের অপরাধবোধ সুস্পষ্ট ভাবে তাকিয়ে আছে..

মানুষ ভুল করলে তাকে শোধরানোর একটা সুযোগ দেয়া উচিত ছবি । উনি তো মানুষ --ই। আর তারও ওপরে উনি আপনার বাবা,,,,শেষ বারের মতো ওনাকে ক্ষমা করেই দিলেন না হয়...জীবনের সেই খারাপ সময় গুলোকে দূর্ঘটনা ভেবে ভুলে যান না ছবি...

---- কক্ষনও না...কোনও দিনও নাহ। দূর্ঘটনা যার সাথে ঘটে সেই বোঝে তার যন্ত্রনা কতটুকু। অন্যদিকের মানুষ গুলো সেই দূর্ঘটনায় স্বীকারগ্রস্ত মানুষ টাকে সহানুভূতি দিতে পারলেও তার ব্যাথা,, দুঃখ,,আঘাত কখনওই অনুভব করতে পারেনা। যেমন টা আপনি পারছেন না।

আমার মায়ের কষ্টের দিন গুলি সামনে থেকে দেখেছি আমি,,,,তাই আমি জানি... এই লোকটার জন্যে কত কিছু সহ্য করতে হয়েছিলো আমার মাকে... আপনি তার কি বুঝবেন... আর তাছাড়াও

উনি শুধু আমার মাকে ঠকিয়েছেন?? নাহ তার সাথে সাথে ওনার প্রথম স্ত্রীকেও ঠকিয়েছেন.... কি ভাবেন কি আপনারা মেয়েরা শুধু ঠকেই যাবে?? কাউকে প্রবল বিশ্বাসের ফল হিসেবে ছল চাতুরীই তাদের প্রাপ্য...??

---- ছবি আমি জানি... আমি জানি আমি আপনার মায়ের দুঃখ কষ্টের দিন গুলি কাছ থেকে দেখিনি,,কিংবা দেখলেও আমি সেই কষ্ট কে আপনার মত অনুভব করতে পারবোনা। কিন্তু আমি এটুকু অন্তত বুঝতে পারি যে কেউ ভুল করে অনুশোচনায় ভুগলে,,, ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করা উচিত।

উনি ওনার প্রথম স্ত্রী সন্তানের কাছে আপনাদের কথা জানিয়ে দিয়েছেন...সব সত্যিটা বলে দিয়েছেন। এবার থেকে পুরো সমাজের কাছে আঙ্কেলের মেয়ের স্বীকৃতি পাবেন আপনি...!!

আপনি জানেন?? যখন আমি ওনাকে আপনার কথা জানাই,,,উনি এক মুহুর্ত ও দেরি করেন নি আপনাকে ফিরে পাওয়ার কথা বলতে। ছুটে এসেছেন আপনাকে দেখতে।

ছবি আমি চাই অন্তত একটু হলেও আপনি আপনার পরিবার কে ফিরে পান। মা বোন না থাকুক আপনার বাবা তো থাকলো.... আর তাই

আপনাকে ওনার কাছে নিয়ে যাওয়ার সমস্ত বন্দোবস্ত সেড়েই উনি এখানে এসেছেন।

কাব্যের এহেন বাক্যে কাঠ হয়ে এলো ছবির সম্পূর্ণ মুখমন্ডল।

""""""" তার মানে মিস্টার রেয়ান চায় আমি এখান থেকে চলে যাই?? সেটাতো আমাকে বলে দিলেই হতো মিস্টার রেয়ান,, এতো কাহিনী এতো প্রহসনের কোনও মানে ছিলোনা তো...( মনে মনে)

গলা অব্ধি পাকিয়ে আসা কান্নাগুলোকে কোনও মতে আটকে নিলো ছবি। পুনরায় কাব্যের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো....

---- আমি কখনওই ওনার সাথে যাবোনা। তাতে উনি যাই করে থাকুক।

---- বুড়ি মা... বুড়ি মা,,আমাকে তোর যা শাস্তি দিতে হয় দিস,,,কিন্তু আমার সাথে চল মা,,শেষ বয়সে অন্তত বাবা মেয়ে এক সাথে বাঁঁচবো... সাহানা( প্রথম স্ত্রী) ওকে আমি জানিয়েছি সবটা,,,,,,

ও তোকে নিতে দ্বিমত করেনি। মায়ের মতো ভালোবাসবে ও তোকে দেখিস।

--- চুপ করুন আপনি....!! আমি আপনার কোনও কথাতেই ভুলবোনা... আপনি চলে যান এখান থেকে,,,আপনাকে দেখলেই আমার মৃত মায়ের মুখটা ভেসে উঠছে আমার চোখের সামনে....

--- ছবি,,,, আপনি এতো রিয়্যাক্ট কেনো করছেন..?? উনি তো বলছেন--ই উনি ভুল করেছেন।তাহলে কোথায় সমস্যা হচ্ছে আপনার??

....আর আপনি জানেন উনি যখন জানতে পেরেছেন যে আরাবির মৃত্যুর জন্যে ইরফান দ্বায়ী,,, উনি নিজেও আমার সাথে সাথে ইরফানের সমস্ত জামিনের ব্যাবস্থা নাকচ করার ব্যাবস্থা করেছেন। মিডিয়া থেকে প্রযোজক এর তালিকা দিয়ে ইরফানের নাম বরখাস্ত করে দিয়েছেন বরাবরের মতো...

--- তো.... এতে কি আমার বোন ফিরে আসবে...?? আসবে না...,,,,

আর না আমার মা আসবে..আমার মা আর আমার বোনের মৃত্যুর জন্যে কোথাও না কোথাও এই লোকটা দ্বায়ী।

!

!

মিস্টার রেয়ান আমি যা বলার বলে দিয়েছি,,,ওনার কোনও ক্ষমা নেই আমার কাছে .... কোনও ক্ষমা নেই...

কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে সিড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগলো ছবি... কাব্য মুখ খুলে ডেকে ওঠার আগেই ওর কাধে হাত রেখে থামিয়ে দিলো শাখাওয়াত।

---- থাক বাবা,,,ডাকিস না....

--- কিন্তু আঙ্কেল....??

---- থাক,,,ছেড়ে দে। কি বলতো এতোগুলো বছরে আমার প্রতি ওর ঘৃনা জমতে জমতে একেবারে পাহাড় সমান উঁচু হয়েছে। একদিনে কি আর সেই রাগ,,,সেই ঘৃনা শেষ হবে রে ?? হবেনা( দীর্ঘশ্বাস ফেলে)

--- অন্তত ওনাকে বোঝাতে তো দাও আঙ্কেল...

---- নাহ লাভ নেই। ,,আমি বুঝতে পেরেছি আমার মেয়ে আর আমার সাথে আসবেনা। ওর মুখ থেকে বাবা ডাক শোনার ভাগ্য আমার সেদিন--ই নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে।

ছবির যাওয়ার দিক থেকে চোখ সরিয়ে কাব্যের দিকে তাকালো শাখাওয়াত,,,, চোখের কার্নিশে তার মুক্ত দানার মত চিকচিক করছে অশ্রু গুলি। কিছুক্ষন চুপ থেকে পুনরায় অনুরোধ সূচক বাক্যে বলে উঠলো....

--- একটা কথা বলবো রাখবি রে কাব্য..??

--- বলো....

--- আমার বুড়ি মা কে বরাবরের জন্য তোর কাছে রেখে দিবি...??

---- মানে...??

---- মানে আমি চাই আমার বুড়ি মা সারাজীবন তোর সাথে থাকুক,,, তোর স্ত্রীর মর্যাদা নিয়ে....

অন্তত আমার মা মরা মেয়েটার জীবন নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকবো আমি... রাখবি আমার কথা কাব্য বলনা রাখবি....

জবাবে কিছু বললোনা কাব্য। শাখাওয়াত এর হাতের মুঠোয় থেকে সন্তর্পণে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে মেঝের দিকে তাকিয়ে চুপ মেরে রইলো....

কাব্যের দিক থেকে আশানুরূপ উত্তর না পেয়ে হতাশ হলো শাখাওয়াত। আবারো একটি ভারি নিঃশ্বাস ফেলে কাব্যের মাথায় একবার হাত বুলিয়ে দিলো সে।

--- ভালো থাকিস বাবা.... আমার বুড়ি মা কে দেখিস.... আড়াল থেকেই আমি ওর খেয়াল রাখবো....!!

চলবে....!!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন