ফন্ট সাইজ:
থিম:
কৃষ্ণচূড়া

২৪তম পর্ব

লেখক: নুসরাত সুলতানা সেজুথি

#কৃষ্ণচূড়া🍂

নুসরাত সুলতানা সেজুথি

পর্ব--২৪

ছবির রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কাব্য। চোখে মুখে অপরাধবোধ ঠিকড়ে পরছে তার।

সেই থেকে একভাবে বিছানার ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে শুয়ে কেঁদে যাচ্ছে ছবি। একটু নয় বরং আজ অনেক শব্দ করেই কাঁদছে। যার দরুন খানিক বাদে বাদে কেপে কেপে উঠছে তার শরীর।

ভেতরে পা বাড়াতে নিয়েও থেমে গেলো কাব্য। কোন মুখে ছবির সামনে গিয়ে দাড়াবে এখন?? মেয়েটার ভালো চাইতে গিয়ে এভাবে যে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে সেসব তো ভাবেনি । এখন কি হবে??

কি দরকার ছিলো আগ বাড়িয়ে এসব করতে যাওয়ার?? সাজেকে গিয়ে পুরোটাই সেড়ে উঠেছিল ছবি। কিন্তু আজকের পর তো,,,,,সে নিজেই সব আবারো ওলট পালট করে দিলো .....!!

মুখ কালো বর্ন করে একিভাবে দাঁড়িয়ে রইলো কাব্য। ভেতরে যাবে নাকি যাবেনা ক্রমাগত দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পরছে সে...

অবশেষে সামান্য সাহস সঞ্চয় করে রুমের অভ্যন্তরে ঢুকেই পরলো কাব্য। ছবির কাধের ওপর হাত রাখতে তড়িঘড়ি করে চোখ মুছে উঠে বসলো ছবি।

--- আপনি..??

--- ছবি... দেখুন আমি আসলে...,,,, আসলে আমি আপনাকে এভাবে হার্ট করতে চাইনি... আমি ভেবেছিলাম,,,

--- আপনি কি ভেবেছিলেন আমি জানি মিস্টার রেয়ান। আলাদা ভাবে আমাকে বোঝানোর দরকার নেই।

---- মানে..??

--- মানে এইতো যে,, আপনি চান আমি এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাই...??

--- কিহ( অবাক হয়ে)

--- আপনি ভাববেন না আপনার ঘাড়ের বোঝা হয়ে আর বেশিদিন থাকবো না আমি...চলে যাবো খুব শীঘ্রই চলে যাবো...!!

--- এসব আপনি কি বলছেন?? আমি এরকম কেনো চাইবো ছবি... এতোটা নিচু মানসিকতার আমাকে মনে হলো আপনার??

--- মনে না হওয়ার তো কোনও কারন নেই,,,,আপনি ওই লোকটাকে ডেকে ছিলেন আমাকে তার হাতে তুলে দিতে,,,নিজেকে দ্বায় মুক্ত করতে,,,,তাইতো...??

---- না ছবি এরকম টা নয়,,,,আপনি ভুল ভাবছেন। আমি চেয়েছিলাম আপনি অন্তত আপনার জীবনে বাবার ছায়া পান,,,আপনার মাথায় আপনার বাবার হাত থাকুক। বাবার ভালোবাসা থেকে আর বঞ্চিত না হন আপনি। আর কিছুই নয়,বিশ্বাস করুন।

---- হাহ( হেসে) তাই বুঝি...??

--- হ্যা তাই।

---- হুম।

---- হুম মানে?? আপনি বিশ্বাস করছেন না আমার কথা...??

--- করছি। কিন্তু এটাও সত্যি যে আমাকে একদিন না একদিন এই বাড়ি ছাড়তেই হবে,,,অন্যের ভরসায় আর কতো...!!

--- অন্যের ভরসা মানে... আমি কি আপনার নিজের কেউ নই...আপনি তবে আমাকে পর--ই ভাবেন( মনে মনে)

কাব্যকে চুপ থাকতে দেখে আরেক দফা হতাশা ছেয়ে গেলো ছবিকে। মৌনতা সম্মতির লক্ষন হিসেবে ধরা হলে,,, তবে কি এটাই সঠিক যে কাব্য ছবির সাথে সহমত??সে চায়না ছবি এ বাড়িতে থাকুক..??

ছবির কষ্টের তীব্রতা আরো একধাপ বাড়িয়ে কোনও উত্তর না দিয়েই রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেলো কাব্য। আর সেদিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে পূর্বের মতোই কান্নায় ভেঙে পরলো ছবি।

না নিজেকে সংবরন করতে পারছেনা সে,,,আর না পারছে চোখের অশ্রু গুলিকে থামাতে। এ কোন সংকটে পরলো... শেষ মেষ...!!

--- আমি চলে যাবো কাব্য। ভাব্বেন না আপনি।

🍁

🍁

🍁

🍁

🍁

রকিং চেয়ার সমেত অনবরত দুলে যাচ্ছে কাব্য। অশান্ত লাগছে,,ভীষণ অশান্ত লাগছে। কি ভাবে কমবে এই অভ্যন্তরীণ অশান্তি নামক রোগ?? না জানা নেই। জানলে তো কবেই সেড়ে যেতো...!!

কিছুক্ষন বাদে নিশব্দে কাব্যের পাশে এসে দাড়ালো রাজিব।

চোখে মুখে তার ফুটে আছে জিজ্ঞাসা,,,কাব্যের এতো অস্থিরতার কারণ জানতে চাওয়ার জিঘাংসা।

--- কি হয়েছে স্যার...??

রাজীবের আওয়াজ পেয়ে দোলন গতি থামিয়ে দিলো কাব্য। গম্ভীর স্বর তুলে বলে উঠলো...

--- কিছুনা।

--- কেনো লুকাচ্ছেন স্যার। আপনার কিছু একটা হয়েছে.... এতোটা অন্যমনস্ক আপনি কখনওই থাকেন না। নাহলে আমি অনেক ক্ষন ধরে এসেছি আর আপনি বুঝতেই পারেন নি..?

জবাবে আগের মতোই চুপ রইলো কাব্য। উওর না পেয়ে

এবার কাব্যের পায়ের এক পাশে মেঝেতে,,, এসে বসে পরলো রাজিব। চেয়ারের হাতলে নিজের হাত রেখে কাব্যের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো....

--- বলুন না স্যার,,,কি হয়েছে আপনার?? আপনিইতো বলেন আমি আপনার ছোট ভাইয়ের মতো,,,তাহলে ভাইয়ের থেকে নিজের কষ্ট কেনো আড়াল করছেন স্যার... বলুন না আমায়...

রাজীবের ধরে আসা গলার আওয়াজেও নির্বাক রইলো কাব্য। উত্তর না পেয়ে নিরাশ হয়ে একিভাবে বসে রইলো রাজিব।

বেশ খানিক ক্ষন এমন নিরবতা কেটে গেলো দুজনের মাঝে। এহেন পিনপতন নিরবতার মাঝেই হুট করে কাব্য বলে উঠলো....

---- আচ্ছা রাজিব,,আমি যদি ছবিকে বিয়ে করি??

ব্জ্রপাতের মতো কান ফাটা শব্দে অত্র কথাটি বাড়ি খেলো রাজিবের দুকানে।

ঠিক শুনলো সে..?? একটু আগে কাব্য বিয়ের কথা বলেছে? সত্যিই বলেছে??

ধাক্কার পরিমান এতো অল্পতে না সামলাতে পারায়,,,কাব্যের কথার পিঠে মুখ হা করে তাকিয়ে রইলো রাজিব।

---- কি হলো কিছু বললেনা...??

---- স্যার... আপনি সত্যিই ছবি ম্যাডাম কে বিয়ে করতে চান..??

--- চাই।

--- আপনি কি ওনাকে ভালো বাসেন স্যার..??

--- জানিনা...!

---- তবে স্যার,,,ওনার প্রতি আকর্ষণ??

--- তাও জানিনা।

----তাহলে স্যার ,,আপনি যে ছবি ম্যাডামের স্কেচ করেছিলেন... সেটা কেনো স্যার

..??

রাজীবের কথায় এতোক্ষনে সামনে থেকে চোখ সরিয়ে চকিত হয়ে ওর দিকে তাকালো কাব্য।

--- তুমি কি করে জানলে,,,সেতো অনেক আগের কথা....

--- আমি দেখেছি স্যার। আপনি যখন ছবি আঁকতে ব্যস্ত ছিলেন,,,তখন এক ফাকে দেখে নিয়েছিলাম।

আগে দু একবার ছবি ম্যাডাম এর সাথে দেখা হওয়ায় স্কেচ দেখেই চিনে ফেলেছিলাম,,,,

---- কাউকে বলেছো??

---না স্যার....

---- গুড।

---- স্যার,একটা কথা বলবো...

---- আপনি তো কখনও কোনও মেয়ের ছবি আঁকেন নি। এমনকি রচনা ম্যাডামের ও নয়। তাহলে??

--- এর উওর আমিও জানিনা। কোথাকার কোন মেয়েকে একদিন রাস্তায় বৃষ্টি তে ভিজতে দেখলাম,,আর তার মুখ টা একেবারে গেথে গেলো..??

অবশ্য রাজিব,,,ছবিকে আরো একবার দেখেছিলাম আমি,,,,শুটিং স্পটে যেদিন আরাবিকে খাবার দিতে এসেছিলো সেদিন,,,,রেস্ট রুমের জানলা থেকে।

আর সেদিন রাতেই আমার কি অনুভুতির স্বীকার হয়ে স্কেচ বানিয়েছিলাম আমি,,,, তার বিশ্লেষণ আজ অব্ধি পাওয়া হলোনা আমার।

কিন্তু দিন দিন আমার ছবির প্রতি দূর্বলতা বেড়েই যাচ্ছে। ওনার কান্না,হাসি,,মৌনতা,মলিনতা সব কিছু আমাকে এতো কাছ থেকে স্পর্শ করে যে আমি নিজেকেই নিজের মধ্যে হারিয়ে ফেলি। আমি কি তবে দ্বিতীয় বার এর মতো কাউকে আমার মনে জায়গা দিতে চলেছি....?? রচনা ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসলে ওর কি খারাপ লাগবে রাজিব..??

---- না স্যার,,,,দ্বিতীয় বার ভালোবাসা ভুল কিছু নয়। আপনি যদি এত বছর পর কাউকে ভালোবেসে সুখি হন রচনা ম্যাডামের আরো ভালো লাগবে এতে,,, কারণ আপনি খুশি আছেন। তাছাড়া অতীত আকড়ে বর্তমান কে নষ্ট করা উচিত নয় এটাতো আপনিই একদিন ছবি ম্যাডামে কে বলেছিলেন। তাহলে সেই নিয়ম আপনার ক্ষেত্রে কেনো খাটবেনা স্যার।

--- সত্যিই কি তাই...??

জবাবে রাজিব মৃদূ মাথা ঝাকালো। কাব্যের মনে ছবির জন্যে হয়তো কিছু আছে এমন ভাবনা সেদিন--ই তার মাথায় এসেছিলো যেদিন মনোযোগ দিয়ে কাব্যকে ছবির স্কেচ করতে দেখেছিলো সে।

দুদিন আগেও যে মেয়ের সাথে কোমড় বেধে ঝগড়া করার প্রবল ইচ্ছে ছিলো তার,,,,সেই মেয়ের জন্যে তার বসের অনুভূতি জানতেই ঘোল পাল্টে নিলো রাজিব। হুট করে সন্মোধনের মাত্রাটা অধিক পরিমানে বেড়ে গিয়ে সন্মানে মোড় নিলো।

---- স্যার,,,তবে ম্যাডাম কে বলে দিন।

--- কি বলবো?.?

--- এটাই যে আপনি ওনাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন!

---- উনি কি রাজি হবেন আমার দ্বিতীয় স্ত্রী হতে??

--- অবশ্যই হবে স্যার,,,আপনার বউ হতে পারা তো সৌভাগ্যের ব্যাপার। এখানে দ্বিমত করার কোনও কারন-ই নেই....

--- সেটা তুমি ভাবছো রাজিব। ছবি কি ভাবছেন সেটাই জানতে হবে আমাকে.....!!

চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে ছবির রুমের দিকে হাটা ধরলো কাব্য। কিন্তু কিভাবে জানবে ছবির মনে কি আছে...?? সরাসরি জিজ্ঞেস করবে...?? নাকি অন্য ভাবে...

সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে রুমের দোরগোড়ায় এসে দাড়ালো কাব্য। জ্বিভ দিয়ে একবার নিচের ঠোঁট ভিজিয়ে নিয়ে.....ভেতরের দিকে পা বাড়ালো....!!

রুম ফাকা দেখে ভ্রু ক্রুটি করে বারান্দায় উকি দিলো কাব্য,,, ছবি কে না পেয়ে কিছু একটা ভেবে ওয়াশরুমের সামনে গিয়ে দাড়ালো তারপর।

দরজার লক বাইরে থেকে টানা দেখে বুঝতে পারলো পুরো রুমেই ছবি নেই। তার মানে নিশ্চয়ই রান্নাঘরে রয়েছে....!!

শব্দ তুলে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এসে রান্নাঘরে ঢুকলো কাব্য। অন্যান্য সার্ভেন্ট রা এখানে থাকলেও ছবিকে না পেয়ে এবার কপাল কুচকে এলো তার।

অনেকটা ছুটে যাওয়ার মত হন্তদন্ত হয়ে ছাদের দিকে পা বাড়ালো কাব্য। কিন্তু

ছাদেও ছবি কে না পেয়ে সেখান থেকে বাড়ির আঙিনার সুস্বজ্জ্বিত পুষ্প বাগিচার দিকে মনোযোগ সহকারে চোখ বোলাতে শুরু করলো.....

অনেক খুজে কোত্থাও ছবিকে না পেয়ে এবার রীতিমতো ঘাম ছুটে এলো কাব্যের। কোথায় গেলো তাহলে ছবি...?? ছবি কি তবে সেদিনের জন্যে এ বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন..??

কথাটা মাথায় আসতেই বুকটা কেপে উঠলো কাব্যের।

--- এটা আপনি করতে পারেন না ছবি। এটা আপনি করতে পারেন না।

দৌড়ে সিড়ি বেয়ে নেমে এসে বাড়ির গেটের কাছে পৌছালো কাব্য। কাব্য কে দেখে চেয়ারে বসে থাকা দারোয়ান আজিজ উঠে দাড়ালো।

--- স্যার কিছু হয়েছে..?? আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন??

--- আজিজ তুমি এখান থেকে ছবিকে বের হতে দেখেছো..??

--- ছবি ম্যাডাম??

--- হ্যা...হ্যা...

--- জ্বি স্যার,,,এইতো কিছুক্ষন আগেই উনি বেরিয়ে গেলেন।।

--- তার মানে আমি যা ভাবছি তাই ঠিক...( মনে মনে)

তুমি দেখেছো কোন দিকে গিয়েছেন উনি..??

--- বামে মোড়ের দিকে যেতে দেখলাম স্যার।

---

এখান থেকে তো,, বাস স্টপেজ কাছে,,ছবি তাহলে ওখানেই যাচ্ছেন....( মনে মনে)

আর এক মুহুর্ত সময় নষ্ট না করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরলো কাব্য। খুব বেশি দেরী হওয়ার আগে তাকে পৌঁছাতে হবে,,,,ছবিকে আটকাতে হবে। ছবি এভাবে তাকে রেখে যেতে পারেনা।

,,,

,,

,,,

,,,

,,,

,,,

স্টপেজে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে এলো কাব্য। একে একে বাস কাউন্টার থেকে সব জায়গায় ছবিকে তন্নতন্ন খুজে বেড়াচ্ছে সে... একটা সময় না পেয়ে ক্লান্ত হয়ে কাউন্টারে রাখা বেঞ্চির ওপরেই বসে পরলো কাব্য।

--- কোথায় গেলেন ছবি?? কোথায় গেলেন আমাকে ছেড়ে??

ভাঙা গলায় কথাটা বলে উঠে দাড়ালো কাব্য,,,এভাবে অল্পতে হার মানলে হবেনা। ছবিকে যে খুজে পেতেই হবে। এই স্টপেজে না হোক,,,অন্য স্টপেজে খুজবে.... ঢাকার সমস্ত স্টপেজে খোজ লাগাবে সে।

পকেট থেকে ফোন বার করে কারো একটা নম্বরে ডায়াল করে কানে ঠেকালো কাব্য। ফোন কানে ধরে রাখা অবস্থাতে পিছু ফিরতেই হুট করে এক জায়গায় চোখ আটকে এলো তার....!!

মাত্রই সিএন জি করে নেমেছে ছবি। এতো স্পিডে ড্রাইভ করেছে কাব্য যে ছবির আগেই পৌঁছে গিয়েছিলো সে। আর তাই এতক্ষন এতো খুজেও,,,,, পায়নি।

কান থেকে ফোন নামিয়ে ফোস করে এক নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো কাব্যের ভেতর থেকে... এই নিঃশ্বাসে নিশ্চিন্ত হওয়ার ছাপ সুস্পষ্ট।

ছবির অগোচরে আড়াল থেকে ওর ওপর দৃষ্টি রাখছে কাব্য,,,। কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে স্টপেজের বেঞ্চে বসে পরলো ছবি। বাস ছাড়তে এখনও বেশ কিছুক্ষনের মত সময় লাগবে।

ছবির মলিন মুখ বলে দিচ্ছে ঢাকা ছাড়তে কত টা কষ্ট পুষতে হচ্ছে তার ভেতরে।

-- ভুল বুঝে আমার থেকে দূরে যেতে চাইছেন ছবি.? সেতো হবেনা....!!

বাস ছাড়ার সময় হয়ে আসতেই উঠে দাড়ালো ছবি।এগিয়ে গিয়ে বাসে ওঠার জন্যে পা বাড়াতে যেতেই আচমকা পেছন থেকে হাত টেনে ধরলো কাব্য। চকিত হয়ে পেছন ফিরে তাকাতেই সমপরিমানে আরো একবার ঝটকা লাগলো কাব্যকে দেখে।

ছবি হা করে কিছু বলতে যাওয়ার আগেই সবার সামনেই ওকে পাজাকোলায় তুলে নিলো কাব্য। বিষ্ময়ে ছবির দুচোখ ভারি হয়ে এলো মুহুর্তেই। আশেপাশে সমগ্র লোকেরা উদগ্রীব হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দুজনের দিকে....

সেসবে তোয়াক্কা না করে ছবিকে কোলে নিয়েই গাড়িতে উঠে বসলো কাব্য। এখনও নিজের সাথে ঘটতে থাকা ঘটনা স্নায়ুতন্ত্রে ক্রমশ বাড়ি খেয়ে বেড়াচ্ছে ছবির।

বিষ্ময় কাটতেই মুহুর্তেই চোখ মুখ শক্ত হয়ে এলো ছবির। হাত দিয়ে গাড়ির দরজা খুলতে উদ্যত হতে যাওয়া মাত্রই কাব্য তার এক হাত এর মধ্যে দু হাত আবদ্ধ করে নিলো ছবির। হাত ছোটাছুটি করতে গিয়েও থেমে গেলো ছবি। কাব্যের মতো বলিষ্ঠ পুরুষের সাথে শক্তিতে পারবেনা সেতো অজানা কিছু নয়....!!

--- এসবের মানে কি মিস্টার রেয়ান??

--- তার আগে আপনি বলুন...আপনি কোথায় যাচ্ছিলেন ছবি...??

--- সেসব আমি আপনাকে বলতে যাবো কেনো..??

---- তাহলে কাকে বলবেন..??

--- যাকে ইচ্ছে হবে তাকে...বলবো..!আমি আপনার বাড়িতে আর থাকবোনা ব্যাস।

--- আপনার বাবার কাছে চলে যাবেন বুঝি??

--- এখানে ওই লোকের কথা এলো কেনো..??

--- কি করবো বলুন। ,,,আমি তো আর আপনার কেউ নই তাই না হয় আমার কাছে থাকবেন না। ,,,,

তাও উনি আপনার নিজের লোক। সব জায়গায় ওনাকে তো টানতেই হবে... তাইনা..??( বাকা চোখে তাকিয়ে)

--- এই এই জন্যেই আমি চলে যেতে চাই। আমি বুঝে গিয়েছি আপনার মনের ইচ্ছে কি...

আপনি চান তো আমি চলে যাই?? যাচ্ছিলাম --ই তো.. আটকালেন কেনো... যেতে দিন আমাকে,,ছাড়ুন হাত ছাড়ু........!!

ছবির কথা শেষ করার আগেই ঝুকে এসে অন্য হাত দিয়ে ওর মুখ চেপে ধরলো কাব্য।

--- আমার মনের ইচ্ছে ঠিক কি,সেটা বাড়িতে নিয়েই বুঝিয়ে দিচ্ছি।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন