ফন্ট সাইজ:
থিম:
কৃষ্ণচূড়া

২৫তম পর্ব

লেখক: নুসরাত সুলতানা সেজুথি

#কৃষ্ণচূড়া🍂

নুসরাত সুলতানা সেজুথি

পর্ব--২৫

রেয়ান ভিলার দোরগোড়ায় এসে গাড়ি ব্রেক কষলো কাব্য। ফলে কিঞ্চিৎ সামনের দিকে ঝুকে পরলো ছবি। গাড়িতে ওঠা থেকে নিজে না সিট বেল্ট বেধেছে কাব্য আর না বাধতে দিয়েছে তাকে। সেই থেকে একিভাবে ছবির এক হাত এখনও শক্তপোক্ত ভাবে ধরে রেখেছে কাব্য।

--- মিস্টার রেয়ান,,,এবার তো হাতটা ছাড়ুন আমার।

--- কেন,, ছাড়লেই পালাবেন বুঝি...

--- না রে বাবা,,,নামতে দিন,,,আমায়।

--- আমি যখন গাড়িতে আপনাকে ওঠাতে পেরেছি

তখন নামাতেও পারবো...

কাব্যের কথায় স্টপেজে ওকে কোলে তুলে নেয়ার দৃশ্য চোখে ভাসতেই চকিত হয়ে নড়ে উঠলো ছবি....

--- এই না। একদম না,,,আচ্ছা আপনার মাথায় কি গোবর।

--- ইয়াক! প্রশ্নই ওঠেনা....

--- যদি নাই হবে,,, তখন ওভাবে সবার সামনে আমাকে কোলে তুলে নিলেন কোন আক্কেলে শুনি ??

--- তো...?

--- তো মানে,,,,আপনি কি ভুলে গিয়েছেন আপনি কে ?? এমনিতে বের হলে যেখানে গাড়ির কাচ অব্ধি নামান না আপনি,,,, সেখানে আজ একেবারে সবার সামনে.. ..একটা মেয়েকে পাজাকোলায় নেয়ার মানে জানেন আপনি..??

---- যা হবে দেখা যাবে। আপনার থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে হয়নি তখন( মনে মনে)

--- কি ভাবছেন.??এখন ভয় লাগছে তাইতো....

--- জ্বি না,,,,,সব রকম পরিস্থিতি সামলাতে পারি বলেই আজকের কাব্য রেয়ান আমি । ইন্ডাস্ট্রিতে আমার নামে কোনও বাজে বা ফেক নিউজ আজ অব্ধি তৈরি হয়নি বলেই আমি এতোটা সন্মানিত। বুঝেছেন...??

---- জ্বি বুঝেছি। অবশ্য আমার কি,,,আমাকে তো আর এতো মানুষ চেনেনা,যতটা আপনাকে চেনে,,,,রাস্তার মধ্যে তাদের হিরো একটা মেয়েকে কোলে নিলো এটা নিয়ে তারা কি করবে সেটা তারাই জানে।

--- যাই করুক। আই ডোন্ট কেয়ার,,,

কাব্যের কথা শেষ হতে না হতেই বাড়ির ভেতর থেকে ছুটে এলো রাজিব।

নিশব্দে নয়,,,বরং স্যার স্যার বলে চিৎকার করতে করতে আসছে সে....রাজিবের এহেন কাজে ভ্রু ক্রুটি করে বিরক্তি নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পরলো কাব্য।

রাজিবের মাথার স্ক্রু একটু নয় বেশ অনেকটাই ঢিলে......সেটা জানা আছে কাব্যের। কিন্তু আজকে তাকে এমন হন্তদন্ত হয়ে আসতে দেখে মনে হচ্ছে স্ক্রুটা নির্ঘাত কোথাও খুলে পরে গিয়েছে।

কাব্যের ভাবনার ফাকেই অপর পাশ থেকে নেমে পরলো ছবি।,,,ততক্ষনে তাদের দুজনের সামনে ,ওপাশ থেকে দৌড়ে

এসে দাড়ালো রাজিব। গাট্টাগোট্টা দেহে এতোটা ছোটার ফলে বেশ বেগ পেতে হলো তাকে। ফলশ্রুতিতে দাড়ানো মাত্রই সামনের দিকে ঝুকে হাটুতে দু হাত রেখে হাপাতে শুরু করলো সে।

কাব্য এখনও ভ্রু ক্রুটি করে তাকিয়ে আছে রাজিবের দিকে। মাঝে মাঝে এর কি হয় কে জানে...???

বেশ কিছুক্ষন হাপিয়ে নিয়ে অতঃপর সোজা হয়ে দাড়ালো রাজিব। তার চোখে মুখে উদ্বীগ্নতার ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে কাব্য।

--- স্যার আপনি কোথায় গিয়েছিলেন স্যার,,,,

এতো সময় পার করে এরকম একটা প্রশ্ন শুনে পূর্বের থেকেও বেশি পরিমানে নাক মুখ কুচকে ফেললো কাব্য।

চেহারায় একি রকম বিরক্তি মেখে পাশ ফিরে একবার ছবির দিকে তাকালো সে । ছবিও তার মতো একিভাবে জিজ্ঞাসাসূচক চাহনীতে রাজিব কে দেখে যাচ্ছে। সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে আবারো রাজিবের দিকে তাকালো কাব্য।

--- কি হয়েছে তোমার?? দেখে তো মনে হচ্ছে বিশ্বযুদ্ধ লেগে গিয়েছে....!!

--- বিশ্ব যুদ্ধের মতই ভয়ানক কান্ড ঘটে গিয়েছে স্যার....!!

--- হয়েছে টা কি..??

--- ভেতরে চলুন,,,সব বুঝতে পারবেন স্যার...

রাজিবের মুখ চোখ ভালো করে খেয়াল করতেই কাব্য বুঝতে পারলো সিরিয়াস কিছু একটা ঘটেছে হয়তো.... নাহলে রাজিব এতোটা ঘাবড়ে আছে কেনো....

--- কি হলো স্যার চলুন....!!

রাজিবের কথার পিঠে চুপ থেকে সামনে সামনে হাটা ধরলো কাব্য। কাব্যের পিছু নিতে গিয়েও থেমে গেলো রাজিব। পেছন ফিরে ছবির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো...

--- ম্যাডাম আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কেনো... আসুন তাড়াতাড়ি...

রাজিবের কথায় মাথায় দুলিয়ে ওদের সাথে পা মিলিয়ে বাড়ির দিকে এগোতে শুরু করলো ছবি। ভেতরে কি লঙ্কা কান্ড বাধিয়েছে রাজিব,, কে জানে...??

_________________________________

_____________________

ড্রয়িং রুমের কাছে আসা মাত্রই সামান্যতম অবাক হলো ছবি। কাব্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে টেলিভিশন দেখছে। পুরো মনোযোগ দিয়ে দেখছে। এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে টেলিভিশন এর ভেতর থেকে আগুনের গোলা ছুড়ে মারা হচ্ছে তাকে,,,,আর সেই জন্যে ঘাবড়ে একেবারে ঘেমেনেয়ে যাচ্ছে।

এসির হিম শীতল বাতাসের মধ্যেও কাব্যের এমন ঘাম ছুটতে দেখে ভ্রুদ্বয় সঙ্কুচিত করে কাব্যের পাশে গিয়ে দাড়ালো ছবি । কাব্যের চোখ অনুসরণ করে টেলিভিশনের দিকে চোখ বোলাতেই সম্পূর্ণ শরির নিস্তেজ হয়ে আসতে শুরু করলো তার।

টেলিভিশনের পর্দায় স্টপেজে কাব্যের তাকে কোলে তুলে নেয়ার দৃশ্য টি বারবার দেখাচ্ছে,,,কখনও আবার জুম করে দেখাচ্ছে। এর থেকেও বেশি পরিমানে ধাক্কা অনুভূত হলো....... দৃশ্যের নিচের শিরোনাম টি দেখে....!!

"""" সুপারস্টার কাব্য রেয়ানের সাথে অবৈধ মেলামেশায় ইন্ডাস্ট্রিতে নবাগত হিরোইন ছবি....!!""""

হতবাক হয়ে টিভি পর্দার দিকে তাকিয়ে আছে ছবি। একেবারে নিষ্পলক সেই দৃষ্টি।

এবার এই নিউজ পুরো দেশে ছড়িয়ে যাবে,,,,হয়তো ইতিমধ্যেই গিয়েছে। অবশ্য বাকি থাকার কথাও নয়,,,যেখানে টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে সেখানে প্রত্যেক ঘরে ঘরে পৌছাবে এটাই তো স্বাভাবিক। তাহলে এবার সমস্ত মানুষের কাছে তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠবে.... এত টা লজ্জ্বার সম্মুখীন হতে হবে তাকে শেষ মেষ..??

ছবিকে নজরে আসতেই ধড়ফড় করে টিভির রিমোর্ট দিয়ে চ্যানেল পাল্টে দিলো কাব্য।

মিডিয়া জগতে তাদের জন্যে এসব নিউজ অহরহ ঘটে থাকলেও ছবির জন্যে এমন সংবাদ চূড়ান্ত এফেক্টিভ। ছবি যে সম্পূর্ন এর বাইরে....!! ততক্ষনে

ছবির চোখের পাশে চকচক করে কিছু একটা জ্বলতে দেখে কাব্যর বুঝতে দেরি হলোনা যে ছবি কাঁদছে।

এগিয়ে এসে কিছু বলতে নেয়ার আগেই হাত উচু করে থামিয়ে দিলো ছবি....

---- থাক মিস্টার রেয়ান। আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার প্রয়োজন নেই।

---- ছবি,,,এসব ফেক নিউজ এভেইএবল ঘটে থাকে,,,এগুলো তেমন কিছু নয়।

--- আপনার কাছে নয়,,,কিন্তু আমার কাছে এর মানে অনেক বেশি কিছু....

---- ছবি আমি জানি,,,,,,কিন্তু,,,, আপনি এতো সিরিয়াস হবেন না এ নিয়ে....

কাব্যের কথার পিঠে ছবি কিছু বলতে যাওয়ার আগেই ওদের দুজনের কানে আরো একবার ভেসে এলো টেলিভিশন থেকে আগত কোনও পুরুষালি কন্ঠের আওয়াজ....!!

"" আজকাল সিনেমা জগতের তারকাদের অশ্লীলতা,,, বদ্ধ কামরাতেই সীমাবদ্ধ নেই,,,,বরং নেমে এসেছে রাস্তাতেও,,,,এতোদিন কাব্য রেয়ান কে সবাই সন্মানের সহিত অন্যরকম জানলেও আজ মুখোশ খুলে এসেছে তার। পাব্লিক প্লেসে তারই হাত ধরে আগত নতুন হিরোইন,,,যার কিনা এখন অব্ধি সিনেমা রিলিজ হয়নি তার সাথে এমন উন্মুক্ত মেলামেশায় হতাশ কাব্য রায়নের ভক্তরা।

প্রশ্ন শুধু তাকে নিয়েই নয়,,প্রশ্ন নতুন পদার্পিত নায়িকা ছবিকে নিয়েও,,,তবে কি তিনি ক্যামেরার সামনে আসতে কাব্য রেয়ান এর কাছে নিজের সৌন্দর্য ব্যাবহার করেছেন...??

গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে এই নবাগত নায়িকা ছবি দীর্ঘদিন সুপারস্টার কাব্য রেয়ানের সাথে একই বাড়িতে ছিলেন,,,তাহলে কি চোখের দেখা ছাড়াও আরো গভীর সম্পর্কে লিপ্ত তারা দুজন?? নাকি বিদেশি কালচার কে অনুসরণ করে বাংলাদেশেও এখন চালু হতে যাচ্ছে লিভ টুগেদারের নামে অবৈধ সম্পর্কের সূচনা..?? এর উত্তর তো তারা দুজনেই দিতে পারবেন...!!

এমন লোমহর্ষক সংবাদে হাত পা জমে আসতে শুরু করলো ছবির। কয়েক ফোটা চোখের জল থেকে এবার সেগুলি ঝরঝর ধারায় বর্ষাতে শুরু করলো...

ছবিকে সামলানোর জন্যে কাব্য এগোতে ধরতেই একেবারে ক্ষিপ্ত হয়ে চেচিয়ে উঠলো ছবি...

--- ছোঁবেন না আমাকে....

---- ছবি আপনার শরীর খারাপ করবে,শান্ত হন...!!

----করলে করবে,,,,কিন্তু আমার যে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো মিস্টার রেয়ান। আমার চরিত্রে যে দাগ লেগে গেলো... একটা মেয়ের কাছে তার সন্মান সব থেকে মূল্যবান,আর সেই সন্মানেই আঙুল তুলবে মানুষ..?? আমাকে রাস্তায় দেখলে চরিত্রহীনা বলে সন্মোধন করবে....??

----পাগলের মতো এসব কি বলছেন ছবি..? এরকম কিচ্ছু হবেনা...

--- হবে,,,এরকম টাই হবে,,,, আপনি বুঝবেন কি করে... আলিশান মহলে থেকে চালা ঘরে বৃষ্টির ফোটা কখনও গোনা যায়না,,,,সমাজ কে দেখতে হলে কাছ থেকে দেখা প্রয়োজন। আমি জানি এই সমাজের মানুষেরা কেমন হয়?? জানি আমি....

---- ছবি শান্ত হন। যা হয়েছে তাতে আপনার আর আমার কোনও হাত নেই। এটা কো -- ইন্সিডেন্ট ..!!

---- নাহ,,,সব কিছুর জন্যে আপনিই দ্বায়ী মিস্টার রেয়ান। কেনো আপনি আমাকে আটকে দিলেন। কেনো যেতে দিলেন না..?? তাহলে না আপনার গায়ে কাদা ছিটতো আর না আমার।

---- ছবি আজ যদি আমি কোনও সাধারণ মানুষ হতাম তবে এরা কেউ আমার দিকে ফিরেও তাকাতোনা। কিন্তু আমি একজন হিরো বলেই তিল কে তাল বানিয়ে নিচ্ছে সবাই। এখানে আমার দোষ টা কোথায়??

--- এখানেই তো আসল সমস্যা মিস্টার রেয়ান। এই সব ফেক নিউজ আপনাদের গায়ের লোম স্পর্শ না করলেও আমার মত মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েদের অনেক কিছু যায় আসে। আমি পারবোনা বিনা দোষে আমার সন্মান হানি মেনে নিতে।আর তাই আপনার থেকে যত দূরে থাকবো ততই আমার মঙ্গল। আর আপনিও প্লিজ দূরে থাকুন আমার থেকে...!!

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন