ফন্ট সাইজ:
থিম:
কৃষ্ণচূড়া

২৬তম পর্ব

লেখক: নুসরাত সুলতানা সেজুথি

#কৃষ্ণচূড়া🍂

নুসরাত সুলতানা সেজুথি

পর্ব--২৬

""""" পাশাপাশি দুটো ট্রেন....

সমান্তরাল আগেরমত লেনদেন"""''''

""""তবু একবার হাতটা বাড়াও দেখি..."""""

মাঝখানে ওরা দুরুত্ব মানবে কি....???

🍁

🍁

""

দুরুত্ব তো আমাদের মধ্যে শুরু থেকেই। এর নতুনত্ব দেয়ার খুব কি দরকার...???

আকাশ টা নীলচে .... কিন্তু কখনও মনে হয় প্রেমময় রঙে সজ্জ্বিত সে। মাঝখানে শুধু কিছু সাড়ি সাড়ি মেঘের ফলে রুপ বদলে যায় তার।

এমন করে আমার মাঝেও কি মেঘ ঘনাতে শুরু করলো..,,,অবশ্য শুধু আমার মাঝে নয় আমাদের সম্পর্কের মাঝেও....!!

"""

ছবির দুরুত্ব বাড়ানোর কথায় বুকের মধ্যে তোলপাড় তুলতে খুব বেশি সময় নেয়নি কাব্যের। অনেকটা বাক্যহীন হয়েই ছবির দিকে মলিন চেহারায় তাকিয়ে আছে কাব্য। ছবির কান্নাভেজা শক্ত চোখ মুখের কাছে তার এই মলিনতা কি ফিকে হয়ে যাবে..??

ছবি।কি তার চোখ দেখে বুঝে নেবে সে কি চাইছে..??

অপর পাশে ছবিও একিভাবে দাঁড়িয়ে আছে,,,দুজনেই শব্দহীন,,,, অনড় দৃষ্টি তে। পাশাপাশি মসৃন গাল দুটি নোনা অশ্রুসিক্ত হয়ে ভিজে আছে ছবির।

এমন গুরুগম্ভীর নীরবতার মাঝে শেষ মেষ না কূলোতে পেরে এতক্ষনে মুখ খুললো রাজিব।

---- আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই ম্যাডাম,,,,যদি কিছু মনে না করেন।

রাজিবের কথায় গলা দিয়ে আওয়াজ বের হলোনা ছবির। শুধুমাত্র নিশ্চুপ ভাবে সায় মূলক মাথা নাড়লো সে।

অনুমতি পেয়ে দরজার দিক রেখে ওদের দিকে একটু এগিয়ে এলো রাজিব।

---- আপনি কি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন...??

জবাবে আবারো একিভাবে হ্যা বোধক মাথা নাড়লো ছবি। সাথে বাম চোখ থেকে টুপ করে এক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে গলা অব্ধি বিস্তৃত হলো....তার।

--- আপনি এই বাড়ি ছাড়লেই কি সব সমস্যা শেষ হবে আপনার?? যে আঙুল জনগন তুলেছে আপনার ওপর,,,, তা দমে যাবে..??

---- কি বলতে চাইছেন আপনি রাজিব ভাই..??

---- আমি বলতে চাইছি.. যা হওয়ার হয়েছে,,,,আপনি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন এসেছেন দেখে এরকম খবর আপনাকে অনেক বেশি এফেক্ট করেছে সেটা আমরা জানি,,,কিন্তু তাই বলে এই বাড়ি ছাড়া কোনও সমাধান নয় ছবি ম্যাডাম।

---- তাহলে কি করবো আমি.... কি করবো... কেনো আমার সাথে এমন টা হচ্ছে... কোন পাপের শাস্তি পাচ্ছি আমি....!!

কাঁদতে কাঁদতে অতঃপর মেঝেতে বসে পরলো ছবি...!! ছবিকে ভেঙে পরতে দেখে এক শুকনো ঢোক গিলে এগিয়ে এসে ওর সম্মুখে হাটু মুড়ে বসলো কাব্য।

---- আপনি যাই করবেন,,,, এই বাড়ি ছাড়ার কথা আর এক বারও ভাব্বেন না।

কাব্যের গম্ভীর আওয়াজে মুখ তুলে তাকালো ছবি। স্বরের মতো তার মুখমণ্ডলেও গম্ভীরতার ছাপ ছেয়ে আছে....!! বিকেলের কুসুম বর্নীয় রোদের আলোতে ফর্সা মুখের গম্ভীরতা বড্ড বেমানান লাগছিলো তখন।

---- ভাবতে তো হবেই মিস্টার রেয়ান। এতে আপনারই ভালো,,,

--- কিসের ভালো...

--- এই,,, যে,,, আমাকে আর কজন চিনবে,,,কিন্তু মিডিয়াতে আপনার ক্যারিয়ার অনেক বছরের,,,সেসব আমার জন্যে কেনো নষ্ট হবে... ?? আমি এরকম হতে দিতে পারিনা...!!

---- এ ব্যাপার নিয়ে আপনার চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। আপনি কোত্থাও যাচ্ছেন না ব্যাস। আচ্ছা,,,

প্রত্যেক কথার মাথায় কেনো আপনাকে এ বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা বলতে হবে বলুন তো....??

আপনি কেনো বুঝতে পারেন না ছবি... আপনি চাইলেও আমি আপনাকে দূরে যেতে দেবোনা। কখনও না।

কাব্যের কথায় বেশ কিছুটা অবাক লাগলো ছবির। ভেজা চোখ গুলো সরু করে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলো সে কাব্যের দিকে। পরক্ষনে কিছু একটা ভাবতেই নিশব্দে স্ফীত হেসে উঠলো।

--- আপনি তো এমন ভাবে বলছেন মিস্টার রেয়ান যেন এই বাড়িই আমার স্থায়ীত্ব ...?? কিংবা সারাটা জীবন আমি এখানেই থাকবো..??

--- হলেই বা,,,ক্ষতি তো নেই

...

--- পাগল হলেন..?? এখন যা পরিস্থিতি তাতে যে কোনও মুহুর্তে আপনার বাড়িতে প্রেস আসতে পারে। একবার যদি তারা আমাকে এখানে দেখে নেয়,,,তবে যে তারা তাদের কুচিন্তা গুলোকেই সত্যি ধরে নেবে।

---- আমি তো বললাম এ নিয়ে আপনার চিন্তার কোনও প্রয়োজন নেই।

---- বললেই তো হলোনা মিস্টার রেয়ান। আমি জানি আপনি এরকম টা কেনো বলছেন,,,,আমার নিজের কেউ নেই বলেই আপনি আমাকে একা ছাড়তে চাইছেন না। কিন্তু এখন আপনি আমার প্রতি আপনার কর্তব্য নিয়ে নয়,,,,আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবুন।

--- ছবি আমি আর যাই করি না কেনো,,,এ বাড়ির চৌকাঠ পেরিয়ে বেরোতে আপনাকে দিচ্ছিনা।

--- কেনো অবুঝের মতো কথা বলছেন আপনি,, এ ছাড়া আর কিছু করার নেই আমাদের। নিজেদের সন্মান বাচাতে হলে আমাদের আলাদা থাকা প্রয়োজন। আমার এখান থেকে দূরে যাওয়া প্রয়োজন মিস্টার রেয়ান।

--- নাহ,,,আলাদা থাকার কোনও প্রয়োজন নেই।

--- .. তাহলে কি করবো এখন?? ...বলুন কিভাবে ঘুঁচবে আমাদের নামে এই মিথ্যে অপবাদ..?? কি করবো আমরা..??

---- বিয়ে করবো....!!

কাব্যের এমন কাঠখোট্টা তরঙ্গ মিশ্রিত আওয়াজ যেন পুরো বাড়ির চারকোনায় সহস্র বার প্রতিধ্বনিত হতে শুরু করলো মুহুর্তেই। বিষ্ময়ে আকাশ চুম্বী হয়ে এলো ছবির মুখস্রী। সাথে ছবির আখিজোড়া।

অপরদিকে স্বস্তিতে নিঃশ্বাস হালকা হয়ে এলো রাজীবের। ,,,,চকচক চোখ মুখে ফুটে উঠলো আনন্দে প্রজ্জ্বলিত হাসি।

যাক,,,

তার স্যার অন্তত সুযোগ বুঝে মনের কথা মুখ অব্ধি এনেছে । কিন্তু ছবি কি রাজি হবে..?? হতেই হবে।স্যারের মত ভালো মানুষ,,,,,,, দুটো খুজে পাবেন উনি..??. রাজি না হলেও দরকার পরলে স্যার জোর করে বিয়ে করে নেবেন।

এবার শুধু এই কাজের আরেক ধাপ তাকে এগিয়ে দিতে হবে।

--- আমি কাজি নিয়ে আসছি স্যার,,,,

কাব্য বা ছবি দুজনের দিক থেকে কোনও উওরের অপেক্ষা না করেই খুশিতে আটখানা হয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পরলো... রাজিব।অথচ তার এহেন বাক্য আদৌ দুজনের কান অব্ধি পৌছেছে কিনা... সে বিষয়ে খেয়াল বিন্দুমাত্র ছিলোনা তার।

ছবি এখনও ভারি চোখের পাতা দিয়ে বিষ্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে কাব্যের অভিব্যাক্তি- হীন মুখের দিকে । মাঝে মাঝে শুধু পিটপিট করে দু একটা পলক পরছে সেই পাতা গুলোয়। কাব্যের সাথে তার বিয়ে....?? এ-ও কি সম্ভব..??

🍂

🍂

🍂

🍂

🍂

🍂

মধ্যরাত গড়াতে আর কিছু সময়। প্রবল অস্বস্তি নিয়ে কাব্যের বিলাসবহুল কামরার বিছানার ওপর দু পা গুটিয়ে বসে আছে ছবি। দু হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে আকড়ে আছে নকশায় মোড়ানো চাদরখানা।

খানিক ক্ষন আগেই কাব্যের সহিত বিয়ে পড়ানো হয়েছে তার। সাথে সাথে পাল্টে গিয়েছে তার এতোদিনের পরিচিতি। এখন সে কাব্য রেয়ানের স্ত্রী...?? কিন্তু এই বিয়ের মধ্যে কি কাব্যের ভালোবাসা আছে..?? নাহ। একফোটাও নেই। শুধুমাত্র অসন্মানের হাত থেকে উদ্ধার করতেই কাব্যের এই পদক্ষেপ। যাকে এক ধরনের দয়া বললেও চলবে...!

ভাবতেই এক মলিন হাসি হেসে উঠলো ছবির ঠোঁট দ্বয়।

___________________________

______________

ততক্ষনে অপর পাশ থেকে দরজা খুলে রুমের অভ্যন্তরে এসে দাড়ালো কাব্য। কাব্যের উপস্থিতি টের পেয়ে মাথা তুলে ওর দিকে তাকালো ছবি।

এমতাবস্থায় কিছু সময় কেটে গেলে,,,অতঃপর কাব্য পা বাড়িয়ে এগিয়ে এলো ছবির দিকে।

ফলশ্রুতিতে ছবিও নেমে দাড়ালো বিছানা ছেড়ে। এতক্ষনের গা কাপাকাপির মত অবস্থা এড়িয়ে নিচু হয়ে কাব্যের পা ছুয়ে সালাম করতে গেলেই আটকে দিলো কাব্য।

--- ছবি,,,কি করছেন,,এসবের দরকার নেই....

---- জানি ( মলিন হেসে)

---- জানেন?? মানে..?( ভ্রু কুচকে)

--- যেখানে আমাদের সম্পর্কের --ই কোনও মানে নেই সেখানে এসব নিয়ম নিষ্ঠার কি দরকার..?? তাইতো..??

চলবে....!!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন