ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছলেবলে কৌশলে

২১তম পর্ব

লেখক: মাকামে মারিয়া

#ছলেবলে_কৌশলে

#পর্ব ২১

#মাকামে_মারিয়া

বেশ কয়েকদিন পরেই রওনকের দেখা মিললো। নাফিজের দোকানে এসে উপস্থিত হয়েছে। বড়লোকী ভাবসাব, বাইক থেকে নেমে চোখ থেকে কালো সানগ্লাস টা খুলে নাফিজরে কাছে এসে উপস্থিত হতেই নাফিজ ব্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,"কি জমিদার! কি মনে করে আমার দোয়ারে?"

রওনক চারপাশে তাকিয়ে প্যান্ট টেনে বসে বললো,"টাকা লাগবে বন্ধু। টাকা দে কিছু।"

" টাকার গাছ লাগিয়েছি আমি। তুই এসে চাইলি আর আমি দিয়ে দিলাম।"

" গাছ লাগাচ্ছিস না কেনো ব্যাটা একটা গাছ লাগা।"

নাফিজ বললো,"তোর অনেক টাকার দরকার। এতো গার্লফ্রেন্ড সামলাতে গেলে তো অবশ্য মানির প্রয়োজন। সো গাছটা বরং তুই লাগিয়ে নে।"

" এতো গার্লফ্রেন্ড মানে? মাত্র তো একশো টা। এখনো সেঞ্চুরি হলো না ব্যাটা।"

নাফিজ সাবধান করে দেওয়ার ভঙ্গিতে বললো," ভালো হয়ে যা রওনক। ভালো হয়ে যা। এবার কিন্তু তোর ভাবির বান্ধবীকে গার্লফ্রেন্ড করেছিস। কোনো ভাবে যদি ব্রেকআপ করিস তোকে জেলের ভাত খাওয়াবে বলে দিলাম।"

রওনক ভাবসাব নিয়ে বললো," প্রেমটা এখনো শুরু করলাম না দোস্ত! শুরু না করতেই এসব কি যা-তা বলছিস। টাকা দিবি কিনা বল?"

" তুই না জব করছিস? তোর টাকা কোথায়?"

"গতমাসে এক সপ্তাহ অনুপস্থিত ছিলাম। জব থেকে তাড়িয়ে দিছে।"

নাফিজ খ্যাক করে হেঁসে উঠে বললো, "উচিৎ হয়েছে।'

" কিছু টাকা দে প্রেমিকার সাথে দেখাটা করে আসি। প্রেম তো জীবনে করিস নাই প্রেমের যে কি প্যারা তুই বুঝবি না।"

নাফিজ ব্রু নাচিয়ে বললো, "আমার ঘরেও প্রেমিকা আছে ভাই। প্যারা দেওয়ার জন্য ওই একটাই যথেষ্ট। কি ভাবে যেনো টের পেয়েছে ঝুমা আমাকে প্রপোজ করেছিল ওমনি এটা নিয়ে আমার মাথা খাচ্ছে। নারী জাতি এত হিংসুটে আগে জানলে চিরকুমার থেকে যেতাম বিয়েই করতাম না।"

নাফিজের হাহুতাশ শুনে রওনক বেশ মজা পেয়ে বললো, "ভাবিকে দেখে গিয়ে তো পারিস না-ই তখনই বিয়ে করে নিয়ে আসিস। এখন আর ভালো লাগছে না? হাহাহা।

নাফিজ ধমক দিয়ে বললো," চুপ ব্যাটা! ভালো লাগছে না কি কথা? একটু না হয় প্যারা দেয়। কিন্তু ভালোও তো বাসে। তাছাড়া সে আমার বিয়ে করা বউ। পারমানেন্ট সম্পত্তি। তোর মতো ওয়ান টাইম না।"

"হয়েছে হয়েছে টাকা দিয়ে আমাকে বিদায় কর। আঙ্কেল আসার আগেই বিদায় হই।"

নাফিজ উচ্চস্বরে মকবুলকে ডেকে বললো," মকবুল ভাই ক্যাশ থেকে দুহাজার টাকা নিয়ে আসো তো।"

মকবুল টাকা নিয়ে এসে দেখলো রওনক দাঁড়িয়ে আছে। রওনক হালকা হেঁসে কুশলাদি করলো। টাকা নিয়ে বিদায় হয়ে যেতে নিয়েও পিছন ফিরে এসে মকবুলের কানের কাছে ফিসফিস করে বললো," ভাইজান একটা ছোট হেল্প করে দিতে পারবেন?"

মকবুল স্মিথ হেঁসে বললো," কি হেল্প? "

রওনক কাঁধের ব্যাগটা থেকে একটা খাম বের করে মকবুলের হাতে দিয়ে বললো, " এটা জেরি কে দিয়ে দিবেন। জেরি কে জানেন তো? জেরিন জেরিন। আমি আদর করে জেরি ডাকি।"

মকবুল মাথা ঝাঁকালো কেবল। নাফিজ টের পেয়ে বললো,'তুই নাকি দেখা করতে যাচ্ছিস? তাহলে আরেকজনকে দিয়ে চিঠি দেওয়াতে হবে কেনো?"

" চিঠি বাহকের হাত দিয়ে প্রাপকরে হাতে পৌঁছালে বেশি মজা। তুই ওসব বুঝবি না জীবনে চিঠি চোখে দেখেছিস কিনা সন্দেহ।"

নাফিজ বিরবির করে একটা গালি দিয়ে বললো, ধূর হ শালা প্রেম বিশেষজ্ঞ।"

রওনক চলে গেলো। নাফিজ ভাবছে আদোও এই ছেলে জেরিনের সাথে দেখা করবে নাকি নতুন গার্লফ্রেন্ড জুটিয়েছে কে জানে! এসব ভাবতে ভাবতেই ফোনটা হাতে নিয়ে মেহনাজকে একটা টেক্সট করলো — " আমার চিঠি পেতে মন চাচ্ছে। অনুগ্রহ করে আমাকে কি একটা চিঠি লেখা যাবে?"

মেহনাজ তখন রান্নাঘরে গরমে ঘেমে-নেয়ে রাঁধছে। রান্না করার সময় মেয়েদের মেজাজ থাকে তুঙ্গে। মারজানা ফোনটা নিয়ে এসে দিয়ে বললো," দেখো তো নাফিজ টেক্সট দিয়েছে মনে হয়।"

" দেক! তোমার ভাইয়ের টেক্সট দেখার সময় নাই এখন।" মেহনাজ বললো।

" বলো কি? আমার ভাইয়ের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে নাকি!" হেঁসে হেঁসে কথাটা বলেই মেহনাজের হাতের কাছে ফোনটা রেখে চলে গেলো মারজানা।

মাছ ভাজা উল্টে দিয়ে মেহনাজ ফোনটা হাতে নিলো। টেক্সট সিন করে রিপ্লাই করলো না ডিরেক্ট কল করলো। সাথে সাথে কল রিসিভ হলো মেহনাজ কড়া স্বরে বলে উঠলো," আজাইরা থাকলে মানুষের কত কিছু পেতে মন চায় সেটা আপনাকে দেখলেই বুঝা যায়। আপনার মতো ওতো আজাইরা না ঠিক আছে? বুড়ো বয়সে ওতো প্রেম আসে কেনো মনে? ঝুমা রাণী বুঝি মাঝে মাঝে চিঠিপত্র লিখতো? তা না হলে এখন চিঠি পেতে মন চাইবে কেনো? নাটক যত্তসব!"

একনাগাড়ে কথাগুলো বলে কলটা কেটে দিলো মেহনাজ। নাফিজ হতবাক হয়ে বসে রইলো। কে জানতো সামান্য একটা চিঠি চাওয়াতে এতো কথা শুনাবে ঘরের বউ।

নাফিজের মুখটা চুপসে যেতে দেখে মকবুল একটু কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, "কোনো খারাপ খবর ভাই?"

নাফিজ হেঁসে বললো," ঘরে বউ থাকলে খারাপ খবর আসতে পারে? সব ভালো খবর আসে। তাড়াতাড়ি বিয়ে করেন মিয়া।"

মকবুল ঠোঁট চেপে হেঁসে বললো," আমরা শান্তিতে আছি সেটা বুঝি আপনার সহ্য হচ্ছে না?"

নাফিজ ও মকবুল সমস্বরে হেঁসে উঠলো।

_________

মকবুল দোকান থেকে রাতে বাড়ি ফিরে। ইদানীং আর রাস্তায় জেরিনের জন্য অপেক্ষা করা হয় না। অবশ্য জেরিনও বারণ করে দিয়েছিল যেনো রাস্তাঘাটে পিছু না নেয়। কাজটায় যুক্ত আছে বিধায় সেটা থেকে বিরত থাকা সম্ভব হচ্ছে। না হয় দেখা যেতো বারণ থাকা সত্বেও জেরিনের পথে দাঁড়িয়ে আছে সে।

আজ একটু তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলো মকবুল। নাফিজও ছেড়ে দিলো। মকবুল পুরনো সেই রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে রইলো জেরিনকে দেখতে পাবে হয়তো। টিউশনি থেকে তো এই রাস্তা দিয়েই সে ফিরে। রওনকের চিঠিটা পৌঁছে দিতে হবে। মকবুলের বুক ছিঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসলো। নিয়তি কাকে কোথায় কখন কিসের জন্য দাঁড় করিয়ে রাখে সেটা বুঝার ক্ষমতা কারো কি আছে? জেরিন যদি তার প্রেমিকা হতো তবে হয়তো আজ নিজের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতো। যে দাঁড়িয়ে থাকায় আনন্দ আর অপেক্ষায় থাকার অস্থিরতা মিশে থাকতো। কিন্তু অন্য কারো প্রেমিকার জন্য অপেক্ষা করছে এতে অপেক্ষায় আনন্দ নেই। যে কিনা তার প্রেমিকা হওয়ার কথা ছিল। এ পর্যায়ে এসে মকবুল মেনেই নিলো তার কোনো প্রেমিকা হবে না।

কিছু দূরে জেরিনের অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে। দ্রুত গতিতে হেঁটে আসছে সে। গায়ে সেলোয়ার-কামিজ, মুখে তীব্র গরমের ক্লান্তি ভাব। একটু কাছে আসতেই মকবুলের চোখাচোখি হলো। মকবুল ভাবলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবার রাগ না দেখিয়ে ফেলে তাই সে কোনো কিছু শুরু করার আগেই খামটা এগিয়ে দিয়ে বললো,"রওনক পাঠিয়েছে।"

জেরিন খামটা নিতে নিতে বললো," কি অবস্থা মকবুল ভাই? আপনার দেখা-সাক্ষাৎ পাওয়া যাচ্ছে না যে।"

" আম্মা কইছে বিয়া করাই দিবে। কাম কাজ না করলে নাকি মাইয়ার বাপে মাইয়া দিবো না। এ জন্যে কাম করতাছি। আগের মতো আজাইরা নাই যে রাস্তাঘাটে মাইয়াগো পিছু নিমু।" বেশ হাস্যমুখ করেই কথাগুলো বললো মকবুল। যেন তার কোনো দুঃখ নেই। সারাক্ষণ সুখের সাথে দৌড়ঝাঁপ করে।

জেরিন খামটা ব্যাগে রেখে বললো," আপনার এসব খামখেয়ালি আর গেলো না মকবুল ভাই। আসি ভালো থাকেন।"

মকবুল শান্ত কন্ঠে বললো," ভালো থাকবো।"

_______

নাফিজ রাতে বাড়িতে ফিরলো গাল ফুলিয়ে। ততক্ষণে মেহনাজের মন মেজাজ ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে লোকটা কল করে কথা বলেন। আজ কল করলো না দেখেই মেহনাজ বুঝতে পারলো স্বামী আজ রাগ করেছে। মারজানাকে গিয়ে বললো,"আপু তোমার ভাই বোধহয় রাগ করেছে। কি করা যায় বলো তো?"

মারজানা বললো," পুরুষ লোকের রাগ ভাঙ্গানো তার শখের নারীর জন্য সহজ কাজই বটে। কেবল তার পছন্দের কোনো কিছু করো দেখবে রাগ গলে পানি।"

মেহনাজ অনেক খোঁজেও নাফিজের পছন্দের কোনো কাজ পেলো না। সে আশ্চর্য হয়ে ভাবলো, " লোকটার কি সত্যি কোনো পছন্দের কাজ নেই? কিছুই তো মনে পড়ছে না! আচ্ছা তাকে কি জিগাবো তার পছন্দের কাজ কি?"

নিজের বোকামি দেখে নিজের উপরই রাগ লাগলো তার। নাফিজ রাতে খাবে না বলে দিলো। মেহনাজের বুঝতে বাকি রইলো না কেনো সে খাবে না। মারজানা মেহনাজের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বুঝালো সে-ও টের পেয়েছে ভাই কেনো রাতে খাবার খাবে না বললো।

রাতের খাবারটা রুমে নিয়ে চলে আসলো মেহনাজ। নাফিজ উল্টো হয়ে শুয়ে শুয়ে ফোন দেখছে। মেহনাজ একটু আমতাআমতা করে জিজ্ঞেস করলো," আচ্ছা মির্জা সাহেব আপনার পছন্দের কাজ কি?"

নাফিজ উত্তর করলো না। মেহনাজ এবার খাটের এক কোণায় বসে পড়লো। শাড়ির আঁচল গুটাতে গুটাতে বললো,"আসলে অনেক ভেবেও আপনি পছন্দ করেন এমন কিছু পেলাম না।"

" তা পাবে কেনো! খোঁচা মারা ছাড়া তুমি আর কিছু পারো বলে তো আমার মনে হয়না।" নাফিজ চ্যাত করে উঠে বললো।

মেহনাজ ফুসলে উঠে বললো," মনে হবেও না। ঘরের বউ কিছু পারে না এটা সব স্বামীদেরই মনে হয়। যত গুণী বাহিরের মেয়েদের লাগে।"

" একদম বাজে কথা বলবে না। ঝগড়া লাগলেই বাহিরের মেয়েদের ঘরে নিয়ে আসার স্বভাব বদলাও। পরে যখন সত্যি সত্যি কাউকে ঘরে নিয়ে আসবো তখন এসে বলিও না স্বামী ভালো না।"

মেহনাজ ফুলেফেঁপে উঠে বললো," কি এতো বড় কথা! আমি না হয় একটু বলি। তাই বলে আপনি সত্যি সত্যি কাউকে নিয়ে আসার কথা বলতে পারলেন!"

" হ্যাঁ পারলাম। এবার তুমি সিদ্ধান্ত নেও যে তুমি ঝগড়া লাগলেই অন্য মেয়েদের টেনে আনবা কিনা!"

মেহনাজ শাড়ি গুটিয়ে বিছানার একপাশে গুটিশুটি মেরে শুয়ে পড়লো। নাফিজ পাত্তা দিলো না প্রথমে। এরপর খেয়াল করলো মেয়েটা নড়াচড়া করছে না আর। নাফিজ উঠে এসে দেখলো ঘুমিয়ে গেছে। খাবার গুলো পড়ে রইলো টেবিলে। দুজনের কেউ খেলো না। নাফিজের মায়া হলো ঘুমন্ত স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে। এতোটা রাগ না করলেও তো পারতো। মেয়েটা সারাদিন কাজ কাম করেছে। রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে গেলো তাও কিনা নাফিজরে রাগের কারনে! অনুতপ্তে নাফিজের মন বিষাদে পরিপূর্ণ হয়ে গেলো। মেহনাজের মুখের অবাধ্য চুলগুলো কানের পাশে গুঁজে দিয়ে নিজে নিজে আওড়ালো," ঘরের বউ এতো বেয়াদব হলে কি চলে! এই যে না খেয়ে ঘুমিয়ে গেলে আমার বুঝি কষ্ট হচ্ছে না? কষ্ট কি তোমার একার হচ্ছে! বেয়াদব বউ কোথাকার!

পরদিন দুপুরে মারজানাকে দিয়ে দোকানে খবর দেওয়া হলো আজ বাড়ি থেকে রান্না করে পাঠানো হবে তারা যেনো হোটেলে না খেয়ে নেয়। মেহনাজ ভীষণ যত্ন নিয়ে রান্না শেষ করলেন। শাশুড়ী এসে জিজ্ঞেস করলো, " কোন উপলক্ষে দোকানে খাবার পাঠানো হচ্ছে বউ?"

" কোনো উপলক্ষে না আম্মা। এমনি পাঠাচ্ছি।"

কোহিনূর চলে গেলেন। শামসুন্নাহার থাকলে আরেকটু প্যাচিয়ে প্রশ্ন করতেন। সে বাড়িতে নেই। বাপের বাড়ি বেড়াতে গেছে তার ভাইয়ের মেয়েটার বিয়ে। বাড়ির সবার দাওয়াত রয়েছে তারা যাবে অনুষ্ঠানের দিন।

তিন বক্স খাবার রেডি করে মেহনাজ বিপাকে পড়লো কাকে দিয়ে খাবার পাঠাবে? মারজানা অনেক ভেবে বললো,"মেহনাজ ওই যে দোকানে একটা লোক আছে না। মেহরিমার মামা। মকবুল না কি যেনো নাম! তাকে বলো না পাঠিয়ে দিতে সে এসে নিয়ে যাবে।"

মেহনাজ খুশী হয়ে বললো,"হ্যাঁ ভালো কথা। কিন্তু তাকে বলবে কে? তোমার ভাইয়ের সাথে রাগ করেছি আমি। তুমিই বরং বলো।"

" তোমাদের কি যে রাগ! একজনের পর একজন। তোমরাও না।" বলেই মারজানা দোকানে কল করে মকবুলকে পাঠিয়ে দিতে বললো।

মারাজানা উঠানে বসে ছিল এমন সময় কাচুমাচু হয়ে একজনকে প্রবেশ করতে দেখে এগিয়ে এসে বললো,"আপনি মকবুল?"

মকবুল বললো,"ইয়ে মানে জি আমি।"

" আপনি কি ভয় পাচ্ছেন?"

মকবুল বললো,"ভয়? ভয় পাবো কেনো?"

" ভয় না পেলে এমন চোরের মতো এদিক সেদিক তাকাচ্ছেন কেনো!"

মকবুল খুব লজ্জা পেলো। এ বাড়িতে আগে কখনো আসা হয়নি তাই একটু অস্বস্তি লাগছিলো। তাই বলে মেয়েটা চোরের মতো লাগছে বলবে! ছিঃ।

মেহনাজ মকবুলের কাছে সবগুলো খাবারের বক্স বুঝিয়ে দিলো। নাফিজকে কোনটা দিতে হবে সেটা বার বার বুঝিয়ে দিতে লাগলো। এক পর্যায়ে মকবুল বলেই ফেললো," মেহনাজ আপা চিন্তা কইরেন না। নাফিজ ভাইয়ের টা তারেই বুঝাইয়া দিমুনে। এটা যে স্পেশাল সেটা আমি বুঝতে পারছি।"

মেহনাজ লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে বললো,"ওতো কিছু বুঝতে হয়না মকবুল ভাই। যান সাবধানে যাইয়েন।"

মকবুল বের হওয়ার সময় আবারও আশেপাশে তাকালো। একদম গেইটের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর পিছন থেকে মারজানা বলে উঠলো," মকবুল সাহেব! কিছু মনে নিয়েন না যেনো! আপনি কিন্তু সত্যি কারের চোর না। সত্যি কারের চোরদের এতো হ্যান্ডসাম দেখতে লাগে না।"

মকবুলের মনে হলো চোর বলার থেকে হ্যান্ডসাম বলায় সে আরও বেশি লজ্জা পাচ্ছে। এতো লজ্জা বোধহয় জীবনেও পায়নি। এ কেমন লজ্জা যে তার হাসিও পাচ্ছে। সে মিটিমিটি হাসছে। এ জীবনে নিজের প্রশংসা সে খুব কমই পেয়েছে।

নাফিজের খিদেটা বেশিই লেগেছিল। বাড়ি থেকে খাবার আসতে একটু বেশিই দেরী হয়েছে। মকবুল তাকে খাবারের বক্স টা বুঝিয়ে দিলো। নাফিজ তড়িঘড়ি করে খাবারের বক্স খুলেই প্রথম বক্সে কেবল একটা কাগজ পেলো যেটা আসলে চিঠি। নাফিজ ব্রু কুঁচকে ভাজ করে রাখা কাগজ টা খুলে ধরতেই দেখলো গুটিগুটি অক্ষরে লেখা," প্রিয়তম মির্জা সাহেব! আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে গতরাতে আমি মোটেও না খেয়ে ঘুমাইনি। আমি খেয়েই ঘুমিয়েছিলাম। আপনি শুধু শুধু কষ্ট পেয়েছেন দেখে আমার কিন্তু মন্দ লাগেনি।"

নাফিজ বিরক্ত নিয়ে খাবার খাওয়ার জন্য একটা একটা করে টিফিনবাক্স খুললো কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখলো চারটা বক্সের কোনটায় কোনো খাবার নেই। চারটা বক্সে চারটা চিঠি। দ্বিতীয় নাম্বার চিঠিতে লিখা " আই লাভ ইউ জামাই।"

তৃতীয় নাম্বার চিঠিতে লিখা" প্রিয়তম স্বামী আপনি যদি ষোলো আনা রাগ দেখাতে পারেন তবে আমি দেখাবো নব্বই আনা রাগ। আপনার বাম পাঁজরের হাড়ে সৃষ্টি করা হয়েছে আমায়।"

শেষ চিঠিতে লেখা ছিল, "খুব তো চিঠি পাওয়ার শখ ছিল তাই না? চিঠি দেইনি বলে এতো রাগ! এই নেন চিঠি দিলাম দেখুন চিঠিতে পেট ভরে কিনা!"

একে তো পেটে খিদে তারউপর বউয়ের এমন অত্যাচার। নাফিজের ইচ্ছে করলো এখুনি বাড়িতে গিয়ে বউকে পিটুনি দেয়। কিন্তু সে যথেষ্ট ভদ্রলোক বলে ঘরের বউয়ের রক্ষে হলো।

চলবে......

( এমন স্বামী স্ত্রী থাকলে সাড়া দেন।🫣)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন