#ছলেবলে_কৌশলে
#পর্ব ২৪
#মাকামে_মারিয়া
রওনকের ইচ্ছে ছিল সে এবার একটা সত্যিকারের প্রেম করবে। কিন্তু সত্যিকারের প্রেমটা যে জেরিনের সাথে হয়ে যাবে সে এটা বুঝতে পারেনি। ভেবেছিল অন্য গার্লফ্রেন্ড গুলোর মতো জেরিনও হয়তো কয়েকদিন সঙ্গ দেওয়ার পর নতুন সঙ্গী খুঁজে নিবে। কিন্তু না জেরিন বরাবরই তার প্রতি ছিল লয়াল। রওনক বুঝতে পারলো এ মেয়েকে হাতছাড়া করা বোকামি হবে। জেরিনের খোঁজ না পেয়ে দিশাহারা হয়ে মকবুলের সাথে দেখা করতে আসলো নাফিজদের দোকানে।
রওনক যখনই এই এলাকায় আসে। সবাই ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। সুন্দরের প্রতি মানুষের আকর্ষন থাকবে সেটাই যে স্বাভাবিক। নাফিজদের ফ্রেন্ড সার্কেলে সবচেয়ে হ্যান্ডসাম ছিল রওনক। তাই তো নাফিজ বার বার বলে উঠে " যে ছেলে যত হ্যান্ডসাম সে ততই প্লেবয়। সুন্দর ছেলেদের অনেক গুলো গার্লফ্রেন্ড থাকে।"
নাফিজের একথা সার্কেলের সবাই বেশ মানতো আর হাসতো। রওনক'কে পঁচানোর জন্য তাদের মুখে যে কত রকমের খোঁচা মারা কথা আসতো। শাহিন নামের বন্ধুটা তো বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে রওনক'কে ক্রাশ বলে ডাকতো। সবাই শাহিনের নাম দিয়ে দিলো শাহিনা। এ নিয়ে কত মজাই না হতো কলেজ ক্যাম্পাসে।
রওনক দোকানে ঢুকে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লো। মাথা চুলকিয়ে ঘাড়ের পাশটাতে হাত কচলাতে কচলাতে মকবুলকে ডেকে ফিসফিস করে বললো " জেরির কোনো খবর জানেন ভাই?"
মকবুল ছোট ছোট চোখ করে রওনকের দিকে তাকিয়ে খানিকক্ষণ পর বললো " আপনাদের যোগাযোগ নেই?"
" যোগাযোগ কি ভাবে হবে? আমি চট্টগ্রাম। এর মধ্যে নাকি জেরির দাদী মারা গেছে। আমি একটা কাজে গিয়েছিলাম ফোন করে খোঁজ খবর নিতে পারিনি। উপস্থিতও হতে পারিনি। যে কারনে জেরি বেশ রাগ করেছে। এখন কোনো ভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না।"
মকবুলের মজা লাগলো। সম্পর্কের মধ্যে মানঅভিমান চলাকালীন সময়টা মকবুলের কাছে খুব রোমাঞ্চকর মনে হয়। সে রওনকের পাশে বসে কিছুটা রসিকতার স্বরে বললো " কি কন ভাই? তাহলে এখন উপায়?"
" উপায় মানে? উপায় না পেয়ে আপনার কাছে আসছি মকবুল ভাই। আপনার এলাকার মেয়ে। একটু খোঁজ নিয়ে দেন। প্রেমে সাহায্য করেন দেখবেন আপনার প্রেমটাও জমবে ভালো।"
মকবুল স্মিত হেঁসে বিরবির করে আওড়ালো " আমার আবার প্রেম!"
" কি ভাবছেন ভাই? সাহায্য কিছু কি করতে পারবেন?"
মকবুল ভাবনা রেখে বললো," আপনি কি সত্যি জেরিন'রে ভালোবাসেন?"
রওনক এক মূহুর্ত দেরি না করে বললো, " ভালোবাসি মানে! অনেক ভালোবাসি। ভালোবাসা বাসি নিয়ে কোনো প্রশ্নই হবে না মিয়া।"
" আর জেরিন? সে-ও কি অনেক ভালোবাসে?"
রওনক চুলে হাত রেখে লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গি করে বললো " সব গুলো গার্লফ্রেন্ড এর মধ্যে এইটা একটু বেশিই ভালোবাসে ভাই।"
নাফিজ কোথা থেকে এসে বলে উঠলো " যাক মাশা-আল্লাহ। মেপে দেখেছিস তো বাকিদের থেকে কত কেজি বেশি ভালোবাসে জেরিন ভাবি? তোর জন্য শালিকে এখন ভাবি ডাকতে হবে দেখছি! ধূর!"
রওনক ভ্রু কুঁচকে বললো " তোর মুখে কি ভালো কথা নেই? কেউ আমারে ভালোবাসে সেটা তোর হজম হচ্ছে না তাই না?"
" মাশা-আল্লাহ বললাম। এর থেকে ভালো কথা আর কি হতে পারে?"
মকবুল বললো " এখন কি করতে চাচ্ছেন রওনক ভাই?"
রওনক বললো " আপনি একটা পরামর্শ দেন মকবুল ভাই। কি করা যায়?"
" বিয়ে করে ফেলুন।" মকবুল শান্ত কন্ঠে বললো।
রওনক একটু চমকিত হলো। সে বিয়ে নিয়ে তো কিছু ভাবেনি। নাফিজ লাফিয়ে উঠে বললো " উচিৎ কথা বলছেন মকবুল ভাই। রওনক তুই যে আমার শালির প্রতি লয়াল বিয়ে করে সেটার প্রমাণ দে।"
রওনক হা করে তাকিয়ে রইলো। জেরিন কি বিয়ে করতে রাজি হবে এখুনি? মকবুল বললো, " দেখেন ভাই জেরিন তো একেবারে একা হয়ে গেলো। তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য একটা মানুষও দরকার। বিয়ের করার মতো উপযুক্ত সময় এটা। একাকিত্ব কিছুটা ঘুচবে হয়তো।"
রওনক অনেকটা সময় চুপ করে থেকে ভাবলো। এরপর নাফিজকে জিজ্ঞেস করলো, " বাবা মা? ওনাদের কি বলবো?"
নাফিজ রওনকের কাঁধে থাপ্পড় মেরে বললো," আরে ব্যাটা তুই না হিরো। হিরোদের ভয় পেতে হয় না। কোড ম্যারেজ করে ফেলবি, বউ নিয়ে বাবা মায়েদের সারপ্রাইজ দিয়ে অনেক গুলো বকা খাবি। এরপর নতুন বউ নিয়ে চুটিয়ে সংসার করবি। লাল নীল সংসার। কি জোশ একটা এডভেঞ্চার বল তো।"
রওনক তখুনি লাফিয়ে উঠলো যেন এই এডভেঞ্চার সে মিস করতে রাজি না। মকবুল এবং নাফিজের সাহায্যে সে তার উনিশ নাম্বার প্রেমিকাকে বউ করে ঘরে তুলবে, ঘরে জায়গা না হলে রাস্তায় থাকবে।
রাত নয়টায় নাফিজ, রওনক মকবুলদের বাড়িতে উপস্থিত হলো। কারেন্ট চলে গেছে। তীব্র গরম গাছগাছালি একটু নড়ছেও না। আকাশে একফালি চাঁদ হাসছে জোছনা ছিটিয়ে। জেরিন মোমবাতির আলোতে চুপটি করে বসে আছে। একটু আগেই মেহনাজের সঙ্গে কথা হয়েছে। মেহনাজ আবদার করেছে একবার যেন তার সঙ্গে গিয়ে দেখা করে আসে। জেরিন কথা দিয়েছে কাল সকালেই যাবে দেখা করতে।
মালাইকা মেহরিমাকে খাইয়ে দিচ্ছিল। পুটি মাছের ঝোল আর আম ডাল রান্না করেছে। জেরিন রাতে খাবে না জানিয়ে দিলো। রওনকের সাথে কথা না বলে খুব যে আনন্দে আছে তা নয়। বেশ দুঃখই লাগছে। দুপুরের পর ফোনটা অন করেছিল কিন্তু রওনক আর কল বা টেক্সট দেয়নি। জেরিন ভেবেছিল এবার কল করলেই কথা বলে নিবে কিন্তু সে তো কল করলো না। তার মানে কি রওনক জেরিনকে ভুলে গেলো! এসব উল্টাপাল্টা ভেবেই জেরিন মন খারাপ করে রেখেছে।
কিছুক্ষন পর মকবুলের কন্ঠস্বর শোনা গেলো। মালাইকা খাওয়াচ্ছিলো বিধায় জেরিন এসে দরজা খুলে দিল। মকবুল সামনে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু সে একা নয়। একটুখানি দূরে উঠানের মধ্যে দুটো মানুষের অবয়ব দেখা যাচ্ছে কিন্তু জেরিন ভালো করে খেয়াল না করেই ঘরে ঢুকে গেলো। হয়তো মকবুলের বন্ধু হবে। এ ছেলের তো আবার বন্ধুর অভাব নেই। রাস্তার কুকুর বিড়াল থেকে শুরু করে পশুপাখি গাছপালা মানুষ সবই তার বন্ধু। সেদিন একটা মরিচ গাছ কিনে এনে সারা বাড়ি মাথা তুলেছে নতুন বন্ধু এনেছে বলে বলে।
মকবুল ঘরে ঢুকেই জেরিনের দিকে তাকিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করলো, " মন খারাপ নাকি জরিনা?"
জেরিন খেয়াল করলো অনেক দিন পর মকবুল তাকে জরিনা বলে ডেকেছে। তার মানে মকবুল খোশমেজাজে আছে। জেরিন জবাব দিলো " আপনার মন তো অনেক ভালো মনে হচ্ছে।"
" তা বটে! মানুষের খুশী দেখলে আমার ভালোই লাগে। শুভ কাজে দেরি করতে নেই দ্রুত হাত-পা ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে আয় তো।"
জেরিন কিছু বুঝতে না পেরে খাটের এক কোণায় বসে রইলো। মালাইকা জিজ্ঞেস করলো " কিসের শুভ কাজ?"
মকবুল একটু ভুল করে ফেললো এমন ভঙ্গিতে মা'কে পাশ কেটে জেরিনের পাশে এসে জিজ্ঞেস করলো, " তুই সত্যি রওনককে ভালোবাসিস তো?"
জেরিন আঁতকে উঠে বললো, " এমন আচমকা এতো সহজে কেউ এমন প্রশ্ন করে মকবুল ভাই? আরেকটু হইলেই ফিট খাইয়া যাইতাম।"
" ফিট না খাইয়া বল এখন।"
" কি বলবো?" মাথা নিচু করে রেখে জেরিন জিজ্ঞেস করলো।
" কি বলবি মানে? এতো ঢং না করে বল রওনককে সত্যি ভালোবাসিস কিনা?"
" মিথ্যা ভালোবাসে নাকি কেউ কাউকে?"
মকবুল এবার কিছুটা রেগে উঠে বললো " এতো না প্যাচিয়ে বলে দিলেই হয় যে ভালোবাসিস, অনেক ভালোবাসিস।"
জেরিনও কিছুটা জোরসে বললো," হ্যাঁ ভালোবাসি, অনেক ভালোই বাসি।"
মকবুল দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে বসা থেকে উঠতে উঠতে বললো " ঠিক আছে বিয়ে করার জন্য তৈরি হও।"
জেরিন বিস্ময় নিয়ে বললো " বিয়ে মানে? কার বিয়ে?"
" তোর বিয়ে। বাহিরে রওনক অপেক্ষা করছে বিয়ের করার জন্য।" বলেই মকবুল মায়ের কাছে গেলো। মা'কে তো সব খুলে বলতে হবে। কি জানি সে কেমন ভেবে নিবে বিষয়টা।
জেরিন এক মূহুর্তও দেরি না করে দ্রুত বাহিরে চলে আসলো। রওনক পিছন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। নাফিজ জেরিনকে আসতে দেখে "তোর হবু বউ আসছে, নে সামলা" বলেই একটু দূরে সরে গেলো।
জেরিনকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। চাঁদটাকে ঢেকে দিয়েছে কালো মেঘেরা। একটু পর আবার যখন মেঘ সরে যাচ্ছে চাঁদের আলো জেরিনের চোখে মুখে ছিটকে পড়ছে। রওনক মুগ্ধ হয়ে তার জোছনা মাখা প্রেমিকার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,"রাগ ভাঙানোর জন্য বিয়ে করতে চলে আসছি। এবার রাগ ভাঙবে তো প্রিয়তমা?"
জেরিন কিছু বললো না। রাগ মোটেও নেই। শুধু বেশখানিকটা অভিমান ছিল। সে-ই অভিমান এখন আর নেই আকাশে মেঘ হয়ে চলে গিয়েছে। এমন প্রেমিকের সাথে রাগ করে থাকা সম্ভব? জেরিন আচমকা রওনককে জড়িয়ে ধরে বিরবির করে কয়টা বকা দিলো। রওনক মুখ টিপে হেসে দু'হাতে মেয়েটাকে জড়িয়ে রেখে বললো, " বউ সাজবে না?"
জেরিন বললো," শাড়ি এনেছো?"
রওনক পাশেই একটা ব্যাগে সমস্ত বিয়ের সাজসজ্জা দেখিয়ে বললো " প্রথম বার বিয়ে করছি বউকে সাজাবো না?"
দুজনের কথাবার্তাতে রাত কিছুটা গভীর হয়ে যাচ্ছে। নাফিজ একটু গলা ঝেড়ে বলে উঠলো, " বিয়েটা করে ফেল এরপর না হয় জড়াজড়ি করে সুখ দুঃখের আলাপ করিস।"
লজ্জায় জেরিন রওনকের কাছ থেকে দু-হাত পিছিয়ে এলো। রওনক নাফিজকে হাতের কাছে পেলে তখন কিছু একটা করেই ফেলতো। এমন একটা মূহুর্তে কেউ এ ভাবে বলে? এটা বন্ধু বাকি শত্রু!
মালাইকা ছেলের মুখ থেকে সবটাই শুনলো। আপত্তি দেখানোর প্রয়োজন মনে করলো না। যেখানে ছেলে মেয়ে নিজে রাজি সেখানে উনি আপত্তি দেখানোর কে! শুধু ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল," বিয়ের বন্দবস্ত সব তুইই করলি বাবা?"
মকবুল হেঁসে বলেছিল,"হ্যাঁ করলাম। কেনো আম্মা?"
" নাহ এমনি। আল্লাহ তোকে আর ধৈর্য দান করুক বাবা।"
মকবুল বুঝতে পারলো তার মা কোনদিকে ঈঙ্গিত করছে। তাই সে তাড়া দিয়ে দ্রুত সরে গেলো। জেরিনকে গোসল করানো হলো। নতুন শাড়ি পড়ানো হলো৷ রওনক কোনো গহনাগাঁটি আনতে পারলো না। মেয়েটার সারা অঙ্গ ফাঁকা লাগছে।
মালাইকা বাহির থেকে ছেলেকে ঢেকে এনে বললো, " মেয়েটাকে এবার দেখে যা তো বাবা।"
মকবুল আশ্চর্য হয়ে বললো," আমি কেনো তাকে দেখতে যাবো আম্মা কি সব বলেন।"
মালাইকা ছেলের হাত ধরে জেরিনের সামনে দাঁড় করিয়ে বললো,"দেখ কি সুন্দর লাগছে। অথচ হাত খালি, গলা খালি। ওই ছেলে তো কিছুই আনেনি। কেবল একটা নাক ফুল এনেছে। এমন খালি কি করে দেই বল তো বাবা? আমার মেয়ে হলে কি পারতাম?"
মকবুল জেরিনের দিকে তাকালো না। মায়ের দিকে তাকিয়েই বললো,"এগুলো আমাকে বলছেন কেনো আম্মা? আমি কি সমাধান দিবো?"
মালাইকা ছেলের হাতটা ধরে রেখেই নিচু স্বরে বললো," সমাধান একটা আছে।"
" কি সমাধান? আর থাকলে সমাধান করে ফেলছেন না কেনো?"
" তোর অনুমতি ছাড়া কেমনে করি?"
মকবুল বিরক্ত হয়ে বললো,"আমার অনুমতি লাগবে কেনো আবার?"
মালাইকা বললো," তোর বউকে দিবো ভেবে একটা সোনার চেইন আমি রেখে দিয়েছিলাম। ওই একটা সম্বল ছাড়া আমার আর কিছুই নেই।"
মকবুল মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো," তো এখন আপনি কি এটা তাকে দিয়ে ফেলবেন ভেবেছেন?"
মালাইকা দেখলো ছেলে তার চড়ে যাচ্ছে। তাই আমতাআমতা করে জানতে চাইলো "দিবো না?"
" কেনো দিবেন আম্মা? জীবনে সব সময় ভালো মানুষ হতে নাই। কিছু সময় স্বার্থপর হতে হয়। এক সপ্তাহ ধইরা একটা দামড়া মাইয়া পালতেছি। আমাদেরই তো নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা।"
মালাইকা ছেলেকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বললো,"আহা এ ভাবে বলতে হয় না। শুনবে তো মেয়েটা।"
" শুনলে শুনুক আম্মা। সে ভালোবাসার মানুষ পাইতেছে। তার সোনা গহনার দরকার আছে বলে মনে হয় না। তার স্বামী যথেষ্ট বড়লোক, বিয়ের পর নিশ্চয়ই অনেক গহনাগাঁটি গড়িয়ে দিবে তখন আপনারটা এককোনায় ফেলে রাখবে।
আর আপনি তাকে যেটা দিতে চাচ্ছেন সেটা কেনো দিবেন? আপনি তার কি এমন লাগেন যে তাকে কিছু না দিলে আপনার মান থাকবো না? তাছাড়া সে আপনার পুত্রবধূ হচ্ছে না যে আপনি পুত্রবধূর জন্য যেটা রেখেছেন সেটা আরেকজনের পুত্রবধূকে দিয়ে দিবেন।"
মালইকা আরেকটু সাহস করে বললো, " তাহলে আনজুমানের যে দুটো.."
" খবরদার আম্মা। আমার মৃত বোনের কোনো কিছুতে আপনি নজর দিবেন না। মেহরিমা আছে সেটা আপনি ভুলে যাবেন না।" মালাইকা তার কথা শেষ করার আগেই মকবুল চিৎকার করে কথাগুলো বলে বের হয়ে গেলো। বাহিরে কাজী এসে তাড়া দিচ্ছে।
মালাইকা মুখে আঁচল চেপে বসে আছে। মেহরিমা তখনও ঘুমায়নি। সে শুনেছে আজ তার জেরিন আন্টির বিয়ে তাই আজ সে ঘুমাবে না বলে অনুমতি নিয়েছে। কিন্তু মেহরিমার মন খারাপ হচ্ছে। সে তো জানতো তার মকবুল মামা জেরিন আন্টিকে বিয়ে করবে৷ কিন্তু জেরিন আন্টিকে যে অন্য এক নতুন মামা বিয়ে করে নিচ্ছে। মামা আজও নিশ্চয়ই আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদবে। মেহরিমা জানে তার মামা লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদে। তাই মেহরিমাও তার মায়ের জন্য লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মামা বলেছে কান্না কাউকে দেখাতে হয় না।
চলবে.........