ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

১১তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins)

#লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক

পর্ব ১১

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

বিকেলের আলো নরম হয়ে নেমে এসেছে বাগানের ওপর সোনালি রোদ আর হালকা বাতাসে যেন এক ঘোরলাগা শান্তি ভেসে বেড়াচ্ছে।মেহরিন কারুসো বাগানের মাঝ বরাবর বসে আছে, রাজকীয় এক নীরবতা ছড়িয়ে।তার গায়ে ডিপ গ্রীন রঙের শাড়ি, রংটা যেন তার ত্বকের ওপর পান্নার মতো দীপ্তি ফেলছে।এই রংটা তার চিরকালের প্রিয়।

খোলা চুলগুলো নরম বাতাসে দুলছে দেখলেই বোঝা যায় চুলের যত্নে কোনো ঘাটতি নেই।একেকটা লক যেন আলোর সাথে খেলা করছে,বিকেলের সূর্য তাদের ওপর লেগে হালকা সোনালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে।মেহরিন ধীরে ধীরে কাপটা ঠোঁটে তোলে গাঢ় কফির ঘ্রাণ তার চারপাশের ফুলের সুবাসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।তার আঙুলের ভঙ্গি, কাপ ধরা, কাপ নামানো সবকিছুতেই ছিল রাজকীয় স্থিরতা|

মেহরিনের দৃষ্টি যখন সেই গোলাপগাছের ওপর থামল,

ফুলগুলোর রঙ গাঢ় লাল, প্রায় রক্তের মতো তার মনে যেন হঠাৎ এক পুরোনো স্মৃতির দরজা খুলে দিল।তার আঙুলের ডগা অজান্তেই টেবিলের ওপর রেখে দেওয়া কাপের গায়ে শক্ত হয়ে উঠল।চোখের ভেতরের আলো বদলে গেল মধুর বিকেলের শান্তি ভেঙে, এক চাপা, অস্বস্তিকর স্মৃতি ভেসে উঠল।

কারুসো মেনশনের বাগান সেই একাকী রাতটাও ছিল ঠিক এমনই,চাঁদের আলো নরমভাবে গোলাপের পাপড়ির ওপর পড়ছিল।এই ফুলগুলোই মেহরিনের প্রাণ আর সেই কারণেই পুরো বাগান যেন গোলাপে ডুবে থাকা এক স্বপ্ন।মেহরিন তখন গোলাপের গাছের পাশে দাঁড়িয়ে রাগে তার মুখ কঠিন, চোখে চাপা ক্ষোভ।খোলা চুল বাতাসে দুলছে,

কিন্তু তার ভেতরের ঝড় আরও প্রবল।হঠাৎ পেছন থেকে পায়ের শব্দ ধীরে, স্থির... এবং খুবই চেনা।মেহরিন কিছু বলে না, শুধু নিশ্বাস ধরে অপেক্ষা করে।পা থেমে যায় তার খুব কাছে।একটা গভীর, কোমল কিন্তু নিয়ন্ত্রণময় কণ্ঠ,

"আর কতক্ষণ এই নির্বাক যুদ্ধ চলবে, মেহরিন? এই চাঁদের আলো আর গোলাপের সুবাস সবই তো তোমার জন্য অপচয় হচ্ছে যদি তুমি এভাবে মুখ ঘুরিয়েই থাকো"

মেহরিন তবুও পাথর হয়ে রইল। ইভানো এক পা এগিয়ে এসে মেহরিনের কাঁধে হাত রাখল। শক্ত কিন্তু আশ্রয়ের স্পর্শ। সে নিচু হয়ে মেহরিনের কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,

​“মেহরিন... রাগ করলে তোমাকে আরও বেশি সুন্দর লাগে, কিন্তু তোমার এই নীরবতা আমাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে। কথা বলো, নীরবতাতো কোনো কিছুর সমাধান না”

মেহরিন ঝটকা দিয়ে নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু ইভানো তাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। মেহরিন তখন ফেটে পড়ল অভিমানে,

“ছাড়ো আমাকে যার কাছে সময়ের কোনো দাম নেই, তার স্পর্শ আমার চাই না।”

ইভানো তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।সে তার কানে ফিসফিস করে,

“I am sorry, darling. Please forgive me.”

মেহরিন তপ্ত স্বরে বলল,

“সরি? তোমার কাছে এই একটাই শব্দ আছে ইভানো। কিন্তু আমার ধৈর্যের সীমা আজ শেষ। প্রতিদিন একই কথা। তোমার শরীরের ওই মদের কটু গন্ধ আমি আর পারছি না।”

ইভানো দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে মেহরিনের কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলল,

​“আচ্ছা, ঠিক আছে। আজ থেকে একটা নতুন চুক্তি হোক আমাদের মধ্যে। কাল থেকে সূর্য ডোবার আগেই আমি ঘরে ফিরে আসবো। আর অ্যালকোহল? ওটা আজই শেষ i swear। এখন থেকে আর কোনোদিন আমার কথার খেলাপ হবে না।”

মেহরিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে জানে এই মানুষটা তাকে মুহূর্তেই ভুলিয়ে দিতে পারে সব অভিযোগ। সে মৃদু স্বরে বলল,

“তুমি প্রতিবারই একই কথা বলো ইভানো। কিন্তু পরদিন সব ভুলে যাও।”

​ইভানো মেহরিনের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,

“আচ্ছা, সত্যি…আজ থেকে আর কথার খেলাপ হবে না।কাল থেকে ঠিকমতো ফিরব আর কোনো প্রকার অ্যালকোহল পান করবো না, Promise.”

​বলেই ইভানো পাশের একটি গোলাপ ছিঁড়তে গেল। অসাবধানতায় একটি ধারালো কাঁটা তার আঙুলে আমূল বিঁধে গেল। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোতে লাগল, কিন্তু ইভানোর মুখে যন্ত্রণার ছিটেফোঁটাও নেই। সে হেসেই রক্তমাখা হাতে গোলাপটি মেহরিনের কানের পাশে গুঁজে দিল।

​“আমার এই একগুঁয়ে ওয়াইফের জন্য একটু রক্ত তো দেওয়াই যায়,”

মেহরিন তার রক্ত দেখে শিউরে উঠে নিজের শাড়ির আঁচল দিয়ে রক্ত মুছতে লাগলো । তাদের চোখাচোখি হলো।তারা দু’জনই কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে স্থির তাকিয়ে থাকে একই সাথে জেদী, একই সাথে ভালোবাসায় বেঁধে থাকা।তারপর ইভানো নরম সুরে বলে,

“এখন ভেতরে চল…বাচ্চারা উঠে আমাদের না দেখলে আবার কান্নাকাটি করবে "

____________

প্যারিসের বিকেল।রোজেলিয়া সোফায় বসে রিল্যাক্স করে Hideaway বইয়ের ই-বুকটা পড়ছে। রিভেন সকালেই অফিসের কাজে বেরিয়ে গেছে।এনজো তার আসে পাশেই কোথাও আছে।সে পড়ায় মগ্ন ছিল।হঠাৎ, একটি নরম কণ্ঠ তার কানে ফিসফিস করে বলে,

“কি এত মনোযোগ দিয়ে দেখছো?”

​রোজেলিয়া শিউরে উঠল, হাতের ফোনটা ছিটকে পড়ল সোফায়। সে দ্রুত ঘুরে তাকিয়ে দেখল রিভেন দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে এক বিচিত্র কৌতুক আর ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত বাঁকা হাসি।

​“আপনি... আপনি কখন আসলেন?”

রিভেন এক ধাপ এগিয়ে এল।

“কখন আসলাম সেটা বড় কথা নয় রোজ পেটাল। বড় কথা হলো, তোমাকে তিনবার ডাকার পরও তুমি সাড়া দাওনি। Were you lost in another world?”

রোজেলিয়া অপ্রস্তুত হয়ে ফোনটা হাতে নিল।

“আমি... আমি জাস্ট একটা ফিকশন পড়ছিলাম।”

​“ফিকশন?”

রিভেন এক ঝটকায় তার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে স্ক্রিনে চোখ বুলাল। তার হ্যাজেল চোখ দুটো সরু হয়ে এল।

“এতটাই মগ্ন ছিলে যে এই রক্তমাংসের স্বামীকেও তোমার নজরে পড়ল না?"

​রোজেলিয়া লজ্জায় আর অস্বস্তিতে নখ খুঁটতে লাগল। “না, তেমন...তেমন কিছুই না"

রিভেন সোফায় রোজেলিয়ার একদম গা ঘেঁষে বসল। তার শরীরের সেই কড়া পারফিউমের ঘ্রাণ রোজেলিয়াকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। রিভেন নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল,

“এখন বলো, এই ফিকশনের হিরো কি রিভেন আরওয়াইনের থেকেও বেশি আকর্ষণীয়? Is he better than me?”

​রোজেলিয়া কথা হারিয়ে ফেলল।

​রিভেন রোজেলিয়ার চিবুকটা শক্ত করে ধরে নিজের দিকে ঘোরাল।

“ক্যারেক্টারের নাম কী?”

​“কাই মোরি...”

রোজেলিয়া প্রায় অস্পষ্ট স্বরে বলল।

​“কাই মোরি?”

রিভেন নামটা একবার উচ্চারণ করল যেন কোনো বিস্বাদ ওষুধের নাম নিচ্ছে।

“তাহলে এই কাই মোরি কি আমার থেকেও হ্যান্ডসাম? Is he more attractive than the man sitting right in front of you?”

"হুঁ?"

​রোজেলিয়া মুখ নিচু করে রইল। রিভেনের গলার স্বর এবার আরও গাঢ়, আরও দাবিদার।

“কথা বলো না কেন, মিসেস আরওয়াইন? খালি ‘হুঁ’ আর ‘হম’ করছ কেন? Is he more attractive?”

রোজেলিয়া রিভেনের সেই জ্বলন্ত চোখের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল,

“হুঁ... ইয়ে... মানে, না... না।”

​রিভেনের ঠোঁটে এবার এক বিজয়ের হাসি ফুটে উঠল।

“সো, ইউ আর এডমিটিং আই এম অ্যাট্রাক্টিভ? হ্‌ম?”

​“আমি... তা কখন বললাম?” রোজেলিয়া লাজুকভাবে ফিসফিস করল।"কাই মোরি তো একজন gentleman।”

রিভেন আরও কাছে ঝুঁকে এল। “আর আমি? Am I not a gentleman to you?”

​রোজেলিয়া বড় বড় চোখে তাকাল।

“আপনি? জেন্টলম্যান?”

রিভেন আরও কাছে জুকে আসে।কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই রিভেনের ফোন বাজে।রিভেন রেগে যায়, রোজেলিয়াকে ছেড়ে ফোন বের করে, তারপর ফোন রিসিভ করে,

“What's up, motherfucker?”

ওদিকে লরেঞ্জো রিভেনের রাগি, বরফ-শীতল কণ্ঠস্বর ফোনে শুনে থমকে যায়। গলাটা শুকিয়ে যায় তার।

“Boss…”

সে হালকা কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে,

“uh…. সবাই আপনার জন্য কনফারেন্সে ওয়েট করছে।”

রিভেন দাঁতে দাঁত চেপে শান্ত গলায় বলল,

“I am coming ”

ফোনটা বন্ধ করেও সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।তারপর

ধীরে সে রোজেলিয়ার দিকে তাকায়।রোজেলিয়া এখনও আগের মতো বসে আছে লজ্জায়, অস্বস্তিতে, আর এই মাত্র ঘটে যাওয়া টানটান পরিস্থিতিতে হারিয়ে।রিভেনের গলা নিচু, গভীর,

“এত blush করছো কেন?”

রোজেলিয়া তাড়াহুড়ো করে মুখ লুকায়,

“কি… কই নাতো…”

তার কণ্ঠ কাঁপে, গলা শুকিয়ে যায়।রিভেন আরও কাছে এগিয়ে আসে তার ছায়া রোজেলিয়ার উপর পড়ে।

“Don’t lie to me, Rose petal”

সে ফিসফিস করে, চোখে শিকারীর হাসি

“তোমার চোখ, তোমার গাল সব বলে দিচ্ছে।”

রিভেন সোজা সোফার বিপরীত পাশে গিয়ে দপ করে বসে পড়ল। চওড়া কাঁধটা পেছনে হেলিয়ে দিল, চোখদুটো আধবোজা। ঘরে আকস্মিক এক নীরবতা নেমে এলো ভারি, নিশ্ছিদ্র, শ্বাসরুদ্ধকর।রোজেলিয়া একটু ইতস্তত করে জিজ্ঞাসা করল,

“আজকে… হঠাৎ অফিস থেকে বিকেলে আসলেন যে?”

রিভেন কোনো উত্তর দিল না। শুধু নিঃশব্দে চোখ বন্ধ করে রাখল, শ্বাসটাও যেন ধীরে, ভারী।কিছুক্ষণ পর, তার গভীর কণ্ঠ ভেসে এলো,

“তোমাকে মিস করছিলাম।”

রোজেলিয়া প্রায় ফিসফিস করে,

“কি…?”

রিভেন ধীরে শ্বাস নিল। তারপর চোখ খুলল।হ্যাজেল চোখের তীব্রতা দাবিদার, গা ছমছমে, নিঃশব্দ ঝড়ের মতো রোজেলিয়ার ওপরে থাবা বসাল।সে সোজা হয়ে বসল, আর কোনো সতর্কতা ছাড়াই হাত বাড়িয়ে রোজেলিয়ার চোয়ালের পাশটা আঁকড়ে ধরল।এক টানে তাকে কাছে টেনে আনল এত কাছে যে তার শ্বাস রোজেলিয়ার ঠোঁট ছুঁয়ে গেল।

তারপর গভীর, দাবিদার, তীক্ষ্ণ একটা চুমু। সময় থমকে থাকে। রোজেলিয়ার আঙুল কাঁপে, শ্বাস আটকে যায়।

রিভেন তাকে ছেড়ে দিল।সে উঠে দাঁড়াল, যেন কিছুই হয়নি অলস, অথচ ভয়ংকর সৌন্দর্যে ভরা।একটা শীতল দৃষ্টি, তারপর ধীর পায়ে উপরের দিকে চলে গেল।রোজেলিয়া স্তব্ধ হয়ে বসে রইল গাল লাল, শ্বাস অনিয়মিত।কিছুক্ষণ পর রিভেন আবার নিচে নামল হাতে একটা ফাইল।রিভেন আবার তার সামনে এসে থামল। নিচু স্বরে বলল,

“Lying doesn’t suit you, Rose.”

রোজেলিয়া চমকে তাকায়।

“কি…”

সে বাক্য শেষ করতে পারে না।রিভেন সামান্য ঝুঁকে তার কানের পাশ দিয়ে কথা বলে গরম শ্বাস ত্বক ছুঁয়ে যায়, শরীর কেঁপে ওঠে।

"তোমার শরীর কাঁপছে... দ্যাট কিস গট টু ইউ, ডিডন্ট ইট?”

রোজেলিয়া তাকাতে পারে না।চোখ নিচু।গাল লাল হয়ে গেছে।হঠাৎ রিভেনের আঙুল তার চিবুক ছোঁয়, সে রোজেলিয়ার মুখ নিজের দিকে তুলে ধরে।দুই চোখে আটকে ফেলে তাকে,

“আমার দিকে তাকাও,”

সে ফিসফিস করে।রোজেলিয়া বাধ্য হয়ে তাকায়।রিভেন এক নিশ্বাস নেয় দীর্ঘ, মাদকীয় তারপর মন্ত্রের মতো বলে,

“I missed this face…more than I should.”

রোজেলিয়া প্রায় কথা হারিয়ে ফেলে,

“আপনি…এইমাএ ”

রিভেন তার কথা শেষ হতে দেয় না।তার আঙুল ঠোঁটে রেখে থামিয়ে দেয়।

"হুস"

রোজেলিয়া গিলে ফেলে।শ্বাস আটকে যায়।হঠাৎ রিভেন আরও কাছে আসে।তার কপাল রোজেলিয়ার কপালে ঠেকে যায়।তপ্ত।নিঃশব্দ।ঘরটা যেন থেমে যায়।সে চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে,

"Don’t make me chase you, Rose… because if I have to, I’ll ruin you"

রিভেন সোজা হয়ে দাঁড়ায়। রোজেলিয়ার দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাসি দিয়ে মেইন ডোরের দিকে যেতে থাকে।

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এনজো রিভেনকে ফাইল হাতে দেখে অবাক হয়ে বলল,

“বস... আপনি কেন কষ্ট করলেন? আমি তো গিয়ে নিয়ে আসতাম।”

​রিভেন কোনো উত্তর দিল না। এনজোকে একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে সে গাড়িতে গিয়ে বসল। এনজো স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

​রিভেন চলে যাওয়ার পর রোজেলিয়া এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ল। তার হৃৎপিণ্ড এখনো পাগলের মতো লাফাচ্ছে সোফায় হেলান দিয়ে বিড়বিড় করলো

“নিশ্চয়ই মদ-টদ খেয়েছে আজ... নইলে এত অস্থির কেন মানুষটা?”

_________________

প্যারিসের গগনচুম্বী অফিসের সেই গুমোট কনফারেন্স রুম। চারদিকে দামী কোলন আর নতুন কাগজের কড়া ঘ্রাণ। ওক কাঠের সেই বিশাল টেবিলের মাথায় রিভেন বসে আছে শান্ত, স্থির এবং প্রাণঘাতী। বড় বড় ইনভেস্টর আর তার বিশ্বস্ত লোকেরা তখন কয়েক বিলিয়ন ডলারের ডিল নিয়ে তর্কে মগ্ন। প্রোজেক্টরের নীল আলো রিভেনের ধারালো চোয়ালে পড়ে এক অপার্থিব ছায়া তৈরি করেছে।

​কিন্তু রিভেনের কান তখন সেখানে নেই। তার মগজে তখন বারংবার প্রতিধ্বনি হচ্ছে রোজেলিয়ার সেই বিস্ময়ভরা কণ্ঠস্বর, সেই ডাগর চোখের অবাধ্য চাহনি

“আপনি? Gentleman?”

​রিভেনের হাতের কলমটা এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। তার ঠোঁটের কোণে অত্যন্ত ধীরগতিতে এক বিষাক্ত অথচ মোহময় হাসি ফুটে উঠল। সে চেয়ারে আরও আরাম করে হেলান দিয়ে নিজের মনেই খুব নিচু স্বরে বিড়বিড় করল,

​“Gentleman…?”

​সে একটু থামল।

​“Yeah, right. ও যখন সামনে থাকে... আমার ভেতরের কোনো জেন্টলম্যান আর টিকে থাকে না। He dies a thousand deaths every time she blushes.”

​পুরো ঘর তখন নিস্তব্ধ। জ্যাক, যে কি না তখন শিপমেন্টের গ্রাফ বুঝিয়ে বলছিল, সে রিভেনের সেই বিচিত্র হাসি আর ফিসফিসানি দেখে ভয়ে তোতলাতে শুরু করল। সে ঢোক গিলে কাঁপাকাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল,

​“ব... বস? কিছু কি বললেন? ডিলের কোনো পয়েন্ট কি আপনার পছন্দ হয়নি?”

​রিভেনের সেই ঘোরের জগতটা মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গেল। চোখের সেই রোমান্টিক অন্ধকার নিমিষেই কর্পোরেট নিষ্ঠুরতায় বদলে গেল। সে চোখের পাতা সরু করে জ্যাকের দিকে তাকাল,

​সে হাতের কলমটা টেবিলে ঠক করে রাখল এবং অত্যন্ত ঠান্ডা, সপাট স্বরে বলল,

​“Nope. Nothing you need to know. Continue. আর হ্যাঁ জ্যাক, পরের স্লাইডে যদি কোনো ভুল দেখি, তবে কালকের সূর্যোদয় দেখার আশা ছেড়ে দিও।”

​জ্যাক কপালে ঘাম মুছে আবার শুরু করল। কিন্তু রিভেনের মনের এক কোণে তখনো রোজেলিয়ার সেই লাল হয়ে যাওয়া গাল আর অগোছালো নিশ্বাসের স্মৃতিটা টাটকা হয়ে আছে।

To be continue,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন