ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

১৩তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins)

#লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক

পর্ব ১৩

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

রোজেলিয়া বাগানের বেঞ্চে বসে আছে। চারপাশে সোনালি আলো, গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে রোদ কাঁপছে। হাওয়া নিঃশব্দ শুধু দূরে পাখির ডাকে শহরটা যেন নিঃশ্বাস নিচ্ছে ধীরে ধীরে।একটু আগেই এনজো এসে জানিয়েছে আজ সন্ধ্যাতেই তারা ইতালির পথে রওনা হবে।রোজেলিয়া মাথা নিচু করে বসে থাকে। মনটা ভার হয়ে আছে।প্যারিসে তার সময়টা কতটা সুন্দর কেটেছে।ঠিক তখনই এনজো এসে বাগানের অপর বেঞ্চে বসে। তার মুখে সেই চিরচেনা বিনয়ী হাসি।

“ম্যাম, আপনার মন খারাপ?”

রোজেলিয়া সামান্য হাসার চেষ্টা করে।

“না, তা না।”

কিছুক্ষণ পর সে বলে ওঠে,

“এনজো?”

“জি ম্যাম, বলুন।”

রোজেলিয়া মুখ তুলে তাকায়, চোখে নরম কৌতূহল।

“তুমি তো রিভেনের চেয়ে বড়? তাহলে এত ফর্মালিটি মেনটেইন করো কেন?”

এনজো হেসে ফেলে, একটুখানি মাটির দিকে তাকায়।

“হ্যাঁ, আমি বসের বড়। কিন্তু ক্ষমতার দিক থেকে উনি আমার থেকেও অনেক উঁচুতে। ওনাকে ছোটবেলায় ‘ইয়াং মাস্টার’ বলে ডাকতাম… এখন আমার ‘বস’। ওটাই অভ্যাস হয়ে গেছে।”

রোজেলিয়া চুপচাপ শোনে, তারপর ধীরে বলে,

“আমায় এভাবে ‘ম্যাম’ বলে ডাকো না। আমি তোমার ছোট বোনের মতো, নাম ধরে ডাকলে স্বাচ্ছন্দ্য লাগে।”

এনজো মৃদু হাসে, মাথা নাড়ে।

“আপনি আমার ছোট বোনের মতোই ঠিক, কিন্তু বস ফর্মালিটিতে খুব সেনসিটিভ। উনি জানলে আমার বিপদ।”

দু’জন কিছুক্ষণ নীরব থাকে।

পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো রোজেলিয়ার গায়ে পড়ে, তার বাদামী চুলে আলোর রেখা নেমে আসে।

তারপর হঠাৎ রোজেলিয়া প্রশ্ন করে,

“আমায় রিভেনের ব্যাপারে কিছু বলবে? যেমন ও ছোটবেলায় কেমন ছিল?”

এনজো কিছুটা ভেবে বলে,

“ইয়াং মাস্টার ছোটবেলা থেকেই একটু গম্ভীর, আর ভীষণ জেদি। তিনি যা চাইতেন, সেটা না পাওয়া মানেই রাগে নীরব হয়ে যাওয়া। ছোটবেলাতেও ওর চোখে এমন এক দৃষ্টি ছিল, যেন পুরো পৃথিবীকে দূরে ঠেলে রাখে।”

সে একটুখানি থামে, তারপর বলে,

“তবে, ভিতরে ভিতরে উনি খুব প্রোটেকটিভ মানুষ। যাকে একবার নিজের বলে মনে করেন, তার জন্য পৃথিবীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারেন।”

রোজেলিয়া স্থির হয়ে বসে থাকে। তার ঠোঁটে একরকম অচেনা, নরম হাসি খেলে যায় যেন কারও হৃদয়ের বন্ধ দরজার পেছনে আলো দেখেছে।

রোজেলিয়া হালকা হেসে বলে,

“তোমার সঙ্গে সত্যিই ভালো সময় কেটেছে, এনজো।”

এনজো মাথা নিচু করে মৃদু হাসে।

“আপনার সঙ্গেও আমার ভালো সময় কেটেছে, ম্যাম। ইতালিতে চলে গেলে হয়তো আর তেমন দেখা হবে না…”

তার কণ্ঠে একটুখানি নরম বিষণ্নতা, যেন এই ছোট্ট সময়টাও মনে গেঁথে গেছে।

রোজেলিয়া মুখে হাসি রাখে,

“আচ্ছা, কাল রিভেনের পাশে একজনকে দেখলাম।”

এনজো ভুরু তোলে,

“আপনি সাইলাসের কথা বলছেন? সল কিছুদিন এক কাজে দেশের বাইরে ছিল লন্ডনে।”

“ও…”

রোজেলিয়া নিচু স্বরে বলে।

এনজো বলে,

“সাইলাসও বসের খুব বিশ্বাসভাজন মানুষ। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সে যায়। বসের মতোই গম্ভীর স্বভাব কম কথা, বেশি ভাবনা।”

রোজেলিয়া হেসে ফেলে।

“তাহলে নিশ্চয়ই রিভেনের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায়।”

এনজো হেসে মাথা নাড়ে,

“একদম ঠিক ধরেছেন, ম্যাম। দু’জন একসঙ্গে থাকলে মনে হয়, যেন কেউ পুরো ঘরটা বরফে ঢেকে দিয়েছে।”

____________

সন্ধ্যার আলোটা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছিল।

রোজেলিয়া নিঃশব্দে ব্যাগের চেইন টেনে বন্ধ করে দিল। ঘরের কোণে রাখা প্রতিটি জিনিসের দিকে শেষবারের মতো তাকালো যেন কোনো নীরব স্মৃতিকে বিদায় জানাচ্ছে।

দরজার ওপাশে তখন রিভেন দাঁড়িয়ে।তার কালো স্যুটের নিচে অদ্ভুত ঠান্ডা একটা ভাব, অথচ চোখের গভীরে অদৃশ্য উষ্ণতা।

​“Are you ready, Rose? আমাদের গাড়ি অপেক্ষা করছে,”

রিভেনের ভরাট কণ্ঠস্বর ঘরটিতে প্রতিধ্বনিত হলো।

রোজেলিয়া ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। দু’জনে একসঙ্গে নেমে গেল গ্যারেজের দিকে এই প্রথম সে জায়গাটা দেখল।গ্যারেজটা যেন একটা রাজকীয় প্রদর্শনী সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে দু’তিনটা কালো SUV, চকচকে সিলভার মার্সিডিজ, একপাশে রোলস রয়েস বোটটেইল, আর পাশে নীলচে BMW।চকচকে আলোয় লোহাটার গায়ে রিভেনের মুখের ছায়া পড়ে নরম অথচ ভয়ানক সুন্দর।রিভেন নিরবে মার্সিডিজের দরজা খুলে রোজেলিয়াকে বসতে ইঙ্গিত করে।গাড়ি চলতে শুরু করে।বাইরের শহর ধীরে ধীরে পেছনে চলে যায় রাস্তায় বাতিগুলোর আলো তার চোখে পড়ে যেন ঝাপসা স্বপ্নের মতো।রোজেলিয়া জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে, ঠোঁটে একটুখানি অজানা বিষণ্ণতা।রিভেন এক হাতে ফোন চালাচ্ছে, আরেক হাত দিয়ে নিঃশব্দে রোজেলিয়ার হাতটা ধরে রাখে,

“Don’t look so sad, Rose petal. প্যারিস কোথাও যাচ্ছে না। আমরা আবার আসব... "

রোজেলিয়া তাকায় তার দিকে।চোখে বিস্ময় আর মায়ার ছায়া শুধু মাথা নাড়ে ধীরে।গাড়ি থামে অবশেষে রিভেনের ব্যক্তিগত জেটের সামনে। বিশাল ফ্লাডলাইটে রুপালি আলো ঝলমল করছে।রিভেন গাড়ি থেকে নামে, তারপর হাত বাড়ায় রোজেলিয়া কিছুক্ষণ থমকে থাকে, তারপর তার হাতটা ধরে নামে।রিভেনের আঙুলের স্পর্শে হালকা এক শিহরণ বয়ে যায় রোজেলিয়ার শরীর জুড়ে।রিভেন তাকে নিয়ে ধীরে ধীরে জেটের সিঁড়ি বেয়ে ওঠে।বিমানের দরজা বন্ধ হয়, নিচে প্যারিসের আলো ফেলে রেখে।ইঞ্জিনের শব্দ উঠতেই রোজেলিয়া নিঃশব্দে জানালার বাইরে তাকায় আইফেল টাওয়ারের ক্ষীণ আলোটা ক্রমে মিলিয়ে যাচ্ছে,ঠিক যেন কোনো অসমাপ্ত স্মৃতি|

দুই ঘণ্টার আকাশপথ যেন নিঃশব্দে কেটে গেল।জেটের কাঁচে মিলান শহরের রাত্রির আলো প্রথমে বিন্দুর মতো দেখা দিল, তারপর ধীরে ধীরে একেকটা সোনালি রেখার মতো ছড়িয়ে পড়ল যেন রাতের বুকে কেউ সুক্ষ্ম তুলি চালিয়ে আলো এঁকে দিয়েছে।জেট নরম ঝাঁকুনি দিয়ে রানওয়েতে নামলো।রোজেলিয়ার চোখে অচেনা শহরের ঝলমলে রূপ রাত্রির হাওয়া একটু ঠান্ডা, একটু মিষ্টি… আর এতে মিলানের পরিচিত ঐশ্বর্য মিশে আছে।রিভেন গাড়ির দরজা খুলে তাকে নামতে সাহায্য করল।তার হাতের স্পর্শ এখনও আগের মতোই দৃঢ়… কিন্তু তাতে আজ যেন অদ্ভুত কোমলতা লুকানো।গাড়ি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।সোজা ড্রাইভ করে তারা রিভেনের বাড়ির দিকে রওনা দেয়|গাড়ি থামতেই গেট খুলে যায়, ভিতরে ঝলমল করছে আলো।সামনেই দাঁড়িয়ে মেহরিন কারুসো।রিভেন এগিয়ে গিয়ে কোনো দ্বিধা ছাড়াই তার মাকে জড়িয়ে ধরল।মেহরিনের হাতও উঠে এলো সন্তানের পিঠে এক মুহূর্তের জন্য তার কঠিন মুখ নরম হয়ে গেল,তারপরই আবার সেই পরিচিত রাজকীয় ভাব ফিরে এল।কিছুক্ষণ পর মেহরিনের দৃষ্টি ধীরে রোজেলিয়ার দিকে পড়ল।দু’জনের চোখ এক মুহূর্তের জন্য আটকে গেলঅচেনা, তবু এক অদৃশ্য সুতোর মতো টান।তারপর মেহরিন শুধু মাথা নেড়ে দিলেন।কথা নয়।রিভেন কিছু না বলে রোজেলিয়ার হাত ধরে উপরের দিকে ইশারা করল।

"চলো"

____________

সকালে আলোটা নরম, জানালার কাঁচে সোনালি ছায়া।রোজেলিয়ার ঘুম ধীরে ধীরে কেটে গেল। সে উঠে বসল, চোখ মুছল, তারপর ফ্রেশ হয়ে নিচে নামল।নিচে নামতেই তার নাকে এল কফি আর গরম প্যানকেকের সুবাস।

​রান্নাঘরের সামনে যেতেই সে দেখল আভা ব্যস্ত হয়ে কাজ করছে। রোজেলিয়া চট করে গিয়ে ডাকল,

“আভা!”

​আভা ঘুরে তাকিয়েই এক গাল হাসল।

“রোজেলিয়া।কেমন আছো তুমি? আমিতো ভেবেছিলাম প্যারিসে গিয়ে আমাকে ভুলেই গেছে "

​রোজেলিয়া হেসে আভার হাত ধরল।

“একদমই না! তোমাকে যে কী পরিমাণ মিস করেছি আমি! তবে এনজো সাথে ছিল তো, সারাক্ষণ ওর সাথে গল্প করে সময় কেটে যেত।”

​আভা মাথা নেড়ে বলল,

“ও আচ্ছা, এনজোর সাথেও তুমি বন্ধুত্ব করে ফেলেছ? দ্যাটস গ্রেট। তুমি বসো, আমি ব্রেকফাস্ট নিয়ে আসছি।”

​রোজেলিয়া টেবিলে বসল। ঠিক তখনই একজন নতুন মেইড এসে তাকে কফি সার্ভ করল। রোজেলিয়া কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“তুমি কে? আগে তো দেখিনি তোমাকে?”

​মেয়েটি মাথা নিচু করে বিনীতভাবে বলল,

“ম্যাম, আমি নাইলা। আপনি যখন প্যারিসে ছিলেন, তখনই আমি এই বাড়িতে জয়েন করেছি। আপনার কোনো প্রয়োজন হলে জাস্ট আমাকে ডাকবেন।”

​রোজেলিয়া মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল,

“থ্যাঙ্ক ইউ, নাইলা।”

​খাওয়ার শেষ পর্যায়ে আভা এক গ্লাস টাটকা ফলের জুস নিয়ে এল। “রোজেলিয়া, খাওয়া শেষ হলে এই জুসটা একটু স্যারকে দিয়ে আসবে? উনি ওপরে জিম রুমে আছেন।”

​রোজেলিয়া চোখ বড় বড় করে বলল,

“রিভেন এখনো অফিসে যায়নি? ও তো সবসময় সকালেই বেরিয়ে যায়!”

​আভা হাসল।

“আজ মনে হয় বসের মুড একটু অন্যরকম। যাও, দিয়ে এসো।”

“কোথায় ওয়ার্কআউট করছে?”

আভা ইশারা করল,

“উপরে ওঠো, বামের দিকের দরজাটা… জিম রুম।”

রোজেলিয়া জুসের গ্লাস নিয়ে ধীরপায়ে ওপরে উঠল। জিম রুমের দরজাটা সামান্য খোলা ছিল। সে সন্তর্পণে উঁকি দিল এবং সাথে সাথে তার হৃদস্পন্দন যেন বন্ধ হয়ে গেল। রিভেন শার্টহীন অবস্থায় মেঝেতে পুশ-আপ দিচ্ছে। তার ঘামে ভেজা পিঠের পেশিগুলো লোহার মতো শক্ত হয়ে উঠছে, আর হাতের সেই কালো আগুনের মতো ট্যাটুগুলো অদ্ভুত মায়াবী দেখাচ্ছে।

​রোজেলিয়া যখন তার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে দেখছিল, ঠিক তখনই রিভেন নড়াচড়া না করেই বলে উঠল,

“Done looking? নাকি আরও কিছুক্ষণ এই দৃশ্য উপভোগ করার পরিকল্পনা আছে?”

​রোজেলিয়া চমকে উঠল।

“আ... আপনি কীভাবে বুঝলেন আমি এসেছি? আপনি তো ওদিকে তাকিয়ে ছিলেন না!”

​রিভেন উঠে দাঁড়াল। তার ভেজা শরীরের ওপর রোদ পড়ে ঝিলমিল করছে। সে তোয়ালে দিয়ে ঘাড় মুছতে মুছতে রোজেলিয়ার দিকে এগিয়ে এল। তার চোখে সেই চেনা হাসি।

​

"যখনই তুমি এই ঘরের আশেপাশে আসো রোজ, এখানকার টেম্পারেচার পাল্টে যায়। বাতাসের গন্ধটা তোমার মিষ্টি শরীরের সুবাসে ভারী হয়ে ওঠে। My body knows you before my eyes do. This is called connection, my dear wife.”

​রিভেন একদম কাছে এসে দাঁড়াল। তার শরীরের উত্তাপ রোজেলিয়া অনুভব করতে পারছে। সে কাঁপা হাতে জুসের গ্লাসটা বাড়িয়ে দিল।

“আ... আপনার জুস।”

রিভেন ধীর ভঙ্গিতে বোতলটা নেয়। রোজেলিয়া ঘুরে বেরিয়ে যেতে চাইতেই সে হঠাৎ তাকে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরে ফেলে।দুই হাত তার মাথার দুই পাশে, লোহার মত শক্ত আর গরম তাকে পুরোপুরি আটকে ফেলে।রোজেলিয়ার নিশ্বাস এক লাফে গলা পর্যন্ত উঠে যায়।

“ক-কোথায় যাচ্ছ?”

রোজেলিয়া অস্থির চোখে তাকায়, গোলাপি মুখে আতঙ্ক আর লজ্জার মিশেল।

“আ…আম-আমি…”

তার কথা শেষ হবার আগেই রিভেন তার হাতের বোতলটা ম্যাটের উপর ফেলে রোজেলিয়ার কোমরের দুপাশে হাত রাখে, তারপর ধীরে তাকে তুলে ম্যাটের ওপর শুইয়ে দেয়।

রোজেলিয়া হাঁফিয়ে ওঠে।

“আপনি… কি করছেন…?”

রিভেন নিচু হয়ে তার কাছে ঝুঁকে আসে তার ভেজা চুল থেকে পানি ঝরে রোজেলিয়ার গালে পড়ে।

“ওটা তো তুমিই বলবে, Roselia…”

তার আঙুল রোজেলিয়ার গলার পাশে ছুঁয়ে যায়।

“কেন পালাও রোজ? ভয় পাও আমাকে? নাকি তোমার ভয়টা আসলে তোমার নিজের অনুভূতির কাছে হুম?"

রোজেলিয়ার বুক দ্রুত ওঠানামা করে।তার ঠোঁট শুকিয়ে আসে।রিভেন আরো তার দিকে ঝুঁকে। দুইজনই একদম কাছাকাছি, চোখে চোখ রেখে।রিভেন আরও কাছে ঝুকতে লাগলে রোজেলিয়া reflexively চোখ বন্ধ করে ফেলল।কিছু মুহূর্তের জন্য কোনো ঘটনা ঘটে না।

“কিসের অপেক্ষা করছো, Rose?”

রোজেলিয়া চোখ খুলে দেখল রিভেন তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছে।লজ্জায় তার গাল টমেটো রঙ হয়ে গেল।সে চোখ এড়িয়ে তাকাল।রিভেন কিছুটা জোরে,

“Eyes on me.”

রোজেলিয়া আঁচড়ে বলল,

“সরুন… দূরে যান।”

“কিসের অপেক্ষা করছিলে রোজ? কিস? তুমি কি ভেবেছিলে আমি তোমাকে এখনই সবটা দিয়ে দেব?”

​রোজেলিয়া লজ্জায় লাল হয়ে গেল।

“আপনি... আপনি একটা নির্লজ্জ, পারভার্ট মানুষ!”

রিভেন ধীরে কাছে আসল,

“আমি shameless, pervert? আমার shameless pervert side তুমি এখনও দেখোনি। দেখালে এক সপ্তাহ ঠিকমতো আচ্ছা বললাম না এমনেও লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছো”

রোজেলিয়া লজ্জায় আরও লাল হয়ে গেল।

“আপনার মাউথ ফিলটার দরকার।”

রিভেন আবার হেসে ফেলল,

“My mouth filter leaves the planet when I am with you, wifey.”

রোজেলিয়া ধীরে ধীরে রিভেনের হাত থেকে সরেই উঠে বসে।

রিভেন তার দিকে তাকিয়ে একটি বকা হাসি ফোটায়।

“আবার পালাচ্ছ?”

রোজেলিয়া কিছুই না বলে দ্রুত দরজা ধরেই রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

বেডরুমের ভিতরে ঢুকে সে ধীরে খাটে বসে নিশ্বাস ফেলে।তার গাল এখনও লজ্জায় লাল, হৃদয়ের রোমাঞ্চ যেন আর কমছে না।কিছুক্ষণ নীরবতার পর রিভেনও রুমে আসে।সে সরাসরি ওয়াশরুমের দিকে চলে যায় শাওয়ার নেবার জন্য।রোজেলিয়া শুয়ে বসে কিছুক্ষণ নিজের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা ও লজ্জা সামলাতে থাকে,আর রুমের বাতাসে এখন কেবল তাদের দু’জনের উপস্থিতির নিঃশব্দ চুম্বকীয় টান অনুভূত হয়।

রিভেন শাওয়ার শেষ করে বেরোতে লাগল। তার ভেজা চুল টাওয়াল দিয়ে মুছতে মুছতে, আর শরীরের পানি টুক টুক করে ফ্লোরে পড়ে।রোজেলিয়া তার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল

“রিভেন…”

রিভেন আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখিয়ে ধীরে ধীরে

“হুম”

বলল।

রোজেলিয়া কিছুটা লাজুক মুখে জানালো,

" বাবা মাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।”

রিভেন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ধীরে বলল,

“ঠিক আছে, তাহলে যাও। আমি অফিসে যাওয়ার পথে তোমাকে দিয়ে যাব। এখনই রেডি হয়ে নাও।”

___________

মিলানের ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে রিভেনের গাড়িটা যখন রোজেলিয়াদের পাড়ার পরিচিত মোড়ে এসে থামল, তখন সকালের রোদ আরও চড়া হয়েছে। রোজেলিয়া নামার জন্য তৈরি হতেই রিভেন তার হাতটা শক্ত করে ধরল,

​“আমি তোমাকে ঠিক চার ঘণ্টা পর নিতে আসব। বি রেডি বাই দেন,”

রিভেন শান্ত গলায় কিন্তু আদেশের সুরে বলল।

​রোজেলিয়া ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল।

“চার ঘণ্টা? মাত্র? রিভেন, আমি এখানে কয়েক দিন থাকতে চাই। আমি আম্মুর সাথে কিছুদিন সময় কাটাতে চাই।”

​রিভেনের চোয়াল এক মুহূর্তে শক্ত হয়ে গেল। তার হ্যাজেল চোখে সেই পরিচিত ঠান্ডা আগুন জ্বলে উঠল। সে রোজেলিয়ার হাতটা আরও কাছে টেনে নিয়ে নিচু গলায় বলল,

“কয়েক দিন? অসম্ভব। আমি তোমাকে এখানে নামিয়ে দিতে রাজি হয়েছি, তার মানে এই নয় যে তুমি আমার বাড়ি ছেড়ে এখানে এসে থাকবে। You are coming back with me tonight, Rose.”

​রোজেলিয়া এবার জেদ ধরল, “রিভেন, প্লিজআমি মাত্র এলাম। কয়েকটা দিন থাকলে কী এমন ক্ষতি হবে?

রিভেন রোজেলিয়ার চিবুকটা ধরে নিজের খুব কাছে টেনে আনল। তার তপ্ত নিঃশ্বাস রোজেলিয়ার ঠোঁটে আছড়ে পড়ছে।

​“ক্ষতি হবে আমার, রোজ। আমার বেডরুমে তুমি না থাকলে আমার ঘুম আসে না, সেটা কি তুমি জানো না? You think I can survive a whole night without you beside me? Don’t even dream about staying here.তাছাড়া

এক রাত দূরে থাকা মানে আমার জন্য এক যুগ। সো, ডোন্ট আর্গু উইথ মি।”

​রোজেলিয়া আর কিছু না বলে রাগে গজগজ করতে করতে গাড়ি থেকে নেমে গেল। গাড়ির দরজা বন্ধ করে সে একবারও পেছনে না তাকিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দিল। রিভেন গাড়ির জানালার কাঁচ নামিয়ে তার যাওয়ার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, তারপর কর্কশ শব্দে টায়ার ঘষে গাড়ি ঘুরিয়ে ঝড়ের বেগে অফিসের দিকে চলে গেল।

​গাড়ি দূরে মিলিয়ে যেতেই চারপাশ হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে এল। রোজেলিয়া নিজের পরিচিত বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বুক ভরে একটা লম্বা শ্বাস নিল। কলিং বেল চাপতেই ভেতর থেকে পায়ের শব্দ পাওয়া গেল।

​দরজা খুলতেই রোজেলিয়ার মা সামনে দাঁড়ানো মেয়েকে দেখে পাথর হয়ে গেলেন। কয়েক সেকেন্ড পর তার চোখে আনন্দের অশ্রু চিকচিক করে উঠল।

​“রোজেলিয়া! মা তুই... তুই সত্যি এসেছিস!”

​রোজেলিয়া আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে দৌড়ে গিয়ে মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। মায়ের সেই পরিচিত শাড়ির ঘ্রাণ আর শরীরের ওম যেন তার সব ক্লান্তি আর রাগ মুহূর্তেই ধুয়ে দিল। সে মায়ের গায়ে মুখ লুকিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল।

​“হ্যাঁ আম্মু, আমি এসেছি। আমি তোমাদের খুব মিস করছিলাম।”

​মা তার চিবুক উঁচিয়ে কপালে একের পর এক চুমু এঁকে দিলেন।

“তোকে ছাড়া এই বাড়িটা একদম শ্মশান হয়ে গিয়েছিল রে মা। তুই ভালো আছিস তো? ওই মানুষটা... রিভেন তোকে কোনো কষ্ট দেয়নি তো?”

​রোজেলিয়া চোখের পানি মুছে একটু হাসার চেষ্টা করল।

“না আম্মু, আমি ভালো আছি। রিভেন আমাকে আজ নামিয়ে দিয়ে গেল। চলো, ভেতরে চলো।”

​রোজেলিয়া ঘরে পা রাখতেই যেন স্মৃতির মেলা বসে গেল। সেই পুরোনো সোফা, দেয়ালে টাঙানো তাদের ফ্যামিলি ফটো, আর কোণায় রাখা তার প্রিয় ফুলদানি সবকিছু ঠিক আগের মতোই আছে। কিন্তু ঘরের আবহাওয়ায় যেন একটা নতুন সচ্ছলতার ছাপ।

​“বাবা কোথায় আম্মু?”

সে কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল।

​মা দরজা বন্ধ করতে করতে তৃপ্তির হাসি হাসলেন।

“তোর বাবা অফিসে গিয়েছে মা।”

​রোজেলিয়া অবাক হয়ে বলল,

“অফিসে? বাবা হঠাৎ অফিস পেলেন কোথায়?”

​মা তার পাশে সোফায় বসে হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিলেন।

“রিভেনের অফিসে মা। রিভেন নিজের অফিসে তোর বাবার জন্য একটা বড় পজিশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের এই বাড়িটা সারিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সব কিছুর খরচ এখন সেই দিচ্ছে। রিভেন দেখতে যেমনই হোক, আমাদের অনেক যত্ন নিচ্ছে রে।”

​রোজেলিয়ার চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল।

​রোজেলিয়ার মা আবার আদুরে গলায় বললেন, “তুই আজ খাবি কী বল? তোর প্রিয় সব রান্না করব আজ।”

​রোজেলিয়া মায়ের কাঁধে মাথা রেখে শৈশবের সেই হারানো নিরাপত্তা অনুভব করতে লাগল।

To be continue,,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন