ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

১৫তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স (paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক

পর্ব ১৫

(কপি করা সম্পূর্ন নিষেধ ❌)

রিভেনের অন্ধকার গম্ভীর ম্যানশনের করিডোরে সকালের আলো ঠিকঠাক পৌঁছায় না।দেয়ালের সোনালি স্কনসগুলো অল্প হলুদ আলো ছড়িয়ে রেখেছে ।যার নিচ দিয়ে হাঁটছে সাইলাস ডুয়েন।কালো শার্টে মোড়া, ছয় ফুট লম্বা সেই ঠাণ্ডা স্বভাবের মানুষটা।গলার কাছে অল্প খোলা বোতাম,হাতের শিরাগুলো দৃশ্যমান,আর কব্জির ওপর স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে পাখির ডানার ট্যাটু,যেটা সাইলাসের নীরব উগ্রতা আরও বাড়িয়ে তোলে।ডার্ক ব্রাউন চুলগুলো হালকা এলোমেলো,চোয়াল তীক্ষ্ণ, চোখ দুটো বরফশীতল ধূসর যেন কোনোরকম আবেগ দেখানোর অনুমতি নেই তার।

হাতে একটা ফাইল।তার বুটের ধাতব হালকা কড়মড় শব্দ করিডোরের নীরবতা ভেদ করে রিভেনের অফিসের দিকে মোড় নিতেই ঠিক তখনই ধাক্কা।এতটাই হঠাৎ যে দু’জনেই নিজেদের সামলে উঠতে পারেনি।সাইলাসের বুকের সাথে কারো মাথা ঠেকে যায়, আর ফাইলটা হাত থেকে ছিটকে পড়ে।একই সাথে চায়ের ট্রে ঠকঠক শব্দ করে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে।গরম চা ছিটকে যায় মার্বেল ফ্লোরে। সাইলাস আর সে মেয়ে দু’জনেই ফ্লোরে পড়ে যায়।সাইলাস মেঝেতে পড়ে থাকা মেয়েটির দিকে তাকাল। তার ধূসর চোখে বিরক্তির ধারালো ঝিলিক। চোয়াল শক্ত করে সে গর্জে উঠল,

“চোখে দেখো না, মেয়ে? নাকি অন্ধ হওয়ার ভান করছ?”

মেয়েটি মুখ তুলে তাকাতেই সাইলাসের চোখের মণি এক পলকের জন্য স্থির হয়ে গেল। মেয়েটির অ্যাম্বার চোখ । ঢেউ খেলানো ডার্ক ব্রাউন চুল আর ফর্সা ত্বকে কালো-সাদা মেইড ইউনিফর্মটি তাকে আলাদা এক দীপ্তি দিয়েছে। সে রিভেনের বাড়িতে নতুন মেইড, নাইলা।

নাইলা সোজা হয়ে বসল। চোখে এক বিন্দু ভয় নেই, বরং তীব্র জেদ নিয়ে বলল,

“নিজের দোষটা আগে খুঁজে পাও না? আমি তো ট্রে নিয়ে আমার মতো হাঁটছিলাম।তুমিই তো হঠাৎ কোন দিক থেকে প্রলয়ের মতো এসে আমাকে ধাক্কা মারলে "

সাইলাস থমকে গেল। এর আগে কেউ কখনো তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস দেখায়নি। সে উঠে দাঁড়িয়ে তার পূর্ণ উচ্চতা নিয়ে নাইলার ওপর ছায়া ফেলল।

“তুমি কি বুঝতে পারছো তুমি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছো? তোমার চাকরি এক সেকেন্ডে হাওয়া হয়ে যেতে পারে।”

নাইলা বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে উঠে দাঁড়াল। সাইলাসের বিশাল দেহের সামনে নিজেকে খুব ছোট মনে হলেও তার আত্মবিশ্বাস ছিল আকাশছোঁয়া। সে কাঁধ উঁচিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,

“একজন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যে কি না সামনের দিকে না তাকিয়েই চোখ পকেটে নিয়ে হাঁটে আর দোষ চাপায় অন্যদের ওপর।তুমি বডিগার্ড না কি কোনো অন্ধ ফিলোসফার?”

করিডোরে এক হিমশীতল নীরবতা নেমে এল। সাইলাস ধীরে ধীরে ঝুঁকে নাইলার মুখের খুব কাছাকাছি এল। তার শরীরের সেই কড়া পারফিউম আর পৌরুষদীপ্ত উত্তাপ নাইলার চারপাশটা ঘিরে ফেলল। সাইলাস ফিসফিস করে বলল,

“তোমার জিভটা বেশি লম্বা। একজন সামান্য মেইড হয়ে নিজের সীমানাটা ভুলে যাচ্ছো "

নাইলা এক চুলও পিছাল না। তার অ্যাম্বার চোখ দুটো সরাসরি সাইলাসের ধূসর চোখে বিদ্ধ করে বলল,

“সীমাটা মনে হয় আগে তুমি ভুলেছো। সামনে তাকানোর ভদ্রতাটুকু কি মাফিয়াদের ট্রেনিংয়ে শেখানো হয় না?”

সাইলাসের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। বছরের পর বছর কেউ তাকে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেনি। সে নাইলার চোখে চোখ রেখে চাপাস্বরে বলল,

“আমার সামনে এভাবে কথা বলে বেশিদিন এই বাড়িতে টিকতে পারবে না। আমি চাইলে এখনই তোমাকে বের করে দিতে পারি।”

নাইলা আলতো করে নিজের হাতের ধুলো ঝাড়ল, তারপর ঠোঁটে এক বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল,

“হ্যাঁ হ্যাঁ, জানি তো! আপনারা যারা বড় বড় ইগো নিয়ে ঘোরেন, তাদের একমাত্র অস্ত্রই তো হলো চাকরি খাওয়া আর মিষ্টি করে রাগ দেখানো।”

সাইলাস এবার সত্যিই থতমত খেয়ে গেল। “মিষ্টি করে রাগ? আমি?”

নাইলা এবার হাসল। এক মায়াবী ঝিলিক তার মুখে খেলে গেল। সে সাইলাসের গম্ভীর ভঙ্গিটা নকল করে চোখ বড় বড় করে দেখিয়ে বলল,

“হুম! রাগ করেন ঠিকই, কিন্তু চোখ দুটো এমন গোল গোল হয়ে যায় যে মনে হয় কোনো বিড়ালছানা বাঘ সাজার চেষ্টা করছে!”

সাইলাস হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

“তুমি... তুমি একটা ভয়ংকর মেয়ে।”

নাইলা গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে বলল,

“আর তুমি একজন ভয়ংকর দোষ-দেওয়া-রোগী। এখন পথ ছাড়বে? নাকি আবার ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে শোয়ানোর প্ল্যান আছে?”

সাইলাস অনিচ্ছাসত্ত্বেও সরে দাঁড়াল। নাইলা হনহন করে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগল। সাইলাস পেছন থেকে বলে উঠল,

“পরের বার যদি কেউ আছড়ে পড়ে, তবে নিশ্চিত করো সেটা যেন তুমি না হও।”

নাইলা না থেমেই ঘাাড় ঘুরিয়ে এক পলক তাকাল।

“আর যদি তুমি আছড়ে পড়ে? এরকম ইগো ওয়ালা মানুষদের আবার পদে পদে আছাড় খেতে হয়”

নাইলা চলে যাওয়ার পর সাইলাস দীর্ঘক্ষণ করিডোরে দাঁড়িয়ে রইল। তার মুখে বিরক্তির ছায়া থাকলেও ধূসর চোখে এক ধরণের মুগ্ধতা আর amusement ফুটে উঠেছে।

____________

বিকেলের ম্লান রোদ বারান্দার মেঝেতে লম্বা ছায়া ফেলে রেখেছে। বাতাসে ভেসে আসা বাগানের ফুলের মিষ্টি গন্ধ আর শান্ত আবহাওয়াটা রোজেলিয়াকে বারবার প্যারিসের সেই মায়াবী দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ঠিক যেখান থেকে রিভেনের সাথে তার তিক্ত সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছিল।

​রোজেলিয়া নিঃশব্দে রেলিং ধরে বসে আছে। মনে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা মাত্র দুই দিন বাবার বাড়িতে শান্তিতে থাকার পর রিভেন তাকে একরকম জোর করে আবার নিজের বাড়িতপ ফিরিয়ে এনেছে। রিভেনের অধিকারবোধ যেন এক অদৃশ্য শেকল, যা রোজেলিয়াকে এক মুহূর্তের জন্যও তার চোখের আড়াল হতে দেয় না। ঠিক তখনই নীরবতা ভেঙে নাইলার নরম কণ্ঠ ভেসে এল।

​“ম্যাম, আসতে পারি?”

​রোজেলিয়া মাথা ঘুরিয়ে দেখল নাইলা হাতে একটা কাঁচের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গ্লাসের ভেতরের গাঢ় লাল রসটুকু রোদে রুবির মতো ঝলমল করছে।

​“হ্যাঁ নাইলা, আসো। ওটা কী?”

​নাইলা মিষ্টি করে হেসে বলল,

“আভা আপুর কাছে শুনেছি আপনি নাকি ডালিম খুব পছন্দ করেন। তাই নিজের হাতে আপনার জন্য এক গ্লাস জুস বানিয়ে আনলাম। এটা খেলে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে।”

​রোজেলিয়ার ঠোঁটে এক চিলতে লাজুক হাসি ফুটে উঠল।

“অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে। সত্যিই আমার খুব তৃষ্ণা পেয়েছিল।”

​জুসে চুমুক দিতেই এক প্রশান্তি তার বুক জুড়িয়ে দিল। নাইলাকে পাশে বসিয়ে রোজেলিয়া গল্প শুরু করল। নাইলা জানালো সে রোজেলিয়ার অনুপস্থিতিতেই এই বাড়িতে কাজ শুরু করেছে, কিন্তু সবার কাছে রোজেলিয়ার রূপ আর গুণের কথা অনেক শুনেছে।

​“সবাই বলে আপনি খুব শান্ত, ম্যাম। আর... স্যার আপনাকে নিয়ে খুব বেশি প্রোটেক্টিভ। আপনাকে এক মুহূর্ত চোখের আড়াল করলেই বসের মাথা গরম হয়ে যায়!”

নাইলা ফিসফিস করে বলতেই রোজেলিয়ার গাল দুটো লজ্জায় আপেলের মতো লাল হয়ে উঠল।

​ঠিক সেই মুহূর্তে বারান্দার প্রবেশপথে এক দীর্ঘ ছায়া পড়ল। রিভেন দাঁড়িয়ে আছে। তার পরনে কালো শার্ট, হাতা গোটানো,

​“কী হচ্ছে এখানে? কাজের ফাঁকে কি পরচর্চার আসর বসেছে?”

রিভেনের ভরাট কণ্ঠস্বর বারান্দার নীরবতা চূর্ণ করে দিল।

​রোজেলিয়া অপ্রস্তুত হয়ে গ্লাসটা নামিয়ে রাখল। নাইলা দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে বিদায় নিল। রিভেন ধীর পায়ে এগিয়ে এসে রোজেলিয়ার ঠিক পাশে বসল। তার শরীরের সেই কড়া ঘ্রাণ রোজেলিয়ার ইন্দ্রিয়গুলোকে আবার অবশ করে দিচ্ছে।

​রিভেন একদৃষ্টিতে রোজেলিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে হুট করে বলল,

“তোমার গালে কী হয়েছে, রোজ পেটাল? কোনো অসুখ হলো নাকি?”

​রোজেলিয়া অবাক হয়ে বলল,

“কই, কী হয়েছে? আমি তো ঠিক আছি।”

​রিভেন আরও কাছে ঝুঁকে এল, তার হ্যাজেল চোখ দুটো রোজেলিয়ার চোখে নিবদ্ধ।

“ wait are you blushing rose? এত ব্লাশ করছ কেন? আমার সামনে এলেই কি হার্টবিট বেড়ে যায়”

​রোজেলিয়া মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল,

“কই না তো... শুধু শুধু যা তা বলছেন!”

​রিভেন একটু শব্দ করে হাসল। তারপর রোজেলিয়ার একগুচ্ছ চুল কানের পেছনে গুজে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

“যাই হোক, কাজের কথায় আসি। তোমার বাবার বাড়ি থেকে কি সেই বিশেষ বইগুলো নিয়ে এসেছ? আমাদের কিন্তু একটা ডিল হয়েছিল, মনে আছে তো?”

​রোজেলিয়া আমতা আমতা করে বলল

, “না... ওগুলো ওখানেই আছে। তাড়াহুড়োয় আনা হয়নি।”

​রিভেন বাঁকা হাসল।

“জানতাম তুমি আনবে না। লজ্জা পাচ্ছ তো? আচ্ছা, কোনো সমস্যা নেই। আমি সাইলাসকে বলে দিয়েছি শহরের সবচেয়ে বড় বুকশপের The Most Darkest Romance বইগুলোর একটা লিস্ট তৈরি করতে। আজই আমরা লাইব্রেরিতে যাব এবং সেই লিস্ট অনুযায়ী সব বই কিনব।”

​রোজেলিয়া বিস্ময়ে আর লজ্জায় প্রায় চিৎকার করে উঠল, “কী! আপনি সাইলাসকে ডার্ক রোমান্স বইয়ের লিস্ট বানাতে বলেছেন? রিভেন, আপনার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? সাইলাস কী ভাববে!”

​রিভেন নির্বিকার ভঙ্গিতে রোজেলিয়ার কোমরে হাত জড়িয়ে নিজের কাছে টেনে নিল।

“সাইলাস আমার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, সে আমার সব মুড বোঝে। আর তাছাড়া, আমাদের ডিল অনুযায়ী ওই বইয়ের সিনগুলো তোমাকেই আমার সাথে রিক্রিয়েট করতে হবে। সো, আমি চাই বেস্ট কালেকশনটা আমাদের হাতে থাকুক।”

________________

বিশাল এক অন্ধকার ঘর, যেখানে বাতাসের প্রতিটি অণুতে মিশে আছে কড়া তামাক, দামী অ্যালকোহল আর ভ্যাপসা এক কামনার গন্ধ। ঘরের দেয়ালে কালো শেড, যা রুমের কৃত্রিম হলুদ আলোকে শুষে নিচ্ছে। রুমের ঠিক মাঝখানে একটা বিশাল রাজকীয় সোফায় আধশোয়া হয়ে বসে আছে এক পুরুষ ডেইগো মোরালেস।

​তার উন্মুক্ত প্রশস্ত বুক আর পেশীবহুল দুই হাত কালচে নকশার ট্যাটুতে ভরা। ঘাড়ের পেছনে খোদাই করা ঈগলের সেই বিশাল ডানা, যার মাঝে রক্তবর্ণে লেখা "FALCON। তার গাঢ় হ্যাজেল চোখ দুটো আগুনের মতো জ্বলছে, যাতে মিশে আছে এক আদিম হিংস্রতা। সোফার দুই পাশে বসে থাকা অর্ধনগ্ন মেয়েগুলো ডেইগোর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করে তাকে উত্তেজিত করার বৃথা চেষ্টা করছিল।

" Who is this girl on the picture master? "

​একটা মেয়ে ফিসফিস করে বলে ডেইগোর ঠোঁটের খুব কাছে মুখ নিয়ে আসতেই ডেইগোর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। এক ঝটকায় মেয়েটিকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিল সে। তার চোখে তখন ঘেন্না আর চরম বিরক্তি।

​“Don't dare to kiss me with your filthy lip and don’t fucking dare to look at her with those filthy eyes!”

ডেইগোর কণ্ঠস্বর ঘরের দেয়ালগুলোতে চাবুকের মতো আছড়ে পড়ল।

​মেয়েটি ভয় পেয়ে কাঁপতে কাঁপতে পিছু হটল। ডেইগো শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল,

“তোদের মতো নষ্ট রক্ত আমার শরীরের ছায়াটুকুও ডিজার্ভ করে না। You are just tools for temporary distraction, nothing more. Don't mistake my silence for affection.”

​পরক্ষণেই সে দু’হাত দিয়ে দরজার দিকে ইশারা করে গর্জে উঠল

“Get out! Get the hell out of my sight right now!”

​মাত্র দুই শব্দেই মেয়েগুলো আতঙ্কিত হয়ে তাদের কাপড় সামলে নিয়ে রুম থেকে একরকম পালিয়ে গেল। দরজা বন্ধ হতেই ডেইগো সোফায় হেলান দিয়ে বসল। সামনের টেবিলের অ্যালকোহল আর নেশার দ্রব্যগুলো তার কাছে আজ বড় তুচ্ছ মনে হচ্ছে। সে তার দামী লাইটারটা জ্বালিয়ে সিগারেটে একটা গভীর টান দিল। ধোঁয়াটা বুক ভরে টেনে নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ল।

​তার স্থির শিকারি দৃষ্টি এখন সামনে দেয়ালে টাঙানো সেই বিশাল অয়েল পেইন্টিংয়ের দিকে। ফ্রেমটা যেন আগুনের লেলিহান শিখা আর সেই আগুনের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক রহস্যময়ী তরুণী। তার চোখ, তার ঠোঁটের বাঁক সবকিছু ডেইগোর মস্তিষ্কে ড্রাগের চেয়েও বেশি নেশা ধরায়।

​ছবির দিকে তাকিয়ে ডেইগোর ঠোঁটে এক বিকৃত, আসক্ত হাসি ফুটে উঠল। সে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে নিচু গলায় বলল,

“You think you can run from me, Little Flame? তোমাকে পাওয়ার তৃষ্ণা আমার রক্তে মিশে গেছে। I don’t usually chase women, but for you... I can burn down the entire world.”

​সে থামল। সিগারেটের লাল আগুনের দিকে তাকিয়ে আবার বিড়বিড় করল,

“You’ve burned yourself into my skin.আমার প্রতিটা নিশ্বাসে আমি তোমার অস্তিত্ব অনুভব করি।”

​ডেইগোর দৃষ্টি আরও গাঢ় হলো, এক পৈশাচিক শান্ত ভাব তার চোখে। সে আঙুল দিয়ে ঘরের খোলা দরজার দিকে ইশারা করে বলল,

“One day... you’ll walk through that door on your own. এন্ড ইউ উইল বি মাইন। সেদিন আমি তোমাকে বাধ্য করব না বরং সেদিন তুমি আমার কাছে আসবে কারণ, You won’t know how to live without me anymore.”

​এক চিলতে পাগলামির ছায়া তার হাসিতে ঘরটাকে আরও অন্ধকার করে তুলল,

“Until then, I’ll wait. I already waited for you for a long time . What’s a little more time when obsession is the only thing keeping me alive?”

​ডেইগো এবার সোফা থেকে উঠে ছবির একদম কাছে গিয়ে দাঁড়াল। তার গরম নিঃশ্বাস ছবির ক্যানভাসে আছড়ে পড়ছে,

​“Run as far as you can, Little Flame. But remember, the faster you run, the harder you’ll burn when I finally catch you. You are my beautiful disaster, and I am your inevitable end. তোমার পালানোর প্রতিটি রাস্তা একদিন আমারই বিছানায় এসে শেষ হবে।”

To be continue,,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন