ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

১৬তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins)

#লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক

পর্ব ১৬

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

লাইব্রেরির ভেতরটা এক শান্ত গাম্ভীর্যে মোড়া। পুরোনো বইয়ের ঘ্রাণ আর হলুদ আলোর আভা চারদিকে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। রোজেলিয়া প্রতিটি তাকের সামনে দিয়ে ধীরপায়ে হাঁটছে। সে কখনও আঙুলের ডগা দিয়ে বইয়ের মলাটগুলো ছুঁয়ে যাচ্ছে আবার কখনও মাথা কাত করে শিরোনামগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। রিভেন তার থেকে মাত্র এক হাত দূরত্ব বজায় রেখে ছায়ার মতো পাশে হাঁটছে আর তার ঠিক দুই কদম পেছনে সাইলাস মূর্তির মতো অনুসরণ করছে।

​হঠাৎ রোজেলিয়া হুট করে তিন-চারটি বেশ ভারী বই টেনে নিয়ে রিভেনের বুকের ওপর ঠেলে দিল। রিভেন হকচকিয়ে গিয়ে সেগুলো জাপটে ধরল।

​“এগুলো ধরুন। আমার হাত ব্যথা করছে,”

রোজেলিয়া বেশ হুকুমের সুরে বলল।

​রিভেন এক মুহূর্ত নিজের হাতের বইগুলোর দিকে তাকাল, তারপর ভ্রু কুঁচকে রোজেলিয়ার দিকে ফিরে চাইল। তার কণ্ঠে এক ধরণের অভিজাত বিরক্তি,

“রোজ... তুমি কি সত্যিই আমাকে এভাবে সাধারণ কুলি-মজুরের মতো বই ধরতে বলছো? Do you even realize who I am?”

​রোজেলিয়া ঠোঁট উল্টে নির্লজ্জের মতো হাসল।

“হ্যাঁ, বলছি। কেন? সমস্যা আছে কোনো? বই ধরা কি আপনার স্ট্যাটাসের বাইরে?”

​রিভেন অস্বস্তিতে এদিক-ওদিক তাকাল। লাইব্রেরিতে খুব বেশি মানুষ নেই, যারা আছে তারা নিজ নিজ বইয়ে মগ্ন। সে নিচু গলায় রোজেলিয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল,

“একজন মাফিয়া ডনের হাতে এভাবে বই ধরানো কি মানায়? কেউ দেখলে আমার ইমেজের বারোটা বেজে যাবে।”

​রোজেলিয়া এক পলক রিভেনের সেই গম্ভীর মাফিয়া চেহারার দিকে তাকিয়ে চোখ মারল।

“আচ্ছা? আপনাকে কি কেউ এখানে চেনে নাকি? আপনি কি নিজেকে খুব বড় কোনো সেলিব্রিটি ভাবেন?wait”

​বলেই সে উত্তরের অপেক্ষা না করে পাশের তাক থেকে বই খুঁজতে থাকা এক মধ্যবয়স্কা মহিলাকে ডেকে বসল,

“এক্সকিউজ মি, ম্যাম...Do you khow him?”

​মহিলাটি চশমার ওপর দিয়ে রিভেনের তীক্ষ্ণ আর ধারালো চেহারার দিকে কয়েক সেকেন্ড স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। রিভেন তখন তার চোয়াল শক্ত করে এক ধরণের খুনি দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে আছে। মহিলাটি মাথা নেড়ে ঠান্ডা স্বরে বললেন,

“No. Never seen him before why is he a star or something? "

​মহিলাটি চলে যেতেই রোজেলিয়া রিভেনের দিকে ফিরে এক বিজয়ী হাসি দিল।

“শুনলেন তো? আপনাকে কেউ চেনে না। সো, এবার ডন গিরি বাদ দিয়ে আমার বইগুলো ধরুন এবং চলুন পরের তাকে যাই!”

​রিভেন রাগে গজগজ করতে করতে বইগুলো এক ঝটকায় পেছনে থাকা সাইলাসের দিকে বাড়িয়ে দিল। সাইলাস একটি টু শব্দ পর্যন্ত করল না কোনো বিকার ছাড়াই সে গাদা গাদা বই বুকে আগলে নিয়ে তাদের পেছনে হাঁটছে।

​সময় গড়িয়ে গেল। রোজেলিয়ার বই কেনার তৃষ্ণা যেন মিটছেই না। ইতিমধ্যে রিভেনের হাতে সাত-আটটি এবং সাইলাসের হাতে পাহাড়সম বই জমা হয়ে গেছে। রিভেনের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে সে স্পষ্টত ক্লান্ত এবং বিরক্ত। সাইলাস নির্লিপ্ত থাকলেও তার কপালে হালকা ঘামের রেখা।

রোজেলিয়া আরেকদম সামনে গিয়ে। বাকানো তাকের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন একটা বই তুলছে। ঠিক তখনই সে টের পায় কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে। হালকা ঘুরতেই দেখে একটি স্টাইলিশ ইতালিয়ান মেয়ে, যার সোনালি চুল উজ্জ্বল লাল লিপস্টিক যে কারো নজর কাড়বে, তাদের সামনে এসে দাঁড়াল। মেয়েটির চোখ দুটি রোজেলিয়ার ওপর নয়, বরং তার পেছনে থাকা দুই সুদর্শন শিকারির ওপর আটকে আছে

রোজেলিয়া ভ্রু তোলে।

“Uh… do you need anything?”

মেয়েটি সামান্য লজ্জার হাসি দেয়।রোজেলিয়া খেয়াল করে সে আসলে রোজেলিয়াকে নয়,রিভেন আর সাইলাসকে দেখছে চোখ বড় বড় করে।

“Wow… which one is yours?Can I get the other one’s number?”

রোজেলিয়া মুহূর্তে স্থির হয়ে যায়।তার চোখ স্লো-মোশন মতো ঘুরে যায় প্রথমে রিভেনের দিকে তারপর সাইলাসের দিকে যে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে একগাদা বই বুকে চেপে।রোজেলিয়া ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রাখে এবং মেয়েটির দিকে ঝুঁকে নরম গলায় বলে,

“Oh, sorry sweetheart… they both are unavailable.”

মেয়েটির চোখ পিটপিট।

“Not even the quiet tall one?”

তার দৃষ্টি স্পষ্টতই সাইলাসের ওপর আটকে আছে।

রোজেলিয়া নরম অথচ জোরালো সুরে বলে,

“Nope. Quiet one is lethal.And angry one"

“is mine.”

তারপর রোজেলিয়া মেয়েটার কাছে এগিয়ে গিয়ে। ফিসফিস করে বলে,

“Trust me… if you want to stay alive,don’t ask for any of their numbers.”

মেয়েটা এক সেকেন্ডের জন্য জমে যায় তার ফর্সা মুখটা মুহূর্তে ফ্যাকাসে।তারপর শব্দ না করেই দ্রুত পেছন ঘুরে সোজা হাটা ধরে।মেয়েটি পালিয়ে যেতেই আবার এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে লাইব্রেরির দীর্ঘ করিডোরে।

​রোজেলিয়া ঘুরে রিভেনের দিকে তাকাল।

“আপনারা এভাবে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছেন কেন? আগে কখনও মেয়ে দেখেননি?”

​সাইলাস প্রথমে চোখ সরিয়ে নিল। তার সেই রূঢ় আর ভরাট কণ্ঠে সে কেবল বলল,

“দ্যাট গার্ল ওয়াজ এননোয়িং। সময় নষ্ট করছিল।”

​রিভেন কোনো অভিব্যক্তি না পাল্টে ঠান্ডা গলায় যোগ করল,

“এন্ড শি ওয়াজ টু স্লো। সে যদি আর এক সেকেন্ড আমার দিকে ওইভাবে তাকিয়ে থাকত, তবে আমি হয়তো তার চোখের মণি উপড়ে নেওয়ার নির্দেশ দিতাম। দ্যাট ওয়াজ ডিসগাস্টিং।”

রোজেলিয়া চোখ বড় বড় করে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে রিভেনের দিকে তাকালো। এই দুই মানুষের ডিকশনারিতে দয়া বা ক্ষমা বলে কোনো শব্দ নেই। সে মাথা নেড়ে বিরবির করে বলল,

“আপনাদের দুজনেরই আসলে সিরিয়াস মেন্টাল থেরাপি দরকার। উফ! কী সব ভয়ংকর কথা অবলীলায় বলে ফেলেন!”

​রিভেন অবজ্ঞার সাথে কাঁধ ঝাঁকাল। সে তার হাতের বাকি বইগুলো সাইলাসের ওপর একরকম অনিচ্ছাসত্ত্বেও চাপিয়ে দিয়ে রোজেলিয়ার দিকে এগিয়ে এল। রোজেলিয়া পালানোর পথ খোঁজার আগেই রিভেন তাকে একটা তাকে হেলান দিয়ে দাঁড় করাল। সে এক হাত রোজেলিয়ার মাথার পাশে তাকে ঠেকিয়ে দিয়ে তার সেই তীক্ষ্ণ হ্যাজেল চোখ রোজেলিয়ার চোখের গভীরে স্থির করল।

​“So… Angry one is yours hmm? জনসমক্ষে তো বেশ মালিকানা দাবি করলে, রোজ পেটাল!”

রিভেনের কণ্ঠে এক ধরণের মদির বিজয়োল্লাস।

​রোজেলিয়া চোখের পলক ফেলে নিজেকে সামলাতে চাইল, কিন্তু তার গাল অবাধ্যভাবে লাল হতে শুরু করল। সে আমতা আমতা করে বলল,

“আমি... আমি তো স্রেফ সত্য কথাটাই বলেছি। ওই মেয়েটা খুব বিরক্ত করছিল।”

​রিভেনের ঠোঁটের কোণে সেই ধীর, পৈশাচিক হাসিটা ফুটে উঠল যা রোজেলিয়ার হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। সে আরও ঝুঁকে এসে বলল,

“আর Quiet one is lethal?"

​রোজেলিয়া মাথা নাড়ল।

“উনাকে দেখতেই তো ভয় লাগে। ওই চাহনি দেখলে মনে হয় রক্ত হিম হয়ে যাবে। আমি জাস্ট পরিস্থিতি সামলানোর জন্য ওটা বলেছিলাম।”

​ঠিক তখনই পেছন থেকে সাইলাসের কড়া আর কর্কশ কণ্ঠস্বর ভেসে এল, “I heard that Mam"

​রিভেন আর রোজেলিয়া একই সাথে হেসে উঠল। রিভেন এবার একদম রোজেলিয়ার গালের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“ রোজ, তুমি একটু আগে যে Mine শব্দটা ব্যবহার করলে, সেটা বাস্তবে আমার ওপর সমানভাবে ইফেক্টিভ... বুঝলে। My ownership is permanent, and so is yours.”

​রোজেলিয়া লজ্জায় মুখ সরিয়ে নিল।

“স্টপ ইট রিভেন... এখানে মানুষ আছে, লাইব্রেরিয়ান তাকিয়ে আছেন!”

​রিভেন মৃদু হেসে বলল,

“মানুষ থাকলে কী হয়েছে? আমার স্ত্রী সবার সামনে আমাকে নিজের বলে দাবি করেছে, সো ফিরতি দাবিটাও তো আমার করা উচিত। By the way, তোমার ওই জেলাসি ভরা মুখটা দেখা কিন্তু বেশ এন্টারটেইনিং ছিল"

“আমি একটুও জেলাস হইনি!”

​“আর ইউ শিওর?”

রিভেন এক ভ্রু উঁচিয়ে তাকে চ্যালেঞ্জ করল।

​“হুম, একদম নিশ্চিত!”

​রিভেন হেসে উঠল সেই নীরব, গভীর এবং ডেঞ্জারাসলি অ্যামিউজড হাসি। সে আবার রোজেলিয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে সতর্ক করল,

“নেক্সট টাইম যদি কেউ আমার নম্বর চায়, তুমি শুধু বলবে ট্রাই ইট এবং আমার স্বামী তোমাকে জ্যান্ত কবর দেবে। ব্যাস, এটুকুই যথেষ্ট।”

​রোজেলিয়া কপালে হাত দিয়ে বলল,

“আমি জীবনেও এইসব ভয়ংকর কথা বলব না!”

​রিভেন হালকা মাথা কাত করে বলল,

“কেন? সত্য কথা বলতে আবার দ্বিধা কিসের?”

​ঠিক সেই মুহূর্তে সাইলাস পেছন থেকে অত্যন্ত গম্ভীর এবং ক্লান্ত সুরে বলল,

“বস, উইথ অল ডিউ রেসপেক্ট... Your back is fine কিন্তু আমার মেরুদণ্ড প্রায় ভেঙে যাওয়ার পথে। আই এম লিটারালি হোল্ডিং টুয়েন্টি হার্ডকভার বুকস!”

​“twenty, huh?”

রিভেনের গলা নিচু হয়ে এল, মুহূর্তেই সে তার পেশাদারী গাম্ভীর্যে ফিরে গেল।

“তুমি কি বলতে চাইছো... তুমি এই সামান্য কয়েকটা বই হাতে ধরেই মরে যাচ্ছো? সাইলাস ডুয়েন কি তবে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়ছে?”

​সাইলাস এবার সত্যিই মরিয়া। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“বস, এগুলো সামান্য নয়! এগুলো সব হার্ডকভার ক্রাইম এনসাইক্লোপিডিয়া! এই গাদা গাদা বইয়ের একেকটার ওজন আপনার ওই বিশাল ইগোর সমান!”

​বাতাস যেন এক সেকেন্ডের জন্য স্থির হয়ে গেল। রিভেন থেমে গেল। সে ধীরে, খুব ধীরে মাথা ঘুরিয়ে সাইলাসের দিকে তাকাল। তার হ্যাজেল চোখে এখন বরফশীতল উগ্রতা।

“রিপিট। দ্যাট। সাইলাস। প্রতিটি শব্দ যেন পরিষ্কার হয়।”

​সাইলাস দুই সেকেন্ড চুপ থাকল। সে বুঝতে পারল সে সীমার কিছুটা বাইরে চলে গেছে। সে ঢোক গিলে অত্যন্ত সতর্কভাবে সংশোধন করল,

“আই মিন... আপনার ইগোর চেয়ে সামান্য কিছুটা ছোট হতে পারে ওজনটা, বস। হয়তো।”

​রোজেলিয়া পাশে দাঁড়িয়ে হাসি আটকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। রিভেনের ইগো নিয়ে সাইলাসের এই মন্তব্যটি যেন আগুনের ওপর ঘি ঢেলে দিয়েছে।

​“...মাই ইগো, হাহ্?”

রিভেনের স্বর এখন এত নরম যে সেটা শুনেই রোজেলিয়ার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল। সে ধীর পায়ে সাইলাসের সামনে গিয়ে তার হাত থেকে একটা বই টেনে নিল। তারপর সাইলাসের চোখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“সাইলাস, আমার ইগো যদি সত্যিই এত ভারী হয়... তবে তোমার ওই মেরুদণ্ড তো অনেক আগেই গুঁড়ো হয়ে যাওয়ার কথা। দাঁড়িয়ে আছো কীভাবে?”

​সাইলাস শুকনো মুখে কোনোমতে হাসি ধরে রেখে বলল,

“স্যার... আই... strong will power”

​রিভেন আরও এক ধাপ এগিয়ে এল। তার কণ্ঠ এখন ধারালো ছুরির মতো,

“নেক্সট টাইম যখন আমার ইগোর সাথে ওজনের তুলনা করবে... তখন আগে নিজের ফাইল চেক করে নিও যে তোমার জীবনবিমা এখনো ভ্যালিড আছে কি না। কারণ পরেরবার হয়তো বই নয়, তোমার কফিনটাই অনেক বেশি ভারী হতে পারে।”

​রোজেলিয়া আর থাকতে না পেরে হাসিতে ফেটে পড়তে চাইল, কিন্তু রিভেনের কঠিন চাহনি দেখে মুখ চেপে নিজেকে কোনোমতে শান্ত করল

____________

সন্ধ্যার মায়াবী আঁধার তখন রিভেনের ম্যানশনের প্রতিটি কোণে জেঁকে বসেছে। ড্রয়িং রুমের ঝাড়বাতি থেকে ঝরে পড়া মৃদু আলোয় মেহরিন তার তিন ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শিলা, ক্যাথরিন এবং তানজিলার সাথে আড্ডায় মগ্ন। মেইডরা নিঃশব্দে ট্রের ওপর রুপোলি সিরামিকের পাত্রে চা পরিবেশন করছে।

​ঠিক তখনই দরজায় পদধ্বনি শোনা গেল। রিভেন আর রোজেলিয়া ঘরে প্রবেশ করল। মেহরিন চট করে সোফায় সোজা হয়ে বসে তাদের দিকে তাকাল,

“ওরা চলে এসেছে।”

​শিলা, ক্যাথরিন আর তানজিলা তিনজনেরই উৎসুক চোখ জোড়া দরজার দিকে স্থির হলো। রিভেনের পরনে ডার্ক গ্রে ক্যাজুয়াল শার্ট, হাতা গোটানো চোখে সেই চিরচেনা বরফশীতল আভিজাত্য। আর তার ঠিক পাশে রোজেলিয়া একগুচ্ছ শুভ্র রজনীগন্ধার মতো স্নিগ্ধ।

​শিলা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে উঠল, “রিভেন বাবা! কতদিন পর দেখলাম তোমাকে। কেমন আছো তুমি?”

​রিভেন অত্যন্ত মার্জিত ভঙ্গিতে মাথা নোয়ালো,

“ভালো আছি আন্টি। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন।”

​তানজিলা একটু চোখ টিপে হেসে যোগ করল,

“দিন দিন তো তুমি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছো রিভেন। যা সুদর্শন হয়েছো, সবাইকে তো পুরো টেনশনে ফেলে দিচ্ছে !”

​রোজেলিয়া না চাইতেও একটু হাসল। এই প্রশংসাগুলো রিভেনের কানে পৌঁছালেও তার অভিব্যক্তিতে কোনো পরিবর্তন নেই। এবার তিনজনের তীক্ষ্ণ নজর রোজেলিয়ার ওপর গিয়ে স্থির হলো। শিলা পরম মমতায় রোজেলিয়ার হাত ধরে মুগ্ধ স্বরে বলল,

“মেহরিন, এই বুঝি তোমার পুত্রবধূ? মাশাল্লাহ, মেয়েটি তো অপার্থিব সুন্দরী! তোমার নাম কী মা?”

​রোজেলিয়া সামান্য আড়ষ্ট হয়ে উত্তর দিল,

“জি... রোজেলিয়া।”

​“ভারী মিষ্টি নামতো একটা মিষ্টি মেয়ের। ঠিক যেন ফুটন্ত গোলাপ,”

​সবাই যখন প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ক্যাথরিন তখনো নীরব। সে তার চশমার ওপর দিয়ে রোজেলিয়াকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত এক ধরণের অবজ্ঞার দৃষ্টিতে মেপে নিচ্ছিল। রিভেন লক্ষ্য করল রোজেলিয়া অস্বস্তিতে তার নখ খুঁটছে। সে তৎক্ষণাৎ এগিয়ে এসে রোজেলিয়ার কব্জিটা আলতো কিন্তু দৃঢ়ভাবে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিল।

​“আন্টিরা, আমরা একটু ওপরে যাচ্ছি। মা, পরে কথা হবে,”

রোজেলিয়াকে নিয়ে সে দ্উপরে উঠে গেল।

​ওরা দৃষ্টির আড়ালে যেতেই ক্যাথরিন হাতে থাকা চায়ের কাপটা সশব্দে পিরিচে নামিয়ে রাখল। ঠোঁট বেঁকিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ফিসফিস করে বলল,

“মেয়েটার অ্যাটিটিউড দেখেছ? মেহরিন, ও কি নিজেকে এই বাড়ির মালিক ভেবে বসে আছে?”

​শিলা অবাক হয়ে চোখ কুঁচকাল,

“কী যা তা বলছো ক্যাথরিন? মেয়েটা তো বেশ ভদ্র আর শান্ত।”

​ক্যাথরিন আরও গম্ভীর হয়ে বলল,

“সত্যিই বলছি! চোখে-মুখে কেমন যেন এক ধরণের গর্ব। নিজেকে অনেক কিছু ভাবে মনে হচ্ছে। ওর চাউনিটা আমার একদম সুবিধের লাগেনি।”

​তানজিলা প্রতিবাদ করল,

“সে তো ঠিকমতো কথাই বলার সুযোগ পেল না! তোমার ধারণাটা একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে না?”

​ক্যাথরিন নাকে এক ধরণের তাচ্ছিল্যের শব্দ করে মেহরিনের দিকে তাকাল।

“চুপচাপ মানেই ভদ্রতা নয় মেহরিন। সত্যি বলতে, এই মেয়েটার চেয়ে তো আমার নাওমি অনেক বেশি সুন্দরী ছিল... আর এই বাড়ির আভিজাত্যের সাথে নাওমিই বেশি মানানসই হতো।”

​মেহরিন এতক্ষণ চুপচাপ বন্ধুদের কথা শুনছিলেন, কিন্তু ক্যাথরিনের শেষ কথাটায় তার চোখে এক কঠোর কাঠিন্য নেমে এল। সে অত্যন্ত নিচু কিন্তু তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,

“ক্যাথরিন, নিজের মেয়ের সাথে তুলনা করে রোজেলিয়াকে নিচু করার চেষ্টা কোরো না। নাওমি রিভেনের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু রোজেলিয়া রিভেনের স্ত্রী। পার্থক্যটা অনেক বড়।”

​ক্যাথরিন দমে না গিয়ে এবার আরও আক্রমণাত্মক সুরে বলল,

“আমি শুধু সাবধান করছি। আজকালকার মেয়েরা তো জানোই ছেলের প্রেমে অভিনয় করে গোল্ড ডিগারের মতো সম্পত্তির জন্য বিয়ে করে। শেষে সব লুট করে পালায়। মেহরিন, মেয়েটা আবার তেমনই কোনো ধান্ধাবাজ নয় তো?”

​রুমের আবহাওয়া মুহূর্তেই হিমাঙ্কে নেমে এল। মেহরিন ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। তার আভিজাত্যমাখা ব্যক্তিত্বে তখন এক ধরণের শাসন।

“ক্যাথরিন, তোমার মুখে এই কথাগুলো অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ। রোজেলিয়া এক অত্যন্ত সম্মানিত পরিবার থেকে এসেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, রিভেন তাকে নিজেই পছন্দ করে এই সম্মানের আসনে বসিয়েছে। আমার ছেলে খুশি মানেই আমি খুশি। আশা করি আর কখনো ওর চরিত্র নিয়ে এ ধরণের কুৎসিত মন্তব্য শুনব না।”

​ক্যাথরিন অপমানিত বোধ করে মুখ ফিরিয়ে নিল। তানজিলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত চায়ের পাত্রের দিকে ইশারা করল,

“চলো চলো, চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। এই পুরোনো কথা নিয়ে ঝগড়া করে লাভ নেই।”

​শিলা মাথা নেড়ে বিদ্রূপের সুরে ক্যাথরিনকে বলল,

“হ্যাঁ ক্যাথরিন, তোমার এই বদভ্যাসটা আর গেল না। সবাইকে নিজের মেয়ের পাল্লায় মাপতে যাওয়াটা সত্যিই অসুস্থতা।”

​ক্যাথরিন গম্ভীর মুখে চায়ে চুমুক দিলেও মনে মনে একরাশ তিক্ততা পুষে রাখল।

To be continue,,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন