ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

১৮তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins)

#লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক

পর্ব ১৮

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

সারা মেনশনটা অদ্ভুতভাবে নিশ্ছিদ্র নীরব। যেন পুরো বাড়ি এক গভীর, ভারী নিঃশ্বাস ধরে আছে। রিভেনের রুম গাঢ় থিমের, দামি কাঠের আসবাব, সবকিছু চকচকে পরিপাটি। রোজেলিয়ার চোখে বারবার লাগে রুমটা যেন প্রতিদিনই কেউ নিখুঁত যত্নে পরিষ্কার করে। কোনো ধুলো নেই, কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। শুধুই ঠান্ডা, অচেনা, ভয়ানক নিস্তব্ধতা।

ঘড়ির টিকটিক শব্দে রোজেলিয়ার বুকের ধকধকানি যেন আরও বেড়ে যাচ্ছিল। গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এক বিন্দু পানির জন্য তার প্রাণ ওষ্ঠাগত। সে বিছানার পাশের সাইড টেবিল হাতড়ে দেখল, কিন্তু কাঁচের জগটা একদম শূন্য। এক মুহূর্তের জন্য দ্বিধা তার মনে খেলা করল, রিভেন নিষেধ করেছিল ঘর থেকে বের হতে। কিন্তু তৃষ্ণার তীব্রতা তাকে বাধ্য করল। পানির বোতলটা হাতে নিয়ে সে খুব আস্তে দরজা খুলল।

​হলওয়েটা ম্লান নীলচে আলোয় ডুবে থাকা এক দীর্ঘ, অন্ধকার সুড়ঙ্গের মতো। সিঁড়ির প্রতিটা ধাপে পা রাখতেই রোজেলিয়ার মনে হচ্ছিল নিচে কোনো অতল গহ্বর তাকে গিলে নিতে চাইছে। প্রতিটা পায়ের শব্দ সেই নিস্তব্ধতায় অস্বাভাবিক জোরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ঠিক তখনই, একটি আধো-খোলা ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার কান খাড়া হয়ে গেল। ভেতর থেকে ভেসে আসছিল ভারী আর চাপা কণ্ঠস্বর।

​রোজেলিয়া পাথরের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। কৌতূহল আর ভয়ের এক অদ্ভুত মিশ্রণে সে দরজার সেই সামান্য ফাঁকটার কাছে এগিয়ে গেল। ভেতর থেকে ইভানো কারুসোর সেই হিমশীতল, গম্ভীর গলা ভেসে এল,

“তুমি আমাকে না জানিয়ে এত বড় সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলে?”

তার গলায় বিরক্তি, হতাশা, এবং দমে থাকা এক রাগ।এক মুহূর্ত নীরবতা,তারপর আবার,

“আর যেন এমন না হয়। তুমি আমার কাজ আরও কঠিন করে দিচ্ছ…সমস্যা দিন দিন বাড়িয়েই চলছ।”

আরেকজনের মৃদু, গম্ভীর, ভীত কণ্ঠস্বর শোনা যায়,কিন্তু কথাগুলো অস্পষ্ট। রোজেলিয়ার বুক হালকা ধুকপুক করে। সে আরও শোনার চেষ্টা করে,কিন্তু ইচ্ছে চাপা দেয়।

“অন্যের ব্যাপারে মাথা ঘামানো এখন আমার কাজ নয়।”

​ সে নিঃশব্দে পা টিপে টিপে ডাইনিং হলের দিকে নেমে গেল। অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হাওয়ার মতো ভেসে গিয়ে সে ফ্লাস্ক থেকে পানি ভরে নিল। তৃষ্ণার্ত গলায় কয়েক ঢোক পানি নামতেই যেন প্রাণ ফিরে পেল সে। কিন্তু ফেরার সময় আবার সেই রুমটার পাশ দিয়ে যেতেই তার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল।

​দরজার ভেতর থেকে ইভানোর গলা আবার ভেসে এল—গাঢ়, ভারী এবং এক ধরণের স্তব্ধ সংকল্পে ভরা। কিন্তু এবার রোজেলিয়া আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। সে প্রায় ঊর্ধ্বশ্বাসে নিজের রুমের দিকে ফিরে গেল

__________

সময় কেটে গেছে। রাত আরও গভীর।মেনশনটা যেন আগের থেকেও বেশি নীরব দেয়ালের গায়ে শীতল ছায়া লেগে আছে। রিভেন মেনশনে ঢোকে ধীর, ভারী পায়ে। আগের রক্ত-লাগা কুচকুচে কালো শার্ট নেই। তার বদলে পরিষ্কার, গাঢ় চারকোল শার্ট। চুলে হালকা ভেজা ঝিলিক যেন দ্রুত গোসল করে অন্ধকারটা ঝেড়ে ফেলেছে…কিন্তু চোখে সেই অন্ধকারই রয়ে গেছে। হলওয়ে পেরোবার সময় তার বুটের শব্দ। পুরো বাড়ির ভিতরে নিবিড় প্রতিধ্বনি বানায়। সে তার রুমের দিকেই চলছিল সোজা, ঠান্ডা, স্থির পায়ে হাঁটা। কিন্তু দরজার সামনে এসে হঠাৎই থেমে যায়। এক নিঃশ্বাস,এক ক্ষণিক দ্বিধা।তারপর সে ঘুরে দাঁড়ায় আরও ভেতরের দিকে হাঁটে।ধীরে ধীরে সে পৌঁছে যায় একটি পুরনো দরজার সামনে।

দরজাটা বছর ধরে কেউ ছোঁয়নি এমন শান্ত।রিভেন কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ।তারপর সে দরজাটা আস্তে ঠেলে খুলে ভেতরে ঢোকে।

ঘরটা আলতো অফ-হোয়াইট রঙের।যেন সূর্যের আলো এখানে বহু বছর বেঁচে থাকার চেষ্টা করেও অবশেষে হেরে গেছে।বাঁ পাশে ছোট্ট একটা বিছানা খুব সাধারণ, নরম ব্ল্যাঙ্কেট।ধুলো জমার কথা ছিল…

কিন্তু ঘরটা আশ্চর্যভাবে পরিষ্কার দেখে বোঝা যাচ্ছে ঘরটা প্রতিদিনই পরিষ্কার করা হয়।দেয়ালজুড়ে অসংখ্য ছবি ছোট ছোট ফ্রেম, বড় ফ্রেম, রঙিন, সাদা-কালো সবই এক অদ্ভুত উষ্ণতায় ভরা।হাসি, দৌড়, ছোট্ট হাত, ছোট্ট পায়ের ছাপ রিভেন ধীরে হাঁটে,ফ্রেমগুলোর সামনে এক এক করে থামে।তার হ্যাজেল চোখে অন্তহীন নীরব কষ্ট।ঘরের একপাশে সাজানো আছে পুতুল, ছোট্ট গাড়ি, কাঠের ব্লক বেবি টয়স।রিভেনের পা থেমে যায়।ক্যাবিনেটের ওপর রাখা ছোট্ট একটা ফ্রেম তার চোখে ধরা পড়ে।সে খুব ধীর পায়ে এগিয়ে যায়।ফ্রেমটা তুলে নেয়।ফ্রেমে তিনটি বাচচার ছবি। রিভেন খুব সাবধানে ছবিটার উপর আঙুল বোলায়। নিজের হ্যাজেল চোখ এক মুহূর্তের জন্য ভিজে ওঠে। তার ঠোটে হালকা হাসি ফুটে উঠে তারপর আবার তা মিলিয়ে যায়।

সে পুরো ঘরটা আরেকবার পর্যবেক্ষণ করে বের হতে নেয়।

দরজা খুলতেই,

সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইভানো কারুসো,এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে।বাবা আর ছেলে। চোখে চোখ রাখে।ইভানোর চোখে ক্লান্তি, অপরাধবোধ, অগণিত না-বলা কথা। কত কথাই না বলতে চাচ্ছে। কিন্তু গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছেনা।

রিভেনের চোখে শূন্যতা।এক মুহূর্ত…মাত্র এক মুহূর্তের জন্য। রিভেনের চোখের গভীরে পুরনো ক্ষতটা জেগে উঠতে চায়। কিন্তু সে তা হতে দেয় না।সে চোখ সরিয়ে নেয়।

একটাও কথা না বলে সে ইভানোর পাশ কাটিয়ে চলে যায়।ইভানো তার দিকে তাকিয়ে থাকে ।

____________

ঘরের ভেতরটা নরম হলুদ আলোয় ডুবে ছিল।রোজেলিয়া অস্থির পায়ে এক কোণ থেকে আরেক কোণে হাঁটছিল। মনের ভেতরের অশান্তিটা যেন দেয়ালে দেয়ালে ধাক্কা খাচ্ছিল। ঠিক তখনই দরজার শব্দে সে থমকে যায়। এক মুহূর্ত দেরি না করে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। দরজা খুলতেই,

রিভেন। কোনো কথা বলার আগেই রোজেলিয়া এক ঝটকায় তাকে জড়িয়ে ধরে। হঠাৎ, তীব্র,নিঃশ্বাসভরা এক আলিঙ্গন। রিভেন কয়েক সেকেন্ড নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকে। যেন শরীরটা ভুলে গেছে কিভাবে প্রতিক্রিয়া দিতে হয়।তারপর ধীরে ধীরে সে নিজেও হাত বাড়ায়। আর রোজেলিয়াকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে টেনে নেয়। রোজেলিয়ার কপাল এসে ঠেকে রিভেনের বুকের শক্ত পাঁজরে। রিভেন তার মাথাটা নিজের গলায় গুঁজে দেয়। একেবারে আড়াল করে রাখার ভঙ্গিতে। দুজনেই চুপ। শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ। দুটো আলাদা হৃদপিণ্ডএকই ছন্দে ধাক্কা খাচ্ছে কিছুক্ষণ পর রোজেলিয়া ফিসফিস করে বলে,

“আমার খুব চিন্তা হচ্ছিল…এক প্রকার অসস্তির মাঝেই সময় কাটাচ্ছিলাম।”

রিভেন কিছু বলে না। শুধু আলিঙ্গনটা আরও গভীর করে। রোজেলিয়া ধীরে মুখ তোলে। তার চোখ দুটো রিভেনের মুখ খোঁজে।

“মম কেমন আছে?বাড়িটা… খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?”

রিভেন চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নেয়। যেন ভেতরের আগুনটা আবার চেপে ধরছে।।তারপর চোখ খুলে ধীরে বলে,

“সব ঠিক আছে। মায়ের হাতে গুলি লেগেছিল ডাক্তার দেখে গেছে। এখন ভালো আছে।”

রোজেলিয়া দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস ছাড়ে কাঁধ থেকে যেন ভার নেমে যায়।

“খুব চিন্তায় ছিলাম, রিভেন…একটুও শান্তি পাচ্ছিলাম না।”

রিভেন তার হাত তুলে রোজেলিয়ার গালটা আলতো করে চেপে ধরে। আঙুলের স্পর্শে অদ্ভুত কোমলতা।তারপর সে রোজেলিয়ার কপালে গভীর একটা চুমু রাখে। এটা কোনো তাড়াহুড়োর চুমু নয়। এটা নিওরাপত্তার, আশ্বাসের। কিছুক্ষণ সেভাবেই থাকে।তারপর ধীরে সরে এসে নিচু, ভাঙা গলায় বলে,

“I need some relief, Rose.”

এই তিনটা শব্দে। রোজেলিয়া সব বুঝে নেয়।রিভেন তাকে কোলে তোলে,নিশ্চিত, শক্ত ভঙ্গিতে আর বিছানার ওপর শুইয়ে দেয়। ঘরটা আবার নীরব হয়ে যায়। কিন্তু এবার সেই নীরবতায় ভয় নেই।শুধু দুজন মানুষের নিঃশব্দ আশ্রয়।

কিছুক্ষণ পর নিরবতা ভেংগে রোজেলিয়া বলে,

"মম কি সত্যি ঠিক আছে?"

এমন এক মুহুর্তে রোজেলিয়ার থেকে এসব আসা করেনি রিভেন। সামান্য বিরক্ত হলো কিন্তু কিছু বললোনা। শুধু রোজেলিয়ার ঠোঁটে চুমু খেয়ে বললো,

"একদম ঠিক আছে। এখন চুপ থাকো, আমাকে বিরক্ত করোনা।"

এভার রিভেন নয় রোজেলিয়া রেগে গেলো। নিজের উপর থেকে রিভেন কে ধাক্কা মেরে উঠে বসলো। চোখ গরম করে রিভেন এর দিকে তাকিয়ে বললো,

"আমি বিরক্ত করছি আপনাকে? নাকি আপনি আমাকে বিরক্ত করছেন?"

রিভেন রেগে গেলো। এমন রোমান্টিক মুহুর্তে বাধা সে একদম সহ্য করতে পারলোনা। কিন্তু সে শান্ত থাকলো। কিছুক্ষণ রোজেলিয়ার দিকে তাকিয়ে উঠে চলে যেতে নেয় ওয়াশরুমের দিকে কিন্তু যেতে পারেনা। রোজেলিয়ার কথা শুনে আবার থেমে যায়।

"আপনি উত্তর না দিয়ে কোথায় যাচ্ছেন,বলুন। আমি আপনাকে বিরক্ত করছি?"

রিভেন আর সামনে আগায় না। পিছন ফিরে এসে রোজেলিয়াকে নিয়ে আবার বেডে শুয়ে পড়ে। তারপর রোজেলিয়ার কানের কাছে গিয়ে আস্তে করে বলে,

"হ্যা তুমি বিরক্ত করো আমাকে,,,"

আওয়াজ আরো নিচে নামিয়ে,

"ভীষণ বিরক্ত।"

এবার আর রোজেলিয়াকে কিছু বলার সুযোগ দিলোনা। রোজেলিয়ার ঠোঁট দুটো নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো।

________________

দরজায় কেউ নক করলো। নাইলা দাঁতে দাঁত চেপে কোনোমতে উঠে বসল। তার কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত সাদা ব্যান্ডেজে মোড়া, তবুও ভেতরে দপদপ করে সেই তপ্ত ব্যথার রেশ যেন কমছে না। পেইনকিলার খাওয়ার পরেও শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে এক অদ্ভুত যন্ত্রণার কম্পন।

সে কোনোমতে পা টেনে টেনে দরজার কাছে গিয়ে দরজাটা খুলল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে তার ভ্রু কুঁচকে গেল।

​সাইলাসকে দেখে মনে হচ্ছে সে কোনো অপরাধ করে ফেলেছে। তার লম্বা শরীরটা দরজার ফ্রেমে যেন বড্ড বেশি বেমানান। হাত দুটো পকেটে ঢুকাবে নাকি বাইরে রাখবে, সেটা নিয়ে সে চরম দ্বন্দ্বে। তার চোখেমুখে এক ধরণের নার্ভাসনেস।

​কিছুক্ষণ এক অস্বস্তিকর নীরবতা। নাইলা ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে আছে, আর সাইলাস ঠিক কোথায় চোখ রাখবে বুঝতে পারছে না। হঠাৎ করেই সে হাতটা হালকা তুলে আমতা আমতা করে বলে উঠল,

​“ওহ... হাই!”

​নাইলার বিরক্তি এবার আকাশ ছুঁলো। সে এক হাত দরজার পাল্লায় ঠেকিয়ে তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,

“এই মাঝরাতে তুমি আমাকে বিছানা থেকে তুলে এনেছো শুধু ‘হাই’ বলার জন্য? তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে?”

​সাইলাস যেন আক্ষরিক অর্থেই বোকা হয়ে গেল। সে কী বলতে এসেছিল, তার পুরো স্ক্রিপ্ট যেন মস্তিষ্ক থেকে উধাও হয়ে গেছে। সে আমতা আমতা করে এদিক-ওদিক তাকিয়ে তোতলাতে লাগল। ঠিক তখনই তার নজর পড়ল নাইলার ব্যান্ডেজ করা হাতের দিকে। মুহূর্তেই তার চাহনি গম্ভীর আর কিছুটা নরম হয়ে এল।

​গলা পরিষ্কার করে সে বললো,

“ আমি আসলে ওটা বলতে চাইনি। আমি জানতে চেয়েছিলাম তোমার হাতের ওই জখমটার অবস্থা এখন কেমন? ব্যথা কি এখনো খুব বেশি হচ্ছে?”

​সাইলাসের এই অগোছালো চাউনি আর তোতলামি দেখে নাইলার ভেতরের রাগটা জল হয়ে গেল। তার কেন যেন একটু হেসে ফেলতে ইচ্ছে করল, কিন্তু চেহারায় গাম্ভীর্য ধরে রেখে সে বলল, “

হ্যাঁ, আগের চেয়ে একটু বেটার। পেইনকিলার কাজ করছে হয়তো।”

​“ওহ... আচ্ছা। গুড। দ্যাটস... দ্যাটস রিলি গুড,”

সাইলাস যেন আর কোনো শব্দ খুঁজে পেল না। সে সেখানেই মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল।

​নাইলা এবার বিরক্ত হয়ে বলল,

“আর কিছু বলবে? না বললে আমি কি এখন গিয়ে একটু ঘুমাতে পারি?”

​সাইলাস মাথা নাড়ল। নাইলা ধীরে দরজাটা বন্ধ করে দিল। কিন্তু ঠিক দুই সেকেন্ড পর আবারও নক।

​নাইলা এবার চোখ উল্টে রাগে গজগজ করতে করতে দরজা খুলে চেঁচিয়ে উঠল,

“আবার কী? তুমি কি আজ আমাকে শান্তিতে মরতেও দেবে না?”

​সাইলাস এবার একটু ইতস্তত করে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল,

“আসলে... আমি তোমার নামটাই জানি না। মানে, প্রপারলি নামটা বলা হয়নি কখনো।”

​নাইলা এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে সাইলাসের চোখে চোখ রাখল। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“আমার নাম নাইলা। নাইলা রিচি। এবার কি তোমার নাম অনুসন্ধানের কাজ শেষ হয়েছে?”

​সাইলাস মনে মনে নামটা একবার আওড়াল।

“নাইলা রিচি... সুন্দর। নামের অর্থ কি ?”

​নাইলা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

“সব জায়গায় কি তোমার ফিলোসফি ঝাড়তে হবে?”

​সাইলাস মাথা নাড়তে নাড়তে চলে যেতে নিল। কিন্তু নাইলা হঠাৎ তাকে পেছন থেকে ডেকে উঠল,

“শুনো"

​সাইলাস থমকে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকাল। নাইলা একটু সময় নিয়ে ধীরস্থির কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,

"তোমার নামটা কি আমি জানতে পারি? ওই বডিগার্ড ছাড়া তোমার একটা ব্যক্তিগত নাম তো নিশ্চয়ই আছে?”

​সাইলাস এক সেকেন্ড থামল। অন্ধকার করিডোরে তার ধূসর চোখ দুটো এক মুহূর্তের জন্য জ্বলজ্বল করে উঠল। সে গম্ভীরভাবে উত্তর দিল,

​“সাইলাস। সাইলাস ডুয়েন।”

​দুজনের মাঝখানে আবার সেই রহস্যময় নীরবতা নেমে এল। নাইলা ধীরে দরজাটা বন্ধ করে দিল।

চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন