ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

২৩তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা #থ্রিলার #রোমান্টিক

পর্ব ২৩

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

রোজেলিয়া দৌড়ে বাইরে আসে দেখতে পায় আরোশ দাড়িয়ে আছে।পাশে রোকশানা তার সাথে কথা বলছে ।রোদে পোড়া গায়ের রঙ, মুখে হালকা খোঁচা খোঁচা দাড়ি, পরনে সাদা পাঞ্জাবি আর হাতে একটা কালো চাদর বাজ করে ধরা।

“আরোশ!”

রোজেলিয়া দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে।আরোশ ও কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে থাকে তারপর রোজেলিয়ার পিঠে হাত বুলিয়ে দেয় ।তারা দুজনই প্রায় সমবয়সী আর শৈশবের খেলার সাথী এককথায় একে অপরের ক্রাইম পার্টনার ।অনেক বছর পর তাদের আবার দেখা ।মাঝে মাঝে ফোনে যোগাযোগ হতো ।রোজেলিয়ার বাবার ব্যবসায়ীক কিছু সমস্যার পর তাদের আর বাংলাদেশে আসা হয়নি।

এদিকে রোজেলিয়ার পেছন পেছন এসেছিল রিভেন ।রোজেলিয়াকে অন্য একজন পুরুষের বুকে দেখে তার মুখ মুহূর্তে শক্ত হয়ে আছে। চোয়াল টানটান।

আরোশ রোজেলিয়াকে ছাড়িয়ে হেসে বলে,

“এইযে আমাদের লিয়া বি ।কি খবর তোর?”

রোজেলিয়া সঙ্গে সঙ্গে তার বাহুতে চাপড় মারে।

“এই নামটা ডাকবি না বলেছি কতবার ।বুড়ো হয়ে গেলি কিন্তু বদলাসনি এখনো!”

আরোশ বুক ফুলিয়ে বলে,

“হুম। আরোশ আরোশই থাকবে। বদলাবে না। তুইও লিয়া বিই থাকবি।”

নানি একটু হেসে বলে,

“আমার নাতনিডা এত বছর পর আইছে। এবার একটু শান্তি দে ওরে।”

আরোশ চোখ টিপে বলে,

“সে যত বছর পরই আসুক,আমার কিছু যায় আসে না । আমার কাছে লিয়াবি তো লিয়াবিইই।”

রোজেলিয়া আবার তাকে মারে।

“কোথায় ছিলি এতদিন?”

আরোশ গম্ভীর ভঙ্গি নেয়।

“দেশের কাজে। রাজনীতি করি তো। ইলেকশনের টাইম ঘুম নাই, খাওয়া নাই। দেশের ভবিষ্যৎ গড়তেছিলাম।”

মার্কো আর এনজো আরেকটা ঘরের সিঁড়ির পাশে বসে আছে ।গোসল করে আসায় দুজনের চুল থেকে পানি পড়ছে।মার্কো অন্যমনস্ক হয়ে কিছু ভাবছে আর এনজো কৌতুহল নিয়ে সব শুনছিল।এনজো পাশ থেকে ফিসফিস করে মার্কোকে বলে,

“Is he a politician?”

মার্কো একদমই পাত্তা দেয় না।সে আকাশের দিকে তাকিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

“Forget politician… there’s not even a single nightclub here,”

সে বিড়বিড় করে।

এনজো তাকায় তার দিকে।

“Seriously? That’s your concern?”

মার্কো নাটকীয় মুখ করে বলে,

“Bro…"

সে পকেট থেকে ফোন বের করে একটা ছবি দেখে হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।এনজো চোখ সরু করে তাকায়।

“Jessica?”

মার্কো কষ্টের ভঙ্গি নেয়।

“Don’t say her name… আমি এখনো ট্রমায় আছি।”

“তুই তো প্রতি সপ্তাহে নতুন ট্রমায় থাকিস।”

মার্কো বুক চাপড়ে বলে,

“She was different.”

এনজো শুকনো গলায় বলে,

“Last week তুই একই কথা বলেছিলি Sofia নিয়ে।”

মার্কো চুপ।দুই সেকেন্ড পর বলে,

“That was emotional confusion.”

সবাই নিজেদের মতো কথা বলছিলো এইদিকে রিভেনের চোখ স্থির হয়ে আছে আরোশের হাতের দিকে।এক হাত এখনো রোজেলিয়ার কাঁধে।তার রাগ ক্রমাগত বাড়ছিলো তাই সে কোনোমতে নিয়ন্ত্রিত কন্ঠে বলে,

“এখন কি আমার বউয়ের কাঁধ থেকে হাতটা সরানো যায়?”

চারপাশে এক মুহূর্তে নীরবতা।আরোশ ভ্রু তুলে রোজেলিয়ার পেছনে তাকায়, তারপর ধীরে হাত সরিয়ে নেয়।রোজেলিয়া পিছন ফিরে রিভেনের মুখ দেখে লজ্জা পায়।

আরোশ তখনই রিভেনকে লক্ষ্য করে ভ্রু কুঁচকে বলে,

"এইটা আবার কে?”

রোজেলিয়ার নানি গর্ব ভরে বলে ওঠেন,

“আমার নাতজামাই। আমার রোজেলিয়ার জামাই এইডা।”

আরোশ মাথা থেকে পা পর্যন্ত রিভেনকে স্ক্যান করে।বাদামী চেকের লুঙ্গি। সাদা টি-শার্ট।মুখ কঠিন হয়ে আছে।

আরোশ এগিয়ে এসে হাত বাড়ায়।

“আমি আরোশ। মামাতো ভাই।”

রিভেন হাত ধরে, চাপটা একটু বেশি শক্ত।

“রিভেন আরওয়াইন। Her husband.”

আরোশ হালকা হেসে হাত ছেড়ে দিয়ে আবার রোকসানার কাছে যায় আর রোজেলিয়াকে আস্তে করে বলে,

“এইটা কি রে? তোর জামাইয়ের চোখের রঙ এমন ক্যান?”

“ও হাফ ইতালিয়ান।”

"তাইতো বলি এতো ধলা ক্যান । হাত মিলাতে গিয়ে ধলা হাত দুইটা দেখে নিজেরে নিজ্ঞা লাগতেছে "

রোজেলিয়া হালকা হাসে আর বলে,

"উনি আমার থেকেও অনেকটা ফর্সা "

আরোশ মাথা ঘুরিয়ে আবার রিভেন কে দেখে ,

"তোর জামাই এমনে তাকায় আছে ক্যান যেনো চোখ দিয়েই আমারে মার্ডার করতেছে।

আরোশের চোখ থামে বাদামী চেকের লুঙ্গিতে।তার ঠোঁট বাঁকা হয়।

“প্রেমের জালে ফাঁসাইয়া বাংলাদেশে আনছস নাকি? আবার লুঙ্গিও দেখি পরাইছস!”

কথাটা আরোশ একটু জোরেই বলে তাই সবাই শুনতে পায়।রোজেলিয়ার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।সবাই একসাথে রিভেনের লুঙ্গির দিকে তাকায়।রিভেন নিজেও নিচে তাকায়।রোজেলিয়াকে পিছু করতে করতে সে বিষয়টা খেয়ালই করেনি ।তার কান লাল হয়ে ওঠে রাগে না লজ্জায় বোঝা যায় না।কোনো কথা না বলে সে ঘুরে দাঁড়ায়।দ্রুত পায়ে ঘরের ভেতর ঢুকে দরজা জোরে বন্ধ করে দেয়।রোজেলিয়া ঠোঁট কামড়ে হাসি চাপার চেষ্টা করে।উঠান ভরে যায় দম চেপে রাখা হাসিতে।

আরোশ ফিসফিস করে বলে,

“দেখছি, জামাই সাহেবের ইগোও হাফ ইতালিয়ান।”

রোকসানা বলে উঠে ,

"নাতজামাই এমন দৌড় দিল ক্যান ,লুঙ্গিতে তো হেরে ভালোই লাগতাছে।

রোজেলিয়া কপালে হাত দিয়ে বিড়বিড় করে

“হায় আল্লাহ…আজকে আমার কপালে শনি আছে”

বলেই রোজেলিয়া ঘরে ঢোকে।রোজেলিয়া দৌড়ে গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ায়।ভেতর থেকে দরজা লক করা ।তার বুক ধুকপুক করছে।বাইরে সবাই হাসছে আর ভেতরে কে জানে কী ঝড় জমছে।

সে কাঁপা হাতে দরজায় নক করে।

“রি–রিভেন…”

কোনো সাড়া নেই।আরো একবার নক করে।

এবার ভেতর থেকে ভারী পায়ের শব্দ শোনা যায়।

দরজা খুলতেই রিভেন এক টানে রোজেলিয়াকে ভেতরে টেনে নেয়।পেছন থেকে দরজা বন্ধ করে।

পরের মুহূর্তেই রোজেলিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিভেন তাকে দুই বাহুর মাঝে আটকে দেয়।পিঠ দরজায় লেগে যায়।তার মুখ খুব কাছে।

মুখে স্পষ্ট রাগ।চোয়াল শক্ত হয়ে আছে।চোখ দুটো অস্বাভাবিকভাবে স্থির।ঘরের ভেতর গরম, তবু তার দৃষ্টি বরফের মতো ঠান্ডা।

“Enjoyed the show?”

রোজেলিয়ার গলা শুকিয়ে যায়।

“আমি… আমি তো শুধু—”

“Only what?”

সে আরও কাছে ঝুঁকে আসে।

“তুমি আমাকে লুঙ্গি পরালে।

তারপর পুরো উঠান আমাকে দেখে হাসল।”

রোজেলিয়া নার্ভাসভাবে বলে,

“ওরা তো মজা করছিল…”

রিভেন ধীরে বলে,

“আমি মজা পছন্দ করি না, Rose. Especially when it’s about me.I hate this so fucking much”

তার হাত দরজার কাঠে চাপা।রোজেলিয়ার পিঠ ঠেকানো।দু’জনের নিঃশ্বাস একসাথে মিশে যাচ্ছে।

রোজেলিয়া ঢোক গিলে।

“র-রিভেন… I-I am sorry…”

কথাটা বলতে বলতেই তার চোখ নামিয়ে আসে।

রিভেনের শ্বাস ভারী।

“তুমি বুঝতে পারছো না, Rose. আমি এখানে already out of place.ভাষা আলাদা। মানুষ আলাদা। আবহাওয়া আলাদা।আর এখন আমি একটা বাদামী চেকের লুঙ্গিতে গ্রামের উঠানের কৌতুক।”

রোজেলিয়া ধীরে মুখ তোলে। চোখে অপরাধবোধ,

“আমি আপনাকে হাসির পাত্র বানাতে চাইনি… আমি শুধু ভেবেছিলাম আপনি আরাম পাবেন।তাছাড়া আপ..আপনিতো আমার পিছন পিছন দৌড়ে গেলেন এই বিষয়ে আপনার খেয়াল রাখার কথা ছিল ।এখানে আমার কী দোষ?"

রিভেন চুপ করে থাকে কয়েক সেকেন্ড।

তারপর সে ধীরে বলে,

“তোমার দোষ না?”

রোজেলিয়া মাথা নাড়ে,

“না…”

রিভেন একটু ঝুঁকে আসে।

“তাহলে উঠানে গিয়ে কার গলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলে?”

রোজেলিয়া চোখ বড় করে তাকায়।

“ওটা আমার মামাতো ভাই!”

“আমি জানি।”

তার গলা নিচু,

“তবু আমার বিষয়টা পছন্দ হয়নি।”

“কেন?”

“কারণ তোমাকে আমি ছাড়া কারও সাথে ক্লোজ হতে দেখলে আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি"

রোজেলিয়া থমকে যায়।তারপর নরম গলায় বলে,

“ও ছোটবেলার মানুষ, রিভেন।ছোট থেকেই সমবয়সী হওয়ায় প্রায় একসাথে চলাফেরা করেছি ও আমার জীবনের একটা অংশ।”

“আর আমি?”

রোজেলিয়া এক সেকেন্ড দেরি না করে বলে

“আ..আপনিও আমার জীবনের একটা অংশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

নীরবতা।ফ্যান ঘুরছে।গরম এখনো আছে।কিন্তু ঘরের ভেতর অন্য এক উত্তাপ।রিভেনের চোখের কঠোরতা একটু নরম হয়।সে হাত সরিয়ে নেয় দরজা থেকে।তার আঙুল এবার রোজেলিয়ার চিবুক ছুঁয়ে মুখটা ওপরে তোলে।

“আমি জানি সে তোমার ভাই,”

সে ধীরে বলে,

“কিন্তু তোমাকে এভাবে জড়িয়ে ধরতে দেখলে… I lose my temper.”

রোজেলিয়ার ঠোঁটে ছোট্ট হাসি ফুটে ওঠে।

“আপনি হিংসা করেন?”

রিভেন কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকে।

তারপর খুব সোজাসাপ্টাভাবে বলে,

“Yes.”

রোজেলিয়ার চোখে দুষ্টু ঝিলিক ফুটে উঠে,

“এত বড় মাফিয়া টাইপ মানুষ… জেলাস?”

“শুধু তোমার ব্যাপারে,”

রিভেন হঠাৎ ফিসফিস করে বলে,

“আর একটা কথা।”

“কি?”

“ও যখন বলল প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে এনেছো…”

সে ঠোঁটের কোণে হালকা পৈশাচিক হাসি,

“…সে ভুল বলেনি।”

রোজেলিয়া লজ্জায় মাথা নামায়।

“আমি কিছু করিনি…”

“করেছো।”

রিভেন আরও কাছে আসে।

“তুমি জানো না, কিন্তু করেছো।”

রিভেন তার হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকায়,

“প্রায় ৬ দিন ৫ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড তোমাকে চুমু খায়নি । অপেক্ষা করছিলাম নিজে থেকে কখন কাছে আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকেই ফার্স্ট মোভ নিতে হবে মনেহয়।”

রোজেলিয়ার নিঃশ্বাস আটকে যায়।

“রিভে—”

তার বাক্য শেষ হওয়ার আগেই রিভেন তাকে টেনে নেয়।রোজেলিয়াকে গভীর এক চুমু খায়।

তার ঠোঁট প্রথমে রাগী আর অধিকারী তারপর ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসে।রোজেলিয়ার পিঠ এখনো দরজায় ঠেকানো। তার আঙুল প্রথমে রিভেনের টি-শার্ট আঁকড়ে ধরে, যেন নিজেকে সামলাতে চাইছে। কয়েক সেকেন্ড পর সেই আঁকড়ে ধরা শক্ত হয়ে যায়।চুমুটা দীর্ঘ হয়।

রিভেন একটু সরে আসে। কপাল ঠেকিয়ে রাখে রোজেলিয়ার কপালে। দু’জনের নিঃশ্বাস ভারী।

“তুমি জানো,” সে নিচু গলায় বলে,

“ওর মুখে লিয়াবি নামটা শুনে আমার মাথা গরম হয়ে গেছিলো ।”

রোজেলিয়া হালকা হাসে।

“ও ছোটবেলা থেকেই ডাকে একসময় শুধু লিয়া ডাকতো বলতো আমার নামটা বড় ডাকতে অসুবিধে হয়।”

“সে যাই হোক ,শুধু আমি ডাকতে পারি তোমাকে এভাবে,”

রিভেন গম্ভীর মুখে বলে।

“কোনভাবে?”

“Rose. Rose petal. Or my wife.”

"আমাকে Rose petal কেন ডাকেন?”

রিভেন কিছু সেকেন্ড চুপ থাকে। তার দৃষ্টি নরম হয়ে আসে।সে আঙুল দিয়ে রোজেলিয়ার গাল ছুঁয়ে দেয়, খুব ধীরে।

"জানতে চাও?"

রোজেলিয়া মাথা নাড়ে ।রিভেন কিছুক্ষণ নীরব থাকে ।তারপর বলে ,

“সেদিন… প্রথম যেদিন তোমাকে দেখেছিলাম,”

তার কণ্ঠ গভীর,

“তোমার নাম শুনেই মাথায় একটা শব্দ এসেছিল Rose ।গোলাপ ।”

রোজেলিয়া নরম স্বরে বলে,

“গোলাপ?”

“হ্যাঁ। কিন্তু গোলাপের কাঁটা থাকে,”

রিভেন হালকা হেসে বলে,

“গোলাপ যতই সুন্দর হোক, তার কাঁটা মানুষকে আঘাত করে।”

সে একটু ঝুঁকে আসে। চোখ স্থির রোজেলিয়ার চোখে।

“কিন্তু তুমি…আলাদা খুবই আলাদা। মুখে একটা কমল, নিষ্পাপ ভাব, সেই হরিণী চোখজোড়া "

তার আঙুল এবার রোজেলিয়ার চুল সরিয়ে দেয় কানের পাশ থেকে।

“তুমি গোলাপের মতো সুন্দর ছিলে,কিন্তু কাঁটার মতো ধারালো না।তুমি ছিলে গোলাপের পাপড়ির মতো soft, fragile… delicate.”

রোজেলিয়ার চোখ ভিজে ওঠে সামান্য।

রিভেন খুব নিচু স্বরে বলে—

“তাই Rose না। Rose petal।”

এক মুহূর্ত নীরবতা।রোজেলিয়া ফিসফিস করে,

“আমি কি এখনো তেমনই আছি?”

রিভেন হালকা হেসে তার কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায়।

“হুম তুমি এখনো সেই প্রথম দিনের Rose petal।”

"কিন্তু যতই হোক গোলাপে কাটা থাকে ।আমি যদি কখনও আপনাকে আঘাত করি?"

রোজেলিয়ার কথা শুনে রিভেন কিছুক্ষণ স্থিরভাবে তাকিয়ে থাকে তারপর তার কপালে আরেকটা চুমু খেয়ে বলে,

“সেটা তুমি কখনোই করবে না। কারণ ভালোবাসা মানে শুধুই রঙিন ফুল নয়, কাঁটাও ভালোবাসার অংশ। আর আমি… আমি তোমার প্রতিটি কাঁটা, প্রতিটি ফাঁক, প্রতিটি নিঃশ্বাসের মধ্যে বিরহের মধ্যে ভালোবাসার স্বাদ খুঁজে পাই। তুমি জানো না, রোজ পেটাল… তুমি আমার জীবনের এমন এক কবিতা, যার প্রতিটি অক্ষর বেদনার মতো, প্রতিটি লাইন অপেক্ষার মতো। আর আমি… আমি সেই কবিতার পাঠক, যে যতই বিচ্ছিন্ন হোক, প্রতিটি শব্দে তোমার সৌন্দর্য খুঁজে পাই, প্রতিটি বেদনায় তোমার প্রতি অগাধ ভালোবাসা পোষণ করি।”

রোজেলিয়ার চোখ জ্বলজ্বল করতে থাকে। তার গাল লাল হয়ে আসে। রিভেনের শব্দগুলো, যেন বাতাসে ভাসা সুর, হৃদয়ের ভেতর গিয়ে স্থায়ী হয়ে যায়।রিভেন তার চোখে চোখ রেখে আবার বলে উঠে ,

“Longing, love, and you… these three are my universe, and you, Rose, are the brightest star among them. Forever mine.

রোজেলিয়ার চোখ থেকে পানি পড়তে শুরু করে, সে কিছু বলতে পারে না, শুধু চোখ বন্ধ করে রিভেনের চোখের গভীরতায় হারিয়ে যায়।

_______________

সাইলাস ,মার্কো আর এনজো রাস্তায় হাঁটছে। বিকেলের গরম একটু কমে এসেছে, কিন্তু এখনও ঘামের আর্দ্রতা শরীর জুড়ে লাগছে। মূলত মার্কোর কষ্ট নিয়ে, সাইলাস আর এনজো মাঝে মাঝে হেসে ছোটখাটো জোকস বানাচ্ছে।

হঠাৎ হাঁটতে হাঁটতে এনজো বলে,

“Look bro, এখানে রাস্তা পেরিয়ে শুধু গরু, ছাগল আর কুকুর ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। You better go and flirt with them!”

মার্কো চোখ বেলছে, আঙুল দিয়ে চুল টানার মতো ভঙ্গি করে,

“Shut up bro… I am literally losing my mind!”

সাইলাস শান্ত স্বরে বলে,

“ এখানে flirt করার মতো কেউ নেই, trust me…”

মার্কো হাত ছুড়ে দেয়, এমনভাবে যেন রাগে আঙুল দিয়ে চুল টানতে চাচ্ছে।

“Guys, I swear… আমি এখনই দৌড়ে Italy চলে যেতে চাই।”

সাইলাস আবার শান্ত গলায় বলে,

“Boss, তোমাকে আবার সেখানে থেকে ধরে এনে ২৪ ঘণ্টা পুকুরে চুবিয়ে রাখবে।”

এনজো মার্কোর দিকে তাকিয়ে বলে,

"এখানেতো নানির সাথে তোমার সময় ভালোই কাটছিল bro , হঠাৎ কী এমন হলো যে এরকম পাগলামি করছিস"

মার্কো দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ে আর বলে,

"ahh..Grandma is great but this boring environment isn’t "

"আর মাএ কিছুদিন ,খুব শীগ্রই আমরা ইতালি ফিরে যাবো আর আবারও কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বো..আমারতো এই vacation ভালোই লাগছে ইতালির ব্যস্ততা থেকে একটু মুক্তি। আর Boss এর secretary হিসেবে আমি সবসময় কাজের চাপের মধ্যে থাকি ,তাই আমার জন্য এই ব্রেক সত্যিই একধরনের মুক্তি।”

তারা তিনজন হেসে-গল্প করতে করতে হাঁটছিল। হঠাৎ চোখে পড়ে, রাস্তার মাঝে দুইটা কুকুর হুঙ্কার তুলে তাদের দিকে ছুটে আসছে।

এনজো একটু ভয় পেয়ে বলে,

“শুনেছিলাম বাংলাদেশি কুকুর কামড় দিলে rabies ও হতে পারে।”

সাইলাস চেচিয়ে ওঠে,

“What, bro? Run!”

মার্কোও তৎক্ষণাৎ পিছু হটে বলে,

“হ্যাঁ, দৌড়াও, দৌড়াও!”

তারা তিনজন একসাথে ছুটতে শুরু করে, রাস্তার পাশে থাকা খোলা মাঠে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দৌড়াতে দৌড়াতে কুকুরগুলো তাদের কাছে চলে এসেছিল আর সাথে আরও কয়েকটা কুকুর হঠাৎ করে হুঙ্কার দিতে দিতে যোগ হয়ে যায়।

এনজো, মার্কো, সাইলাস একজন একেক দিকে ছুটে যায়, যেন কেউই আরেকজনের দিকে তাকায় না। পেছনে কুকুরদের কর্কশ হুঙ্কার।

এনজো দৌড়াতে দৌড়াতে ক্ষেত পেড়িয়ে একটু উচু একটি বাড়ির আঙিনায় উঠে এলো ।

হাঁপাতে হাঁপাতে পেছনে তাকায় দেখে কুকুরগুলো আর নেই। তবে দূরে তাদের হুংকার ভেসে আসছে।এনজো দীর্ঘশ্বাস নেয়।সে একটা গাছের নিচে বসে পড়ে। বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। কপালে ঘাম।

“Crazy country…”

ফিসফিস করে বলে ।সে উঠে দাড়ায় আর একটি বাড়ি ল্ক্ষ্য করে । বাড়ির ওপাশ থেকে পানির শব্দ আসছে । সে ধীরে ধীরে এগোয়

।পুকুরের ধারে পৌঁছেই সে থেমে যায়। চোখে পড়লো একটি মেয়ে । বেগুনি রংয়ের একটি থ্রি পিস পড়া। ওরনা গায়ে জড়ানো মাথার অর্ধেক পর্যন্ত ওরনা দিয়ে ঘোমটা দেয়া ।

গাছের ফাঁক দিয়ে বিকেলের আলো এসে তার গালের ওপর নরম সোনালি আভা ফেলছে। সে ধীরে ধীরে হাত ধুচ্ছে, তারপর মুখে পানি ছিটাচ্ছে। পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে তার থুতনির নিচে।এনজো একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল বলে মেয়েটির শুধু সাইড প্রোফাইল দেখতে পাচ্ছিল। কিন্তু সেই অর্ধেক দৃশ্যই তার বুকের ভেতর কেমন যেন অচেনা টান তৈরি করে।

এনজো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।মেয়েটি পা ধৌত করার সময় হঠাৎ কোনো উপস্থিতি টের পেয়ে পাশ ঘুরতেই চোখে চোখ পড়ে যায়।এনজো যেন শ্বাস নিতে ভুলে যায়।

সম্পূর্ণ মুখটা এবার স্পষ্ট। একদম ফর্সা নয় বরং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। বড় কালো চোখ। গোলাপি ঠোঁট। ভেজা আঙুলে পানি ঝরছে এখনো।

মেয়েটি চমকে উঠে হালকা চিৎকার করে । তড়িঘড়ি করে ওড়না টেনে মুখ ঢাকে।

"কে আপনি ।এখানে কী করছেন "

এনজো সম্পূর্ণ হতভম্ব। হাত দুটো অকারণে উপরে তুলে ফেলে, যেন পুলিশ তাকে ধরেছে।

“আমি… কুকুর—”

মেয়েটি ভ্রু তোলে।

“কী বলছেন?”

এনজো গিলে ফেলে।

“মানে… কু..কুর chase করেছিল। Accidently… এখা.নে ঢুকে পড়েছি।”

তার বাংলা ভাঙা ভাঙা। উচ্চারণে বিদেশি টান।

মেয়েটি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। তার চোখে ভয় কমে গিয়ে কৌতূহল আসে,

"ও আচ্ছা ,এখন তাহলে এখান থেকে চলে যান"

এনজো মাথা নাড়ে। হাত দুটো এখনো উঠানো অবস্থায় । সে শিথিলভাবে হাত নামিয়ে পিছে ফিরে হাটা ধরে ।

মেয়েটি তাকে ডাক দিয়ে বলে ,

“এইযে..বাম দিকে।”

এনজো থামে। বাম দিকে ঘুরে তাকায়। মেয়েটি ইশারা করে দেয় সঠিক পথ। ধীরে ধীরে সে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে।হৃদস্পন্দন এখনো দ্রুত। বুকের ভেতর দুলছে। সে ফিসফিস করে নিজের সঙ্গে বলে,

“Seriously… Enzo…What was that?”

এনজো ধীরে ধীরে হাঁটতে থাকে।পেছনে ফেলে এসেছে বাড়িটা আর সেই মেয়েটি।কিন্তু আসলেই কি ফেলে এসেছে?

না।বারবার তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই মুখটা। বড় কালো চোখ। চমকে ওঠার মুহূর্তটা। ঘোমটা টেনে নেওয়ার ভঙ্গি।

সে থেমে যায় একবার।হালকা বাতাস আসে। কিন্তু তার ভেতরের অস্থিরতা কমে না।তার পুরো জীবন কেটে যাচ্ছে রিভেনের সাথে কাজ করতে করতে । মিশন, গুলি, লড়াই, পাহারা এসবের মাঝেই সময় গেছে। মেয়েদের দিকে তাকানোর সময় হয়নি কখনো। আগ্রহও হয়নি।

কিন্তু আজ,একটা অচেনা গ্রামের পুকুরঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা একটা মেয়ে তার মাথার ভেতর জায়গা করে নিল?এনজো নিজের কপালে হাত ঠেকায়।

“Focus, man…”

তবুও ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত একটা হাসি চলে আসে।

“But she was cute"

শব্দটা তার অজান্তেই বেরিয়ে যায়।

এদিকে সাইলাস কাঁচা রাস্তা ধরে হাঁটছে। চারদিকে অদ্ভুত নিরবতা। একটু আগে যেভাবে কুকুরগুলো তাড়া করেছিল তখন যে যেদিকে পারে ছুটেছিল।এখন না এনজো, না মার্কো কেউ চোখে পড়ছে না।সাইলাস বিরক্ত মুখে চারপাশ দেখছে।

“Unbelievable…”

হাঁটতে হাঁটতে সে শুকনো ধানক্ষেতের পাশ দিয়ে যায়। হঠাৎ তার চোখ পড়ে এক পাশে খানিকটা জায়গায় পানি জমে আছে। কাদামাখা নরম জমি।

আর ঠিক পাশেই বসে আছে মার্কো।গায়ে কাদা। প্যান্টে কাদা। চুলে কাদা।সে এমনভাবে বসে আছে যেন কেউ তার সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছে।

পুরো রোবটের মতো।সাইলাস দ্রুত এগিয়ে যায়।

“Marco!”

মার্কো ধীরে মাথা তোলে। চোখ ফাঁকা।

“Bro…”

সাইলাস তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।

"what on earth are you doing here ?"

মার্কো ধীরে বলে,

“I was running... and suddenly I fell into this mud…”

সে নিচের দিকে ইশারা করে।সাইলাস তাকিয়ে দেখে মার্কোর প্যান্টে আর শার্টে কাদা লেগে আছে। কাদার ছাপ কোমর পর্যন্ত উঠেছে।সাইলাস ঠোঁট চেপে হাসি আটকায় আর গম্ভীর গলায় বলে,

"jesus crist .marco! you look like a buffalo who just finished a luxury spa session "

"একদম ফাজলামি করবি না সাইলাস!one more word ,and i swear তোকে টেনে হিঁচড়ে এই কাদার মধ্যে নামাবো ।My expensive cloth is ruined !এটা শুধু কাদা না ,It's a personal attack from this village "

দুই সেকেন্ড চুপ।তারপর সাইলাস হালকা বাকা হেসে বলে,

“আরে চলো তো! Look at the bright side. অন্তত কুকুরগুলো তোকে তাড়া করা থামিয়েছে। Even they have standards—ওরা এই ‘কাদা-মানব’কে কামড়াবে না।”

মার্কো রাগে গজগজ করতে করতেবলে,

“Just shut up! আমি ফুল স্পিডে দৌড়াচ্ছিলাম, আর ঠিক তখনই… pfft. মাটির নিচে যেন পা ঢেবে গেল। Where is Enzo? ওই ব্যাটা নিশ্চয় আমাদের এই বিপদে ফেলে পালিয়েছে।”

এনজো? ও হয়তো অনেক সামনে চলে গেছে, তোমার মতো রাইস ফিল্ডে বসে রোবটের মতো মেডিটেশন করছে না। এবার ওঠো, ‘Your highness ’। এখান থেকে না সরলে তো এখানেই তোমার শিকড় গজিয়ে যাবে!”

মার্কো সাইলাসের হাত ধরে উঠতে উঠতে বলে,

“শোন, শহরে ফিরেই আমি আগে স্যানিটাইজার দিয়ে গোসল করব। I hate nature, ম্যান! বিশেষ করে এই প্যাচপ্যাচে কাদা!”

সাইলাস আর মার্কো হাঁটতে থাকে, কিন্তু চারপাশটা কেমন জানি অচেনা লাগছে। রাস্তার ধারের গাছপালা আর মাটির পথ সব একই রকম দেখতে।

সাইলাস হাত কপালে দিয়ে বলে ,

"Oh man!i think we are lost .সব রাস্তা একই রকম লাগছে। I don’t think we’re going the right way."

মার্কো বিরক্ত হয়ে বলে ,

"Great! Just great. First the dogs, then this mud, and now we are lost. আজকের দিনটাই cursed!"

"Wait, ওইদিকে চলো। আসার সময় ওখানে কয়েকটা দোকান দেখেছিলাম। Let’s ask someone and find our way back."

"Okay, let’s go"

মার্কো আর সায়লাস হাঁটতে হাঁটতে বাজারের ভেতর ঢোকে।

চারদিকে ছোট ছোট টিনের ছাউনি দেওয়া দোকান। কারও দোকানে বিস্কুটের কৌটা ঝুলছে, কোথাও ঝোলানো চিপসের প্যাকেট বাতাসে দুলছে। এক কোণায় চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে।

এই দিকটা আগের মতো নিরব না। লোকজন আছে, কিন্তু তাদের চোখ দুটো স্থির হয়ে যায়—সাদা চামড়ার দুই বিদেশি হেঁটে আসছে দেখে।

তার উপর মার্কোর গায়ে কাদা লেপা।

সায়লাস গম্ভীর মুখে এক দোকানের সামনে দাঁড়ায়।

“Excuse me.”

ভেতরে বসা কয়েকজন বয়স্ক লোক একে অপরের দিকে তাকায়।

তারপর একজন গলায় গামছা ঝুলানো বৃদ্ধ বলে ওঠে—

“কিছু কইতাছো বাবা?”

সায়লাস পুরোটা বোঝে না। তবুও আন্দাজ করে নেয়।

“Actually… আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি। বাড়ি ফিরতে চাই।”

বৃদ্ধ একটু কৌতূহলী চোখে দু’জনকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখে।

“তা কার বাড়িতে আইছো? বাড়ির নাম কইতে পারবা?কার মেহমান তোমরা?"

সাইলাস থমকে যায় আর নিচু স্বরে মার্কোর কানে ফিসফিস করে,

"Bro, বাড়ির নাম? Do you know the house name?"

"I also don’t know, bro! আমরা তো শুধু জানি ওটা একটা বড় বাড়ি। What to do now?"

দোকানের লোকগুলো আবার জিজ্ঞেস করল,

"কীগো ? বাড়ির বাম যানো না?"

সাইলাস আর মার্কো একে অপরের দিকে তাকিয়ে অসহায়ভাবে মাথা নাড়ল।

"না জানলে এখন যাইবা কেমনে? বাড়ির নাম না কইলে তো আমরা চিনতাম না। অন্তত বাড়ির কাউর নাম কও।"

সায়লাস এবার একটু বুঝতে পারে।

সে বলে,

“Wait… আপনারা রিভেন..রিভেন স্যার আর রোজেলিয়া ম্যাম কে চেনেন?”

লোকগুলো ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

"রিভেন কেডা? আর রোজেলিয়াই বা কেডা? এই নামে তো এই গেরামে কেউ নাই!"

মার্কো হাল ছেড়ে দিয়ে বলে,

“Bro… we are doomed.”

সায়লাস আর মার্কো এবার সত্যি চিন্তায় পড়ে গেল। তারা যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল।

“Guys!”

দুজনেই ঘুরে তাকায়। এনজো হাঁটতে হাঁটতে কাছে আসে।মার্কো প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে,

“Bro! Where were you? আমরা তোকে খুঁজছিলাম!”

এনজো কাঁধ ঝাঁকায়,

“I was… never mind. তোরা এখানে দাঁড়িয়ে কী করছিস?”

সাইলাস সব খুলে বলে।এনজো শোনে। তারপর একটু চিন্তা করে দোকানের লোকদের দিকে এগিয়ে যায়।রোজেলিয়া যখন তার মামাতো ভাইকে ডেকেছিল এনজো তখন সব খেয়াল করেছিল।সে লোকগুলোর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,

“আপনারা… আরিশ… না…politician i mean রাজনীতি করে আরোশকে চেনেন?”

নামটা শুনেই লোকগুলোর চেহারা বদলে গেল। তারা একগাল হেসে উঠল।

“আরোশ?"

“হ, হ! ওর বাড়িতে আইছো?”

“আগে কইবা না !”

একজন সঙ্গে সঙ্গে দোকানের দাঁড়িয়ে থাকা এক ছোট ছেলেকে ডাকে।

“এই রাকিব! এই ভাইগো আরোশের বাড়ি দিয়া আয়।”

ছেলেটা মাথা নাড়ে।

“আসেন।”

সাইলাস আর মার্কো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।মার্কো ফিসফিস করে বলে,

“Finally…”

তিনজন ছেলেটার পেছনে হাঁটা শুরু করে।পিছনে বাজারের লোকজন কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে থাকে। কেউ চাপা স্বরে বলে,

“বিদেশি মনে হয়।”

“দ্যাখ দ্যাখ, একজনের গায়ে কাদা!”

কিছু বাচ্চা দূর থেকে তাদের অনুসরণ করতে শুরু করে।হাসাহাসি করছে, কেউ ইংরেজি নকল করে বলছে,

“হ্যালো! হ্যালো!”

মার্কো নিচের দিকে তাকিয়ে নিজের কাদামাখা প্যান্ট দেখে মুখ বাঁকায়।

“Great. Now I’m a tourist attraction.”

এনজো ঠোঁট চেপে হাসে।

“At least তুই entertainment দিচ্ছিস।”

সাইলাস গম্ভীর মুখে হাঁটে, কিন্তু চোখে হালকা বিরক্তি।

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন