#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা
পর্ব ২৫
(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)
রাত।বাংলাদেশের গ্রামের আকাশে আধো চাঁদ ঝুলে আছে। দূরে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ। চারপাশে নরম অন্ধকার।সাইলাস উঠোনের এক কোণে দাঁড়িয়ে ফোন স্ক্রল করছিল।হঠাৎ তার চোখ থেমে যায়।স্ক্রিনে একটা ছবি।নায়লা।আর তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে জ্যাক রিভেনের আরেকজন বডিগার্ড।নায়লার ক্যাপশন,
“With my favorite person in very few time ”
সাইলাসের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।আঙুলের চাপ ফোনের স্ক্রিনে একটু বেশি পড়ে।সে সঙ্গে সঙ্গে কল করে।দুই রিংয়ের মাথায় নায়লা রিসিভ করে।
“হ্যালো?”
সাইলাসের গলা ঠান্ডা, কিন্তু ভিতরে আগুন,
“Nice picture.”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর হালকা হাসি,
“কোনটা?”
“Don’t act smart, Nyla.”
“ওহ… that one? Jack এর সাথে?”
সাইলাস দাঁত চেপে বলে,
“favorite person?
“হ্যাঁ। Problem?”
সাইলাস চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নেয়।
“Delete the picture.”
“Excuse me?”
“আমি বলেছি ডিলিট করো।”
“তুমি কে আমাকে অর্ডার দেওয়ার?”
সাইলাস এবার একটু কড়া স্বরে বলে,
“Jack এর সাথে এভাবে ছবি তোলার মানে কী?”
নায়লা থামে।তার গলায় এবার খোঁচা মেশানো শান্ত স্বর,
“মানে? সে আমার বন্ধু। ছবি তুলেছি। পোস্ট করেছি। সমস্যা ?”
“Caption টা বদলাও।”
“কেন? তোমার ইগোতে লাগছে?”
সাইলাস চুপ।এই চুপটাই তার স্বীকারোক্তি।
নায়লা ধীরে বলে,
“তুমি তো আমাকে বলেছিলে তুমি busy at work. Sir আর Ma’am কোথায় তাও বলোনি।
তাহলে আমি কার সাথে ছবি তুলবো সেটা নিয়ে তোমার এত মাথাব্যথা কেন?”
সাইলাসের উত্তরটা তৎক্ষণাৎ আসে না। ফোনের ওপাশে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর এপাশে ইতালির হালকা বাতাসের শব্দ দুই প্রান্তেই এক অদ্ভুত নীরবতা।সাইলাস লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল,
“Because I don’t like the way he looks at you.”
নায়লা স্তব্ধ হয়ে গেল। সাগরের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা তার পায়ের তলার বালু যেন সরে যাচ্ছে। সাইলাস কখনও এভাবে নিজের মনের কথা বলে না। সে সবসময় আড়াল পছন্দ করে, কাঠখোট্টা কথা বলে দেয়াল তুলে রাখে। আজ সেই দেয়ালে ফাটল ধরেছে।
নায়লা সামলে নিয়ে একটু বিদ্রূপের গলায় ফিসফিস করে বলল,
“সাইলাস? তুমি কি ড্রাঙ্ক? কীসব উল্টোপাল্টা বলছ তুমি?”
সাইলাস ফোনের ওপাশে একটা ম্লান হাসল, যে হাসি নায়লা দেখতে পেল না। সে উঠোনের এক কোণে রাখা একটা কাঠের টুলের ওপর বসল। অন্ধকারের মধ্যেও তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে।সে খুব শান্ত গলায় জবাব দিল,
“আমার কাছে এক বোতল আছে ঠিকই, কিন্তু এক ফোঁটাও গলায় নামাইনি। নেশা করার জন্য আমার মদের প্রয়োজন হয় না, নাইলা। তোমার ওই একটা ছবিই আমার রক্ত গরম করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।”
নায়লা এবার সত্যিই অবাক হলো। সাইলাসের এই স্বীকারোক্তি তার চেনা সাইলাসের সাথে মেলাতে পারছে না সে।
“তোমার হয়েছেটা কী আজ? তুমি তো কোনোদিন এভাবে কথা বলো না।সুযোগ পেলেই আমাকে অপমান করো আর অপচন্দ করো”
সাইলাস গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “অপছন্দ করি বলেই তো সহ্য করতে পারি না যখন অন্য কেউ তোমার অত কাছে দাঁড়ায়। জ্যাক লোকটা সুবিধের না, ওর চোখের দৃষ্টি আমি চিনি। আর তুমি... তুমি ইচ্ছা করে আমাকে জ্বালানোর জন্য ওর সাথে ওভাবে হেসে ছবি তুলেছ, তাই না?”
নাইলা চুপ করে রইল। তার বুকের ভেতরটা কেমন জানি ধক করে উঠল। সে আসলেই সাইলাসকে একটু ঈর্ষান্বিত করতে চেয়েছিল, কিন্তু সাইলাস যে এতটা সরাসরি সবটা বলে দেবে, সেটা সে ভাবেনি।
সাইলাস একটু সময় নিয়ে আবার বলল, তার কণ্ঠস্বর এখন সতর্কবাণীর মতো শোনাল,
“শোনো নাইলা, জ্যাক লোকটা একদম সুবিধের না। এই মাফিয়া ওয়ার্ল্ডের কাউকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না, কিন্তু ও একটু বেশিই নিচু মনের। ও সুযোগ পেলেই মেয়েদের ব্যবহার করে, আর কাজ ফুরিয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দিতে ওর এক সেকেন্ডও লাগে না।তাছাড়া জ্যাক বিবাহিত তার একটা বাচ্চা ও আছে কিন্তু তার খারাপ
স্বভাব আমি চাই না তুমি ওর কোনো নোংরা খেলার শিকার হও। তাই বলছি, ওর থেকে দূরে থাকাই তোমার জন্য ভালো।”
নাইলা এবার একটা লম্বা শ্বাস নিল। সাইলাসের এই প্রোটেক্টিভ স্বভাবটা তার ভালো লাগছে ঠিকই, কিন্তু সে তো আর সহজে হার মানার পাত্রী নয়। সে একটু কৌতুকের সুরে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিল,
“তাই নাকি? তাহলে তো দেখছি আপনার চোখে জগতের কোনো পুরুষই সুবিধের না। আচ্ছা মিস্টার সাইলাস, আপনি নিজেও কি খুব একটা সুবিধের? আপনিও কি ওই জ্যাকের মতো একজন ওম্যানাইজার? মানে... মেয়েদের সাথে আপনিও কি একই খেলা খেলেন?”
ফোনটা কানে ধরেই নাইলা বুঝতে পারল ওপাশে সাইলাসের মেজাজ মুহূর্তেই চড়ে গেছে।সাইলাসের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, সে প্রায় গর্জে উঠে বলল,
“কী বললে? ওম্যানাইজার? নাইলা, নিজের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছ তুমি। আমার ট্র্যাক রেকর্ড চেক করে দেখো, সারা জীবনে আমি একটা মেয়ের দিকে চোখ তুলে পর্যন্ত তাকাইনি। মেয়েদের পেছনে ঘোরার মতো ফালতু সময় আমার নেই!”
নাইলা এবার হাসল। এক চমৎকার জয়ের হাসি। সে খুব ধীরস্থিরে, মায়াবী গলায় বলল,
“ভুল বলেছো তুমি । একদম মিথ্যে কথা।”
সাইলাস ভ্রু কুঁচকে রেগে গিয়ে বলল,
“তার মানে? আমি কি এখন তোমার কাছে মিথ্যেবাদীও হয়ে গেলাম?”
“তা নয়,” নায়লা ফিসফিস করে বলল,
“আপনি বললেন আপনি কোনো মেয়ের দিকে কোনোদিন তাকাননি। তাহলে... আমার দিকে যে ওভাবে তাকালেন? সেদিন বৃষ্টির রাতে, আবার মাঝে মাঝে যখন আমি খেয়াল করি না, তখন কেন আপনার চোখ দুটো আমার ওপর আটকে থাকে? আমায় কি আপনার মেয়ে বলে মনে হয় না?
নাইলার ওই সরাসরি প্রশ্নটা যেন সাইলাসের ভেতরে এক মুহূর্তের জন্য ঝড় তুলে দিল। কিন্তু সে তো সাইলাস নিজের দুর্বলতা সে এত সহজে কারো হাতের মুঠোয় ছেড়ে দিতে রাজি নয়। ইতালির ওপাশ থেকে নাইলা যখন একটা রোমান্টিক স্বীকারোক্তির অপেক্ষায় ছিল, সাইলাস তখন তার সেই চিরচেনা রুক্ষ খোলসটা আবার পরে নিল।
সাইলাস একটা বাঁকা হাসি হেসে উত্তর দিল,
"না।তুমি মেয়ে না ।তুমি মেয়েদের কোনো জাতের ভেতরেই পড়ো না ।মেয়েদের মধ্যে যে মায়া বা নমনীয়তা থাকে ,তার ছিটেফোঁটাও তোমার মধ্যে নেই ।তুমি একটা আস্ত ঝগড়াটে মেশিন ।সুযোগ পেলেই লেজ গুটিয়ে ঝগড়া করতে নেমে যাও ।তোমাকে দেখলে আমার মাথায় রক্ত উঠে যায় ।"
নাইলা ওপাশে রাগে লাল হয়ে গেল। তার রোমান্টিক মুহূর্তের বারোটা বাজিয়ে সাইলাস এখন তাকে অপমান করছে।
সে চিৎকার করে উঠল,
"Excuse me? লেজ গুটিয়ে ঝগড়া করি মানে?তুমি নিজেকে কী ভাবো বলোতো? আমি কি তোমার অফিসের ফাইল যে তুমি যখন ইচ্ছা তখন যা খুশি মন্তব্য করবে?আর ঝগড়া কি আমি একাই করি ? তোমার ওই বিষাক্ত কথাগুলো শোনার পর কি আমি চুপ থাকবো ?
সাইলাস এবার বেশ আরাম করে টুলটায় হেলান দিয়ে বসল। ঝগড়া শুরু হতেই সে যেন নিজের চেনা জায়গায় ফিরে এসেছে। সে শান্ত গলায় বলল,
"দেখলে?ঠিক যেমনটা বললাম।এক সেকেন্ডও লাগে না তোমার আসল রুপ বের হয়ে আসতে।জ্যাকের সাথে ওই আদুরে ছবির পেছনে যে এরকম একটা রুপ লুকিয়ে আছে ,সেটা কি বেচারা জানে ?"
"সাইলাস ,তুমি একটা assho*e" নাইলা দাঁত কিড়মিড় করে বলল।
"assh*le হতে পারি ,কিন্তু তোমার মতো ফেক নই ।অন্তত ওই জ্যাকের মতো তোমাকে মিথ্যে প্রশংসা করে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছি না ।
আর শোনো,ওই ছবিটা যদি এক ঘন্টার মধ্যে ডিলিট করা না হয় ,তাহলে খুব খারাপ হবে "
নায়লা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
“খারাপ হবে মানে? তুমি কী করবে? মেরে ফেলবে আমাকে? নাকি চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেবে?”
সাইলাস এবার একটু গম্ভীর হয়ে গেল। বাংলাদেশের সেই নিস্তব্ধ রাতে তার কণ্ঠস্বরটা একদম স্থির শোনাল। সে নিচু স্বরে বলল, “তোমাকে মারার ক্ষমতা আমার কেন, এই পৃথিবীর কারো নেই। কিন্তু ওই ছবিটা যদি এক ঘণ্টার মধ্যে না সরে, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি...”
"তুমি আসলেই একটা সাইকো, সাইলাস," নায়লা বিড়বিড় করে বলল।
" তোমার আসলে সমস্যাটা কী?"
সাইলাস গলায় উত্তর দিল,
"আমার সমস্যাটা হলো তুমি ।আমার চেনা ছিমছাম জগৎটাকে তুমি এসে ওলটপালট করে দিয়েছ ।আর শোনে ওই assh*le বা সাইকো যাই বলো না কেন হতে পারি। কিন্তু তোমার ওপর অন্য কারো ছায়া সহ্য করার মতো উদারতা আমার নেই,এখন রাখছি। কাল সকালে যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই জঞ্জালটা আর না দেখি।”
ফোনটা কেটে গেল।
ফোনটা কেটে দিতেই নাইলা মেসেজ দেয়,
"তুমি আসো একবার সামনে ,তোমার ওই খাড়া নাকটা আমি ঘুষি মেরে বাঁকা করে দেব "
"সেটা না হয় ফিরে এসেই দেখা যাবে "
সাইলাস স্ক্রিনের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে একটা লম্বা নিশ্বাস ফেলল। বুকটা হালকা লাগছে ঠিকই, কিন্তু মেজাজটা তখনো পুরোপুরি ঠান্ডা হয়নি। বাংলাদেশের সেই শান্ত উঠোনে তখন এক অদ্ভুত নীরবতা যেটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল হঠাৎ একজোড়া হাততালির শব্দে।
"ব্রো...আই অ্যাম ইমপ্রেসড "
মার্কোর চওড়া হাসিমাখা মুখটা অন্ধকারের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল। তার পেছনে এনজো, মুখে এক রহস্যময় হাসি। সাইলাস চমকে উঠে ঘুরে দাঁড়াল, তার চোখের চাউনি মুহূর্তেই ধারালো হয়ে উঠল।
"তোরা এখানে কী করছিস?"
সাইলাসের কণ্ঠস্বর আবার সেই বরফঠান্ডা রূপ নিল।এনজো একটা গাছের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে পকেট থেকে সিগারেট বের করতে করতে বলল,
"আমরা তো আসলে জোছনা দেখতে বেরিয়েছিলাম ভেবেছিলাম জোছনা দেখবো আর একটু ওয়াইন পান করবো। কিন্তু কে জানত, জোছনার চেয়েও সুন্দর কোনো 'রোমান্টিক ড্রামা' এখানে লাইভ চলছে!"
মার্কো সাইলাসের কাঁধে হাত রেখে মজা করে বলল,
"মানে, সিরিয়াসলি সাইলাস? 'তোমার ওপর অন্য কারো ছায়া সহ্য করার মতো উদারতা আমার নেই'? উফ! ডায়লগটা তো জাস্ট ফাটাফাটি ছিল। আমি তো জানতাম না আমাদের এই পাথরের মূর্তির ভেতরে এত বড় একজন প্রেমিক লুকিয়ে আছে!"
সাইলাস মার্কোর হাতটা ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দিল।
সে কোনো উত্তর দিল না। সে জানে, এই দুই শয়তানের কাছে যুক্তি দিয়ে লাভ নেই। সে হনহন করে ভেতরের ঘরের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
পেছন থেকে মার্কো চিৎকার করে বলল,
"আরে পালাচ্ছিস কেন ? নাইলাকে তো মেয়ের জাত থেকেও বের করে দিলি ।এখন কি ইতালিতে ফিরে গিয়ে ওকে নতুন কোনো জাতে ঢোকাবি নাকি ?"
সাইলাসের পিঠ টানটান হয়ে গেল। মার্কোর
শেষ কথাটা তীরের মতো গিয়ে বিঁধল তার কানে। সে দরজার চৌকাঠে থমকে দাঁড়াল, কিন্তু পেছনে ফিরল না। অন্ধকারের মধ্যেও বোঝা যাচ্ছিল তার ঘাড়ের রগগুলো ফুলে উঠেছে।
সে নিচু কিন্তু অত্যন্ত ভারী গলায় বলল,
"মার্কো ,নিজের সীমা ছাড়াস না ।তোদের কাজ শেষ হয়ে থাকলে গিয়ে ঘুমা ।"
এনজো একটা লম্বা ধোঁয়া ছেড়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এল। তার চোখেমুখে কৌতুক থাকলেও গলায় কিছুটা সিরিয়াসনেস,
"why are you getting angry bro,আমরাতো খুশি যে তোর ভেতরেও একটা হৃদয় আছে ।নাইলা মেয়েটার সাহস আছে বলতে হবে,সে তোকে সুযোগ পেলেই পাল্লা দিয়ে লড়াই করে বেড়ায় "
সাইলাস এবার ঘুরে দাঁড়াল ।সে শীতল গলায় বলল,
"তোদের ধারণা ভুল ।ওর সাথে আমার লড়াটা কেবল জেদের আর জ্যাক..জ্যাক একটা আবর্জনা ।আমি শুধু ময়লা পরিষ্কার করতে চেয়েছি ।"
এনজো পেছনে খিলখিল করে হেসে উঠল,
"হ্যা হ্যা ,আমরা তো সবাই বিশ্বাস করলাম ।ময়লা পরিষ্কার করতে তুই সাতসমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে ইন্টারন্যাশনাল কল করিস ,আর ফোনে এমনভাবে শ্বাস নিস যেন ওপাশে নাইলা নেই ,অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে "
সাইলাস আর কথা বাড়াল না। এদের সাথে তর্কে জেতা মানে অরণ্যে রোদন। সে গটগট করে ভেতরে ঢুকে সজোরে দরজাটা লাগিয়ে দিল।
_________________
রিভেনের ঘরের পরিবেশ তখন থমথমে। সে জানলার ধারে দাঁড়িয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে রাগে। আরশ নামটা মনে আসতেই তার হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। রোজেলিয়া তার স্ত্রী, অথচ সে এখন পাশের ঘরে আরোশ আর তার পরিবারের সাথে হেসে হেসে গল্প করছে রিভেনের কাছে এই পারিবারিক আড্ডা অসহ্য ঠেকছে।রিভেন অনেকবার ডাকার পরেও রোজেলিয়া শোনেনি।
তখনই দরজার কপাটে হালকা শব্দ হলো। রোজেলিয়া ঘরে ঢুকল। তার মুখে তখনো সেই আড্ডার রেশ ধরে রাখা একটা মিষ্টি হাসি।
রিভেন ঘুরে দাঁড়াল। তার চোখের দৃষ্টিতে যেন বিদ্যুৎ খেলছে। রোজেলিয়া কিছু বলার আগেই সে গর্জে উঠল
"এতক্ষণে আসার সময় হলো তোমার ? আমি কতবার ডেকেছি তোমায় হিসাব আছে? ওরা কী আমার থেকেও বেশী জরুরী হয়ে গেছে ?
রোজেলিয়া একটু থতমত খেয়ে গেল, কিন্তু সে রিভেনের এই পজেসিভ স্বভাবটা চেনে। সে শান্ত পায়ে রিভেনের দিকে এগিয়ে এল।
"রিভেন ,শান্ত হন ।অনেকদিন পরে এভাবে একসাথ হতে পেরে একটু সময় দিচ্ছিলাম "
রিভেন ওর খুব কাছে এসে দাঁড়াল। তার গলার স্বর এখন নিচু কিন্তু ভয়ংকর,
"আমি যখন তোমাকে ডাকবো তখন তোমার নানি মামি যেয় হোক সবকিছু ফেলে আমার কাছে আসতে হবে রোজ ।আর তুমি কিনা আমাকে একা ফেলে ভালোই আড্ডা দিচ্চো"
রিভেন রাগে ফুঁসছে, তার নিশ্বাস দ্রুত পড়ছে। রোজেলিয়া বুঝতে পারল এই আগুন নেভাতে হলে এখন যুক্তি দিয়ে লাভ নেই । সে ধীরস্থীরে রিভেনের বুকের ওপর নিজের নরম হাত দুটো রাখল। রিভেন সরিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু রোজেলিয়া আরও শক্ত করে জাপটে ধরল।
সে মুখটা তুলে রিভেনের চোখের দিকে তাকিয়ে খুব আদুরে গলায় বলল,
"আমার এই রাগী বরটা কি জানে যে তাকে এই অবস্থায় কতটা হ্যান্ডসাম লাগে?"
রিভেন ভ্রু কুঁচকে বলল,
"মিষ্টি কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করো না ,রোজ পেটাল "
রোসেলিয়া একটু মুচকি হাসল। সে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে একটু উঁচু হয়ে রিভেনের কপালে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। তারপর খুব নিচু স্বরে, রিভেনের কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"পুরো ঘরে কতজন ছিল আমি দেখিনি রিভেন ।আমার চোখ তো সারাক্ষণ দরজার দিকেই ছিল,কারণ আমার মনটা এই ঘরে বন্দি হয়ে আছে । আরোশ বা আর কেউ কি তোমার জায়গাটুকু নিতে পারে ? কক্ষনো না ।"
রোজেলিয়া এবার রিভেনের গালে আলতো করে একটা কামড় দিয়ে হাসল। রিভেনের শক্ত হয়ে থাকা শরীরটা এবার ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করল। তার চোখের সেই আগ্নেয়গিরি যেন এক নিমেষে শান্ত হয়ে এক গভীর নীল সাগরে পরিণত হলো।
রিভেন রোজেলিয়াকে নিজের বাহুবন্দি করে কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলল,
"তুমি জানো তুমি আমার একমাএ দুর্বলতা। My one & only addiction।তবু্ও কেন আমাকে এভাবে জ্বালিয়ে মারো ?"
রোসেলিয়া রিভেনের বুকে মাথা রেখে বলল,
"কারণ মাঝেমধ্যে আপনার এই ঈর্ষা মাখানো ভালোবাসা দেখতে আমার খুব ভালো লাগে মিস্টার রিভেন "
রিভেন খুব নিচু আর গাঢ় স্বরে রোজেলিয়ার কানের কাছে বলল,
"আমি কতটা ঈর্ষা করতে পারি ,আর আমার অধিকারবোধ কতটা ভয়ংকর হতে পারে তার কোনো ধারণা তোমার নেই রোজ পেটাল। আজ রাতে তোমাকে সব বুঝিয়ে দিবো "
বলেই রিভেন রোজেলিয়াকে ব্রাইডেলের মতো করে কোলে তুলে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিল। রোজেলিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিভেন তার ওপর ঝুঁকে পড়ল। সে তার মুখ রোজেলিয়ার গলার খাঁজে ডুবিয়ে দিল।
রোজেলিয়া শিউরে উঠে রিভেনের কাঁধটা খামচে ধরল। তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। সে খুব কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে রিভেনের বুকে আলতো ধাক্কা দিয়ে বলল,
"রিভেন...শোনো....একটা কথা ছিল ।"
রিভেন তার ঘাড় থেকে মুখ না তুলেই অস্পষ্ট স্বরে বলল,
"বলো"
"নানি...নানু আসলে খুব করে অনুরোধ করছিলেন যে আজ রাতে আমি যেন ওনার ঘরে গিয়ে ওনার সাথেই ঘুমাই "
রোজেলিয়ার কণ্ঠস্বর কাঁপছে।
রিভেন থমকে গেল। সে ধীরে ধীরে মুখ তুলে রোজেলিয়ার চোখের দিকে তাকাল।সে বিছানায় রোজেলিয়ার দুই পাশে হাত রেখে তাকে মাঝখানে আটকে ফেলল। তার চোখের মণি দুটো তখন নেশাগ্রস্তের মতো জ্বলছে।
"ইম্পসিবল! আউট অফ দ্য কোশ্চেন!তোমার নানি তোমাকে আজ রাতে ওনার কাছে চান? খুব মিষ্টি আবদার তো, রোজ পেটাল। কিন্তু চলো একটা বিষয় পরিষ্কার করে নিই।"
সে রোজেলিয়ার চিবুকটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরে সরাসরি ওর চোখের দিকে তাকাল।
"কে অনুরোধ করছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি আমার কোনোকিছুই ভাগ কাউকে দেয় না আর আমার স্ত্রীকে তো প্রশ্নই আসে না। তোমার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি, তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাস সবকিছুর ওপর শুধু আমার অধিকার। তুমি কি সত্যিই ভেবেছ তুমি অন্য কোথাও থাকবে আর আমি সারা রাত একা ছাদের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেব?"
রিভেন আরও একটু ঝুঁকে এল, তার ঠোঁট প্রায় রোজেলিয়ার ঠোঁট ছুঁইছুঁই,
"তোমার নানিকে গিয়ে বলে দাও যে তোমার স্বামী প্রচণ্ড হিংসুটে আর স্বার্থপর একটা মানুষ, যে তার রোজ পেটালকে ছাড়া এক মিনিটও বাঁচতে পারে না। তুমি আমার addiction and i don’t share my addiction with anyone ।আজ রাতে যদি তুমি এই ঘর ছেড়ে বাইরে পা দাও রোজ, তবে মনে রেখো আমি শুধু তোমাকে নিতেই যাব না, বরং সবার সামনে তোমাকে কোলে তুলে এই ঘরে নিয়ে আসব। এটা পছন্দ হবে তোমার ।"
রোজেলিয়া স্তব্ধ হয়ে রিভেনের দিকে তাকিয়ে রইল। সে রিভেনের চোখের দিকে তাকাতে পারছিল না। তার গাল দুটো লজ্জায় একদম টকটকে লাল হয়ে গেল। সে মনে মনে ভাবল, কত কত ফিকশন বা নোভেলে সে এমন পজেসিভ আর রাগী হিরোদের কথা পড়েছে। তখন পড়তে খুব ভালো লাগত, মনে হতো আহা এমন একজন যদি বাস্তবে থাকত।
কিন্তু আজ যখন বাস্তবে রিভেন তার এত কাছে এসে, তার চোখে চোখ রেখে এমন ভয়ংকর সুন্দর সব কথা বলছে, তখন রোজেলিয়ার মনে হচ্ছে তার হৃদপিণ্ডটা বুঝি এখুনি বেরিয়ে আসবে আর লজ্জা মাটির নিচে ঢুকে যেতে ।কল্পনার চেয়ে বাস্তবতা যে এত বেশি তীব্র হতে পারে, সেটা সে আজ হাড়েমজ্জায় টের পাচ্ছে।
সে আলতো করে রিভেনের শার্টের কলারটা খামচে ধরল। তারপর নিজের মাথাটা নিচু করে, রিভেনের বুকের সাথে মুখ লুকিয়ে খুব অস্ফুট স্বরে বলল,
“আপনি কি সবসময় এমন নির্লজ্জের মতো কথা বলেন? মানুষ শুনলে কী ভাববে! আমি কি বলেছি আমি চলে যাচ্ছি? আমি তো শুধু নানির রিকোয়েস্টের কথা জানাচ্ছিলাম।”
রোজেলিয়া একটু থেমে রিভেনের বুকের ওপর নিজের নখ দিয়ে আঁকিবুঁকি কাটতে কাটতে আবার বলল,
“আর খবরদার! সবার সামনে তুলে নিয়ে আসার মতো পাগলামি করবেন না যেন। এমনিতে আপনার ভয়ে বাড়ির কেউ আমার ধারেকাছে ঘেষতে চায় না, তার ওপর যদি এমন কিছু করেন, তবে আমি আর কোনোদিন কারো সামনে মুখ দেখাতে পারব না।”
সে একটু মুখ তুলে রিভেনের চোখের দিকে এক পলক তাকিয়েই আবার চোখ নামিয়ে নিল। তার ঠোঁটের কোণে একটা লাজুক হাসি ফুটে উঠল।
“যাব না কোথাও। আপনার এই জেলখানাতেই বন্দি থাকব আজ রাত। খুশি তো এখন?”
রিভেনের চোয়ালের শক্ত ভাবটা এবার শিথিল হয়ে এল। সে রোজেলিয়ার কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে বলল,
“খুব খুশি রোজ পেটাল ,you don’t have any idea how much i crave your presence .you are my queen and you will stay with your king "
___________________
আঁধারি রাতে পুকুর পাড়ের ঠান্ডা বাতাস বইছে। আরশ ভাবছিল একটু একা একা ঘুরে বেড়াবে, কিন্তু গাছের ওপাশে ফিসফিসানি শুনে তার গোয়েন্দা মন জেগে উঠল। সে পা টিপে টিপে এগিয়ে গিয়ে দেখল মারকো আর এনজো মহা সুখে বোতল খুলে বসেছে।
আরশকে দেখামাত্রই মারকো আর এনজো এমনভাবে বোতলটা পিঠের পেছনে লুকালো, যেন তারা কোনো নিষিদ্ধ বস্তু ধরে ফেলেছে। রিভেনের কড়া নির্দেশ ছিল বাড়ির কারো সামনে এসব করা যাবে না।
আরশ তার লুঙ্গিটা একটু মালকোঁচা মেরে টেনে, দাঁত বের করে এক গাল হেসে দিল,
"কী গো বিদেশি ভাইজানেরা।ঝোপের আড়ালে বসে এগুলো কী কাজ করা হচ্ছে ?আমি তো ভাবলাম পুকুর পাড়ে বুঝি নিশি নামছে,এখন দেখি আপনারা দুইটা জ্যান্ত ভূত বোতল নিয়ে কুস্তি করতেছেন "
মারকো আমতা আমতা করে ইংরেজিতে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু আরশ তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল,
"আরে রাখেন আপনার ওই ফটর-ফটর ইংরেজি! ভাবছেন আন্ধারে দেখি নাই? ওই যে পিঠের পিছে যে আমৃতর বোতলখান লুকাইছেন, ওটার সুবাস তো এই আরশের নাকে চইলা আইছে। রিভেন ভাইজান যদি টের পায়, তাইলে কিন্তু আপনাদের এই রঙিন পানি খাওয়ার শখ এক্কেবারে মিটায়া দিবো। পিঠের ছাল আস্ত রাখবো না, কইলাম!"
এনজো এবার একটু ভয় পেয়ে ইশারায় আরশকে চুপ থাকতে বলল। আরশ এবার আরও মজা পেয়ে এগিয়ে গিয়ে বসল ওদের পাশে।
"ডরান ক্যান? আরশ থাকতে ডর নাই। আমি কিন্তু রিভেন ভাইরে কিচ্ছু কমু না, তবে আমারেও তো একটু খাতির-যত্ন করতে হইবো, নাকি? তা বোতলখান বাইর করেন তো দেখি, ওটার ভেতরে কী এমন জাদু আছে আমি দেখতে চাই!"
সে মারকোর কাঁধে একটা থাপ্পড় মেরে ফিসফিস করে বলল,
"কইলাম তো, আমি আপনাদের টিমএ আছি। কিন্তু সাবধান, বড় ভাইজান যদি গায়ের গন্ধে টের পায়, তবে কিন্তু আপনাদের সাথে সাথে আমারেও ধইরা ধোলাই দিবো। তখন বিদেশি বুদ্ধি দিয়া আর কাম হইবো না!"
আরশ এবার গা ঘিনঘিন করে এনজোর পাশে আরও ঘেঁষে বসল। এনজো চারপাশে একবার দেখে নিয়ে ফিসফিস করে ভাঙা ভাঙা বাংলায় বলল,
"আরশ ব্রাদার, বস... হি ইজ নট দ্যাট ব্যাড। বস আমাদের পারমিশন দিছে। সে নিজে বলছে ইতালি না এটা, বাংলাদেশ তাই মানুষের সামনে খাবি না।বস মনেহয় কোনোভাবে আটকে গেছে নাহলে বসও যোগ দিতো"
আরশ চোখ কপালে তুলে বলল,
"ক কী! রিভেন ভাইজানও আপনাদের সাথে এই শয়তানের শরবত খায়? বলেন কী! আমি তো ভাবছিলাম ভাইজান বুঝি একদম ধোয়া তুলসী পাতা। শুধু রাগের চোটে মানুষের হাড়গোড় গুঁড়া করতে জানে।"
মারকো এবার সুযোগ পেয়ে সায় দিল,
"ইয়েস ব্রো! ইতালিতে যখন বড় কোনো মিশন সাকসেসফুল হয়, বস তখন আমাদের সাথে চিল করে। কিন্তু এখানে তো বুঝতেই পারছিস শ্বশুরবাড়ি, মান-সম্মানের ব্যাপার। বস তোকে দেখলে নির্ঘাত আমাদের সাথে তোকেও শুইয়ে দেবে।"
আরশ একটা লম্বা নিশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
"হায়রে কপাল! ভাইজানও তাইলে লাইনের লোক। অথচ আমারে দেখলেই এমন ভাব ধরে যেন দুনিয়ার সব নীতি কথা ওনার পকেটে। তা ভাইজানেরা, ইতালিতে না হয় আপনারা আভিজাত্য দেখান, কিন্তু এই বাংলার পুকুর পাড়ে বইসা যখন খাইতেছেন, তখন একটু দেশি কায়দায় খান।"
সে মারকোর হাতের বোতলটা একরকম ছিনিয়ে নেওয়ার ভঙ্গিতে নিয়ে লেবেলটা চেক করল। তারপর চোখ টিপে বলল,
"আরশ যখন সাথে আছে, তখন টেনশন নাই। যদি ভাইজান আইসা পড়ে, আমি কমু ভাইজান, বিদেশি মেহমানগো পেটে একটু গ্যাস হইছিল, তো আমিই কবিরাজি ওষুধ দিয়া ওগো চিকিৎসা করতাছি বুঝলেন তো?"
এনজো আর মারকো একে অপরের দিকে তাকিয়ে হোহো করে হেসে উঠল। মারকো আরশের পিঠ চাপড়ে বলল,
"bro ,you are amazing "
মার্কো আরশের থেকে বোতল নিয়ে চুমুক দেয় । কিছুক্ষণ তিনজন নিরবতা পালন করে ।
আরশ এবার এনজোকে একটু খোঁচাল,
"তা ভাইজানরা, রিভেন ভাইজান ইতালিতে ব্যবসাটা কিসের করে? খালি কি এমন বডিগার্ড পালার ব্যবসা, নাকি অন্য কিছু? ওনার যে মেজাজ, তাতে তো মনে হয় মানুষরে কাঁচা চিবাইয়া খাইয়া ফেলবো!"
এনজো একটু বেশিই চিল মোডে ছিল। সে বোতলে একটা চুমুক দিয়ে হোহো করে হেসে বলল,
"বডিগার্ড পালার ব্যবসা? আরে ব্রাদার, বস তো বডিগার্ড পালে না, বস পুরো ইতালি চালায়। হি ইজ দ্য আন্ডারওয়ার্ল্ড কিং। বসের এক কথায় রোমের আকাশ লাল হয়ে যায়।"
আরশের হাসিটা হুট করে মুখেই জমে গেল। সে ঢোক গিলে বলল,
"আন্ডারওয়ার্ল্ড কিং? মানে... মাফিয়া? রিভেন ভাইজান মাফিয়া ডন?"
মারকো পাশ থেকে মাতাল গলায় যোগ করল,
"ডন মানে কী? বড় ডন! এমনকি তোর এই যে কাজিন ,রোজেলিয়া ম্যাম ওনাকে আমরা কীভাবে পাইছি? বস ওরে কিডন্যাপ করে তুলে আনছিল। মিশনটা ছিল জাস্ট ফ্যান্টাস্টিক। ম্যামতো বসকে দেখে প্রথমে ভয়ে শেষ ছিল, কিন্তু আমাদের বস... হি নেভার টেকস নো ফর অ্যান আনসার।"
আরশের পায়ের তলার মাটি যেন সরে যাচ্ছে। সে ভাবছিল রিভেন হয়তো কোনো বিজনেসম্যান, কিন্তু সে যে আস্ত একটা মাফিয়া বস আর তার বোনকে তুলে নিয়ে এসে বিয়ে করেছে, এটা সে স্বপ্নেও ভাবেনি।
সে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল,
"তু তু... তুলে আনছে? মানে কিডন্যাপ? বোনডারে আমার ভাইজান জোর কইরা বিয়া করছে?"
এনজো এবার আরশের কাঁধে হাত রেখে ফিসফিস করে বলল,
"ইয়েস ব্রো ।বস ম্যামকে প্রথম দেখলো ,ভালো লাগলো তাই তুলে নিয়ে এলো "
আরশ পাথরের মতো বসে রইল। তার চোখের সামনে এখন রিভেনের সেই ভয়ংকর শান্ত চেহারাটা ভেসে উঠল। সে ভাবল
"হায় আল্লাহ আমি কার সাথে ইয়ার্কি মারতাছি? যে মানুষটা মানুষ খুন করা আর তুলে আনা ডালভাত মনে করে, আমি ওনারে ভাইজান বইলা ডাকি আমার তো কলিজা এখন শুকায়া শুঁটকি হইয়া গেছে।"
মার্কো আরশের অবস্থা দেখে হেসে বলল,
"ভয় পাস না ব্রাদার। তুই ম্যামের ভাই বলে কথা তোকে কিছু করবেনা। কিন্তু মনে রাখিস, এই কথা যেন কারো কানে না যায়। গেলে কিন্তু আমাদের সাথে তোর বডিটাও এই পুকুরেই ভাসবে।"
আরশ কোনোমতে মাথা নাড়ল। সে মনে মনে ভাবল,
"ওরে বাবারে রঙিন পানির নেশা ছুটায়া দিছে বিদেশিগুলা। এখন এখান থেইকা পলাইতে পারলে জান বাঁচে। নানি ঠিকই কইছিল, এই জামাইর চোখ দুইটা বাঘের মতো"
চলবে,,,,