#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা
পর্ব ৩২
(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)
রোজেলিয়া যখন চোখের পাতা মেলল, চারপাশটা গাঢ় অন্ধকারে ডুবে আছে। তার মাথাটা যেন প্রচণ্ড ভারি হয়ে আছে, ক্লো'রোফ'র্মের তিতকুটে গন্ধটা এখনো নাকে লেগে আছে। সে নড়াচড়া করার চেষ্টা করতেই টের পেল সে নরম কোনো গদির ওপর শুয়ে আছে, কিন্তু চারপাশটা দুলছে।চারিদিক অন্ধকারে
ডুবে আছে।তার হৃ'দপিণ্ডের ধুকদুকানি ক্রমশ বেড়েই চলছে।সে ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে অস্ফুট স্বরে ডাকল,
"কে? কেউ কি আছো এখানে?"
কোনো উত্তর এল না। রোজেলিয়া অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে ওঠার চেষ্টা করল। তার হাত কোনো একটা ঠান্ডা ধাতব খুঁটিতে লাগল। কিছুক্ষণ পর তার চোখ অন্ধকারের সাথে সয়ে এলে সে আবছা দেখতে পেল চারপাশটা ফুলে সাজানো। এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা চারদিকে, কেবল সমুদ্রের ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
তার প্রচন্ড ভয় হতে লাগলো । সে তো রিভেনের কাছে যাচ্ছিল পথে একটা মাস্ক পড়া লোক গাড়িতে ঢুকেছিল তারপর ? তারপর তার কিছুই মনে নেই ।অনেক দূরে হালকা আবছা আবছা আলো ,চারপাশটার দুলছে ।রোজেলিয়ার কাছে মনে হলো সে কোনো জাহাজে আছে ।
তার আরো ভয় হতে লাগলো ।সে কী তবে কিডন্যাপ হয়েছে? তাকে কী কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ? রিভেন কোথায় সে কী এখনও তার কিডন্যাপ হওয়ার খবর পায়নি ?
ঠিক তখনই এক নিমেষে চারিদিকের বাতিগুলো জ্বলে উঠল। তীব্র আলোয় রোজেলিয়ার চোখ ধাঁধিয়ে গেল। সে হাত দিয়ে চোখ আড়াল করে কিছুক্ষণ পর সামনে তাকাতেই তার হৃদস্পন্দন থমকে গেল।
জাহাজের ডেক এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে রিভেন।তার পরনে সেই কালো স্যুট, হাতে একগুচ্ছ টকটকে লাল গোলাপ। রিভেনের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি। সে ধীর পায়ে রোজেলিয়ার দিকে এগিয়ে এল।
রোজেলিয়া তখনো মেঝেতে বসে কাঁপছে।রিভেন রোজেলিয়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। সে রোজেলিয়ার একটা হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে খুব নরম স্বরে বলল,
"কেউ তোমাকে অপহরণ করেনি রোজ পেটাল। যারা তোমাকে তুলে এনেছিল, তারা আমারই লোক। আর এনজো তো এই প্ল্যানের মাস্টারমাইন্ডদের একজন।"
"মানে আপনি কী বলছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না..."
রিভেন এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। জাহাজের ডেকের উপর আলো তার তীক্ষ্ণ নাক আর চোয়ালের ওপর ছায়া তৈরি করেছে।
রিভেন এক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইল। তারপর সে আরও একটু ঝুঁকে রোজেলিয়াকে তার প্রশস্ত বুকের ভেতর টেনে নিল। কিন্তু রোজেলিয়া এক ঝটকায় তাকে সরিয়ে দিল।
"ছোঁবেন না আমাকে?"
রিভেন আবার তাকে নিজের কাছে টেনে নিলো ।রোজেলিয়া তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল, তার বুকে ছোট ছোট কিল বসাল, কিন্তু রিভেনের লোহার মতো শক্ত আলিঙ্গন থেকে সে নিজেকে মুক্ত করতে পারল না। রিভেন তার চিবুকটা রোজেলিয়ার চুলে গুঁজে দিয়ে ফিসফিস করে,
"সিসিলিয়ান মাফিয়াদের সম্রাজ্ঞী হতে গেলে ভয়কে জয় করতে হয় রোজ পেটাল।This world is to heartless for soft hearts। আজ যারা আমার হয়ে তোমাকে তুলে এনেছে, কাল তারা শত্রুর হয়েও আসতে পারে।So you have to learn how to keep your pulse when a khife touches your throat "
সে রোজেলিয়াকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল।রোজেলিয়া বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল, তার বুকে কিল-ঘুষি মারতে লাগল।
"নামান আমাকে! আমি আপনার সাথে কোথাও যাব না!"
রিভেন তাকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল। তার শরীরের সেই পরিচিত পারফিউমের গন্ধ রোজেলিয়ার নাকে আসতেই সে অজান্তেই একটু ঝিমিয়ে পড়ল। রিভেন তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"You are my world rose petal. Without you i am nothing.আমি জানি আমার সব পদ্ধতি আলাদা।কিন্তু এই পাথরের হৃদয়ে তোমার জন্য যে দহন তার কোনো তুলনা নেই।রাগ করে থেকো না রোজ ।কেবল আজকের জন্য আমার পা'গলা'মিটা মেনে নাও"
সে আর বাধা দিল না, রিভেনের স্যুটের কলারটা খা'মচে ধরে তার কাঁধে মুখ লুকাল।
রিভেন তাকে নিয়ে জাহাজের ভেতরে সুসজ্জিত ডাইনিং হলের দিকে এগিয়ে গেল ।
রিভেন রোজেলিয়াকে অতি সাবধানে মখমলের চেয়ারে বসিয়ে দিল। রোজেলিয়ার চোখের পাতা তখনো ভেজা। রিভেন টেবিলের ওপর রাখা বিশাল রেড ভেলভেট কেকটির সামনে এসে দাঁড়াল। কেকের ওপরের সেই সোনালি লেখা "Happy Birthday, My Queen"
মোমবাতির আলোয় যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
রিভেন ঝুকে পড়ে রোজেলিয়ার কানের খুব কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে এল। তার উত্তপ্ত নিশ্বাস রোজেলিয়ার কানে এক শিহরণ জাগিয়ে তুলল। সে খুব গভীর আর গম্ভীর গলায় বলল,
"Happy Birthday, Rose Petal."
রোজেলিয়া কোনো কথা বলল না, শুধু একবার রিভেনের সেই হ্যাজেল চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে এক অদ্ভুত আকর্ষণ আছে যা রোজেলিয়াকে টানে। দুজনে মিলে কেকটা কাটলো।
রোজেলিয়া এবার টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখা কয়েকটি বিশাল বুকেটের দিকে নজর পড়লো। তিনটি বড় বড় বুকেট সাজিয়ে রাখা হয়েছে কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো কোনোটিই ফুলের বুকেট নয়
প্রতিটি বুকেট এক একটি রহস্যময় উপহারে মোড়া।
রোজেলিয়া ভ্রু কুঁচকে রিভেনের দিকে তাকাল। রিভেন ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা বাঁকা হাসি ফুটিয়ে হাত নেড়ে প্রথম বুকেটটির দিকে ইশারা করল। কালো মখমলের কাপড়ে মোড়া সেই বুকেটের ভেতরে কোনো ফুলের বদলে আছে তিনটি চকচকে রূপালি চাবি।
রিভেন খুব নিচু আর গম্ভীর স্বরে বলল,
"প্রথম বুকেটটা তোমার গতির জন্য, রোজ পেটাল। একটি ল্যাম্বরগিনি অ্যাভেনটাডোর, একটি ফেরারি এফ৮ আর একটি রেঞ্জ রোভার অটোবায়োগ্রাফি। তোমার মেজাজ যখন যেমন হবে, তুমি সেভাবেই মিলানের রাস্তা কাঁপাবে।"
রোজেলিয়া বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে রইল। তার মতো সাধারণ এক মেয়ের কাছে এই উপহারগুলো যেন কোনো অন্ধকার রূপকথার অংশ। রিভেন থামল না। সে দ্বিতীয় বুকেটটির দিকে ইশারা করল।
"দ্বিতীয়টিতে আছে একটি আর্ট গ্যালারীর চাবি
ফ্লোরেন্সের আর্ট গ্যালারিটা এখন থেকে তোমার।
সেখানে সব নামী দামি শিল্পীরা শুধু তোমার নির্দেশে গ্যালারীটা সাজাবে ।পাশেই লাইব্রেরীর ব্যবস্থা আছে ।তোমার পছন্দের সব বইয়ের একটা একটা কপি সেখানে থাকবে "
রোজেলিয়ার বুকটা দপ করে উঠল। এই কঠিন হৃদয়ের মানুষটা তার ভেতরের ছোট ছোট ইচ্ছাগুলোকেও এভাবে নজরে রেখেছে? শেষ বুকেটটি ছিল সবথেকে অদ্ভুত। কালো চামড়ার একটি ছোট বাক্স। সেটির বাঁটে রোজেলিয়ার নাম খোদাই করা।
রিভেন বক্সটি খুলে ভিতরে থাকা পি'স্তল'টি হাতে তুলে নিল। মোমবাতির আলোয় ধাতব অ'স্ত্রটি এক অ'শুভ সৌন্দর্যে ঝিকমিক করে উঠল। সে রোজেলিয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"আর শেষটি তোমার সুরক্ষার জন্য। আমি চাই না আমার অবর্তমানে কেউ তোমার চোখের দিকে তাকাতেও সাহস করুক।"
রোজেলিয়া সেই ঠান্ডা ধা'তব পি'স্তল'টির দিকে তাকিয়ে রইল। তার জন্মদিনের উপহার হিসেবে গাড়ি আর গ্যালারি নয় বরং রিভেন এক অমোঘ বাস্তবতার উপহার দিচ্ছে। সমুদ্রের বাতাস আর জাহাজের মৃদু দুলুনি তাদের চারপাশের আবহকে আরও বেশি গথিক আর রহস্যময় করে তুলল।
রিভেন পি'স্তল'টি আবার রেখে দিয়ে রোজেলিয়ার কোমরে হাত রাখল। তার স্পর্শে রোজেলিয়ার শরীরে এক সূক্ষ্ম কম্পন বয়ে গেল। রিভেন তার মুখটা রোজেলিয়ার গলার ভাঁজে নামিয়ে আনল। তার কণ্ঠস্বর এখন কোনো অতল গহ্বর থেকে উঠে আসা গভীর সুরের মতো শোনাল,
"In this kingdom of blood and shadows, you are the only sanctuary I seek. People fear the darkness I breathe, but little do they know, my darkness only exists to protect your light. Every bu'llet I fire, every so'ul I take, is an oa'th to keep you breathing. You aren't just my queen, Rose Petal... you are my salvation."
রোজেলিয়া শিউরে উঠল। রিভেনের এই স্বীকারোক্তি যেন কোনো পবিত্র শ্লোক, যা এই পাপিষ্ঠ সমুদ্রের বুকে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিচ্ছে। রিভেন রোজেলিয়ার চিবুকটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরল। তার সেই রহস্যময় চোখ দুটোয় এখন এক আদিম আর অমোঘ তৃষ্ণা।
সে রোজেলিয়ার ঠোঁটের একদম কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে এসে আবারও ফিসফিস করল,
"আমার এই নিষ্ঠুরতাকে ক্ষমা করে দিও রোজ পেটাল, because my love knows no peace. আমি তোমাকে ডানা দিয়েছি আমার আকাশে ওড়ার জন্য, but I have also armed you with fire to incinerate anyone who dares to touch your shadow. এই সুন্দর ন'রকে আমার সাথে থেকে যাও রোজ, and I will b'urn the whole wor'ld just to keep you safe."
রোজেলিয়ার চোখ দিয়ে আবারও এক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল, যা রিভেনের বুড়ো আঙুলের ডগায় এসে থমকে গেল। সে বুঝতে পারলো এই মানুষটি তাকে কতটা ভালোবাসে।
রিভেন এবার রোজেলিয়াকে ঝটকা দিয়ে নিজের বুকের সাথে পিষে ফেলল। তার হৃদপিণ্ডের সেই প্রবল ধকপকানি রোজেলিয়া নিজের বক্ষপিঞ্জরে অনুভব করতে পারল। জাহাজের মৃদু দুলুনি আর বাইরের উত্তাল সমুদ্রের গর্জন যেন তাদের এই মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইল।
রিভেন রোজেলিয়ার কপালে এক দীর্ঘ, তপ্ত চুম্বন এঁকে দিয়ে বলল, "রাত এখনো অনেক বাকি, রোজ পেটাল। চলো, ডেক এ যাই"
To be continue,,,,,