ফন্ট সাইজ:
থিম:
Paradise of sins

৩৩তম পর্ব

লেখক: Fariha

#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা

পর্ব ৩৩

(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)

বিকেলের পড়ন্ত রোদে মিলান শহরটা তখন সোনালী আভার এক চাদরে ঢাকা। সেই দিগন্তরেখায় এক দানবীয় গর্জনে চিরে দিয়ে একটি কালো ডুকাতি প্যানিগাল ভি-৪ তীরের মতো এসে থামল লুনা পার্কের প্রবেশদ্বারের সামনে।

সাইলাস তার কালো হেলমেটটা এক ঝটকায় খুলে ফেলল। তার ঘামে ভেজা চুলগুলো কপালে এসে আছড়ে পড়েছে, আর চোখের সেই ঠান্ডা চাউনি তখনো স্থির। সে একবার সামনে থাকা পার্কের দিকে তাকালো তার মুখ কুচকালো ।তারপর পাশ ফিরে পেছনে বসে থাকা নাইলার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীর স্বরে বলল,

"সিরিয়াসলি নাইলা ? এই ফালতু জায়গায় আমাকে নিয়ে এলে?

নাইলা তার হেলমেটটা খুললো। বিকেলের ম্লান আলো তার গালের ওপর এক মায়াবী ছায়া তৈরি করেছে। সে সাইলাসের কথায় পাওা না দিয়ে বাইক থেকে নামল আর খুব সহজ ভঙ্গিতে বলল,

"অবিয়াসলি ।মা'র্ডার করতে করতে তোমার হা'র্টে জং ধরেছে ।ওটা পরিষ্কার করতে হবে ।এখন বেশী কথা না বলে চলোতো"

সাইলাস একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নাইলার পেছন পেছন হাটা ধরলো।সে বেরিয়েছিল ডেটের প্ল্যানে কোথায় তারা কোনো নামিদামি রেস্টুরেন্টে

যাবে তার বদলে নাইলা তাকে এখানে ধরে নিয়ে এসেছে ।বিরক্তিতে তার মুখ কুচকালো কিন্তু সে কিছু বললো না।সে পকেট থেকে একটা সি'গারেট বের করতে গিয়েও থেমে গেল। নাইলার দৃষ্টি তাকে থামিয়ে দিয়েছে। সাইলাস বিরক্তিভরা মুখে টিকেট কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেল। নাইলা তার পেছনে ডানা কাটা প্রজাপতির মতো নেচে নেচে আসছে।

টিকিটগুলো হাতে নিয়ে সাইলাস একটা বিশালাকার Roller coaster এর দিকে তাকিয়ে থমকে দাঁড়াল। লোহার সেই দা'নবীয় কাঠামোটি আকাশের বু'ক চি'রে সাপের মতো কুন্ডলী পাকিয়ে আছে। সাইলাস তার তীক্ষ্ণ চোখ দুটো সরু করে তাকিয়ে রইলো ।

নাইলা তার বাহু ধরে টানতে টানতে বললো,

"কী হলো চলো "

"না "

"মানে ?"

"তুমি যাও আমি এখানেই অপেক্ষা করছি"

"ভয় পাচ্ছ নাকি তুমি?"

"ভয়?" সাইলাস একটা পৈশাচিক হাসি হাসল। "মৃত্যু আমার শিয়রে বসে রোজ কফি খায় নাইলা। আমি জাস্ট এই ফালতু হট্টগোল পছন্দ করি না। তুমি যাও, একা ঘুরে এসো।"

নাইলা মুহূর্তের জন্য থমকাল, তারপর অভিমানী মুখে ঘুরে দাঁড়াল। সে দ্রুত পায়ে রোলার কোস্টারের সিটের দিকে এগিয়ে গেল। ঠিক তখনই এক লম্বা চওড়া ইতালিয়ান যুবক নাইলার পাশের খালি সিটটাতে বসতে যাচ্ছিল। ছেলেটার চোখেমুখে এক উটকো আগ্রহ।

সাইলাসের চোখের মণি দুটো মুহূর্তেই তপ্ত হয়ে উঠল। তার ভেতরে সেই আদিম ঈর্ষা আর অধিকারবোধ জ্বলে উঠল। সে ভিড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে সেই যুবকটির কলার চেপে ধরল।

"I'diota. Get lost before I f'eed your h'eart to the birds."

যুবকটি সাইলাসের সেই খু'নে চাহনি দেখে এক সেকেন্ডে সেখান থেকে হাওয়া হয়ে গেল। সাইলাস এবার ধপ করে নাইলার পাশের সিটে বসে পড়ল এবং নিরাপত্তার বারটি নিজের ওপর টেনে নিল। নাইলা মুখ টিপে হাসছে দেখে সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

"একদম হাসবে না নাইলা।তোমাকে আমিই এখানে নিয়ে এসেছি তাই তোমার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার "

নাইলা সাইলাসের দিকে তাকিয়ে ভ্রু তুলে বললো,

"আমিতো দায়িত্বের বাইরে অন্য কিছু দেখতে পাচ্ছি মিস্টার বডিগার্ড "

সাইলাস নাইলার চোখের দিকে তাকিয়ে একটু ঝুঁকে এল। সে খুব নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল,

"হুম, আর একটা কারণও আছে যা তুমি খুব ভালো করেই জানো। সেটা হলো Jealousy, আমার লিটল ফিয়েরা। তোমাকে অন্য কারো পাশে দেখলে আমার ঈর্ষা হয় "

নাইলা এক পলকে চোখ ঘুরিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল,

"অসহ্য একটা মানুষ!"

মুহূর্তেই যান্ত্রিক এক ধাতব শব্দে রোলার কোস্টারটি চলতে শুরু করল। প্রথমে খুব ধীরগতিতে, যেন এক বিশাল অজগর অলসভাবে তার শরীর নাড়াচ্ছে। নাইলা হাতদুটো বাতাসে ছড়িয়ে দিয়ে এই মৃদু দুলুনি উপভোগ করতে লাগল। বিকেলের রোদে তার মুখের প্রতিটি রেখা এক অপার্থিব সৌন্দর্যে ঝলমল করছিল।

কিন্তু গতি যখন বাড়তে শুরু করল, পরিবেশটা আমূল বদলে গেল।কোস্টারটি যখন একদম চূড়ায় উঠে নিচের দিকে এক ভ'য়ংকর বেগে ঝাঁ'প দিল, নাইলার চুলগুলো বাতাসের ঝাপটায় তার মুখে আর চোখে আছড়ে পড়ল। নাইলা উত্তেজনায় উল্লাস করতে চাইল, কিন্তু ঠিক তখনই পাশের সিট থেকে এক অভূতপূর্ব শব্দ তার কানে এল।

নাইলা ভ্রু কুঁচকে পাশে তাকাতেই যা দেখল, তা তার কল্পনার অতীত। ইতালির সেই দুর্ধর্ষ হিটম্যান, যার এক চোখের পলকে মানুষের বু'ক চি'রে যায়, সে আজ চোখদুটো শক্ত করে বন্ধ করে রেখেছে। সাইলাসের সেই পাথরের মতো চোয়াল এখন আতঙ্কে ঝুলে পড়েছে, আর তার গলা চিরে বেরোচ্ছে এক অদ্ভুত আ'র্তনাদ।

গতি যত বাড়ছে, সাইলাসের চি'ৎকারের তীব্রতা তত আকাশ ছুঁচ্ছে। বাতাসের শব্দ আর যান্ত্রিক ঘর্ষণের মাঝে সাইলাস একবার চোখ খুলেই আবার বন্ধ করে নিল। তার মনে হলো পৃথিবীটা তার পায়ের নিচ থেকে সরে যাচ্ছে।

নাইলা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। সে দেখল সাইলাসের সেই পেশিবহুল হাতদুটো এখন হাতলের বদলে নাইলার কবজিটা আঁকড়ে ধরে আছে ।

"সাইলাস তুমি সত্যি সত্যি ভয় পাচ্ছ?"

নাইলা হাসতে হাসতে চিৎকার করে বলল।

সাইলাস কোনো উত্তর দিল না। কোস্টারটি যখন ৩৫০ ডিগ্রি কোণে উল্টো হয়ে ঘুরল, সাইলাস আবার চিৎকার করে উঠল,

"Oh my god. Oh fuck ।আমাকে নামাও এখান থেকে নাইলা ,Or i will k'ill you "

নাইলা এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। তার খুশির হাসি এক উচ্চকিত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। যে মানুষটাকে সবাই কো'ল্ড ব্লা'ডেড কি'লার বলে সে কী না আজ রোলার কোস্টারের ছোট চক্করে নিজের সবটুকু পুরুষালি গাম্ভীর্য বি'সর্জন দিয়ে দিচ্ছে।

কোস্টারটি যখন এক ঝটকায় থামল, সাইলাসের মনে হলো তার আত্মাটা এখনো ওপরে কোথাও ঝুলছে। সে টলতে টলতে সিট থেকে নামল। নাইলা হাসি থামিয়ে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। সাইলাস একটা রেলিং ধরে গভীর নিশ্বাস নিতে থাকল।

নাইলা তার চোখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে বলল, "কী হলো মিস্টার বডিগার্ড? যমদূত কি কফি ছেড়ে এখন রোলার কোস্টারে আপনার সাথে রাইড নিচ্ছিল?"

সাইলাস কোনো কথা বলল না।

নাইলা এবার তাকে টেনে নিয়ে এল পার্কের এক কোণে থাকা এক বিশাল হান্টিং হাউসে। পুরনো জীর্ণ কাঠের দরজা, জানলা দিয়ে বের হওয়া কৃত্রিম কুয়াশা আর ভেতর থেকে ভেসে আসা র'ক্ত পানি করা আ'র্তনাদ। গেটের ওপর ঝুলছে একখানা কা'টা মু'ণ্ডু, যার কোটর থেকে লাল আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে।

সাইলাস ভ্রু কুঁচকে সেদিকে তাকিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল।

"সিরিয়াসলি নাইলা? এবার ভূ'ত? যেসব আত্মা আমার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে তারা এই দৃশ্য দেখলে দ্বিতীয়বার অপমানে মারা যাবে।"

নাইলা ভ্রু নাচিয়ে বলল,

"ভয় পেলে ডিরেক্ট বলো সাইলাস। রোলার কোস্টারের মতো এখানেও আমাকে জাপটে ধরে চি'ৎকার করো না যেন"

সাইলাস উত্তর দিল না। সে নাইলাকে আড়াআড়ি করে ধরে গম্ভীর পায়ে ভেতরে ঢুকল। ভেতরের অন্ধকারটা একদম নিকষ কালো, যেন জমাট বাঁধা র'ক্ত। চারদিকে প'চা মাং'সের একটা উৎকট কৃত্রিম গ'ন্ধ ছড়ানো। নাইলা রোমাঞ্চে সাইলাসের বাহু আঁকড়ে ধরল। হঠাৎ ওপর থেকে একটা ঝু'লন্ত ক'ঙ্কাল নাইলার কাঁধে এসে পড়ল। নাইলা মিছেমিছি ভয়ের ভান করে সাইলাসের বুকে মুখ লুকাল। সাইলাস নির্বিকার ভজ্ঞিতে হাটঁতে লাগলো।

তারা যখন একটা সরু করিডোর পার হচ্ছে, ঠিক তখনই দেওয়ালের একটা গোপন দরজা সশব্দে খুলে গেল। নীলচে আলোর ঝলকানিতে এক বি'ভীষি'কাময় রূপ ধারণ করে এক র'ক্তচো'ষা ভূত সাইলাসের একদম মুখের সামনে এসে গর্জে উঠল।আচমকা ঘটনাটা ঘটায়

সাইলাস কিছু বুঝতে না পেরেয় সজোরে এক ঘুষি বসিয়ে দিল ভূ'তের না'ক বরাবর। এক নিমিষেই সেই ভৌ'তিক আ'র্তনাদ বাস্তবের য'ন্ত্রণায় পর্যবসিত হলো। বেচারা অভিনয়শিল্পী নিজের নকল দাঁ'ত আর মু'খোশসহ ছি'টকে গিয়ে পাশের এক কাঠের ক'ফিনের ভেতর ধপাস করে পড়ে গেল।

নাইলা আ'তঙ্কে নিজের মুখ চেপে ধরল।

"ওহ মাই গড! সাইলাস! তুমি এটা কী করলে ওতো একটা মানুষ ?"

সাইলাস তখনো তার হাতটা ঝাড়ছে, চোখের চাউনি বরফের মতো শীতল।

"আচমকা আসায় আমি বুঝতে পরিনি..damn it"

কিছুক্ষণের মধ্যেই পার্কের ভেতরে হট্টগোল শুরু হয়ে গেল। সাইরেন বাজিয়ে ম্যানেজার আর সিকিউরিটি স্টাফরা সেখানে ছুটে এল। ম্যানেজার লোকটা মেজাজি ভঙ্গিতে সাইলাসের সামনে এসে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে চেঁচাতে শুরু করল।

“Come osi Da dove trovi il coraggio di attaccare il nostro staff? Sai quali possono essere le conseguenze? Chiamo la polizia”

“How dare you! আমাদের স্টাফকে আ'ক্রমণ করার সাহস কোত্থেকে পাও তুমি? তুমি জানো এর পরিণাম কী হতে পারে? পুলিশ ডাকব আমি!”

ম্যানেজারের ঘাড়ের র'গগুলো রা'গে ফুলে উঠেছে।

সাইলাস কোনো কথা না বলে খুব ধীরস্থিরে নিজের পকেট থেকে তার মানিব্যাগটা বের করল। সে ম্যানেজারের চিৎকার গ্রাহ্যই করল না। সে একটা কালো রঙের বিশেষ কার্ড বের করে ম্যানেজারের চোখের সামনে ধরল কার্ডের ওপর সোনালি হরফে কারুসো ফ্যামিলির রাজকীয় সিল খোদাই করা।

ম্যানেজারের কণ্ঠস্বর মাঝপথেই আটকে গেল। তার উ'ত্তপ্ত মুখটা মুহূর্তের মধ্যে ঠান্ডা হয়ে গেল। কারুসো পরিবারের নাম শুনলে মিলানের বাতাসও থমকে যায়। ম্যানেজারের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমল, সে আমতা আমতা করে বলল,

“Io… io sono molto dispiaciuto, signore. Non l’ho riconosciuta. Non ha avuto alcun problema, vero? Probabilmente il nostro staff ha esagerato.”

"আই... আই অ্যাম সো সরি স্যার। আমি চিনতে পারিনি। আপনার ভেতরে কোনো অসুবিধা হয়নি তো? আমাদের স্টাফই বোধহয় খুব বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিল।"

ঠিক সেই মুহূর্তে সাইলাসের পকেটে থাকা ফোনটা এক কর্কশ শব্দে বেজে উঠল। সাইলাস নাইলার হাত না ছেড়েই ফোনটা বের করল। ফোনটা কানে নিতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসা একটি মাত্র বাক্য সাইলাসের শরীরের প্রতিটি শি'রা উ'পশি'রায় বরফশীতল স্রোত বইয়ে দিল।

সাইলাসের পাথরের মতো মুখটা মুহূর্তেই আরও কঠিন হয়ে গেল। সে চোয়াল শক্ত করে ফোনের ওপাশে থাকা মানুষটাকে নিচু আর তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,

"I’m coming"

নাইলা জিজ্ঞেস করল, "সাইলাস... কিছু হয়েছে? কোনো খারাপ খবর?"

সাইলাস কোনো উত্তর দিল না। সে নাইলার হাত ধরে প্রায় হ্যাঁচকা টানে পার্কের ভিড় ঠেলে বের হতে শুরু করল।

__________

রোজেলিয়া সোফায় বসে খুব গভীর মনোযোগ দিয়ে তার হাতে থাকা রূপালি নূপুর জোড়া দেখছিল। কারুকার্যময় এই নূপুরের ছোট ছোট ঘুঙুরগুলো নড়াচড়াতে মৃদু এক ছন্দ তুলছে।

রিভেনের অফিসের কাজে সারাদিন বাইরে থাকায় রোজেলিয়ার মনটা বিষাদগ্রস্ত ছিল, কিন্তু নূপুর জোড়া হাতে নিয়ে সে ভাবছিল আজ রিভেন ফিরলে তার এই আবদারটা সে পূরণ করে নেবে।

ঠিক সেই মুহূর্তে সদর দরজার ভারী কপাট জোড়া শব্দ করে খুলে গেল। রিভেন ভেতরে প্রবেশ করল। তার পরনে সেই পরিচিত ব্ল্যাক স্যুট, কিন্তু স্যুটের হাতাগুলো অগোছালোভাবে গোটানো। কপালে ঘাম আর চুলের অবিন্যস্ত অবস্থা ।

রোজেলিয়া এক বুক খুশি নিয়ে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। সে প্রায় দৌড়ে রিভেনের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তার চোখে তখন ভালোবাসার এক উজ্জ্বল আভা। সে নূপুর জোড়া রিভেনের চোখের সামনে দুলিয়ে খুব আদুরে স্বরে বলল,

"আপনি এসেছেন? আমি সারাদিন শুধু আপনার ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। দেখুন তো এগুলো কেমন? আমাকে এই নূপুরগুলো পরিয়ে দেবেন।"

রিভেন থামল না। রোজেলিয়ার এই উজ্জ্বল হাসি বা তার হাতের রূপালি নূপুর কোনোটাই যেন রিভেনের চোখে পড়ল না। তার দৃষ্টি তখন স্থির । সে রোজেলিয়াকে পাশ কাটিয়ে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে এগোতে এগোতে খুব সংক্ষিপ্ত আর বরফশীতল স্বরে বলল,

"এখন না রোজ পেটাল। আমি একটু ব্যস্ত।"

রোজেলিয়ার হাসিমুখটা মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেল। সে অবাক হয়ে রিভেনের পিছু পিছু ড্রেসিংরুমে ঢুকল। রিভেন আলমারি খুলে এক ঝটকায় তার সেই বা'রাটা না'ইন টু এফএস পি'স্তল'টি বের করে নিল।

রোজেলিয়া ভ'য়ার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,

"রিভেন? কী হয়েছে আপনার? আপনাকে এত চিন্তিত আর ক্ষি'প্ত দেখাচ্ছে কেন? এই অ'স্ত্র নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন আপনি?"

রিভেন পি'স্তলে'র ম্যাগাজিনটা চেক করে স'জোরে লো'ড করল। সেই যা'ন্ত্রিক শব্দটা রোজেলিয়ার বুকের ভেতর গিয়ে বিঁধল। রিভেন ঘুরে দাঁড়িয়ে রোজেলিয়ার চোখের দিকে তাকাল ।তারপর সে দ্রুতপায়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় খুব নিচু আর গম্ভীর স্বরে বলল,

"শত্রুরা সীমানা অতিক্রম করেছে রোজ পেটাল। আমাদের মেইন ওয়্যারহাউসে কেউ আক্রমণ করেছে"

কথাগুলো শেষ করেই রিভেন ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। করিডোরে তার বুটের আওয়াজ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে লাগল, আর রোজেলিয়া সেই নূপুর জোড়া হাতে নিয়ে নি'থর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

___________

রোজেলিয়া তার রুমের চার দেওয়ালের মাঝে অস্থিরভাবে পায়চারি করছে। তার বুকের ভেতরটা এক অজানা আশঙ্কায় মোচড় দিয়ে উঠছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই রিভেন রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরে এসেছিল, সেই দৃশ্য মনে পড়তেই রোজেলিয়ার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। সে জানলার কাঁচের ওপর কপাল ঠেকিয়ে মনে মনে প্রার্থনা করতে লাগল, যাতে রিভেন ঠিক থাকে। রিভেনজে যেন সে সুস্থ অবস্থায় পায়,,,।

ঠিক সেই মুহূর্তে রাতের নিস্তব্ধতা চিরে এক বিভীষিকাময় শব্দ পুরো ম্যানশনকে কাঁপিয়ে তুলল। বাগানের কোনো এক কোণে একটি শক্তিশালী বো'মার বিস্ফো'রণ ঘটেছে। আ'গুনের এক লেলিহান আভা মুহূর্তের জন্য জানলার ওপাশে ঝলকানি দিয়ে আবার অন্ধ'কারে মিলিয়ে গেল।

রোজেলিয়া আত'ঙ্কে সোফায় বসে পড়ল। তার কান দুটো ভোঁভোঁ করছে। সে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য দরজার দিকে পা বাড়াতেই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে একটি Unknown Number।

রোজেলিয়া কাঁপা'কাঁপা হাতে ফোনটা রিসিভ করে কানের কাছে ধরল। ওপাশ থেকে কোনো কর্কশ আর ঘড়ঘড়ে হাসি ভেসে এল। লোকটির কণ্ঠস্বর এতটাই ভারী আর নি'ষ্ঠুর যে রোজেলিয়ার মেরুদণ্ড দিয়ে এক হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল।

"রিভেন আরওয়াইন এখন আমাদের কব্জায়। তাকে যদি জ্যা'ন্ত দেখতে চাও, তবে এক্ষুনি বেরিয়ে পড়ো।"

রোজেলিয়া স্তব্ধ হয়ে গেল। তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরোচ্ছে না। সে অস্ফুট স্বরে কিছু বলতে লাগলো,

"কে আপনি ? কি করেছেন আপনি ওনার?

লোকটা তাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে আরও বিষাক্ত স্বরে বলল,

"রিভেনকে আমরা অপহরণ করেছি সে এখন আমাদের কাছে বন্দী ।তুমি এখনই মিলানের উত্তরে বোসকো ডি সোরো জঙ্গলে চলে এসো। একা আসবে। যদি কোনো চালাকি করার চেষ্টা করো, কিংবা ম্যানশনের কোনো গার্ড বা পুলিশকে জানানোর দুঃসাহস দেখাও তবে রিভেনের নিথর দেহটা তোমার কাছে পার্সেল করে পাঠিয়ে দেব। হাতে সময় খুব কম। টিক টক, রোজেলিয়া।"

পরক্ষণেই ওপাশ থেকে ফোনটা কেটে গেল। রোজেলিয়া ফোনটা হাতে নিয়ে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল।রিভেনকে কী সত্যিই অপহরণ করা হয়েছে ? এটা কীভাবে সম্ভব?

রোজেলিয়ার খুব ভয় হতে থাকলো এদিকে বাইরে একটু শোরগোল শোনা যাচ্ছে ।ভয়ে তার হাতপা কাঁপছে তার মাথা যেন কাজ করছেনা ।সে কিছু না ভেবেই রিভেনের ফোনে একটা কল দিল ।কিন্তু অনেক্ষণ ধরে রিভেনের ফোনটা রিং হয়েই যাচ্ছে, কিন্তু ওপাশ থেকে সেই পরিচিত গম্ভীর কণ্ঠস্বর আর ভেসে এল না। প্রতিটি রিং যেন রোজেলিয়ার বুকে এক একটি হা'তুড়ি'র ঘা দিচ্ছিল। সে পা'গলের মতো বিড়বিড় করতে লাগল, "প্লিজ রিভেন, ফোনটা ধরুন। একবার বলুন যে আপনি ঠিক আছেন।"

কিন্তু নীরবতা ছাড়া আর কিছুই জুটল না তার ভাগ্যে।

বাইরে গার্ডদের চিৎকার আর শোরগোল বাড়ছে, সম্ভবত তারা বি'স্ফো'রণের উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে। রোজেলিয়া বুঝতে পারল, এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়েই তাকে বের হতে হবে। সে কাঁপাকাঁপা হাতে ড্রয়ার থেকে একটি গাড়ির চাবি তুলে নিল। তার মস্তিষ্ক এখন আর যুক্তির ধার ধারছে না, কেবল রিভেনকে বাঁচানোর এক অ'ন্ধ তা'ড়না তাকে গ্রাস করেছে।

সে দ্রুত পায়ে গ্যারেজে এসে পৌঁছাল।সে গাড়ির দরজা খুলে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়ল। অনেক বছর সে স্টিয়ারিং ধরেনি, তার ওপর হাতের কাঁ'পুনির কারণে চাবিটা ইগনিশনে ঢোকাতেও কয়েক সেকেন্ড সময় লেগে গেল। অবশেষে ইঞ্জিনের গর্জনে গ্যারেজটি কেঁপে উঠল।

গাড়ির হেডলাইটের তীব্র আলোয় ম্যানশনের মেইন গেটটা ফুটে উঠল। সেখানে কেবল একজন গার্ড পাহারায় ছিল। রোজেলিয়া জানলা দিয়ে মুখ বের করে মরিয়া হয়ে চিৎকার করে উঠল,

"গেট খোলো! এক্ষুনি গেট খোলো!"

গার্ডটি রোজেলিয়ার এই রণমূর্তি দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। কোনো প্রশ্ন করার আগেই সে গেটটি খুলে দিল আর রোজেলিয়া বাতাসের বেগে গাড়িটি নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল।

মিলানের শান্ত রাস্তা আজ তার কাছে এক গোলকধাঁধার মতো মনে হচ্ছে। চোখের জলে তার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে, কিন্তু তার পা তখন এক্সিলারেটরে সজোরে চাপ দিচ্ছে।

অল্প সময়ের মধ্যেই সে শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে মিলানের উত্তরে বোসকো ডি সোরো জঙ্গলের সামনে এসে পৌঁছাল। জঙ্গলের প্রবেশপথে গাড়িটা এক ঝটকায় থামতেই এক অসহ্য নিস্ত'ব্ধতা তাকে ঘিরে ধরল।

চারদিকে নিচ্ছিদ্র অন্ধকার, কেবল ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর গাছের পাতার খসখস শব্দ শোনা যাচ্ছে। চাঁদের আলো এখানে ঠিকঠাক পৌঁছাচ্ছে না ।রোজেলিয়া গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল। তার ফর্সা মুখটা আতঙ্কে কাগজের মতো সাদা হয়ে গেছে।

সে বনের ভেতরে কয়েক পা এগোতেই হঠাৎ তার মনে হলো, পেছনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। কোনো গরম নিশ্বাসের মতো তপ্ত অনুভূতি তার ঘাড়ে লাগল। সে আতঙ্কে পেছনে ফিরতে চাইল, কিন্তু তার আগেই এক বিশাল শক্তিশালী হাত তার মুখ আর নাক চেপে ধরল।

রোজেলিয়া বাঁচার জন্য ছটফট করতে চাইল, তার নখ দিয়ে লোকটির হাত খামচে ধরল, কিন্তু লোকটির রুমালের উৎকট কে'মিক্যা'লের গন্ধ তার স্না'য়ুকে মুহূর্তেই অ'ব'শ করে দিল। তার চোখের সামনে বনের সেই অন্ধকার গাছগুলো দুলতে শুরু করল এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে নি'থর হয়ে সেই লোকটির কোলে ঢলে পড়ল।

To be continue,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন