#প্যারাডাইস_অফ_সিন্স ( paradise of sins) #লেখনিতে_ফারিহা
পর্ব ৩৪
(কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ ❌)
মিলানের নিস্তব্ধ রাজপথ চিরে কালো এসইউভি আর মার্সিডিজগুলো ম্যানশনের আঙিনায় এসে থামল, তখন টায়ারের ঘর্ষণে বাতাসের বুকে এক ক'র্কশ আ'র্তনাদ ছড়িয়ে পড়ল। গাড়ির দরজা লা'থি মেরে খুলে রিভেন যখন বেরিয়ে এল, তার চোখে তখন এক প্রলয়ংকরী ঝ'ড়ের পূর্বাভাস। তার পরনের স্যুটে বা'রু'দের ধোঁ'য়া আর ঘামের একটা উৎকট গন্ধ লেগে আছে, যা তার চারপাশের আবহাওয়াকে আরও ভারী করে তুলছে।
ওয়্যারহাউসে থাকার সময় সে ম্যানশনে বোমা বিস্ফোরণের খবর পায়, তখন তার হৃদ'স্প'ন্দন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গিয়েছিল।রিভেনের র'ক্ত তখন এক মুহূর্তের জন্য শীতল হয়ে গিয়েছিল। তার তখন থেকেই মনে হচ্ছিল এই বি'স্ফো'রণ কোনো আ'ক্রমণ নয়, এটি একটি নিখুঁত ডাইভারশন।ম্যানশনের প্রধান ফটকের গার্ডরা ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে আমতা আমতা করে বলতে শুরু করল,
"বস, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। আমরা সব চেক করছি—"
রিভেন তাদের কথা শেষ করতে দিল না। সে এক ঝটকায় তাদের সরিয়ে দিয়ে ঝড়ের বেগে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল।সে সজোরে শোবার ঘরের দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকল। কিন্তু ভেতরে পা রাখতেই এক অসহ্য, হা'ড়কাঁ'পানো নিস্তব্ধতা তাকে গ্রাস করল। ঘরটা একদম খালি। জানলার পর্দাগুলো রাতের বাতাসে ভূ'তুড়ে ভঙ্গিতে দুলছে। ড্রেসিং টেবিলে পড়ে আছে রূপালি নূপুর জোড়া ।
রিভেন উন্মাত্তের মতো সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এল। ড্রয়িংরুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সে এক জা'ন্তব হু'ঙ্কার ছাড়ল।
"রোজেলিয়া কোথায়? আমার ওয়াইফ কোথায়?"
রিভেনের সেই ব'জ্রকণ্ঠ ম্যানশনের দেওয়ালে দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে এক ভয়ংকর প্রতিধ্বনি তৈরি করল।
গার্ডরা দৌড়ে রিভেনের সামনে আসলে রিভেন একজনের কলার চেপে ধরে জিজ্ঞেস করে ,
"where is roselia ? where the f'uck is my wife "
গার্ডটি কাঁপাকাঁপা গলায় বলল, "ম্যা—ম্যামকে তো আমরা কোথাও বের হতে দেখিনি বস! আমরা মেইন গেট পাহারা দিচ্ছিলাম, বিস্ফোরণের পর আমরা বাগানের দিকে ছুটে গিয়েছিলাম—"
রিভেনের চোখের মণি দুটো রাগে টকটকে লাল হয়ে উঠল। সে এক ঝটকায় গার্ডকে ছেড়ে দিয়ে চারপাশটা একবার দেখল। তার তীক্ষ্ণ মাফিয়া মস্তিষ্ক এবার দ্রুত কাজ করতে শুরু করল। বিস্ফোরণটা আসলে কোনো আক্রমণ ছিল না, ওটা ছিল একটা ডাইভারশন যাতে গার্ডদের মনোযোগ সরিয়ে রোজেলিয়াকে একা করা যায়।
সে তার কোমরে থাকা বা'রা'টা পি'স্তলটি বের করে আকাশের দিকে এক রাউন্ড গু'লি ছুড়ল। গুলির সেই প্রচণ্ড শব্দে পুরো ম্যানশন কেঁপে উঠল। রিভেন দাঁতে দাঁত চেপে গম্ভীর স্বরে হুকুম দিল।
"প্রতিটি সিসিটিভি ফুটেজ চেক কর! জাস্ট নাউ! যদি এক সেকেন্ডের জন্য কোনো ফ্রেম মিস হয়, তবে আমি তোমাদের একেকজনের হাত ধ'ড় থেকে আ'লাদা করে দেব! আমার ড্রাইভওয়ে, গ্যারেজ আর বনের পেছনের প্রতিটি ইঞ্চি আমার চোখের সামনে চাই!"
_____________
কন্ট্রোল রুমের ভেতরটা এখন এক শ্মশানের মতো স্তব্ধ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের হিমশীতল বাতাসও রিভেনের শরীরের উ'ত্তপ্ত দ'হনকে শান্ত করতে পারছে না। স্ক্রিনের আলো রিভেনের পাথুরে মুখে এক অ'শুভ আভা তৈরি করেছে। তার চোয়ালের হাড়গুলো টানটান হয়ে আছে, যেন চা'মড়া ফুঁ'ড়ে বে'রিয়ে আসবে।
সিনিয়র অপারেটরের কাঁপাকাঁপা আঙুলগুলো যখন কিবোর্ডে ঝড় তুলল, তখন স্ক্রিনের একের পর এক উইন্ডোতে ফুটে উঠল ম্যানশনের বিভিন্ন ফুটেজ। রিভেনের তীক্ষ্ণ চোখ দুটো শিকারি চিলের মতো প্রতিটি ফ্রেমে রোজেলিয়াকে খুঁজছে।
হঠাৎ করেই ফুটে উঠল সেই দৃশ্য।বেডরুমের করিডোর দিয়ে রোজেলিয়াকে প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গেল। তার অবিন্যস্ত চুল আর পাং'শুটে মুখ বলে দিচ্ছিল সে এক চরম আ'তঙ্কের গ্রাসে বন্দি। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার প্রতিটি পদক্ষেপগুলো খুব দ্রুত হচ্ছিল । রিভেন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল যখন সে দেখল রোজেলিয়া গ্যারেজে ঢুকে এক ঝটকায় গাড়ির চাবি নিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়ল।
গ্যারেজের গেট চিরে যখন রোজেলিয়ার গাড়িটা তীব্র বেগে বেরিয়ে এল, রিভেনের কণ্ঠস্বর তখন এক গম্ভীর গ'র্জনে ফেটে পড়ল।
"Stop! জুম ইন অন হার ফেস!"
স্ক্রিনে রোজেলিয়ার মুখটা বড় হয়ে ফুটে উঠল। তার চোখে এক অ'ব্যক্ত হা'হাকার, এক অদ্ভুত সংকল্প । মেইন গেটের সেই হ'তভম্ব গার্ড যখন গেট খুলে দিল আর রোজেলিয়ার গাড়িটা রাতের নিকষ কালো অন্ধকারে মিলিয়ে গেল, রিভেনের ভেতরটা এক লহমায় ছাই হয়ে গেল।
রিভেন এক ঝটকায় কন্ট্রোল রুমের টেবিলটা উ'ল্টে দিল। মনিটরগুলো মেঝেতে পড়ে চু'রমার হয়ে গেল, কিন্তু রিভেনের মস্তিষ্কে তখন কেবল রোজেলিয়ার সেই ভ'য়ার্ত মুখটা গেঁথে আছে। সে পকেট থেকে ফোন বের করে সাইলাসকে কল দিল। সাইলাসের ফোন রিসিভ হতেই রিভেন কোনো ভূমিকা ছাড়াই জান্তব স্বরে বলল,
"Silas! She is gone! আমার গেটের ওপর যে মা'দারফা'কার ডিউটিতে ছিল, তাকে এখনই ড্র্যা'গ করে বেসমেন্টে নিয়ে যা! আমি ওর আ'ঙুলগু'লো একটা একটা করে ছিঁ'ড়ে নেব কেন সে রোজকে বাইরে যেতে দিল! আর তুই... তুই এক্ষুনি রোজের গাড়ির জিপিএস ট্র্যাক কর! মিলানের সব জায়গায় আমার লোক চাই! যদি এক ঘণ্টার মধ্যে ওকে খুঁজে না পাস, তবে এই পুরো শহরকে আমি জালিয়ে ছাঁ'ই করে দেব"
রিভেন কন্ট্রোল রুম থেকে বেরিয়ে যায়।তার অবয়ব থেকে বি'চ্ছুরিত হ'চ্ছে এক আদিম, ধ্বং'সাত্ম'ক আভা। সাইলাস কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোজেলিয়ার গাড়ির জিপিএস সিগন্যাল লক করতে সক্ষম হলো। রিভেন এক মুহূর্ত দেরি না করে নিজের কালো মার্সিডিজের ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল। ইঞ্জিনটা এক জান্তব গর্জনে গর্জে উঠল, যেন রিভেনের ভেতরের হাহাকারটাই যান্ত্রিক রূপ নিয়েছে।
মিলানের জনশূন্য মাঝরাতের রাজপথ চিরে একে একে দশটি এসইউভি আর মার্সিডিজ ঝ'ড়ের বেগে ছুটে চলল। টায়ারের ঘর্ষণে পিচঢালা রাস্তা থেকে আগুনের ফুলকি বেরোচ্ছে। রিভেন স্টিয়ারিং হুইলটা এত শক্ত করে চেপে ধরেছে যে তার আঙুলের গাঁ'টগুলো ধবধবে সাদা হয়ে গেছে, আর কবজির র'গগু'লো ত'প্ত লা'ভার মতো ফু'লে উঠেছে। তার দু-চোখে তখন কেবল রোজেলিয়ার সেই ভ'য়ার্ত মুখটা ভাসছে রোজেলিয়া, যে তার এই অন্ধকার জগতের একমাত্র আলো।
গাড়িগুলো শহরের সীমানা ছাড়িয়ে জঙ্গলের রাস্তায় ঢুকল। হেডলাইটের তীব্র আলোয় হঠাৎ রাস্তার ধারে রোজেলিয়ার গাড়িটি চোখে পড়ল। রিভেন ব্রেক করেই এক লাফে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে গেল রোজেলিয়ার গাড়ির কাছে। তার হৃ'দপি'ণ্ডটা তখন কামারের হাতুড়ির মতো বাজছে। কিন্তু গাড়ির দরজাটা খুলতেই তার শরীরের র'ক্ত হিম হয়ে গেল।
গাড়িটা একদম ফাঁকা।ভেতরে সিটের উপর রোজেলিয়ার ফোন পড়ে আছে। রিভেন গাড়ি থেকে বের হয়ে বনের সেই নিকষ অন্ধকারের দিকে তাকাল। সে এক হু'ঙ্কার ছাড়ল, যা বনের প্রতিটি কোণে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে এল।
"সাইলাস! সার্চ এভরি ইঞ্চ অফ দিস ড্যা'ম ফরেস্ট।আর আন্ডারগ্রাউন্ডের ইনফর্মারকে মেসেজ দে The queen is missing । রোজের ছবি আন্ডারগ্রাউন্ডের সব ড্রা'গ ডি'লার থেকে শুরু করে কি'লারদে'র হাতে পৌঁছে দে। আই ওয়ান্ট হার এট এনি কোস্ট "
সাইলাস কোনো কথা না বলে মাথা নিচু করে তার ফোনের এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপে আঙুল চালাতে লাগল। রিভেনের সেই প্র'লয়ংকরী রূপ দেখে বাতাসের অক্সিজেনও যেন ফুরিয়ে আসছে। রিভেন এবার মার্কো আর এনজোর দিকে ফিরল। তার চোখের মণি তখন এক আদিম শিকারি পশুর মতো জ্বলছে।
"ইউ টু গো টু দ্য এয়ারপোর্ট! মিলানের সব এক্সিট পয়েন্ট সিল করে দাও। কোনো কমার্শিয়াল ফ্লাইট, কোনো চার্টার্ড প্লেন বা কোনো যাত্রী যেন চেকপোস্ট ছাড়া পার না হয়। আই ডোন্ট কেয়ার ইফ দ্য সিটি স্টপস ব্রেথিং"
রিভেন তার স্যুটের পকেট থেকে একটি রুপালি হো'ল্ডা'র বের করে তার বা'রা'টা পি'স্তল'টি রি'লোড করল। ধাতব শব্দের সেই কর্কশ প্রতিধ্বনি বনের নিস্তব্ধতাকে চিরে দিল। সে এনজোর কলারটা শক্ত করে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"লিসেন,মিলানের সবকটা রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড় করো। সবগুলো প্রাইভেট জেটের হ্যাঙ্গার আর ভিআইপি টার্মিনাল চু'রমা'র করে দাও। আমার নিজস্ব জেটের রানওয়ে থেকে শুরু করে অন্যান্য ফ্যামিলির প্রতিটি হ্যাঙ্গার আমি চেক চাই। যদি কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ডা'ইরে'ক্ট শু'ট বি'টুই'ন দ্য আ'ইজ"
"ওকে বস "
এনজো আর মার্কো নিজেদের কাজে লেগে পড়ে।
___________
"তোমরা এতটা কেয়ারলেস কী করে হলে?"
মেহেরিন কারুসোর কণ্ঠস্বর যেন এই হিমশীতল ভোরের বাতাসে চাবুকের মতো আছড়ে পড়ল। প্রতিটি গার্ড আর মেইডরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। মেহেরিন ধীর পায়ে একে একে প্রতিটি গার্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তার শান্ত দৃষ্টির আড়ালে আজ এক প্রলয়ংকরী ঘৃণা।
"এই পরিবারের সকল মেম্বারের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর জীবনের দাম সবচেয়ে বেশি। সামান্য বো'মার শব্দে তোমরা পঙ্গপালের মতো ছুটে গেলে, আর আমার ছেলের বউ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল এই কি তোমাদের প্রশিক্ষণ? আমার ছেলে যে তোমাদের কে'টে এতক্ষণে তার পো'ষা কু'কুর'দের খা'ওয়া'য়নি, এটাও অনেক"
গার্ডরা নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, তাদের চিবুক বুকের সাথে লেগে আছে। পেছনে আভা, নাইলা আর অন্যান্য মেইডরা জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপছে। মেহেরিন এক পলক তাদের দিকে তাকিয়ে ঘৃণাভরে চোখ সরিয়ে নিলেন।
"চলে যাও আমার সামনে থেকে। এখনই"
মেহেরিনের হুকুম শেষ হওয়ার আগেই গার্ডরা সেখান থেকে সরে পড়ল। ঠিক সেই মুহূর্তেই সদর দরজার কপাট দুটো এক প্রচণ্ড শব্দে খুলে গেল। ভেতরে প্রবেশ করল রিভেন।
রিভেনের চোখের কোণে জমে আছে এক আদিম হিং'স্রতা । সে মেহেরিনের দিকে একবারও না তাকিয়ে ঝ'ড়ের বেগে কন্ট্রোল রুমের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
রিভেনের পেছনে পেছনে আসছে এনজো, মার্কো, সাইলাস, জ্যাক আর লরেঞ্জো সবার মুখেই এক চরম অস্থিরতা।
মেহেরিন তার ছেলের এই বি'দ্ধস্ত আর রু'দ্রমূর্তি দেখে শি'উরে উঠলেন। রিভেনের শরীর থেকে বি'চ্ছু'রিত হওয়া সেই অ'সহ্য দ'হন মেহেরিনকেও এক মুহূর্তের জন্য থমকে দিল। তিনি আঁচলটা সামলে নিয়ে দ্রুত পায়ে রিভেনের পিছু পিছু হাঁটতে লাগলেন।
কন্ট্রোল রুমের লোহার দরজাটা রিভেন এক লা'থিতে খুলে ভেতরে ঢুকল। অপারেটরদের আঙুলগুলো কিবোর্ডের ওপর কেঁপে উঠল। মেহেরিন কারুসো দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দেখলেন তাঁর ছেলের কাঁধের পেশিগুলো কীভাবে উ'ত্তেজনা'য় কাঁপছে। রিভেন এক অদ্ভুত শান্ত অথচ ঘাতক স্বরে জিজ্ঞেস করল,
"কী তথ্য পেলে?"
সিনিয়র সিসিটিভি অপারেটর, যার কপাল দিয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছে, সে কাঁপা হাতে মাউস ক্লিক করল। স্ক্রিনের আলো রিভেনের পাথুরে মুখে এক অশুভ ছায়া ফেলল। অপারেটরটি গলার কাছে দলা পাকানো ভ'য়টা গি'লে নিয়ে বলল,
"বস, এই যে দেখুন। আমরা মেইন গেটের ফুটেজটা ফ্রেম বাই ফ্রেম অ্যানালাইজ করেছি।"
স্ক্রিনে দেখা গেল রোজেলিয়ার গাড়িটি যখন গেটের সামনে এসে থামল, তখন একজন গার্ড গেট খুলে দিচ্ছে। রিভেন সেই গার্ডের মুখটা দেখা মাত্রই তার স্যুটের ভেতর থেকে বা'রা'টা পি'স্ত'লটি বের করে টেবিলে সজোরে আছাড় মারল। সেই ধাতব শব্দে পুরো রুমের মানুষের বুক কেঁপে উঠল।
"এই মা'দা'রফা'কারকে আমি বেসমেন্টে নিয়ে যেতে বলেছিলাম না?"
অপারেটরটি ভ'য়ে স্ক্রিনের আরও কাছে ঝুকে গেল। সে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জুম করে ইমেজটি শার্প করল।
"বস... প্রবলেমটা এখানেই। এই লোকটা আমাদের ডাটাবেসের কোথাও নেই। আমাদের কোনো বায়োমেট্রিক বা ফেস ক্লিপের সাথে ওর মিল পাওয়া যাচ্ছে না।আর আমরা আসল গার্ডকে আহত অবস্থায় পেয়েছি কিছুক্ষণ আগে"
রিভেনের চোখ দুটো মুহূর্তের জন্য সরু হয়ে এল। সাইলাস এক পা এগিয়ে এসে স্ক্রিনের খুব কাছে মুখ নিয়ে গেল। তার কো'ল্ড ব্লা'ডে'ড দৃষ্টি তখন স্ক্রিনের ওই ছায়াময় লোকটার শরীরের গঠন মেপে নিচ্ছে।
"কী বলতে চাইছো তুমি? আমাদের গেটে আমাদের গার্ড ছাড়া অন্য কেউ ইউনিফর্ম পরে দাঁড়িয়ে ছিল?"
রুমের কোণায় দাড়িয়ে কাপঁতে থাকা গার্ডটি খুঁ'ড়িয়ে খুঁ'ড়িয়ে কাছে । তার কপালে র'ক্তের দাগ । সে রিভেনের পায়ের কাছে এসে প্রায় ধপাস করে পড়ে গিয়ে বলল,
"বস... ও আমাদের কেউ না। বো'মা'র শব্দ হওয়ার ঠিক দুই মিনিট আগে আমি যখন গেটের পেছনের দিকে যাচ্ছিলাম, কেউ একজন পেছন থেকে আমার মা'থায় আ'ঘাত করে। আমরা মোট ৮ জন গেটে পাহারায় ছিলাম। বাকি সাতজন তখন বি'স্ফোর'ণের দিকে ছুটে গিয়েছিল। কিন্তু এই লোকটাকে... একে আমি আগে কখনো দেখিনি। ও আমাদের ইউনিফর্ম পরে ঠিক সময়মতো গেটের কাছে পজিশন নিয়েছিল।"
রিভেনের চোয়াল এবার পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল। তার মা'ফিয়া ম'স্তিষ্ক মুহূর্তের মধ্যে পুরো ছকটা বুঝে নিল। বি'স্ফোর'ণ, গার্ডদের মনোযোগ সরানো, আর গেটে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখা সবকিছুই ছিল রোজেলিয়াকে একা বের করে আনার এক সুনিপুণ ফাঁ'দ।
রিভেন এক জা'ন্তব হু'ঙ্কারে দেয়ালে জোরে একটা ঘু'ষি মা'রলো। তার হাত থেকে র'ক্ত গড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই। সে সাইলাসের কলারটা হ্যাঁচকা টানে নিজের কাছে নিয়ে এল।
"ইনসাইড জব, সাইলাস! আমাদের ভেতরে কেউ ইনফরমেশন লিক করেছে। একটু আগে রোজেলিয়ার কল রেকর্ড শুনিসনি? প্লান করেই তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।কেউ একজন আমাদের ঘরের ভেতরের খবর বাইরের ড্রেন অব্দি পৌঁছে দিয়েছে সাইলাস। বো'মা'র টাইমিং, রোজেলিয়ার দূর্বলতা, আর গেটের সিকিউরিটি পজিশন এতটা নিখুঁত। এটা কোনো বাইরের লোক একা খেলতে পারে না। We have a rat among us!"
রিভেনের চোখ এবার রুমের কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা থরথর করে কাঁপতে থাকা গার্ড এর ওপর গিয়ে পড়ল।
" এই সবকটাকে ট'র্চার সে'লে নিয়ে যা। প্রত্যেকের মুখ না খোলা পর্যন্ত তাদের ন'খ একটা একটা করে উ'পড়ে ফে'ল। আমি জানতে চাই, আমার এই দুর্গের দেওয়ালে ফা'টল ধ'রালো কে?"
সিভিসিটিভি অ্যাসিস্ট্যান্ট উঠে দাঁড়াল। তার চোখেমুখে এক অবর্ণনীয় আতঙ্ক, অথচ তার আঙুলগুলো কিবোর্ডে এক বিশেষ কমান্ড দিচ্ছিল। সে খুব নিচু আর ধরা গলায় বলল,
"বস... এই বো'মা বি'স্ফোর'ণের আরেকটা ফুটেজ আমি শো করতে চাই। জঙ্গলের সামনের সিসিটিভি একটা ডিসেবল করে দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বো'মা ফাটানোর জায়গার সিসিটিভি পেছনের হওয়ায় সেটা রেকর্ড হয়েছে। এটা দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন আমাদের মধ্যে আসলে র্যাটটা কে।"
রিভেন গ'র্জে উঠল,
"কিসের অপেক্ষা করছিস? এতক্ষণ বলিসনি কেন? ডিসপ্লে ইট! মা'দা'রফা'কার"
সিসিটিভি অফিসার মাউসে ক্লিক করার আগে একবার আড়চোখে সাইলাসের দিকে তাকাল। সাইলাস খেয়াল করলো তার চোখের চাহনি একটু অন্যরকম। অফিসার মুখ ফিরিয়ে কাঁপাকাঁপা হাতে ফুটেজটা প্লে করল।
স্ক্রিনের অন্ধকার চিরে সাদা কালো এক ঝাপসা দৃশ্য ফুটে উঠল। বাগানের সেই পরি'ত্যক্ত কোণ, যেখানে লতাগুল্মের ঝোপগুলো রাতের আঁধারে দানবের মতো দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ একটি ছায়াময় অবয়বকে দেখা গেল খুব সন্তর্পণে এগিয়ে আসতে।তার হাতে একটি রিমোট আর অন্য হাতে ছোট একটা ডিভাইস। চিত্রটি প্রথমে অস্পষ্ট থাকলেও যখনই সে ডিভাইসের বাটন প্রেস করল, আ'গু'নের এক ঝলকানিতে তার অবয়বটা আলোকিত হয়ে উঠল।
অ্যাসিস্ট্যান্ট কাঁপাকাঁপা হাতে সেই ফ্রেমটি ফ্রিজ করল এবং সরাসরি মুখের ওপর 800% জুম করল।
দৃশ্যটি পরিষ্কার হতেই পুরো কন্ট্রোল রুমে এক হাড়কাঁপানো নীরবতা নেমে এল। এনজো, মারকো, লরেঞ্জো সবার মুখ হা হয়ে গেল। মেহেরিন কারুসোও অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। সাইলাস, সেও যেন নিজের চোখের ওপর বিশ্বাস করতে পারল না। তার পাথুরে চোয়ালটা আলগা হয়ে গেল বিস্ময়ে।এমজো স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে সাইলাসের দিকে তাকালো ।স্ক্রিনে ফুটে থাকা সেই মুখটা কারো অপরিচিত নয়।
To be continue,,,,